কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১ · অধ্যায়-১ : কম্পিউটার সিস্টেম ও হার্ডওয়্যার
অধ্যায় ১.২: স্টোরেজ মিডিয়া
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২৭টি)
- ১.২-সং-১★★বই: পৃষ্ঠা ৪৩
১.প্রধান মেমরি ও সহায়ক মেমরি-এর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।
- অথবা, প্রধান মেমরি ও সহায়ক মেমরি-এর মধ্যে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০১০, ১৮; কমার্স-২০১১, ২৬]
- অথবা, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মেমরির পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০১৪]
উত্তর
প্রধান মেমরি (প্রাইমারি) ও সহায়ক মেমরি (সেকেন্ডারি)-এর মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় প্রধান মেমরি সহায়ক মেমরি ১. সিপিইউ-এর সাথে সংযোগ সিপিইউ সরাসরি অ্যাক্সেস করতে পারে সিপিইউ সরাসরি অ্যাক্সেস করতে পারে না; আগে প্রধান মেমরিতে আনতে হয় ২. ব্যবহার চলমান প্রোগ্রাম ও ডেটা রাখতে ফাইল ও প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে রাখতে ৩. ধারণক্ষমতা তুলনামূলক কম অনেক বেশি ৪. গতি খুব দ্রুত (ন্যানোসেকেন্ডে) তুলনামূলক ধীর (মিলিসেকেন্ডে) ৫. বিদ্যুৎ চলে গেলে RAM-এর তথ্য মুছে যায় (ROM-এর থাকে) তথ্য মুছে যায় না ৬. দাম প্রতি বিটে খরচ বেশি প্রতি বিটে খরচ কম ৭. উদাহরণ RAM, ROM হার্ড ডিস্ক, এসএসডি, পেন ড্রাইভ, ডিভিডি - ১.২-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৩
২.RAM ও ROM-এর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৪]
- অথবা, RAM ও ROM-এর মধ্যে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০০৯, ১০, ১২, ১৩, ১৫, ১৭, ১৮, ২২; কমার্স-২০০৯]
উত্তর
RAM ও ROM-এর মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় RAM ROM ১. পূর্ণরূপ Random Access Memory Read Only Memory ২. মেমরির ধরন অস্থায়ী (উদ্বায়ী) মেমরি স্থায়ী (অনুদ্বায়ী) মেমরি ৩. পড়া/লেখা পড়া ও লেখা দুটোই করা যায় সাধারণত শুধু পড়া যায় ৪. পরিবর্তন তথ্য যোগ, পরিবর্তন ও মোছা যায় সাধারণভাবে তথ্য পরিবর্তন করা যায় না ৫. বিদ্যুৎ চলে গেলে সব তথ্য মুছে যায় তথ্য মুছে যায় না ৬. কী রাখা হয় চলমান প্রোগ্রাম ও ডেটা কম্পিউটার চালু করার মৌলিক প্রোগ্রাম (BIOS) ৭. প্রকারভেদ ২ প্রকার: DRAM ও SRAM কয়েক প্রকার: MROM, PROM, EPROM, EEPROM ৮. গতি দ্রুত তুলনামূলক ধীর - ১.২-সং-৩★বই: পৃষ্ঠা ৪৩
৩.প্রাইমারি মেমরি কী? উদাহরণ দাও। [বিএমটি-২০২৩]
- অথবা, প্রাইমারি বা প্রধান মেমরি কী?
- অথবা, প্রাইমারি মেমরির বর্ণনা দাও। [বিএমটি-২০১৬]
উত্তর
কম্পিউটারের যে মেমরি সিপিইউ-এর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে এবং যেখান থেকে সিপিইউ সরাসরি ডেটা ও নির্দেশ নিতে পারে, তাকে প্রাইমারি মেমরি বা প্রধান মেমরি বলে।
এর সাথে গাণিতিক যুক্তি অংশের (ALU) সরাসরি যোগাযোগ থাকে, তাই এটি খুব দ্রুতগতির হতে হয়। চলমান কাজের প্রয়োজনীয় ডেটা ও নির্দেশ এখানে রাখা হয়। এর অ্যাক্সেস সময় খুব কম (ন্যানোসেকেন্ড), তবে ধারণক্ষমতা কম এবং দাম বেশি।
উদাহরণ: RAM ও ROM।
- ১.২-সং-৪★★বই: পৃষ্ঠা ৪৪
৪.ক্লাউড স্টোরেজ কী? [বিএমটি-২০২৩, ২৫]
উত্তর
ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের দূরবর্তী সার্ভারে নিজের ফাইল, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থাকে ক্লাউড স্টোরেজ (Cloud Storage) বলে।
আমরা যেমন মোবাইলের মেমরি কার্ডে ডেটা রাখি, তেমনি ক্লাউড স্টোরেজে অনলাইনে ডেটা রাখা যায়। শুধু একটি অ্যাকাউন্ট খুলে লগইন করলেই যেকোনো জায়গা থেকে, যেকোনো ডিভাইসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই ডেটা ব্যবহার করা যায়। ডিভাইস হারালেও ডেটা হারায় না।
উদাহরণ: Google Drive, Dropbox, OneDrive, iCloud।
- ১.২-সং-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৪
৫.ইপিরম ও ইইপিরমের মধ্যে পার্থক্য কী? [বিএমটি-২০১১]
উত্তর
ইপিরম (EPROM) ও ইইপিরম (EEPROM)-এর মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় ইপিরম (EPROM) ইইপিরম (EEPROM) ১. পূর্ণরূপ Erasable Programmable Read Only Memory Electrically Erasable Programmable Read Only Memory ২. ডেটা মোছার পদ্ধতি অতিবেগুনি (Ultraviolet) রশ্মি দিয়ে মোছা হয় বিদ্যুৎ (ইলেকট্রিক্যাল) সংকেত দিয়ে মোছা হয় ৩. মোছার পরিমাণ মুছলে সম্পূর্ণ ডেটা একসাথে মুছে যায় নির্দিষ্ট অংশ বা নির্দিষ্ট সেলের ডেটা আলাদাভাবে মোছা যায় ৪. চিপ খোলা মোছার জন্য চিপটি সার্কিট থেকে খুলে নিতে হয় সার্কিটে লাগানো অবস্থাতেই মোছা যায় ৫. সময় মুছতে বেশি সময় লাগে (কয়েক মিনিট) দ্রুত মোছা যায় - ১.২-সং-৬★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৪
৬.হার্ড ডিস্ক কী?
- অথবা, হার্ড ডিস্ক কী? সংক্ষেপে লেখ। [বিএমটি-২০০৯]
উত্তর
হার্ড ডিস্ক হলো কম্পিউটারের প্রধান সহায়ক (সেকেন্ডারি) মেমরি, যেখানে ডেটা ও প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়। আশির দশকে এর প্রচলন শুরু হয়।
হার্ড ডিস্ক কয়েকটি পাতলা গোলাকার ধাতব পাত (প্ল্যাটার) দিয়ে তৈরি। পাতগুলোর দুই পৃষ্ঠে চুম্বকীয় প্রলেপ থাকে, তাই একে চুম্বকীয় ডিস্ক-ও বলে। পাতগুলো একটি দণ্ডের সাথে লাগানো থাকে এবং কাজের সময় খুব দ্রুত ঘোরে। রিড/রাইট হেড দিয়ে ডেটা পড়া ও লেখা হয়। ধুলাবালি থেকে রক্ষা করতে একে বন্ধ বাক্সে রাখা হয়।
┌───────────────────────────────┐ │ ╭───────────────╮ │ │ │ ◉ স্পিন্ডল │──── রিড/রাইট হেড │ │ (ঘূর্ণায়মান পাত)│ ↑ আর্ম │ ╰───────────────╯ অ্যাকচুয়েটর │ পাওয়ার পোর্ট | ডেটা ক্যাবল পোর্ট │ └───────────────────────────────┘ চিত্র: হার্ড ডিস্কের ভেতরের অংশবিদ্যুৎ চলে গেলেও এর তথ্য মুছে যায় না। এর ধারণক্ষমতা অনেক বেশি, যেমন 500 GB, 1 TB বা তারও বেশি।
ধারণক্ষমতা = পৃষ্ঠ সংখ্যা × ট্র্যাক সংখ্যা × সেক্টর সংখ্যা × প্রতি সেক্টরের বাইট সংখ্যা
- ১.২-সং-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৪৪
৭.স্টোরেজ মিডিয়া কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর
তথ্য বা উপাত্ত সংরক্ষণ করে রাখার জন্য যে ভৌত মাধ্যম বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাকে স্টোরেজ মিডিয়া (Storage Media) বলে। যেমন: হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ, সিডি।
স্টোরেজ মিডিয়া প্রধানত দুই প্রকার:
- প্রাইমারি স্টোরেজ মিডিয়া (প্রধান মেমরি): সিপিইউ-এর সাথে সরাসরি যুক্ত। যেমন: RAM, ROM।
- সেকেন্ডারি স্টোরেজ মিডিয়া (সহায়ক মেমরি): তথ্য স্থায়ীভাবে রাখে। যেমন: হার্ড ডিস্ক, এসএসডি, ডিভিডি, পেন ড্রাইভ।
স্টোরেজ মিডিয়া │ ┌──────────┴──────────┐ প্রাইমারি সেকেন্ডারি (RAM, ROM) (হার্ড ডিস্ক, এসএসডি, সিডি, পেন ড্রাইভ) - ১.২-সং-৮★বই: পৃষ্ঠা ৪৪
৮.বিট কী?
উত্তর
কম্পিউটারের মেমরির ধারণক্ষমতা মাপার সবচেয়ে ছোট একক হলো বিট (Bit)।
বাইনারি সংখ্যার দুটি অঙ্ক 0 ও 1-কে বাইনারি ডিজিট (Binary Digit) বলে। এর সংক্ষিপ্ত রূপই Bit। কম্পিউটারের মেমরি অসংখ্য ছোট সুইচ দিয়ে তৈরি; প্রতিটি সুইচ একটি বিট।
- সুইচ চালু (High) হলে বিটের মান 1
- সুইচ বন্ধ (Low) হলে বিটের মান 0
উদাহরণ: 1011 সংখ্যাটিতে ৪টি বিট আছে।
- ১.২-সং-৯★বই: পৃষ্ঠা ৪৪
৯.বাইট কী?
উত্তর
পাশাপাশি ৮টি বিট নিয়ে গঠিত এককে বাইট (Byte) বলে।
1 Byte = 8 Bit
কম্পিউটারে একটি অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্ন (যেমন A, 5, @) রাখতে সাধারণত ১ বাইট জায়গা লাগে। মেমরির প্রতিটি কোষে (সেলে) ৮টি করে বিট থাকে, অর্থাৎ এক কোষে এক বাইট জায়গা থাকে।
উদাহরণ: 01000001 (এটি ইংরেজি অক্ষর A-এর কোড) হলো এক বাইট।
- ১.২-সং-১০বই: পৃষ্ঠা ৪৪
১০.কম্পিউটার শব্দ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর
কম্পিউটার একসাথে যতগুলো বিট নিয়ে একটি একক হিসেবে কাজ করে, সেই বিটের গুচ্ছকে কম্পিউটার শব্দ (Computer Word) বলে।
সাধারণ ভাষায় শব্দ মানে অক্ষরের সমষ্টি, কিন্তু কম্পিউটারে শব্দ মানে ০ ও ১ বিটের সমষ্টি। প্রতিটি শব্দ মেমরিতে একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় (Address) রাখা হয়। একটি শব্দে যতগুলো বিট থাকে, তাকে শব্দ দৈর্ঘ্য (Word Length) বলে। শব্দ দৈর্ঘ্য সাধারণত ৮-এর গুণিতক হয়, যেমন ৮, ১৬, ৩২ বা ৬৪ বিট।
কম্পিউটার শব্দ দুই প্রকার:
- ডেটা শব্দ (Data word): যে শব্দে ডেটা থাকে।
- নির্দেশক শব্দ (Instruction word): যে শব্দে নির্দেশ (Instruction) থাকে।
- ১.২-সং-১১বই: পৃষ্ঠা ৪৫
১১.স্টোরেজ মিডিয়া ক্যাপাসিটি বা ধারণক্ষমতা বলতে কী বুঝায়?
উত্তর
কোনো স্টোরেজ মিডিয়াতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ ডেটা সংরক্ষণ করা যায়, তাকে ওই স্টোরেজ মিডিয়ার ক্যাপাসিটি বা ধারণক্ষমতা বলে।
ধারণক্ষমতা মাপা হয় বিট, বাইট, কিলোবাইট (KB), মেগাবাইট (MB), গিগাবাইট (GB), টেরাবাইট (TB) ইত্যাদি এককে।
উদাহরণ: একটি এসএসডির গায়ে 500 GB লেখা থাকলে বুঝতে হবে এতে সর্বোচ্চ 500 গিগাবাইট ডেটা রাখা যাবে।
- ১.২-সং-১২★বই: পৃষ্ঠা ৪৫
১২.সেকেন্ডারি বা সহায়ক মেমরি কী?
- অথবা, সেকেন্ডারি বা সহায়ক মেমরি কী?
উত্তর
কম্পিউটারের তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করার জন্য যে মেমরি ব্যবহার হয়, তাকে সেকেন্ডারি মেমরি বা সহায়ক (গৌণ) মেমরি বলে।
এটি সিপিইউ-এর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে না। বিদ্যুৎ চলে গেলে বা কম্পিউটার বন্ধ করলেও এর তথ্য মুছে যায় না। এর ধারণক্ষমতা প্রধান মেমরির চেয়ে অনেক বেশি, তবে গতি কম (অ্যাক্সেস সময় মিলিসেকেন্ডে)।
উদাহরণ: হার্ড ডিস্ক, এসএসডি, পেন ড্রাইভ, সিডি, ডিভিডি, চৌম্বক টেপ। আগের দিনে পাঞ্চ কার্ড ও পেপার টেপও সহায়ক মেমরি হিসেবে ব্যবহার হতো।
- ১.২-সং-১৩★★বই: পৃষ্ঠা ৪৫
১৩.পূর্ণরূপ লেখ : ROM, RAM, MROM, PROM, EPROM, EEPROM.
উত্তর
সংক্ষিপ্ত রূপ পূর্ণরূপ ROM Read Only Memory RAM Random Access Memory MROM Masked Read Only Memory PROM Programmable Read Only Memory EPROM Erasable Programmable Read Only Memory EEPROM Electrically Erasable Programmable Read Only Memory 💡 মনে রাখার কৌশল: প্রতিটির শেষে "ROM = Read Only Memory" থাকবেই; শুধু সামনে P (Programmable), E (Erasable), EE (Electrically Erasable) যোগ হয়।
- ১.২-সং-১৪★★বই: পৃষ্ঠা ৪৫
১৪.RAM কী?
উত্তর
RAM-এর পূর্ণরূপ Random Access Memory। এটি প্রধান মেমরির একটি অংশ, যেখানে কাজ চলার সময় ডেটা ও প্রোগ্রাম অস্থায়ীভাবে রাখা হয়।
র্যামে ডেটা পড়া ও লেখা (Read/Write) দুটোই করা যায়, অর্থাৎ পুরনো ডেটা মুছে নতুন ডেটা রাখা যায়। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে র্যামের সব ডেটা মুছে যায়, তাই এটি অস্থায়ী (উদ্বায়ী) মেমরি। র্যামকে ব্ল্যাকবোর্ডের সাথে তুলনা করা যায়।
- ১.২-সং-১৫★★বই: পৃষ্ঠা ৪৫
১৫.ROM কী?
উত্তর
ROM-এর পূর্ণরূপ Read Only Memory। এটি প্রধান মেমরির একটি অংশ, যেখানে প্রস্তুতকারক কম্পিউটার চালু করার মৌলিক প্রোগ্রাম (যেমন BIOS) স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে দেয়।
রমের তথ্য সাধারণত শুধু পড়া যায়, লেখা বা পরিবর্তন করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলেও রমের তথ্য মুছে যায় না, তাই এটি স্থায়ী (অনুদ্বায়ী) মেমরি। তবে বর্তমানে কিছু বিশেষ ধরনের রম (যেমন EPROM, EEPROM) আছে, যাদের ডেটা বিশেষ ব্যবস্থায় মুছে নতুন ডেটা রাখা যায়।
- ১.২-সং-১৬★বই: পৃষ্ঠা ৪৫
১৬.ROM কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর
ROM প্রধানত পাঁচ প্রকার:
- MROM (Masked ROM): তৈরির সময় কারখানায় প্রোগ্রাম বসানো হয়; পরে বদলানো যায় না।
- PROM (Programmable ROM): ব্যবহারকারী একবার প্রোগ্রাম লিখতে পারে; পরে আর বদলানো যায় না।
- EPROM (Erasable PROM): অতিবেগুনি রশ্মি দিয়ে মুছে আবার প্রোগ্রাম করা যায়।
- EEPROM (Electrically Erasable PROM): বিদ্যুৎ সংকেত দিয়ে মুছে আবার প্রোগ্রাম করা যায়।
- Flash ROM: EEPROM-এর উন্নত রূপ; দ্রুত ব্লক আকারে মোছা ও লেখা যায়।
ROM │ ┌──────────┬───────────┼───────────┬───────────┐ MROM PROM EPROM EEPROM Flash ROM - ১.২-সং-১৭★বই: পৃষ্ঠা ৪৫
১৭.সিডি-রম কী?
উত্তর
CD-ROM-এর পূর্ণরূপ Compact Disk Read Only Memory। এটি মাল্টিমিডিয়ায় বহুল ব্যবহৃত একটি অপটিক্যাল ডিস্ক, যাতে লেজার রশ্মির সাহায্যে ডেটা লেখা ও পড়া হয়।
এটি পলিকার্বনেট প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের পাতলা স্তর দিয়ে তৈরি। একটি সিডির ধারণক্ষমতা সাধারণত 650–700 MB। দাম কম বলে গান, ভিডিও, সফটওয়্যার সংরক্ষণে একসময় এটি খুব জনপ্রিয় ছিল। সিডি-রমে একবার লেখা তথ্য সাধারণত পরিবর্তন করা যায় না।
- ১.২-সং-১৮★বই: পৃষ্ঠা ৪৬
১৮.রম (ROM)-এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
উত্তর
রম (ROM)-এর বৈশিষ্ট্য:
- রম থেকে যখন প্রয়োজন তখন ডেটা পড়া যায়, কিন্তু সাধারণত নতুন ডেটা লেখা যায় না।
- রম স্থায়ী (অনুদ্বায়ী) মেমরি; বিদ্যুৎ চলে গেলেও এর তথ্য মুছে যায় না।
- ঘন ঘন পরিবর্তনশীল ডেটা রমে রাখা হয় না।
- সাধারণত রম কারখানাতেই প্রোগ্রাম করা হয়।
- একবার প্রোগ্রাম করলে সাধারণ রমে আর পরিবর্তন করা যায় না; তবে EPROM, EEPROM-এর মতো কিছু রম মুছে আবার প্রোগ্রাম করা যায়।
- কম্পিউটার চালু করার মৌলিক প্রোগ্রাম (BIOS) রমে থাকে।
- ১.২-সং-১৯বই: পৃষ্ঠা ৪৬
১৯.PROM কী?
উত্তর
PROM-এর পূর্ণরূপ Programmable Read Only Memory।
এটি এমন এক ধরনের রম, যা তৈরির সময় ফাঁকা থাকে। পরে ব্যবহারকারী নিজেই বিশেষ যন্ত্রের (PROM প্রোগ্রামার) সাহায্যে এতে প্রোগ্রাম বা ডেটা লিখতে পারেন। তবে মাত্র একবার প্রোগ্রাম করা যায়; একবার লেখার পর আর মোছা বা পরিবর্তন করা যায় না। একে তাই OTP (One Time Programmable) মেমরিও বলে।
- ১.২-সং-২০★★বই: পৃষ্ঠা ৪৬
২০.মেমরি কী?
উত্তর
ডেটা ও নির্দেশ সংরক্ষণের জন্য কম্পিউটার বা আইসিটি ডিভাইসে ব্যবহৃত মাধ্যম বা ধারককে মেমরি (Memory) বা স্মৃতি বলে।
মেমরিতে ডেটা জমা রাখা যায় এবং প্রয়োজনের সময় সহজে কাজে লাগানো যায়। মেমরি প্রধানত দুই প্রকার:
- প্রধান মেমরি: RAM, ROM
- সহায়ক মেমরি: হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ, ডিভিডি ইত্যাদি।
- ১.২-সং-২১★★বই: পৃষ্ঠা ৪৬
২১.ক্যাশ মেমরি কী?
উত্তর
কাজের গতি বাড়ানোর জন্য প্রসেসর ও প্রধান মেমরির (RAM) মাঝখানে যে বিশেষ ধরনের খুব দ্রুতগতির ছোট মেমরি ব্যবহার করা হয়, তাকে ক্যাশ মেমরি (Cache Memory) বলে।
প্রসেসর বারবার যেসব ডেটা ও নির্দেশ ব্যবহার করে, সেগুলো ক্যাশ মেমরিতে রাখা হয়। ফলে প্রসেসরকে বারবার ধীরগতির RAM থেকে ডেটা আনতে হয় না, এবং কম্পিউটার দ্রুত কাজ করে।
প্রসেসর (CPU) ⇄ ক্যাশ মেমরি ⇄ প্রধান মেমরি (RAM) সবচেয়ে দ্রুত খুব দ্রুত দ্রুত - ১.২-সং-২২★বই: পৃষ্ঠা ৪৬
২২.রিড রাইট মেমরি কী?
উত্তর
যে মেমরিতে ব্যবহারকারী ডেটা পড়তে (Read) ও লিখতে (Write) দুটোই পারেন, অর্থাৎ সংরক্ষিত ডেটা মুছে নতুন ডেটা রাখতে পারেন, তাকে রিড রাইট মেমরি বলে।
একে সাধারণত RAM (Random Access Memory) বলা হয়। (যদিও "RAM" নামটি পুরোপুরি সঠিক নয়, কারণ ROM-এর অ্যাক্সেসও র্যানডম।) রিড রাইট মেমরি উদ্বায়ী, অর্থাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে এর ডেটা মুছে যায়।
এটি দুই প্রকার:
- ডাইনামিক র্যাম (DRAM)
- স্ট্যাটিক র্যাম (SRAM)
- ১.২-সং-২৩★★বই: পৃষ্ঠা ৪৬
২৩.ফ্ল্যাশ মেমরি কী?
উত্তর
যে মেমরিতে বিদ্যুৎ ছাড়াই ডেটা স্থায়ীভাবে থাকে এবং ডিভাইসে লাগানো অবস্থাতেই বিদ্যুৎ সংকেত দিয়ে ডেটা মুছে আবার লেখা যায়, তাকে ফ্ল্যাশ মেমরি (Flash Memory) বলে।
এর কাজের পদ্ধতি অনেকটা EEPROM-এর মতো, তবে এটি দ্রুত ব্লক আকারে ডেটা মোছে। এটি ছোট, হালকা, শক্তিশালী এবং ঘোরানো কোনো অংশ নেই, তাই হার্ড ডিস্ক বা ফ্লপি ডিস্কের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হয়।
উদাহরণ: পেন ড্রাইভ, মেমরি কার্ড, এসএসডি, মোবাইল ফোনের মেমরি।
- ১.২-সং-২৪★বই: পৃষ্ঠা ৪৬
২৪.অপটিক্যাল মেমরি কী?
উত্তর
যেসব ডিস্কে লেজার রশ্মির (আলোর) সাহায্যে, অর্থাৎ Optical Storage Technology-এর মাধ্যমে ডেটা লেখা ও পড়া হয়, সেগুলোকে অপটিক্যাল মেমরি বা অপটিক্যাল ডিস্ক বলে।
এগুলো দামে সস্তা, বহনযোগ্য এবং অনেকদিন তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে। ডিস্কটি ঘোরানোর সময় লেজার রশ্মি এর পৃষ্ঠ থেকে ডেটা পড়ে।
উদাহরণ: CD-ROM (প্রায় 700 MB), DVD (প্রায় 4.7 GB), Blu-ray Disc (25 GB বা বেশি)।
- ১.২-সং-২৫★বই: পৃষ্ঠা ৪৬
২৫.ডিভিডি কী?
উত্তর
DVD-এর পূর্ণরূপ Digital Versatile Disc (একে Digital Video Disc-ও বলা হয়)। এটি সিডির মতো দেখতে একটি অপটিক্যাল ডিস্ক, কিন্তু সিডির চেয়ে অনেক বেশি তথ্য রাখতে পারে।
১৯৯৬ সালের দিকে এটি বাজারে আসে। চলচ্চিত্র ও বড় ভিডিও সংরক্ষণে বেশি ব্যবহার হয় বলে একে ডিজিটাল ভিডিও ডিস্কও বলে। একটি সাধারণ ডিভিডির ধারণক্ষমতা প্রায় 4.7 GB, আর দুই স্তরের (Dual layer) ডিভিডিতে প্রায় 8.5 GB রাখা যায়।
- ১.২-সং-২৬★বই: পৃষ্ঠা ৪৬
২৬.পেন ড্রাইভ কী?
উত্তর
কলমের মতো ছোট, হালকা ও সহজে বহনযোগ্য যে ফ্ল্যাশ মেমরি ডিভাইস কম্পিউটারের USB (Universal Serial Bus) পোর্টে লাগিয়ে সহজে ডেটা লেখা ও পড়া যায়, তাকে পেন ড্রাইভ বা ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ বলে।
সিডি-ডিভিডির মতো এর জন্য আলাদা ড্রাইভ লাগে না। এটি বারবার ডেটা লেখা ও মোছা যায় এবং বিদ্যুৎ ছাড়াই তথ্য সংরক্ষিত থাকে। বর্তমানে 16 GB, 32 GB, 64 GB বা তার বেশি ধারণক্ষমতার পেন ড্রাইভ পাওয়া যায়।
- ১.২-সং-২৭★★বই: পৃষ্ঠা ৪৬
২৭.ক্লাউড সার্ভিসের সুবিধাসমূহ বর্ণনা কর।
উত্তর
ক্লাউড সার্ভিসের সুবিধাসমূহ:
- যেকোনো জায়গা থেকে অ্যাক্সেস: ইন্টারনেট থাকলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে নিজের ছবি, ভিডিও, ফাইল দেখা যায়।
- ডেটা হারানোর ভয় নেই: মেমরি কার্ড বা মোবাইল হারালে বা নষ্ট হলেও ক্লাউডের ডেটা নিরাপদ থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় সিঙ্ক: এক ডিভাইসে কোনো ফাইল পরিবর্তন বা মুছলে সব ডিভাইসে নিজে থেকেই আপডেট হয়ে যায়।
- ব্যাকআপ ও পুনরুদ্ধার: সহজে ডেটার ব্যাকআপ রাখা ও প্রয়োজনে ফিরিয়ে আনা যায়।
- ফরম্যাটের সময় নিরাপত্তা: মোবাইল বা কম্পিউটার ফরম্যাট দেওয়ার আগে ক্লাউডে ব্যাকআপ রেখে কাজ করা যায়।
- সহজে শেয়ার: লিংক দিয়ে অন্যদের সাথে সহজে ফাইল শেয়ার করা যায়।
- খরচ কম: নিজের স্টোরেজ যন্ত্র কিনতে হয় না; অনেক সেবা কিছু জায়গা বিনামূল্যে দেয়।
রচনামূলক প্রশ্ন (৭টি)
- ১.২-র-১★★★
১.ক্লাউড স্টোরেজ সম্পর্কে ধারণা ব্যাখ্যা কর।
- অথবা, ক্লাউড স্টোরেজ সম্পর্কে বর্ণনা কর। [বিএমটি-২৬]
উত্তর
ক্লাউড স্টোরেজ: ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের দূরবর্তী সার্ভারে নিজের ডেটা সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থাকে ক্লাউড স্টোরেজ বলে। এখানে "ক্লাউড" (মেঘ) বলতে ইন্টারনেটকে বোঝানো হয়; ডেটা কোথায় কোন সার্ভারে আছে ব্যবহারকারীকে জানতে হয় না, ঠিক যেমন মেঘ কোথায় আছে আমরা ঠিক জানি না কিন্তু দেখতে পাই।
┌──────────┐ ┌──────────┐ ┌──────────┐ │ মোবাইল │ │ ল্যাপটপ │ │ ট্যাবলেট │ └────┬─────┘ └────┬─────┘ └────┬─────┘ └─────────────────┼─────────────────┘ ইন্টারনেট │ ┌───────────▼───────────┐ │ ☁ ক্লাউড সার্ভার │ │ (Google Drive, OneDrive)│ └───────────────────────┘ চিত্র: ক্লাউড স্টোরেজের কাজের ধারণাকীভাবে কাজ করে:
- ব্যবহারকারী কোনো ক্লাউড সেবায় (যেমন Google Drive) একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন।
- লগইন করে নিজের ফাইল আপলোড করেন; ফাইলটি সেবাদাতার সার্ভারে জমা হয়।
- পরে যেকোনো ডিভাইস থেকে একই অ্যাকাউন্টে লগইন করে ফাইলটি দেখা, ডাউনলোড বা শেয়ার করা যায়।
- সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডেটার নিরাপত্তা, ব্যাকআপ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়।
জনপ্রিয় ক্লাউড স্টোরেজ সেবা:
সেবা প্রতিষ্ঠান Google Drive Google OneDrive Microsoft iCloud Apple Dropbox Dropbox Inc. ক্লাউড স্টোরেজের বৈশিষ্ট্য:
- ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই ব্যবহার করা যায়।
- নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা বিনামূল্যে পাওয়া যায়, বেশি লাগলে টাকা দিয়ে কেনা যায়।
- ব্যবহার অনুযায়ী খরচ (Pay as you use)।
- একসাথে একাধিক ডিভাইসে একই ফাইল ব্যবহার করা যায়।
সীমাবদ্ধতা:
- ইন্টারনেট না থাকলে ডেটা ব্যবহার করা যায় না।
- ডেটার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সেবাদাতার ওপর নির্ভর করে।
- বড় ফাইল আপলোড-ডাউনলোডে সময় ও ইন্টারনেট খরচ বেশি লাগে।
উপসংহার: নিরাপদে, যেকোনো জায়গা থেকে ডেটা ব্যবহারের সুবিধার কারণে ক্লাউড স্টোরেজ বর্তমানে খুব জনপ্রিয় একটি সংরক্ষণ মাধ্যম।
- ১.২-র-২★★
২.ক্লাউড স্টোরেজ-এর সুবিধা বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৩, ২৫]
উত্তর
ক্লাউড স্টোরেজ হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরবর্তী সার্ভারে ডেটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা। যেমন: Google Drive, OneDrive, Dropbox। এর প্রধান সুবিধাগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার: ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে, যেকোনো সময় নিজের ফাইল দেখা ও ব্যবহার করা যায়।
২. একাধিক ডিভাইসে ব্যবহার: মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, সব ডিভাইস থেকে একই অ্যাকাউন্টে লগইন করে একই ফাইল ব্যবহার করা যায়।
৩. ডেটা হারানোর ভয় নেই: মোবাইল, মেমরি কার্ড বা কম্পিউটার হারালে বা নষ্ট হলেও ক্লাউডের ডেটা নিরাপদ থাকে।
৪. স্বয়ংক্রিয় সিঙ্ক্রোনাইজেশন: এক ডিভাইসে কোনো ফাইল পরিবর্তন, এডিট বা মুছলে সব ডিভাইসে নিজে থেকেই আপডেট হয়ে যায়।
৫. সহজ ব্যাকআপ ও পুনরুদ্ধার: গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ রাখা যায় এবং ভুলে মুছে গেলেও অনেক সময় ফিরিয়ে আনা যায়।
৬. সহজে ফাইল শেয়ার: একটি লিংক দিয়েই অন্যদের সাথে বড় ফাইল শেয়ার করা যায়; পেন ড্রাইভ বা ই-মেইল অ্যাটাচমেন্টের দরকার হয় না।
৭. যৌথভাবে কাজ: একই ফাইলে একাধিক ব্যক্তি একসাথে কাজ করতে পারেন (যেমন Google Docs)।
৮. খরচ সাশ্রয়: নিজের হার্ড ডিস্ক বা সার্ভার কিনতে হয় না। কিছু জায়গা বিনামূল্যে পাওয়া যায়, প্রয়োজনে কম খরচে বাড়ানো যায়।
৯. রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা নেই: সার্ভারের যত্ন, নিরাপত্তা ও আপডেটের দায়িত্ব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের।
১০. ডিভাইসের জায়গা বাঁচে: ফাইল ক্লাউডে রাখলে মোবাইল বা কম্পিউটারের মেমরি খালি থাকে।
প্রচলিত স্টোরেজ (পেন ড্রাইভ/হার্ড ডিস্ক) ক্লাউড স্টোরেজ হারালে বা নষ্ট হলে ডেটা হারায় ডিভাইস হারালেও ডেটা নিরাপদ শুধু যেখানে যন্ত্রটি আছে সেখানে ব্যবহার করা যায় যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার করা যায় জায়গা বাড়াতে নতুন যন্ত্র কিনতে হয় সহজেই জায়গা বাড়ানো যায় উপসংহার: এসব সুবিধার কারণে ব্যক্তিগত কাজ থেকে শুরু করে অফিস-আদালত পর্যন্ত সর্বত্র ক্লাউড স্টোরেজের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
- ১.২-র-৩★★
৩.বিভিন্ন প্রকার স্টোরেজ ডিভাইসের ধারণা ব্যাখ্যা কর।
- অথবা, হার্ড ডিস্কের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো কী কী? [বিএমটি-২০২৩]
উত্তর
তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রকে স্টোরেজ ডিভাইস বলে। প্রযুক্তি অনুযায়ী এগুলোকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়:
স্টোরেজ ডিভাইস │ ┌──────────────┬───────────┼────────────┬──────────────┐ চৌম্বকীয় অর্ধপরিবাহী অপটিক্যাল ফ্ল্যাশ ক্লাউড (হার্ড ডিস্ক, (RAM, ROM) (সিডি, ডিভিডি, (এসএসডি, পেন (Google Drive, চৌম্বক টেপ) ব্লু-রে) ড্রাইভ, মেমরি কার্ড) OneDrive)১. হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ (HDD): চুম্বকীয় প্রলেপযুক্ত ঘূর্ণায়মান ধাতব পাতে ডেটা সংরক্ষণ করে। কম্পিউটারের প্রধান সহায়ক মেমরি হিসেবে বহুল ব্যবহৃত।
২. সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD): ফ্ল্যাশ মেমরি দিয়ে তৈরি স্টোরেজ; এতে কোনো ঘূর্ণায়মান অংশ নেই। হার্ড ডিস্কের চেয়ে অনেক দ্রুত, হালকা ও কম শব্দ করে।
৩. ফ্ল্যাশ মেমরি (পেন ড্রাইভ, মেমরি কার্ড): ছোট, হালকা ও বহনযোগ্য। USB পোর্ট বা কার্ড স্লটে লাগিয়ে সহজে ডেটা আদান-প্রদান করা যায়।
৪. অপটিক্যাল স্টোরেজ (CD, DVD, Blu-ray): লেজার রশ্মি দিয়ে ডেটা লেখা ও পড়া হয়। সিডি প্রায় 700 MB, ডিভিডি প্রায় 4.7 GB আর ব্লু-রে 25 GB বা বেশি ধারণ করে।
৫. চৌম্বক টেপ: চুম্বকীয় প্রলেপযুক্ত ফিতায় ক্রমানুসারে ডেটা রাখা হয়। দাম কম, তাই বড় প্রতিষ্ঠানে ব্যাকআপের জন্য ব্যবহার হয়।
৬. ক্লাউড স্টোরেজ: ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরের সার্ভারে ডেটা রাখা হয়।
হার্ড ডিস্কের সুবিধা ও অসুবিধা:
সুবিধা অসুবিধা ধারণক্ষমতা অনেক বেশি (TB পর্যন্ত) ঘূর্ণায়মান অংশ থাকায় ঝাঁকুনি বা পড়ে গেলে নষ্ট হতে পারে প্রতি GB-তে খরচ কম এসএসডির চেয়ে ধীরগতির বিদ্যুৎ চলে গেলেও তথ্য স্থায়ী থাকে কাজের সময় শব্দ ও তাপ তৈরি করে বারবার ডেটা লেখা ও মোছা যায় ওজন ও বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি সহজলভ্য ও দীর্ঘদিন টেকে ধুলাবালি ও চুম্বক থেকে দূরে রাখতে হয় উপসংহার: কাজের প্রয়োজন, গতি, দাম ও বহনযোগ্যতা বিবেচনা করে উপযুক্ত স্টোরেজ ডিভাইস বেছে নিতে হয়।
- ১.২-র-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৯
৪.স্টোরেজ মিডিয়ার শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।
- অথবা, স্টোরেজ মিডিয়ার শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও। [বিএমটি-২০২২]
উত্তর
তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমকে স্টোরেজ মিডিয়া বা মেমরি বলে। মেমরিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়: প্রধান মেমরি, সহায়ক মেমরি ও ক্যাশ মেমরি। স্টোরেজ মিডিয়ার শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:
মেমরি │ ┌────────────────────────┼────────────────────────┐ প্রধান মেমরি সহায়ক মেমরি ক্যাশ মেমরি (প্রাইমারি) (সেকেন্ডারি) │ │ অর্ধপরিবাহী মেমরি • হার্ড ডিস্ক / এসএসডি │ • ফ্লপি ডিস্ক ┌─────┴──────┐ • চৌম্বক টেপ, চৌম্বক ড্রাম RAM ROM • সিডি, ডিভিডি (অপটিক্যাল) │ │ • পেন ড্রাইভ, মেমরি কার্ড (ফ্ল্যাশ) ┌──┴──┐ ┌────┼─────┬──────┐ DRAM SRAM MROM PROM EPROM EEPROM১. প্রধান মেমরি (Main Memory)
যে মেমরির সাথে প্রসেসরের ALU-এর সরাসরি সংযোগ থাকে, তাকে প্রধান মেমরি বলে। এটি খুব দ্রুতগতির, তবে ধারণক্ষমতা কম। কাজের সময় প্রয়োজনীয় ডেটা ও নির্দেশ এখানে সাময়িকভাবে রাখা হয়।
প্রধান মেমরির প্রকারভেদ:
- চৌম্বক কোর (Magnetic core) মেমরি
- পাতলা পর্দা (Thin film) মেমরি
- অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) মেমরি – বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত
- চৌম্বক বাবল (Magnetic bubble) মেমরি
- চার্জ কাপলড (Charge coupled) মেমরি
অর্ধপরিবাহী মেমরি আবার দুই প্রকার:
- RAM: অস্থায়ী, পড়া-লেখা দুটোই যায়। প্রকার: DRAM ও SRAM।
- ROM: স্থায়ী, সাধারণত শুধু পড়া যায়। প্রকার: MROM, PROM, EPROM, EEPROM।
২. সহায়ক মেমরি (Auxiliary/Secondary Memory)
যে মেমরিতে তথ্য, প্রোগ্রাম, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং সিপিইউ-এর সাথে সরাসরি সংযোগ থাকে না, তাকে সহায়ক মেমরি বলে। এটি ধীরগতির কিন্তু বিপুল পরিমাণ তথ্য রাখতে পারে। বিদ্যুৎ চলে গেলেও তথ্য মুছে যায় না।
উদাহরণ: হার্ড ডিস্ক, এসএসডি, ফ্লপি ডিস্ক, ফ্ল্যাশ ডিস্ক (পেন ড্রাইভ), চৌম্বক টেপ, চৌম্বক ড্রাম, সিডি, ডিভিডি।
৩. ক্যাশ মেমরি (Cache Memory)
প্রসেসর ও প্রধান মেমরির মাঝখানে বসানো ছোট কিন্তু অত্যন্ত দ্রুতগতির মেমরি। প্রসেসর বারবার যেসব ডেটা ব্যবহার করে, সেগুলো এখানে রেখে কম্পিউটারের কাজের গতি বাড়ানো হয়।
বিষয় প্রধান মেমরি সহায়ক মেমরি ক্যাশ মেমরি গতি দ্রুত ধীর সবচেয়ে দ্রুত ধারণক্ষমতা কম অনেক বেশি সবচেয়ে কম স্থায়িত্ব RAM অস্থায়ী, ROM স্থায়ী স্থায়ী অস্থায়ী উপসংহার: প্রতিটি মেমরির গতি, ধারণক্ষমতা ও দাম আলাদা। এদের সমন্বয়েই কম্পিউটার দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করে।
- ১.২-র-৫বই: পৃষ্ঠা ৫০
৫.প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্টোরেজ মিডিয়ার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
উত্তর
কম্পিউটারের স্টোরেজ মিডিয়া প্রধানত দুই প্রকার: প্রাইমারি (প্রধান) ও সেকেন্ডারি (সহায়ক)। নিচে এদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:
ইনপুট ──► ┌───────────────────────┐ ──► আউটপুট │ সিপিইউ (CPU) │ │ ⇅ (সরাসরি) │ │ প্রাইমারি মেমরি (RAM/ROM) │ └──────────┬────────────┘ ⇅ (পরোক্ষ) ┌──────────▼────────────┐ │ সেকেন্ডারি মেমরি │ │ (হার্ড ডিস্ক, এসএসডি) │ └───────────────────────┘প্রাইমারি স্টোরেজ মিডিয়ার বৈশিষ্ট্য
যে মেমরি সিপিইউ-এর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে, তাকে প্রাইমারি মেমরি বলে। যেমন: RAM, ROM।
- সরাসরি অ্যাক্সেস: সিপিইউ সরাসরি এখান থেকে ডেটা নিতে ও রাখতে পারে।
- দ্রুতগতি: অ্যাক্সেস সময় খুব কম (ন্যানোসেকেন্ড)।
- কম ধারণক্ষমতা: সাধারণত কয়েক GB পর্যন্ত।
- উদ্বায়িতা: RAM অস্থায়ী (বিদ্যুৎ গেলে তথ্য মুছে যায়), ROM স্থায়ী।
- বেশি দাম: প্রতি বিট সংরক্ষণে খরচ বেশি।
- চলমান কাজের জন্য: যে প্রোগ্রাম ও ডেটা নিয়ে এখন কাজ চলছে, শুধু সেগুলো রাখে।
- অপরিহার্য: প্রাইমারি মেমরি ছাড়া কম্পিউটার চালু হয় না।
সেকেন্ডারি স্টোরেজ মিডিয়ার বৈশিষ্ট্য
যে মেমরিতে তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি মেমরি বলে। যেমন: হার্ড ডিস্ক, এসএসডি, পেন ড্রাইভ, ডিভিডি।
- পরোক্ষ অ্যাক্সেস: সিপিইউ সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না; আগে প্রধান মেমরিতে আনতে হয়।
- ধীরগতি: অ্যাক্সেস সময় বেশি (মিলিসেকেন্ড)।
- বেশি ধারণক্ষমতা: কয়েকশ GB থেকে কয়েক TB পর্যন্ত।
- অনুদ্বায়িতা: বিদ্যুৎ চলে গেলেও তথ্য মুছে যায় না।
- কম দাম: প্রতি বিট সংরক্ষণে খরচ কম।
- দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ: ফাইল, সফটওয়্যার, ছবি, ভিডিও দীর্ঘদিন রাখা যায়।
- বহনযোগ্যতা: পেন ড্রাইভ, ডিভিডির মতো অনেক মাধ্যম সহজে বহন করা যায়।
বিষয় প্রাইমারি সেকেন্ডারি গতি দ্রুত ধীর ধারণক্ষমতা কম বেশি বিদ্যুৎ গেলে RAM-এর তথ্য মুছে যায় তথ্য থাকে দাম (প্রতি বিট) বেশি কম উপসংহার: প্রাইমারি মেমরি কাজের গতি দেয়, আর সেকেন্ডারি মেমরি তথ্যের স্থায়িত্ব দেয়; দুটোই কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয়।
- ১.২-র-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৫০
৬.RAM, ROM, PROM, EPROM, EEPROM টাইপ মিডিয়াসমূহের নাম ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
উত্তর
প্রধান মেমরির অর্ধপরিবাহী অংশ দুই প্রকার: RAM ও ROM। আর ROM-এর কয়েকটি প্রকার হলো PROM, EPROM ও EEPROM। নিচে এদের নাম ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:
অর্ধপরিবাহী মেমরি │ ┌─────────────┴─────────────┐ RAM ROM │ │ ┌─────┴─────┐ ┌──────┬──────┼───────┐ DRAM SRAM MROM PROM EPROM EEPROM১. RAM (Random Access Memory)
বৈশিষ্ট্য:
- অস্থায়ী (উদ্বায়ী) মেমরি; বিদ্যুৎ গেলে তথ্য মুছে যায়।
- ডেটা পড়া ও লেখা দুটোই করা যায়।
- চলমান প্রোগ্রাম ও ডেটা রাখে; খুব দ্রুতগতির।
- দুই প্রকার: DRAM (সস্তা, বারবার রিফ্রেশ করতে হয়) ও SRAM (দামি, দ্রুত, রিফ্রেশ লাগে না)।
২. ROM (Read Only Memory)
বৈশিষ্ট্য:
- স্থায়ী (অনুদ্বায়ী) মেমরি; বিদ্যুৎ গেলেও তথ্য থাকে।
- সাধারণত শুধু পড়া যায়, লেখা যায় না।
- কারখানায় প্রোগ্রাম করা হয়; কম্পিউটার চালু করার প্রোগ্রাম (BIOS) রাখে।
৩. PROM (Programmable Read Only Memory)
বৈশিষ্ট্য:
- তৈরির সময় ফাঁকা থাকে; ব্যবহারকারী নিজে প্রোগ্রাম করতে পারেন।
- মাত্র একবার প্রোগ্রাম করা যায়; পরে আর মোছা বা বদলানো যায় না।
- একে OTP (One Time Programmable) মেমরিও বলে।
৪. EPROM (Erasable Programmable Read Only Memory)
বৈশিষ্ট্য:
- অতিবেগুনি (UV) রশ্মি দিয়ে ডেটা মুছে আবার প্রোগ্রাম করা যায়।
- চিপের ওপর একটি স্বচ্ছ জানালা থাকে, যেখান দিয়ে UV রশ্মি দেওয়া হয়।
- মুছলে সম্পূর্ণ ডেটা একসাথে মুছে যায়; মোছার জন্য চিপ খুলে নিতে হয়।
৫. EEPROM (Electrically Erasable Programmable Read Only Memory)
বৈশিষ্ট্য:
- বিদ্যুৎ সংকেত দিয়ে ডেটা মুছে আবার প্রোগ্রাম করা যায়।
- নির্দিষ্ট অংশের ডেটা আলাদাভাবে মোছা যায়; অন্য ডেটার ক্ষতি হয় না।
- সার্কিটে লাগানো অবস্থাতেই মোছা ও লেখা যায়। আধুনিক ফ্ল্যাশ মেমরি এরই উন্নত রূপ।
মেমরি স্থায়ী? লেখা যায়? মোছার উপায় RAM না হ্যাঁ, বারবার বিদ্যুৎ বন্ধ হলেই মুছে যায় ROM (MROM) হ্যাঁ না মোছা যায় না PROM হ্যাঁ একবার মোছা যায় না EPROM হ্যাঁ বারবার অতিবেগুনি রশ্মি EEPROM হ্যাঁ বারবার বিদ্যুৎ সংকেত - ১.২-র-৭বই: পৃষ্ঠা ৫১
৭.স্টোরেজ মিডিয়ার ক্যাপাসিটি প্রকাশের এককসমূহ বর্ণনা কর।
উত্তর
কোনো স্টোরেজ মিডিয়াতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ ডেটা রাখা যায়, তাকে তার ধারণক্ষমতা (Capacity) বলে। ধারণক্ষমতা প্রকাশের এককগুলো ছোট থেকে বড় ক্রমে নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. বিট (Bit): মেমরির সবচেয়ে ছোট একক। বাইনারি ডিজিট (Binary Digit) 0 বা 1-কে বিট বলে।
২. নিবল (Nibble): ৪টি বিট মিলে ১ নিবল।
৩. বাইট (Byte): ৮টি বিট মিলে ১ বাইট। একটি অক্ষর বা চিহ্ন রাখতে সাধারণত ১ বাইট লাগে।
৪. কিলোবাইট (KB): 1024 বাইট = 1 KB।
৫. মেগাবাইট (MB): 1024 KB = 1 MB।
৬. গিগাবাইট (GB): 1024 MB = 1 GB।
৭. টেরাবাইট (TB): 1024 GB = 1 TB।
৮. পেটাবাইট (PB): 1024 TB = 1 PB।
৯. এক্সাবাইট (EB): 1024 PB = 1 EB।
১০. জেটাবাইট (ZB) ও ইয়োটাবাইট (YB): 1024 EB = 1 ZB, 1024 ZB = 1 YB।
একক সমান ২-এর ঘাত হিসেবে (বাইট) 1 Byte 8 Bit — 1 KB 1024 Byte 2¹⁰ 1 MB 1024 KB 2²⁰ 1 GB 1024 MB 2³⁰ 1 TB 1024 GB 2⁴⁰ 1 PB 1024 TB 2⁵⁰ 1 EB 1024 PB 2⁶⁰ Bit → Nibble → Byte → KB → MB → GB → TB → PB → EB → ZB → YB (×4) (×2) (প্রতিটি ধাপে ×1024)💡 কেন 1000 নয়, 1024? কম্পিউটার বাইনারি (২-ভিত্তিক) পদ্ধতিতে কাজ করে, আর 2¹⁰ = 1024। তাই প্রতিটি বড় একক আগেরটির 1024 গুণ।
উদাহরণ: একটি 4 GB পেন ড্রাইভের ধারণক্ষমতা = 4 × 1024 MB = 4096 MB।
গাণিতিক প্রশ্ন (৩টি)
- ১.২-গ-১★★বই: পৃষ্ঠা ৫২
১.দুটি মেমরি চিপ হলো 5M × 8 মেমরি ও 16 বিট শব্দ দৈর্ঘ্যের (Word Length) 1M বাইট মেমরি। এদের মধ্যে কোনো মেমরি চিপে বেশি বিট ধারণ করবে?
উত্তর
প্রথম মেমরি চিপ: 5M × 8 এখানে 5M টি মেমরি স্থান (লোকেশন) আছে এবং প্রতিটি স্থানে 8 বিট থাকে।
- 1M = 2²⁰ = 1,048,576
- মোট বিট = 5 × 1,048,576 × 8
- = 41,943,040 বিট
দ্বিতীয় মেমরি চিপ: 16 বিট শব্দ দৈর্ঘ্যের 1M মেমরি এখানে 1M টি স্থান আছে এবং প্রতিটি স্থানে (শব্দে) 16 বিট থাকে।
- মোট বিট = 1 × 1,048,576 × 16
- = 16,777,216 বিট
তুলনা:
মেমরি চিপ মোট বিট 5M × 8 41,943,040 1M × 16 16,777,216 41,943,040 > 16,777,216
সুতরাং, 5M × 8 মেমরি চিপটি বেশি বিট ধারণ করবে।
💡 1M বাইটকে সাধারণ 8 বিটের বাইট ধরলেও তা হয় 8,388,608 বিট, তাই উত্তর একই থাকে।
- ১.২-গ-২★★বই: পৃষ্ঠা ৫২
২.একটি 2k × 8 স্মৃতির জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নির্ণয় কর— (ক) তথ্য ইনপুট ও তথ্য আউটপুট সংখ্যা। (খ) অ্যাড্রেস লাইনের সংখ্যা। (গ) বাইট ও বিট সংখ্যায় ধারণক্ষমতা।
উত্তর
দেওয়া আছে, স্মৃতি = 2k × 8 অর্থাৎ মেমরি স্থান (শব্দ) সংখ্যা = 2k এবং প্রতিটি শব্দের দৈর্ঘ্য = 8 বিট।
(ক) তথ্য ইনপুট ও তথ্য আউটপুট সংখ্যা: প্রতিটি শব্দ 8 বিটের, তাই একবারে 8 বিট ডেটা ঢোকে ও বের হয়।
- তথ্য ইনপুট লাইন = 8টি
- তথ্য আউটপুট লাইন = 8টি
(খ) অ্যাড্রেস লাইনের সংখ্যা: মেমরি স্থান সংখ্যা = 2k = 2 × 1024 = 2048 যদি অ্যাড্রেস লাইন n হয়, তবে 2ⁿ = 2048 2¹¹ = 2048, সুতরাং n = 11
- অ্যাড্রেস লাইন = 11টি
(গ) ধারণক্ষমতা:
- বাইটে = 2048 × 1 বাইট = 2048 বাইট (= 2 KB)
- বিটে = 2048 × 8 = 16,384 বিট
বিষয় উত্তর তথ্য ইনপুট 8টি তথ্য আউটপুট 8টি অ্যাড্রেস লাইন 11টি ধারণক্ষমতা (বাইট) 2048 বাইট ধারণক্ষমতা (বিট) 16,384 বিট 💡 সূত্র মনে রাখো: m × n মেমরিতে অ্যাড্রেস লাইন = log₂(m), ডেটা লাইন = n, মোট বিট = m × n।
- ১.২-গ-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৫২
৩.একটি ম্যাগনেটিক ডিস্কের গায়ে 120 GB মুদ্রিত আছে। এ ডিস্কে মোট ধারণক্ষম বিটের সংখ্যা কত? 500 পৃষ্ঠাবিশিষ্ট একটি বইয়ের প্রতি পৃষ্ঠায় 30টি লাইনের প্রতি লাইনে 5টি বর্ণ রয়েছে। একটি বর্ণ সংরক্ষণ করার জন্য 1 বাইট পরিমাণ মেমরি লাগলে 780 মেগাবাইট ধারণ ক্ষমতাবিশিষ্ট একটি সিডিতে এ রকম কয়টি বইয়ের লেখা সংরক্ষণ করা যাবে?
উত্তর
প্রথম অংশ: 120 GB ডিস্কের মোট বিট সংখ্যা
আমরা জানি, 1 GB = 1024 MB = 1024 × 1024 KB = 1024 × 1024 × 1024 বাইট = 2³⁰ বাইট
- 120 GB = 120 × 1,073,741,824 বাইট = 128,849,018,880 বাইট
- 1 বাইট = 8 বিট
- মোট বিট = 128,849,018,880 × 8
- = 1,030,792,151,040 বিট
দ্বিতীয় অংশ: সিডিতে কয়টি বই রাখা যাবে
একটি বইয়ের মোট বর্ণ = পৃষ্ঠা × লাইন × বর্ণ = 500 × 30 × 5 = 75,000টি বর্ণ
প্রতিটি বর্ণে 1 বাইট লাগে, তাই একটি বই রাখতে লাগে = 75,000 বাইট
সিডির ধারণক্ষমতা = 780 MB = 780 × 1024 × 1024 বাইট = 817,889,280 বাইট
বইয়ের সংখ্যা = সিডির ধারণক্ষমতা ÷ একটি বইয়ের জায়গা = 817,889,280 ÷ 75,000 = 10,905.19 (প্রায়)
যেহেতু বইয়ের সংখ্যা ভগ্নাংশ হতে পারে না,
সুতরাং, সিডিতে মোট 10,905টি বইয়ের লেখা সংরক্ষণ করা যাবে।
হিসাব ফলাফল 120 GB ডিস্কের মোট বিট 1,030,792,151,040 বিট একটি বইয়ের জায়গা 75,000 বাইট 780 MB সিডির জায়গা 817,889,280 বাইট সিডিতে বইয়ের সংখ্যা 10,905টি