ICTebook
← কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-২

কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-২

অধ্যায় ৩: কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

তারকা অনুযায়ী প্রশ্ন বাছাই

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২৯টি)

  1. ৩-সং-১★বই: পৃষ্ঠা ৫৮

    ১.কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী?

    • অথবা, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে লেখ। [বিএমটি-২৬]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: একাধিক কম্পিউটার, যোগাযোগ মাধ্যম, তথ্য ও রিসোর্স শেয়ার, LAN, MAN, WAN

    কম্পিউটার নেটওয়ার্ক: দুই বা ততোধিক কম্পিউটার বা ডিভাইস যখন কোনো যোগাযোগ মাধ্যম (তার বা তারবিহীন) দিয়ে পরস্পর যুক্ত থেকে তথ্য আদান-প্রদান ও রিসোর্স (প্রিন্টার, ইন্টারনেট, ফাইল) শেয়ার করে, তখন তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।

    উদাহরণ: কলেজের কম্পিউটার ল্যাবের LAN, ইন্টারনেট। আয়তন অনুযায়ী নেটওয়ার্ক PAN, LAN, MAN ও WAN হতে পারে।

    নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (আয়তন অনুযায়ী)

    আয়তন অনুযায়ী নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ

  2. ৩-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৮

    ২.ডাটা কমিউনিকেশন সিস্টেম কী? [বিএমটি-২৬]

    • অথবা, ডাটা কমিউনিকেশন ব্যবস্থা কী?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: ডাটা আদান-প্রদান, প্রেরক, প্রাপক, মাধ্যম, বার্তা, প্রটোকল

    ডাটা কমিউনিকেশন সিস্টেম: এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে কোনো মাধ্যমের সাহায্যে নির্ভুলভাবে ডাটা বা তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাকে ডাটা কমিউনিকেশন সিস্টেম বলে।

    এর পাঁচটি উপাদান: বার্তা (Message), প্রেরক (Sender), প্রাপক (Receiver), মাধ্যম (Medium) ও প্রটোকল (Protocol)। উদাহরণ: ই-মেইল পাঠানো, মোবাইলে ভিডিও কল।

    ডাটা কমিউনিকেশন মডেল

    ডাটা কমিউনিকেশন মডেল

  3. ৩-সং-৩★বই: পৃষ্ঠা ৫৯

    ৩.চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ফোনের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ। [বিএমটি-২০২৬]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: উচ্চগতির ইন্টারনেট, LTE, সম্পূর্ণ IP-ভিত্তিক, HD ভিডিও কল, VoLTE, কম লেটেন্সি

    চতুর্থ প্রজন্মের (4G) মোবাইল ফোনের তিনটি বৈশিষ্ট্য:

    1. উচ্চগতির ইন্টারনেট: LTE প্রযুক্তিতে চলমান অবস্থায় প্রায় ১০০ Mbps এবং স্থির অবস্থায় ১ Gbps পর্যন্ত গতি দিতে সক্ষম।
    2. উন্নত মাল্টিমিডিয়া সেবা: HD ভিডিও কল, অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং ও অনলাইন গেম সহজে চালানো যায়।
    3. সম্পূর্ণ IP-ভিত্তিক যোগাযোগ: ভয়েস কলও ইন্টারনেট প্রটোকলে (VoLTE) চলে, ফলে দ্রুত ও উন্নত মানের যোগাযোগ হয়।
  4. ৩-সং-৪★★বই: পৃষ্ঠা ৫৯

    ৪.Wi-Fi ও Wi-MAX-এর পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২৫]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: IEEE 802.11 বনাম 802.16, LAN বনাম MAN, কভারেজ, গতি, হাফ বনাম ফুল ডুপ্লেক্স

    Wi-Fi ও Wi-MAX-এর পার্থক্য নিম্নরূপ:

    বিষয়Wi-FiWi-MAX
    পূর্ণরূপWireless FidelityWorldwide Interoperability for Microwave Access
    স্ট্যান্ডার্ডIEEE 802.11 (a/b/g/n/ac/ax)IEEE 802.16
    নেটওয়ার্কের ধরনLAN (WLAN)MAN (WMAN)
    কভারেজসাধারণত ৩০–১০০ মিটারপ্রায় ১০–৫০ কিমি
    গতি802.11g-তে 54 Mbps; আধুনিক Wi-Fi 6-এ কয়েক Gbps পর্যন্ত802.16e-তে প্রায় 70 Mbps পর্যন্ত
    ট্রান্সমিশন মোডহাফ-ডুপ্লেক্স (শেয়ার্ড চ্যানেল)ফুল-ডুপ্লেক্স
    ব্যবহারবাসা, অফিস, ক্যাম্পাসে ইন্টারনেটশহর বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে তারবিহীন ব্রডব্যান্ড

    সংশোধন: বইয়ে Wi-Fi-এর গতি সর্বোচ্চ ৫৪ Mbps লেখা, যা পুরোনো 802.11g স্ট্যান্ডার্ডের। আধুনিক Wi-Fi 5/6-এ গতি অনেক বেশি।

  5. ৩-সং-৫★বই: পৃষ্ঠা ৫৯

    ৫.রাউটার কী?

    • অথবা, রাউটার কী? রাউটারের ব্যবহার লেখ। [বিএমটি-২৫]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: রাউটিং, ভিন্ন নেটওয়ার্ক যুক্ত, IP অ্যাড্রেস, নেটওয়ার্ক লেয়ার, সর্বোত্তম পথ

    রাউটার: এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে ডাটা পাঠানোর পদ্ধতিকে রাউটিং বলে, আর যে ডিভাইস রাউটিংয়ের কাজ করে তাকে রাউটার বলে। এটি ডাটা প্যাকেটের IP অ্যাড্রেস দেখে গন্তব্যে যাওয়ার সর্বোত্তম পথ নির্ধারণ করে এবং OSI মডেলের নেটওয়ার্ক লেয়ারে (লেয়ার ৩) কাজ করে।

    রাউটারের ব্যবহার:

    • দুটি বা ততোধিক ভিন্ন নেটওয়ার্ক (যেমন বাসার LAN ও ইন্টারনেট) যুক্ত করে।
    • ডাটা প্যাকেটের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পথ বেছে নেয়।
    • LAN, MAN ও WAN সব ধরনের নেটওয়ার্কে কাজ করে।
    • Wi-Fi রাউটার হিসেবে বাসা ও অফিসে তারবিহীন ইন্টারনেট সংযোগ দেয়।
    • ফায়ারওয়াল ও NAT সুবিধার মাধ্যমে নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা দেয়।

    রাউটার দুটি নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে

    রাউটারের মাধ্যমে দুটি নেটওয়ার্কের সংযোগ

  6. ৩-সং-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৫৯

    ৬.কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কম্পোনেন্ট ও ডিভাইসসমূহের একটি তালিকা তৈরি কর।

    • অথবা, কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কম্পোনেন্টের নাম লেখ। [বিএমটি-২০২৪]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার, NIC, হাব, সুইচ, রাউটার, রিপিটার, ব্রিজ, গেটওয়ে

    কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কম্পোনেন্ট ও ডিভাইসের তালিকা:

    প্রধান তিনটি উপাদান: ১) অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, ২) নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার, ৩) নেটওয়ার্ক হার্ডওয়্যার।

    নেটওয়ার্ক হার্ডওয়্যারসমূহ:

    ১. নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)৭. রিপিটার (Repeater)
    ২. ব্রিজ (Bridge)৮. রাউটার (Router)
    ৩. ব্রাউটার (Brouter)৯. গেটওয়ে (Gateway)
    ৪. হাব (Hub)১০. সুইচ (Switch)
    ৫. ট্রান্সমিশন মিডিয়া১১. মডেম (Modem)
    ৬. ক্যাবল কানেক্টর (Cable connectors)১২. অ্যাক্সেস পয়েন্ট (Access Point)
  7. ৩-সং-৭বই: পৃষ্ঠা ৫৯

    ৭.নেটওয়ার্ক টপোলজি বলতে কী বুঝায়? এটি কত প্রকার ও কী কী? [বিএমটি-২০২৪]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: কম্পিউটারের সংযোগ বিন্যাস, ফিজিক্যাল ও লজিক্যাল, বাস, স্টার, রিং, ট্রি, মেশ, হাইব্রিড

    নেটওয়ার্ক টপোলজি: নেটওয়ার্কে কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইস (প্রিন্টার, স্ক্যানার ইত্যাদি) পরস্পরের সাথে যে নকশা বা বিন্যাসে সংযুক্ত থাকে, তাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে।

    টপোলজি প্রধানত দুই প্রকার: ফিজিক্যাল টপোলজি (তারের প্রকৃত সংযোগ বিন্যাস) ও লজিক্যাল টপোলজি (ডাটা চলাচলের পথ)। ফিজিক্যাল টপোলজি ছয় প্রকার:

    1. বাস টপোলজি (Bus)
    2. স্টার টপোলজি (Star)
    3. রিং টপোলজি (Ring)
    4. ট্রি টপোলজি (Tree)
    5. মেশ টপোলজি (Mesh)
    6. হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid)

    স্টার টপোলজি

    উদাহরণ: স্টার টপোলজি

  8. ৩-সং-৮★★বই: পৃষ্ঠা ৬০

    ৮.কমিউনিকেশন সিস্টেম বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: তথ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, উৎস, প্রেরক যন্ত্র, চ্যানেল, গ্রাহক যন্ত্র, গন্তব্য

    কমিউনিকেশন সিস্টেম: যে ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো তথ্য, শব্দ, ছবি বা ডাটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক ব্যক্তি/যন্ত্র থেকে অন্য ব্যক্তি/যন্ত্রে পাঠানো ও গ্রহণ করা হয়, তাকে কমিউনিকেশন সিস্টেম বলে।

    এর মূল অংশ: উৎস (Source) → প্রেরক যন্ত্র (Transmitter) → যোগাযোগ চ্যানেল (Channel) → গ্রাহক যন্ত্র (Receiver) → গন্তব্য (Destination)। উদাহরণ: টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট।

    ডাটা কমিউনিকেশন মডেল

    কমিউনিকেশন সিস্টেমের মৌলিক কাঠামো

  9. ৩-সং-৯★★বই: পৃষ্ঠা ৬০

    ৯.Local Communication বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: স্বল্প দূরত্ব, একই ভবন বা ক্যাম্পাস, সরাসরি সংযোগ, LAN

    Local Communication: স্বল্প দূরত্বে, যেমন একই কক্ষ, ভবন বা ক্যাম্পাসের মধ্যে অবস্থিত কম্পিউটার বা ডিভাইসগুলোর মধ্যে সরাসরি তার বা তারবিহীন মাধ্যমে যে তথ্য আদান-প্রদান হয়, তাকে লোকাল কমিউনিকেশন বলে।

    উদাহরণ: অফিসের LAN-এ এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ফাইল পাঠানো, ব্লুটুথে ফোন থেকে ছবি পাঠানো। এতে গতি বেশি ও খরচ কম।

  10. ৩-সং-১০★★বই: পৃষ্ঠা ৬০

    ১০.Remote Communication বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: দূরবর্তী স্থান, টেলিফোন লাইন, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, WAN

    Remote Communication: দূরবর্তী স্থানে, যেমন ভিন্ন শহর বা দেশে অবস্থিত কম্পিউটার বা ডিভাইসের মধ্যে টেলিফোন লাইন, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ফাইবার অপটিক, ইন্টারনেট বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যে তথ্য আদান-প্রদান হয়, তাকে রিমোট কমিউনিকেশন বলে।

    উদাহরণ: ঢাকা থেকে লন্ডনে ই-মেইল পাঠানো, ভিডিও কনফারেন্স, অনলাইন ব্যাংকিং। এটি সাধারণত WAN-এর মাধ্যমে হয়।

  11. ৩-সং-১১★★বই: পৃষ্ঠা ৬০

    ১১.Data Communication-এর ৪টি বৈশিষ্ট্য লেখ।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: ডেলিভারি, নির্ভুলতা (Accuracy), সময়ানুবর্তিতা (Timeliness), জিটার (Jitter)

    ডাটা কমিউনিকেশনের ৪টি বৈশিষ্ট্য:

    1. ডেলিভারি (Delivery): ডাটা অবশ্যই সঠিক প্রাপকের কাছে পৌঁছাতে হবে।
    2. নির্ভুলতা (Accuracy): ডাটা কোনো পরিবর্তন বা ত্রুটি ছাড়া পৌঁছাতে হবে।
    3. সময়ানুবর্তিতা (Timeliness): ডাটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে হবে, বিশেষত অডিও-ভিডিওর ক্ষেত্রে।
    4. জিটার (Jitter): ডাটা প্যাকেট পৌঁছানোর সময়ের ব্যবধান সমান থাকতে হবে, নইলে ভিডিও বা কল ভেঙে যায়।
  12. ৩-সং-১২★বই: পৃষ্ঠা ৬০

    ১২.সুইচ কী? সুইচের সুবিধা ও অসুবিধা লেখ।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: MAC অ্যাড্রেস, নির্দিষ্ট পোর্টে ডাটা, লেয়ার ২, দ্রুত ও নিরাপদ, মূল্য বেশি

    সুইচ: সুইচ একটি নেটওয়ার্ক ডিভাইস, যা একাধিক কম্পিউটারকে যুক্ত করে এবং প্রাপ্ত ডাটার MAC অ্যাড্রেস দেখে শুধু নির্দিষ্ট গন্তব্য পোর্টে ডাটা পাঠায়। এটি ডাটা লিংক লেয়ারে কাজ করে।

    সুবিধাঅসুবিধা
    ডাটা শুধু প্রাপকের কাছে যায়, তাই নিরাপদহাবের তুলনায় দাম বেশি
    ডাটা সংঘর্ষ হয় না বললেই চলেম্যানেজড সুইচের কনফিগারেশন জটিল
    প্রতিটি পোর্ট পূর্ণ ব্যান্ডউইথ পায়, গতি বেশিভিন্ন নেটওয়ার্ক (যেমন ইন্টারনেট) যুক্ত করতে রাউটার লাগে
    ফুল-ডুপ্লেক্সে কাজ করেব্রডকাস্ট ডাটা নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধতা আছে

    হাব বনাম সুইচ

    হাব সব পোর্টে, সুইচ শুধু গন্তব্যে ডাটা পাঠায়

  13. ৩-সং-১৩★বই: পৃষ্ঠা ৬০

    ১৩.হাব কী? হাবের সুবিধা ও অসুবিধা লেখ।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: সব পোর্টে ডাটা (Broadcast), লেয়ার ১, সস্তা, ডাটা সংঘর্ষ, নিরাপত্তা কম

    হাব: হাব একটি সাধারণ নেটওয়ার্ক ডিভাইস, যা একাধিক কম্পিউটারকে একটি কেন্দ্রীয় বিন্দুতে যুক্ত করে। এটি কোনো পোর্টে ডাটা পেলে তা সব পোর্টে পাঠিয়ে দেয় (Broadcast)। এটি ফিজিক্যাল লেয়ারে কাজ করে।

    সুবিধাঅসুবিধা
    দাম কমসব কম্পিউটারে ডাটা যায়, তাই নিরাপত্তা কম
    ব্যবহার ও কনফিগারেশন সহজডাটা সংঘর্ষ বেশি হয়, গতি কমে যায়
    ছোট নেটওয়ার্কের জন্য যথেষ্টসব পোর্ট একই ব্যান্ডউইথ ভাগ করে
    স্টার টপোলজি তৈরিতে সহায়কঠিকানা চিনতে পারে না, বুদ্ধিমত্তা নেই

    হাব বনাম সুইচ

    হাব সব পোর্টে, সুইচ শুধু গন্তব্যে ডাটা পাঠায়

  14. ৩-সং-১৪★বই: পৃষ্ঠা ৬০

    ১৪.মাইক্রোওয়েভ বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: উচ্চ কম্পাঙ্কের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, 300 MHz–300 GHz, দৃষ্টিরেখা, টেরেস্ট্রিয়াল ও স্যাটেলাইট

    মাইক্রোওয়েভ: মাইক্রোওয়েভ এক ধরনের উচ্চ কম্পাঙ্কের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, যার কম্পাঙ্ক সাধারণত ৩০০ মেগাহার্জ থেকে ৩০০ গিগাহার্জ। এটি সোজা পথে চলে, তাই প্রেরক ও গ্রাহক অ্যান্টেনা পরস্পরের দৃষ্টিরেখায় (Line of Sight) থাকতে হয়।

    মাইক্রোওয়েভ দুই প্রকার: ১) টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ (ভূপৃষ্ঠের টাওয়ারভিত্তিক) ও ২) স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ। মোবাইল নেটওয়ার্ক, স্যাটেলাইট টিভি ও রাডারে এটি ব্যবহৃত হয়।

    টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ

    টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ

  15. ৩-সং-১৫বই: পৃষ্ঠা ৬১

    ১৫.নেটওয়ার্ক প্রটোকল কী?

    • অথবা, নেটওয়ার্ক প্রটোকল বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: নিয়মকানুনের সমষ্টি, ডাটা কমিউনিকেশন, অভিন্ন নিয়ম, TCP/IP

    নেটওয়ার্ক প্রটোকল: নেটওয়ার্কে দুই বা ততোধিক কম্পিউটার বা ডিভাইসের মধ্যে ডাটা আদান-প্রদানের জন্য অনুসৃত একগুচ্ছ নিয়মকানুনকে প্রটোকল বলে। ডাটা কীভাবে পাঠানো হবে, কত গতিতে, কোন ফরম্যাটে এবং ত্রুটি হলে কী করা হবে, তা প্রটোকল নির্ধারণ করে।

    যোগাযোগের সময় দুটি কম্পিউটার একই নিয়ম অনুসরণ না করলে তারা পরস্পরকে বুঝতে পারে না। ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত প্রটোকল হলো TCP/IP; এছাড়া HTTP, FTP, SMTP ইত্যাদি।

  16. ৩-সং-১৬বই: পৃষ্ঠা ৬১

    ১৬.বাস ও রিং টপোলজির পার্থক্য লেখ।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: একটি মূল তার বনাম বৃত্তাকার সংযোগ, খরচ, নির্ভরযোগ্যতা, ডাটা সংঘর্ষ

    বাস ও রিং টপোলজির পার্থক্য নিম্নরূপ:

    বিষয়বাস টপোলজিরিং টপোলজি
    সংজ্ঞাএকটি মূল তারের (ব্যাকবোন) সাথে সব কম্পিউটার যুক্ত থাকেপ্রতিটি কম্পিউটার পাশের দুটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে বৃত্ত তৈরি করে
    ডাটা প্রবাহমূল তারের মাধ্যমে সব কম্পিউটারে পৌঁছায়, শুধু প্রাপক গ্রহণ করেএক কম্পিউটার থেকে পরেরটিতে এক দিকে ঘুরে প্রাপকের কাছে পৌঁছায়
    খরচতার কম লাগে, তাই খরচ কমতুলনামূলক বেশি তার ও ডিভাইস লাগে
    নির্ভরযোগ্যতাব্যাকবোন কাটা পড়লে পুরো নেটওয়ার্ক অচলএকটি কম্পিউটার বা সংযোগ নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল (একমুখী রিংয়ে)
    ডাটা সংঘর্ষট্রাফিক বেশি হলে সংঘর্ষের (Collision) সম্ভাবনা বেশিটোকেন পাসিং পদ্ধতিতে সংঘর্ষ প্রায় হয় না
    নতুন কম্পিউটার যোগসহজতুলনামূলক কঠিন, রিং ভাঙতে হয়
    উপযোগিতাছোট নেটওয়ার্কমাঝারি নেটওয়ার্ক যেখানে সমান সুযোগ দরকার

    বাস টপোলজি

    রিং টপোলজি

    সংশোধন: বইয়ের সারণিতে বাস টপোলজির খরচ রিং-এর চেয়ে বেশি এবং বাস বেশি নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী বাস টপোলজিতে তার কম লাগে বলে খরচ কম, আর ব্যাকবোন নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়।

  17. ৩-সং-১৭বই: পৃষ্ঠা ৬১

    ১৭.ক্লাউড কম্পিউটিং কী?

    • অথবা, ক্লাউড কম্পিউটিং বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা, স্টোরেজ, সার্ভার, সফটওয়্যার, চাহিদামতো ভাড়া, Google Drive

    ক্লাউড কম্পিউটিং: ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরবর্তী সার্ভারে থাকা কম্পিউটিং সেবা, যেমন ডাটা স্টোরেজ, সার্ভার, ডাটাবেজ, সফটওয়্যার ও প্রসেসিং ক্ষমতা, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা এবং ব্যবহার অনুযায়ী মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থাকে ক্লাউড কম্পিউটিং বলে।

    এখানে ব্যবহারকারীকে নিজস্ব সার্ভার বা সফটওয়্যার কিনতে হয় না। উদাহরণ: Google Drive, Gmail, Microsoft OneDrive, Dropbox, Amazon Web Services (AWS)।

    সংশোধন: বইয়ের সংজ্ঞায় "কম্পিউটারগুলো মেঘের মতো ছড়িয়ে থাকে" বলা হয়েছে, যা অস্পষ্ট। এখানে প্রচলিত সংজ্ঞা দেওয়া হলো।

  18. ৩-সং-১৮বই: পৃষ্ঠা ৬১

    ১৮.ক্লাউড কম্পিউটিং-এর সুবিধা কী কী?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: যেকোনো স্থান থেকে ব্যবহার, খরচ কম, স্কেলেবিলিটি, শেয়ারিং, স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ

    ক্লাউড কম্পিউটিং-এর সুবিধাসমূহ:

    1. যেকোনো স্থান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডাটা ও সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায়।
    2. নিজস্ব সার্ভার কিনতে হয় না, ব্যবহার অনুযায়ী (Pay-as-you-go) খরচ দিতে হয়।
    3. প্রয়োজনমতো স্টোরেজ ও প্রসেসিং ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো-কমানো (Scalability) যায়।
    4. একসাথে অনেক ব্যবহারকারী একই ফাইলে কাজ করতে পারেন।
    5. স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ থাকে বলে ডাটা হারানোর ঝুঁকি কম।
    6. সফটওয়্যার হালনাগাদ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান করে।
    7. কম্পিউটার নষ্ট হলেও ডাটা নিরাপদ থাকে।
  19. ৩-সং-১৯বই: পৃষ্ঠা ৬১

    ১৯.ক্লাউড কম্পিউটিং-এর অসুবিধা কী কী?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: ইন্টারনেট নির্ভরতা, নিয়ন্ত্রণের অভাব, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ঝুঁকি, সেবাদাতার উপর নির্ভরতা

    ক্লাউড কম্পিউটিং-এর অসুবিধাসমূহ:

    1. ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া ব্যবহার করা যায় না।
    2. ডাটা কোথায় ও কীভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে তা ব্যবহারকারী জানতে পারেন না।
    3. ডাটার উপর ব্যবহারকারীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
    4. সেবাদাতার সার্ভারে হ্যাকিং হলে তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ঝুঁকিতে পড়ে।
    5. সেবাদাতার সার্ভার বন্ধ থাকলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
    6. এক সেবাদাতা থেকে অন্য সেবাদাতায় ডাটা স্থানান্তর কঠিন হতে পারে।
  20. ৩-সং-২০★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ২০.সিগন্যাল ট্রান্সমিশন মোড কী?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: সিগন্যালের প্রবাহের দিক, সিমপ্লেক্স, হাফ-ডুপ্লেক্স, ফুল-ডুপ্লেক্স

    সিগন্যাল ট্রান্সমিশন মোড: ডাটা বা সিগন্যাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কোন দিকে এবং কীভাবে প্রবাহিত হবে, তার পদ্ধতিকে ট্রান্সমিশন মোড বলে। প্রবাহের দিক অনুযায়ী এটি তিন প্রকার:

    মোডবৈশিষ্ট্যউদাহরণ
    সিমপ্লেক্স (Simplex)শুধু এক দিকেরেডিও, টিভি সম্প্রচার, কীবোর্ড থেকে কম্পিউটার
    হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-duplex)দুই দিকে, তবে একবারে এক দিকেওয়াকি-টকি
    ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-duplex)একই সময়ে দুই দিকেমোবাইল ফোন, টেলিফোন

    ট্রান্সমিশন মোড

    তিন ধরনের ট্রান্সমিশন মোড

  21. ৩-সং-২১বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ২১.ট্রান্সমিশন মিডিয়া কী?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: ডাটা চলাচলের পথ, গাইডেড (তার), আনগাইডেড (তারবিহীন)

    ট্রান্সমিশন মিডিয়া: যে মাধ্যমের ভেতর দিয়ে ডাটা বা সিগন্যাল প্রেরক থেকে প্রাপকের কাছে পৌঁছায়, তাকে ট্রান্সমিশন মিডিয়া বলে। এটি দুই প্রকার:

    • গাইডেড বা তার মাধ্যম (Wired): টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল, কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল।
    • আনগাইডেড বা তারবিহীন মাধ্যম (Wireless): রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ, স্যাটেলাইট, ইনফ্রারেড।
  22. ৩-সং-২২★★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ২২.সিরিয়াল ও প্যারালাল ট্রান্সমিশনের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: এক লাইনে একটি একটি বিট বনাম একাধিক লাইনে একসাথে বিট, দূরত্ব, খরচ, উদাহরণ

    সিরিয়াল ও প্যারালাল ট্রান্সমিশনের পার্থক্য নিম্নরূপ:

    বিষয়সিরিয়াল ট্রান্সমিশনপ্যারালাল ট্রান্সমিশন
    পদ্ধতিএকটি লাইনে একটির পর একটি বিট যায়একাধিক (যেমন ৮টি) লাইনে একসাথে একাধিক বিট যায়
    তারের সংখ্যাকম (একটি ডাটা লাইন)বেশি
    দূরত্বদূরের যোগাযোগের জন্য উপযোগীস্বল্প দূরত্বের জন্য উপযোগী
    খরচকমবেশি
    সমন্বয় সমস্যাবিটগুলোর সময়ের গরমিল (Skew) হয় নাদূরত্ব বাড়লে বিটগুলোর সময়ের গরমিল হয়
    উদাহরণUSB, ইথারনেট, SATAপুরোনো প্রিন্টার পোর্ট, CPU-এর অভ্যন্তরীণ বাস

    আধুনিক উচ্চগতির সিরিয়াল প্রযুক্তি (USB 3, PCIe) এখন প্যারালালের চেয়েও দ্রুত।

    সিরিয়াল ও প্যারালাল ট্রান্সমিশন

    বাইট 10110010 পাঠানো: সিরিয়াল বনাম প্যারালাল

  23. ৩-সং-২৩★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ২৩.সিমপ্লেক্স বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: এক দিকে প্রবাহ, প্রেরক শুধু পাঠায়, প্রাপক শুধু গ্রহণ করে, রেডিও, টিভি

    সিমপ্লেক্স: যে ট্রান্সমিশন মোডে ডাটা শুধু এক দিকে প্রবাহিত হয়, অর্থাৎ প্রেরক কেবল পাঠাতে পারে আর প্রাপক কেবল গ্রহণ করতে পারে, উত্তর পাঠানো যায় না, তাকে সিমপ্লেক্স মোড বলে।

    উদাহরণ: রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচার, কীবোর্ড থেকে কম্পিউটারে ডাটা প্রেরণ, পেজার।

    ট্রান্সমিশন মোড

    সিমপ্লেক্স, হাফ-ডুপ্লেক্স ও ফুল-ডুপ্লেক্স

  24. ৩-সং-২৪★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ২৪.অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল কী?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: কাচ বা প্লাস্টিকের সরু তন্তু, আলোক সংকেত, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন, কোর, ক্ল্যাডিং, জ্যাকেট

    অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল: কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি অত্যন্ত সরু ও স্বচ্ছ তন্তুর মধ্য দিয়ে আলোক সংকেতের মাধ্যমে ডাটা পাঠানোর ক্যাবলকে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল বলে। এতে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন নীতিতে ডাটা চলে।

    এর তিনটি প্রধান অংশ: কোর, ক্ল্যাডিং ও জ্যাকেট (বাইরের আবরণ)। এটি অত্যন্ত দ্রুতগতির ও দূরের যোগাযোগে, যেমন সাবমেরিন ক্যাবল ও ইন্টারনেট ব্যাকবোনে, ব্যবহৃত হয়।

    অপটিক্যাল ফাইবারের গঠন

    অপটিক্যাল ফাইবারের গঠন ও আলোর প্রতিফলন

  25. ৩-সং-২৫★★বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ২৫.ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক কী?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: তারবিহীন, রেডিও তরঙ্গ, Wi-Fi, Bluetooth, WiMAX, সেলুলার, চলমান অবস্থায় ব্যবহার

    ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক: যে নেটওয়ার্কে কোনো তার ব্যবহার না করে রেডিও তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ বা ইনফ্রারেডের মাধ্যমে কম্পিউটার ও ডিভাইসগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত থেকে তথ্য আদান-প্রদান করে, তাকে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক বলে।

    উদাহরণ: Wi-Fi (WLAN), Bluetooth (WPAN), WiMAX (WMAN), মোবাইল নেটওয়ার্ক (3G/4G/5G)। এতে চলমান অবস্থায়ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায়।

  26. ৩-সং-২৬বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ২৬.ব্রিজ কী?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: একাধিক LAN যুক্ত, ডাটা লিংক লেয়ার (লেয়ার ২), MAC অ্যাড্রেস, ট্রান্সপারেন্ট ও সোর্স রাউটিং ব্রিজ

    ব্রিজ: একই প্রটোকল ব্যবহারকারী একাধিক নেটওয়ার্ক সেগমেন্টকে (যেমন দুটি LAN) সংযুক্ত করে একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক গঠনে ব্যবহৃত বিশেষ ডিভাইসকে ব্রিজ বলে। এটি MAC অ্যাড্রেস দেখে ডাটা অন্য সেগমেন্টে পাঠাবে কিনা তা ঠিক করে এবং OSI মডেলের ডাটা লিংক লেয়ারে (লেয়ার ২) কাজ করে।

    ব্রিজ প্রধানত দুই প্রকার: ১) ট্রান্সপারেন্ট ব্রিজ ও ২) সোর্স রাউটিং ব্রিজ।

  27. ৩-সং-২৭বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ২৭.বাস টপোলজি কী?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: একটি মূল তার (ব্যাকবোন), টার্মিনেটর, লিনিয়ার টপোলজি, শুধু প্রাপক গ্রহণ করে

    বাস টপোলজি: যে টপোলজিতে একটি মূল তারের সাথে সবগুলো কম্পিউটার বা ওয়ার্কস্টেশন সংযুক্ত থাকে, তাকে বাস টপোলজি বলে। একে লিনিয়ার টপোলজিও বলে এবং মূল তারটিকে ব্যাকবোন বলে। তারের দুই প্রান্তে টার্মিনেটর থাকে।

    ডাটা পাঠানো হলে তা সিগন্যাল আকারে পুরো বাসে চলাচল করে; শুধু প্রাপক কম্পিউটার ডাটা গ্রহণ করে এবং বাকিগুলো উপেক্ষা করে।

    বাস টপোলজি

    বাস টপোলজি

  28. ৩-সং-২৮★বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ২৮.কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রটোকলের নাম লেখ।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: TCP, IP, HTTP, FTP, SMTP, POP3, DNS, IPX/SPX, HDLC

    নেটওয়ার্কে বহুলভাবে ব্যবহৃত কয়েকটি প্রটোকল:

    প্রটোকলপূর্ণরূপকাজ
    TCPTransmission Control Protocolনির্ভরযোগ্যভাবে ডাটা পৌঁছানো নিশ্চিত করে
    IPInternet Protocolঅ্যাড্রেস দেখে ডাটা প্যাকেট গন্তব্যে পাঠায়
    HTTP / HTTPSHypertext Transfer Protocol (Secure)ওয়েবপেজ আদান-প্রদান
    FTPFile Transfer Protocolফাইল আদান-প্রদান
    SMTPSimple Mail Transfer Protocolই-মেইল পাঠানো
    POP3 / IMAPPost Office Protocol / Internet Message Access Protocolই-মেইল গ্রহণ
    DNSDomain Name Systemডোমেইন নামকে IP অ্যাড্রেসে রূপান্তর
    DHCPDynamic Host Configuration Protocolস্বয়ংক্রিয়ভাবে IP অ্যাড্রেস প্রদান
    IPX/SPXInternetwork/Sequenced Packet Exchangeপুরোনো Novell NetWare নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত
    HDLCHigh Level Data Link Controlডাটা লিংক লেয়ারে ফ্রেম আদান-প্রদান
  29. ৩-সং-২৯★বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ২৯.গেটওয়ে কী?

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: ভিন্ন প্রটোকলের নেটওয়ার্ক যুক্ত, প্রটোকল অনুবাদক, লেয়ার ৪–৭, অ্যাড্রেস/প্রটোকল/অ্যাপ্লিকেশন গেটওয়ে

    গেটওয়ে: গেটওয়ে একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, যা ভিন্ন প্রটোকল ব্যবহারকারী দুটি নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং এক প্রটোকলের ডাটাকে অন্য প্রটোকলে অনুবাদ (Translation) করে। এজন্য একে প্রটোকল ট্রান্সলেটরও বলে। এটি OSI মডেলের উপরের লেয়ারগুলোতে (৪–৭) কাজ করে।

    কাজের ভিত্তিতে গেটওয়ে কয়েক প্রকার: ১) অ্যাড্রেস গেটওয়ে, ২) প্রটোকল গেটওয়ে, ৩) অ্যাপ্লিকেশন গেটওয়ে।

রচনামূলক প্রশ্ন (১৯টি)

  1. ৩-র-১★★বই: পৃষ্ঠা ৬৪

    ১.ডাটা কমিউনিকেশনের মৌলিক বিষয়সমূহ বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৩, ২৬]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: ডাটা ট্রান্সমিশন স্পিড (ব্যান্ডউইথ), ট্রান্সমিশন মিডিয়া, ট্রান্সমিশন মেথড, ট্রান্সমিশন মোড, উপাদান

    ভূমিকা: এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নির্ভুলভাবে ডাটা আদান-প্রদানকে ডাটা কমিউনিকেশন বলে। এর মৌলিক বিষয়গুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. ডাটা কমিউনিকেশনের উপাদান

    বার্তা, প্রেরক, প্রাপক, মাধ্যম ও প্রটোকল।

    ডাটা কমিউনিকেশন মডেল

    ২. ডাটা ট্রান্সমিশন স্পিড বা ব্যান্ডউইথ

    প্রতি সেকেন্ডে কত বিট ডাটা পাঠানো যায় (bps) তাকে ব্যান্ডউইথ বলে। এটি তিন প্রকার:

    ধরনগতিউদাহরণ
    ন্যারো ব্যান্ড৪৫–৩০০ bpsটেলিগ্রাফ
    ভয়েস ব্যান্ড৯৬০০ bps পর্যন্তটেলিফোন লাইন
    ব্রড ব্যান্ড১ Mbps ও তার বেশিফাইবার অপটিক, স্যাটেলাইট, 4G

    ৩. ট্রান্সমিশন মিডিয়া

    তার মাধ্যম (টুইস্টেড পেয়ার, কো-অ্যাক্সিয়াল, অপটিক্যাল ফাইবার) ও তারবিহীন মাধ্যম (রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ, ইনফ্রারেড)।

    ৪. ট্রান্সমিশন মেথড

    • অ্যাসিনক্রোনাস: প্রতিটি ক্যারেক্টারের আগে স্টার্ট বিট ও পরে স্টপ বিট যুক্ত করে পাঠানো হয়; যেমন কীবোর্ড থেকে কম্পিউটারে।
    • সিনক্রোনাস: ডাটাকে ব্লক আকারে একটানা পাঠানো হয়; দ্রুত ও দক্ষ।
    • আইসোক্রোনাস: নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে নিরবচ্ছিন্নভাবে ডাটা পাঠানো হয়; রিয়েল-টাইম অডিও-ভিডিওতে ব্যবহৃত।

    ৫. ট্রান্সমিশন মোড

    সিমপ্লেক্স, হাফ-ডুপ্লেক্স ও ফুল-ডুপ্লেক্স।

    ট্রান্সমিশন মোড

    উপসংহার: এসব মৌলিক বিষয় সঠিকভাবে নির্বাচন করলেই দ্রুত, নির্ভুল ও কার্যকর ডাটা কমিউনিকেশন সম্ভব।

  2. ৩-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৪

    ২.ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন কী? বিভিন্ন ধরনের ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনের বর্ণনা দাও।

    • অথবা, ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর। [বিএমটি-২৬]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: তারবিহীন যোগাযোগ, রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ (টেরেস্ট্রিয়াল, স্যাটেলাইট), ইনফ্রারেড, Bluetooth, Wi-Fi, WiMAX, সেলুলার

    ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন: কোনো তার ব্যবহার না করে বাতাস বা শূন্যের মধ্য দিয়ে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাকে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন বলে।

    ১. রেডিও ওয়েভ

    কম্পাঙ্ক প্রায় ৩ কিলোহার্জ থেকে ৩০০ মেগাহার্জ (১ গিগাহার্জ পর্যন্তও ধরা হয়)। এটি সব দিকে ছড়ায় (Omnidirectional) এবং দেয়াল ভেদ করতে পারে। ব্যবহার: রেডিও, টিভি, ওয়াকি-টকি।

    ২. মাইক্রোওয়েভ

    কম্পাঙ্ক ৩০০ মেগাহার্জ থেকে ৩০০ গিগাহার্জ। এটি সোজা পথে চলে, তাই দৃষ্টিরেখা প্রয়োজন। দুই প্রকার:

    • টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ: ভূপৃষ্ঠের উঁচু টাওয়ারে বসানো অ্যান্টেনার মাধ্যমে যোগাযোগ। পৃথিবীর বক্রতা ও উঁচু ভবনের কারণে প্রায় ৪০–৫০ কিমি পরপর রিলে টাওয়ার লাগে।
    • স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ: ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬,০০০ কিমি উপরে ভূস্থির কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র থেকে সংকেত গ্রহণ (আপলিংক) করে আরেক ভূ-কেন্দ্রে পাঠায় (ডাউনলিংক)। সৌরকোষ থেকে শক্তি পায়। ব্যবহার: টিভি সম্প্রচার, প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ। যেমন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

    টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ

    স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ

    ৩. ইনফ্রারেড

    কম দূরত্বে (কয়েক মিটার) দৃষ্টিরেখায় যোগাযোগ; দেয়াল ভেদ করতে পারে না। ব্যবহার: টিভির রিমোট কন্ট্রোল।

    ৪. Bluetooth, Wi-Fi ও WiMAX

    প্রযুক্তিস্ট্যান্ডার্ডপরিসরব্যবহার
    BluetoothIEEE 802.15.1সাধারণত ১০ মিটারহেডফোন, ফাইল আদান-প্রদান (PAN)
    Wi-FiIEEE 802.11৩০–১০০ মিটারবাসা ও অফিসের ইন্টারনেট (LAN)
    WiMAXIEEE 802.16১০–৫০ কিমিশহরজুড়ে ব্রডব্যান্ড (MAN)

    ৫. সেলুলার বা মোবাইল যোগাযোগ

    এলাকাকে ছোট ছোট সেলে ভাগ করে প্রতিটিতে টাওয়ার বসিয়ে মোবাইল যোগাযোগ; প্রজন্ম 1G থেকে 5G।

    উপসংহার: চলমান অবস্থায় যোগাযোগ এবং তার বসানো কঠিন এমন এলাকায় সংযোগ দেওয়ার কারণে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন আধুনিক যোগাযোগের মূল ভিত্তি।

  3. ৩-র-৩★বই: পৃষ্ঠা ৬৫

    ৩.কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্যসমূহ এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ব্যবহার বা প্রয়োগক্ষেত্রসমূহ লেখ। [বিএমটি-২০২৬]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: উদ্দেশ্য: তথ্য আদান-প্রদান, রিসোর্স শেয়ার, যোগাযোগ, খরচ সাশ্রয়; প্রয়োগ: শিক্ষা, ব্যাংকিং, ব্যবসা, চিকিৎসা, সরকার

    কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য:

    1. তথ্য আদান-প্রদান: দ্রুত ও নিরাপদে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে তথ্য পাঠানো ও গ্রহণ করা।
    2. রিসোর্স শেয়ারিং: প্রিন্টার, স্ক্যানার, হার্ডডিস্ক, সফটওয়্যার ও ইন্টারনেট সংযোগ একাধিক ব্যবহারকারীর মধ্যে ভাগ করে ব্যবহার করা।
    3. দ্রুত যোগাযোগ: ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্সিং ও চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে সহজে যোগাযোগ।
    4. কেন্দ্রীয় ডাটা ব্যবস্থাপনা: কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য সংরক্ষণ করে সহজে ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ।
    5. খরচ ও সময় সাশ্রয়: একই সম্পদ একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করায় খরচ কমে এবং কাজ দ্রুত হয়।
    6. নির্ভরযোগ্যতা: একাধিক কম্পিউটারে ডাটার কপি রাখায় একটি নষ্ট হলেও কাজ চলে।

    কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ব্যবহার বা প্রয়োগক্ষেত্র:

    ক্ষেত্রব্যবহার
    শিক্ষাঅনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল লাইব্রেরি, ই-লার্নিং, অনলাইন ভর্তি ও ফলাফল
    ব্যাংকিংঅনলাইন ব্যাংকিং, ATM, মোবাইল ব্যাংকিং ও অর্থ লেনদেন
    ব্যবসা-বাণিজ্যই-কমার্স, তথ্য আদান-প্রদান ও অফিস পরিচালনা
    চিকিৎসাটেলিমেডিসিন, রোগীর তথ্য সংরক্ষণ ও চিকিৎসা পরামর্শ
    সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই-গভর্নেন্স, ই-নথি, অফিস ব্যবস্থাপনা
    যোগাযোগই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও কনফারেন্সিং
    বিনোদনঅনলাইন ভিডিও, গেম, সংবাদ
  4. ৩-র-৪★বই: পৃষ্ঠা ৬৫

    ৪.ক্লাউড কম্পিউটিং বলতে কী বুঝায়? ক্লাউড কম্পিউটিং-এর ধরন নিয়ে আলোচনা কর। [বিএমটি-২০২৬]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: ক্লাউড কম্পিউটিং সংজ্ঞা, পাবলিক, প্রাইভেট, হাইব্রিড, কমিউনিটি ক্লাউড, উদাহরণ

    ক্লাউড কম্পিউটিং: ক্লাউড কম্পিউটিং হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাহায্যে বিভিন্ন কম্পিউটিং সেবা, যেমন স্টোরেজ, সফটওয়্যার, সার্ভার, ডাটাবেজ ও নেটওয়ার্কিং সুবিধা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায় এবং ব্যবহার অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে হয়।

    ক্লাউড কম্পিউটিং-এর ধরন (ডিপ্লয়মেন্ট মডেল):

    ধরনবৈশিষ্ট্যউদাহরণ
    পাবলিক ক্লাউড (Public)সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত; সেবাদাতা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেবা দেয়; খরচ কমGoogle Drive, Microsoft OneDrive, Dropbox, AWS
    প্রাইভেট ক্লাউড (Private)একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য; নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বেশিকোনো ব্যাংকের নিজস্ব ক্লাউড সার্ভার
    হাইব্রিড ক্লাউড (Hybrid)পাবলিক ও প্রাইভেট ক্লাউডের সমন্বয়; উভয়ের সুবিধা পাওয়া যায়গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রাইভেট ক্লাউডে, সাধারণ তথ্য পাবলিক ক্লাউডে
    কমিউনিটি ক্লাউড (Community)একই ধরনের চাহিদাসম্পন্ন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে ব্যবহার করেকয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা ক্লাউড

    সেবার ধরন অনুযায়ী ক্লাউড তিন প্রকার: IaaS, PaaS ও SaaS।

    ক্লাউড সার্ভিস মডেল

    সেবার ধরন অনুযায়ী ক্লাউড (৩-র-৭ দ্রষ্টব্য)

    সংশোধন: বইয়ের উদাহরণে "Drophox" ও "Public clound" ছাপার ভুল; সঠিক Dropbox ও Public cloud।

  5. ৩-র-৫★★বই: পৃষ্ঠা ৬৫

    ৫.কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী? নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৫]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: নেটওয়ার্ক সংজ্ঞা, আয়তন: PAN, LAN, MAN, WAN; মালিকানা: প্রাইভেট, পাবলিক; কাঠামো: পিয়ার-টু-পিয়ার, ক্লায়েন্ট-সার্ভার

    কম্পিউটার নেটওয়ার্ক: দুই বা ততোধিক কম্পিউটার কোনো যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে যুক্ত থেকে তথ্য আদান-প্রদান ও রিসোর্স শেয়ার করলে তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।

    ক. আয়তন বা ভৌগোলিক বিস্তৃতি অনুযায়ী

    ধরনবিস্তৃতিউদাহরণ
    PAN (Personal Area Network)প্রায় ১০ মিটারব্লুটুথে ফোন ও হেডফোন
    LAN (Local Area Network)একটি কক্ষ, ভবন বা ক্যাম্পাসকলেজের কম্পিউটার ল্যাব
    MAN (Metropolitan Area Network)একটি শহর (প্রায় ১০–৫০ কিমি)শহরজুড়ে ক্যাবল টিভি বা ব্যাংকের শাখা নেটওয়ার্ক
    WAN (Wide Area Network)দেশ, মহাদেশ বা সারা বিশ্বইন্টারনেট

    নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (আয়তন অনুযায়ী)

    খ. মালিকানা অনুযায়ী

    • প্রাইভেট নেটওয়ার্ক: কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নেটওয়ার্ক; অনুমতি ছাড়া কেউ ব্যবহার করতে পারে না, নিরাপত্তা মজবুত। যেমন শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব নেটওয়ার্ক।
    • পাবলিক নেটওয়ার্ক: সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত। যেমন ইন্টারনেট, পাবলিক Wi-Fi।

    গ. সার্ভিস বা কাঠামো অনুযায়ী

    • পিয়ার-টু-পিয়ার: সব কম্পিউটার সমান মর্যাদার; প্রতিটি সার্ভার ও ক্লায়েন্ট দুটোই।
    • ক্লায়েন্ট-সার্ভার: একটি কেন্দ্রীয় সার্ভার সেবা দেয় এবং অন্যরা (ক্লায়েন্ট) সেবা নেয়।
  6. ৩-র-৬বই: পৃষ্ঠা ৬৭

    ৬.টপোলজি কী? রিং টপোলজি এবং ট্রি টপোলজির মধ্যে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২৫]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: টপোলজি সংজ্ঞা, রিং: বৃত্তাকার সংযোগ, ট্রি: গাছের মতো স্তরভিত্তিক, তার, নির্ভরযোগ্যতা, ব্যবহার

    টপোলজি: নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলো পরস্পরের সাথে যে নকশা বা বিন্যাসে সংযুক্ত থাকে এবং যে পথে তথ্য আদান-প্রদান হয়, তাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে।

    রিং টপোলজি ও ট্রি টপোলজির মধ্যে পার্থক্য:

    বিষয়রিং টপোলজিট্রি টপোলজি
    সংজ্ঞাপ্রতিটি কম্পিউটার পাশের দুটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃত্তাকার পথ তৈরি করেএকটি মূল (রুট) নোড থেকে গাছের শাখা-প্রশাখার মতো স্তরে স্তরে ডিভাইসগুলো যুক্ত থাকে
    গঠনসমতল, কোনো কেন্দ্র নেইস্তরভিত্তিক (Hierarchical), একাধিক স্টার নেটওয়ার্কের সমন্বয়
    নির্ভরযোগ্যতাএকটি ডিভাইস নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হতে পারেএকটি শাখা নষ্ট হলে শুধু সেই অংশ বিচ্ছিন্ন হয়; তবে রুট নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল
    তারের পরিমাণতুলনামূলক কমবেশি
    সম্প্রসারণনতুন কম্পিউটার যোগ করা কঠিননতুন শাখা যোগ করে সহজে বাড়ানো যায়
    উপযোগিতাছোট LANবড় প্রতিষ্ঠান বা ক্যাম্পাসের স্তরভিত্তিক নেটওয়ার্ক
    খরচকমবেশি

    রিং টপোলজি

    ট্রি টপোলজি

  7. ৩-র-৭★বই: পৃষ্ঠা ৬৭

    ৭.ব্লুটুথ কী? ক্লাউড কম্পিউটিং-এর সার্ভিস কয় ধরনের ও কী কী? [বিএমটি-২০২৪]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: ব্লুটুথ: স্বল্প দূরত্ব, তারবিহীন, IEEE 802.15.1, 2.4 GHz; ক্লাউড সার্ভিস: IaaS, PaaS, SaaS

    ব্লুটুথ: ব্লুটুথ হলো স্বল্প দূরত্বে তারবিহীনভাবে ডাটা আদান-প্রদানের একটি ওপেন ওয়্যারলেস প্রটোকল বা প্রযুক্তি। এটি ২.৪ গিগাহার্জ কম্পাঙ্কে কাজ করে এবং সাধারণত ১০ মিটার (ক্লাস-১ ডিভাইসে ১০০ মিটার পর্যন্ত) দূরত্বে যোগাযোগ করতে পারে। এর মাধ্যমে মোবাইল, হেডফোন, কীবোর্ড, স্মার্টওয়াচ ইত্যাদি সংযুক্ত করে PAN গঠন করা হয়।

    ক্লাউড কম্পিউটিং-এর সার্ভিস তিন ধরনের:

    সার্ভিসকী দেওয়া হয়ব্যবহারকারী কী করেনউদাহরণ
    IaaS — অবকাঠামোগত সেবা (Infrastructure as a Service)নেটওয়ার্ক, সিপিইউ, স্টোরেজসহ মৌলিক কম্পিউটিং রিসোর্স ভাড়ানিজের প্রয়োজনীয় অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার চালানAWS EC2, Google Compute Engine
    PaaS — প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সেবা (Platform as a Service)হার্ডওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম, ওয়েব সার্ভার, ডাটাবেজসহ প্রোগ্রাম চালানোর পরিবেশনিজের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি ও পরিচালনা করেনGoogle App Engine, Heroku
    SaaS — সফটওয়্যার সেবা (Software as a Service)সেবাদাতার তৈরি সম্পূর্ণ সফটওয়্যারইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি সফটওয়্যার ব্যবহার করেনGmail, Google Docs, Microsoft 365

    ক্লাউড সার্ভিস মডেল

    ক্লাউড সার্ভিস মডেলের স্তর

  8. ৩-র-৮★★বই: পৃষ্ঠা ৬৭

    ৮.হাব ও সুইচের মধ্যে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০২৩]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: লেয়ার ১ বনাম লেয়ার ২, ব্রডকাস্ট বনাম নির্দিষ্ট পোর্ট, MAC অ্যাড্রেস, ব্যান্ডউইথ, সংঘর্ষ, মূল্য

    কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে মিডিয়া ও কানেক্টরের পাশাপাশি হাব ও সুইচের মতো ডিভাইস প্রয়োজন হয়। নিচে হাব ও সুইচের পার্থক্য তুলে ধরা হলো:

    বিষয়হাব (Hub)সুইচ (Switch)
    OSI লেয়ারফিজিক্যাল লেয়ার (লেয়ার ১)ডাটা লিংক লেয়ার (লেয়ার ২)
    ডাটা পাঠানোর পদ্ধতিপ্রাপ্ত ডাটা সব পোর্টে পাঠায় (Broadcast)MAC অ্যাড্রেস দেখে শুধু গন্তব্য পোর্টে পাঠায়
    বুদ্ধিমত্তাঅ্যাড্রেস চেনে নাMAC অ্যাড্রেস টেবিল তৈরি করে মনে রাখে
    ব্যান্ডউইথসব পোর্ট একই ব্যান্ডউইথ ভাগ করেপ্রতিটি পোর্ট আলাদা পূর্ণ ব্যান্ডউইথ পায়
    ট্রান্সমিশন মোডহাফ-ডুপ্লেক্সফুল-ডুপ্লেক্স
    ডাটা সংঘর্ষসংঘর্ষ (Collision) বেশি হয়সংঘর্ষ হয় না বললেই চলে
    গতি ও দক্ষতাকমবেশি
    নিরাপত্তাকম, সবাই ডাটা পায়বেশি, শুধু প্রাপক পায়
    মূল্যকমতুলনামূলক বেশি (বর্তমানে সহজলভ্য)
    কনফিগারেশনসহজম্যানেজড সুইচে কনফিগারেশন কিছুটা জটিল

    হাব বনাম সুইচ

    হাব সব পোর্টে, সুইচ শুধু গন্তব্যে ডাটা পাঠায়

    সংশোধন: বইয়ের সারণিতে মূল্য ও গতির তুলনা দুইবার এসেছে; এখানে পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে OSI লেয়ার, ব্যান্ডউইথ ও সংঘর্ষের পার্থক্য যোগ করা হয়েছে।

  9. ৩-র-৯★★বই: পৃষ্ঠা ৬৮

    ৯.কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী? নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৩]

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: নেটওয়ার্ক সংজ্ঞা, রিসোর্স শেয়ার, যোগাযোগ, কেন্দ্রীয় ডাটা, খরচ হ্রাস, নির্ভরযোগ্যতা, ইন্টারনেট

    কম্পিউটার নেটওয়ার্ক: দুই বা ততোধিক কম্পিউটার কোনো যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে পরস্পর যুক্ত থেকে তথ্য আদান-প্রদান ও রিসোর্স শেয়ার করলে তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।

    নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা:

    1. রিসোর্স শেয়ারিং: একটি প্রিন্টার, স্ক্যানার বা ইন্টারনেট সংযোগ অনেকে মিলে ব্যবহার করা যায়, ফলে খরচ কমে।
    2. দ্রুত যোগাযোগ: ই-মেইল, চ্যাট ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুহূর্তেই যোগাযোগ করা যায়।
    3. তথ্য শেয়ারিং: ফাইল ও ডাটাবেজ একাধিক ব্যবহারকারী একসাথে ব্যবহার করতে পারেন।
    4. কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা: সার্ভারে ডাটা রেখে সহজে নিয়ন্ত্রণ, হালনাগাদ ও ব্যাকআপ নেওয়া যায়।
    5. সফটওয়্যার শেয়ারিং: নেটওয়ার্ক লাইসেন্সের মাধ্যমে একটি সফটওয়্যার অনেক কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায়।
    6. নির্ভরযোগ্যতা: একাধিক স্থানে ডাটা থাকায় একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও কাজ চলে।
    7. ইন্টারনেট ও ই-সেবা: অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স, অনলাইন শিক্ষা ও ই-গভর্নেন্স নেটওয়ার্ক ছাড়া সম্ভব নয়।
    8. সময় সাশ্রয়: দূরে না গিয়েও তথ্য পাঠানো ও কাজ সম্পন্ন করা যায়।
  10. ৩-র-১০★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৮

    ১০.ডাটা কমিউনিকেশন সিস্টেম কী? বিভিন্ন প্রকার ডাটা ট্রান্সমিশন সিস্টেম সম্পর্কে আলোচনা কর।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: ডাটা কমিউনিকেশন সংজ্ঞা, অ্যাসিনক্রোনাস, সিনক্রোনাস, আইসোক্রোনাস, সিরিয়াল, প্যারালাল

    ডাটা কমিউনিকেশন সিস্টেম: এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে কোনো মাধ্যমের সাহায্যে নির্ভুলভাবে ডাটা আদান-প্রদানের ব্যবস্থাকে ডাটা কমিউনিকেশন সিস্টেম বলে।

    ডাটা ট্রান্সমিশন সিস্টেম বা পদ্ধতি: প্রেরক থেকে প্রাপকে ডাটা পাঠানোর সময় বিটগুলো কীভাবে সাজানো ও সময়মতো পাঠানো হবে, তার ভিত্তিতে ট্রান্সমিশন পদ্ধতি তিন প্রকার:

    ১. অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন

    প্রতিটি ক্যারেক্টার আলাদাভাবে পাঠানো হয়; প্রতিটির শুরুতে একটি স্টার্ট বিট ও শেষে একটি স্টপ বিট থাকে। দুটি ক্যারেক্টারের মাঝে বিরতি অনির্দিষ্ট। সুবিধা: সস্তা ও সহজ; অসুবিধা: গতি কম। উদাহরণ: কীবোর্ড থেকে কম্পিউটারে ডাটা।

    [স্টার্ট বিট] 01000001 [স্টপ বিট] … বিরতি … [স্টার্ট বিট] 01000010 [স্টপ বিট]

    ২. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন

    ডাটাকে ক্যারেক্টারের ব্লক বা প্যাকেট আকারে একটানা পাঠানো হয়; প্রেরক ও প্রাপক একই ক্লক সংকেতে সমন্বিত থাকে। প্রতিটি ক্যারেক্টারে স্টার্ট-স্টপ বিট লাগে না। সুবিধা: গতি ও দক্ষতা বেশি; অসুবিধা: যন্ত্রপাতি ব্যয়বহুল। উদাহরণ: নেটওয়ার্কে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে ফাইল পাঠানো।

    ৩. আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন

    অ্যাসিনক্রোনাস ও সিনক্রোনাসের সমন্বিত রূপ; নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে বিরতিহীনভাবে ডাটা পাঠানো হয়, যাতে বিলম্ব না হয়। উদাহরণ: লাইভ অডিও-ভিডিও স্ট্রিমিং, ভিডিও কল।

    বিট পাঠানোর ধরন অনুযায়ী ট্রান্সমিশন আবার সিরিয়াল ও প্যারালাল হতে পারে:

    সিরিয়াল ও প্যারালাল ট্রান্সমিশন

  11. ৩-র-১১★★বই: পৃষ্ঠা ৬৯

    ১১.বিভিন্ন প্রকার কমিউনিকেশন মিডিয়া বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: গাইডেড: টুইস্টেড পেয়ার, কো-অ্যাক্সিয়াল, অপটিক্যাল ফাইবার; আনগাইডেড: রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ, ইনফ্রারেড, স্যাটেলাইট

    ভূমিকা: যে মাধ্যমের ভেতর দিয়ে ডাটা প্রেরক থেকে প্রাপকে যায়, তাকে কমিউনিকেশন মিডিয়া বলে। এটি দুই প্রকার:

    ক. তার মাধ্যম বা গাইডেড মিডিয়া

    ১. টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল: দুটি অন্তরিত তামার তারকে পরস্পর পেঁচিয়ে তৈরি; পেঁচানোর ফলে বৈদ্যুতিক হস্তক্ষেপ কমে। দুই প্রকার: UTP ও STP। সস্তা ও সহজলভ্য, LAN-এ বহুল ব্যবহৃত (RJ-45 কানেক্টর)।

    টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল

    ২. কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল: কেন্দ্রে তামার তার, তাকে ঘিরে অন্তরক, তার উপরে ধাতব জালি (শিল্ড) ও সবশেষে প্লাস্টিকের আবরণ। ব্যবহার: ক্যাবল টিভি, পুরোনো বাস নেটওয়ার্ক।

    কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবলের গঠন

    ৩. অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল: কাচ বা প্লাস্টিকের সরু তন্তুতে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে ডাটা চলে। সবচেয়ে দ্রুত ও বিদ্যুৎচৌম্বকীয় হস্তক্ষেপমুক্ত; ইন্টারনেট ব্যাকবোন ও সাবমেরিন ক্যাবলে ব্যবহৃত।

    অপটিক্যাল ফাইবারের গঠন

    খ. তারবিহীন বা আনগাইডেড মিডিয়া

    মাধ্যমবৈশিষ্ট্যব্যবহার
    রেডিও ওয়েভসব দিকে ছড়ায়, দেয়াল ভেদ করেরেডিও, টিভি, ওয়াকি-টকি, Wi-Fi
    মাইক্রোওয়েভসোজা পথে চলে, দৃষ্টিরেখা লাগেমোবাইল টাওয়ার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ
    ইনফ্রারেডখুব স্বল্প দূরত্ব, দেয়াল ভেদ করে নারিমোট কন্ট্রোল
    স্যাটেলাইটউপগ্রহের মাধ্যমে বহু দূরে যোগাযোগটিভি সম্প্রচার, GPS

    উপসংহার: দূরত্ব, গতি, খরচ ও পরিবেশ বিবেচনা করে উপযুক্ত মিডিয়া নির্বাচন করতে হয়।

  12. ৩-র-১২★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ১২.UTP এবং STP-এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: শিল্ড আছে বনাম নেই, হস্তক্ষেপ, দাম, ওজন, গ্রাউন্ডিং, ব্যবহার

    UTP ও STP উভয়ই টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল। এদের পার্থক্য নিম্নরূপ:

    বিষয়UTPSTP
    পূর্ণরূপUnshielded Twisted PairShielded Twisted Pair
    ধাতব আবরণ (শিল্ড)নেইপ্রতিটি জোড়া বা পুরো ক্যাবল ধাতব আবরণে মোড়ানো
    বৈদ্যুতিক হস্তক্ষেপ (EMI)প্রভাব তুলনামূলক বেশিপ্রভাব কম
    দামসস্তাতুলনামূলক দামি
    ওজন ও নমনীয়তাহালকা, সহজে বাঁকানো যায়ভারী ও কম নমনীয়
    স্থাপনসহজকঠিন, গ্রাউন্ডিং করতে হয়
    ব্যবহারবাসা ও অফিসের সাধারণ LANকারখানা বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির কাছাকাছি নেটওয়ার্ক

    টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল

    টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল

  13. ৩-র-১৩★★বই: পৃষ্ঠা ৭২

    ১৩.অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের গঠন সম্পর্কে আলোচনা কর।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: কোর, ক্ল্যাডিং, বাফার কোটিং, জ্যাকেট, প্রতিসরণাঙ্ক, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন, সিঙ্গেল ও মাল্টিমোড

    ভূমিকা: অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল কাচ বা প্লাস্টিকের অতি সরু তন্তু দিয়ে তৈরি, যার মধ্য দিয়ে আলোক সংকেতের আকারে ডাটা চলাচল করে। এর গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:

    1. কোর (Core): সবচেয়ে ভেতরের অংশ; অতি স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি, যার মধ্য দিয়ে আলো চলে। এর প্রতিসরণাঙ্ক বেশি।
    2. ক্ল্যাডিং (Cladding): কোরকে ঘিরে থাকা কাচ বা প্লাস্টিকের স্তর, যার প্রতিসরণাঙ্ক কোরের চেয়ে কম। ফলে আলো কোরে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটিয়ে সামনে এগোয়, বাইরে বের হয় না।
    3. বাফার কোটিং (Buffer): ক্ল্যাডিংয়ের উপর প্লাস্টিকের আবরণ, যা আর্দ্রতা ও আঘাত থেকে রক্ষা করে।
    4. জ্যাকেট (Jacket): সবচেয়ে বাইরের মজবুত আবরণ, যা পুরো ক্যাবলকে সুরক্ষা দেয়। ভেতরে শক্তি বাড়াতে কেভলার সুতাও থাকতে পারে।

    প্রকারভেদ: সিঙ্গেল মোড ফাইবার (সরু কোর, একটি আলোকপথ, বহু দূরের যোগাযোগ) ও মাল্টিমোড ফাইবার (মোটা কোর, একাধিক আলোকপথ, স্বল্প দূরত্ব)।

    কার্যপ্রণালী: প্রেরক প্রান্তে LED বা লেজার বিদ্যুৎ সংকেতকে আলোতে রূপান্তর করে; আলো ফাইবারের ভেতরে প্রতিফলিত হতে হতে প্রাপক প্রান্তে পৌঁছায়, যেখানে ফটো ডিটেক্টর আবার বিদ্যুৎ সংকেতে রূপান্তর করে।

    অপটিক্যাল ফাইবারের গঠন

    অপটিক্যাল ফাইবারের গঠন

  14. ৩-র-১৪★★বই: পৃষ্ঠা ৭২

    ১৪.অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ লেখ।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: সুবিধা: উচ্চগতি, বেশি ব্যান্ডউইথ, EMI-মুক্ত, নিরাপদ, হালকা; অসুবিধা: ব্যয়বহুল, ভঙ্গুর, জোড়া লাগানো কঠিন

    অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের সুবিধা:

    1. আলোর গতিতে ডাটা চলে বলে ট্রান্সমিশন গতি অনেক বেশি (Gbps–Tbps)।
    2. ব্যান্ডউইথ অনেক বেশি, একসাথে প্রচুর ডাটা পাঠানো যায়।
    3. বিদ্যুৎচৌম্বকীয় প্রভাব (EMI) ও বজ্রপাতের প্রভাবমুক্ত।
    4. সিগন্যাল দুর্বল হয় খুব কম, তাই রিপিটার ছাড়াই অনেক দূরে পাঠানো যায়।
    5. ডাটা চুরি বা আড়ি পাতা কঠিন, তাই নিরাপদ।
    6. ওজনে হালকা ও আকারে সরু।
    7. আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পরিবর্তনে কম প্রভাবিত হয়।

    অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের অসুবিধা:

    1. স্থাপন ও যন্ত্রপাতির খরচ বেশি।
    2. কাচের তৈরি বলে ভঙ্গুর, বেশি বাঁকালে ভেঙে যায়।
    3. জোড়া লাগানো (Splicing) ও মেরামতে দক্ষ কারিগর ও বিশেষ যন্ত্র লাগে।
    4. একটি ফাইবারে আলো এক দিকেই চলে; দুই দিকে যোগাযোগে দুটি ফাইবার লাগে।
    5. আলো ও বিদ্যুৎ সংকেতের রূপান্তরে বাড়তি যন্ত্র (ট্রান্সমিটার/রিসিভার) প্রয়োজন।

    অপটিক্যাল ফাইবারের গঠন

    অপটিক্যাল ফাইবারের গঠন

  15. ৩-র-১৫★★বই: পৃষ্ঠা ৭২

    ১৫.Wi-MAX কী? Wi-MAX এর বৈশিষ্ট্য, সুবিধা ও অসুবিধা বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: Worldwide Interoperability for Microwave Access, IEEE 802.16, MAN, কভারেজ, সুবিধা, অসুবিধা

    Wi-MAX: Wi-MAX-এর পূর্ণরূপ Worldwide Interoperability for Microwave Access। এটি IEEE 802.16 স্ট্যান্ডার্ডভিত্তিক একটি তারবিহীন ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তি, যা মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে বিস্তৃত এলাকায় (MAN) উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দেয়।

    বৈশিষ্ট্য:

    • একটি বেজ স্টেশন থেকে প্রায় ১০–৫০ কিমি এলাকায় সেবা দেয়।
    • গতি প্রায় ৭০ Mbps পর্যন্ত (802.16e)।
    • ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে কাজ করে।
    • দৃষ্টিরেখা ছাড়াও (Non Line of Sight) সংযোগ দিতে পারে।
    • লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও লাইসেন্সবিহীন উভয় ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে চলে।

    সুবিধা:

    1. কভারেজ এরিয়া সাধারণত ১০ থেকে ৬০ কিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
    2. একটি স্টেশন থেকে হাজার হাজার ব্যবহারকারীকে সেবা দেওয়া যায়।
    3. ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড লাইসেন্সযুক্ত বা লাইসেন্সবিহীন উভয়ই হতে পারে।
    4. তার টানা কঠিন এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সেবা পাওয়া যায়।
    5. কোয়ালিটি অব সার্ভিস (QoS) নিশ্চিত করে।
    6. ডাটা, ভয়েস ও ভিডিও সেবা একসাথে দেওয়া যায়।
    7. অ্যান্টেনাসহ রিসিভার ল্যাপটপে যুক্ত করে চলমান অবস্থায়ও ব্যবহার করা যায়।

    অসুবিধা:

    1. দূরত্ব বেশি হলে একাধিক বেজ স্টেশনের প্রয়োজন হয়।
    2. অন্যান্য ওয়্যারলেস ডিভাইস সিগন্যালে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
    3. স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেশি।
    4. অনেক ব্যবহারকারী একই টাওয়ার ব্যবহার করলে সেবার মান কমে যায়।
    5. ফাইবার অপটিক বা ক্যাবলের তুলনায় গতি কম।
    6. বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়ায় সিগন্যালে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
    7. বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে।

    বর্তমানে Wi-MAX-এর জায়গা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে 4G LTE ও 5G দখল করেছে।

  16. ৩-র-১৬★★বই: পৃষ্ঠা ৭৩

    ১৬.GSM এবং CDMA-এর মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: Global System for Mobile Communication, Code Division Multiple Access, TDMA/FDMA, স্প্রেড স্পেকট্রাম, SIM, রোমিং

    GSM এবং CDMA-এর মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ:

    বিষয়GSM (জিএসএম)CDMA (সিডিএমএ)
    পূর্ণরূপGlobal System for Mobile CommunicationCode Division Multiple Access
    প্রযুক্তিFDMA ও TDMA: ফ্রিকোয়েন্সিকে সময়ভিত্তিক ভাগে ভাগ করেস্প্রেড স্পেকট্রাম: প্রতিটি কলকে আলাদা কোড দিয়ে একই ফ্রিকোয়েন্সিতে পাঠায়
    চ্যানেলের প্রস্থ২০০ কিলোহার্জ১.২৫ মেগাহার্জ
    সিম কার্ডঅপসারণযোগ্য সিম কার্ড ব্যবহৃত হয়অনেক ক্ষেত্রে সিম ছাড়া হ্যান্ডসেটেই নম্বর যুক্ত থাকত
    ডাটা গতি (2G/2.5G)GPRS-এ প্রায় ১১৪ kbps, EDGE-এ ৩৮৪ kbps পর্যন্তCDMA2000 1xEV-DO-তে প্রায় ২.৪ Mbps পর্যন্ত
    নিরাপত্তাতুলনামূলক কমকোডভিত্তিক হওয়ায় আড়ি পাতা কঠিন, নিরাপত্তা বেশি
    আন্তর্জাতিক রোমিংবিশ্বব্যাপী ব্যাপক রোমিং সুবিধা আছেরোমিং সুবিধা সীমিত
    বাণিজ্যিক যাত্রা১৯৯১ সালে (ফিনল্যান্ড)১৯৯৫ সালে (হংকং)
    বিদ্যুৎ খরচতুলনামূলক বেশিতুলনামূলক কম
    বাংলাদেশে উদাহরণগ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক (2G)সিটিসেল (২০১৬ সালে বন্ধ)

    বর্তমানে উভয় প্রযুক্তির জায়গা নিয়েছে 4G LTE ও 5G।

    সংশোধন: বইয়ের সারণিতে "CDMA ১৯৫৭ সালে ব্যবহৃত হয়েছিল" লেখা আছে, যা ভুল; CDMA-এর বাণিজ্যিক যাত্রা ১৯৯৫ সালে। এছাড়া HSPA (3G) গতিকে GSM-এর সাথে তুলনা করা হয়েছে; এখানে একই প্রজন্মের (2G/2.5G) তুলনা দেওয়া হলো।

  17. ৩-র-১৭★★বই: পৃষ্ঠা ৭৩

    ১৭.কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক কম্পোনেন্ট ও ডিভাইসসমূহ সম্পর্কে আলোচনা কর।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার (প্রটোকল, NOS), নেটওয়ার্ক হার্ডওয়্যার (NIC, মিডিয়া, হাব, সুইচ, রাউটার...)

    কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উপাদান: একটি নেটওয়ার্কে কী ধরনের উপাদান প্রয়োজন তা নির্ভর করে নেটওয়ার্কের ধরন ও আকারের উপর। তবে একটি নেটওয়ার্কে মূলত তিনটি উপাদান থাকে:

    ১. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার

    ইন্টারফেস প্রোগ্রামের সমষ্টি, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নেটওয়ার্কের রিসোর্স ব্যবহার ও শেয়ার করেন। যেমন ওয়েব ব্রাউজার, ই-মেইল ক্লায়েন্ট, ফাইল শেয়ারিং সফটওয়্যার। এগুলো ক্লায়েন্ট-সার্ভার বা পিয়ার-টু-পিয়ার প্রকৃতির হতে পারে।

    ২. নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার

    নেটওয়ার্ক পরিচালনার নিয়ম ও প্রটোকল স্থাপনকারী প্রোগ্রামের সমষ্টি। এটি ডাটাকে প্যাকেটে ভাগ করে, সংঘর্ষ এড়ায় এবং প্যাকেট গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করে। যেমন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম (Windows Server, Linux), TCP/IP প্রটোকল।

    ৩. নেটওয়ার্ক হার্ডওয়্যার

    উপাদানকাজ
    নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করে; প্রতিটির অনন্য MAC অ্যাড্রেস থাকে
    ট্রান্সমিশন মিডিয়াডাটা চলাচলের পথ: টুইস্টেড পেয়ার, কো-অ্যাক্সিয়াল, ফাইবার অপটিক বা তারবিহীন মাধ্যম
    ক্যাবল কানেক্টরক্যাবলকে ডিভাইসের সাথে যুক্ত করে, যেমন RJ-45
    হাবএকাধিক কম্পিউটার যুক্ত করে, ডাটা সব পোর্টে পাঠায়
    সুইচএকাধিক কম্পিউটার যুক্ত করে, MAC অ্যাড্রেস দেখে নির্দিষ্ট পোর্টে ডাটা পাঠায়
    রিপিটারদুর্বল সিগন্যালকে শক্তিশালী করে দূরে পাঠায়
    ব্রিজএকই ধরনের দুটি LAN সেগমেন্টকে যুক্ত করে
    রাউটারভিন্ন নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে এবং IP অ্যাড্রেস দেখে ডাটার সর্বোত্তম পথ নির্ধারণ করে
    ব্রাউটারব্রিজ ও রাউটারের সম্মিলিত কাজ করে
    গেটওয়েভিন্ন প্রটোকলের নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে প্রটোকল অনুবাদ করে
    মডেমডিজিটাল ও অ্যানালগ সংকেতের রূপান্তর করে
    অ্যাক্সেস পয়েন্টতারবিহীন ডিভাইসকে তারযুক্ত নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করে

    উপসংহার: এসব উপাদানের সমন্বয়েই একটি নেটওয়ার্ক কার্যকরভাবে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।

    রাউটার দুটি নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে

    রাউটারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সংযোগ

  18. ৩-র-১৮বই: পৃষ্ঠা ৭৫

    ১৮.স্টার, বাস ও রিং টপোলজি চিত্রসহ বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: স্টার: কেন্দ্রীয় হাব/সুইচ; বাস: একটি ব্যাকবোন; রিং: বৃত্তাকার; সুবিধা-অসুবিধা ও চিত্র

    ১. স্টার টপোলজি

    যে টপোলজিতে সব কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় হাব বা সুইচের সাথে আলাদা আলাদা তারে যুক্ত থাকে, তাকে স্টার টপোলজি বলে। এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডাটা কেন্দ্রীয় ডিভাইসের মাধ্যমে যায়।

    স্টার টপোলজি

    • সুবিধা: একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে বাকি নেটওয়ার্ক চলে; নতুন কম্পিউটার যোগ করা ও সমস্যা খুঁজে বের করা সহজ।
    • অসুবিধা: কেন্দ্রীয় হাব/সুইচ নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল; তার বেশি লাগে।

    ২. বাস টপোলজি

    যে টপোলজিতে একটি মূল তারের (ব্যাকবোন) সাথে সব কম্পিউটার যুক্ত থাকে, তাকে বাস টপোলজি বলে। ডাটা পুরো বাসে চলে, শুধু প্রাপক গ্রহণ করে।

    বাস টপোলজি

    • সুবিধা: তার কম লাগে, খরচ কম; স্থাপন সহজ।
    • অসুবিধা: ব্যাকবোন নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল; কম্পিউটার বেশি হলে ডাটা সংঘর্ষ ও গতি কমে।

    ৩. রিং টপোলজি

    যে টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার পাশের দুটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃত্ত তৈরি করে, তাকে রিং টপোলজি বলে। ডাটা এক দিকে ঘুরে প্রাপকের কাছে পৌঁছায় (টোকেন পাসিং)।

    রিং টপোলজি

    • সুবিধা: সব কম্পিউটার সমান সুযোগ পায়; ডাটা সংঘর্ষ হয় না।
    • অসুবিধা: একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল; নতুন কম্পিউটার যোগ করা কঠিন।
  19. ৩-র-১৯বই: পৃষ্ঠা ৭৬

    ১৯.নেটওয়ার্ক প্রটোকল কী? নেটওয়ার্ক প্রটোকলের কার্যাবলি আলোচনা কর।

    উত্তর

    কী-ওয়ার্ড: প্রটোকল সংজ্ঞা, অ্যাড্রেসিং, সেগমেন্টেশন, ফ্লো কন্ট্রোল, এরর কন্ট্রোল, কানেকশন কন্ট্রোল, এনক্যাপসুলেশন, রাউটিং, নিরাপত্তা

    নেটওয়ার্ক প্রটোকল: নেটওয়ার্কে দুই বা ততোধিক ডিভাইসের মধ্যে ডাটা আদান-প্রদানের জন্য অনুসৃত একগুচ্ছ নিয়মকানুনকে প্রটোকল বলে। যেমন TCP/IP, HTTP, FTP।

    নেটওয়ার্ক প্রটোকলের কার্যাবলি:

    1. অ্যাড্রেসিং (Addressing): প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা (IP, MAC) নির্ধারণ করে, যাতে ডাটা সঠিক গন্তব্যে যায়।
    2. সেগমেন্টেশন ও রিঅ্যাসেম্বলি: বড় ডাটাকে ছোট প্যাকেটে ভাগ করে পাঠায় এবং প্রাপক প্রান্তে আবার জোড়া লাগায়।
    3. এনক্যাপসুলেশন: প্রতিটি প্যাকেটে হেডারে ঠিকানা ও নিয়ন্ত্রণ তথ্য যুক্ত করে।
    4. কানেকশন কন্ট্রোল: যোগাযোগ শুরু, চালু রাখা ও শেষ করা নিয়ন্ত্রণ করে।
    5. ফ্লো কন্ট্রোল: প্রাপকের গ্রহণক্ষমতা অনুযায়ী ডাটা পাঠানোর গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
    6. এরর কন্ট্রোল: ডাটার ত্রুটি শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনে পুনরায় পাঠায়।
    7. সিকোয়েন্সিং: প্যাকেটগুলো সঠিক ক্রমে সাজানো নিশ্চিত করে।
    8. রাউটিং: ডাটা প্যাকেটের জন্য সর্বোত্তম পথ নির্ধারণে সহায়তা করে।
    9. সিনক্রোনাইজেশন: প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে সময়ের সমন্বয় রাখে।
    10. নিরাপত্তা: HTTPS-এর মতো প্রটোকল এনক্রিপশনের মাধ্যমে ডাটা সুরক্ষিত রাখে।

    কয়েকটি প্রটোকল ও তাদের কাজ:

    প্রটোকলপূর্ণরূপকাজ
    TCPTransmission Control Protocolনির্ভরযোগ্যভাবে ডাটা পৌঁছানো নিশ্চিত করে
    IPInternet Protocolঅ্যাড্রেস দেখে ডাটা প্যাকেট গন্তব্যে পাঠায়
    HTTP / HTTPSHypertext Transfer Protocol (Secure)ওয়েবপেজ আদান-প্রদান
    FTPFile Transfer Protocolফাইল আদান-প্রদান
    SMTPSimple Mail Transfer Protocolই-মেইল পাঠানো
    POP3 / IMAPPost Office Protocol / Internet Message Access Protocolই-মেইল গ্রহণ
    DNSDomain Name Systemডোমেইন নামকে IP অ্যাড্রেসে রূপান্তর
    DHCPDynamic Host Configuration Protocolস্বয়ংক্রিয়ভাবে IP অ্যাড্রেস প্রদান
    IPX/SPXInternetwork/Sequenced Packet Exchangeপুরোনো Novell NetWare নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত
    HDLCHigh Level Data Link Controlডাটা লিংক লেয়ারে ফ্রেম আদান-প্রদান