ICTebook
← কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১

কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১

অধ্যায় ২: টাইপিং অনুশীলন

তারকা অনুযায়ী প্রশ্ন বাছাই

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১৯টি)

  1. ২-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ১.হোম-কী বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কী-বোর্ডের মাঝের সারির (Home Row) যে ৮টি কী-তে টাইপ শুরু করার আগে দুই হাতের আঙুল স্থির করে রাখা হয় এবং প্রতিটি কী টাইপের পর আঙুল আবার সেখানে ফিরে আসে, সেগুলোকে হোম-কী (Home Keys) বলে।

    • বাম হাতের হোম-কী: A, S, D, F
    • ডান হাতের হোম-কী: J, K, L, ;

    F ও J কী-তে ছোট উঁচু দাগ থাকে, ফলে কী-বোর্ডের দিকে না তাকিয়েও আঙুল সঠিক জায়গায় বসানো যায়। হোম-কী থেকে টাইপ করলে দ্রুত ও নির্ভুল টাইপ করা সম্ভব হয়।

     ┌───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┐
     │ Q │ W │ E │ R │ T │ Y │ U │ I │ O │ P │ [ │   ← উপরের সারি
     └┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┘
      │ A │ S │ D │ F̲ │ G │ H │ J̲ │ K │ L │ ; │      ← হোম সারি (মাঝের সারি)
      └─▲─┴─▲─┴─▲─┴─▲─┴───┴───┴─▲─┴─▲─┴─▲─┴─▲─┘
       কনিষ্ঠা অনামিকা মধ্যমা তর্জনী      তর্জনী মধ্যমা অনামিকা কনিষ্ঠা
       └──────── বাম হাত ────────┘      └──────── ডান হাত ────────┘
              দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি থাকবে স্পেসবারের ওপর
       (F ও J কী-তে ছোট উঁচু দাগ থাকে, চোখ না দেখেও আঙুল বসানো যায়)
    
  2. ২-সং-২★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ২.হোম-কীসমূহ কী কী?

    উত্তর

    কী-বোর্ডের মাঝের সারির ৮টি কী হলো হোম-কী:

    হাতআঙুলহোম-কী
    বাম হাতকনিষ্ঠা (ছোট আঙুল)A
    বাম হাতঅনামিকাS
    বাম হাতমধ্যমাD
    বাম হাততর্জনীF
    ডান হাততর্জনীJ
    ডান হাতমধ্যমাK
    ডান হাতঅনামিকাL
    ডান হাতকনিষ্ঠা (ছোট আঙুল); (সেমিকোলন)

    দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি থাকে স্পেসবারের ওপর।

  3. ২-সং-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ৩.CPS কী?

    উত্তর

    CPS-এর পূর্ণরূপ Characters Per Second, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে টাইপ করা অক্ষরের সংখ্যা।

    একজন টাইপিস্ট এক সেকেন্ডে কতগুলো অক্ষর (বর্ণ, সংখ্যা, চিহ্ন ও স্পেসসহ) টাইপ করতে পারেন, তা দিয়ে টাইপিংয়ের গতি মাপা হয়। একইভাবে প্রতি মিনিটে টাইপ করা অক্ষরের সংখ্যাকে CPM (Characters Per Minute) বলে। (প্রিন্টারের গতিও CPS-এ মাপা হয়।)

    সূত্র: CPS = মোট টাইপ করা অক্ষর ÷ সময় (সেকেন্ডে)

    উদাহরণ: ১ মিনিটে (৬০ সেকেন্ডে) ৩০০টি অক্ষর টাইপ করলে, CPS = ৩০০ ÷ ৬০ = ৫, আর CPM = ৩০০।

  4. ২-সং-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ৪.WPM কী?

    উত্তর

    WPM-এর পূর্ণরূপ Words Per Minute, অর্থাৎ প্রতি মিনিটে টাইপ করা শব্দের সংখ্যা। এটি টাইপিং গতি মাপার সবচেয়ে প্রচলিত একক।

    টাইপিংয়ের হিসাবে সাধারণত স্পেসসহ ৫টি অক্ষরকে ১টি শব্দ ধরা হয়।

    সূত্র: WPM = (মোট টাইপ করা অক্ষর ÷ ৫) ÷ সময় (মিনিটে)

    উদাহরণ: ২ মিনিটে ৪০০টি অক্ষর টাইপ করলে, WPM = (৪০০ ÷ ৫) ÷ ২ = ৮০ ÷ ২ = ৪০ WPM।

    💡 অফিস সহকারী পদে সাধারণত বাংলায় প্রতি মিনিটে ২০–২৫ এবং ইংরেজিতে ২৫–৩০ শব্দ টাইপের গতি চাওয়া হয়।

  5. ২-সং-৫★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ৫.বিভিন্ন ধরনের টাইপিং অনুশীলনের সফটওয়্যারের তালিকা তৈরি কর।

    উত্তর

    টাইপিং অনুশীলনের কয়েকটি সফটওয়্যারের তালিকা:

    ক্রমসফটওয়্যারধরনবিশেষত্ব
    ১Typing Masterঅফলাইনধাপে ধাপে শেখা ও গতি পরীক্ষা
    ২Rapid Typing Tutorঅফলাইন, বিনামূল্যেগেমের মতো অনুশীলন
    ৩Mavis Beacon Teaches Typingঅফলাইনপুরনো ও জনপ্রিয়
    ৪KeyBlazeঅফলাইনসহজ পাঠ
    ৫TIPP10অফলাইন/অনলাইন, বিনামূল্যেভুল অনুযায়ী অনুশীলন
    ৬typing.comঅনলাইনবিনামূল্যে পাঠ ও পরীক্ষা
    ৭10fastfingers.comঅনলাইনগতি পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতা
    ৮keybr.comঅনলাইনবুদ্ধিমান অনুশীলন
    ৯Bijoy Bayanno / Avroঅফলাইনবাংলা টাইপ শেখা
    ১০Ratatypeঅনলাইনসার্টিফিকেট পাওয়া যায়
  6. ২-সং-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ৬.Percentage of Error কী?

    উত্তর

    Percentage of Error বা ভুলের শতকরা হার হলো টাইপ করা মোট শব্দ বা অক্ষরের মধ্যে কত শতাংশ ভুল হয়েছে তার হিসাব।

    এটি দিয়ে বোঝা যায় টাইপিস্ট কতটা ভুল করছেন। এই হার যত কম, টাইপ তত ভালো।

    সূত্র: ভুলের শতকরা হার = (ভুল শব্দের সংখ্যা ÷ মোট টাইপ করা শব্দ) × ১০০

    উদাহরণ: মোট ২০০টি শব্দের মধ্যে ১০টি ভুল হলে, ভুলের হার = (১০ ÷ ২০০) × ১০০ = ৫%

  7. ২-সং-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ৭.Accuracy কী?

    উত্তর

    Accuracy বা নির্ভুলতা হলো টাইপ করা মোট শব্দ বা অক্ষরের মধ্যে কত শতাংশ সঠিকভাবে টাইপ হয়েছে তার হিসাব।

    শুধু দ্রুত টাইপ করলেই হয় না, নির্ভুলভাবে টাইপ করাও জরুরি। ভালো টাইপিস্টের নির্ভুলতা সাধারণত ৯৫% বা তার বেশি হয়।

    সূত্র: Accuracy = (সঠিক শব্দের সংখ্যা ÷ মোট টাইপ করা শব্দ) × ১০০

    উদাহরণ: মোট ২০০টি শব্দের মধ্যে ১৯০টি সঠিক হলে, Accuracy = (১৯০ ÷ ২০০) × ১০০ = ৯৫%

    💡 Accuracy + ভুলের শতকরা হার = ১০০%

  8. ২-সং-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ৮.টাইপিং কাকে বলে?

    উত্তর

    কী-বোর্ডের কী চেপে কম্পিউটারে অক্ষর, সংখ্যা, চিহ্ন ও লেখা প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়াকে টাইপিং (Typing) বলে।

    আগে টাইপরাইটার যন্ত্রে টাইপ করা হতো, এখন কম্পিউটারের কী-বোর্ডে করা হয়। সঠিক নিয়মে, অর্থাৎ হোম-কী থেকে সব আঙুল ব্যবহার করে কী-বোর্ডের দিকে না তাকিয়ে টাইপ করাকে টাচ টাইপিং বলে। এতে দ্রুত ও নির্ভুল টাইপ করা যায়। অফিসের প্রায় সব কাজে টাইপিং দক্ষতা প্রয়োজন।

  9. ২-সং-৯★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ৯.টাইপিং-কী কাকে বলে?

    উত্তর

    কী-বোর্ডের যেসব কী চাপলে অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্ন লেখা হয়, অর্থাৎ যেগুলো সরাসরি টাইপের কাজে ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে টাইপিং-কী (Typing Keys) বা আলফানিউমেরিক কী বলে।

    এগুলো কী-বোর্ডের মাঝখানে টাইপরাইটারের মতো QWERTY লেআউটে সাজানো থাকে।

    টাইপিং-কীর অন্তর্ভুক্ত:

    • অক্ষর কী: A থেকে Z
    • সংখ্যা কী: 0 থেকে 9
    • চিহ্ন কী: , . ; ' / - = ইত্যাদি
    • স্পেসবার, ট্যাব, এন্টার, ব্যাকস্পেস
  10. ২-সং-১০★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১০.লেফট হ্যান্ড-কী কাকে বলে?

    উত্তর

    টাচ টাইপিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী কী-বোর্ডের যেসব কী বাম হাতের আঙুল দিয়ে টাইপ করা হয়, সেগুলোকে লেফট হ্যান্ড-কী (Left Hand Keys) বলে।

    কী-বোর্ডের বাম অর্ধেকের কীগুলো এর অন্তর্ভুক্ত। বাম হাতের হোম-কী A S D F।

    সারিলেফট হ্যান্ড-কী
    সংখ্যার সারি` 1 2 3 4 5
    উপরের সারিQ W E R T
    হোম সারিA S D F G
    নিচের সারিZ X C V B
  11. ২-সং-১১★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১১.রাইট হ্যান্ড-কী কাকে বলে?

    উত্তর

    টাচ টাইপিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী কী-বোর্ডের যেসব কী ডান হাতের আঙুল দিয়ে টাইপ করা হয়, সেগুলোকে রাইট হ্যান্ড-কী (Right Hand Keys) বলে।

    কী-বোর্ডের ডান অর্ধেকের কীগুলো এর অন্তর্ভুক্ত। ডান হাতের হোম-কী J K L ;।

    সারিরাইট হ্যান্ড-কী
    সংখ্যার সারি6 7 8 9 0 - =
    উপরের সারিY U I O P [ ]
    হোম সারিH J K L ; '
    নিচের সারিN M , . /

    এছাড়া Enter, Backspace ও ডান পাশের Shift কী ডান হাতের কনিষ্ঠা দিয়ে চাপা হয়।

  12. ২-সং-১২★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১২.ব্যবহারকারীর চোখের দূরত্ব হতে মনিটরের দূরত্ব কত হওয়া উচিত?

    উত্তর

    কম্পিউটার ব্যবহারের সময় চোখ থেকে মনিটরের দূরত্ব সাধারণত ২০ থেকে ৪০ ইঞ্চি (প্রায় ৫০–১০০ সেন্টিমিটার), অর্থাৎ প্রায় এক হাত (বাহুর দৈর্ঘ্য) দূরে হওয়া উচিত।

    এছাড়া:

    • মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান উচ্চতায় বা সামান্য নিচে থাকবে।
    • মনিটর চোখ থেকে ১০–২০ ডিগ্রি নিচের দিকে থাকলে ঘাড়ে চাপ কম পড়ে।
    • মনিটর ঠিক সামনে রাখতে হবে, বাঁকা করে নয়।
                👁 চোখ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ┐ মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা একটু নিচে
                │       ২০–৪০ ইঞ্চি      ┌┴───┐
               🙂 ◄─────────────────────►│ 🖥 │
               ┃ পিঠ সোজা                 └────┘
         চেয়ার ┃━━━━ কনুই ৯০° ━━ ⌨ কী-বোর্ড (কব্জি সোজা)
               ┃
               ┗━━━━┓ হাঁটু ৯০°
                    ┃
                👣 পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা
             চিত্র: কম্পিউটারে কাজের সঠিক ভঙ্গি
    
  13. ২-সং-১৩★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১৩.চোখের ঝুঁকি কী?

    উত্তর

    দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে কাজ করার ফলে চোখে যে সমস্যা বা ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়, তাকে চোখের ঝুঁকি বলে। একে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম (CVS) বা ডিজিটাল আই স্ট্রেইন-ও বলে।

    চোখের ঝুঁকির লক্ষণ: চোখ শুকিয়ে যাওয়া, চোখ জ্বালা ও লাল হওয়া, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা, চোখে ক্লান্তি।

    প্রতিরোধের উপায়:

    • মনিটর ২০–৪০ ইঞ্চি দূরে রাখা।
    • পর্দার উজ্জ্বলতা ঘরের আলোর সাথে মিলিয়ে রাখা।
    • ২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরের কিছুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকানো।
    • ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা।
  14. ২-সং-১৪★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১৪.হাতের সঠিক অবস্থান বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    টাইপ করার সময় হাত, কব্জি ও আঙুল যেভাবে রাখলে দ্রুত ও নির্ভুল টাইপ হয় এবং হাতে ব্যথা বা ক্লান্তি আসে না, তাকে হাতের সঠিক অবস্থান বলে।

    হাতের সঠিক অবস্থানের নিয়ম:

    1. আঙুলগুলো হোম-কীর (A S D F – J K L ;) ওপর আলতোভাবে বাঁকা করে রাখতে হবে।
    2. কব্জি সোজা ও সামান্য ওপরে থাকবে; কী-বোর্ড বা টেবিলে কব্জি চেপে রাখা যাবে না।
    3. কনুই প্রায় ৯০ ডিগ্রি কোণে বাঁকা থাকবে এবং শরীরের কাছাকাছি থাকবে।
    4. দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি স্পেসবারের ওপর থাকবে।
    5. কী আলতোভাবে চাপতে হবে, জোরে আঘাত করা যাবে না।
    6. টাইপ শেষে আঙুল আবার হোম-কীতে ফিরিয়ে আনতে হবে।
           কনুই ৯০°
       ━━━━━━━━┓
               ┃ বাহু
               ┗━━━━━ কব্জি সোজা ━━ 🖐 আঙুল হোম-কীতে
                                   ⌨ ASDF   JKL;
    
  15. ২-সং-১৫★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১৫.নিউমেরিক কীপ্যাডে হাতের অবস্থান সম্পর্কে লেখ।

    উত্তর

    কী-বোর্ডের ডান পাশে ক্যালকুলেটরের মতো সাজানো সংখ্যার কীগুলোকে নিউমেরিক কী-প্যাড বলে। দ্রুত সংখ্যা টাইপের জন্য এটি ডান হাত দিয়ে ব্যবহার করা হয়।

    নিউমেরিক কী-প্যাডে হাতের অবস্থান:

    • হোম-কী হলো 4, 5, 6।
    • তর্জনী থাকবে 4-এ, মধ্যমা 5-এ (5-এ ছোট উঁচু দাগ থাকে), অনামিকা 6-এ।
    • বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে 0 চাপা হয়।
    • কনিষ্ঠা দিয়ে Enter ও + কী চাপা হয়।
    • তর্জনী 1, 4, 7; মধ্যমা 2, 5, 8 ও /; অনামিকা 3, 6, 9 ও . চাপে।
     ┌─────┬─────┬─────┬─────┐
     │ Num │  /  │  *  │  -  │
     ├─────┼─────┼─────┼─────┤
     │  7  │  8  │  9  │     │
     ├─────┼─────┼─────┤  +  │  ← কনিষ্ঠা
     │ [4] │ [5̲] │ [6] │     │  ← হোম সারি
     ├─────┼─────┼─────┼─────┤
     │  1  │  2  │  3  │     │
     ├─────┴─────┼─────┤Enter│  ← কনিষ্ঠা
     │     0     │  .  │     │
     └───────────┴─────┴─────┘
       ↑ বৃদ্ধাঙ্গুলি
     তর্জনী=4  মধ্যমা=5  অনামিকা=6
    
  16. ২-সং-১৬বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১৬.টাইপিং অনুশীলনের ক্ষেত্রে হোম-কীসমূহের ব্যাখ্যা দাও।

    উত্তর

    টাইপিং অনুশীলনে হোম-কী হলো আঙুলের "ঘর", যেখান থেকে টাইপ শুরু হয় এবং প্রতিটি কী চাপার পর আঙুল আবার সেখানে ফিরে আসে।

    ব্যাখ্যা:

    • কী-বোর্ডের মাঝের সারির ৮টি কী হলো হোম-কী: বাম হাতে A S D F, ডান হাতে J K L ;।
    • প্রতিটি আঙুলের নির্দিষ্ট দায়িত্বের কী থাকে; হোম-কী থেকে আঙুল ওপরে-নিচে সরে সেই কীগুলো চাপে।
    • F ও J কী-তে উঁচু দাগ থাকায় না দেখেই আঙুল বসানো যায়।
    • হোম-কী অনুসরণ করলে কী-বোর্ডের দিকে না তাকিয়ে টাইপ (টাচ টাইপিং) শেখা যায়, ফলে গতি ও নির্ভুলতা বাড়ে।
    • নতুনদের প্রথমে শুধু হোম-কী (যেমন asdf jkl;) অনুশীলন করে, তারপর অন্য সারিতে যেতে হয়।
     ┌───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┐
     │ Q │ W │ E │ R │ T │ Y │ U │ I │ O │ P │ [ │   ← উপরের সারি
     └┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┘
      │ A │ S │ D │ F̲ │ G │ H │ J̲ │ K │ L │ ; │      ← হোম সারি (মাঝের সারি)
      └─▲─┴─▲─┴─▲─┴─▲─┴───┴───┴─▲─┴─▲─┴─▲─┴─▲─┘
       কনিষ্ঠা অনামিকা মধ্যমা তর্জনী      তর্জনী মধ্যমা অনামিকা কনিষ্ঠা
       └──────── বাম হাত ────────┘      └──────── ডান হাত ────────┘
              দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি থাকবে স্পেসবারের ওপর
       (F ও J কী-তে ছোট উঁচু দাগ থাকে, চোখ না দেখেও আঙুল বসানো যায়)
    
  17. ২-সং-১৭বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১৭.বাইফোকাল চশমা ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মনিটরের অবস্থান সম্পর্কে লেখ।

    উত্তর

    বাইফোকাল চশমা হলো এমন চশমা, যার ওপরের অংশ দূরে দেখার জন্য এবং নিচের অংশ কাছে পড়ার জন্য। এ ধরনের ব্যবহারকারীরা পর্দা দেখতে মাথা পেছনে হেলিয়ে চশমার নিচের অংশ দিয়ে দেখেন, ফলে ঘাড়ে ব্যথা হয়।

    বাইফোকাল চশমা ব্যবহারকারীদের জন্য মনিটরের অবস্থান:

    1. মনিটর সাধারণ উচ্চতার চেয়ে কিছুটা নিচে রাখতে হবে, যাতে মাথা পেছনে না হেলিয়েই চশমার নিচের অংশ দিয়ে দেখা যায়।
    2. মনিটর ওপরের দিকে ৩০–৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হেলিয়ে (Tilt) রাখা যায়।
    3. মনিটর চোখ থেকে স্বাভাবিক দূরত্বে (২০–৪০ ইঞ্চি) রাখতে হবে।
    4. সম্ভব হলে কম্পিউটারে কাজের জন্য আলাদা (একক দৃষ্টির) চশমা ব্যবহার করা ভালো।
      সাধারণ ব্যবহারকারী:   👁 ─────► 🖥 (চোখের সমান)
      বাইফোকাল ব্যবহারকারী:  👁
                              ╲
                               ╲───► 🖥 (একটু নিচে, ওপরের দিকে হেলানো)
    
  18. ২-সং-১৮বই: পৃষ্ঠা ৮৮

    ১৮.টাইপিং-এর জন্য একটি আদর্শ টেবিলের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

    উত্তর

    টাইপিংয়ের জন্য আদর্শ টেবিলের বৈশিষ্ট্য:

    1. উচ্চতা: সাধারণত ২৬–৩০ ইঞ্চি (৬৬–৭৬ সেমি), যাতে টাইপের সময় কনুই প্রায় ৯০ ডিগ্রিতে থাকে।
    2. কী-বোর্ড ট্রে: টেবিলের নিচে আলাদা কী-বোর্ড ট্রে থাকলে ভালো, যাতে কী-বোর্ড কনুইয়ের উচ্চতায় থাকে।
    3. প্রশস্ততা: মনিটর, কী-বোর্ড, মাউস ও কাগজপত্র রাখার মতো যথেষ্ট জায়গা থাকবে।
    4. গভীরতা: মনিটর চোখ থেকে ২০–৪০ ইঞ্চি দূরে রাখার মতো গভীর হবে।
    5. পায়ের জায়গা: টেবিলের নিচে পা আরামে রাখার মতো খালি জায়গা থাকবে।
    6. মজবুত: টেবিল নড়বড়ে হবে না।
    7. পৃষ্ঠতল: মসৃণ ও চকচকে নয় (আলো প্রতিফলিত না করে)।
    8. তার রাখার ব্যবস্থা: ক্যাবল গুছিয়ে রাখার ছিদ্র বা খাঁজ থাকবে।
  19. ২-সং-১৯বই: পৃষ্ঠা ৮৮

    ১৯.অনলাইন টাইপিং সফটওয়্যারের সুবিধা কী?

    উত্তর

    অনলাইন টাইপিং সফটওয়্যারের সুবিধা:

    1. বিনামূল্যে: বেশির ভাগ অনলাইন টাইপিং সাইট (typing.com, keybr.com) বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়।
    2. ইনস্টল লাগে না: শুধু ব্রাউজার ও ইন্টারনেট থাকলেই অনুশীলন করা যায়।
    3. যেকোনো ডিভাইস থেকে: কম্পিউটার বা ল্যাপটপে যেকোনো জায়গা থেকে অনুশীলন করা যায়।
    4. তাৎক্ষণিক ফলাফল: সাথে সাথে WPM, Accuracy ও ভুল দেখায়।
    5. অগ্রগতির রেকর্ড: অ্যাকাউন্ট খুললে প্রতিদিনের উন্নতি সংরক্ষিত থাকে।
    6. আকর্ষণীয়: গেম ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শেখা আনন্দদায়ক হয়।
    7. ধাপে ধাপে পাঠ: হোম-কী থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে কঠিন পাঠ দেওয়া হয়।
    8. সার্টিফিকেট: কিছু সাইট টাইপিং দক্ষতার সার্টিফিকেট দেয়।

রচনামূলক প্রশ্ন (৭টি)

  1. ২-র-১★★

    ১.কম্পিউটারে টাইপ করার সময় কী কী বিষয় বিবেচনা করতে হবে, বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২২, ২৬]

    উত্তর

    কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় টাইপ করলে চোখ, ঘাড়, পিঠ ও হাতে ব্যথা হতে পারে। তাই দ্রুত, নির্ভুল ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে টাইপ করার জন্য কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়:

                👁 চোখ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ┐ মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা একটু নিচে
                │       ২০–৪০ ইঞ্চি      ┌┴───┐
               🙂 ◄─────────────────────►│ 🖥 │
               ┃ পিঠ সোজা                 └────┘
         চেয়ার ┃━━━━ কনুই ৯০° ━━ ⌨ কী-বোর্ড (কব্জি সোজা)
               ┃
               ┗━━━━┓ হাঁটু ৯০°
                    ┃
                👣 পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা
             চিত্র: কম্পিউটারে কাজের সঠিক ভঙ্গি
    

    ১. বসার সঠিক ভঙ্গি:

    • পিঠ সোজা রেখে চেয়ারে বসতে হবে; চেয়ারের পিঠে হেলান দেওয়া যায়।
    • দুই পা মেঝেতে সমানভাবে রাখতে হবে; হাঁটু প্রায় ৯০ ডিগ্রিতে থাকবে।

    ২. হাতের অবস্থান:

    • আঙুল হোম-কীতে (ASDF – JKL;) থাকবে।
    • কনুই প্রায় ৯০ ডিগ্রি এবং কব্জি সোজা থাকবে।

    ৩. মনিটরের অবস্থান:

    • চোখ থেকে ২০–৪০ ইঞ্চি দূরে রাখতে হবে।
    • মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা একটু নিচে থাকবে।

    ৪. কী-বোর্ড ও মাউস:

    • কী-বোর্ড কনুইয়ের উচ্চতায়, শরীরের ঠিক সামনে থাকবে।
    • মাউস কী-বোর্ডের পাশেই রাখতে হবে, যাতে হাত বেশি প্রসারিত করতে না হয়।

    ৫. আলো:

    • ঘরে পর্যাপ্ত আলো থাকবে; পর্দায় যেন আলোর প্রতিফলন (Glare) না পড়ে।
    • জানালা মনিটরের ঠিক পেছনে বা সামনে না রেখে পাশে রাখা ভালো।

    ৬. টাইপিং কৌশল:

    • কী-বোর্ডের দিকে না তাকিয়ে টাচ টাইপিং অনুশীলন করতে হবে।
    • প্রতিটি আঙুল দিয়ে নির্দিষ্ট কী চাপতে হবে; কী আলতোভাবে চাপতে হবে।
    • প্রথমে নির্ভুলতার দিকে, পরে গতির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

    ৭. বিরতি নেওয়া:

    • প্রতি ২০–৩০ মিনিট পর একটু বিরতি নিতে হবে।
    • ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চোখকে বিশ্রাম দিতে হবে।
    • মাঝে মাঝে হাত, ঘাড় ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম করতে হবে।

    ৮. আসবাব: উচ্চতা নিয়ন্ত্রণযোগ্য চেয়ার ও উপযুক্ত উচ্চতার কম্পিউটার টেবিল ব্যবহার করতে হবে।

    উপসংহার: এসব নিয়ম মেনে টাইপ করলে কাজের গতি বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

  2. ২-র-২★★

    ২.টাইপিং-এর ক্ষেত্রে CPM, WPM, Accuracy ও Percentage of Error সম্পর্কে আলোচনা কর।

    • অথবা, টাইপিং-এর ক্ষেত্রে Accuracy ও Percentage of Error সম্পর্কে আলোচনা কর। [বিএমটি-২০২৫]

    উত্তর

    টাইপিংয়ের দক্ষতা দুটি বিষয় দিয়ে মাপা হয়: গতি (Speed) ও নির্ভুলতা (Accuracy)। গতি মাপা হয় CPM ও WPM দিয়ে, আর নির্ভুলতা মাপা হয় Accuracy ও Percentage of Error দিয়ে।

                      টাইপিং দক্ষতা
                           │
            ┌──────────────┴──────────────┐
          গতি (Speed)                নির্ভুলতা (Accuracy)
       ┌────┴────┐                   ┌────┴─────────┐
      CPM       WPM             Accuracy     Percentage of Error
    

    ১. CPM (Characters Per Minute): প্রতি মিনিটে টাইপ করা অক্ষরের সংখ্যা (বর্ণ, সংখ্যা, চিহ্ন ও স্পেসসহ)। সূত্র: CPM = মোট টাইপ করা অক্ষর ÷ সময় (মিনিটে)

    ২. WPM (Words Per Minute): প্রতি মিনিটে টাইপ করা শব্দের সংখ্যা। টাইপিংয়ের হিসাবে ৫টি অক্ষর = ১টি শব্দ ধরা হয়। সূত্র: WPM = (মোট টাইপ করা অক্ষর ÷ ৫) ÷ সময় (মিনিটে) = CPM ÷ ৫ নিট WPM: = WPM − (ভুল শব্দ ÷ সময়), অর্থাৎ ভুল বাদ দিয়ে প্রকৃত গতি।

    ৩. Accuracy (নির্ভুলতা): টাইপ করা মোট শব্দের মধ্যে কত শতাংশ সঠিক হয়েছে। সূত্র: Accuracy = (সঠিক শব্দ ÷ মোট শব্দ) × ১০০

    ৪. Percentage of Error (ভুলের শতকরা হার): টাইপ করা মোট শব্দের মধ্যে কত শতাংশ ভুল হয়েছে। সূত্র: ভুলের হার = (ভুল শব্দ ÷ মোট শব্দ) × ১০০

    একটি উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী ৫ মিনিটে ১০০০টি অক্ষর টাইপ করল, যাতে মোট ২০০টি শব্দের মধ্যে ১০টি শব্দ ভুল হলো।

    হিসাবসূত্রফলাফল
    CPM১০০০ ÷ ৫২০০
    WPM(১০০০ ÷ ৫) ÷ ৫৪০
    Accuracy(১৯০ ÷ ২০০) × ১০০৯৫%
    Percentage of Error(১০ ÷ ২০০) × ১০০৫%

    💡 মনে রাখো: Accuracy + Percentage of Error = ১০০%। আগে নির্ভুলতা, পরে গতি বাড়ানো উচিত।

    উপসংহার: ভালো টাইপিস্ট হতে হলে বেশি WPM-এর পাশাপাশি অন্তত ৯৫% Accuracy থাকা প্রয়োজন।

  3. ২-র-৩★★★

    ৩.স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টাইপিং অনুশীলনের বিধিমালা বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৪]

    উত্তর

    দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে টাইপ করলে চোখের সমস্যা, ঘাড় ও পিঠে ব্যথা, হাতের কব্জিতে ব্যথা (কারপাল টানেল সিনড্রোম) এবং বারবার একই কাজের কারণে আঘাত (RSI – Repetitive Strain Injury) হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কিছু বিধিমালা মেনে চলতে হয়:

                👁 চোখ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ┐ মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা একটু নিচে
                │       ২০–৪০ ইঞ্চি      ┌┴───┐
               🙂 ◄─────────────────────►│ 🖥 │
               ┃ পিঠ সোজা                 └────┘
         চেয়ার ┃━━━━ কনুই ৯০° ━━ ⌨ কী-বোর্ড (কব্জি সোজা)
               ┃
               ┗━━━━┓ হাঁটু ৯০°
                    ┃
                👣 পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা
             চিত্র: কম্পিউটারে কাজের সঠিক ভঙ্গি
    

    ১. বসার বিধি:

    • পিঠ সোজা রেখে, চেয়ারের পিঠে ভর দিয়ে বসতে হবে।
    • পা মেঝেতে সমানভাবে থাকবে; প্রয়োজনে পা রাখার টুল (Footrest) ব্যবহার।
    • উরু মেঝের সমান্তরাল এবং হাঁটু ৯০ ডিগ্রিতে থাকবে।

    ২. হাত ও কব্জির বিধি:

    • কনুই ৯০ ডিগ্রিতে, শরীরের কাছাকাছি থাকবে।
    • কব্জি সোজা রাখতে হবে; প্রয়োজনে রিস্ট রেস্ট ব্যবহার।
    • কী আলতোভাবে চাপতে হবে।

    ৩. চোখের সুরক্ষা বিধি:

    • মনিটর চোখ থেকে ২০–৪০ ইঞ্চি দূরে এবং ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা নিচে।
    • পর্দার উজ্জ্বলতা ও কনট্রাস্ট আরামদায়ক রাখা।
    • ২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিটে ২০ ফুট দূরে ২০ সেকেন্ড তাকানো।
    • ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা।

    ৪. আলো ও পরিবেশ:

    • পর্যাপ্ত আলো, কিন্তু পর্দায় প্রতিফলন যেন না পড়ে।
    • ঘর পরিষ্কার, বায়ু চলাচলযুক্ত ও আরামদায়ক তাপমাত্রার হবে।

    ৫. বিরতি ও ব্যায়াম:

    • প্রতি ৩০–৬০ মিনিট পর ৫–১০ মিনিট বিরতি।
    • বিরতিতে হাত, আঙুল, ঘাড় ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম; একটু হাঁটাহাঁটি।

    ৬. আসবাবের বিধি:

    • উচ্চতা নিয়ন্ত্রণযোগ্য, পিঠে ঠেস দেওয়ার ব্যবস্থাসহ চেয়ার।
    • উপযুক্ত উচ্চতার কম্পিউটার টেবিল ও কী-বোর্ড ট্রে।

    ৭. বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা:

    • ভেজা হাতে কম্পিউটার স্পর্শ না করা; তার ও প্লাগ ঠিক আছে কি না দেখা।
    শরীরের অংশঝুঁকিসুরক্ষার উপায়
    চোখচোখ ব্যথা, ঝাপসা দেখাসঠিক দূরত্ব, ২০-২০-২০ নিয়ম
    ঘাড় ও পিঠব্যথাপিঠ সোজা, মনিটর চোখের সমান
    হাত ও কব্জিকারপাল টানেল, RSIকব্জি সোজা, বিরতি
    পারক্ত চলাচলে সমস্যাপা মেঝেতে, মাঝে মাঝে হাঁটা

    উপসংহার: এসব বিধিমালা মেনে টাইপ অনুশীলন করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দীর্ঘদিন দক্ষতার সাথে কাজ করা যায়।

  4. ২-র-৪★

    ৪.টাইপিং অনুশীলন করার সময় চেয়ার ও কম্পিউটার টেবিল কেমন হওয়া উচিত? বর্ণনা কর।

    উত্তর

    টাইপিংয়ের সময় চেয়ার ও টেবিল সঠিক না হলে ঘাড়, পিঠ, হাত ও চোখে সমস্যা হয়। তাই এগুলো আর্গোনমিক (Ergonomic), অর্থাৎ শরীরের জন্য আরামদায়ক হওয়া উচিত।

             ┌────┐ মনিটর
             │ 🖥 │
     ════════╧════╧═══════  ← টেবিল (২৬–৩০ ইঞ্চি উঁচু)
        ⌨ কী-বোর্ড ট্রে
       ┃
       ┃ পিঠের ঠেস (সামান্য পেছনে হেলানো)
       ┣━━━━━━━┓ আসন (১৬–২১ ইঞ্চি উঁচু, উচ্চতা বদলানো যায়)
       ┃       ┃
       ┻  চাকা  ┻
            চিত্র: আদর্শ চেয়ার ও টেবিল
    

    চেয়ার কেমন হওয়া উচিত

    1. উচ্চতা নিয়ন্ত্রণযোগ্য: আসনের উচ্চতা প্রায় ১৬–২১ ইঞ্চির মধ্যে বদলানো যাবে, যাতে পা মেঝেতে সমানভাবে থাকে।
    2. পিঠের ঠেস (Backrest): কোমরের নিচের অংশে (Lumbar) ঠেস দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে, এবং সামান্য পেছনে হেলানো যাবে।
    3. আসন: নরম, আরামদায়ক এবং উরুর জন্য যথেষ্ট চওড়া ও গভীর।
    4. হাতল (Armrest): থাকলে উচ্চতা বদলানো যাবে, যাতে কাঁধ ঝুলে না থাকে।
    5. চাকা ও ঘোরানো: পাঁচ পায়ের চাকাযুক্ত ঘূর্ণায়মান চেয়ার হলে নড়াচড়া সহজ ও স্থিতিশীল।
    6. মজবুত ও নিরাপদ হবে।

    কম্পিউটার টেবিল কেমন হওয়া উচিত

    1. উচ্চতা: প্রায় ২৬–৩০ ইঞ্চি, যাতে টাইপের সময় কনুই ৯০ ডিগ্রিতে থাকে।
    2. কী-বোর্ড ট্রে: কী-বোর্ড ও মাউস কনুইয়ের উচ্চতায় রাখার জন্য টেবিলের নিচে ট্রে।
    3. পর্যাপ্ত জায়গা: মনিটর, কী-বোর্ড, মাউস ও কাগজপত্র রাখার মতো প্রশস্ত।
    4. গভীরতা: মনিটর ২০–৪০ ইঞ্চি দূরে রাখার মতো গভীর।
    5. পায়ের জায়গা: নিচে পা আরামে রাখার মতো খালি জায়গা।
    6. মজবুত ও নড়বড়ে নয়; পৃষ্ঠতল চকচকে নয়।
    7. ক্যাবল ব্যবস্থাপনা: তার গুছিয়ে রাখার খাঁজ বা ছিদ্র।
    8. সিপিইউ রাখার জায়গা: নিচে আলাদা তাক।

    উপসংহার: সঠিক চেয়ার ও টেবিল টাইপিংকে আরামদায়ক করে এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

  5. ২-র-৫

    ৫.স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টাইপিং কাজে ব্যবহৃত ফার্নিচারের স্পেসিফিকেশন বর্ণনা কর।

    উত্তর

    স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য টাইপিং কাজে ব্যবহৃত আসবাবপত্র আর্গোনমিক হওয়া উচিত। নিচে প্রয়োজনীয় ফার্নিচারের স্পেসিফিকেশন দেওয়া হলো:

    ১. কম্পিউটার চেয়ারের স্পেসিফিকেশন

    বিষয়স্পেসিফিকেশন
    ধরনঘূর্ণায়মান আর্গোনমিক চেয়ার
    আসনের উচ্চতা১৬–২১ ইঞ্চি (নিয়ন্ত্রণযোগ্য, গ্যাস লিফট)
    আসনের প্রস্থ ও গভীরতাপ্রায় ১৭–২০ ইঞ্চি
    পিঠের ঠেসকোমরের ঠেস (Lumbar support) সহ, হেলানো যায়
    হাতলউচ্চতা নিয়ন্ত্রণযোগ্য
    ভিত্তিপাঁচ পায়ের চাকাযুক্ত
    উপকরণনরম ফোম ও বাতাস চলাচলযোগ্য কাপড়/নেট

    ২. কম্পিউটার টেবিলের স্পেসিফিকেশন

    বিষয়স্পেসিফিকেশন
    উচ্চতা২৬–৩০ ইঞ্চি (৬৬–৭৬ সেমি)
    প্রস্থকমপক্ষে ৩৯–৪৮ ইঞ্চি (১০০–১২০ সেমি)
    গভীরতাকমপক্ষে ২৪–৩০ ইঞ্চি (৬০–৭৫ সেমি)
    কী-বোর্ড ট্রেস্লাইড করা যায় এমন, কনুইয়ের উচ্চতায়
    পায়ের জায়গানিচে বাধাহীন খালি জায়গা
    অন্যান্যসিপিইউ রাখার তাক, তার রাখার ছিদ্র, অচকচকে পৃষ্ঠ

    ৩. অন্যান্য সহায়ক উপকরণ

    উপকরণস্পেসিফিকেশন ও কাজ
    মনিটর স্ট্যান্ডমনিটর চোখের সমান উচ্চতায় তোলা
    পা রাখার টুল (Footrest)পা মেঝেতে না পৌঁছালে ব্যবহার, ৪–৬ ইঞ্চি উঁচু
    রিস্ট রেস্টকী-বোর্ড ও মাউসের সামনে কব্জির নরম ঠেস
    ডকুমেন্ট হোল্ডারকাগজ দেখে টাইপের সময় কাগজ মনিটরের পাশে চোখের সমান উচ্চতায় রাখা
    টেবিল ল্যাম্পপর্দায় প্রতিফলন ছাড়া পর্যাপ্ত আলো

    উপসংহার: এই স্পেসিফিকেশন মেনে আসবাব বেছে নিলে টাইপিস্টের চোখ, ঘাড়, পিঠ ও হাত সুরক্ষিত থাকে এবং কাজের দক্ষতা বাড়ে।

  6. ২-র-৬★

    ৬.টাইপিং অনুশীলনের ক্ষেত্রে হোম-কীসমূহের বর্ণনা দাও।

    উত্তর

    হোম-কী: কী-বোর্ডের মাঝের সারির যে ৮টি কী-তে টাইপ শুরুর আগে দুই হাতের আঙুল রাখা হয় এবং প্রতিটি কী চাপার পর আঙুল আবার সেখানে ফিরে আসে, সেগুলোকে হোম-কী বলে। এই সারিকে হোম রো (Home Row) বলে।

     ┌───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┐
     │ Q │ W │ E │ R │ T │ Y │ U │ I │ O │ P │ [ │   ← উপরের সারি
     └┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┘
      │ A │ S │ D │ F̲ │ G │ H │ J̲ │ K │ L │ ; │      ← হোম সারি (মাঝের সারি)
      └─▲─┴─▲─┴─▲─┴─▲─┴───┴───┴─▲─┴─▲─┴─▲─┴─▲─┘
       কনিষ্ঠা অনামিকা মধ্যমা তর্জনী      তর্জনী মধ্যমা অনামিকা কনিষ্ঠা
       └──────── বাম হাত ────────┘      └──────── ডান হাত ────────┘
              দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি থাকবে স্পেসবারের ওপর
       (F ও J কী-তে ছোট উঁচু দাগ থাকে, চোখ না দেখেও আঙুল বসানো যায়)
    

    আঙুল অনুযায়ী হোম-কী:

    বাম হাতহোম-কীডান হাতহোম-কী
    কনিষ্ঠাAতর্জনীJ
    অনামিকাSমধ্যমাK
    মধ্যমাDঅনামিকাL
    তর্জনীFকনিষ্ঠা;
    বৃদ্ধাঙ্গুলিস্পেসবারবৃদ্ধাঙ্গুলিস্পেসবার

    প্রতিটি আঙুলের দায়িত্বের কী (উদাহরণ):

    • বাম তর্জনী: F, G, R, T, V, B, 4, 5
    • ডান তর্জনী: J, H, U, Y, N, M, 6, 7
    • অন্য আঙুলগুলো নিজের হোম-কীর ওপরের ও নিচের কী চাপে।

    হোম-কীর গুরুত্ব:

    1. টাচ টাইপিং শেখার ভিত্তি: কী-বোর্ডের দিকে না তাকিয়ে টাইপ করা যায়।
    2. গতি বৃদ্ধি: আঙুলের কম নড়াচড়ায় দ্রুত টাইপ হয়।
    3. নির্ভুলতা: প্রতিটি আঙুলের নির্দিষ্ট কী থাকায় ভুল কম হয়।
    4. ক্লান্তি কম: সব আঙুল ভাগ করে কাজ করায় হাত কম ক্লান্ত হয়।
    5. সহজ অবস্থান নির্ণয়: F ও J-এর উঁচু দাগে না দেখেই আঙুল বসানো যায়।

    অনুশীলনের ধাপ:

    1. প্রথমে শুধু হোম-কী: asdf jkl; asdf jkl;
    2. তারপর হোম-কীর শব্দ: sad lad fall ask
    3. ধীরে ধীরে ওপরের ও নিচের সারি যোগ করা।
  7. ২-র-৭

    ৭.টাইপিং অনুশীলনের অনলাইন সফটওয়্যারের সুবিধা-অসুবিধাসমূহ বর্ণনা কর।

    উত্তর

    অনলাইন টাইপিং সফটওয়্যার: ইন্টারনেট ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টাইপিং শেখা ও গতি পরীক্ষার সফটওয়্যারকে অনলাইন টাইপিং সফটওয়্যার বলে। যেমন: typing.com, keybr.com, 10fastfingers.com, Ratatype।

      💻 কম্পিউটার ──► 🌐 ইন্টারনেট ──► typing.com ──► পাঠ ও পরীক্ষা
                                                 ──► WPM, Accuracy ফলাফল
    

    সুবিধা

    1. বিনামূল্যে: বেশির ভাগ সাইট বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়।
    2. ইনস্টল লাগে না: শুধু ব্রাউজার থাকলেই চলে; কম্পিউটারে জায়গা লাগে না।
    3. যেকোনো জায়গা থেকে: বাসা, কলেজ বা সাইবার ক্যাফে, যেকোনো জায়গা থেকে অনুশীলন।
    4. তাৎক্ষণিক ফলাফল: সাথে সাথে WPM, Accuracy ও ভুল কী দেখায়।
    5. অগ্রগতির রেকর্ড: অ্যাকাউন্টে প্রতিদিনের উন্নতি সংরক্ষিত থাকে।
    6. আকর্ষণীয় শেখা: গেম, চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতা থাকে।
    7. ধাপে ধাপে পাঠ: সহজ থেকে কঠিন পাঠ সাজানো থাকে।
    8. হালনাগাদ: নতুন পাঠ ও সুবিধা নিজে থেকেই যোগ হয়।
    9. সার্টিফিকেট: কিছু সাইট দক্ষতার সনদ দেয়।

    অসুবিধা

    1. ইন্টারনেট নির্ভরতা: ইন্টারনেট না থাকলে অনুশীলন করা যায় না।
    2. ইন্টারনেট খরচ: নিয়মিত অনুশীলনে ডেটা খরচ হয়।
    3. বিজ্ঞাপন: বিনামূল্যের সাইটে বিজ্ঞাপন মনোযোগ নষ্ট করে।
    4. ধীর ইন্টারনেটে সমস্যা: গতি কম হলে পাতা আটকে যায়, ফলাফল ভুল আসতে পারে।
    5. বাংলা টাইপের সুযোগ কম: বেশির ভাগ সাইট ইংরেজিভিত্তিক।
    6. গোপনীয়তা: অ্যাকাউন্ট খুলতে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হয়।
    7. কিছু সুবিধা টাকায়: উন্নত পাঠ বা সার্টিফিকেটের জন্য টাকা লাগতে পারে।
    বিষয়অনলাইন সফটওয়্যারঅফলাইন সফটওয়্যার
    ইন্টারনেটলাগেলাগে না
    ইনস্টললাগে নালাগে
    হালনাগাদস্বয়ংক্রিয়হাতে করতে হয়
    উদাহরণtyping.comTyping Master

    উপসংহার: ইন্টারনেট সুবিধা থাকলে অনলাইন টাইপিং সফটওয়্যার টাইপ শেখার সহজ ও কার্যকর মাধ্যম।