কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১ · অধ্যায়-১ : কম্পিউটার সিস্টেম ও হার্ডওয়্যার
অধ্যায় ১.৩: কম্পিউটার সফটওয়্যারের মৌলিক ধারণা
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১৮টি)
- ১.৩-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
১.সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০২৩, ২৫]
উত্তর
সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় সিস্টেম সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ১. সংজ্ঞা হার্ডওয়্যার চালু, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কাজ করার সফটওয়্যার ২. উদ্দেশ্য কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করা ব্যবহারকারীর সমস্যার সমাধান করা ৩. নির্ভরতা হার্ডওয়্যারের সাথে সরাসরি কাজ করে সিস্টেম সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে চলে ৪. প্রয়োজনীয়তা এটি ছাড়া কম্পিউটার চলেই না এটি ছাড়াও কম্পিউটার চলে, তবে কাজ করা যায় না ৫. চালু হওয়া কম্পিউটার চালু হলেই নিজে থেকে চালু হয় ব্যবহারকারী প্রয়োজনে চালু করেন ৬. ব্যবহারকারীর সংযোগ ব্যবহারকারী সাধারণত সরাসরি কাজ করেন না, পেছনে চলে ব্যবহারকারী সরাসরি এটি দিয়ে কাজ করেন ৭. উদাহরণ Windows, Linux, ডিভাইস ড্রাইভার, কম্পাইলার MS Word, Excel, Photoshop, Chrome - ১.৩-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
২.কম্পিউটার সফটওয়্যার কী?
- অথবা, সফটওয়্যারের সংজ্ঞা লেখ। [বিএমটি-২০০৯, ২০১৬]
- অথবা, সফটওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [কমার্স-২০১৩]
উত্তর
কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ ক্রমে সাজানো নির্দেশকে প্রোগ্রাম বলে। আর কম্পিউটার চালানোর জন্য এক বা একাধিক প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার (Software) বলে।
Soft অর্থ নরম, অর্থাৎ যা হাত দিয়ে ধরা বা ছোঁয়া যায় না। সফটওয়্যারই হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কোন কাজ কীভাবে করতে হবে। সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার শুধু একটি "লোহার বাক্স"। প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার পরিবর্তন (modify) করা যায়।
উদাহরণ: Windows, MS Word, Google Chrome, Photoshop।
- ১.৩-সং-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
৩.ফার্মওয়্যার বলতে কী বুঝায়?
- অথবা, ফার্মওয়্যার কী? [বিএমটি-২০১৪]
উত্তর
কম্পিউটার তৈরির সময় প্রস্তুতকারক কোম্পানি যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের মেমরিতে (সাধারণত ROM-এ) স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়, সেগুলোকে ফার্মওয়্যার (Firmware) বলে।
ফার্মওয়্যার হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাঝামাঝি একটি বিষয়। এটি হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কীভাবে কাজ শুরু করবে। ব্যবহারকারী সাধারণভাবে এই প্রোগ্রাম মুছতে বা পরিবর্তন করতে পারে না। কম্পিউটার চালু করলে (বুট হওয়ার সময়) প্রথমে ফার্মওয়্যারই কাজ করে।
উদাহরণ: BIOS, UEFI; মোবাইল, প্রিন্টার, রাউটারের ভেতরের প্রোগ্রাম।
- ১.৩-সং-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
৪.সফটওয়্যার প্রধানত কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর
কাজের ধরন অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার:
- সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software): যেসব সফটওয়্যার হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। যেমন: Windows, Linux, অনুবাদক প্রোগ্রাম।
- অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software): যেসব সফটওয়্যার দিয়ে ব্যবহারকারী তার নির্দিষ্ট কাজ করেন। যেমন: MS Word, Excel, Photoshop।
সফটওয়্যার │ ┌────────────┴────────────┐ সিস্টেম সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Windows, Linux) (MS Word, Excel) - ১.৩-সং-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
৫.প্রচলিত কয়েকটি সফটওয়্যারের নাম লেখ।
উত্তর
প্রচলিত কয়েকটি সফটওয়্যারের নাম কাজ অনুযায়ী:
কাজের ধরন সফটওয়্যারের নাম অপারেটিং সিস্টেম Windows, Linux, macOS, Android লেখালেখি (ওয়ার্ড প্রসেসিং) MS Word, LibreOffice Writer, Google Docs হিসাব (স্প্রেডশিট) MS Excel, LibreOffice Calc প্রেজেন্টেশন MS PowerPoint, LibreOffice Impress ডেটাবেজ MS Access, MySQL, Oracle ছবি সম্পাদনা ও গ্রাফিক্স Adobe Photoshop, Illustrator, CorelDRAW ইন্টারনেট ব্রাউজার Google Chrome, Mozilla Firefox, Microsoft Edge অ্যান্টিভাইরাস Kaspersky, Norton, Avast, McAfee বাংলা টাইপিং Bijoy Bayanno, Avro Keyboard ভিডিও ও অডিও প্লেয়ার VLC Media Player, Windows Media Player - ১.৩-সং-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
৬.সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় কেন?
উত্তর
হার্ডওয়্যার নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না। কম্পিউটারকে কী কাজ, কীভাবে করতে হবে তা বলে দেয় সফটওয়্যার। সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার শুধু একটি "লোহার বাক্স"। সফটওয়্যার ব্যবহারের কারণগুলো:
- হার্ডওয়্যার চালাতে: অপারেটিং সিস্টেম হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের সংযোগ: সফটওয়্যারের মাধ্যমেই আমরা কম্পিউটারকে নির্দেশ দিই।
- নির্দিষ্ট কাজ করতে: লেখা, হিসাব, ছবি সম্পাদনা, প্রেজেন্টেশন, ইন্টারনেট ব্যবহার ইত্যাদি।
- সময় ও শ্রম বাঁচাতে: জটিল কাজ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা যায়।
- কম্পিউটারের সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণে: অ্যান্টিভাইরাস ও ইউটিলিটি সফটওয়্যার কম্পিউটারকে ভালো রাখে।
- তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায়: ফাইল ও ডেটা সাজিয়ে রাখা ও খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
- ১.৩-সং-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
৭.সিস্টেম সফটওয়্যার বলতে কী বুঝ?
উত্তর
কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য এবং অন্যান্য সফটওয়্যার চালানোর পরিবেশ তৈরির জন্য যেসব প্রোগ্রাম ব্যবহার হয়, সেগুলোকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে।
সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটার ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সেতুর মতো কাজ করে। এটি মেমরি, প্রসেসর, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস ও ফাইল ব্যবস্থাপনা করে। এটি ছাড়া কম্পিউটার চালু করা বা কোনো অ্যাপ্লিকেশন চালানো যায় না।
উদাহরণ: অপারেটিং সিস্টেম (Windows, Linux), ডিভাইস ড্রাইভার, ইউটিলিটি প্রোগ্রাম, অনুবাদক (কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার)।
- ১.৩-সং-৮★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
৮.কয়েকটি সিস্টেম সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ।
উত্তর
কয়েকটি সিস্টেম সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমের নাম:
ক্রম অপারেটিং সিস্টেম কোথায় ব্যবহার হয় ১ MS-DOS পুরনো কম্পিউটার (কমান্ডভিত্তিক) ২ Microsoft Windows (7, 10, 11) ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ ৩ Linux (Ubuntu, Fedora) কম্পিউটার ও সার্ভার ৪ UNIX বড় সার্ভার ও মেইনফ্রেম ৫ macOS Apple কম্পিউটার ৬ Android মোবাইল ও ট্যাবলেট ৭ iOS iPhone এছাড়া ডিভাইস ড্রাইভার, কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার ও ইউটিলিটি প্রোগ্রামও সিস্টেম সফটওয়্যার।
- ১.৩-সং-৯★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫
৯.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার কাকে বলে?
উত্তর
ব্যবহারকারী তার দৈনন্দিন নির্দিষ্ট কাজ বা সমস্যা সমাধানের জন্য যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে।
এগুলো সিস্টেম সফটওয়্যারের (অপারেটিং সিস্টেমের) ওপর চলে। যেমন চিঠি লেখা, হিসাব রাখা, ছবি সম্পাদনা, গান শোনা, প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার আছে।
উদাহরণ: MS Word, MS Excel, PowerPoint, Photoshop, Google Chrome।
- ১.৩-সং-১০★বই: পৃষ্ঠা ৫৫
১০.কয়েকটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের নাম লেখ।
উত্তর
কয়েকটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের নাম ও কাজ:
ক্রম সফটওয়্যার কাজ ১ MS Word লেখালেখি, চিঠি, রিপোর্ট তৈরি ২ MS Excel হিসাব, টেবিল ও চার্ট তৈরি ৩ MS PowerPoint প্রেজেন্টেশন তৈরি ৪ MS Access ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা ৫ Adobe Photoshop ছবি সম্পাদনা ৬ Adobe Illustrator গ্রাফিক্স ও লোগো ডিজাইন ৭ Google Chrome ইন্টারনেট ব্রাউজিং ৮ VLC Media Player গান ও ভিডিও চালানো ৯ Tally হিসাবরক্ষণ (অ্যাকাউন্টিং) ১০ AutoCAD নকশা ও প্রকৌশল ড্রয়িং - ১.৩-সং-১১★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫
১১.প্যাকেজ প্রোগ্রাম কী?
উত্তর
সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে এবং যে কেউ কিনে ব্যবহার করতে পারে, এমন প্রোগ্রামকে প্যাকেজ প্রোগ্রাম বা প্যাকেজ সফটওয়্যার বলে।
এগুলো অনেক ব্যবহারকারীর সাধারণ প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি হয়। কিনে ইনস্টল করেই সরাসরি কাজ শুরু করা যায়; প্রোগ্রামিং জানার দরকার হয় না।
উদাহরণ: MS Word (লেখালেখি), MS Excel (হিসাব), MS Access (ডেটাবেজ), PowerPoint (প্রেজেন্টেশন), Photoshop (ছবি সম্পাদনা)।
- ১.৩-সং-১২★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫
১২.অ্যান্টিভাইরাস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর
কম্পিউটারের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, যেমন ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান, ম্যালওয়্যার খুঁজে বের করা, সেগুলোকে আটকানো এবং মুছে ফেলার জন্য যে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার হয়, তাকে অ্যান্টিভাইরাস (Antivirus) বলে।
কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, যা ব্যবহারকারীর অজান্তে কম্পিউটারে ঢুকে নিজের কপি তৈরি করে ছড়ায় এবং ফাইল নষ্ট করে বা কম্পিউটারকে ধীর করে দেয়। অ্যান্টিভাইরাস এর থেকে কম্পিউটারকে রক্ষা করে। এটি একটি ইউটিলিটি সফটওয়্যার।
উদাহরণ: Kaspersky, Norton, Avast, McAfee, Windows Defender।
- ১.৩-সং-১৩★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫
১৩.অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের প্রয়োজনীয়তা কী?
উত্তর
অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের প্রয়োজনীয়তা:
- ভাইরাস শনাক্ত ও মুছে ফেলা: কম্পিউটারে থাকা ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার খুঁজে বের করে মুছে ফেলে।
- নতুন আক্রমণ ঠেকানো: পেন ড্রাইভ, ইন্টারনেট বা ই-মেইল থেকে ভাইরাস ঢোকার আগেই আটকে দেয়।
- তথ্যের সুরক্ষা: গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নষ্ট বা মুছে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
- ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা: পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য চুরি হওয়া থেকে রক্ষা করে।
- কম্পিউটারের গতি ঠিক রাখা: ভাইরাসের কারণে কম্পিউটার ধীর হয়ে যাওয়া রোধ করে।
- নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার: ক্ষতিকর ওয়েবসাইট ও ডাউনলোড সম্পর্কে সতর্ক করে।
- নিয়মিত স্ক্যান: নির্দিষ্ট সময় পরপর নিজে থেকে পুরো কম্পিউটার পরীক্ষা করে।
- ১.৩-সং-১৪বই: পৃষ্ঠা ৫৫
১৪.জনপ্রিয় ১০টি অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের নাম লেখ।
উত্তর
জনপ্রিয় ১০টি অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম:
ক্রম অ্যান্টিভাইরাস ক্রম অ্যান্টিভাইরাস ১ Kaspersky ৬ AVG ২ Norton ৭ ESET NOD32 ৩ McAfee ৮ Avira ৪ Avast ৯ Trend Micro ৫ Bitdefender ১০ Microsoft Defender (Windows Defender) - ১.৩-সং-১৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫
১৫.হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর
হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার একে অপরের ওপর নির্ভরশীল; একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের দেহ, যা দেখা ও ছোঁয়া যায়।
- সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের প্রাণ বা নির্দেশনা, যা হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কী করতে হবে।
সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার শুধু একটি "লোহার বাক্স", আবার হার্ডওয়্যার ছাড়া সফটওয়্যার চালানোর কোনো জায়গাই নেই। তাই মানুষের দেহ ও মনের মতো, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার একসাথে কাজ করলেই কম্পিউটার সচল হয়।
ব্যবহারকারী ⇅ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ⇅ সিস্টেম সফটওয়্যার (OS) ⇅ হার্ডওয়্যারউদাহরণ: প্রিন্টার (হার্ডওয়্যার) দিয়ে প্রিন্ট করতে MS Word (সফটওয়্যার) ও প্রিন্টার ড্রাইভার (সফটওয়্যার) দুটোই লাগে।
- ১.৩-সং-১৬★বই: পৃষ্ঠা ৫৫
১৬.ফ্রিওয়্যার বা ওপেন সোর্স কী?
উত্তর
ফ্রিওয়্যার (Freeware): যে সফটওয়্যার বিনামূল্যে ডাউনলোড ও ব্যবহার করা যায়, তাকে ফ্রিওয়্যার বলে। তবে এর মূল কোড (সোর্স কোড) সাধারণত দেখা বা পরিবর্তন করা যায় না। যেমন: Google Chrome, Skype, Adobe Reader।
ওপেন সোর্স (Open Source): যে সফটওয়্যারের সোর্স কোড সবার জন্য উন্মুক্ত, অর্থাৎ যে কেউ বিনামূল্যে ব্যবহার, পরিবর্তন ও বিতরণ করতে পারে, তাকে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার বলে। যেমন: Linux, LibreOffice, Mozilla Firefox, VLC।
💡 সব ওপেন সোর্স সাধারণত ফ্রি, কিন্তু সব ফ্রিওয়্যার ওপেন সোর্স নয়।
- ১.৩-সং-১৭★বই: পৃষ্ঠা ৫৬
১৭.শেয়ারওয়্যার কী?
উত্তর
যে সফটওয়্যার প্রথমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় (যেমন ৩০ দিন), অথবা কিছু সুবিধা সীমিত রেখে দেওয়া হয়, এবং পরে পুরোপুরি ব্যবহার করতে চাইলে টাকা দিয়ে কিনতে হয়, তাকে শেয়ারওয়্যার (Shareware) বলে।
ব্যবহারকারী আগে চালিয়ে দেখে ভালো লাগলে কিনতে পারেন, এটাই শেয়ারওয়্যারের উদ্দেশ্য। একে ট্রায়াল ভার্সন-ও বলা হয়।
উদাহরণ: WinRAR, অনেক অ্যান্টিভাইরাসের ট্রায়াল সংস্করণ।
- ১.৩-সং-১৮বই: পৃষ্ঠা ৫৬
১৮.প্যাকেজ প্রোগ্রাম এবং কাস্টমাইজড প্রোগ্রামের মধ্যকার পার্থক্যগুলো কী কী?
উত্তর
প্যাকেজ প্রোগ্রাম ও কাস্টমাইজড প্রোগ্রামের মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় প্যাকেজ প্রোগ্রাম কাস্টমাইজড প্রোগ্রাম ১. তৈরির উদ্দেশ্য অনেক ব্যবহারকারীর সাধারণ প্রয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী ২. প্রাপ্তি বাজারে কিনতে পাওয়া যায় অর্ডার দিয়ে তৈরি করাতে হয় ৩. ব্যবহারকারী যে কেউ ব্যবহার করতে পারে শুধু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ৪. খরচ তুলনামূলক কম তুলনামূলক বেশি ৫. সময় কিনেই সাথে সাথে ব্যবহার করা যায় তৈরি করতে সময় লাগে ৬. পরিবর্তন ব্যবহারকারী নিজের মতো বদলাতে পারে না প্রয়োজনমতো বদলে নেওয়া যায় ৭. উদাহরণ MS Word, Excel, Photoshop ব্যাংক, হাসপাতাল বা স্কুলের নিজস্ব সফটওয়্যার
রচনামূলক প্রশ্ন (৬টি)
- ১.৩-র-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৬
১.হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০০৯, ১০, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ২২, ২৫; কমার্স-২০০৯]
উত্তর
হার্ডওয়্যার: কম্পিউটারের যেসব যন্ত্রাংশ দেখা ও স্পর্শ করা যায়, সেগুলোকে হার্ডওয়্যার বলে। যেমন: মনিটর, কী-বোর্ড, মাউস।
সফটওয়্যার: কম্পিউটার চালানোর জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম বা নির্দেশের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। যেমন: Windows, MS Word।
কম্পিউটার সিস্টেম │ ┌────────┴────────┐ হার্ডওয়্যার সফটওয়্যার (দেহ – দেখা ও (প্রাণ – দেখা যায়, ছোঁয়া যায়) ছোঁয়া যায় না)হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় হার্ডওয়্যার সফটওয়্যার ১. সংজ্ঞা কম্পিউটারের ভৌত যন্ত্রাংশ কম্পিউটার চালানোর প্রোগ্রাম বা নির্দেশের সমষ্টি ২. স্পর্শযোগ্যতা দেখা ও স্পর্শ করা যায় শুধু পর্দায় দেখা যায়, স্পর্শ করা যায় না ৩. তৈরি হয় ইলেকট্রনিক ও যান্ত্রিক উপাদান দিয়ে প্রোগ্রামিং ভাষা দিয়ে ৪. কাজ সফটওয়্যারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে হার্ডওয়্যারকে কী কাজ করতে হবে তা বলে দেয় ৫. ক্ষতি ব্যবহারে ক্ষয় হয়, ভেঙে বা নষ্ট হতে পারে ক্ষয় হয় না, তবে ভাইরাসে নষ্ট হতে পারে ৬. ভাইরাস ভাইরাস সরাসরি আক্রমণ করে না ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে ৭. পরিবর্তন বদলাতে হলে যন্ত্রাংশ খুলে নতুন লাগাতে হয় সহজে আপডেট, ইনস্টল বা আনইনস্টল করা যায় ৮. কপি হুবহু কপি করা যায় না সহজেই কপি করা যায় ৯. স্থানান্তর ইন্টারনেটে পাঠানো যায় না ইন্টারনেটে ডাউনলোড বা পাঠানো যায় ১০. প্রকারভেদ ইনপুট, প্রসেসিং, আউটপুট ও স্টোরেজ ডিভাইস সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ১১. উদাহরণ মনিটর, কী-বোর্ড, মাউস, র্যাম, হার্ড ডিস্ক Windows, Linux, MS Word, Photoshop সম্পর্ক: পার্থক্য থাকলেও এরা একে অপরের পরিপূরক। সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার অচল, আবার হার্ডওয়্যার ছাড়া সফটওয়্যার চালানোই যায় না।
উপসংহার: হার্ডওয়্যার কম্পিউটারের দেহ আর সফটওয়্যার তার প্রাণ; দুটো মিলেই একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার।
- ১.৩-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৬
২.কম্পিউটার সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর। [বিএমটি-২০২৪]
- অথবা, সফটওয়্যারের প্রকারভেদ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? এর দুটি কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৬]
উত্তর
কম্পিউটার চালানোর জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। কাজের ধরন অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার: (১) সিস্টেম সফটওয়্যার ও (২) অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
সফটওয়্যার │ ┌───────────────────┴───────────────────┐ সিস্টেম সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার │ │ ┌──────┼──────────┐ ┌───────┴───────┐ সিস্টেম সিস্টেম সিস্টেম সাধারণ সুনির্দিষ্ট ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট (প্যাকেজ) (কাস্টমাইজড) প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম │ │ │ • অপারেটিং • ল্যাঙ্গুয়েজ • ইউটিলিটি সিস্টেম ট্রান্সলেটর • পারফরম্যান্স • ডেটাবেজ • প্রোগ্রামিং প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট এডিটর ও টুলস • সিকিউরিটি • নেটওয়ার্ক • CASE মনিটর ম্যানেজমেন্ট১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software)
যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, সেগুলোকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। এটি কম্পিউটারের মৌলিক কাজ পরিচালনা করে এবং অন্য সফটওয়্যার চালাতে সাহায্য করে। সিস্টেম সফটওয়্যারের প্রধান ধরনগুলো:
(ক) অপারেটিং সিস্টেম (Operating System): কম্পিউটার পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত মূল সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম বলে। এটি কম্পিউটারের সব ডিভাইস ও সফটওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে। বিদ্যুৎ ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না, তেমনি অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও কম্পিউটার চালানো যায় না।
- অপারেটিং সিস্টেমের দুটি কাজ: (i) হার্ডওয়্যার (মেমরি, প্রসেসর, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস) পরিচালনা করা; (ii) ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা।
- উদাহরণ: MS-DOS, Windows (XP, 7, 10, 11), UNIX, Linux, macOS।
(খ) ইউটিলিটি সফটওয়্যার (Utility Software): কম্পিউটারের ব্যবহার সহজ করা এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম। যেমন: অ্যান্টিভাইরাস (McAfee), Norton Utility, Disk Cleanup। মাইক্রো কম্পিউটারে ব্যবহৃত কিছু ইউটিলিটি প্রোগ্রাম:
- এডিটর (Editor): প্রোগ্রাম বা লেখা তৈরি ও সংশোধন করে।
- লোডার (Loader): প্রোগ্রাম চালানোর জন্য সেটিকে প্রধান মেমরিতে নিয়ে আসে।
- মনিটর বা ফার্মওয়্যার: ROM-এ স্থায়ীভাবে থাকা প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটার চালু করতে সাহায্য করে।
(গ) অনুবাদক সফটওয়্যার (Translator Software): উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের বোধগম্য মেশিন ভাষায় (০ ও ১) রূপান্তর করে। যেমন: কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার, অ্যাসেম্বলার।
(ঘ) গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) সফটওয়্যার: আইকন, মেনু ও উইন্ডোর মাধ্যমে মাউস দিয়ে সহজে কম্পিউটার চালানোর সুযোগ দেয়।
২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software)
ব্যবহারকারী তার নির্দিষ্ট দৈনন্দিন কাজ করার জন্য যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে। এটি দুই ধরনের:
(ক) প্যাকেজ সফটওয়্যার: সফটওয়্যার কোম্পানি অনেক ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে। যেমন: MS Word (লেখালেখি), MS Excel (হিসাব), PowerPoint (প্রেজেন্টেশন), Photoshop (ছবি সম্পাদনা)।
(খ) কাস্টমাইজড সফটওয়্যার: কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে তৈরি করা সফটওয়্যার। যেমন: ব্যাংক, বিমা বা হাসপাতালের নিজস্ব সফটওয়্যার।
উপসংহার: সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারকে চালু ও কার্যকর রাখে, আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার দিয়ে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করি। দুটো মিলেই কম্পিউটার আমাদের কাজে লাগে।
- ১.৩-র-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৫৮
৩.কম্পিউটার সফটওয়্যারের ধারণা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
সফটওয়্যার: কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ ক্রমে সাজানো নির্দেশকে প্রোগ্রাম বলে। আর কম্পিউটার চালানো ও বিভিন্ন কাজ করার জন্য এক বা একাধিক প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে।
Software শব্দটি দুটি অংশে গঠিত: Soft অর্থ নরম, অর্থাৎ যা হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় না; আর Ware অর্থ সামগ্রী বা পণ্য। অর্থাৎ সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের এমন অংশ, যা দেখা যায় কিন্তু স্পর্শ করা যায় না।
সফটওয়্যারের ধারণা সহজভাবে: একটি কম্পিউটার যেন একজন রাঁধুনি, আর সফটওয়্যার যেন রান্নার রেসিপি। রাঁধুনি যত দক্ষই হোক, রেসিপি না পেলে কী রাঁধবেন জানেন না। তেমনি হার্ডওয়্যার যত শক্তিশালীই হোক, সফটওয়্যার না থাকলে কম্পিউটার কোনো কাজ করতে পারে না।
ইনপুট (ডেটা) ──► [ সফটওয়্যারের নির্দেশে হার্ডওয়্যার কাজ করে ] ──► আউটপুট (ফলাফল)সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য:
- এটি দেখা যায়, কিন্তু স্পর্শ করা যায় না।
- প্রোগ্রামিং ভাষা (যেমন C, Java, Python) দিয়ে তৈরি হয়।
- সহজে কপি, ইনস্টল, আপডেট ও আনইনস্টল করা যায়।
- ব্যবহারে ক্ষয় হয় না, তবে ভাইরাসে নষ্ট হতে পারে।
- হার্ডওয়্যারকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।
সফটওয়্যারের প্রকারভেদ:
সফটওয়্যার │ ┌──────────────┴──────────────┐ সিস্টেম সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার • অপারেটিং সিস্টেম • প্যাকেজ সফটওয়্যার • ইউটিলিটি • কাস্টমাইজড সফটওয়্যার • অনুবাদক প্রোগ্রাম • ডিভাইস ড্রাইভার- সিস্টেম সফটওয়্যার: হার্ডওয়্যার চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন: Windows, Linux।
- অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার: ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কাজ করে। যেমন: MS Word, Excel।
লাইসেন্স অনুযায়ী সফটওয়্যার:
- প্রোপ্রাইটারি (বাণিজ্যিক): টাকা দিয়ে কিনতে হয়। যেমন: MS Office।
- ফ্রিওয়্যার: বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। যেমন: Google Chrome।
- শেয়ারওয়্যার: কিছুদিন বিনামূল্যে, পরে কিনতে হয়। যেমন: WinRAR।
- ওপেন সোর্স: সোর্স কোড উন্মুক্ত। যেমন: Linux, LibreOffice।
উপসংহার: সফটওয়্যারই কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে তোলে; সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার শুধু একটি যন্ত্রের বাক্স।
- ১.৩-র-৪বই: পৃষ্ঠা ৫৯
৪.বিভিন্ন প্রকার সিস্টেম সফটওয়্যারের মৌলিক কাজ ও ব্যবহারিক ক্ষেত্র বর্ণনা কর।
উত্তর
কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। এর বিভিন্ন প্রকারের মৌলিক কাজ ও ব্যবহারিক ক্ষেত্র নিচে বর্ণনা করা হলো:
সিস্টেম সফটওয়্যার │ ┌──────────────┬─────────┼──────────┬────────────────┐ অপারেটিং ইউটিলিটি অনুবাদক ডিভাইস ফার্মওয়্যার সিস্টেম সফটওয়্যার (ট্রান্সলেটর) ড্রাইভার (BIOS)১. অপারেটিং সিস্টেম (Operating System)
মৌলিক কাজ:
- কম্পিউটার চালু (বুট) করা।
- মেমরি, প্রসেসর ও ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস পরিচালনা করা।
- ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা।
- ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ (ইন্টারফেস) তৈরি করা।
- অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর পরিবেশ দেওয়া। ব্যবহারিক ক্ষেত্র: সব কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ও সার্ভারে। যেমন: Windows, Linux, macOS, Android।
২. ইউটিলিটি সফটওয়্যার (Utility Software)
মৌলিক কাজ:
- ভাইরাস শনাক্ত ও মুছে ফেলা (অ্যান্টিভাইরাস)।
- অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে জায়গা খালি করা (Disk Cleanup)।
- ডিস্ক গুছিয়ে গতি বাড়ানো (Disk Defragmenter)।
- ফাইল সংকোচন (WinRAR, 7-Zip) ও ব্যাকআপ রাখা। ব্যবহারিক ক্ষেত্র: কম্পিউটারের রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা ও গতি বাড়ানোর কাজে।
৩. অনুবাদক সফটওয়্যার (Translator Software)
মৌলিক কাজ: উচ্চস্তরের বা অ্যাসেম্বলি ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের বোধগম্য মেশিন ভাষায় (০ ও ১) রূপান্তর করা।
- কম্পাইলার: পুরো প্রোগ্রাম একসাথে অনুবাদ করে (যেমন C ভাষার কম্পাইলার)।
- ইন্টারপ্রেটার: এক লাইন করে অনুবাদ ও চালায় (যেমন Python)।
- অ্যাসেম্বলার: অ্যাসেম্বলি ভাষাকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে। ব্যবহারিক ক্ষেত্র: সফটওয়্যার তৈরি ও প্রোগ্রামিংয়ের কাজে।
৪. ডিভাইস ড্রাইভার (Device Driver)
মৌলিক কাজ: প্রিন্টার, স্ক্যানার, সাউন্ড কার্ড, গ্রাফিক্স কার্ডের মতো হার্ডওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেমের সাথে যুক্ত করে কাজের উপযোগী করা। ব্যবহারিক ক্ষেত্র: নতুন কোনো হার্ডওয়্যার কম্পিউটারে লাগালে তা চালাতে।
৫. ফার্মওয়্যার (BIOS/UEFI)
মৌলিক কাজ: কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করা (POST) এবং অপারেটিং সিস্টেম লোড করা। ব্যবহারিক ক্ষেত্র: মাদারবোর্ড, প্রিন্টার, রাউটারসহ বিভিন্ন ডিভাইসে।
সিস্টেম সফটওয়্যার মূল কাজ উদাহরণ অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটার পরিচালনা Windows, Linux ইউটিলিটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষা Avast, CCleaner অনুবাদক প্রোগ্রামকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার ডিভাইস ড্রাইভার হার্ডওয়্যার চালু করা প্রিন্টার ড্রাইভার ফার্মওয়্যার কম্পিউটার বুট করা BIOS, UEFI উপসংহার: সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারের ভিত্তি; এগুলো ঠিকভাবে কাজ করলেই অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানো সম্ভব হয়।
- ১.৩-র-৫বই: পৃষ্ঠা ৫৯
৫.বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের নাম, বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা কর।
উত্তর
অ্যান্টিভাইরাস: কম্পিউটারের ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান, স্পাইওয়্যারসহ সব ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম (ম্যালওয়্যার) শনাক্ত করা, আটকানো ও মুছে ফেলার জন্য যে সফটওয়্যার ব্যবহার হয়, তাকে অ্যান্টিভাইরাস বলে।
ইন্টারনেট / পেন ড্রাইভ / ই-মেইল │ ▼ ┌───────────────────┐ │ অ্যান্টিভাইরাস │──► ভাইরাস পেলে: আটকাও / মুছে ফেলো │ (স্ক্যান করে) │ └─────────┬─────────┘ ▼ নিরাপদ হলে কম্পিউটারজনপ্রিয় কয়েকটি অ্যান্টিভাইরাস ও তাদের বৈশিষ্ট্য
অ্যান্টিভাইরাস বিশেষ বৈশিষ্ট্য Kaspersky শক্তিশালী ভাইরাস শনাক্তকরণ; ইন্টারনেট ও অনলাইন লেনদেনের সুরক্ষা Norton রিয়েল টাইম সুরক্ষা, ফায়ারওয়াল ও পাসওয়ার্ড ম্যানেজার McAfee একাধিক ডিভাইসের সুরক্ষা, ওয়েব সুরক্ষা Avast বিনামূল্যের সংস্করণ আছে, ব্যবহার সহজ AVG বিনামূল্যের সংস্করণ, কম জায়গা নেয় Bitdefender কম্পিউটারকে ধীর না করে শক্তিশালী সুরক্ষা ESET NOD32 হালকা ও দ্রুতগতির Microsoft Defender Windows-এর সাথে বিনামূল্যে আসে অ্যান্টিভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য
- স্ক্যানিং: কম্পিউটারের ফাইল পরীক্ষা করে ভাইরাস খোঁজে (Quick scan ও Full scan)।
- রিয়েল টাইম সুরক্ষা: কম্পিউটার চলাকালীন সবসময় পাহারা দেয়।
- কোয়ারেন্টাইন: সন্দেহজনক ফাইল আলাদা করে রাখে, যাতে ক্ষতি করতে না পারে।
- স্বয়ংক্রিয় আপডেট: নতুন ভাইরাস চিনতে নিয়মিত ভাইরাস ডেটাবেজ (ডেফিনিশন) আপডেট করে।
- ওয়েব ও ই-মেইল সুরক্ষা: ক্ষতিকর ওয়েবসাইট ও ই-মেইল অ্যাটাচমেন্ট আটকায়।
- ফায়ারওয়াল: অননুমোদিত নেটওয়ার্ক সংযোগ আটকায় (অনেক অ্যান্টিভাইরাসে থাকে)।
অ্যান্টিভাইরাসের প্রয়োজনীয়তা
- ভাইরাস থেকে কম্পিউটারের ফাইল ও প্রোগ্রাম রক্ষা করে।
- পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্যসহ ব্যক্তিগত তথ্য চুরি রোধ করে।
- পেন ড্রাইভ ও ইন্টারনেট থেকে ভাইরাস ঢোকা আটকায়।
- কম্পিউটারকে ধীর হওয়া ও হঠাৎ বন্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে।
- নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার ও অনলাইন লেনদেনে সাহায্য করে।
💡 টিপস: অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করার পর নিয়মিত আপডেট রাখতে হবে, নইলে নতুন ভাইরাস চিনতে পারবে না।
উপসংহার: নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য প্রতিটি কম্পিউটারে একটি হালনাগাদ অ্যান্টিভাইরাস থাকা জরুরি।
- ১.৩-র-৬বই: পৃষ্ঠা ৬০
৬.বিভিন্ন প্রকার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মৌলিক কাজ বর্ণনা কর।
উত্তর
ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার জন্য তৈরি সফটওয়্যারকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে। বিভিন্ন প্রকার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মৌলিক কাজ নিচে বর্ণনা করা হলো:
অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার │ ┌──────────┬──────────┬─────────┼──────────┬──────────┬──────────┐ ওয়ার্ড স্প্রেডশিট প্রেজেন্টেশন ডেটাবেজ গ্রাফিক্স ব্রাউজার মাল্টিমিডিয়া প্রসেসর১. ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার: লেখা টাইপ, সম্পাদনা, ফরম্যাট ও প্রিন্ট করা। চিঠি, দরখাস্ত, রিপোর্ট, বই তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: MS Word, LibreOffice Writer, Google Docs।
২. স্প্রেডশিট সফটওয়্যার: সারি ও কলামে ডেটা সাজিয়ে হিসাব করা, সূত্র (Formula) ব্যবহার, চার্ট ও গ্রাফ তৈরি করা। বেতন, ফলাফল, বাজেট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: MS Excel, LibreOffice Calc।
৩. প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার: ছবি, লেখা, অ্যানিমেশনসহ স্লাইড তৈরি করে কোনো বিষয় আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা। ক্লাস, সভা, সেমিনারে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: MS PowerPoint, LibreOffice Impress।
৪. ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (DBMS): বিপুল তথ্য সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ, খোঁজা, সাজানো ও রিপোর্ট তৈরি করা। ব্যাংক, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: MS Access, MySQL, Oracle।
৫. গ্রাফিক্স ও ডিজাইন সফটওয়্যার: ছবি সম্পাদনা, লোগো, পোস্টার, ব্যানার ও নকশা তৈরি করা। উদাহরণ: Adobe Photoshop, Illustrator, CorelDRAW, AutoCAD।
৬. ওয়েব ব্রাউজার: ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট দেখা, তথ্য খোঁজা ও ফাইল ডাউনলোড করা। উদাহরণ: Google Chrome, Mozilla Firefox, Microsoft Edge।
৭. মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার: অডিও-ভিডিও চালানো ও সম্পাদনা করা। উদাহরণ: VLC Media Player, Adobe Premiere।
৮. হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার: প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়, বেতন, স্টকের হিসাব রাখা। উদাহরণ: Tally, QuickBooks।
৯. যোগাযোগ সফটওয়্যার: ই-মেইল, চ্যাট ও ভিডিও কল করা। উদাহরণ: Gmail, Zoom, WhatsApp, Skype।
সফটওয়্যারের ধরন মৌলিক কাজ উদাহরণ ওয়ার্ড প্রসেসর লেখালেখি MS Word স্প্রেডশিট হিসাব ও চার্ট MS Excel প্রেজেন্টেশন স্লাইড উপস্থাপন PowerPoint ডেটাবেজ তথ্য সংরক্ষণ ও খোঁজা MS Access গ্রাফিক্স ছবি ও নকশা Photoshop ব্রাউজার ইন্টারনেট ব্যবহার Chrome উপসংহার: প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বেছে নিলে অফিস ও দৈনন্দিন কাজ দ্রুত, নির্ভুল ও সহজ হয়।