ICTebook
← কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১

কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১ · অধ্যায়-১ : কম্পিউটার সিস্টেম ও হার্ডওয়্যার

অধ্যায় ১.৫: কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার

তারকা অনুযায়ী প্রশ্ন বাছাই

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১২টি)

  1. ১.৫-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ১.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    ব্যবহারকারী তার দৈনন্দিন নির্দিষ্ট কাজ বা সমস্যা সমাধানের জন্য যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে।

    এগুলো সিস্টেম সফটওয়্যারের (অপারেটিং সিস্টেমের) ওপর চলে। যেমন চিঠি লেখা, হিসাব রাখা, ছবি সম্পাদনা, গান শোনা, প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার আছে।

    উদাহরণ: MS Word, MS Excel, PowerPoint, Photoshop, Google Chrome।

  2. ১.৫-সং-২বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ২.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার কয় প্রকার ও কী কী?

    উত্তর

    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার প্রধানত তিন প্রকার:

    1. প্যাকেজ সফটওয়্যার: অনেক ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হয়। যেমন: MS Word, Excel, PowerPoint।
    2. কাস্টমাইজড সফটওয়্যার: নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে তৈরি করা হয়। যেমন: ব্যাংকের হিসাব সফটওয়্যার।
    3. কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ: যা দিয়ে প্রোগ্রাম লেখা হয়। যেমন: C, Java, Python।
                  অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
                            │
          ┌─────────────────┼─────────────────┐
      প্যাকেজ           কাস্টমাইজড          কম্পিউটার
      সফটওয়্যার          সফটওয়্যার          ল্যাঙ্গুয়েজ
    
  3. ১.৫-সং-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ৩.ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    কম্পিউটারে লেখা টাইপ, সম্পাদনা (এডিট), সাজানো (ফরম্যাট), সংরক্ষণ ও প্রিন্ট করার জন্য যে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার হয়, তাকে ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার বা ওয়ার্ড প্রসেসর বলে।

    এর সাহায্যে চিঠি, দরখাস্ত, রিপোর্ট, প্রশ্নপত্র, বই ইত্যাদি সহজে তৈরি করা যায়। লেখার ফন্ট, রং, আকার বদলানো, ছবি ও টেবিল যোগ করা এবং বানান পরীক্ষা করা যায়।

    উদাহরণ: MS Word, LibreOffice Writer, Google Docs, WordPad।

  4. ১.৫-সং-৪★★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ৪.স্প্রেডশিট সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    সারি (Row) ও কলামে (Column) সাজানো ঘরে (সেলে) ডেটা রেখে হিসাব-নিকাশ, সূত্র প্রয়োগ, বিশ্লেষণ এবং চার্ট বা গ্রাফ তৈরির জন্য যে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার হয়, তাকে স্প্রেডশিট সফটওয়্যার বলে।

    এতে একটি ঘরের মান বদলালে সূত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব হিসাব নিজে থেকেই বদলে যায়। বেতন, ফলাফল, বাজেট, হিসাবরক্ষণে এটি খুব কাজের।

    উদাহরণ: MS Excel, LibreOffice Calc, Google Sheets, Lotus 1-2-3।

  5. ১.৫-সং-৫★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ৫.প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    ছবি, লেখা, চার্ট, শব্দ, ভিডিও ও অ্যানিমেশন যুক্ত করে স্লাইড তৈরি করে কোনো বিষয় দর্শকদের সামনে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের জন্য যে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার হয়, তাকে প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার বলে।

    স্লাইডগুলো প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় একটির পর একটি দেখানো যায়। ক্লাস, সভা, সেমিনার, ব্যবসায়িক উপস্থাপনায় এটি ব্যবহার হয়।

    উদাহরণ: MS PowerPoint, LibreOffice Impress, Google Slides, Prezi।

  6. ১.৫-সং-৬★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ৬.স্প্রেডশিট কাকে বলে?

    উত্তর

    Spread অর্থ ছড়ানো আর Sheet অর্থ পাতা; অর্থাৎ স্প্রেডশিট হলো ছড়ানো বড় হিসাবের খাতা। কম্পিউটারে সারি ও কলামে বিভক্ত ঘরযুক্ত যে বড় পাতায় ডেটা রেখে হিসাব-নিকাশ করা হয়, তাকে স্প্রেডশিট বা ওয়ার্কশিট বলে।

    সারি ও কলাম যেখানে মেলে, সেই ঘরকে সেল (Cell) বলে। প্রতিটি সেলের একটি ঠিকানা থাকে, যেমন B2।

            A            B          C          D
       ┌──────────┬──────────┬──────────┬──────────┐
     1 │ নাম       │ বাংলা     │ ইংরেজি    │ মোট       │
       ├──────────┼──────────┼──────────┼──────────┤
     2 │ রহিম      │   75     │   80     │ =B2+C2   │ ← সূত্র
       ├──────────┼──────────┼──────────┼──────────┤
     3 │ করিম      │   68     │   72     │  140     │
       └──────────┴──────────┴──────────┴──────────┘
       সারি (Row) = 1, 2, 3   কলাম (Column) = A, B, C   সেল = B2
    
  7. ১.৫-সং-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ৭.কয়েকটি Spreadsheet প্রোগ্রামের নাম লেখ।

    উত্তর

    কয়েকটি স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের নাম:

    ক্রমস্প্রেডশিট প্রোগ্রামনির্মাতা
    ১Microsoft ExcelMicrosoft
    ২LibreOffice CalcThe Document Foundation (বিনামূল্যে)
    ৩Google SheetsGoogle (অনলাইন)
    ৪Apple NumbersApple
    ৫Lotus 1-2-3Lotus (পুরনো)
    ৬VisiCalcপ্রথম স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম (১৯৭৯)
    ৭WPS SpreadsheetsKingsoft
  8. ১.৫-সং-৮★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ৮.ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কী?

    উত্তর

    ডেটাবেজ: পরস্পর সম্পর্কযুক্ত তথ্য বা ডেটার সুশৃঙ্খল সংগ্রহকে ডেটাবেজ বলে। যেমন: একটি কলেজের সব শিক্ষার্থীর নাম, রোল, ঠিকানা, ফলাফল।

    ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS): যে সফটওয়্যারের সাহায্যে ডেটাবেজ তৈরি, সংরক্ষণ, হালনাগাদ, খোঁজা, সাজানো ও রিপোর্ট তৈরি করা হয়, তাকে ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS) বলে।

    এর মাধ্যমে বিপুল তথ্য থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুব দ্রুত খুঁজে বের করা যায়। ব্যাংক, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, টিকিট বুকিংয়ে এটি ব্যবহার হয়।

    উদাহরণ: MS Access, MySQL, Oracle, SQL Server।

  9. ১.৫-সং-৯বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ৯.গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রোগ্রাম কী?

    উত্তর

    কম্পিউটারে ছবি আঁকা, ছবি সম্পাদনা এবং লোগো, পোস্টার, ব্যানার, কার্ড, বিজ্ঞাপনের নকশা তৈরির জন্য ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারকে গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রোগ্রাম বলে।

    এর মাধ্যমে ছবির রং, আকার, উজ্জ্বলতা বদলানো, ছবির অংশ কাটা-জোড়া, লেখা ও নানা ইফেক্ট যোগ করা যায়।

    উদাহরণ:

    • Adobe Photoshop: ছবি সম্পাদনা
    • Adobe Illustrator ও CorelDRAW: লোগো ও ভেক্টর ডিজাইন
    • Canva: অনলাইনে সহজ ডিজাইন
    • AutoCAD: প্রকৌশল নকশা
  10. ১.৫-সং-১০বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ১০.মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট কী?

    উত্তর

    মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট (Microsoft PowerPoint) হলো মাইক্রোসফট কোম্পানির তৈরি একটি জনপ্রিয় প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার। এটি MS Office প্যাকেজের অংশ।

    এর সাহায্যে লেখা, ছবি, চার্ট, শব্দ, ভিডিও ও অ্যানিমেশনসহ স্লাইড তৈরি করে কোনো বিষয় আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়। স্লাইডগুলোতে ট্রানজিশন ও অ্যানিমেশন দিয়ে প্রজেক্টরে স্লাইড শো আকারে দেখানো যায়। পাওয়ার পয়েন্ট ফাইলের এক্সটেনশন .pptx।

  11. ১.৫-সং-১১বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ১১.কাস্টমাইজড প্রোগ্রাম কাকে বলে?

    উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা সফটওয়্যারকে কাস্টমাইজড সফটওয়্যার বলে।

    এটি শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের কাজের সাথে মিল রেখে তৈরি হয়, তাই অন্য কারো কাজে সাধারণত লাগে না। প্রতিষ্ঠান নিজেই প্রোগ্রামার দিয়ে তৈরি করতে পারে, অথবা সফটওয়্যার কোম্পানিকে দিয়ে তৈরি করিয়ে নিতে পারে।

    উদাহরণ: ব্যাংকের হিসাব সফটওয়্যার, হাসপাতালের রোগী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, স্কুলের ফলাফল তৈরির সফটওয়্যার।

  12. ১.৫-সং-১২★★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ১২.প্যাকেজ সফটওয়্যার বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    যে সফটওয়্যার কোনো সফটওয়্যার কোম্পানি নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে এবং যে কেউ কিনে ব্যবহার করতে পারে, তাকে প্যাকেজ সফটওয়্যার বলে।

    এগুলো অনেক ব্যবহারকারীর সাধারণ প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি, তাই তৈরি অবস্থায় কিনে সরাসরি কাজ শুরু করা যায়।

    উদাহরণ:

    • MS Word: লেখালেখি বা ওয়ার্ড প্রসেসিং
    • MS Excel: হিসাব বা স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস
    • MS Access: ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা
    • PowerPoint: প্রেজেন্টেশন তৈরি

রচনামূলক প্রশ্ন (১২টি)

  1. ১.৫-র-১★★বই: পৃষ্ঠা ৭২

    ১.ওয়ার্ড প্রসেসরের মৌলিক কার্যাবলি বর্ণনা কর।

    • অথবা, ওয়ার্ড প্রসেসিং-এর মৌলিক কার্যাবলি বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৩]

    উত্তর

    ওয়ার্ড প্রসেসর: কম্পিউটারে লেখা টাইপ, সম্পাদনা, ফরম্যাট, সংরক্ষণ ও প্রিন্ট করার সফটওয়্যারকে ওয়ার্ড প্রসেসর বলে। যেমন: MS Word।

     ┌───────────────────────────────────────────────┐
     │ File  Home  Insert  Layout  Review  View      │ ← মেনু/রিবন
     │ [B] [I] [U]  Font▾  Size▾  ≡ ≡ ≡   🖼  ▦      │ ← টুলস
     ├───────────────────────────────────────────────┤
     │                                               │
     │   বরাবর,                                      │ ← লেখার জায়গা
     │   অধ্যক্ষ, ............ কলেজ।                  │   (Document)
     │                                               │
     ├───────────────────────────────────────────────┤
     │ Page 1 of 1     Words: 25     বাংলা             │ ← স্ট্যাটাস বার
     └───────────────────────────────────────────────┘
             চিত্র: ওয়ার্ড প্রসেসরের পর্দা
    

    ওয়ার্ড প্রসেসরের মৌলিক কার্যাবলি:

    ১. লেখা টাইপ করা (Typing): কী-বোর্ড দিয়ে বাংলা ও ইংরেজিসহ যেকোনো ভাষায় লেখা যায়।

    ২. সম্পাদনা (Editing): লেখা যোগ, মুছে ফেলা, কাট, কপি, পেস্ট ও স্থানান্তর করা যায়। Undo দিয়ে ভুল সংশোধন করা যায়।

    ৩. ফরম্যাটিং (Formatting): ফন্টের ধরন, আকার, রং বদলানো; বোল্ড, ইটালিক, আন্ডারলাইন; বাম-ডান-মাঝে সাজানো (Alignment); লাইনের ফাঁকা; বুলেট ও নম্বর দেওয়া যায়।

    ৪. পেজ সেটআপ: কাগজের আকার (A4, Legal), মার্জিন, পৃষ্ঠার দিক (Portrait/Landscape), হেডার-ফুটার ও পৃষ্ঠা নম্বর যোগ করা যায়।

    ৫. টেবিল, ছবি ও চার্ট যোগ: লেখার মধ্যে টেবিল, ছবি, আকৃতি (Shape), চার্ট যোগ করা যায়।

    ৬. বানান ও ব্যাকরণ পরীক্ষা: ভুল বানানের নিচে লাল দাগ দিয়ে দেখায় এবং সঠিক বানান প্রস্তাব করে।

    ৭. খোঁজা ও প্রতিস্থাপন (Find & Replace): কোনো শব্দ খুঁজে বের করা এবং একসাথে বদলে দেওয়া যায়।

    ৮. মেইল মার্জ (Mail Merge): একই চিঠি অনেকের নাম-ঠিকানাসহ একসাথে তৈরি করা যায়।

    ৯. সংরক্ষণ ও খোলা: ফাইল সেভ করে রাখা এবং পরে খুলে আবার কাজ করা যায়।

    ১০. প্রিন্ট: প্রিন্টের আগে কেমন দেখাবে (Print Preview) দেখে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কপি প্রিন্ট করা যায়।

    উপসংহার: ওয়ার্ড প্রসেসর হাতে লেখা ও টাইপরাইটারের তুলনায় অনেক দ্রুত, নির্ভুল ও সুন্দরভাবে লেখার কাজ করার সুযোগ দেয়।

  2. ১.৫-র-২★★বই: পৃষ্ঠা ৭২

    ২.স্প্রেডশিট সফটওয়্যারের মৌলিক কার্যাবলি বর্ণনা কর।

    উত্তর

    স্প্রেডশিট সফটওয়্যার: সারি ও কলামে সাজানো সেলে ডেটা রেখে হিসাব, বিশ্লেষণ ও চার্ট তৈরির সফটওয়্যারকে স্প্রেডশিট সফটওয়্যার বলে। যেমন: MS Excel।

            A            B          C          D
       ┌──────────┬──────────┬──────────┬──────────┐
     1 │ নাম       │ বাংলা     │ ইংরেজি    │ মোট       │
       ├──────────┼──────────┼──────────┼──────────┤
     2 │ রহিম      │   75     │   80     │ =B2+C2   │ ← সূত্র
       ├──────────┼──────────┼──────────┼──────────┤
     3 │ করিম      │   68     │   72     │  140     │
       └──────────┴──────────┴──────────┴──────────┘
       সারি (Row) = 1, 2, 3   কলাম (Column) = A, B, C   সেল = B2
    

    স্প্রেডশিট সফটওয়্যারের মৌলিক কার্যাবলি:

    ১. ডেটা এন্ট্রি: সেলে সংখ্যা, লেখা, তারিখ ইত্যাদি সহজে লেখা যায়।

    ২. হিসাব-নিকাশ (Calculation): যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগসহ যেকোনো হিসাব করা যায়। যেমন: =B2+C2।

    ৩. সূত্র ও ফাংশন (Formula & Function): তৈরি করা ফাংশন দিয়ে জটিল হিসাব দ্রুত করা যায়। যেমন: =SUM(), =AVERAGE(), =MAX(), =MIN(), =IF()।

    ৪. স্বয়ংক্রিয় পুনঃহিসাব: কোনো সেলের মান বদলালে সংশ্লিষ্ট সব ফলাফল নিজে থেকেই বদলে যায়।

    ৫. চার্ট ও গ্রাফ তৈরি: ডেটা থেকে কলাম, বার, লাইন, পাই চার্ট তৈরি করে সহজে তুলনা করা যায়।

    ৬. ডেটা সাজানো (Sort): নাম অনুযায়ী বর্ণানুক্রমে বা নম্বর অনুযায়ী বড় থেকে ছোট সাজানো যায়।

    ৭. ফিল্টার (Filter): নির্দিষ্ট শর্তের ডেটা আলাদা করে দেখা যায় (যেমন শুধু A+ পাওয়া শিক্ষার্থী)।

    ৮. ফরম্যাটিং: সেলের রং, বর্ডার, সংখ্যার ধরন (টাকা, শতাংশ, তারিখ) বদলানো যায়।

    ৯. একাধিক ওয়ার্কশিট: একটি ফাইলে (ওয়ার্কবুক) অনেকগুলো শিট রেখে আলাদা আলাদা হিসাব করা যায়।

    ১০. প্রিন্ট ও সংরক্ষণ: হিসাবের টেবিল ও চার্ট সংরক্ষণ ও প্রিন্ট করা যায়।

    উপসংহার: স্প্রেডশিট সফটওয়্যার ব্যবসা, অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের কাজকে দ্রুত, নির্ভুল ও সহজ করেছে।

  3. ১.৫-র-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৭৩

    ৩.প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের মৌলিক কার্যাবলি বর্ণনা কর।

    উত্তর

    প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার: লেখা, ছবি, চার্ট, শব্দ ও অ্যানিমেশন দিয়ে স্লাইড তৈরি করে কোনো বিষয় দর্শকদের সামনে উপস্থাপনের সফটওয়্যারকে প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার বলে। যেমন: MS PowerPoint।

     ┌─────────┬─────────────────────────────────────┐
     │ স্লাইড ১ │                                     │
     │ ┌─────┐ │      কম্পিউটারের প্রজন্ম              │ ← শিরোনাম
     │ └─────┘ │                                     │
     │ স্লাইড ২ │   • প্রথম প্রজন্ম – ভ্যাকুয়াম টিউব      │ ← বুলেট লেখা
     │ ┌─────┐ │   • দ্বিতীয় প্রজন্ম – ট্রানজিস্টর       │
     │ └─────┘ │                      🖼 ছবি          │
     │ স্লাইড ৩ │                                     │
     └─────────┴─────────────────────────────────────┘
       স্লাইড তালিকা           মূল স্লাইড
    

    প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের মৌলিক কার্যাবলি:

    ১. স্লাইড তৈরি: নতুন স্লাইড যোগ করা, বিভিন্ন লেআউট (শিরোনাম, লেখা, ছবির জায়গা) বেছে নেওয়া যায়।

    ২. লেখা যোগ ও ফরম্যাট: শিরোনাম, বুলেট পয়েন্ট লেখা এবং ফন্ট, রং, আকার বদলানো যায়।

    ৩. ছবি ও মাল্টিমিডিয়া যোগ: ছবি, চার্ট, টেবিল, শব্দ (অডিও) ও ভিডিও যুক্ত করা যায়।

    ৪. ডিজাইন ও থিম: তৈরি করা থিম ও ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়ে সব স্লাইড সুন্দরভাবে সাজানো যায়।

    ৫. অ্যানিমেশন: স্লাইডের লেখা বা ছবিকে নড়াচড়া ও বিভিন্নভাবে আসার ইফেক্ট দেওয়া যায়।

    ৬. ট্রানজিশন: এক স্লাইড থেকে আরেক স্লাইডে যাওয়ার সময় বিশেষ ইফেক্ট দেওয়া যায়।

    ৭. স্লাইড শো: পুরো পর্দাজুড়ে প্রজেক্টরে স্লাইডগুলো একটির পর একটি দেখানো যায় (F5 চাপলে শুরু হয়)।

    ৮. স্পিকার নোট: উপস্থাপকের জন্য প্রতিটি স্লাইডের নিচে নোট রাখা যায়, যা দর্শক দেখেন না।

    ৯. সময় নির্ধারণ: প্রতিটি স্লাইড কতক্ষণ দেখাবে তা ঠিক করে স্বয়ংক্রিয় উপস্থাপনা করা যায়।

    ১০. প্রিন্ট ও শেয়ার: স্লাইড প্রিন্ট (হ্যান্ডআউট) করা, PDF বা ভিডিও হিসেবে সংরক্ষণ করা যায়।

    উপসংহার: প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার যেকোনো বিষয়কে সহজ, আকর্ষণীয় ও বোধগম্যভাবে উপস্থাপনের শক্তিশালী মাধ্যম।

  4. ১.৫-র-৪বই: পৃষ্ঠা ৭৩

    ৪.বিভিন্ন প্রকার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের নাম ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

    উত্তর

    ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি সফটওয়্যারকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে। নিচে বিভিন্ন প্রকার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের নাম ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:

                             অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
                                      │
            ┌─────────────────────────┼─────────────────────────┐
      প্যাকেজ সফটওয়্যার          কাস্টমাইজড সফটওয়্যার        কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ
            │                     (ব্যাংক, হাসপাতাল,          (C, Java, Python)
            │                      স্কুলের নিজস্ব সফটওয়্যার)
     ┌──────┬───────┬──────┼───────┬────────┐
    ওয়ার্ড   স্প্রেড-  প্রেজেন্- ডেটাবেজ  গ্রাফিক্স  মাল্টিমিডিয়া
    প্রসেসর  শিট    টেশন   (Access)  (Photoshop) (VLC)
    (Word)  (Excel) (PowerPoint)
    

    ১. ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার (MS Word, LibreOffice Writer, Google Docs)

    • লেখা টাইপ, সম্পাদনা ও ফরম্যাট করা যায়।
    • বানান পরীক্ষা, টেবিল ও ছবি যোগ এবং মেইল মার্জ করা যায়।

    ২. স্প্রেডশিট সফটওয়্যার (MS Excel, LibreOffice Calc, Google Sheets)

    • সারি-কলামে ডেটা রেখে সূত্র দিয়ে হিসাব করা যায়।
    • একটি মান বদলালে পুরো হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলায়; চার্ট তৈরি করা যায়।

    ৩. প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার (MS PowerPoint, Google Slides)

    • লেখা, ছবি, অ্যানিমেশনসহ স্লাইড তৈরি করা যায়।
    • প্রজেক্টরে স্লাইড শো দেখানো যায়।

    ৪. ডেটাবেজ সফটওয়্যার (MS Access, MySQL, Oracle)

    • বিপুল তথ্য সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
    • দ্রুত তথ্য খোঁজা, সাজানো ও রিপোর্ট তৈরি করা যায়।

    ৫. গ্রাফিক্স সফটওয়্যার (Adobe Photoshop, Illustrator, CorelDRAW)

    • ছবি সম্পাদনা, লোগো, পোস্টার ও নকশা তৈরি করা যায়।
    • স্তর (Layer) ও নানা ইফেক্ট ব্যবহার করা যায়।

    ৬. মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার (VLC, Windows Media Player, Adobe Premiere)

    • অডিও-ভিডিও চালানো ও সম্পাদনা করা যায়।

    ৭. ওয়েব ব্রাউজার (Google Chrome, Mozilla Firefox, Edge)

    • ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট দেখা, তথ্য খোঁজা ও ডাউনলোড করা যায়।

    ৮. হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার (Tally, QuickBooks)

    • আয়-ব্যয়, বেতন, স্টকের হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাখা যায়।

    ৯. যোগাযোগ সফটওয়্যার (Gmail, Zoom, WhatsApp)

    • ই-মেইল, চ্যাট ও ভিডিও কনফারেন্স করা যায়।
    সফটওয়্যারের ধরনউদাহরণমূল বৈশিষ্ট্য
    ওয়ার্ড প্রসেসরMS Wordলেখালেখি
    স্প্রেডশিটMS Excelহিসাব ও চার্ট
    প্রেজেন্টেশনPowerPointস্লাইড উপস্থাপন
    ডেটাবেজMS Accessতথ্য সংরক্ষণ ও খোঁজা
    গ্রাফিক্সPhotoshopছবি ও নকশা
    ব্রাউজারChromeইন্টারনেট ব্যবহার
  5. ১.৫-র-৫বই: পৃষ্ঠা ৭৪

    ৫.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।

    উত্তর

    ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি সফটওয়্যারকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে। এর শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:

                             অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
                                      │
            ┌─────────────────────────┼─────────────────────────┐
      প্যাকেজ সফটওয়্যার          কাস্টমাইজড সফটওয়্যার        কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ
            │                     (ব্যাংক, হাসপাতাল,          (C, Java, Python)
            │                      স্কুলের নিজস্ব সফটওয়্যার)
     ┌──────┬───────┬──────┼───────┬────────┐
    ওয়ার্ড   স্প্রেড-  প্রেজেন্- ডেটাবেজ  গ্রাফিক্স  মাল্টিমিডিয়া
    প্রসেসর  শিট    টেশন   (Access)  (Photoshop) (VLC)
    (Word)  (Excel) (PowerPoint)
    

    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

    ১. প্যাকেজ সফটওয়্যার (Package Software)

    সফটওয়্যার কোম্পানি অনেক ব্যবহারকারীর সাধারণ প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে। কিনে ইনস্টল করেই ব্যবহার করা যায়। প্যাকেজ সফটওয়্যারের প্রধান ধরন:

    • ওয়ার্ড প্রসেসর: লেখালেখি। যেমন: MS Word।
    • স্প্রেডশিট: হিসাব-নিকাশ। যেমন: MS Excel।
    • প্রেজেন্টেশন: স্লাইড তৈরি। যেমন: PowerPoint।
    • ডেটাবেজ: তথ্য ব্যবস্থাপনা। যেমন: MS Access।
    • গ্রাফিক্স: ছবি ও নকশা। যেমন: Photoshop।
    • মাল্টিমিডিয়া: অডিও-ভিডিও। যেমন: VLC Player।

    ২. কাস্টমাইজড সফটওয়্যার (Customized Software)

    নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যবহারকারীর বিশেষ প্রয়োজন অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে তৈরি করা সফটওয়্যার। এগুলো শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগে। উদাহরণ: ব্যাংকের লেনদেন সফটওয়্যার, হাসপাতালের রোগী ব্যবস্থাপনা, কলেজের ফলাফল ও ভর্তি সফটওয়্যার, রেলওয়ের টিকিট সফটওয়্যার।

    ৩. কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ (Computer Language)

    যে ভাষা ব্যবহার করে প্রোগ্রাম বা নতুন সফটওয়্যার লেখা হয়। উদাহরণ: C, C++, Java, Python, BASIC।

    ধরনকার জন্যউদাহরণ
    প্যাকেজসাধারণ সব ব্যবহারকারীMS Word, Excel
    কাস্টমাইজডনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানব্যাংক সফটওয়্যার
    কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজপ্রোগ্রামারC, Java, Python

    উপসংহার: কাজের ধরন অনুযায়ী সঠিক অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বেছে নিলে কাজ দ্রুত ও নির্ভুল হয়।

  6. ১.৫-র-৬বই: পৃষ্ঠা ৭৫

    ৬.স্প্রেডশিট/ওয়ার্কশিট অ্যানালাইসিস প্রোগ্রামের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

    উত্তর

    স্প্রেডশিট বা ওয়ার্কশিট অ্যানালাইসিস প্রোগ্রাম: সারি ও কলামে সাজানো সেলে ডেটা রেখে হিসাব ও বিশ্লেষণ করার প্রোগ্রাম। যেমন: MS Excel।

            A            B          C          D
       ┌──────────┬──────────┬──────────┬──────────┐
     1 │ নাম       │ বাংলা     │ ইংরেজি    │ মোট       │
       ├──────────┼──────────┼──────────┼──────────┤
     2 │ রহিম      │   75     │   80     │ =B2+C2   │ ← সূত্র
       ├──────────┼──────────┼──────────┼──────────┤
     3 │ করিম      │   68     │   72     │  140     │
       └──────────┴──────────┴──────────┴──────────┘
       সারি (Row) = 1, 2, 3   কলাম (Column) = A, B, C   সেল = B2
    

    স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের বৈশিষ্ট্য:

    1. সারি ও কলামের গঠন: ওয়ার্কশিট অসংখ্য সারি (1, 2, 3…) ও কলামে (A, B, C…) বিভক্ত। MS Excel-এ একটি শিটে প্রায় ১০ লক্ষের বেশি সারি ও ১৬ হাজারের বেশি কলাম থাকে।
    2. সেল ও সেল ঠিকানা: সারি ও কলামের মিলনস্থল সেল; প্রতিটির নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকে (যেমন C5)।
    3. সূত্র (Formula): = চিহ্ন দিয়ে সূত্র লিখে হিসাব করা যায়।
    4. বিল্ট-ইন ফাংশন: SUM, AVERAGE, MAX, MIN, COUNT, IF-এর মতো শত শত তৈরি ফাংশন আছে।
    5. স্বয়ংক্রিয় পুনঃহিসাব: কোনো মান বদলালে পুরো হিসাব নিজে থেকেই হালনাগাদ হয়।
    6. সূত্র কপি (AutoFill): একটি সূত্র টেনে নিচের সব সারিতে প্রয়োগ করা যায়।
    7. চার্ট ও গ্রাফ: ডেটা থেকে সহজে নানা ধরনের চার্ট তৈরি করা যায়।
    8. ডেটা সাজানো ও ফিল্টার: ডেটা বড় থেকে ছোট বা বর্ণানুক্রমে সাজানো এবং শর্ত দিয়ে খোঁজা যায়।
    9. একাধিক ওয়ার্কশিট: একটি ওয়ার্কবুকে অনেক শিট রাখা যায় এবং শিটগুলোর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করা যায়।
    10. ফরম্যাটিং: সংখ্যাকে টাকা, শতাংশ, তারিখ আকারে দেখানো এবং সেলের রং ও বর্ডার দেওয়া যায়।
    11. "What-if" বিশ্লেষণ: মান বদলে দেখে ভবিষ্যৎ ফলাফল অনুমান করা যায় (বাজেট পরিকল্পনা)।
  7. ১.৫-র-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৭৫

    ৭.প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের সুবিধাগুলো কী কী?

    উত্তর

    প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার: লেখা, ছবি, শব্দ ও অ্যানিমেশনসহ স্লাইড তৈরি করে কোনো বিষয় উপস্থাপনের সফটওয়্যার। যেমন: MS PowerPoint।

      বক্তা ──► 💻 PowerPoint ──► 📽 প্রজেক্টর ──► 🖼 বড় পর্দা ──► 👥 দর্শক
    

    প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের সুবিধা:

    1. আকর্ষণীয় উপস্থাপনা: ছবি, রং, অ্যানিমেশন ও ভিডিও থাকায় দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখা যায়।
    2. সহজে বোঝানো: জটিল বিষয় চার্ট, চিত্র ও বুলেট পয়েন্টে ভেঙে সহজে বোঝানো যায়।
    3. সময় সাশ্রয়: বোর্ডে বারবার লেখার দরকার হয় না; একবার তৈরি করে বারবার ব্যবহার করা যায়।
    4. মাল্টিমিডিয়া সুবিধা: একসাথে লেখা, ছবি, শব্দ ও ভিডিও দেখানো যায়।
    5. সহজে সম্পাদনা: যেকোনো সময় স্লাইড যোগ, বাদ বা পরিবর্তন করা যায়।
    6. বক্তার সহায়ক: স্পিকার নোট দেখে বক্তা গুছিয়ে কথা বলতে পারেন।
    7. বড় দর্শকের সামনে উপস্থাপন: প্রজেক্টরে বড় পর্দায় অনেক মানুষকে একসাথে দেখানো যায়।
    8. শেয়ার ও প্রিন্ট: ফাইল, PDF বা ভিডিও আকারে শেয়ার এবং হ্যান্ডআউট প্রিন্ট করা যায়।
    9. ব্যবহার সহজ: তৈরি থিম ও টেমপ্লেট থাকায় নতুনরাও সহজে সুন্দর প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারেন।
    10. বহুমুখী ব্যবহার: ক্লাস, সভা, সেমিনার, ব্যবসায়িক মিটিং, পণ্যের প্রচারে ব্যবহার করা যায়।
  8. ১.৫-র-৮★বই: পৃষ্ঠা ৭৬

    ৮.প্যাকেজ সফটওয়্যারের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ লেখ।

    উত্তর

    প্যাকেজ সফটওয়্যার: সফটওয়্যার কোম্পানি অনেক ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে, এমন সফটওয়্যার। যেমন: MS Word, Excel, Photoshop।

    সুবিধাঅসুবিধা
    ১. বাজারে সহজে পাওয়া যায় এবং কিনেই ব্যবহার করা যায়১. নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিশেষ সব চাহিদা পূরণ নাও করতে পারে
    ২. কাস্টমাইজড সফটওয়্যারের তুলনায় দাম কম২. ব্যবহারকারী নিজের মতো পরিবর্তন করতে পারেন না
    ৩. তৈরি করার সময় লাগে না, তাই সময় বাঁচে৩. অপ্রয়োজনীয় অনেক ফিচার থাকে, যা জায়গা নেয়
    ৪. বহুল ব্যবহৃত বলে ভুলত্রুটি কম; ভালোভাবে পরীক্ষিত৪. আসল (লাইসেন্স করা) সংস্করণের দাম অনেক সময় বেশি
    ৫. প্রস্তুতকারক নিয়মিত আপডেট ও সহায়তা দেয়৫. নতুন সংস্করণ এলে আবার কিনতে বা শিখতে হতে পারে
    ৬. ব্যবহারবিধি, বই ও প্রশিক্ষণ সহজলভ্য৬. পাইরেটেড কপি ব্যবহারে ভাইরাস ও আইনি ঝুঁকি থাকে
    ৭. প্রোগ্রামিং না জেনেও ব্যবহার করা যায়৭. কাজ বেশি জটিল হলে আলাদা সফটওয়্যার লাগতে পারে

    উপসংহার: সাধারণ কাজের জন্য প্যাকেজ সফটওয়্যার সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক, তবে বিশেষ প্রয়োজনে কাস্টমাইজড সফটওয়্যার দরকার হতে পারে।

  9. ১.৫-র-৯★★বই: পৃষ্ঠা ৭৬

    ৯.প্যাকেজ সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর।

    উত্তর

    প্যাকেজ সফটওয়্যার: নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা সফটওয়্যারকে প্যাকেজ সফটওয়্যার বলে। যেমন: MS Office (Word, Excel, PowerPoint, Access)।

                MS Office (একটি প্যাকেজ)
                           │
       ┌──────────┬────────┼─────────┬──────────┐
      Word      Excel   PowerPoint  Access    Outlook
     (লেখা)     (হিসাব)  (প্রেজেন্টেশন) (ডেটাবেজ)  (ই-মেইল)
    

    প্যাকেজ সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য:

    1. সবার জন্য তৈরি: অনেক ব্যবহারকারীর সাধারণ প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি হয়।
    2. বাজারে সহজলভ্য: দোকানে বা অনলাইনে কিনতে পাওয়া যায়।
    3. তৈরি অবস্থায় পাওয়া যায়: ইনস্টল করেই সাথে সাথে ব্যবহার করা যায়।
    4. প্রোগ্রামিং জ্ঞান লাগে না: সাধারণ ব্যবহারকারীও সহজে চালাতে পারেন।
    5. ব্যবহারবান্ধব: মেনু, আইকন ও সাহায্য (Help) থাকায় ব্যবহার সহজ।
    6. নির্দিষ্ট কাজভিত্তিক: প্রতিটি সফটওয়্যার নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য (লেখা, হিসাব, ছবি)।
    7. কম খরচ: অনেকে কেনেন বলে প্রতি ব্যবহারকারীর খরচ কম।
    8. নিয়মিত হালনাগাদ: প্রস্তুতকারক নতুন সংস্করণ ও আপডেট দেয়।
    9. লাইসেন্স: বৈধভাবে ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স কিনতে হয়।
    10. পরিবর্তন সীমিত: মূল প্রোগ্রাম ব্যবহারকারী পরিবর্তন করতে পারেন না।
  10. ১.৫-র-১০★বই: পৃষ্ঠা ৭৬

    ১০.অ্যাপ'স বলতে কী বুঝায়? এর উদাহরণ দাও।

    উত্তর

    অ্যাপস (Apps): App শব্দটি Application-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারে নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য তৈরি ছোট আকারের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারকে অ্যাপস বলে।

    সাধারণত মোবাইলের জন্য তৈরি অ্যাপগুলোকে মোবাইল অ্যাপ বলে। এগুলো Google Play Store (Android) বা App Store (iPhone) থেকে বিনামূল্যে বা টাকা দিয়ে ডাউনলোড করা যায়। অ্যাপগুলো ব্যবহার সহজ, আকারে ছোট এবং নির্দিষ্ট একটি কাজ দ্রুত করে।

     ┌──────────────────┐
     │ 📱 স্মার্টফোন       │
     │  🟢 WhatsApp      │
     │  🔵 Facebook      │
     │  🔴 YouTube       │
     │  🟣 bKash         │
     │  🗺 Google Maps   │
     └──────────────────┘
    

    অ্যাপসের প্রকারভেদ ও উদাহরণ:

    ধরনউদাহরণ
    যোগাযোগWhatsApp, Messenger, Imo
    সামাজিক মাধ্যমFacebook, Instagram
    বিনোদনYouTube, Spotify
    আর্থিক লেনদেনbKash, Nagad, ব্যাংকের অ্যাপ
    শিক্ষা10 Minute School, Google Classroom
    মানচিত্র ও যাতায়াতGoogle Maps, Pathao, Uber
    অফিসMS Word, Google Docs, Excel অ্যাপ
    কেনাকাটাDaraz, Foodpanda

    অ্যাপের ধরন (প্রযুক্তি অনুযায়ী):

    1. নেটিভ অ্যাপ: নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি (Android বা iOS)।
    2. ওয়েব অ্যাপ: ব্রাউজারে চলে, ইনস্টল লাগে না (যেমন Google Docs)।
    3. হাইব্রিড অ্যাপ: দুটোর মিশ্রণ।

    উপসংহার: অ্যাপসের কারণে মোবাইল এখন হাতের মুঠোয় একটি ছোট কম্পিউটারে পরিণত হয়েছে।

  11. ১.৫-র-১১★বই: পৃষ্ঠা ৭৬

    ১১.Word processing বলতে কী বুঝায়? কয়েকটি ওয়ার্ড প্রসেসিং প্যাকেজ সফটওয়্যারের নাম লেখ।

    উত্তর

    ওয়ার্ড প্রসেসিং (Word Processing): কম্পিউটারের সাহায্যে লেখা তৈরি, সম্পাদনা, সাজানো (ফরম্যাট), সংরক্ষণ ও মুদ্রণ করার পুরো প্রক্রিয়াকে ওয়ার্ড প্রসেসিং বলে। যে সফটওয়্যার দিয়ে এ কাজ করা হয়, তাকে ওয়ার্ড প্রসেসর বলে।

    আগে টাইপরাইটারে লেখা হতো; একটি ভুল হলে পুরো পাতা আবার টাইপ করতে হতো। ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ে লেখা পর্দায় দেখে সহজে সংশোধন করা যায়, তারপর প্রিন্ট করা হয়।

      টাইপ ──► সম্পাদনা ──► ফরম্যাট ──► সংরক্ষণ ──► প্রিন্ট
     (লেখা)   (ভুল ঠিক)   (সাজানো)    (সেভ)      (ছাপা)
    

    ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের সুবিধা:

    • ভুল সহজে সংশোধন করা যায়, পুরো পাতা আবার লিখতে হয় না।
    • বানান পরীক্ষা, ছবি ও টেবিল যোগ করা যায়।
    • একবার লেখা ফাইল সংরক্ষণ করে বারবার ব্যবহার ও প্রিন্ট করা যায়।

    কয়েকটি ওয়ার্ড প্রসেসিং প্যাকেজ সফটওয়্যার:

    ক্রমসফটওয়্যারবিশেষত্ব
    ১Microsoft Wordসবচেয়ে জনপ্রিয়; MS Office-এর অংশ
    ২LibreOffice Writerবিনামূল্যের ওপেন সোর্স
    ৩Google Docsঅনলাইনে, একসাথে অনেকে কাজ করা যায়
    ৪WordPad / NotepadWindows-এর সাথে বিনামূল্যে আসে (সাধারণ লেখা)
    ৫WordPerfectপুরনো জনপ্রিয় ওয়ার্ড প্রসেসর
    ৬WordStarপ্রথম দিকের ওয়ার্ড প্রসেসর
    ৭Apple PagesApple কম্পিউটারের জন্য
    ৮WPS WriterKingsoft-এর তৈরি
  12. ১.৫-র-১২বই: পৃষ্ঠা ৭৬

    ১২.স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস প্রোগ্রামের ব্যবহারিক ক্ষেত্রগুলো লেখ।

    উত্তর

    স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস প্রোগ্রাম: সারি ও কলামে ডেটা রেখে হিসাব, বিশ্লেষণ ও চার্ট তৈরির প্রোগ্রাম। যেমন: MS Excel। হিসাব-নিকাশের প্রায় সব ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার হয়।

                        স্প্রেডশিটের ব্যবহারিক ক্ষেত্র
                                   │
       ┌──────────┬───────────┬────┴─────┬───────────┬───────────┐
     অফিস ও     শিক্ষা         ব্যাংক ও     ব্যবসায়       বিজ্ঞান ও    ব্যক্তিগত
     প্রশাসন     প্রতিষ্ঠান      আর্থিক      বাণিজ্য       গবেষণা      কাজ
    

    ব্যবহারিক ক্ষেত্রগুলো:

    1. অফিস ও প্রশাসন: কর্মচারীদের বেতন (Payroll), হাজিরা, ছুটির হিসাব রাখা।
    2. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: শিক্ষার্থীদের নম্বর যোগ করে গড়, GPA ও ফলাফল তৈরি; বেতন ও ফি-এর হিসাব।
    3. ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সুদের হিসাব, ঋণের কিস্তি, লেনদেনের বিবরণী তৈরি।
    4. ব্যবসায়-বাণিজ্য: ক্রয়-বিক্রয়, লাভ-ক্ষতি, মজুত পণ্যের (স্টক) হিসাব ও ইনভয়েস তৈরি।
    5. বাজেট প্রণয়ন: সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের বাজেট ও পরিকল্পনা।
    6. হিসাবরক্ষণ (Accounting): খতিয়ান, রেওয়ামিল ও আর্থিক বিবরণী তৈরি।
    7. বিজ্ঞান ও প্রকৌশল: পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ, পরিসংখ্যান ও গ্রাফ তৈরি।
    8. পরিসংখ্যান ও জরিপ: জরিপের তথ্য সাজানো, গড়, শতাংশ বের করা ও চার্ট তৈরি।
    9. ব্যক্তিগত কাজ: সংসারের মাসিক খরচ, সঞ্চয় ও কেনাকাটার হিসাব।
    10. ডেটা তালিকা: ঠিকানা, ফোন নম্বর, পণ্যের তালিকা সংরক্ষণ ও সাজানো।
    ক্ষেত্রউদাহরণ
    শিক্ষাফলাফল ও GPA তৈরি
    অফিসবেতন শিট
    ব্যাংকসুদ ও কিস্তির হিসাব
    ব্যবসালাভ-ক্ষতি ও স্টক
    ব্যক্তিগতমাসিক খরচের হিসাব