ICTebook
← কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১

কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১ · অধ্যায়-১ : কম্পিউটার সিস্টেম ও হার্ডওয়্যার

অধ্যায় ১.১: কম্পিউটার সিস্টেম ইউনিট

তারকা অনুযায়ী প্রশ্ন বাছাই

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৩৯টি)

  1. ১.১-সং-১★বই: পৃষ্ঠা ২৬

    ১.ডিজিটাল কম্পিউটার কী?

    • অথবা, ডিজিটাল কম্পিউটার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০১৮, ২৬]

    উত্তর

    যে কম্পিউটার সংখ্যা, অক্ষর ও চিহ্নকে ০ ও ১ (বাইনারি) সংকেতে রূপান্তর করে হিসাব ও প্রক্রিয়াকরণের কাজ করে, তাকে ডিজিটাল কম্পিউটার বলে।

    "ডিজিটাল" শব্দটি এসেছে ডিজিট (Digit) থেকে, যার অর্থ সংখ্যা। এ কম্পিউটার গণনার মাধ্যমে কাজ করে, তাই ফলাফল খুব সূক্ষ্ম ও নির্ভুল হয় এবং সরাসরি লিখিত আকারে পাওয়া যায়।

    উদাহরণ: ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন। আমরা সাধারণত "কম্পিউটার" বলতে ডিজিটাল কম্পিউটারকেই বুঝি।

  2. ১.১-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ২৬

    ২.কম্পিউটার হার্ডওয়্যার কী?

    • অথবা, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২২, ২৫]

    উত্তর

    কম্পিউটারের যেসব যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ চোখে দেখা যায় এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়, সেগুলোকে একসাথে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার বলে।

    অর্থাৎ হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের বাহ্যিক বা ভৌত কাঠামো। মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র‍্যাম, হার্ড ডিস্ক, কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার ইত্যাদি মিলে হার্ডওয়্যার গঠিত হয়।

    হার্ডওয়্যার নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না। সফটওয়্যারের নির্দেশ অনুযায়ী হার্ডওয়্যারই কম্পিউটারের সব কাজ বাস্তবে সম্পন্ন করে।

    উদাহরণ: কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, সিপিইউ, প্রিন্টার।

  3. ১.১-সং-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ২৬

    ৩.কম্পিউটার কী? [কমার্স-২০০৯, ১১, ১৩, ১৪, ১৬; বিএমটি-২০১০, ২৪]

    • অথবা, কম্পিউটারের প্রধান কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৮]
    • অথবা, কম্পিউটার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০০৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৭, ১৯, ২৩]
    • অথবা, কম্পিউটার কী? কম্পিউটারের প্রধান কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৫]

    উত্তর

    কম্পিউটার হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য (ডেটা) ও নির্দেশ (প্রোগ্রাম) গ্রহণ করে, খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রক্রিয়া করে এবং ফলাফল প্রদান করে।

    Computer শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Compute থেকে, যার অর্থ গণনা করা। আগে কম্পিউটার শুধু হিসাবের কাজে ব্যবহার হতো, এখন লেখালেখি, ছবি, ভিডিও, যোগাযোগসহ প্রায় সব কাজেই ব্যবহার হয়। কম্পিউটারের কাজের গতি মাপা হয় ন্যানো সেকেন্ডে (এক সেকেন্ডের একশ কোটি ভাগের এক ভাগ)।

    কম্পিউটারের প্রধান কাজ:

    1. ইনপুট নেওয়া: কী-বোর্ড, মাউস ইত্যাদির মাধ্যমে ডেটা ও নির্দেশ গ্রহণ করা।
    2. সংরক্ষণ করা: ডেটা ও প্রোগ্রাম মেমরিতে জমা রাখা।
    3. প্রক্রিয়াকরণ করা: প্রোগ্রাম অনুযায়ী হিসাব ও যুক্তির কাজ করা।
    4. ফলাফল দেওয়া: মনিটর, প্রিন্টার ইত্যাদির মাধ্যমে আউটপুট প্রকাশ করা।

    💡 মনে রাখার কৌশল: ইনপুট → প্রক্রিয়াকরণ → আউটপুট (সাথে সংরক্ষণ)

  4. ১.১-সং-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ২৭

    ৪.ফার্মওয়্যার কী?

    • অথবা, ফার্মওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২৪]

    উত্তর

    কম্পিউটার তৈরির সময় প্রস্তুতকারক কোম্পানি যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের মেমরিতে (সাধারণত ROM-এ) স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়, সেগুলোকে ফার্মওয়্যার (Firmware) বলে।

    ফার্মওয়্যার হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাঝামাঝি একটি বিষয়। এটি হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কীভাবে কাজ শুরু করবে। ব্যবহারকারী সাধারণভাবে এই প্রোগ্রাম মুছতে বা পরিবর্তন করতে পারে না। কম্পিউটার চালু করলে (বুট হওয়ার সময়) প্রথমে ফার্মওয়্যারই কাজ করে।

    উদাহরণ: BIOS, UEFI; মোবাইল, প্রিন্টার, রাউটারের ভেতরের প্রোগ্রাম।

  5. ১.১-সং-৫বই: পৃষ্ঠা ২৭

    ৫.মিনি কম্পিউটার কী?

    • অথবা, মিনি কম্পিউটারের বর্ণনা দাও। [বিএমটি-২০১৬]

    উত্তর

    যে কম্পিউটার আকারে মাঝারি, মেইনফ্রেমের চেয়ে ছোট কিন্তু মাইক্রো কম্পিউটারের চেয়ে বড় ও শক্তিশালী, তাকে মিনি কম্পিউটার বলে।

    মিনি কম্পিউটার একটি টেবিলে বসানো যায়। এর সাথে অনেকগুলো টার্মিনাল যুক্ত থাকে, তাই একসাথে কয়েকজন ব্যবহারকারী আলাদা টার্মিনালে কাজ করতে পারেন। শিল্পকারখানা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও গবেষণায় এটি ব্যবহার হয়।

    উদাহরণ: PDP-11, IBM-S/34, NOVA-3।

  6. ১.১-সং-৬★★বই: পৃষ্ঠা ২৭

    ৬.অ্যানালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্যগুলো লেখ। [বিএমটি-২০১১, ১৫]

    উত্তর

    অ্যানালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য:

    বিষয়অ্যানালগ কম্পিউটারডিজিটাল কম্পিউটার
    ১. সংকেতক্রমাগত পরিবর্তনশীল (অ্যানালগ) সংকেত ব্যবহার করে০ ও ১ (ডিজিটাল) সংকেত ব্যবহার করে
    ২. কাজের পদ্ধতিপরিমাপের মাধ্যমে কাজ করেগণনার মাধ্যমে কাজ করে
    ৩. সূক্ষ্মতাফলাফলের সূক্ষ্মতা কমফলাফল সূক্ষ্ম ও নির্ভুল
    ৪. গতিতুলনামূলক ধীরতুলনামূলক দ্রুত
    ৫. ফলাফল প্রদর্শনকাঁটা বা গ্রাফের মাধ্যমে দেখায়সরাসরি সংখ্যা বা লেখা আকারে মনিটরে দেখায়
    ৬. ব্যবহারতাপ, চাপ, গতি মাপতে; কলকারখানায়লেখালেখি, হিসাব, ছবি, নকশাসহ সব কাজে
    ৭. উদাহরণগাড়ির স্পিডোমিটার, স্লাইড রুলডেস্কটপ, ল্যাপটপ
  7. ১.১-সং-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ২৭

    ৭.সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও।

    • অথবা, সফটওয়্যারের প্রকারভেদ ছকের মাধ্যমে দেখাও। [বিএমটি-২০১৪]

    উত্তর

    সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:

                              সফটওয়্যার
                                  │
              ┌───────────────────┴───────────────────┐
       সিস্টেম সফটওয়্যার                    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
              │                                       │
       ┌──────┼──────────┐                    ┌───────┴───────┐
    সিস্টেম   সিস্টেম    সিস্টেম            সাধারণ          সুনির্দিষ্ট
    ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট          (প্যাকেজ)        (কাস্টমাইজড)
    প্রোগ্রাম   প্রোগ্রাম   প্রোগ্রাম           প্রোগ্রাম         প্রোগ্রাম
       │          │          │
    • অপারেটিং  • ল্যাঙ্গুয়েজ  • ইউটিলিটি
      সিস্টেম     ট্রান্সলেটর  • পারফরম্যান্স
    • ডেটাবেজ   • প্রোগ্রামিং    প্রোগ্রাম
      ম্যানেজমেন্ট  এডিটর ও টুলস • সিকিউরিটি
    • নেটওয়ার্ক  • CASE         মনিটর
      ম্যানেজমেন্ট
    

    ✍️ খাতায় লেখার টিপস: বক্স এঁকে তীর চিহ্ন দিয়ে ওপরের মতো সাজাও। প্রথম দুই ভাগ (সিস্টেম ও অ্যাপ্লিকেশন) অবশ্যই দেখাতে হবে।

  8. ১.১-সং-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ২৮

    ৮.হিউম্যানওয়্যার বলতে কী বুঝায়?

    • অথবা, ইউজারওয়্যার বা হিউম্যানওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০১৪]

    উত্তর

    কম্পিউটার চালানো, প্রোগ্রাম তৈরি, ডেটা ইনপুট দেওয়া, ফলাফল গ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যেসব মানুষ জড়িত থাকেন, তাদের একসাথে হিউম্যানওয়্যার (Humanware) বা ইউজারওয়্যার (Userware) বলে।

    হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার থাকলেও মানুষ ছাড়া কম্পিউটার চলে না। তাই হিউম্যানওয়্যার কম্পিউটার সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    উদাহরণ: কম্পিউটার ব্যবহারকারী, প্রোগ্রামার, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, রক্ষণাবেক্ষণকারী ও মেরামতকারী।

  9. ১.১-সং-৯★বই: পৃষ্ঠা ২৮

    ৯.হার্ড ডিস্ক কী?

    • অথবা, হার্ড ডিস্ক কী? সংক্ষেপে লেখ। [বিএমটি-২০০৯]

    উত্তর

    হার্ড ডিস্ক হলো কম্পিউটারের প্রধান সহায়ক (সেকেন্ডারি) মেমরি, যেখানে ডেটা ও প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

    হার্ড ডিস্ক কয়েকটি পাতলা গোলাকার ধাতব পাত (প্ল্যাটার) দিয়ে তৈরি। পাতগুলোর দুই পৃষ্ঠে চুম্বকীয় প্রলেপ থাকে, তাই একে চুম্বকীয় ডিস্ক-ও বলে। পাতগুলো একটি দণ্ডের সাথে লাগানো থাকে এবং কাজের সময় খুব দ্রুত ঘোরে (মিনিটে হাজার হাজার বার)। রিড/রাইট হেড দিয়ে ডেটা পড়া ও লেখা হয়। ধুলাবালি থেকে রক্ষা করতে একে বন্ধ বাক্সে রাখা হয়।

    বিদ্যুৎ চলে গেলেও এর তথ্য মুছে যায় না। এর ধারণক্ষমতা অনেক বেশি, যেমন 500 GB, 1 TB বা তারও বেশি।

    ধারণক্ষমতা = পৃষ্ঠ সংখ্যা × ট্র্যাক সংখ্যা × সেক্টর সংখ্যা × প্রতি সেক্টরের বাইট সংখ্যা

  10. ১.১-সং-১০★বই: পৃষ্ঠা ২৮

    ১০.অ্যানালগ কম্পিউটার কী?

    উত্তর

    যে কম্পিউটার তাপ, চাপ, গতি, বিদ্যুৎ প্রবাহের মতো ক্রমাগত পরিবর্তনশীল রাশি পরিমাপ করে কাজ করে, তাকে অ্যানালগ কম্পিউটার বলে।

    "অ্যানালগ" শব্দটি এসেছে Analogous থেকে, যার অর্থ সদৃশ বা অনুরূপ। এ কম্পিউটারে একটি ভৌত রাশিকে তার সদৃশ আরেকটি রাশি (যেমন বিদ্যুৎ তরঙ্গ) দিয়ে প্রকাশ করে হিসাব করা হয়। ফলাফল সাধারণত কাঁটা বা গ্রাফে দেখায়, তাই সূক্ষ্মতা কম।

    উদাহরণ: গাড়ির স্পিডোমিটার, থার্মোমিটার, স্লাইড রুল।

  11. ১.১-সং-১১★বই: পৃষ্ঠা ২৮

    ১১.কম্পিউটার জেনারেশন বা প্রজন্ম কাকে বলে?

    উত্তর

    প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে কম্পিউটারের গঠন ও কাজের ক্ষমতায় যে ধাপে ধাপে পরিবর্তন বা বিবর্তন হয়েছে, তার প্রতিটি ধাপকে কম্পিউটারের প্রজন্ম বা জেনারেশন (Generation) বলে।

    প্রতিটি প্রজন্মে নতুন প্রযুক্তি (যেমন ভ্যাকুয়াম টিউব → ট্রানজিস্টর → IC → মাইক্রোপ্রসেসর) ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আগের চেয়ে ছোট, দ্রুত, সস্তা ও শক্তিশালী হয়েছে। কম্পিউটারকে মোট ৫টি প্রজন্মে ভাগ করা হয়।

  12. ১.১-সং-১২বই: পৃষ্ঠা ২৮

    ১২.কম্পিউটারের প্রজন্মকে কত ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায় ও কী কী?

    উত্তর

    কম্পিউটারের যান্ত্রিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের ভিত্তিতে কম্পিউটারকে ৫টি প্রজন্মে ভাগ করা হয়। (প্রজন্ম ভাগ করার প্রথা চালু হয় IBM কোম্পানির একটি বিজ্ঞাপন থেকে।)

    প্রজন্মসময়কালমূল প্রযুক্তি
    ১. প্রথম প্রজন্ম১৯৪৬–১৯৫৮ভ্যাকুয়াম টিউব
    ২. দ্বিতীয় প্রজন্ম১৯৫৮–১৯৬৫ট্রানজিস্টর
    ৩. তৃতীয় প্রজন্ম১৯৬৫–১৯৭১ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC)
    ৪. চতুর্থ প্রজন্ম১৯৭১–বর্তমানমাইক্রোপ্রসেসর (VLSI)
    ৫. পঞ্চম প্রজন্মবর্তমান ও ভবিষ্যৎকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)
  13. ১.১-সং-১৩বই: পৃষ্ঠা ২৮

    ১৩.প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার বলতে কী বুঝ? এর বৈশিষ্ট্য লেখ।

    উত্তর

    ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ভ্যাকুয়াম টিউব দিয়ে তৈরি কম্পিউটারগুলোকে প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার বলে। হাজার হাজার ভ্যাকুয়াম টিউব, রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর দিয়ে তৈরি হতো বলে এগুলো আকারে বিশাল ছিল।

    উদাহরণ: ENIAC, UNIVAC-1, IBM-650, IBM-704।

    বৈশিষ্ট্য:

    1. ভ্যাকুয়াম টিউবের ব্যবহার।
    2. আকারে অনেক বড় ও ওজন অনেক বেশি।
    3. প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হতো এবং খুব গরম হতো।
    4. মেমরি হিসেবে চৌম্বকীয় ড্রাম ব্যবহার।
    5. ডেটা ধারণক্ষমতা কম ও কাজের গতি ধীর।
    6. ইনপুট/আউটপুটে পাঞ্চ কার্ড ব্যবহার।
    7. প্রোগ্রাম লেখা হতো মেশিন ভাষায়।
  14. ১.১-সং-১৪★★বই: পৃষ্ঠা ২৮

    ১৪.পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

    উত্তর

    পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের কম্পিউটার, যার মূল লক্ষ্য কম্পিউটারকে মানুষের মতো চিন্তা করার ক্ষমতা দেওয়া। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

    1. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
    2. মানুষের কণ্ঠস্বর চিনতে ও স্বাভাবিক ভাষা বুঝতে পারবে।
    3. একটি চিপে অসংখ্য মাইক্রোপ্রসেসরযুক্ত অতি উন্নত IC ব্যবহার হবে।
    4. তথ্য ধারণক্ষমতা ও কাজের গতি অনেক বেশি হবে।
    5. যোগাযোগে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার হবে।
    6. অধিক শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারের উন্নয়ন ঘটবে।
    7. আকারে ছোট, দামে কম এবং বিদ্যুৎ খরচ কম হবে।
  15. ১.১-সং-১৫★★বই: পৃষ্ঠা ২৯

    ১৫.কম্পিউটারের প্রধান কাজ কী কী?

    উত্তর

    কম্পিউটার মূলত তিনটি ধাপে কাজ করে: ইনপুট → প্রক্রিয়াকরণ → আউটপুট। এর প্রধান কাজগুলো হলো:

    1. ডেটা গ্রহণ (Input): কী-বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন ইত্যাদির মাধ্যমে ডেটা ও নির্দেশ গ্রহণ করা।
    2. সংরক্ষণ (Storage): ব্যবহারকারীর তৈরি প্রোগ্রাম ও ডেটা মেমরিতে জমা রাখা।
    3. প্রক্রিয়াকরণ (Process): প্রোগ্রাম অনুযায়ী ডেটার ওপর হিসাব ও যুক্তির কাজ করা।
    4. ফলাফল প্রদান (Output): মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার, স্পিকার ইত্যাদির মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা।
    5. নিয়ন্ত্রণ (Control): সব অংশের কাজ সঠিক ক্রমে চালানো।
  16. ১.১-সং-১৬★★বই: পৃষ্ঠা ২৯

    ১৬.কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

    উত্তর

    যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে কম্পিউটার মানবসভ্যতার উন্নয়নে "জাদুর কাঠি" হয়ে উঠেছে, সেগুলো হলো:

    1. দ্রুতগতি: খুব দ্রুত কাজ করতে পারে।
    2. নির্ভুলতা: সঠিক ইনপুট পেলে নির্ভুল ফলাফল দেয়।
    3. যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত: প্রোগ্রাম অনুযায়ী যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
    4. স্বয়ংক্রিয়তা: একবার নির্দেশ দিলে নিজে নিজে কাজ করতে পারে।
    5. বহুমুখিতা: একই যন্ত্রে নানা ধরনের কাজ করা যায়।
    6. ক্লান্তিহীনতা: ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিরতি ছাড়া কাজ করতে পারে।
    7. বিশাল স্মৃতি: অনেক তথ্য দীর্ঘদিন অক্ষতভাবে সংরক্ষণ করতে পারে।
    8. ভুল শনাক্তকরণ: কিছু ভুল নিজে শনাক্ত ও সংশোধন করতে পারে।
    9. দীর্ঘ জীবনকাল: বহু বছর ধরে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে।
  17. ১.১-সং-১৭★বই: পৃষ্ঠা ২৯

    ১৭.প্রয়োগক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও।

    উত্তর

    প্রয়োগক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:

                             কম্পিউটার
                                 │
                ┌────────────────┴────────────────┐
         সাধারণ উদ্দেশ্যের                 বিশেষ উদ্দেশ্যের
            কম্পিউটার                        কম্পিউটার
                                                 │
                  ┌──────────────────┬───────────┴──────┐
             অ্যানালগ             ডিজিটাল            হাইব্রিড
                                     │
              ┌──────────┬───────────┼───────────┐
            সুপার     মেইনফ্রেম      মিনি       মাইক্রো
    

    ✍️ খাতায় লেখার টিপস: প্রতিটি নাম বক্সে লিখে তীর চিহ্ন দিয়ে যুক্ত করো।

  18. ১.১-সং-১৮বই: পৃষ্ঠা ২৯

    ১৮.হাইব্রিড কম্পিউটার বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    অ্যানালগ ও ডিজিটাল দুই ধরনের কম্পিউটারের প্রযুক্তি মিলিয়ে তৈরি কম্পিউটারকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে।

    এর অ্যানালগ অংশ তাপ, চাপ, হৃৎস্পন্দনের মতো পরিবর্তনশীল তথ্য মেপে ইনপুট নেয়। সেই তথ্য সংখ্যায় রূপান্তর হয়ে ডিজিটাল অংশে যায়, যেখানে প্রক্রিয়াকরণ করে ফলাফল দেওয়া হয়।

    উদাহরণ: হাসপাতালের ICU-তে রোগীর রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন ও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের কম্পিউটার। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেই এটি ডাক্তার বা নার্সকে সতর্ক করে।

  19. ১.১-সং-১৯বই: পৃষ্ঠা ২৯

    ১৯.সুপার কম্পিউটার কী?

    • অথবা, সুপার কম্পিউটারের বর্ণনা দাও।

    উত্তর

    সবচেয়ে শক্তিশালী, দ্রুতগতির ও ব্যয়বহুল কম্পিউটারকে সুপার কম্পিউটার বলে।

    এটি আকারে অনেক বড় এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি হিসাব করতে পারে। বিশাল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য এটি ব্যবহার হয়। দাম ও পরিচালনা খরচ অনেক বেশি বলে অল্প কিছু দেশ ও প্রতিষ্ঠানেরই এটি আছে। ভারত "পরম" নামে নিজস্ব সুপার কম্পিউটার তৈরি করেছে।

    ব্যবহার: আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মহাকাশ গবেষণা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পারমাণবিক গবেষণা।

    উদাহরণ: CRAY-1, CYBER-205, পরম।

  20. ১.১-সং-২০বই: পৃষ্ঠা ৩০

    ২০.মেইনফ্রেম কম্পিউটার কী?

    • অথবা, মেইনফ্রেম কম্পিউটারের বর্ণনা দাও।

    উত্তর

    সুপার কম্পিউটারের চেয়ে কিছুটা ছোট কিন্তু অনেক শক্তিশালী যে কম্পিউটারের সাথে একসাথে অনেকগুলো টার্মিনাল যুক্ত থাকে, তাকে মেইনফ্রেম কম্পিউটার বলে।

    এতে অনেক ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস থাকে, ফলে একসাথে বহু ব্যবহারকারী দূরের টার্মিনাল থেকে কাজ করতে পারেন। এটি প্রচুর তথ্য সংরক্ষণ ও দ্রুত প্রক্রিয়া করতে পারে।

    ব্যবহার: ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বড় শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান।

    উদাহরণ: IBM-4300, UNIVAC-1100, CYBER-170।

  21. ১.১-সং-২১বই: পৃষ্ঠা ৩০

    ২১.মাইক্রো কম্পিউটার কী?

    • অথবা, মাইক্রো কম্পিউটারের বর্ণনা দাও।

    উত্তর

    মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে তৈরি ছোট আকারের ও কম দামের কম্পিউটারকে মাইক্রো কম্পিউটার বলে।

    এর কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ (CPU) হিসেবে একটি ছোট চিপ বা মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার হয়। দাম কম ও সহজে ব্যবহারযোগ্য বলে অফিস, বাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও বিনোদনে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হয় বলে একে পার্সোনাল কম্পিউটার (PC)-ও বলে।

    উদাহরণ: IBM PC, Apple Macintosh, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ।

  22. ১.১-সং-২২বই: পৃষ্ঠা ৩০

    ২২.ডেস্কটপ কম্পিউটার কী?

    উত্তর

    অফিস, বাসা বা প্রতিষ্ঠানে টেবিল বা ডেস্কের ওপর রেখে যে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়, তাকে ডেস্কটপ কম্পিউটার বলে।

    এতে সিস্টেম ইউনিট (কেসিং), মনিটর, কী-বোর্ড ও মাউস আলাদা আলাদা থাকে। এটি একটি মাইক্রো কম্পিউটার। দাম তুলনামূলক কম এবং যন্ত্রাংশ সহজে বদলানো যায়। তবে এটি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সহজে নেওয়া যায় না এবং বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া চলে না।

  23. ১.১-সং-২৩বই: পৃষ্ঠা ৩০

    ২৩.ল্যাপটপ কম্পিউটার কী?

    উত্তর

    কোলের ওপর রেখে ব্যবহার করা যায় এমন বহনযোগ্য কম্পিউটারকে ল্যাপটপ কম্পিউটার বলে।

    Lap অর্থ কোল আর Top অর্থ উপর, অর্থাৎ Laptop মানে "কোলের উপর"। ডেস্কটপের প্রায় সব সুবিধা এতে থাকে, কিন্তু আকারে ব্রিফকেসের মতো, তাই সহজে বহন করা যায়। এতে মনিটর (LCD/LED), কী-বোর্ড, টাচপ্যাড একসাথে লাগানো থাকে এবং ব্যাটারিতেও চলে।

    উদাহরণ: HP, Dell, Lenovo, Asus-এর ল্যাপটপ।

  24. ১.১-সং-২৪বই: পৃষ্ঠা ৩০

    ২৪.নোটবুক কম্পিউটার কী?

    উত্তর

    নোটবুক বা খাতার মতো ছোট, পাতলা ও হালকা যে কম্পিউটার সহজে বহন করা যায় এবং হাতে রেখে ব্যবহার করা যায়, তাকে নোটবুক কম্পিউটার বলে।

    এটি ল্যাপটপের চেয়েও ছোট ও হালকা এবং ব্যাটারিতে চলে। ভ্রমণ বা বাইরে থাকার সময় লেখালেখি, ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের মতো সাধারণ কাজে এটি সুবিধাজনক।

  25. ১.১-সং-২৫বই: পৃষ্ঠা ৩০

    ২৫.পকেট কম্পিউটার কী?

    উত্তর

    ক্যালকুলেটরের মতো ছোট আকারের যে কম্পিউটার পকেটে রেখে সহজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়া যায়, তাকে পকেট কম্পিউটার বলে।

    এর মেমরি ও কাজের ক্ষমতা কম, তবে ছোট হিসাব, তথ্য সংরক্ষণ, ঠিকানা ও সময়সূচি রাখার মতো কাজে এটি ব্যবহার হয়। বর্তমানে স্মার্টফোন অনেকটা পকেট কম্পিউটারের কাজ করে।

  26. ১.১-সং-২৬★★বই: পৃষ্ঠা ৩০

    ২৬.হার্ডওয়্যারের উপাদানগুলো কী কী?

    উত্তর

    কম্পিউটারের যেসব যন্ত্রাংশ দেখা ও স্পর্শ করা যায়, সেগুলোকে হার্ডওয়্যার বলে। এসব যন্ত্রাংশ মিলেই কম্পিউটারের ভৌত কাঠামো তৈরি হয় এবং সফটওয়্যারের নির্দেশে এরাই সব কাজ সম্পন্ন করে।

    হার্ডওয়্যারের প্রধান উপাদানগুলো হলো:

    ক্রমউপাদানক্রমউপাদান
    ১সিপিইউ (CPU)৬প্লটার (Plotter)
    ২মনিটর (Monitor)৭স্পিকার (Speaker)
    ৩কী-বোর্ড (Keyboard)৮জয়স্টিক (Joystick)
    ৪প্রিন্টার (Printer)৯ডিজিটাল ক্যামেরা
    ৫মাউস (Mouse)১০স্ক্যানার (Scanner)

    এছাড়া সিস্টেম ইউনিটের ভেতরে মাদারবোর্ড, র‍্যাম, হার্ড ডিস্ক, পাওয়ার সাপ্লাই ইত্যাদি থাকে।

  27. ১.১-সং-২৭★★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ২৭.হার্ডওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও।

    উত্তর

    কাজের ধরন অনুযায়ী হার্ডওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:

                                  হার্ডওয়্যার
                                       │
            ┌──────────────────────────┼──────────────────────────┐
      ইনপুট যন্ত্রপাতি            প্রসেসিং ইউনিট             আউটপুট যন্ত্রপাতি
            │                          │                          │
    • কী-বোর্ড, মাউস           • সিপিইউ/মাইক্রোপ্রসেসর        • মনিটর
    • স্ক্যানার, জয়স্টিক         • র‍্যাম, হার্ড ডিস্ক            • প্রিন্টার
    • মাইক্রোফোন                • মাদারবোর্ড                  • প্লটার
    • ডিজিটাল ক্যামেরা          • পাওয়ার সাপ্লাই               • স্পিকার
    • কার্ড রিডার               • সাউন্ড কার্ড, VGA কার্ড
                                • সিডি/ডিভিডি ড্রাইভ
    

    ✍️ খাতায় লেখার টিপস: তিনটি প্রধান ভাগ (ইনপুট, প্রসেসিং, আউটপুট) অবশ্যই দেখাও, তারপর প্রতিটির নিচে উদাহরণ লেখো।

  28. ১.১-সং-২৮★★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ২৮.সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ ক্রমে সাজানো নির্দেশকে প্রোগ্রাম বলে। আর কম্পিউটার চালানোর জন্য এক বা একাধিক প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার (Software) বলে।

    Soft অর্থ নরম, অর্থাৎ যা হাত দিয়ে ধরা বা ছোঁয়া যায় না। সফটওয়্যারই হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কোন কাজ কীভাবে করতে হবে। সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার শুধু একটি "লোহার বাক্স"। প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার পরিবর্তন (modify) করা যায়।

    উদাহরণ: Windows, MS Word, Google Chrome, Photoshop।

  29. ১.১-সং-২৯★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ২৯.সিস্টেম সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যান্য সফটওয়্যার চালানোর পরিবেশ তৈরির জন্য যেসব প্রোগ্রাম ব্যবহার হয়, সেগুলোকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে।

    সিস্টেম সফটওয়্যার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের কাজ তদারকি করে এবং কম্পিউটার ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে। এটি ছাড়া কম্পিউটার চালানোই যায় না।

    উদাহরণ: অপারেটিং সিস্টেম (Windows, Linux), ডিভাইস ড্রাইভার, অনুবাদক প্রোগ্রাম (কম্পাইলার)।

  30. ১.১-সং-৩০★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ৩০.ইউটিলিটি সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    কম্পিউটারের ব্যবহার সহজ করা, কম্পিউটারকে ভালো রাখা এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমস্যা ঠিক করার জন্য যেসব সহায়ক প্রোগ্রাম ব্যবহার হয়, সেগুলোকে ইউটিলিটি সফটওয়্যার বলে।

    এগুলো ভাইরাস দূর করা, অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে জায়গা খালি করা, ডিস্ক গুছিয়ে কম্পিউটারের গতি বাড়ানো, ব্যাকআপ রাখা ইত্যাদি কাজ করে।

    উদাহরণ: Norton Utility, McAfee (অ্যান্টিভাইরাস), CCleaner, Disk Cleanup, Disk Defragmenter।

  31. ১.১-সং-৩১★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ৩১.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    ব্যবহারকারী তার দৈনন্দিন নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য যেসব প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে।

    যেমন চিঠি লেখা, হিসাব রাখা, ছবি সম্পাদনা, গান শোনা বা প্রেজেন্টেশন তৈরির জন্য আলাদা আলাদা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার আছে।

    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

    1. প্যাকেজ সফটওয়্যার (Package software)
    2. কাস্টমাইজড সফটওয়্যার (Customized software)
    3. কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ (Computer language)

    উদাহরণ: MS Word, MS Excel, PowerPoint, Photoshop।

  32. ১.১-সং-৩২★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ৩২.প্যাকেজ সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    যে সফটওয়্যার কোনো সফটওয়্যার কোম্পানি নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে এবং যে কেউ কিনে ব্যবহার করতে পারে, তাকে প্যাকেজ সফটওয়্যার বলে।

    এগুলো অনেক ব্যবহারকারীর সাধারণ প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি, তাই তৈরি অবস্থায় কিনে সরাসরি কাজ শুরু করা যায়।

    উদাহরণ:

    • MS Word: লেখালেখি বা ওয়ার্ড প্রসেসিং
    • MS Excel: হিসাব বা স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস
    • MS Access: ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা
    • PowerPoint: প্রেজেন্টেশন তৈরি
  33. ১.১-সং-৩৩★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ৩৩.কাস্টমাইজড সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা সফটওয়্যারকে কাস্টমাইজড সফটওয়্যার বলে।

    এটি শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের কাজের সাথে মিল রেখে তৈরি হয়, তাই অন্য কারো কাজে সাধারণত লাগে না। প্রতিষ্ঠান নিজেই প্রোগ্রামার দিয়ে তৈরি করতে পারে, অথবা সফটওয়্যার কোম্পানিকে দিয়ে তৈরি করিয়ে নিতে পারে।

    উদাহরণ: ব্যাংকের হিসাব সফটওয়্যার, হাসপাতালের রোগী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, স্কুলের ফলাফল তৈরির সফটওয়্যার।

  34. ১.১-সং-৩৪★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ৩৪.র‍্যাম কী?

    উত্তর

    RAM-এর পূর্ণরূপ Random Access Memory। এটি কম্পিউটারের প্রধান মেমরির একটি অংশ, যেখানে কাজ চলার সময় ডেটা ও প্রোগ্রাম অস্থায়ীভাবে রাখা হয়।

    র‍্যামে ডেটা পড়া ও লেখা (Read/Write) দুটোই করা যায়। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে বা কম্পিউটার বন্ধ করলে র‍্যামের সব ডেটা মুছে যায়, তাই একে অস্থায়ী (উদ্বায়ী) মেমরি বলে। র‍্যামকে ব্ল্যাকবোর্ডের সাথে তুলনা করা যায়: লেখা যায়, আবার মুছে নতুন করে লেখা যায়।

  35. ১.১-সং-৩৫বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ৩৫.র‍্যামের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

    উত্তর

    RAM (Random Access Memory) হলো প্রধান মেমরির একটি অংশ। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

    1. এটি অস্থায়ী (উদ্বায়ী) মেমরি; বিদ্যুৎ চলে গেলে এর সব তথ্য মুছে যায়।
    2. এতে ডেটা পড়া ও লেখা (Read/Write) দুটোই করা যায়।
    3. সংরক্ষিত তথ্য পরিবর্তন, মুছে ফেলা ও নতুন করে লেখা যায়।
    4. সিপিইউ সরাসরি র‍্যাম থেকে ডেটা নেয়, তাই এটি খুব দ্রুতগতির।
    5. র‍্যাম বেশি হলে কম্পিউটার একসাথে বেশি কাজ দ্রুত করতে পারে।
    6. বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী র‍্যাম মূলত দুই প্রকার: Static RAM (SRAM) ও Dynamic RAM (DRAM)।
  36. ১.১-সং-৩৬★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ৩৬.প্রসেসর বা মাইক্রোপ্রসেসর কী?

    উত্তর

    প্রসেসর বা মাইক্রোপ্রসেসর হলো কম্পিউটারের প্রধান অংশ, যা সব ধরনের গাণিতিক (Arithmetic) ও যৌক্তিক (Logical) কাজ করে এবং কম্পিউটারের অন্যান্য অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    এটি একটি ছোট সিলিকন চিপ, যার ভেতরে লক্ষ লক্ষ ট্রানজিস্টর থাকে। প্রোগ্রামের নির্দেশ অনুযায়ী কম্পিউটারের সব কাজ প্রসেসরের মাধ্যমেই চলে, তাই একে কম্পিউটারের "মস্তিষ্ক" বলা হয়। এর আরেক নাম CPU (Central Processing Unit)।

    উদাহরণ: Intel Core i3, i5, i7; AMD Ryzen।

  37. ১.১-সং-৩৭বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ৩৭.মাদারবোর্ড-এর কাজ কী কী?

    উত্তর

    মাদারবোর্ড হলো কম্পিউটারের প্রধান সার্কিট বোর্ড, যার সাথে অন্য সব যন্ত্রাংশ যুক্ত থাকে। এর প্রধান কাজগুলো হলো:

    1. কম্পোনেন্ট হাব: প্রসেসর, র‍্যাম, হার্ড ডিস্ক, ডিভিডি ড্রাইভসহ সব যন্ত্রাংশ এখানে যুক্ত থাকে, তাই একে Component Hub বলে।
    2. বিদ্যুৎ বণ্টন: পাওয়ার সাপ্লাই থেকে আসা বিদ্যুৎ সঠিকভাবে বিভিন্ন যন্ত্রাংশে পৌঁছে দেয়।
    3. স্লট সরবরাহ: নতুন ডিভাইস (যেমন র‍্যাম, গ্রাফিক্স কার্ড) লাগানোর জন্য বিভিন্ন স্লট থাকে।
    4. BIOS ধারণ: কম্পিউটার চালু (বুট) করার জন্য প্রয়োজনীয় ROM বা BIOS চিপ মাদারবোর্ডে থাকে।
    5. যোগাযোগ রক্ষা: বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের পথ তৈরি করে।
  38. ১.১-সং-৩৮বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ৩৮.একটি কম্পিউটার সিস্টেম ইউনিটের অভ্যন্তরীণ হার্ডওয়্যারের তালিকা তৈরি কর।

    উত্তর

    কম্পিউটারের সিস্টেম ইউনিট বা কেসিংয়ের ভেতরে বিভিন্ন হার্ডওয়্যার থাকে। প্রধান অভ্যন্তরীণ হার্ডওয়্যারগুলোর তালিকা:

    ক্রমহার্ডওয়্যারক্রমহার্ডওয়্যার
    ১মাদারবোর্ড৫পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট
    ২প্রসেসর বা মাইক্রোপ্রসেসর৬ডিভিডি-রম ড্রাইভ
    ৩হার্ড ডিস্ক / এসএসডি৭কুলিং ফ্যান
    ৪র‍্যাম (RAM)৮গ্রাফিক্স কার্ড, সাউন্ড কার্ড ও বিভিন্ন স্লট
  39. ১.১-সং-৩৯★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ৩৯.সিপিইউ কী?

    উত্তর

    CPU-এর পূর্ণরূপ Central Processing Unit বা কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ। এটি কম্পিউটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই একে কম্পিউটারের "মস্তিষ্ক" বলা হয়।

    সিপিইউ ইনপুট থেকে পাওয়া ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে এবং কম্পিউটারের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এর তিনটি প্রধান অংশ:

    1. গাণিতিক যুক্তি অংশ (ALU – Arithmetic Logic Unit)
    2. নিয়ন্ত্রণ অংশ (CU – Control Unit)
    3. স্মৃতি অংশ (MU – Memory Unit)

রচনামূলক প্রশ্ন (৮টি)

  1. ১.১-র-১★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ১.কম্পিউটারের প্রকারভেদ বর্ণনা কর।

    • অথবা, প্রয়োগক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও। [বিএমটি-২০২৬]
    • অথবা, কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০০৯, ১২, ১৪, ১৯, ২৩, ২৫; কমার্স-১৩]

    উত্তর

    কাজের ধরন, গঠন, আকার ও ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটারকে কয়েকভাবে ভাগ করা যায়। প্রধান ভাগগুলো নিচে ছকে দেখানো হলো:

                             কম্পিউটার
                                 │
                ┌────────────────┴────────────────┐
         সাধারণ উদ্দেশ্যের                 বিশেষ উদ্দেশ্যের
            কম্পিউটার                        কম্পিউটার
                                                 │
                  ┌──────────────────┬───────────┴──────┐
             অ্যানালগ             ডিজিটাল            হাইব্রিড
                                     │
              ┌──────────┬───────────┼───────────┐
            সুপার     মেইনফ্রেম      মিনি       মাইক্রো
    

    ক. প্রয়োগক্ষেত্র অনুযায়ী (২ প্রকার)

    ১. সাধারণ উদ্দেশ্যের কম্পিউটার: যে কম্পিউটারে প্রায় সব ধরনের কাজ করা যায়, তাকে সাধারণ উদ্দেশ্যের কম্পিউটার বলে। ব্যবহারকারী ইচ্ছেমতো প্রোগ্রাম বদলাতে ও বিভিন্ন সফটওয়্যার চালাতে পারেন। যেমন: অফিস ও বাসার কম্পিউটার।

    ২. বিশেষ উদ্দেশ্যের কম্পিউটার: যে কম্পিউটার শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি, তাকে বিশেষ উদ্দেশ্যের কম্পিউটার বলে। এতে প্রোগ্রাম আগে থেকেই বসানো থাকে। যেমন: ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ভিডিও গেম, রক্ত পরীক্ষার যন্ত্র।

    খ. কাজের পদ্ধতি অনুযায়ী (৩ প্রকার)

    ১. অ্যানালগ কম্পিউটার: যে কম্পিউটার তাপ, চাপ, গতির মতো ক্রমাগত পরিবর্তনশীল রাশিকে পরিমাপ করে কাজ করে, তাকে অ্যানালগ কম্পিউটার বলে। ফলাফল সাধারণত কাঁটা বা গ্রাফে দেখায়, তাই সূক্ষ্মতা কম। যেমন: গাড়ির স্পিডোমিটার, তেল শোধনাগারে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।

    ২. ডিজিটাল কম্পিউটার: যে কম্পিউটার ০ ও ১ সংকেত ব্যবহার করে গণনার মাধ্যমে কাজ করে, তাকে ডিজিটাল কম্পিউটার বলে। এর ফলাফল সূক্ষ্ম ও নির্ভুল। যেমন: ডেস্কটপ, ল্যাপটপ।

    ৩. হাইব্রিড কম্পিউটার: অ্যানালগ ও ডিজিটাল দুই কম্পিউটারের গুণ মিলিয়ে তৈরি কম্পিউটারকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে। এর অ্যানালগ অংশ তথ্য মাপে, আর ডিজিটাল অংশ সেটা হিসাব করে ফলাফল দেয়। যেমন: হাসপাতালের ICU-তে রোগীর হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ মাপার কম্পিউটার।

    গ. আকার ও ক্ষমতা অনুযায়ী ডিজিটাল কম্পিউটার (৪ প্রকার)

    ১. সুপার কম্পিউটার: সবচেয়ে শক্তিশালী, দ্রুতগতির ও দামি কম্পিউটার। বিশাল পরিমাণ তথ্য খুব দ্রুত প্রক্রিয়া করতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বড় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহার হয়। যেমন: CRAY-1, CYBER-205, ভারতের "পরম"।

    ২. মেইনফ্রেম কম্পিউটার: সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট কিন্তু অনেক শক্তিশালী। একসাথে বহু টার্মিনালে অনেক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারেন। ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হয়। যেমন: IBM-4300, UNIVAC-1100।

    ৩. মিনি কম্পিউটার: মেইনফ্রেমের চেয়ে ছোট, কিন্তু মাইক্রো কম্পিউটারের চেয়ে বড় ও শক্তিশালী। একটি টেবিলে বসানো যায় এবং কয়েকজন একসাথে কাজ করতে পারেন। শিল্প ও গবেষণায় ব্যবহার হয়। যেমন: PDP-11, IBM-S/34।

    ৪. মাইক্রো কম্পিউটার: মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে তৈরি সবচেয়ে ছোট ও সস্তা কম্পিউটার। একে পার্সোনাল কম্পিউটার (PC)-ও বলে। অফিস, বাসা, স্কুল-কলেজে এটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। আকার অনুযায়ী এর কয়েকটি ধরন: ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক, পামটপ ও পকেট কম্পিউটার।

    উপসংহার: কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার তৈরি হয়েছে। তবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ডিজিটাল মাইক্রো কম্পিউটার।

  2. ১.১-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৪

    ২.কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ সংগঠন ও কার্যাবলি বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২২, ২৪]

    • অথবা, কম্পিউটার সংগঠন ব্লক চিত্রের মাধ্যমে দেখাও। [বিএমটি-২০২৩]

    উত্তর

    কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ একটি নির্দিষ্ট নিয়মে পরস্পরের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করে। যন্ত্রাংশগুলোর এই সংযোগ ও সাজানোর পদ্ধতিকে কম্পিউটার সংগঠন বলে। কম্পিউটার সংগঠনের পাঁচটি অংশ আছে:

    (ক) ইনপুট ডিভাইস, (খ) গাণিতিক যুক্তি অংশ (ALU), (গ) নিয়ন্ত্রণ অংশ (CU), (ঘ) মেমরি বা স্মৃতি অংশ এবং (ঙ) আউটপুট ডিভাইস।

                       ┌─────────────────────────────────┐
                       │      কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ (CPU)  │
                       │   ┌─────────────────────────┐   │
                       │   │ গাণিতিক যুক্তি অংশ (ALU) │   │
                       │   └───────────▲─────────────┘   │
    ┌──────────┐       │   ┌───────────┴─────────────┐   │       ┌──────────┐
    │  ইনপুট   │──────►│   │   নিয়ন্ত্রণ অংশ (CU)    │   │──────►│  আউটপুট  │
    │ ডিভাইস   │       │   └───────────▲─────────────┘   │       │ ডিভাইস   │
    └──────────┘       │   ┌───────────┴─────────────┐   │       └──────────┘
                       │   │ প্রধান স্মৃতি (RAM, ROM) │   │
                       │   └─────────────────────────┘   │
                       └─────────────────────────────────┘
                         চিত্র: কম্পিউটার সংগঠনের ব্লক চিত্র
    

    (ক) ইনপুট ডিভাইস: যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পিউটারে ডেটা ও নির্দেশ দেওয়া হয়, সেগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বা গ্রহণমুখ যন্ত্র বলে। কাজ: ব্যবহারকারীর ডেটা ও নির্দেশ কম্পিউটারের বোঝার উপযোগী সংকেতে রূপান্তর করে প্রক্রিয়াকরণ অংশে পাঠানো। উদাহরণ: কী-বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, OMR, OCR, মাইক্রোফোন, লাইট পেন।

    (খ) গাণিতিক যুক্তি অংশ (ALU): সিপিইউ-এর যে অংশ সব হিসাব ও তুলনার কাজ করে, তাকে গাণিতিক যুক্তি অংশ বা ALU (Arithmetic Logic Unit) বলে। কাজ:

    1. গাণিতিক কাজ: যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ।
    2. যুক্তিমূলক কাজ: AND, OR, NOT ইত্যাদি লজিক গেটের মাধ্যমে তুলনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া (যেমন: বড়, ছোট, সমান)।
    3. উপাত্ত সঞ্চালন: হিসাবের পর রেজিস্টার খালি করে পরের কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা।

    (গ) নিয়ন্ত্রণ অংশ (CU): সিপিইউ-এর যে অংশ কম্পিউটারের সব অংশের কাজ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে নিয়ন্ত্রণ অংশ বা CU (Control Unit) বলে। একে কম্পিউটারের "ট্রাফিক পুলিশ" বলা যায়। কাজ:

    1. মেমরি থেকে একটির পর একটি নির্দেশ (Instruction) সংগ্রহ করা।
    2. নির্দেশ অনুযায়ী ALU-কে যোগ-বিয়োগের মতো কাজের আদেশ দেওয়া।
    3. ALU-এর ফলাফল মেমরিতে পাঠানো।
    4. ইনপুট থেকে ডেটা মেমরিতে আনা এবং ফলাফল আউটপুটে পাঠানো।
    5. সব অংশের মধ্যে সমন্বয় রাখা।

    (ঘ) মেমরি বা স্মৃতি অংশ: যে অংশে ডেটা, নির্দেশ ও ফলাফল জমা রাখা হয়, তাকে মেমরি বলে। প্রধান মেমরির (RAM ও ROM) সাথে ALU-এর সরাসরি যোগাযোগ থাকে, তাই এটি খুব দ্রুতগতির। কাজ:

    1. ইনপুট থেকে আসা ডেটা ও নির্দেশ প্রক্রিয়াকরণের আগ পর্যন্ত জমা রাখা।
    2. প্রক্রিয়াকরণের সময় মাঝের (অন্তর্বর্তী) ফলাফল রাখা।
    3. চূড়ান্ত ফলাফল আউটপুটে পাঠানোর আগ পর্যন্ত জমা রাখা।
    4. প্রোগ্রামের নির্দেশগুলো সংরক্ষণ করা।

    (ঙ) আউটপুট ডিভাইস: প্রক্রিয়াকরণের পর পাওয়া ফলাফল যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছে প্রকাশ করা হয়, সেগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বা নির্গমনমুখ যন্ত্র বলে। উদাহরণ: মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার, স্পিকার।

    উপসংহার: এই পাঁচটি অংশ একসাথে সমন্বয় করে কাজ করে বলেই কম্পিউটার ডেটা গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ ও ফলাফল প্রদান করতে পারে।

  3. ১.১-র-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৫

    ৩.সফটওয়্যারের প্রকারভেদ বর্ণনা কর।

    • অথবা, সফটওয়্যারের প্রকারভেদ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? এর দুটি কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৬]

    উত্তর

    কম্পিউটার চালানোর জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। কাজের ধরন অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার: (১) সিস্টেম সফটওয়্যার ও (২) অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।

                              সফটওয়্যার
                                  │
              ┌───────────────────┴───────────────────┐
       সিস্টেম সফটওয়্যার                    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
              │                                       │
       ┌──────┼──────────┐                    ┌───────┴───────┐
    সিস্টেম   সিস্টেম    সিস্টেম            সাধারণ          সুনির্দিষ্ট
    ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট          (প্যাকেজ)        (কাস্টমাইজড)
    প্রোগ্রাম   প্রোগ্রাম   প্রোগ্রাম           প্রোগ্রাম         প্রোগ্রাম
       │          │          │
    • অপারেটিং  • ল্যাঙ্গুয়েজ  • ইউটিলিটি
      সিস্টেম     ট্রান্সলেটর  • পারফরম্যান্স
    • ডেটাবেজ   • প্রোগ্রামিং    প্রোগ্রাম
      ম্যানেজমেন্ট  এডিটর ও টুলস • সিকিউরিটি
    • নেটওয়ার্ক  • CASE         মনিটর
      ম্যানেজমেন্ট
    

    ১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software)

    যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, সেগুলোকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। এটি কম্পিউটারের মৌলিক কাজ পরিচালনা করে এবং অন্য সফটওয়্যার চালাতে সাহায্য করে। সিস্টেম সফটওয়্যারের প্রধান ধরনগুলো:

    (ক) অপারেটিং সিস্টেম (Operating System): কম্পিউটার পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত মূল সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম বলে। এটি কম্পিউটারের সব ডিভাইস ও সফটওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে। বিদ্যুৎ ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না, তেমনি অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও কম্পিউটার চালানো যায় না।

    • অপারেটিং সিস্টেমের দুটি কাজ: (i) হার্ডওয়্যার (মেমরি, প্রসেসর, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস) পরিচালনা করা; (ii) ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা।
    • উদাহরণ: MS-DOS, Windows (XP, 7, 10, 11), UNIX, Linux, macOS।

    (খ) ইউটিলিটি সফটওয়্যার (Utility Software): কম্পিউটারের ব্যবহার সহজ করা এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম। যেমন: অ্যান্টিভাইরাস (McAfee), Norton Utility, Disk Cleanup। মাইক্রো কম্পিউটারে ব্যবহৃত কিছু ইউটিলিটি প্রোগ্রাম:

    • এডিটর (Editor): প্রোগ্রাম বা লেখা তৈরি ও সংশোধন করে।
    • লোডার (Loader): প্রোগ্রাম চালানোর জন্য সেটিকে প্রধান মেমরিতে নিয়ে আসে।
    • মনিটর বা ফার্মওয়্যার: ROM-এ স্থায়ীভাবে থাকা প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটার চালু করতে সাহায্য করে।

    (গ) অনুবাদক সফটওয়্যার (Translator Software): উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের বোধগম্য মেশিন ভাষায় (০ ও ১) রূপান্তর করে। যেমন: কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার, অ্যাসেম্বলার।

    (ঘ) গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) সফটওয়্যার: আইকন, মেনু ও উইন্ডোর মাধ্যমে মাউস দিয়ে সহজে কম্পিউটার চালানোর সুযোগ দেয়।

    ২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software)

    ব্যবহারকারী তার নির্দিষ্ট দৈনন্দিন কাজ করার জন্য যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে। এটি দুই ধরনের:

    (ক) প্যাকেজ সফটওয়্যার: সফটওয়্যার কোম্পানি অনেক ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে। যেমন: MS Word (লেখালেখি), MS Excel (হিসাব), PowerPoint (প্রেজেন্টেশন), Photoshop (ছবি সম্পাদনা)।

    (খ) কাস্টমাইজড সফটওয়্যার: কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে তৈরি করা সফটওয়্যার। যেমন: ব্যাংক, বিমা বা হাসপাতালের নিজস্ব সফটওয়্যার।

    উপসংহার: সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারকে চালু ও কার্যকর রাখে, আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার দিয়ে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করি। দুটো মিলেই কম্পিউটার আমাদের কাজে লাগে।

  4. ১.১-র-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৬

    ৪.কম্পিউটারের প্রজন্ম বা জেনারেশন বর্ণনা কর।

    • অথবা, বিভিন্ন প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর। [বিএমটি-২০১০]
    • অথবা, কম্পিউটারের প্রজন্মের প্রকারভেদ সংক্ষেপে আলোচনা কর। [কমার্স-২০১৪]
    • অথবা, বিভিন্ন প্রজন্মের কম্পিউটারের দুটি করে বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর। [বিএমটি-২০১৩]
    • অথবা, চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য লেখ। [বিএমটি-২০১৫]

    উত্তর

    প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে কম্পিউটারের গঠন ও কাজের ক্ষমতায় যে ধাপে ধাপে পরিবর্তন হয়েছে, তার প্রতিটি ধাপকে কম্পিউটারের প্রজন্ম (Generation) বলে। কম্পিউটারকে ৫টি প্রজন্মে ভাগ করা হয়।

    প্রজন্মসময়কালমূল প্রযুক্তি
    প্রথম১৯৪৬–১৯৫৮ভ্যাকুয়াম টিউব
    দ্বিতীয়১৯৫৮–১৯৬৫ট্রানজিস্টর
    তৃতীয়১৯৬৫–১৯৭১ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC)
    চতুর্থ১৯৭১–বর্তমানমাইক্রোপ্রসেসর (VLSI)
    পঞ্চমবর্তমান ও ভবিষ্যৎকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)

    ১. প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৪৬–১৯৫৮)

    এ প্রজন্মের কম্পিউটার ভ্যাকুয়াম টিউব দিয়ে তৈরি হতো। বৈশিষ্ট্য:

    • আকারে বিশাল, ওজন অনেক বেশি।
    • প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হতো এবং খুব গরম হতো।
    • মেমরি হিসেবে চৌম্বকীয় ড্রাম ব্যবহার হতো।
    • ইনপুট/আউটপুটে পাঞ্চ কার্ড ব্যবহার হতো।
    • প্রোগ্রাম লেখা হতো মেশিন ভাষায়। উদাহরণ: ENIAC, UNIVAC-1, IBM-650।

    ২. দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৫৮–১৯৬৫)

    এ প্রজন্মে ভ্যাকুয়াম টিউবের বদলে ট্রানজিস্টর ব্যবহার শুরু হয়। বৈশিষ্ট্য:

    • আকারে ছোট, গতি বেশি, বিদ্যুৎ খরচ কম।
    • প্রধান মেমরি হিসেবে চৌম্বকীয় কোর মেমরি ব্যবহার হয়।
    • সহায়ক মেমরি হিসেবে চৌম্বকীয় টেপ ও ডিস্ক ব্যবহার শুরু হয়।
    • অ্যাসেম্বলি ভাষা এবং FORTRAN, COBOL-এর মতো উচ্চস্তরের ভাষা ব্যবহার শুরু হয়। উদাহরণ: IBM-1401, IBM-1620।

    ৩. তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫–১৯৭১)

    এ প্রজন্মে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) ব্যবহার শুরু হয়। বৈশিষ্ট্য:

    • আকার আরও ছোট, গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বেশি।
    • অর্ধপরিবাহী (সেমিকন্ডাক্টর) মেমরি ব্যবহার শুরু হয়।
    • মনিটর ও কী-বোর্ড ব্যবহার শুরু হয়।
    • অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহার এবং একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো সম্ভব হয়।
    • মিনি কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হয়। উদাহরণ: IBM-360, PDP-8।

    ৪. চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৭১–বর্তমান)

    এ প্রজন্মে মাইক্রোপ্রসেসর ও বৃহৎ মাপের IC (LSI ও VLSI) ব্যবহার শুরু হয়। বৈশিষ্ট্য:

    • একটি ছোট চিপেই পুরো সিপিইউ (মাইক্রোপ্রসেসর)।
    • আকারে ছোট, দামে কম, গতি ও ধারণক্ষমতা অনেক বেশি।
    • মাইক্রো বা পার্সোনাল কম্পিউটারের (PC) ব্যাপক প্রচলন।
    • উন্নত অপারেটিং সিস্টেম, GUI ও নেটওয়ার্ক/ইন্টারনেট ব্যবহার। উদাহরণ: IBM PC, Apple Macintosh, বর্তমানের ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ।

    ৫. পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ)

    এ প্রজন্মের মূল লক্ষ্য কম্পিউটারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে মানুষের মতো চিন্তার ক্ষমতা দেওয়া। বৈশিষ্ট্য:

    • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
    • মানুষের কণ্ঠস্বর চিনতে ও স্বাভাবিক ভাষা বুঝতে পারবে।
    • অসংখ্য মাইক্রোপ্রসেসরযুক্ত অতি উন্নত IC ব্যবহার হবে।
    • যোগাযোগে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার হবে।
    • তথ্য ধারণক্ষমতা ও গতি অনেক গুণ বেশি হবে।

    উপসংহার: প্রতিটি নতুন প্রজন্মে কম্পিউটার আগের চেয়ে ছোট, দ্রুত, সস্তা ও শক্তিশালী হয়েছে, আর ভবিষ্যতের কম্পিউটার হবে আরও বুদ্ধিমান।

  5. ১.১-র-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৮

    ৫.কম্পিউটার বলতে কী বুঝ? কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটার: কম্পিউটার হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ডেটা ও নির্দেশ গ্রহণ করে, দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রক্রিয়া করে এবং ফলাফল প্রদান করে। Computer শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Compute থেকে, যার অর্থ গণনা করা। কম্পিউটার একক কোনো যন্ত্র নয়; অনেকগুলো যন্ত্রাংশ মিলে এটি তৈরি হয়। এটি বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান করতে পারে।

    কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ: কম্পিউটারের প্রধান হার্ডওয়্যার অংশগুলো হলো: সিস্টেম ইউনিট, মাদারবোর্ড, প্রসেসর, পাওয়ার সাপ্লাই, হার্ড ডিস্ক/এসএসডি, র‍্যাম, রম, ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস। নিচে এগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো:

    ১. সিস্টেম ইউনিট: কম্পিউটারের যে বাক্স বা কেসিংয়ের ভেতরে মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র‍্যাম, হার্ড ডিস্ক, পাওয়ার সাপ্লাই ইত্যাদি লাগানো থাকে, তাকে সিস্টেম ইউনিট বলে। অনেকে একে ভুলভাবে "সিপিইউ" বলেন।

    ২. মাদারবোর্ড: কম্পিউটারের প্রধান সার্কিট বোর্ড, যার সাথে অন্য সব যন্ত্রাংশ যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার তৈরি হয়। একে কম্পিউটারের মূল ভিত্তি বলা যায়।

    ৩. প্রসেসর: যে যন্ত্রটি ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও সব হিসাবের কাজ করে, তাকে প্রসেসর বলে। এর আরেক নাম CPU (Central Processing Unit)। একে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়।

    ৪. পাওয়ার সাপ্লাই: বিদ্যুৎ লাইন থেকে আসা বিদ্যুৎকে উপযুক্ত মানে রূপান্তর করে কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশে প্রয়োজনমতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

    ৫. হার্ড ডিস্ক: কম্পিউটারের ডেটা ও প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে রাখার যন্ত্র, যাতে পরে আবার ব্যবহার করা যায়।

    ৬. এসএসডি (SSD): পূর্ণরূপ Solid State Drive। এটি পেনড্রাইভ বা মেমরি কার্ডের মতো একটি ফ্ল্যাশ স্টোরেজ, যা হার্ড ডিস্কের বদলে ব্যবহার হয়। এতে কম্পিউটার অনেক দ্রুত কাজ করে।

    ৭. র‍্যাম (RAM): পূর্ণরূপ Random Access Memory। কাজ চলার সময় প্রয়োজনীয় তথ্য অস্থায়ীভাবে রাখে এবং দ্রুত সরবরাহ করে। বিদ্যুৎ চলে গেলে এর তথ্য মুছে যায়।

    ৮. রম (ROM): পূর্ণরূপ Read Only Memory। এটি প্রধান মেমরির একটি অংশ, যেখানে কম্পিউটার চালু করার মৌলিক তথ্য প্রস্তুতকারক স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়।

    ৯. ইনপুট ডিভাইস: কী-বোর্ড ও মাউসের মাধ্যমে কম্পিউটারে ডেটা ও নির্দেশ দেওয়া হয়।

    ১০. আউটপুট ডিভাইস: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকারের মাধ্যমে কম্পিউটার ফলাফল প্রকাশ করে।

    উপসংহার: এসব অংশ একসাথে সমন্বয় করে কাজ করলেই একটি কম্পিউটার পূর্ণাঙ্গভাবে চলে।

  6. ১.১-র-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৪০

    ৬.কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটার একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র। এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে আজ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার হচ্ছে। নিচে বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো:

    ১. দ্রুতগতি (Speed): কম্পিউটার বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে কাজ করে, তাই এর গতি অবিশ্বাস্য। কম্পিউটারের কাজের গতি মাপা হয় ন্যানো সেকেন্ডে; একটি উচ্চক্ষমতার কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ হিসাব করতে পারে।

    ২. নির্ভুলতা (Accuracy): কম্পিউটার নিজে ভুল করে না। সঠিক প্রোগ্রাম ও ডেটা দিলে এটি সবসময় নির্ভুল ফলাফল দেয়। তবে ভুল ইনপুট দিলে ফলাফলও ভুল হয় (Garbage In, Garbage Out)।

    ৩. বহুমুখিতা (Versatility): একই কম্পিউটারে হিসাব, লেখালেখি, ছবি আঁকা, গান শোনা, যোগাযোগ, শিক্ষা, গবেষণাসহ নানা ধরনের কাজ করা যায়।

    ৪. স্বয়ংক্রিয়তা (Automation): একবার প্রোগ্রাম দিয়ে দিলে কম্পিউটার মানুষের সাহায্য ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে নিজে নিজে কাজ শেষ করতে পারে।

    ৫. বিশাল স্মৃতি (Memory): কম্পিউটার কোটি কোটি তথ্য বছরের পর বছর অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করতে পারে এবং প্রয়োজনমতো মুহূর্তেই তা খুঁজে দিতে পারে।

    ৬. ক্লান্তিহীনতা (Diligence): মানুষ ক্লান্ত বা বিরক্ত হয়, কিন্তু কম্পিউটার একই কাজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই গতি ও নির্ভুলতায় করে যেতে পারে।

    ৭. যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত (Logical Decision): নিজের বিচারবুদ্ধি না থাকলেও প্রোগ্রামের সাহায্যে কম্পিউটার তুলনা করে যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    ৮. ভুল শনাক্তকরণ ও সংশোধন: কম্পিউটার এমনভাবে প্রোগ্রাম করা যায় যে এটি দ্রুত কিছু ভুল শনাক্ত ও সংশোধন করতে পারে।

    ৯. সূক্ষ্মতা (Precision): কম্পিউটারের হিসাবের সূক্ষ্মতা অতুলনীয়, যা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

    ১০. বুদ্ধিহীনতা (IQ নেই): কম্পিউটারের নিজস্ব কোনো বুদ্ধি নেই। ব্যবহারকারী যেভাবে নির্দেশ দেন, কম্পিউটার শুধু সেভাবেই কাজ করে; নিজে থেকে কিছু ভাবতে পারে না।

    উপসংহার: এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে কম্পিউটার আজ মানুষের সবচেয়ে কার্যকর সহায়ক যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।

  7. ১.১-র-৭বই: পৃষ্ঠা ৪০

    ৭.সিস্টেম ইউনিটের অভ্যন্তরীণ হার্ডওয়্যারসমূহের মৌলিক কার্যাবলি বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটারের সিস্টেম ইউনিট বা কেসিংয়ের ভেতরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার থাকে। এগুলোর মৌলিক কাজ নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. মাদারবোর্ড (Motherboard): মাদারবোর্ড হলো কম্পিউটারের প্রধান সার্কিট বোর্ড, যার সাথে সিপিইউ, র‍্যাম, স্টোরেজ, গ্রাফিক্স কার্ড, সাউন্ড কার্ডসহ সব হার্ডওয়্যার যুক্ত থাকে। কাজ:

    • সব যন্ত্রাংশের মধ্যে ইলেকট্রনিক যোগাযোগ স্থাপন করা (Component Hub)।
    • পাওয়ার সাপ্লাই থেকে আসা বিদ্যুৎ বিভিন্ন যন্ত্রাংশে বণ্টন করা।
    • নতুন ডিভাইস লাগানোর জন্য বিভিন্ন স্লট সরবরাহ করা।
    • কম্পিউটার চালু (বুট) করার জন্য BIOS চিপ ধারণ করা। মাদারবোর্ডের কোনো অংশ নষ্ট হলে পুরো কম্পিউটার কাজ করা বন্ধ করে দেয়, কারণ এটিই কম্পিউটারের মূল ভিত্তি।

    ২. প্রসেসর বা মাইক্রোপ্রসেসর (Processor): সিলিকন চিপের ওপর অসংখ্য ট্রানজিস্টর, ডায়োড, রেজিস্টর ও ক্যাপাসিটর দিয়ে তৈরি সার্কিটকে মাইক্রোপ্রসেসর বলে। একে সিপিইউ ও কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়। কাজ:

    • গাণিতিক, যুক্তিমূলক ও উপাত্ত সঞ্চালনের কাজ করা।
    • মেমরি থেকে ডেটা ও নির্দেশ (Instruction) এনে ডিকোড ও নির্বাহ করা।
    • সময় নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ সংকেত দেওয়া।
    • ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসের সাথে সমন্বয় করা।

    ৩. র‍্যাম (RAM): কাজ চলার সময় প্রয়োজনীয় ডেটা ও প্রোগ্রাম অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে এবং দ্রুত প্রসেসরে সরবরাহ করে। বিদ্যুৎ চলে গেলে এর তথ্য মুছে যায়।

    ৪. রম (ROM): কম্পিউটার চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক প্রোগ্রাম (যেমন BIOS) স্থায়ীভাবে ধারণ করে।

    ৫. হার্ড ডিস্ক / এসএসডি: অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার ও ব্যবহারকারীর ফাইল স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে। এসএসডি হার্ড ডিস্কের চেয়ে অনেক দ্রুত কাজ করে।

    ৬. পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট (PSU): বিদ্যুৎ লাইনের এসি বিদ্যুৎকে প্রয়োজনীয় ডিসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে সব যন্ত্রাংশে সরবরাহ করে।

    ৭. গ্রাফিক্স কার্ড ও সাউন্ড কার্ড: গ্রাফিক্স কার্ড মনিটরে ছবি ও ভিডিও দেখানোর কাজ করে, আর সাউন্ড কার্ড স্পিকারে শব্দ তৈরি করে।

    ৮. ডিভিডি-রম ড্রাইভ: সিডি বা ডিভিডি থেকে ডেটা পড়ার (এবং কিছু ক্ষেত্রে লেখার) কাজ করে।

    ৯. কুলিং ফ্যান: প্রসেসর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ঠান্ডা রাখে, যাতে অতিরিক্ত গরমে কম্পিউটার নষ্ট না হয়।

    উপসংহার: সিস্টেম ইউনিটের এসব হার্ডওয়্যার একসাথে মিলে কাজ করলেই কম্পিউটার সঠিকভাবে চলে।

  8. ১.১-র-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ৪১

    ৮.কম্পিউটার সফটওয়্যার ও ফার্মওয়্যার-এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।

    উত্তর

    সফটওয়্যার হলো নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি প্রোগ্রামের সমষ্টি, আর ফার্মওয়্যার হলো হার্ডওয়্যারের ভেতরে স্থায়ীভাবে বসানো বিশেষ ধরনের প্রোগ্রাম, যা হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে। এদের মধ্যে পার্থক্য:

    বিষয়সফটওয়্যারফার্মওয়্যার
    ১. সংজ্ঞানির্দিষ্ট কাজের জন্য কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রোগ্রাম ও নির্দেশের সমষ্টিহার্ডওয়্যারের ভেতরে স্থায়ীভাবে বসানো প্রোগ্রাম, যা ডিভাইসকে কীভাবে কাজ করতে হবে তা বলে দেয়
    ২. প্রকারভেদপ্রধানত দুই প্রকার: সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারপ্রধানত দুই প্রকার: BIOS ও UEFI (EFI)
    ৩. আকারআকারে বড়; কয়েকশ কিলোবাইট থেকে কয়েক গিগাবাইটআকারে ছোট; সাধারণত কয়েক কিলোবাইট থেকে কয়েক মেগাবাইট
    ৪. ভাষানিম্নস্তর ও উচ্চস্তর, দুই ধরনের ভাষাতেই তৈরিসাধারণত নিম্নস্তরের ভাষায় তৈরি
    ৫. পরিবর্তনব্যবহারকারী সহজেই ইনস্টল, পরিবর্তন বা মুছে ফেলতে পারেব্যবহারকারী সাধারণত পরিবর্তন করতে পারে না
    ৬. আপডেটআপডেট করা সহজআপডেট করা তুলনামূলক কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ
    ৭. সংরক্ষণের স্থানহার্ড ডিস্ক বা এসএসডির মতো সেকেন্ডারি স্টোরেজে থাকেROM বা ফ্ল্যাশ মেমরি চিপে থাকে
    ৮. চালানোর স্থানপ্রধান প্রসেসর (CPU) ও মেমরিতে চলেঅনেক সময় ডিভাইসের নিজস্ব ছোট প্রসেসরে চলে
    ৯. উদাহরণWindows, MS Word, ChromeBIOS, প্রিন্টার ও রাউটারের ভেতরের প্রোগ্রাম

    💡 মনে রাখার কৌশল: সব ফার্মওয়্যারই এক ধরনের সফটওয়্যার, কিন্তু সব সফটওয়্যার ফার্মওয়্যার নয়।