ICTebook
← কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১

কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১ · অধ্যায়-১ : কম্পিউটার সিস্টেম ও হার্ডওয়্যার

অধ্যায় ১.৪: কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম

তারকা অনুযায়ী প্রশ্ন বাছাই

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১৫টি)

  1. ১.৪-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ১.অপারেটিং সিস্টেম কী? [বিএমটি-২০২৪]

    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? জনপ্রিয় দুটি অপারেটিং সিস্টেম লেখ। [বিএমটি-২৬]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? বর্ণনা দাও। [বিএমটি-২০১১, ১৮, ১৯, ২২; কমার্স-২০১১, ২০১০]
    • অথবা, কয়েকটি বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০১১]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০০৯, ২০১২, ২০১৩; কমার্স-২০০৯]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০১০, ১৪]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? তিনটি অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০১৫, ১৭]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০২৩]
    • অথবা, চারটি অপারেটিং সিস্টেম-এর নাম লেখ। [বিএমটি-২০২৫]

    উত্তর

    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, এমন প্রধান সিস্টেম সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম (Operating System – OS) বলে।

    Operate অর্থ পরিচালনা করা আর System অর্থ পদ্ধতি; অর্থাৎ অপারেটিং সিস্টেম হলো কম্পিউটার পরিচালনার পদ্ধতি। কম্পিউটার চালু হলে সবার আগে অপারেটিং সিস্টেম চালু হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না, তেমনি অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও কম্পিউটার চালানো যায় না।

            ┌───────────────────────────┐
            │        ব্যবহারকারী          │
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার       │  (MS Word, Chrome)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │   অপারেটিং সিস্টেম (OS)    │  (Windows, Linux)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │       হার্ডওয়্যার           │  (CPU, RAM, ডিস্ক)
            └───────────────────────────┘
    

    জনপ্রিয় কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম:

    1. Microsoft Windows (7, 10, 11)
    2. Linux (Ubuntu, Fedora)
    3. macOS (Apple কম্পিউটারে)
    4. UNIX
    5. MS-DOS
    6. Android ও iOS (মোবাইলে)
  2. ১.৪-সং-২★★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ২.সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২৫]

    উত্তর

    যে অপারেটিং সিস্টেমে একই সময়ে মাত্র একজন ব্যবহারকারী কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন, তাকে সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেম বলে।

    এ ধরনের অপারেটিং সিস্টেম সাধারণত ব্যক্তিগত কম্পিউটারে (PC) ব্যবহার হয়। এতে কম্পিউটারের সব রিসোর্স (প্রসেসর, মেমরি, প্রিন্টার) একজন ব্যবহারকারীর কাজেই লাগে। এটি আবার দুই ধরনের হতে পারে: সিঙ্গেল ইউজার-সিঙ্গেল টাস্কিং (একসাথে একটি কাজ) এবং সিঙ্গেল ইউজার-মাল্টি টাস্কিং (একসাথে কয়েকটি কাজ)।

    উদাহরণ: MS-DOS (সিঙ্গেল টাস্কিং), Windows 95/98, ব্যক্তিগত ব্যবহারের Windows।

  3. ১.৪-সং-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ৩.মাল্টি ইউজার অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২৫]

    উত্তর

    যে অপারেটিং সিস্টেমে একই সময়ে একাধিক ব্যবহারকারী আলাদা আলাদা টার্মিনাল থেকে একটি কম্পিউটার (বা সার্ভার) ব্যবহার করতে পারেন, তাকে মাল্টি ইউজার অপারেটিং সিস্টেম বলে।

    এতে কম্পিউটারের প্রসেসর, মেমরি, প্রিন্টারের মতো রিসোর্স সব ব্যবহারকারীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়, এবং প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ডেটা আলাদা ও নিরাপদ রাখা হয়। ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে এটি ব্যবহার হয়।

     টার্মিনাল-১ ─┐
     টার্মিনাল-২ ─┼──► সার্ভার কম্পিউটার (মাল্টি ইউজার OS)
     টার্মিনাল-৩ ─┘
    

    উদাহরণ: UNIX, Linux, Windows Server।

  4. ১.৪-সং-৪★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ৪.ফাইল কী? [বিএমটি-২০১৪, ১৮]

    • অথবা, ফাইলের সংজ্ঞা লেখ। [বিএমটি-২০১৭]
    • অথবা, ফাইল বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০১৯]

    উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট নামে সংরক্ষিত সম্পর্কিত তথ্য বা ডেটার সমষ্টিকে ফাইল (File) বলে।

    কম্পিউটারে যা কিছু সংরক্ষণ করা হয়, যেমন একটি চিঠি, ছবি, গান বা প্রোগ্রাম, সবই ফাইল হিসেবে থাকে। প্রতিটি ফাইলের একটি নাম ও একটি এক্সটেনশন থাকে। এক্সটেনশন দেখে বোঝা যায় ফাইলটি কোন ধরনের।

    ফাইলের গঠন: ফাইলের নাম.এক্সটেনশন যেমন Result.docx

    ফাইলের নামএক্সটেনশনধরন
    Letter.docx.docxWord ডকুমেন্ট
    Salary.xlsx.xlsxExcel ওয়ার্কবুক
    Photo.jpg.jpgছবি
    Song.mp3.mp3অডিও
  5. ১.৪-সং-৫★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ৫.ডিরেক্টরি কী?

    • অথবা, রুট ডিরেক্টরির বর্ণনা দাও।
    • অথবা, Directory বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০১৬]

    উত্তর

    স্টোরেজ ডিভাইসে ফাইলগুলোকে গুছিয়ে রাখার জন্য তৈরি তালিকা বা কাঠামোকে ডিরেক্টরি (Directory) বলে। Windows-এ ডিরেক্টরিকে সাধারণত ফোল্ডার বলা হয়।

    রুট ডিরেক্টরি (Root Directory): কোনো ডিস্ক বা ড্রাইভের সবচেয়ে উপরের প্রধান ডিরেক্টরিকে রুট ডিরেক্টরি বলে। এর ভেতরেই অন্য সব ডিরেক্টরি ও ফাইল থাকে। যেমন: C:\ হলো C ড্রাইভের রুট ডিরেক্টরি।

    রুট ডিরেক্টরির ভেতরের ডিরেক্টরিকে সাব-ডিরেক্টরি বলে। এভাবে গাছের শাখা-প্রশাখার মতো সাজানো থাকে বলে একে ট্রি স্ট্রাকচার বলে।

     C:\  (রুট ডিরেক্টরি)
      ├── Documents  (সাব-ডিরেক্টরি)
      │     ├── Letter.docx  (ফাইল)
      │     └── Result.xlsx
      ├── Pictures
      │     └── Photo.jpg
      └── Windows
    
  6. ১.৪-সং-৬★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ৬.অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের ভূমিকা কী?

    উত্তর

    অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের "ব্যবস্থাপক" হিসেবে কাজ করে। এর প্রধান ভূমিকাগুলো হলো:

    1. কম্পিউটার চালু করা: কম্পিউটার চালু (বুট) হলে প্রথমে OS লোড হয় এবং কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে।
    2. সংযোগ স্থাপন: ব্যবহারকারী ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে।
    3. হার্ডওয়্যার ব্যবস্থাপনা: প্রসেসর, মেমরি, কী-বোর্ড, প্রিন্টারসহ সব যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে।
    4. ফাইল ব্যবস্থাপনা: ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, সংরক্ষণ, কপি, মুছে ফেলা ইত্যাদি করে।
    5. প্রোগ্রাম চালানো: অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর পরিবেশ দেয়।
    6. নিরাপত্তা: পাসওয়ার্ড ও ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষিত রাখে।
    7. ত্রুটি শনাক্তকরণ: কোনো সমস্যা হলে বার্তা দিয়ে ব্যবহারকারীকে জানায়।
  7. ১.৪-সং-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ৭.বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    যে অপারেটিং সিস্টেমে কম্পিউটারকে নির্দেশ দিতে কী-বোর্ড দিয়ে টেক্সট বা কমান্ড টাইপ করতে হয়, তাকে বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বা ক্যারেক্টার ইউজার ইন্টারফেস (CUI)/কমান্ড লাইন ইন্টারফেস (CLI) বলে।

    এতে পর্দায় কোনো ছবি বা আইকন থাকে না, শুধু লেখা থাকে। প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট কমান্ড মুখস্থ রাখতে হয়, তাই নতুনদের জন্য এটি কঠিন। মাউস ব্যবহার হয় না।

      C:\> dir
      C:\> copy letter.txt d:\
      C:\> _
    

    উদাহরণ: MS-DOS, PC-DOS, UNIX (কমান্ড মোড)।

  8. ১.৪-সং-৮★★বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ৮.চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    যে অপারেটিং সিস্টেমে আইকন, মেনু, উইন্ডো ও ছবির মাধ্যমে মাউস দিয়ে ক্লিক করে কম্পিউটারকে নির্দেশ দেওয়া যায়, তাকে চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বা গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) বলে।

    এতে কমান্ড মুখস্থ রাখতে হয় না; ছবি দেখে সহজেই কাজ করা যায়। তাই নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি খুব সহজ ও জনপ্রিয়।

     ┌──────────────────────────────┐
     │ 📁 My Files   🗑 Recycle Bin   │
     │ 🌐 Chrome     📝 Word          │
     │                              │
     │ [⊞ Start] [উইন্ডো] [ঘড়ি]      │
     └──────────────────────────────┘
    

    উদাহরণ: Microsoft Windows, macOS, Linux (Ubuntu), Android।

  9. ১.৪-সং-৯বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ৯.Batch অপারেটিং সিস্টেম কাকে বলে?

    উত্তর

    যে অপারেটিং সিস্টেমে একই ধরনের অনেকগুলো কাজ (Job) একসাথে একটি দলে (Batch) সাজিয়ে ক্রমানুসারে একটির পর একটি সম্পন্ন করা হয়, তাকে ব্যাচ অপারেটিং সিস্টেম (Batch Operating System) বলে।

    এতে কাজ চলার সময় ব্যবহারকারী সরাসরি কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করেন না। একজন অপারেটর কাজগুলো জমা দেন, আর কম্পিউটার ধারাবাহিকভাবে সেগুলো শেষ করে। বেতন হিসাব, বিল তৈরির মতো বড় ও পুনরাবৃত্ত কাজে এটি উপযোগী।

     কাজ-১ ┐
     কাজ-২ ├─► [ব্যাচ] ─► কম্পিউটার ─► ফলাফল-১, ২, ৩ (ক্রমানুসারে)
     কাজ-৩ ┘
    

    উদাহরণ: ব্যাংকের মাসিক বেতন হিসাব, বিদ্যুৎ বিল তৈরি।

  10. ১.৪-সং-১০বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ১০.Time Sharing অপারেটিং সিস্টেম কাকে বলে?

    উত্তর

    যে অপারেটিং সিস্টেমে প্রসেসরের সময়কে ছোট ছোট ভাগে (Time Slice) ভাগ করে একাধিক ব্যবহারকারী বা প্রোগ্রামকে পালাক্রমে দেওয়া হয়, তাকে টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম বলে।

    প্রসেসর খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের কাজে যায়, তাই প্রত্যেক ব্যবহারকারীর মনে হয় কম্পিউটার শুধু তার কাজই করছে। এতে একসাথে অনেকে কাজ করতে পারেন।

     প্রসেসর সময়: | ব্যবহারকারী-১ | ব্যবহারকারী-২ | ব্যবহারকারী-৩ | ব্যবহারকারী-১ | ...
    

    উদাহরণ: UNIX, Linux, মাল্টি ইউজার সার্ভার।

  11. ১.৪-সং-১১★বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ১১.উইন্ডোজ কী?

    উত্তর

    উইন্ডোজ (Windows) হলো মাইক্রোসফট (Microsoft) কোম্পানির তৈরি একটি চিত্রভিত্তিক (GUI) অপারেটিং সিস্টেম।

    এতে প্রতিটি প্রোগ্রাম পর্দায় একটি আলাদা জানালা (Window) আকারে খোলে, তাই এর নাম উইন্ডোজ। আইকন, মেনু ও মাউসের সাহায্যে খুব সহজে কাজ করা যায় এবং একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো যায় (মাল্টিটাস্কিং)। বিশ্বের বেশির ভাগ ব্যক্তিগত কম্পিউটারে উইন্ডোজ ব্যবহার হয়।

    বিভিন্ন সংস্করণ: Windows 95, 98, XP, Vista, 7, 8, 10, 11।

  12. ১.৪-সং-১২বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ১২.ফোল্ডার কী?

    উত্তর

    কম্পিউটারে একাধিক ফাইল বা অন্য ফোল্ডারকে একসাথে গুছিয়ে রাখার জন্য তৈরি একটি নির্দিষ্ট নামের স্থানকে ফোল্ডার (Folder) বলে।

    অফিসের ফাইল কেবিনেটে যেমন কাগজপত্র আলাদা আলাদা ফাইলে সাজিয়ে রাখা হয়, তেমনি কম্পিউটারে ফোল্ডার দিয়ে ফাইল সাজিয়ে রাখা হয়। এতে প্রয়োজনের সময় ফাইল সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। একটি ফোল্ডারের ভেতরে আরেকটি ফোল্ডার থাকলে তাকে সাব-ফোল্ডার বলে।

     📁 Class-11
       ├── 📁 Bangla
       ├── 📁 ICT
       │     ├── 📄 Chapter1.docx
       │     └── 📄 Chapter2.docx
       └── 📁 English
    
  13. ১.৪-সং-১৩বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ১৩.ইউনিক্স কী?

    উত্তর

    ইউনিক্স (UNIX) হলো একটি শক্তিশালী, মাল্টি ইউজার ও মাল্টি টাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম।

    ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের AT&T বেল ল্যাবরেটরিতে কেন থম্পসন ও ডেনিস রিচি এটি তৈরি করেন। পরে এটি C ভাষায় লেখা হয়। একসাথে অনেক ব্যবহারকারী একটি কম্পিউটারে কাজ করতে পারেন এবং এটি খুব নিরাপদ ও স্থিতিশীল। বড় সার্ভার, মেইনফ্রেম, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এটি ব্যবহার হয়। Linux ও macOS ইউনিক্সের ধারণা থেকে তৈরি।

  14. ১.৪-সং-১৪★বই: পৃষ্ঠা ৬৪

    ১৪.লিনাক্স কী?

    উত্তর

    লিনাক্স (Linux) হলো একটি বিনামূল্যের ও ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম।

    ১৯৯১ সালে ফিনল্যান্ডের ছাত্র লিনাস টরভাল্ডস (Linus Torvalds) ইউনিক্সের আদলে এর মূল অংশ (কার্নেল) তৈরি করেন; তাঁর নাম থেকেই "Linux" নাম এসেছে। এর সোর্স কোড উন্মুক্ত, তাই যে কেউ বিনামূল্যে ব্যবহার, পরিবর্তন ও বিতরণ করতে পারে। এটি মাল্টি ইউজার, মাল্টি টাস্কিং এবং খুব নিরাপদ।

    জনপ্রিয় সংস্করণ (ডিস্ট্রিবিউশন): Ubuntu, Fedora, Debian, Linux Mint, Red Hat।

  15. ১.৪-সং-১৫★★বই: পৃষ্ঠা ৬৪

    ১৫.লিনাক্সের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

    উত্তর

    লিনাক্সের বৈশিষ্ট্যগুলো:

    1. বিনামূল্যে: লিনাক্স ব্যবহার করতে কোনো টাকা লাগে না।
    2. ওপেন সোর্স: সোর্স কোড উন্মুক্ত; যে কেউ পরিবর্তন ও উন্নয়ন করতে পারে।
    3. মাল্টি ইউজার: একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারেন।
    4. মাল্টি টাস্কিং: একসাথে অনেক প্রোগ্রাম চালানো যায়।
    5. নিরাপদ: ভাইরাসের আক্রমণ খুব কম হয়।
    6. স্থিতিশীল: দীর্ঘদিন চালু রাখলেও সহজে হ্যাং বা ক্র্যাশ করে না, তাই সার্ভারে বেশি ব্যবহৃত।
    7. বহনযোগ্য (Portable): কম্পিউটার, সার্ভার, মোবাইল (Android), রাউটারসহ নানা যন্ত্রে চলে।
    8. CUI ও GUI দুটোই আছে: কমান্ড লাইন ও চিত্রভিত্তিক দুই পদ্ধতিতেই কাজ করা যায়।
    9. কম রিসোর্সে চলে: পুরনো ও কম শক্তির কম্পিউটারেও চালানো যায়।

রচনামূলক প্রশ্ন (১১টি)

  1. ১.৪-র-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৪

    ১.অপারেটিং সিস্টেমের কার্যাবলি বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৪]

    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের কাজ লেখ।
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের কার্যাবলি আলোচনা কর। [বিএমটি-২০০৯, ১২, ১৯, ২২; কমার্স-২০০৯]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের কাজগুলো উল্লেখ কর। [বিএমটি-২৬]

    উত্তর

    অপারেটিং সিস্টেম: কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকে পরিচালনা করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, এমন প্রধান সিস্টেম সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম বলে। যেমন: Windows, Linux।

                          অপারেটিং সিস্টেমের কাজ
                                   │
      ┌──────────┬──────────┬──────┼───────┬──────────┬──────────┐
    প্রসেস      মেমরি      ফাইল     ডিভাইস   নিরাপত্তা   ইউজার
    ব্যবস্থাপনা  ব্যবস্থাপনা  ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনা           ইন্টারফেস
    

    অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান কার্যাবলি নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. কম্পিউটার চালু করা (Booting): কম্পিউটার চালু করলে অপারেটিং সিস্টেম মেমরিতে লোড হয় এবং সব হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করে কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে।

    ২. প্রসেস বা প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপনা: কোন প্রোগ্রাম কখন, কতক্ষণ প্রসেসর ব্যবহার করবে তা ঠিক করে। একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালাতে (মাল্টিটাস্কিং) সাহায্য করে।

    ৩. মেমরি ব্যবস্থাপনা: কোন প্রোগ্রাম RAM-এর কোন অংশে থাকবে তা নির্ধারণ করে, এবং কাজ শেষে সেই জায়গা খালি করে অন্য প্রোগ্রামকে দেয়।

    ৪. ফাইল ব্যবস্থাপনা: ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, নামকরণ, সংরক্ষণ, কপি, স্থানান্তর ও মুছে ফেলার কাজ করে; ডিস্কে ফাইল কোথায় আছে তার হিসাব রাখে।

    ৫. ডিভাইস (ইনপুট-আউটপুট) ব্যবস্থাপনা: কী-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, মনিটরসহ সব ডিভাইস ডিভাইস ড্রাইভারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে।

    ৬. ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ (ইন্টারফেস): কমান্ড (CUI) বা আইকন-মেনুর (GUI) মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে কম্পিউটার চালানোর সুযোগ দেয়।

    ৭. নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা: পাসওয়ার্ড, ইউজার অ্যাকাউন্ট ও অনুমতির মাধ্যমে অননুমোদিত ব্যবহার রোধ করে এবং তথ্য সুরক্ষিত রাখে।

    ৮. ত্রুটি শনাক্তকরণ: হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যারে সমস্যা হলে তা শনাক্ত করে বার্তা দেখায়।

    ৯. রিসোর্স বণ্টন: প্রসেসর, মেমরি, প্রিন্টারের মতো রিসোর্স বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ভাগ করে দেয়।

    ১০. অ্যাপ্লিকেশন চালানো: MS Word, Chrome-এর মতো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর প্ল্যাটফর্ম দেয়।

    উপসংহার: অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের সব কাজ সমন্বয় করে; এটি ছাড়া কম্পিউটার চালানো সম্ভব নয়।

  2. ১.৪-র-২★★বই: পৃষ্ঠা ৬৪

    ২.কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের ভূমিকা বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সমন্বয় করে কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে তোলাই অপারেটিং সিস্টেম-এর ভূমিকা। একে কম্পিউটারের "ব্যবস্থাপক" বা "পরিচালক" বলা যায়।

            ┌───────────────────────────┐
            │        ব্যবহারকারী          │
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার       │  (MS Word, Chrome)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │   অপারেটিং সিস্টেম (OS)    │  (Windows, Linux)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │       হার্ডওয়্যার           │  (CPU, RAM, ডিস্ক)
            └───────────────────────────┘
    

    অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান ভূমিকাগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. মধ্যস্থতাকারী হিসেবে: ব্যবহারকারী কম্পিউটারের ভাষা (০ ও ১) বোঝেন না, আবার হার্ডওয়্যার মানুষের ভাষা বোঝে না। অপারেটিং সিস্টেম দুই পক্ষের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে।

    ২. হার্ডওয়্যারের নিয়ন্ত্রক হিসেবে: প্রসেসর, মেমরি, হার্ড ডিস্ক, কী-বোর্ড, প্রিন্টারসহ সব হার্ডওয়্যার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।

    ৩. অ্যাপ্লিকেশনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে: MS Word, Excel, Chrome-এর মতো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার অপারেটিং সিস্টেমের ওপরেই চলে।

    ৪. রিসোর্স ব্যবস্থাপক হিসেবে: কোন প্রোগ্রাম কখন প্রসেসর ও মেমরি ব্যবহার করবে তা ঠিক করে, যাতে কাজের মধ্যে সংঘর্ষ না হয়।

    ৫. ফাইল ব্যবস্থাপক হিসেবে: ফাইল ও ফোল্ডার সংরক্ষণ, খোঁজা ও সাজিয়ে রাখার কাজ করে।

    ৬. নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে: পাসওয়ার্ড, ইউজার অ্যাকাউন্ট ও ফায়ারওয়ালের মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষিত রাখে।

    ৭. সহজ ব্যবহারের সুযোগদাতা হিসেবে: GUI-এর মাধ্যমে আইকন ও মেনু দিয়ে সাধারণ মানুষও সহজে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন।

    ৮. ত্রুটি নির্ণায়ক হিসেবে: সমস্যা হলে তা শনাক্ত করে বার্তা দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সমাধানের পথ দেখায়।

    ৯. যোগাযোগ ব্যবস্থাপক হিসেবে: নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ পরিচালনা করে।

    উপসংহার: অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কম্পিউটার একটি অচল যন্ত্র; এটিই কম্পিউটারকে জীবন্ত ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলে।

  3. ১.৪-র-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৬৫

    ৩.চিত্রভিত্তিক ও বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের মাঝে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০০৯, ১০, ১১, ১৩, ১৫, ১৭]

    উত্তর

    বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম (CUI): যে অপারেটিং সিস্টেমে কী-বোর্ড দিয়ে কমান্ড টাইপ করে কাজ করতে হয়। যেমন: MS-DOS।

    চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম (GUI): যে অপারেটিং সিস্টেমে আইকন, মেনু ও উইন্ডোতে মাউস দিয়ে ক্লিক করে কাজ করা যায়। যেমন: Windows।

       বর্ণভিত্তিক (CUI)                 চিত্রভিত্তিক (GUI)
     ┌──────────────────┐           ┌──────────────────┐
     │ C:\> dir          │           │ 📁  🗑  🌐  📝     │
     │ C:\> copy a.txt d:│           │                  │
     │ C:\> _            │           │ [⊞ Start]  ⌚    │
     └──────────────────┘           └──────────────────┘
       শুধু লেখা, কী-বোর্ড              ছবি ও আইকন, মাউস
    

    পার্থক্য:

    বিষয়বর্ণভিত্তিক (CUI)চিত্রভিত্তিক (GUI)
    ১. পূর্ণরূপCharacter User InterfaceGraphical User Interface
    ২. নির্দেশ দেওয়ার পদ্ধতিকী-বোর্ডে কমান্ড টাইপ করেমাউস দিয়ে আইকন ও মেনুতে ক্লিক করে
    ৩. পর্দার রূপশুধু লেখা (টেক্সট) দেখা যায়ছবি, আইকন, উইন্ডো, মেনু দেখা যায়
    ৪. মাউস ব্যবহারসাধারণত মাউস লাগে নামাউস প্রধান ইনপুট ডিভাইস
    ৫. ব্যবহারকঠিন; কমান্ড মুখস্থ রাখতে হয়সহজ; ছবি দেখে বোঝা যায়
    ৬. শেখানতুনদের জন্য শেখা কঠিননতুনরাও দ্রুত শিখতে পারে
    ৭. মাল্টিটাস্কিংসাধারণত একসাথে একটি কাজএকসাথে অনেক কাজ (উইন্ডো)
    ৮. মেমরি ও গতিকম মেমরি লাগে, দ্রুত চলেবেশি মেমরি ও শক্তিশালী হার্ডওয়্যার লাগে
    ৯. ভুলের সম্ভাবনাটাইপের ভুলে কমান্ড কাজ করে নাভুলের সম্ভাবনা কম
    ১০. উদাহরণMS-DOS, PC-DOS, UNIX (কমান্ড মোড)Windows, macOS, Ubuntu Linux

    উপসংহার: সহজ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বেশি জনপ্রিয়, তবে সার্ভার ও উন্নত কাজে এখনো বর্ণভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার হয়।

  4. ১.৪-র-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৬

    ৪.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সাথে অপারেটিং সিস্টেমের সম্পর্ক বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটার সিস্টেম কয়েকটি স্তরে কাজ করে। সবচেয়ে নিচে হার্ডওয়্যার, তার ওপরে অপারেটিং সিস্টেম, তার ওপরে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, আর সবার ওপরে ব্যবহারকারী। অপারেটিং সিস্টেম এই স্তরগুলোর মাঝখানে থেকে সংযোগ রক্ষা করে।

            ┌───────────────────────────┐
            │        ব্যবহারকারী          │
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার       │  (MS Word, Chrome)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │   অপারেটিং সিস্টেম (OS)    │  (Windows, Linux)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │       হার্ডওয়্যার           │  (CPU, RAM, ডিস্ক)
            └───────────────────────────┘
    

    ১. হার্ডওয়্যারের সাথে অপারেটিং সিস্টেমের সম্পর্ক

    • অপারেটিং সিস্টেম হার্ডওয়্যারকে চালু (বুট) করে এবং পরীক্ষা করে।
    • প্রসেসর, মেমরি, হার্ড ডিস্ক, কী-বোর্ড, প্রিন্টারসহ সব হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।
    • ডিভাইস ড্রাইভারের মাধ্যমে প্রতিটি হার্ডওয়্যারের সাথে যোগাযোগ করে।
    • হার্ডওয়্যার ছাড়া অপারেটিং সিস্টেম চলতে পারে না, আবার অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া হার্ডওয়্যার কোনো কাজ করতে পারে না।

    ২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের সাথে অপারেটিং সিস্টেমের সম্পর্ক

    • অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (যেমন MS Word) অপারেটিং সিস্টেমের ওপর চলে; OS না থাকলে এগুলো চালানো যায় না।
    • অ্যাপ্লিকেশন সরাসরি হার্ডওয়্যারের সাথে কথা বলে না; অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে।
    • অ্যাপ্লিকেশনকে প্রয়োজনীয় মেমরি, প্রসেসরের সময় ও ফাইল সংরক্ষণের সুবিধা দেয় অপারেটিং সিস্টেম।
    • প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশন নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি হয় (যেমন Windows-এর সফটওয়্যার সাধারণত macOS-এ চলে না)।

    একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক

    ধরো, MS Word-এ একটি চিঠি প্রিন্ট করতে চাও:

    1. তুমি (ব্যবহারকারী) MS Word-এ Print বাটনে ক্লিক করলে।
    2. MS Word (অ্যাপ্লিকেশন) অপারেটিং সিস্টেমকে প্রিন্ট করার অনুরোধ জানায়।
    3. অপারেটিং সিস্টেম প্রিন্টার ড্রাইভারের মাধ্যমে প্রিন্টারকে (হার্ডওয়্যার) নির্দেশ দেয়।
    4. প্রিন্টার কাগজে চিঠিটি ছাপে।
     ব্যবহারকারী → MS Word → অপারেটিং সিস্টেম → প্রিন্টার ড্রাইভার → প্রিন্টার
    

    উপসংহার: অপারেটিং সিস্টেম হলো হার্ডওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে সেতু; তিনটি একসাথে কাজ করলেই ব্যবহারকারী কম্পিউটার থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পান।

  5. ১.৪-র-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৬

    ৫.অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কাজের ধরন, ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও কাজের পদ্ধতি অনুযায়ী অপারেটিং সিস্টেমকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়:

                              অপারেটিং সিস্টেম
                                     │
         ┌───────────────┬───────────┼─────────────┬──────────────┐
     ইন্টারফেস         ব্যবহারকারী     কাজের ধরন       প্রক্রিয়াকরণ      নেটওয়ার্ক
     অনুযায়ী          অনুযায়ী        অনুযায়ী          পদ্ধতি অনুযায়ী   অনুযায়ী
         │               │              │                │             │
     • বর্ণভিত্তিক     • সিঙ্গেল ইউজার  • সিঙ্গেল টাস্কিং  • ব্যাচ          • নেটওয়ার্ক OS
       (CUI)          • মাল্টি ইউজার   • মাল্টি টাস্কিং   • টাইম শেয়ারিং   • ডিস্ট্রিবিউটেড
     • চিত্রভিত্তিক                                   • রিয়েল টাইম       OS
       (GUI)
    

    ক. ইন্টারফেস অনুযায়ী

    ১. বর্ণভিত্তিক (CUI): কী-বোর্ডে কমান্ড টাইপ করে কাজ করতে হয়। যেমন: MS-DOS। ২. চিত্রভিত্তিক (GUI): আইকন ও মেনুতে মাউস দিয়ে ক্লিক করে কাজ করা যায়। যেমন: Windows, macOS।

    খ. ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুযায়ী

    ৩. সিঙ্গেল ইউজার OS: একসময়ে একজন ব্যবহারকারী কাজ করতে পারেন। যেমন: MS-DOS, Windows 98। ৪. মাল্টি ইউজার OS: একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী আলাদা টার্মিনাল থেকে কাজ করতে পারেন। যেমন: UNIX, Linux, Windows Server।

    গ. কাজের সংখ্যা অনুযায়ী

    ৫. সিঙ্গেল টাস্কিং OS: একসময়ে একটি মাত্র প্রোগ্রাম চালানো যায়। যেমন: MS-DOS। ৬. মাল্টি টাস্কিং OS: একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো যায় (যেমন গান শুনতে শুনতে টাইপ করা)। যেমন: Windows, Linux।

    ঘ. প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি অনুযায়ী

    ৭. ব্যাচ প্রসেসিং OS: একই ধরনের কাজ দল (ব্যাচ) করে ক্রমানুসারে সম্পন্ন করে; ব্যবহারকারী সরাসরি যুক্ত থাকেন না। যেমন: বেতন ও বিল তৈরি। ৮. টাইম শেয়ারিং OS: প্রসেসরের সময় ভাগ করে পালাক্রমে অনেক ব্যবহারকারীকে দেয়। যেমন: UNIX। ৯. রিয়েল টাইম OS: ইনপুট পাওয়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলাফল দেয়। যেমন: বিমান নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, রোবট।

    ঙ. নেটওয়ার্ক অনুযায়ী

    ১০. নেটওয়ার্ক OS: নেটওয়ার্কে যুক্ত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে ফাইল, প্রিন্টার ও রিসোর্স শেয়ার করতে দেয়। যেমন: Windows Server, Novell NetWare। ১১. ডিস্ট্রিবিউটেড OS: অনেকগুলো কম্পিউটারকে একসাথে একটি কম্পিউটারের মতো কাজ করায়।

    চ. ডিভাইস অনুযায়ী

    ১২. মোবাইল OS: স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের জন্য। যেমন: Android, iOS।

    উপসংহার: প্রয়োজন ও কাজের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত অপারেটিং সিস্টেম বেছে নেওয়া হয়।

  6. ১.৪-র-৬★বই: পৃষ্ঠা ৬৬

    ৬.অপারেটিং সিস্টেমের গুরুত্বসমূহ কী কী?

    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের উদ্দেশ্য বর্ণনা কর।

    উত্তর

    অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কম্পিউটার চালানো সম্ভব নয়। এর উদ্দেশ্য হলো কম্পিউটারকে সহজে ব্যবহারযোগ্য ও দক্ষ করে তোলা। অপারেটিং সিস্টেমের গুরুত্ব ও উদ্দেশ্যগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:

                    অপারেটিং সিস্টেমের উদ্দেশ্য
                               │
          ┌────────────────────┼────────────────────┐
      সুবিধা (সহজ ব্যবহার)    দক্ষতা (রিসোর্সের       নিরাপত্তা ও
                            সঠিক ব্যবহার)          নির্ভরযোগ্যতা
    

    ১. সহজ ব্যবহার নিশ্চিত করা: কমান্ড বা আইকনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও সহজে কম্পিউটার চালাতে পারেন।

    ২. হার্ডওয়্যার পরিচালনা: প্রসেসর, মেমরি ও সব ডিভাইস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে কম্পিউটারকে সচল রাখে।

    ৩. রিসোর্সের দক্ষ ব্যবহার: প্রসেসর, মেমরি, প্রিন্টারের মতো রিসোর্স অপচয় ছাড়া সব প্রোগ্রামের মধ্যে ভাগ করে দেয়।

    ৪. অ্যাপ্লিকেশন চালানোর পরিবেশ: সব অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর প্ল্যাটফর্ম দেয়।

    ৫. ফাইল ব্যবস্থাপনা: তথ্য সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ ও দ্রুত খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

    ৬. নিরাপত্তা: পাসওয়ার্ড ও অনুমতির মাধ্যমে তথ্য ও কম্পিউটারকে অননুমোদিত ব্যবহার থেকে রক্ষা করে।

    ৭. মাল্টিটাস্কিং: একসাথে অনেক কাজ করার সুযোগ দিয়ে সময় বাঁচায়।

    ৮. ত্রুটি নিয়ন্ত্রণ: সমস্যা শনাক্ত করে কম্পিউটারকে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

    ৯. নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ: ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব করে।

    ১০. উন্নয়নের সুযোগ: প্রোগ্রামারদের নতুন সফটওয়্যার তৈরির ভিত্তি দেয়।

    উপসংহার: সুবিধা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা, এই তিন উদ্দেশ্য পূরণ করে অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারকে মানুষের সবচেয়ে কাজের যন্ত্রে পরিণত করেছে।

  7. ১.৪-র-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৭

    ৭.সিস্টেম সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। সিস্টেম সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:

                                সিস্টেম সফটওয়্যার
                                        │
              ┌─────────────────────────┼─────────────────────────┐
      সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট          সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট            সিস্টেম সাপোর্ট
         প্রোগ্রাম                     প্রোগ্রাম                     প্রোগ্রাম
              │                         │                         │
     • অপারেটিং সিস্টেম          • ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেটর          • সিস্টেম ইউটিলিটি
     • ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট         (কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার,    • পারফরম্যান্স মনিটর
       সিস্টেম                     অ্যাসেম্বলার)                • সিকিউরিটি মনিটর
     • নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট      • প্রোগ্রামিং এডিটর ও টুলস
       সিস্টেম                  • CASE টুলস
    

    ১. সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম

    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ডেটা ও নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।

    • অপারেটিং সিস্টেম: পুরো কম্পিউটার পরিচালনা করে। যেমন: Windows, Linux।
    • ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS): ডেটাবেজ তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিচালনা করে। যেমন: Oracle, MySQL।
    • নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম: নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলোর যোগাযোগ ও রিসোর্স শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে।

    ২. সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম

    নতুন সফটওয়্যার তৈরিতে প্রোগ্রামারদের সাহায্য করে।

    • ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেটর: প্রোগ্রামকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে। যেমন: কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার, অ্যাসেম্বলার।
    • প্রোগ্রামিং এডিটর ও টুলস: প্রোগ্রাম লেখা ও সংশোধনের সুবিধা দেয়। যেমন: VS Code।
    • CASE (Computer Aided Software Engineering): সফটওয়্যার নকশা ও তৈরির কাজ স্বয়ংক্রিয় করে।

    ৩. সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম

    কম্পিউটারকে সুষ্ঠুভাবে চালাতে সহায়তা করে।

    • সিস্টেম ইউটিলিটি: অ্যান্টিভাইরাস, ডিস্ক ক্লিনআপ, ব্যাকআপ, ফাইল সংকোচন।
    • সিস্টেম পারফরম্যান্স মনিটর: প্রসেসর ও মেমরির ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে। যেমন: Task Manager।
    • সিস্টেম সিকিউরিটি মনিটর: অননুমোদিত প্রবেশ ও ঝুঁকি শনাক্ত করে।

    উপসংহার: এই তিন ধরনের সিস্টেম সফটওয়্যার একসাথে কম্পিউটার পরিচালনা, নতুন সফটওয়্যার তৈরি এবং কম্পিউটারকে নিরাপদ ও দক্ষ রাখার কাজ করে।

  8. ১.৪-র-৮★★বই: পৃষ্ঠা ৬৭

    ৮.সিঙ্গেল ইউজার ও মাল্টি-ইউজার অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

    উত্তর

    সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেম: যে অপারেটিং সিস্টেমে একসময়ে মাত্র একজন ব্যবহারকারী কাজ করতে পারেন। যেমন: MS-DOS, Windows 98।

    মাল্টি ইউজার অপারেটিং সিস্টেম: যে অপারেটিং সিস্টেমে একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী আলাদা টার্মিনাল থেকে কাজ করতে পারেন। যেমন: UNIX, Linux।

       সিঙ্গেল ইউজার                         মাল্টি ইউজার
                                        👤 টার্মিনাল-১ ─┐
       👤 ──► 🖥 কম্পিউটার                 👤 টার্মিনাল-২ ─┼─► 🖥 সার্ভার
                                        👤 টার্মিনাল-৩ ─┘
    

    পার্থক্য:

    বিষয়সিঙ্গেল ইউজার OSমাল্টি ইউজার OS
    ১. ব্যবহারকারীএকসময়ে একজনএকসাথে একাধিক
    ২. রিসোর্সসব রিসোর্স একজনের জন্যরিসোর্স সবার মধ্যে ভাগ হয়
    ৩. ব্যবহারের ক্ষেত্রব্যক্তিগত কম্পিউটার (PC)সার্ভার, মেইনফ্রেম, বড় প্রতিষ্ঠান
    ৪. জটিলতাসরলজটিল
    ৫. নিরাপত্তাতুলনামূলক কম নিরাপত্তা ব্যবস্থাপ্রত্যেকের ডেটা আলাদা রাখতে শক্তিশালী নিরাপত্তা
    ৬. হার্ডওয়্যারসাধারণ হার্ডওয়্যারেই চলেশক্তিশালী হার্ডওয়্যার লাগে
    ৭. খরচকমবেশি
    ৮. উদাহরণMS-DOS, Windows 95/98UNIX, Linux, Windows Server
  9. ১.৪-র-৯★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৮

    ৯.টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম ও রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

    উত্তর

    টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম: যে অপারেটিং সিস্টেমে প্রসেসরের সময় ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে পালাক্রমে একাধিক ব্যবহারকারী বা প্রোগ্রামকে দেওয়া হয়। যেমন: UNIX।

    রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম: যে অপারেটিং সিস্টেম ইনপুট পাওয়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট ও খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল দেয়। যেমন: বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

     টাইম শেয়ারিং:  | ইউজার-১ | ইউজার-২ | ইউজার-৩ | ইউজার-১ | ... (পালাক্রমে)
    
     রিয়েল টাইম:   সেন্সর ইনপুট ──► [তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া] ──► সাথে সাথে আউটপুট
    

    পার্থক্য:

    বিষয়টাইম শেয়ারিং OSরিয়েল টাইম OS
    ১. মূল উদ্দেশ্যঅনেক ব্যবহারকারীকে প্রসেসর ভাগ করে দেওয়ানির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত সাড়া দেওয়া
    ২. সাড়া দেওয়ার সময়কিছুটা দেরি হলেও সমস্যা নেইদেরি হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে; সময় কঠোরভাবে নির্দিষ্ট
    ৩. ব্যবহারকারীএকাধিক ব্যবহারকারী একসাথেসাধারণত নির্দিষ্ট একটি কাজের জন্য
    ৪. কাজের ধরনসাধারণ কাজ (লেখা, হিসাব, প্রোগ্রামিং)জরুরি নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ
    ৫. সময় বণ্টনপ্রতিটি কাজকে সমান ছোট সময় দেয়জরুরি কাজকে অগ্রাধিকার দেয়
    ৬. ব্যবহারকারীর যোগাযোগব্যবহারকারী সরাসরি কাজ করেনঅনেক সময় সেন্সর থেকে স্বয়ংক্রিয় ইনপুট
    ৭. উদাহরণUNIX, Linux সার্ভারবিমান নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালের ICU, রোবট, ATM
  10. ১.৪-র-১০বই: পৃষ্ঠা ৬৮

    ১০.বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের ব্যবহারিক ক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। নিচে এদের ব্যবহারিক ক্ষেত্র বর্ণনা করা হলো:

                              অপারেটিং সিস্টেম
                                     │
         ┌───────────────┬───────────┼─────────────┬──────────────┐
     ইন্টারফেস         ব্যবহারকারী     কাজের ধরন       প্রক্রিয়াকরণ      নেটওয়ার্ক
     অনুযায়ী          অনুযায়ী        অনুযায়ী          পদ্ধতি অনুযায়ী   অনুযায়ী
         │               │              │                │             │
     • বর্ণভিত্তিক     • সিঙ্গেল ইউজার  • সিঙ্গেল টাস্কিং  • ব্যাচ          • নেটওয়ার্ক OS
       (CUI)          • মাল্টি ইউজার   • মাল্টি টাস্কিং   • টাইম শেয়ারিং   • ডিস্ট্রিবিউটেড
     • চিত্রভিত্তিক                                   • রিয়েল টাইম       OS
       (GUI)
    

    ১. সিঙ্গেল ইউজার OS: বাসা ও অফিসের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে, যেখানে একজন মানুষ কাজ করেন।

    ২. মাল্টি ইউজার OS: ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, এয়ারলাইনসের টিকিট বুকিং ও বড় প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে, যেখানে একসাথে অনেকে কাজ করেন।

    ৩. মাল্টি টাস্কিং OS: অফিস ও বাসার কম্পিউটারে একসাথে গান শোনা, টাইপ করা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মতো কাজে।

    ৪. ব্যাচ প্রসেসিং OS: ব্যাংকের মাসিক হিসাব, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল তৈরি এবং পরীক্ষার ফলাফল প্রক্রিয়াকরণে।

    ৫. টাইম শেয়ারিং OS: বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব ও বড় সার্ভারে, যেখানে অনেক ব্যবহারকারী একটি কম্পিউটার ভাগ করে ব্যবহার করেন।

    ৬. রিয়েল টাইম OS: বিমান ও রেল নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালের ICU-তে রোগী পর্যবেক্ষণ, শিল্পকারখানার রোবট, ATM ও গাড়ির এয়ারব্যাগ ব্যবস্থায়।

    ৭. নেটওয়ার্ক OS: অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাইবার ক্যাফেতে, যেখানে কম্পিউটারগুলো নেটওয়ার্কে যুক্ত থেকে ফাইল ও প্রিন্টার শেয়ার করে।

    ৮. ডিস্ট্রিবিউটেড OS: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বড় ডেটা প্রক্রিয়াকরণে, যেখানে অনেক কম্পিউটার মিলে একটি বড় কাজ করে।

    ৯. মোবাইল OS: স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও স্মার্টওয়াচে।

    অপারেটিং সিস্টেমব্যবহারিক ক্ষেত্রউদাহরণ
    সিঙ্গেল ইউজারব্যক্তিগত কম্পিউটারMS-DOS, Windows 98
    মাল্টি ইউজারব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভারUNIX, Linux
    ব্যাচবেতন ও বিল তৈরিপুরনো IBM মেইনফ্রেম
    টাইম শেয়ারিংকম্পিউটার ল্যাব, সার্ভারUNIX
    রিয়েল টাইমবিমান নিয়ন্ত্রণ, ICU, রোবটVxWorks, RTLinux
    নেটওয়ার্কঅফিস নেটওয়ার্কWindows Server
    মোবাইলস্মার্টফোনAndroid, iOS
  11. ১.৪-র-১১★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৯

    ১১.বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

    উত্তর

    বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেমের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। নিচে প্রধান ধরনগুলোর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:

                              অপারেটিং সিস্টেম
                                     │
         ┌───────────────┬───────────┼─────────────┬──────────────┐
     ইন্টারফেস         ব্যবহারকারী     কাজের ধরন       প্রক্রিয়াকরণ      নেটওয়ার্ক
     অনুযায়ী          অনুযায়ী        অনুযায়ী          পদ্ধতি অনুযায়ী   অনুযায়ী
         │               │              │                │             │
     • বর্ণভিত্তিক     • সিঙ্গেল ইউজার  • সিঙ্গেল টাস্কিং  • ব্যাচ          • নেটওয়ার্ক OS
       (CUI)          • মাল্টি ইউজার   • মাল্টি টাস্কিং   • টাইম শেয়ারিং   • ডিস্ট্রিবিউটেড
     • চিত্রভিত্তিক                                   • রিয়েল টাইম       OS
       (GUI)
    

    ১. বর্ণভিত্তিক (CUI) OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • কী-বোর্ডে কমান্ড টাইপ করে কাজ করতে হয়।
    • কম মেমরি লাগে এবং দ্রুত চলে।
    • কমান্ড মুখস্থ রাখতে হয়, তাই ব্যবহার কঠিন। যেমন: MS-DOS।

    ২. চিত্রভিত্তিক (GUI) OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • আইকন, মেনু, উইন্ডো ও মাউস দিয়ে কাজ করা যায়।
    • ব্যবহার সহজ; নতুনরাও দ্রুত শিখতে পারে।
    • বেশি মেমরি ও শক্তিশালী হার্ডওয়্যার লাগে। যেমন: Windows।

    ৩. সিঙ্গেল ইউজার OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • একসময়ে একজন ব্যবহারকারী।
    • সরল ও কম খরচের।

    ৪. মাল্টি ইউজার OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • একসাথে অনেক ব্যবহারকারী।
    • রিসোর্স ভাগাভাগি ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যেমন: UNIX।

    ৫. মাল্টি টাস্কিং OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো যায়।
    • সময় বাঁচে ও কাজের দক্ষতা বাড়ে।

    ৬. ব্যাচ OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • একই ধরনের কাজ দল করে ক্রমানুসারে প্রক্রিয়া করে।
    • কাজ চলাকালে ব্যবহারকারীর সরাসরি যোগাযোগ নেই।
    • বড় ও পুনরাবৃত্ত কাজের জন্য উপযোগী।

    ৭. টাইম শেয়ারিং OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • প্রসেসরের সময় ছোট ভাগে ভাগ করে পালাক্রমে দেয়।
    • প্রত্যেক ব্যবহারকারী দ্রুত সাড়া পান।

    ৮. রিয়েল টাইম OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • নির্দিষ্ট ও খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিশ্চিত সাড়া দেয়।
    • জরুরি কাজকে অগ্রাধিকার দেয়; অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।

    ৯. নেটওয়ার্ক OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • নেটওয়ার্কে ফাইল, প্রিন্টার ও রিসোর্স শেয়ার করা যায়।
    • কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবহারকারী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা।
    ধরনপ্রধান বৈশিষ্ট্য এক কথায়
    CUIকমান্ড টাইপ করে কাজ
    GUIআইকন ও মাউস দিয়ে কাজ
    মাল্টি ইউজারঅনেকে একসাথে
    মাল্টি টাস্কিংঅনেক কাজ একসাথে
    ব্যাচদল বেঁধে ক্রমানুসারে কাজ
    টাইম শেয়ারিংসময় ভাগাভাগি
    রিয়েল টাইমতাৎক্ষণিক সাড়া
    নেটওয়ার্করিসোর্স শেয়ার