ICTebook
← কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১

কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১ · অধ্যায়-১ : কম্পিউটার সিস্টেম ও হার্ডওয়্যার

অধ্যায় ১.৬: কম্পিউটার পেরিফেরালস

তারকা অনুযায়ী প্রশ্ন বাছাই

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১৮টি)

  1. ১.৬-সং-১★বই: পৃষ্ঠা ৭৮

    ১.স্পিচ রিকগনিশন কী? [বিএমটি-২৬]

    • অথবা, স্পিচ রিকগনিশন কী?
    • অথবা, Speech recognition-এর বর্ণনা দাও।

    উত্তর

    মানুষের মুখের কথা (কণ্ঠস্বর) শুনে কম্পিউটার তা বুঝতে পারা এবং লেখায় বা নির্দেশে রূপান্তর করার প্রযুক্তিকে স্পিচ রিকগনিশন (Speech Recognition) বলে।

    এতে মাইক্রোফোন দিয়ে কথা ইনপুট দেওয়া হয়। সফটওয়্যার শব্দতরঙ্গ বিশ্লেষণ করে শব্দ চিনে নেয় এবং সেটা লেখায় রূপ দেয় বা নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে। ফলে টাইপ না করেই কথা বলে লেখা বা কম্পিউটার চালানো যায়। দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য এটি খুব উপকারী।

     🎤 কথা ──► মাইক্রোফোন ──► স্পিচ রিকগনিশন সফটওয়্যার ──► 📝 লেখা / নির্দেশ
    

    উদাহরণ: Google Voice Typing, Siri, Google Assistant, Alexa।

  2. ১.৬-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৭৮

    ২.Scanner-এর কাজ কী? [বিএমটি-২০২৪]

    • অথবা, স্ক্যানারের ব্যবহার লেখ। [বিএমটি-২০০৯]
    • অথবা, স্ক্যানারের কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১২, ২০১৩, ২০১৪]
    • অথবা, স্ক্যানারের কাজ বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০১৬, ২০২৩, ২৫]

    উত্তর

    স্ক্যানার হলো একটি ইনপুট ডিভাইস, যা কাগজে থাকা ছবি বা লেখাকে ডিজিটাল ছবিতে রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠায়।

    স্ক্যানারের কাজ ও ব্যবহার:

    1. ছবি ডিজিটাল করা: কাগজের ছবি, আঁকা নকশা স্ক্যান করে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা।
    2. দলিল সংরক্ষণ: সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র, দলিল স্ক্যান করে PDF বা ছবি আকারে রাখা।
    3. লেখা রূপান্তর (OCR): OCR সফটওয়্যারের সাহায্যে ছাপা লেখাকে সম্পাদনাযোগ্য টেক্সটে রূপান্তর করা।
    4. অনলাইনে পাঠানো: স্ক্যান করা কাগজ ই-মেইল বা অনলাইন আবেদনে সংযুক্ত করা।
    5. পেপারলেস অফিস: অফিসের ফাইল স্ক্যান করে কাগজের ব্যবহার কমানো।
    6. প্রকাশনা ও ডিজাইন: বই, পত্রিকা ও বিজ্ঞাপনের জন্য ছবি সংগ্রহ।
    7. বারকোড পড়া: দোকানে বারকোড স্ক্যানার দিয়ে পণ্যের দাম বের করা।
  3. ১.৬-সং-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৭৮

    ৩.পূর্ণনাম লেখ : CPU, OMR, MICR, LED, ROM, OCR [বিএমটি-২০২৩, ২৪, ২৫]

    উত্তর

    সংক্ষিপ্ত রূপপূর্ণনাম
    CPUCentral Processing Unit
    OMROptical Mark Reader (Recognition)
    MICRMagnetic Ink Character Reader (Recognition)
    LEDLight Emitting Diode
    ROMRead Only Memory
    OCROptical Character Reader (Recognition)
  4. ১.৬-সং-৪★★বই: পৃষ্ঠা ৭৮

    ৪.OCR-এর পূর্ণনাম লেখ।

    • অথবা, OCR কী? [বিএমটি-২০১৫, ২৫]
    • অথবা, OCR কী? সংক্ষেপে লেখ।
    • অথবা, OCR বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২২]

    উত্তর

    OCR-এর পূর্ণনাম Optical Character Reader (বা Optical Character Recognition)।

    যে ইনপুট ডিভাইস বা প্রযুক্তি আলোর সাহায্যে ছাপা বা হাতে লেখা অক্ষর পড়ে সেগুলোকে কম্পিউটারের সম্পাদনাযোগ্য লেখায় (টেক্সটে) রূপান্তর করে, তাকে OCR বলে।

    সাধারণ স্ক্যানার কাগজকে শুধু ছবি হিসেবে নেয়, কিন্তু OCR প্রতিটি অক্ষর চিনে নেয়। ফলে আবার টাইপ না করেই বইয়ের পাতা বা চিঠির লেখা MS Word-এ এডিট করা যায়।

     📄 ছাপা কাগজ ──► স্ক্যানার + OCR ──► 📝 এডিটযোগ্য লেখা (Word)
    

    ব্যবহার: বই ও দলিল ডিজিটাল করা, পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র পড়া, ডাকঘরে ঠিকানা পড়া।

  5. ১.৬-সং-৫★বই: পৃষ্ঠা ৭৮

    ৫.OMR ও OCR-এর মধ্যে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০০৯, ১২, ১৪, ১৭, ১৮, ১৯, ২৫]

    উত্তর

    OMR ও OCR-এর মধ্যে পার্থক্য:

    বিষয়OMROCR
    ১. পূর্ণনামOptical Mark ReaderOptical Character Reader
    ২. কী পড়েকাগজে পেনসিল বা কলমের দাগ/বৃত্ত ভরাট আছে কি নাছাপা বা হাতে লেখা অক্ষর ও সংখ্যা
    ৩. কাজের ধরনদাগের উপস্থিতি-অনুপস্থিতি শনাক্ত করেঅক্ষর চিনে লেখায় রূপান্তর করে
    ৪. বিশেষ ফর্মনির্দিষ্ট ছকের বিশেষ ফর্ম (OMR শিট) লাগেসাধারণ কাগজেও কাজ করে
    ৫. ফলাফলউত্তর সঠিক না ভুল, তার হিসাবসম্পাদনাযোগ্য টেক্সট ফাইল
    ৬. জটিলতাতুলনামূলক সহজ প্রযুক্তিতুলনামূলক জটিল প্রযুক্তি
    ৭. ব্যবহারMCQ খাতা মূল্যায়ন, ভর্তি পরীক্ষা, জরিপবই ও দলিল ডিজিটাল করা, পাসপোর্ট পড়া
  6. ১.৬-সং-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৭৮

    ৬.OMR কী?

    • অথবা, OMR কী? সংক্ষেপে লেখ। [বিএমটি-২০১৬]
    • অথবা, OMR বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২২]

    উত্তর

    OMR-এর পূর্ণনাম Optical Mark Reader (বা Optical Mark Recognition)।

    যে ইনপুট ডিভাইস আলোর প্রতিফলনের সাহায্যে কাগজের নির্দিষ্ট স্থানে পেনসিল বা কলম দিয়ে দেওয়া দাগ (মার্ক) বা ভরাট বৃত্ত শনাক্ত করে কম্পিউটারে তথ্য পাঠায়, তাকে OMR বলে।

    দাগ দেওয়া জায়গা থেকে আলো কম প্রতিফলিত হয়, আর OMR তা থেকেই বুঝে নেয় কোন বৃত্ত ভরাট। এতে হাজার হাজার খাতা খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দেখা যায়।

      প্রশ্ন ১:  (ক) (●) (গ) (ঘ)     ← ভরাট বৃত্ত
      প্রশ্ন ২:  (●) (খ) (গ) (ঘ)
            OMR শিট ──► OMR মেশিন ──► কম্পিউটারে ফলাফল
    

    ব্যবহার: পাবলিক পরীক্ষার MCQ উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষা, জরিপ ও ভোট গণনা।

  7. ১.৬-সং-৭★বই: পৃষ্ঠা ৭৯

    ৭.Scanner কী?

    • অথবা, স্ক্যানার কী? বিভিন্ন প্রকার স্ক্যানারের বর্ণনা দাও। [বিএমটি-২০০৯, ১০, ১২; কমার্স-২০১০]
    • অথবা, স্ক্যানার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০১০, ২০১৩, ২০১৫]

    উত্তর

    স্ক্যানার (Scanner) হলো একটি ইনপুট ডিভাইস, যা কাগজে থাকা লেখা, ছবি বা নকশাকে আলোর সাহায্যে পড়ে ডিজিটাল ছবিতে রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠায়।

    এটি অনেকটা ফটোকপি মেশিনের মতো কাজ করে, তবে কাগজে ছাপার বদলে কম্পিউটারে ফাইল তৈরি করে।

    বিভিন্ন প্রকার স্ক্যানার:

    প্রকারবর্ণনা
    ফ্ল্যাটবেড স্ক্যানারকাচের সমতল পাতের ওপর কাগজ রেখে স্ক্যান করা হয়; সবচেয়ে প্রচলিত
    হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানারহাতে ধরে কাগজের ওপর দিয়ে টেনে স্ক্যান করা হয়
    শিটফেড স্ক্যানারপ্রিন্টারের মতো কাগজ ভেতরে টেনে নিয়ে স্ক্যান করে
    ড্রাম স্ক্যানারখুব উচ্চমানের ছবি স্ক্যানের জন্য; প্রকাশনা শিল্পে ব্যবহৃত
    বারকোড স্ক্যানারপণ্যের বারকোড পড়ে; দোকানে ব্যবহৃত
    3D স্ক্যানারবস্তুর ত্রিমাত্রিক আকৃতি স্ক্যান করে
  8. ১.৬-সং-৮★বই: পৃষ্ঠা ৭৯

    ৮.ডিজিটাইজার কী?

    • অথবা, ডিজিটাইজার কী? সংক্ষেপে লেখ। [বিএমটি-২০১০]

    উত্তর

    ডিজিটাইজার (Digitizer) বা গ্রাফিক্স ট্যাবলেট হলো একটি ইনপুট ডিভাইস, যার সমতল বোর্ডের ওপর বিশেষ কলম (স্টাইলাস) দিয়ে আঁকলে বা লিখলে সেই ছবি বা নকশা সরাসরি ডিজিটাল আকারে কম্পিউটারে চলে যায়।

    এতে আঁকার নিখুঁত অবস্থান ও কলমের চাপ বোঝা যায়, তাই সূক্ষ্ম নকশা তৈরি করা সহজ। মানচিত্র, নকশা ও ছবি আঁকার কাজে এটি ব্যবহার হয়।

       ✏️ স্টাইলাস
         ╲
      ┌───────────────┐
      │  ডিজিটাইজার বোর্ড │ ──► 🖥 কম্পিউটারে নকশা
      └───────────────┘
    

    ব্যবহার: গ্রাফিক্স ডিজাইন, প্রকৌশল ও স্থাপত্য নকশা (CAD), মানচিত্র তৈরি, স্বাক্ষর নেওয়া।

  9. ১.৬-সং-৯★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ৯.লাইট পেন কী?

    • অথবা, লাইট পেন কী? সংক্ষেপে লেখ। [বিএমটি-২০১০; কমার্স-২০১০]

    উত্তর

    লাইট পেন (Light Pen) হলো কলমের মতো দেখতে একটি আলোক সংবেদনশীল ইনপুট ডিভাইস, যা দিয়ে সরাসরি মনিটরের পর্দায় স্পর্শ করে কোনো কিছু নির্বাচন করা, আঁকা বা লেখা যায়।

    এর মাথায় একটি আলোক সংবেদী কোষ (ফটোসেল) থাকে, যা পর্দার আলো শনাক্ত করে কলমের অবস্থান কম্পিউটারকে জানিয়ে দেয়। একটি তারের মাধ্যমে এটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে।

    ব্যবহার: পর্দায় ছবি আঁকা, নকশা তৈরি (CAD), মেনু থেকে কিছু বাছাই করা।

  10. ১.৬-সং-১০★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ১০.কম্পিউটার পেরিফেরালস বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কম্পিউটারের মূল অংশের (সিপিইউ ও প্রধান মেমরি) বাইরে থেকে যুক্ত হয়ে যেসব যন্ত্র ডেটা ইনপুট, আউটপুট বা সংরক্ষণের কাজ করে, সেগুলোকে কম্পিউটার পেরিফেরালস (Peripherals) বা পেরিফেরাল ডিভাইস বলে।

    "Peripheral" শব্দের অর্থ পরিধি বা চারপাশ। এগুলো কম্পিউটারের চারপাশে থেকে কাজ করে এবং ক্যাবল বা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

    উদাহরণ: কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার, স্ক্যানার, স্পিকার, ওয়েবক্যাম, পেন ড্রাইভ।

  11. ১.৬-সং-১১★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ১১.কম্পিউটার পেরিফেরালসের শ্রেণিবিভাগ লেখ।

    উত্তর

    কাজের ধরন অনুযায়ী কম্পিউটার পেরিফেরালসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

    1. ইনপুট ডিভাইস: কম্পিউটারে ডেটা ও নির্দেশ দেয়। যেমন: কী-বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার।
    2. আউটপুট ডিভাইস: কম্পিউটারের ফলাফল প্রকাশ করে। যেমন: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার।
    3. ইনপুট-আউটপুট ও স্টোরেজ ডিভাইস: দুই ধরনের কাজ করে বা তথ্য সংরক্ষণ করে। যেমন: টাচস্ক্রিন, মডেম, পেন ড্রাইভ।
                             কম্পিউটার পেরিফেরালস
                                      │
           ┌──────────────────────────┼──────────────────────────┐
      ইনপুট ডিভাইস               আউটপুট ডিভাইস            ইনপুট-আউটপুট ও স্টোরেজ
           │                          │                          │
     • কী-বোর্ড, মাউস           • মনিটর                    • টাচস্ক্রিন
     • স্ক্যানার               • প্রিন্টার                  • মডেম
     • মাইক্রোফোন              • প্লটার                    • হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ
     • ওয়েবক্যাম, ডিজিটাল ক্যামেরা • স্পিকার, হেডফোন            • ডিভিডি রাইটার
     • OMR, OCR, MICR          • প্রজেক্টর
     • লাইট পেন, ডিজিটাইজার
     • জয়স্টিক, বারকোড রিডার
    
  12. ১.৬-সং-১২★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ১২.মনিটর কী?

    উত্তর

    মনিটর (Monitor) হলো কম্পিউটারের প্রধান আউটপুট ডিভাইস, যা কম্পিউটারের প্রক্রিয়াজাত ফলাফল, লেখা, ছবি ও ভিডিও পর্দায় প্রদর্শন করে। একে ভিজুয়াল ডিসপ্লে ইউনিট (VDU)-ও বলে।

    মনিটর দেখতে টেলিভিশনের মতো, তবে কম্পিউটারের গ্রাফিক্স কার্ডের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে। মনিটরে দেখানো আউটপুটকে সফট কপি বলে।

    প্রকারভেদ:

    • CRT মনিটর: পুরনো, ভারী ও বড় আকারের (ক্যাথোড রে টিউব)।
    • LCD মনিটর: পাতলা, হালকা (লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে)।
    • LED মনিটর: আরও উজ্জ্বল ও কম বিদ্যুৎ খরচ (লাইট এমিটিং ডায়োড)।

    মান নির্ধারণকারী বিষয়: পর্দার আকার (ইঞ্চিতে, যেমন ১৯″, ২২″) এবং রেজোলিউশন (যেমন 1920×1080)।

  13. ১.৬-সং-১৩★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ১৩.কী-বোর্ড বলতে কী বুঝায়?

    • অথবা, কী-বোর্ড কী?
    • অথবা, টীকা লেখ : কী-বোর্ড

    উত্তর

    কী-বোর্ড (Keyboard) হলো কম্পিউটারের প্রধান ইনপুট ডিভাইস, যার বিভিন্ন কী (চাবি) চেপে কম্পিউটারে অক্ষর, সংখ্যা, চিহ্ন ও নির্দেশ (কমান্ড) পাঠানো হয়।

    টাইপরাইটারের আদলে তৈরি হওয়ায় এর অক্ষরের সাজানোকে QWERTY লেআউট বলে (প্রথম সারির প্রথম ছয়টি অক্ষর অনুযায়ী)। সাধারণ কী-বোর্ডে ১০১ থেকে ১০৫টি কী থাকে। কী-বোর্ডকে কন্ট্রোল বোর্ড-ও বলা হয়।

     ┌────────────────────────────────────────────────────────────┐
     │ Esc  F1 F2 ... F12          ← ফাংশন কী                      │
     │ ` 1 2 3 4 5 6 7 8 9 0 - = ⌫                    7 8 9       │
     │ Tab Q W E R T Y U I O P [ ]   ← অক্ষর কী        4 5 6  ← নিউমেরিক │
     │ Caps A S D F G H J K L ; ' Enter               1 2 3    কী-প্যাড│
     │ Shift Z X C V B N M , . / Shift     ↑          0 .         │
     │ Ctrl Win Alt [   Space Bar   ] Alt Ctrl   ← ↓ →  ← অ্যারো কী  │
     └────────────────────────────────────────────────────────────┘
    

    কী-বোর্ডের কী-গুলোর ভাগ: অক্ষর কী, সংখ্যা কী, ফাংশন কী (F1–F12), নিউমেরিক কী-প্যাড, অ্যারো কী, বিশেষ কী (Ctrl, Alt, Shift, Enter, Esc)।

  14. ১.৬-সং-১৪★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ১৪.প্লটার বলতে কী বুঝায়? এটি কয় প্রকার ও কী কী?

    উত্তর

    প্লটার (Plotter) হলো একটি বিশেষ আউটপুট ডিভাইস, যা কম্পিউটারের বড় আকারের নকশা, মানচিত্র, গ্রাফ ও প্রকৌশল ড্রয়িং কাগজে উচ্চমানে ও নিখুঁতভাবে ছাপে।

    সাধারণ প্রিন্টার ছোট কাগজে ছাপে, কিন্তু প্লটার বড় কাগজে (যেমন A0, A1) কলম বা কালি দিয়ে সূক্ষ্ম রেখা আঁকে। স্থাপত্য, প্রকৌশল ও মানচিত্র তৈরিতে এটি ব্যবহার হয়।

    প্লটার প্রধানত তিন প্রকার:

    প্রকারবর্ণনা
    ড্রাম প্লটারকাগজ একটি ঘূর্ণায়মান ড্রামে জড়ানো থাকে; ড্রাম ঘোরে আর কলম আঁকে
    ফ্ল্যাটবেড প্লটারকাগজ সমতল টেবিলের ওপর স্থির থাকে; কলম নড়াচড়া করে আঁকে
    ইঙ্কজেট প্লটারকালির ফোঁটা ছিটিয়ে বড় কাগজে রঙিন ছবি ও নকশা ছাপে
  15. ১.৬-সং-১৫★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ১৫.MICR কী?

    • অথবা, ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টার রিডারের বর্ণনা দাও।
    • অথবা, MICR কী? বর্ণনা দাও।

    উত্তর

    MICR-এর পূর্ণনাম Magnetic Ink Character Reader (বা Recognition)।

    চৌম্বকীয় কালিতে (Magnetic Ink) ছাপা বিশেষ অক্ষর ও সংখ্যা পড়ে কম্পিউটারে পাঠানোর ইনপুট ডিভাইসকে ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টার রিডার (MICR) বলে।

    ব্যাংকের চেকের নিচের অংশে চেক নম্বর, ব্যাংকের কোড ও হিসাব নম্বর চৌম্বকীয় কালিতে ছাপা থাকে। MICR মেশিন সেগুলো দ্রুত পড়ে নেয়। এই অক্ষর জাল করা কঠিন, আর ময়লা বা দাগ পড়লেও পড়া যায়।

     ┌───────────────────────────────────────────┐
     │  ABC ব্যাংক        টাকা: ________          │
     │  স্বাক্ষর: ________                        │
     │ ⑈001234⑈ ⑆123456789⑆ 0012345678⑈  ← MICR লাইন │
     └───────────────────────────────────────────┘
                  চিত্র: ব্যাংক চেক
    

    ব্যবহার: ব্যাংকে চেক দ্রুত যাচাই ও নিষ্পত্তি (ক্লিয়ারিং) করা।

  16. ১.৬-সং-১৬★★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ১৬.প্রিন্টারের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

    উত্তর

    প্রিন্টার হলো একটি আউটপুট ডিভাইস, যা কম্পিউটারের লেখা ও ছবি কাগজে ছাপে। কাগজে ছাপা আউটপুটকে হার্ড কপি বলে।

    প্রিন্টারের প্রধান বৈশিষ্ট্য:

    1. ছাপার গতি: প্রতি মিনিটে কত পৃষ্ঠা ছাপে (PPM – Pages Per Minute) বা প্রতি সেকেন্ডে কত অক্ষর ছাপে (CPS)।
    2. ছাপার মান (রেজোলিউশন): প্রতি ইঞ্চিতে কত বিন্দু (DPI – Dots Per Inch); DPI যত বেশি, ছাপা তত পরিষ্কার।
    3. রং: সাদা-কালো (মনোক্রোম) বা রঙিন ছাপা।
    4. ছাপার পদ্ধতি: ইম্প্যাক্ট (আঘাত করে) বা নন-ইম্প্যাক্ট (আঘাত ছাড়া)।
    5. কাগজের আকার: A4, Legal, Letter ইত্যাদি কোন আকারের কাগজে ছাপতে পারে।
    6. সংযোগ: USB, Wi-Fi বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়।
    7. খরচ: কালি বা টোনারের দাম ও প্রতি পৃষ্ঠার ছাপার খরচ।
    8. মেমরি (বাফার): ছাপার কাজ জমা রাখার নিজস্ব মেমরি থাকে।
                                  প্রিন্টার
                                      │
                  ┌───────────────────┴───────────────────┐
         ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার                       নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার
       (কাগজে আঘাত করে ছাপে)                    (আঘাত ছাড়া ছাপে)
                  │                                       │
         ┌────────┼────────┐                  ┌────────────┼────────────┐
      ডট ম্যাট্রিক্স ডেইজি হুইল  লাইন          ইঙ্কজেট      লেজার        থার্মাল
       প্রিন্টার    প্রিন্টার   প্রিন্টার        প্রিন্টার     প্রিন্টার      প্রিন্টার
    
  17. ১.৬-সং-১৭★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ১৭.ইঙ্কজেট প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ কী কী?

    উত্তর

    ইঙ্কজেট প্রিন্টার: যে প্রিন্টার খুব সূক্ষ্ম নজল দিয়ে তরল কালির ক্ষুদ্র ফোঁটা কাগজে ছিটিয়ে লেখা ও ছবি ছাপে, তাকে ইঙ্কজেট প্রিন্টার বলে।

    সুবিধাঅসুবিধা
    ১. রঙিন ছবি খুব সুন্দর ও উজ্জ্বল ছাপে১. কালির কার্টিজের দাম বেশি; প্রতি পৃষ্ঠার খরচ বেশি
    ২. প্রিন্টারের দাম তুলনামূলক কম২. লেজার প্রিন্টারের চেয়ে ছাপার গতি কম
    ৩. কাজের সময় শব্দ প্রায় হয় না৩. ছাপা কাগজ ভিজলে কালি ছড়িয়ে যেতে পারে
    ৪. আকারে ছোট ও হালকা৪. দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে নজলে কালি শুকিয়ে আটকে যায়
    ৫. ছবি ও ফটো ছাপার জন্য উপযোগী৫. বেশি পরিমাণ ছাপার জন্য উপযোগী নয়
    ৬. বাসা ও ছোট অফিসের জন্য উপযুক্ত৬. কালি শুকাতে একটু সময় লাগে
  18. ১.৬-সং-১৮★★বই: পৃষ্ঠা ৮১

    ১৮.লেজার প্রিন্টারের বৈশিষ্ট্য কী কী?

    উত্তর

    লেজার প্রিন্টার: যে প্রিন্টার লেজার রশ্মি ও টোনার (শুকনো কালির গুঁড়া) ব্যবহার করে ফটোকপি মেশিনের মতো পদ্ধতিতে কাগজে ছাপে, তাকে লেজার প্রিন্টার বলে।

    লেজার প্রিন্টারের বৈশিষ্ট্য:

    1. এটি একটি নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার; কাগজে আঘাত ছাড়াই ছাপে।
    2. খুব দ্রুতগতির; প্রতি মিনিটে অনেক পৃষ্ঠা (২০–১০০+ PPM) ছাপতে পারে।
    3. ছাপার মান খুব উঁচু ও লেখা পরিষ্কার, ধারালো (৬০০–১২০০+ DPI)।
    4. পৃষ্ঠা প্রিন্টার; একবারে পুরো পৃষ্ঠা ছাপে।
    5. কাজের সময় শব্দ খুব কম হয়।
    6. টোনার ব্যবহার করে; ছাপা লেখা পানিতে সহজে নষ্ট হয় না।
    7. প্রতি পৃষ্ঠার খরচ কম, তাই বেশি পরিমাণ ছাপার জন্য উপযোগী।
    8. প্রিন্টারের দাম তুলনামূলক বেশি; সাদা-কালো ও রঙিন দুই ধরনেরই পাওয়া যায়।
     লেজার রশ্মি ──► ড্রামে লেখার চার্জ ──► টোনার লাগে ──► কাগজে স্থানান্তর ──► তাপে স্থায়ী
    

রচনামূলক প্রশ্ন (৭টি)

  1. ১.৬-র-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৮১

    ১.কম্পিউটার পেরিফেরালসের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।

    • অথবা, ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস বলতে কী বুঝায়? উদাহরণসহ লেখ। [বিএমটি-২০২৩, ২৫]

    উত্তর

    কম্পিউটার পেরিফেরালস: কম্পিউটারের মূল অংশের বাইরে থেকে যুক্ত হয়ে যেসব যন্ত্র ডেটা ইনপুট, আউটপুট বা সংরক্ষণের কাজ করে, সেগুলোকে পেরিফেরালস বলে।

                             কম্পিউটার পেরিফেরালস
                                      │
           ┌──────────────────────────┼──────────────────────────┐
      ইনপুট ডিভাইস               আউটপুট ডিভাইস            ইনপুট-আউটপুট ও স্টোরেজ
           │                          │                          │
     • কী-বোর্ড, মাউস           • মনিটর                    • টাচস্ক্রিন
     • স্ক্যানার               • প্রিন্টার                  • মডেম
     • মাইক্রোফোন              • প্লটার                    • হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ
     • ওয়েবক্যাম, ডিজিটাল ক্যামেরা • স্পিকার, হেডফোন            • ডিভিডি রাইটার
     • OMR, OCR, MICR          • প্রজেক্টর
     • লাইট পেন, ডিজিটাইজার
     • জয়স্টিক, বারকোড রিডার
    

    ১. ইনপুট ডিভাইস (Input Device)

    যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পিউটারে ডেটা ও নির্দেশ প্রবেশ করানো হয়, সেগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বা গ্রহণমুখী যন্ত্র বলে। এগুলো মানুষের দেওয়া তথ্যকে কম্পিউটারের বোধগম্য সংকেতে রূপান্তর করে।

    ইনপুট ডিভাইসকাজ
    কী-বোর্ডঅক্ষর, সংখ্যা ও নির্দেশ টাইপ করা
    মাউসপর্দায় পয়েন্টার নাড়ানো ও ক্লিক করা
    স্ক্যানারকাগজের লেখা ও ছবি কম্পিউটারে নেওয়া
    মাইক্রোফোনশব্দ বা কণ্ঠস্বর ইনপুট
    ওয়েবক্যাম/ডিজিটাল ক্যামেরাছবি ও ভিডিও ইনপুট
    OMR, OCR, MICRদাগ, অক্ষর ও চেকের লেখা পড়া
    জয়স্টিকগেম খেলা
    বারকোড রিডারপণ্যের বারকোড পড়া

    ২. আউটপুট ডিভাইস (Output Device)

    যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রক্রিয়াজাত ফলাফল ব্যবহারকারীর কাছে প্রকাশ করে, সেগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বা নির্গমনমুখী যন্ত্র বলে।

    আউটপুট ডিভাইসকাজ
    মনিটরপর্দায় লেখা ও ছবি দেখানো (সফট কপি)
    প্রিন্টারকাগজে ছাপা (হার্ড কপি)
    প্লটারবড় নকশা ও মানচিত্র ছাপা
    স্পিকার/হেডফোনশব্দ শোনানো
    প্রজেক্টরবড় পর্দায় দেখানো

    ৩. ইনপুট-আউটপুট ও স্টোরেজ ডিভাইস

    কিছু যন্ত্র ইনপুট ও আউটপুট দুটোই করে, আবার কিছু যন্ত্র তথ্য সংরক্ষণ করে।

    • টাচস্ক্রিন: স্পর্শে ইনপুট নেয়, আবার পর্দায় দেখায়।
    • মডেম: ইন্টারনেটে ডেটা পাঠায় ও গ্রহণ করে।
    • হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ, ডিভিডি রাইটার: তথ্য লেখা ও পড়া দুটোই করে।
      ইনপুট ডিভাইস ──► [ সিপিইউ ও মেমরি ] ──► আউটপুট ডিভাইস
      (কী-বোর্ড, মাউস)     (প্রক্রিয়াকরণ)       (মনিটর, প্রিন্টার)
    

    উপসংহার: ইনপুট ডিভাইস দিয়ে তথ্য দেওয়া, আর আউটপুট ডিভাইস দিয়ে ফল পাওয়া; এদের ছাড়া কম্পিউটারের সাথে মানুষের যোগাযোগ সম্ভব নয়।

  2. ১.৬-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৮১

    ২.ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার ও নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টারের তুলনামূলক ব্যবহারিক সুবিধা-অসুবিধাসমূহ বর্ণনা কর। [বিএমটি-১৩, ১৭, ১৮, ২২, ২৩]

    উত্তর

    ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার: যে প্রিন্টার কালির ফিতার (রিবন) ওপর হাতুড়ি বা পিন দিয়ে আঘাত করে কাগজে ছাপে, তাকে ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার বলে। যেমন: ডট ম্যাট্রিক্স, ডেইজি হুইল, লাইন প্রিন্টার।

    নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার: যে প্রিন্টার কাগজে কোনো আঘাত ছাড়াই কালি ছিটিয়ে, লেজার বা তাপের মাধ্যমে ছাপে, তাকে নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার বলে। যেমন: ইঙ্কজেট, লেজার, থার্মাল প্রিন্টার।

                                  প্রিন্টার
                                      │
                  ┌───────────────────┴───────────────────┐
         ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার                       নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার
       (কাগজে আঘাত করে ছাপে)                    (আঘাত ছাড়া ছাপে)
                  │                                       │
         ┌────────┼────────┐                  ┌────────────┼────────────┐
      ডট ম্যাট্রিক্স ডেইজি হুইল  লাইন          ইঙ্কজেট      লেজার        থার্মাল
       প্রিন্টার    প্রিন্টার   প্রিন্টার        প্রিন্টার     প্রিন্টার      প্রিন্টার
    

    ইম্প্যাক্ট প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা

    সুবিধাঅসুবিধা
    ১. কার্বন কাগজ দিয়ে একসাথে একাধিক কপি ছাপা যায়১. কাজের সময় অনেক শব্দ হয়
    ২. ছাপার খরচ (রিবন) খুব কম২. ছাপার মান কম, লেখা অত পরিষ্কার নয়
    ৩. ধারাবাহিক (Continuous) কাগজে ছাপা যায়৩. গতি কম
    ৪. টেকসই ও দীর্ঘদিন চলে৪. ভালো মানের ছবি বা রঙিন ছাপা যায় না

    নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা

    সুবিধাঅসুবিধা
    ১. শব্দ প্রায় হয় না১. একসাথে কার্বন কপি ছাপা যায় না
    ২. ছাপার মান খুব উঁচু ও পরিষ্কার২. কালি বা টোনারের দাম বেশি
    ৩. দ্রুতগতিতে ছাপে৩. প্রিন্টারের দাম তুলনামূলক বেশি
    ৪. রঙিন ছবি ও গ্রাফিক্স সুন্দর ছাপে৪. বিশেষ মানের কাগজ লাগতে পারে

    তুলনামূলক ব্যবহারিক পার্থক্য

    বিষয়ইম্প্যাক্ট প্রিন্টারনন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার
    ছাপার পদ্ধতিআঘাত করেআঘাত ছাড়া
    শব্দবেশিখুব কম
    গতিকমবেশি
    মাননিম্নউচ্চ
    কার্বন কপিসম্ভবসম্ভব নয়
    প্রতি পৃষ্ঠার খরচকমতুলনামূলক বেশি (ইঙ্কজেট), কম (লেজার)
    ব্যবহারের ক্ষেত্রব্যাংকের স্লিপ, বিল, ইনভয়েস, রসিদঅফিসের চিঠি, রিপোর্ট, ছবি, প্রকাশনা

    উপসংহার: যেখানে কার্বন কপি ও কম খরচ দরকার সেখানে ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার, আর যেখানে মান ও গতি দরকার সেখানে নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার বেশি উপযোগী।

  3. ১.৬-র-৩বই: পৃষ্ঠা ৮১

    ৩.স্ক্যানার কী? এর ব্যবহার লেখ। [বিএমটি-২০০৯, ১২]

    উত্তর

    স্ক্যানার: স্ক্যানার হলো একটি ইনপুট ডিভাইস, যা কাগজে থাকা লেখা, ছবি বা নকশাকে আলোর সাহায্যে পড়ে ডিজিটাল ছবিতে রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠায়।

    যেভাবে কাজ করে: স্ক্যানারের ভেতরে একটি উজ্জ্বল আলো কাগজের ওপর পড়ে। কাগজের সাদা অংশ বেশি আলো আর কালো অংশ কম আলো প্রতিফলিত করে। আলোক সংবেদী সেন্সর (CCD) এই প্রতিফলিত আলো মেপে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠায়।

     ┌──────────────────────────────┐
     │  📄 কাগজ (উল্টো করে রাখা)      │
     │ ═════════════════════════════│ ← কাচের পাত
     │   💡 আলো ──► প্রতিফলন ──► সেন্সর│
     └──────────────┬───────────────┘
                    ▼
             🖥 কম্পিউটারে ডিজিটাল ছবি
           চিত্র: ফ্ল্যাটবেড স্ক্যানার
    

    স্ক্যানারের প্রকারভেদ:

    • ফ্ল্যাটবেড স্ক্যানার: কাচের ওপর কাগজ রেখে স্ক্যান; সবচেয়ে প্রচলিত।
    • হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার: হাতে ধরে টেনে স্ক্যান।
    • শিটফেড স্ক্যানার: কাগজ ভেতরে টেনে নিয়ে স্ক্যান।
    • ড্রাম স্ক্যানার: উচ্চমানের প্রকাশনার কাজে।
    • বারকোড স্ক্যানার: পণ্যের বারকোড পড়ে।

    স্ক্যানারের ব্যবহার:

    1. দলিল সংরক্ষণ: সার্টিফিকেট, জমির দলিল, পরিচয়পত্র স্ক্যান করে ডিজিটাল কপি রাখা।
    2. অনলাইন আবেদন: চাকরি, ভর্তি ও পাসপোর্টের আবেদনে ছবি ও কাগজপত্র আপলোড।
    3. OCR-এর মাধ্যমে লেখা রূপান্তর: ছাপা বইয়ের লেখা এডিটযোগ্য টেক্সটে রূপান্তর।
    4. ছবি ও নকশা: পুরনো ছবি, হাতে আঁকা নকশা কম্পিউটারে নেওয়া।
    5. অফিস: পেপারলেস অফিস তৈরি ও ফাইল ই-মেইলে পাঠানো।
    6. প্রকাশনা: বই, পত্রিকা ও বিজ্ঞাপনে ছবি ব্যবহার।
    7. ব্যবসা: দোকানে বারকোড স্ক্যান করে বিল তৈরি।
    8. লাইব্রেরি: পুরনো ও দুর্লভ বই ডিজিটাল করে সংরক্ষণ।

    উপসংহার: স্ক্যানার কাগজের তথ্যকে ডিজিটাল জগতে আনার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম।

  4. ১.৬-র-৪বই: পৃষ্ঠা ৮২

    ৪.সাধারণ পেরিফেরাল ডিভাইসসমূহের কার্যাবলি বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটারের বাইরে থেকে যুক্ত যন্ত্রগুলোকে পেরিফেরাল ডিভাইস বলে। নিচে সাধারণ পেরিফেরাল ডিভাইসগুলোর কার্যাবলি বর্ণনা করা হলো:

         কী-বোর্ড ─┐                         ┌─► মনিটর
           মাউস ─┤                         ├─► প্রিন্টার
        স্ক্যানার ─┼──► [ সিস্টেম ইউনিট ] ──────┼─► স্পিকার
      মাইক্রোফোন ─┤                         └─► প্রজেক্টর
        ওয়েবক্যাম ─┘
         (ইনপুট)                              (আউটপুট)
    

    ১. কী-বোর্ড: প্রধান ইনপুট ডিভাইস। অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্ন টাইপ করা এবং Ctrl, Alt, Shift, ফাংশন কী দিয়ে বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়া এর কাজ।

    ২. মাউস: হাতে চালানো ছোট ইনপুট ডিভাইস (Hand operated input device)। পর্দায় কার্সর বা পয়েন্টার নাড়ানো, ফাইল-ফোল্ডার-আইকন নির্বাচন, ক্লিক, ডাবল ক্লিক, ড্র্যাগ ও স্ক্রল করা এর কাজ।

    ৩. মনিটর: প্রধান আউটপুট ডিভাইস, যা ভিডিও ডিসপ্লে ইউনিট (VDU) নামে পরিচিত। লেখা, ছবি, ভিডিও ও ডকুমেন্ট পর্দায় দেখানো এর কাজ।

    ৪. প্রিন্টার: কম্পিউটারের লেখা ও ছবি কাগজে ছাপা (হার্ড কপি তৈরি)।

    ৫. স্ক্যানার: কাগজের লেখা ও ছবিকে ডিজিটাল আকারে কম্পিউটারে পাঠানো।

    ৬. স্পিকার ও হেডফোন: কম্পিউটারের শব্দ, গান ও কথা শোনানো।

    ৭. মাইক্রোফোন: কণ্ঠস্বর ও শব্দ কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়া; ভিডিও কল ও রেকর্ডিংয়ে ব্যবহৃত।

    ৮. ওয়েবক্যাম: ছবি ও ভিডিও ধারণ করে কম্পিউটারে পাঠানো; অনলাইন ক্লাস ও ভিডিও কনফারেন্সে ব্যবহৃত।

    ৯. প্রজেক্টর: কম্পিউটারের পর্দার ছবি বড় পর্দায় দেখানো; ক্লাস ও সভায় ব্যবহৃত।

    ১০. পেন ড্রাইভ ও এক্সটার্নাল হার্ড ডিস্ক: তথ্য সংরক্ষণ ও এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে নেওয়া।

    ডিভাইসধরনপ্রধান কাজ
    কী-বোর্ডইনপুটটাইপ করা
    মাউসইনপুটপয়েন্টার নিয়ন্ত্রণ
    স্ক্যানারইনপুটকাগজ ডিজিটাল করা
    মনিটরআউটপুটপর্দায় দেখানো
    প্রিন্টারআউটপুটকাগজে ছাপা
    স্পিকারআউটপুটশব্দ শোনানো
  5. ১.৬-র-৫বই: পৃষ্ঠা ৮৩

    ৫.কী-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ও মনিটর-এর স্পেসিফিকেশন তৈরি কর।

    উত্তর

    কোনো যন্ত্রের স্পেসিফিকেশন (Specification) বলতে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও মানের বিবরণ বোঝায়, যা দেখে যন্ত্রটি কেনা বা তুলনা করা হয়। নিচে একটি সাধারণ অফিস কম্পিউটারের জন্য কী-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ও মনিটরের স্পেসিফিকেশন দেওয়া হলো:

    ১. কী-বোর্ডের স্পেসিফিকেশন

    বিষয়স্পেসিফিকেশন
    ধরনস্ট্যান্ডার্ড মেমব্রেন কী-বোর্ড
    কী-এর সংখ্যা১০৪/১০৫টি (নিউমেরিক কী-প্যাডসহ)
    লেআউটQWERTY (ইংরেজি) + বাংলা স্টিকার
    সংযোগUSB (তারযুক্ত) বা ওয়্যারলেস
    বিশেষ সুবিধাস্পিল-প্রুফ (পানি প্রতিরোধী), মাল্টিমিডিয়া কী
    ব্র্যান্ড (উদাহরণ)A4Tech, Logitech, HP

    ২. মাউসের স্পেসিফিকেশন

    বিষয়স্পেসিফিকেশন
    ধরনঅপটিক্যাল মাউস
    বাটন৩টি (বাম, ডান ও স্ক্রল হুইল)
    সংবেদনশীলতা (DPI)১০০০–১৬০০ DPI
    সংযোগUSB বা ওয়্যারলেস (২.৪ GHz)
    ব্র্যান্ড (উদাহরণ)A4Tech, Logitech, HP

    ৩. প্রিন্টারের স্পেসিফিকেশন

    বিষয়স্পেসিফিকেশন
    ধরনমনোক্রোম লেজার প্রিন্টার
    ছাপার গতি২০–৩০ পৃষ্ঠা প্রতি মিনিট (PPM)
    রেজোলিউশন৬০০ × ৬০০ DPI (বা বেশি)
    কাগজের আকারA4, Letter, Legal
    সংযোগUSB, Wi-Fi/নেটওয়ার্ক
    মাসিক কাজের ক্ষমতাপ্রায় ১০,০০০ পৃষ্ঠা
    ব্র্যান্ড (উদাহরণ)HP LaserJet, Canon, Brother

    ৪. মনিটরের স্পেসিফিকেশন

    বিষয়স্পেসিফিকেশন
    ধরনLED মনিটর
    পর্দার আকার১৯″–২৪″
    রেজোলিউশন1920 × 1080 (Full HD)
    রিফ্রেশ রেট৬০–৭৫ Hz
    রেসপন্স টাইম৫ মিলিসেকেন্ড
    সংযোগ পোর্টHDMI, VGA
    ব্র্যান্ড (উদাহরণ)Samsung, Dell, HP, LG

    💡 খাতায় লেখার টিপস: প্রতিটি যন্ত্রের জন্য ধরন, প্রধান মান (গতি/আকার/রেজোলিউশন), সংযোগ ও ব্র্যান্ড অবশ্যই লেখো।

  6. ১.৬-র-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৮৩

    ৬.বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টারের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

    উত্তর

    প্রিন্টার: কম্পিউটারের লেখা ও ছবি কাগজে ছাপার আউটপুট ডিভাইস। ছাপার পদ্ধতি অনুযায়ী প্রিন্টার দুই প্রকার: ইম্প্যাক্ট ও নন-ইম্প্যাক্ট।

                                  প্রিন্টার
                                      │
                  ┌───────────────────┴───────────────────┐
         ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার                       নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার
       (কাগজে আঘাত করে ছাপে)                    (আঘাত ছাড়া ছাপে)
                  │                                       │
         ┌────────┼────────┐                  ┌────────────┼────────────┐
      ডট ম্যাট্রিক্স ডেইজি হুইল  লাইন          ইঙ্কজেট      লেজার        থার্মাল
       প্রিন্টার    প্রিন্টার   প্রিন্টার        প্রিন্টার     প্রিন্টার      প্রিন্টার
    

    ক. ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার

    ১. ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার:

    • প্রিন্ট হেডের ছোট ছোট পিন কালির ফিতায় আঘাত করে বিন্দু (ডট) দিয়ে অক্ষর তৈরি করে।
    • শব্দ বেশি, মান কম, তবে খরচ খুব কম।
    • কার্বন কাগজে একসাথে কয়েকটি কপি ছাপা যায়; ব্যাংক ও দোকানের রসিদে ব্যবহৃত।

    ২. ডেইজি হুইল প্রিন্টার:

    • ফুলের পাপড়ির মতো চাকার প্রতিটি পাপড়িতে একটি অক্ষর থাকে; হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ছাপে।
    • লেখা টাইপরাইটারের মতো পরিষ্কার, কিন্তু গতি খুব কম ও ছবি ছাপতে পারে না।

    ৩. লাইন প্রিন্টার:

    • একবারে পুরো একটি লাইন ছাপে; খুব দ্রুতগতির।
    • বড় প্রতিষ্ঠানে প্রচুর রিপোর্ট ছাপার কাজে ব্যবহৃত।

    খ. নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার

    ৪. ইঙ্কজেট প্রিন্টার:

    • সূক্ষ্ম নজল দিয়ে তরল কালির ফোঁটা ছিটিয়ে ছাপে।
    • রঙিন ছবি সুন্দর ছাপে; প্রিন্টারের দাম কম, কিন্তু কালির খরচ বেশি।
    • বাসা ও ছোট অফিসে ব্যবহৃত।

    ৫. লেজার প্রিন্টার:

    • লেজার রশ্মি ও টোনার দিয়ে ফটোকপির মতো পদ্ধতিতে পুরো পৃষ্ঠা একবারে ছাপে।
    • খুব দ্রুত, উচ্চমানের ও নিঃশব্দ; প্রতি পৃষ্ঠার খরচ কম।
    • অফিসে বেশি পরিমাণ ছাপার কাজে ব্যবহৃত।

    ৬. থার্মাল প্রিন্টার:

    • তাপ সংবেদনশীল কাগজে তাপ দিয়ে ছাপে; কালি লাগে না।
    • ছোট, দ্রুত ও নিঃশব্দ; সুপারশপের বিল, ATM-এর স্লিপ ও টিকিটে ব্যবহৃত।
    প্রিন্টারধরনগতিমানশব্দব্যবহার
    ডট ম্যাট্রিক্সইম্প্যাক্টকমনিম্নবেশিরসিদ, বিল
    ডেইজি হুইলইম্প্যাক্টখুব কমভালো (শুধু লেখা)বেশিচিঠি (পুরনো)
    লাইনইম্প্যাক্টখুব বেশিনিম্নবেশিবড় রিপোর্ট
    ইঙ্কজেটনন-ইম্প্যাক্টমাঝারিউচ্চ (রঙিন)কমছবি, বাসা
    লেজারনন-ইম্প্যাক্টবেশিখুব উচ্চখুব কমঅফিস
    থার্মালনন-ইম্প্যাক্টবেশিমাঝারিখুব কমবিল, টিকিট
  7. ১.৬-র-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৪

    ৭.ডট প্রিন্টার ও লেজার প্রিন্টার-এর তুলনামূলক ব্যবহারিক সুবিধা-অসুবিধা বর্ণনা কর।

    উত্তর

    ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার: একটি ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার, যার প্রিন্ট হেডের ছোট ছোট পিন কালির ফিতায় আঘাত করে বিন্দু (ডট) দিয়ে অক্ষর ও ছবি তৈরি করে।

    লেজার প্রিন্টার: একটি নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার, যা লেজার রশ্মি ও টোনার ব্যবহার করে ফটোকপির মতো পদ্ধতিতে পুরো পৃষ্ঠা একবারে ছাপে।

     ডট ম্যাট্রিক্স:  পিন ──আঘাত──► রিবন ──► কাগজ      ● ● ●  (বিন্দু দিয়ে অক্ষর)
                                                      ●   ●
                                                      ● ● ●
     লেজার:         লেজার ──► ড্রাম ──► টোনার ──► কাগজ ──► তাপ (স্থায়ী)
    

    ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা

    সুবিধাঅসুবিধা
    প্রিন্টার ও রিবনের দাম খুব কমকাজের সময় অনেক শব্দ হয়
    কার্বন কাগজে একসাথে একাধিক কপি ছাপা যায়ছাপার মান কম
    ধারাবাহিক (Continuous) কাগজে ছাপা যায়গতি কম
    টেকসই, কঠিন পরিবেশেও চলেভালো ছবি ও রঙিন ছাপা যায় না

    লেজার প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা

    সুবিধাঅসুবিধা
    খুব দ্রুতগতিতে ছাপেপ্রিন্টারের দাম বেশি
    ছাপার মান খুব উঁচু ও পরিষ্কারএকসাথে কার্বন কপি ছাপা যায় না
    প্রায় নিঃশব্দে কাজ করেটোনার কার্টিজের দাম বেশি
    প্রতি পৃষ্ঠার খরচ কমরঙিন লেজার প্রিন্টার খুব দামি
    বেশি পরিমাণ ছাপার জন্য উপযোগীবেশি বিদ্যুৎ খরচ করে

    তুলনামূলক বিবরণ

    বিষয়ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারলেজার প্রিন্টার
    ১. ধরনইম্প্যাক্টনন-ইম্প্যাক্ট
    ২. ছাপার পদ্ধতিপিনের আঘাতে বিন্দু দিয়েলেজার ও টোনার দিয়ে
    ৩. ছাপার এককঅক্ষর অনুযায়ী (Character printer)পৃষ্ঠা অনুযায়ী (Page printer)
    ৪. গতিকম (CPS-এ মাপা হয়)বেশি (PPM-এ মাপা হয়)
    ৫. মাননিম্নখুব উচ্চ
    ৬. শব্দবেশিখুব কম
    ৭. কার্বন কপিসম্ভবসম্ভব নয়
    ৮. প্রিন্টারের দামকমবেশি
    ৯. ব্যবহারব্যাংকের স্লিপ, বিল, ইনভয়েসঅফিসের চিঠি, রিপোর্ট, প্রকাশনা

    উপসংহার: কম খরচে ও কার্বন কপির প্রয়োজনে ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার, আর দ্রুত ও মানসম্মত ছাপার জন্য লেজার প্রিন্টার বেশি উপযোগী।