বিশ্বগ্রাম: যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা
বিশ্বগ্রামের ১১টি ক্ষেত্রের প্রথম তিনটি এই টপিকে: যোগাযোগ, কর্মসংস্থান আর শিক্ষা।
১. যোগাযোগ (Communication)
তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন তাৎক্ষণিক যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে, যার পেছনে মূল কারণ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। ল্যান্ডফোন, মোবাইল, রেডিও, টেলিভিশন, ওয়াকিটকির মতো যন্ত্র আর নানা নেটওয়ার্ক যোগাযোগকে সহজ করেছে।
📌 ফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট, ই-মেইল, অডিও-ভিডিও চ্যাটিং, SMS, MMS আর ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সরাসরি যোগাযোগ করা যাচ্ছে।
উদাহরণ: বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একই সময়ে গ্রুপ কনফারেন্সে আলোচনা করেন; স্কাইপির মতো ভিডিও চ্যাটে দূরের মানুষকে দেখে কথা বলা যায়; রেডিওর মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামেও তাৎক্ষণিক খবর পৌঁছায়। যাতায়াত ব্যবস্থাতেও এসেছে Wi-Fi, ব্লুটুথ, GPRS, GPS।
বিশ্বগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
| ভাগ | যা আছে |
|---|---|
| ক. টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা | ডিজিটাল টেলিফোন নেটওয়ার্ক, মোবাইল কমিউনিকেশন, স্যাটেলাইট |
| খ. তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা | ইন্টারনেট, ই-মেইল, টেলিকনফারেন্সিং, ভিডিও কনফারেন্সিং, বুলেটিন বোর্ড |
| গ. প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বা যাতায়াত ব্যবস্থা | রিজার্ভেশন সিস্টেম, GPS, GIS |
ক. টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা
টেলিযোগাযোগ হলো দূরত্বে থাকা মানুষের মধ্যে যন্ত্র বা ডিভাইসনির্ভর যোগাযোগের পদ্ধতি। শুরুতে এটা টেলিগ্রাফ আর টেলিফোনে সীমিত ছিল, আজ এটা ভৌগোলিক দূরত্বের বাধা পুরোপুরি জয় করেছে।
📌 টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ৩টি: ডিজিটাল টেলিফোন নেটওয়ার্ক, মোবাইল কমিউনিকেশন এবং স্যাটেলাইট।
১. ডিজিটাল টেলিফোন নেটওয়ার্ক: আধুনিক সুবিধাসহ টেলিফোনকে ডিজিটাল টেলিফোন বলে। পুরো সুবিধা পেতে নেটওয়ার্কটিও ডিজিটাল হতে হয়। পুরনো PSTN (Public Switched Telephone Network) থেকেই ডিজিটাল নেটওয়ার্কের যাত্রা। এতে একই লাইনে কথার পাশাপাশি ডেটাও পাঠানো যায়, নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি বেশি, খরচ কম, আর আন্তর্জাতিক রোমিংয়ের সুবিধা আছে।
২. মোবাইল কমিউনিকেশন:
📌 বিশ্বগ্রামের অন্যতম শর্ত হলো পৃথিবীর সব মানুষ সবসময় সংযুক্ত থাকতে পারবে। এটা সম্ভব করেছে মোবাইল কমিউনিকেশন।
📌 মোবাইল ফোন হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা বেস স্টেশনের সেলুলার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ফুল ডুপ্লেক্স দ্বিমুখী রেডিও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবহার করে।
এর ফলে মানুষ চলন্ত বা স্থির যেকোনো অবস্থায় যোগাযোগ করতে পারে। মোবাইলে যা করা যায়: SMS আর MMS পাঠানো ও পাওয়া, ইন্টারনেট থাকলে ই-মেইল, গান শোনা ও ভিডিও দেখা, ভিডিও কল ও চ্যাটিং, অডিও-ভিডিও রেকর্ড, ব্লুটুথ ও ইনফ্রারেডে তথ্য আদান-প্রদান, ইন্টারনেট ব্রাউজিং আর GPS ব্যবহার।
📌 মোবাইল ফোনের জনক: মার্টিন কুপার। মার্কিন এই প্রকৌশলী ১৯৭০ সালে প্রথম হাতে বহনযোগ্য ফোন উদ্ভাবন করেন, আর ১৯৮৩ সালে এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে।
৩. স্যাটেলাইট:
📌 স্যাটেলাইট শব্দের অর্থ উপগ্রহ।
চাঁদ পৃথিবীর প্রাকৃতিক উপগ্রহ; মানুষ তৈরি করেছে কৃত্রিম উপগ্রহ। চাঁদ মাসে একবার পৃথিবী ঘোরে, কিন্তু যোগাযোগ উপগ্রহ ঘোরে ২৪ ঘণ্টায় একবার, অর্থাৎ পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে তাল মিলিয়ে। দূরত্ব যত বেশি, ঘুরতে সময় তত বেশি লাগে।
📌 যোগাযোগ উপগ্রহ পৃথিবী থেকে প্রায় ২৩,০০০ মাইল (৩৬,০০০ কিমি) দূরে স্থাপন করা হয়, তাই পৃথিবীকে একবার ঘুরতে এর ২৪ ঘণ্টা লাগে।
স্যাটেলাইট রকেট বা স্পেস শাটলে করে মহাকাশে পাঠানো হয়, আর পাঠানোর সময় রকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয় IGS (Initial Guided System)।
📌 আবহাওয়ার পূর্বাভাস, টেলিভিশন সম্প্রচার, রেডিও যোগাযোগ, ইন্টারনেট যোগাযোগ আর GPS-এর মতো যোগাযোগের কাজে স্যাটেলাইট ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে বলে কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট। গোপন মিশন আর জাতীয় নিরাপত্তার কাজেও এগুলো ব্যবহার করা হয়।
স্যাটেলাইটের ধরন: ওয়েদার স্যাটেলাইট, কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট, নেভিগেশন স্যাটেলাইট, আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, মিলিটারি স্যাটেলাইট।
স্যাটেলাইটের গঠন: ধাতু বা সংকর ধাতুর কাঠামোকে বলে বাস। এর ভেতরে যন্ত্রপাতি থাকে, শক্তির জন্য থাকে ব্যাটারি আর সোলার সেল, আর পৃথিবী থেকে নিয়ন্ত্রণের জন্য থাকে অন-বোর্ড কম্পিউটার।
📌 স্যাটেলাইটের আরেকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো এর রেডিও সিস্টেম ও অ্যান্টেনা।
বাংলাদেশের স্যাটেলাইট: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| উৎক্ষেপণ | 📌 ২০১৮ সালের ১২ মে, যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে, স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে |
| নকশা ও নির্মাণ | 📌 ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস |
| কক্ষপথ | রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিক থেকে কেনা ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার অরবিটাল স্লট, প্রায় ৩৬ হাজার কিমি উচ্চতায় |
| ওজন | প্রায় ৩,৫০০ কেজি |
| ট্রান্সপন্ডার | মোট ৪০টি: ২৬টি Ku-ব্যান্ড ও ১৪টি C-ব্যান্ড; মোট ফ্রিকোয়েন্সি ক্ষমতা ১,৬০০ মেগাহার্জ |
| অর্জন | 📌 বাংলাদেশ ৫৭তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশ |
এর ফলে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাঁচবে, আর বাড়তি ক্ষমতা ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
খ. তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা
বিশ্বগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদান আর শেয়ার করে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকা। ইন্টারনেটভিত্তিক এই ব্যবস্থার কারণে মানুষ ঘরে বসে যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় তথ্য পাঠাতে ও আনতে পারে। এর অংশ ৫টি: ইন্টারনেট, ই-মেইল, টেলিকনফারেন্সিং, ভিডিও কনফারেন্সিং আর বুলেটিন বোর্ড।
১. ইন্টারনেট (Internet)
📌 ইন্টারনেট শব্দটি এসেছে International Network থেকে। একে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক বলা হয়, বাংলায় অন্তর্জাল।
📌 পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য নেটওয়ার্কের সমন্বিত ব্যবস্থাই ইন্টারনেট। সংজ্ঞা: সারা পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত, পরস্পর যুক্ত অনেক কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমষ্টি, যা সবার জন্য উন্মুক্ত এবং যেখানে আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকলের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান হয়।
📌 ইন্টারনেটে যুক্ত কম্পিউটারগুলোর কাজই হলো একে অন্যের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান।
📌 ইন্টারনেটকে বিশ্বগ্রামের মেরুদণ্ড বলা হয়। ইন্টারনেটের কারণেই পৃথিবীর সব মানুষ যেন এক অদৃশ্য জালে বাঁধা, দূরে থেকেও ভার্চুয়ালি কাছাকাছি।
ইন্টারনেটের উপাদান: ব্যবহারকারী, তথ্য, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা আর কম্পিউটার। ইন্টারনেট এখন আর শুধু টেলিফোন লাইনে নির্ভর নয়; সমুদ্রের তলদেশের অপটিক্যাল ফাইবার, মাইক্রোওয়েভ আর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এটা ছড়িয়ে আছে।
বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বে ৪ বিলিয়নের বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ ভাগ। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে BTRC-এর হিসাবে বাংলাদেশে ব্যবহারকারী ছিল ৮০.২৮৯ মিলিয়ন, যার বেশির ভাগই মোবাইলে (৭৫.৩৯৬ মিলিয়ন)।
ইন্টারনেটের ইতিহাস
📌 ১৯৬৯ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য ARPANET (Advanced Research Project Agency Network) নামের প্রকল্প থেকে ইন্টারনেটের যাত্রা শুরু।
📌 ১৯৮২ সালে কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগের জন্য TCP/IP (Transmission Control Protocol/Internet Protocol) উদ্ভাবিত হলে আধুনিক ইন্টারনেটের ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইন্টারনেটের সুবিধা:
- তথ্যের বিশাল ভান্ডার: সার্চ করলেই বিশ্বের অসংখ্য সার্ভারের তথ্য পাওয়া যায়
- মুহূর্তেই ই-মেইল, ফ্যাক্সের সুবিধা
- VoIP-এর মাধ্যমে খুব কম খরচে বা বিনা খরচে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কথা বলা
- ইন্টারনেট টিভি-রেডিও, সফটওয়্যার আর বিনোদন উপকরণ ডাউনলোড
- ঘরে বসে বিদেশি পত্রিকা পড়া, ই-কমার্সে কেনাকাটা, নামকরা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা
- ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, স্কাইপিতে তাৎক্ষণিক টেক্সট ও ভিডিও
- অনলাইনে চিকিৎসা সেবা
- গুগল ম্যাপসের স্যাটেলাইট মানচিত্রে যেকোনো জায়গা দেখা
সুফল: ক্লাসে না গেলেও পড়াশোনার সহায়তা, গবেষণায় তথ্য পাওয়া; চাকরি, আয় আর সময় বাঁচানো; ব্যবসায়ে বিপণন ও প্রচার সহজ; দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করা।
কুফল: অনলাইন গেম আর সামাজিক মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত আড্ডায় পড়াশোনার ক্ষতি; অনলাইনে কেনা পণ্যের মান নিশ্চিত না হওয়া; হ্যাকিং, ভাইরাস, স্প্যামিংয়ের ঝুঁকি; দীর্ঘ ব্যবহারে আসক্তি, স্বাস্থ্যহানি ও পারিবারিক দূরত্ব; ভুয়া খবর দ্রুত ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা।
সৃজনশীলে যেভাবে আসে:
- "ইন্টারনেটনির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম" বা "বিশ্বগ্রামের প্রধান নিয়ামক ইন্টারনেট" বললে বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠায় ইন্টারনেটের ভূমিকা বোঝায়।
- "কীভাবে বিশ্বকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যায়?" উত্তর: কৃত্রিম উপগ্রহ আর সমুদ্রের তলদেশের অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে। সমবাহু ত্রিভুজের আকারে তিনটি উপগ্রহ বসালেই পুরো পৃথিবী নেটওয়ার্কের আওতায় আসে।
২. ই-মেইল (E-mail)
📌 ই-মেইলের পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক মেইল। ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম্পিউটার, মোবাইলের মতো ডিজিটাল ডিভাইসের মধ্যে ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাকে ই-মেইল বলে।
📌 ই-মেইল তথ্য আদান-প্রদানে আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যবহার করে। লেখার সাথে অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে ছবি, অডিও, ভিডিওসহ যেকোনো ফাইল পাঠানো যায়।
📌 চিঠির জন্য যেমন ঠিকানা লাগে, তেমনি ই-মেইলের জন্য ই-মেইল অ্যাড্রেস লাগে, যা প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জন্য ইউনিক।
📌 ই-মেইল অ্যাড্রেসের দুটি অংশ থাকে: প্রথম অংশ ব্যবহারকারীর পরিচিতি, শেষ অংশ ডোমেইন নেম। এ দুই অংশকে @ চিহ্ন দিয়ে আলাদা করা হয়। যেমন
rahim2007@gmail.com-এrahim2007হলো ব্যবহারকারীর পরিচিতি আরgmail.comডোমেইন নেম।
📌 একটি ই-মেইল বার্তা তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত: খাম বা মোড়ক, হেডার, আর মূল বার্তা। হেডারে থাকে বার্তা কোথা থেকে কার কাছে যাচ্ছে, বিষয়বস্তু ইত্যাদি তথ্য।
ই-মেইল যেভাবে যায়: প্রেরক মেসেজ তৈরি করে, তারপর তা পোস্ট অফিস সার্ভারে যায়, সেখান থেকে ইন্টারনেট হয়ে প্রাপকের মেইল সার্ভারে, আর শেষে প্রাপকের কম্পিউটারে। এক মেইলে একসাথে অনেককে পাঠানো যায়।
ই-মেইলের জন্য যা লাগে: কম্পিউটার বা স্মার্টফোন, ইন্টারনেট সংযোগ, ই-মেইল সফটওয়্যার বা সেবা (যেমন জিমেইল, ইয়াহু মেইল), আর প্রেরক-প্রাপকের ই-মেইল অ্যাড্রেস।
ই-মেইলের জনক: রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন (Raymond Samuel Tomlinson)। আমেরিকান এই কম্পিউটার প্রোগ্রামার ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং আরপানেটে প্রথম এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে ই-মেইল পাঠান।
ই-মেইলের সুবিধা: সহজ ও দ্রুত, ভাষা সহজ, সিসি দিয়ে একসাথে অনেককে পাঠানো, ফাইল সংযুক্ত করা, কাগজ বাঁচিয়ে পরিবেশ রক্ষা, কম খরচে প্রোডাক্ট মার্কেটিং, আর স্বয়ংক্রিয় উত্তর (অটো-রিপ্লাই) পাঠানোর ব্যবস্থা।
৩. টেলিকনফারেন্সিং (Teleconferencing)
টেলিফোন সংযোগ আর কম্পিউটার, অডিও-মডেম-ভিডিও যন্ত্রের সাহায্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কোনো সভায় অংশ নেওয়ার পদ্ধতিকে টেলিকনফারেন্সিং বলে। একই জায়গায় না এসেও আলোচনা, মতামত আর সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, তাই সময় ও খরচ বাঁচে।
📌 টেলিফোন সংযোগ ব্যবহার করে কম্পিউটার, অডিও (মাইক ও স্পিকার), মডেম আর প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারের সাহায্যে টেলিকনফারেন্সিংয়ে অংশ নেওয়া যায়।
📌 টেলিকনফারেন্সকে কম্পিউটারাইজড কনফারেন্স বা সিসি (CC)-ও বলে।
📌 ১৯৭৫ সালে মরি টারফ এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
📌 টেলিকনফারেন্স তিন ধরনের:
| ধরন | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| পাবলিক কনফারেন্স | সবার জন্য উন্মুক্ত |
| ক্লোজড কনফারেন্স | নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে নির্দিষ্ট লোক ঢুকতে পারে |
| রিড-অনলি কনফারেন্স | যে কেউ কার্যবিবরণী দেখতে পারে, কিন্তু মন্তব্য দিতে পারে শুধু অংশগ্রহণকারীরা |
৪. ভিডিও কনফারেন্সিং (Video Conferencing)
ইন্টারনেটনির্ভর আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, যেখানে দূরে থাকা কয়েকজন মানুষ কথা বলার পাশাপাশি ভিডিওতে একে অপরকে সরাসরি দেখতে পারেন।
📌 ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের জন্য লাগে ওয়েবক্যাম, ইন্টারনেট সংযোগ, স্পিকার আর প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার (স্কাইপি, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, মেসেঞ্জার ইত্যাদি)।
সুবিধা: মুখোমুখি কথা বলার মতো আলাপ, যাতায়াতের সময় ও খরচ বাঁচানো, প্রত্যন্ত এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা আর উন্নত শিক্ষা, দূর থেকে সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তদারকি। প্রধানমন্ত্রীও ভিডিও কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন জায়গার কর্মকর্তাদের সাথে সম্মেলন করেন বা প্রকল্প উদ্বোধন করেন।
📌 "বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে ঘরে বসে সভায় অংশগ্রহণের পদ্ধতি" বললে টেলিকনফারেন্সিংকে বোঝায়। "ছবি দেখে কথা বলার প্রযুক্তি" বললে ভিডিও কনফারেন্সিং। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের জন্য দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাগে।
জনপ্রিয় অ্যাপ:
| অ্যাপ | তথ্য |
|---|---|
| স্কাইপি (Skype) | 📌 ফ্রি ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) সফটওয়্যার; মাইক্রোসফটের স্কাইপি ডিভিশনের তৈরি; "sky" আর "peer" থেকে নাম |
| ভাইবার (Viber) | জাপানি কোম্পানি Rakuten পরিচালিত; ২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর চালু |
| হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) | ২০০৯ সালে জ্যান কউম আর ব্রায়ান অ্যাক্টন প্রতিষ্ঠা করেন |
| ফেসবুক মেসেঞ্জার | ২০০৮ সালে ফেসবুক চ্যাট হিসেবে শুরু, ২০১০ সালে আলাদা অ্যাপ |
৫. বুলেটিন বোর্ড (Bulletin Board)
ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন বা তথ্য প্রচারের ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা, যেখানে একটা কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটারগুলো যুক্ত থাকে। অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সুপার মার্কেটের নোটিশ বোর্ডের মতো এখানে নোটিশ, কেনাবেচার বিজ্ঞাপন, ব্যক্তিগত বার্তা ডিজিটালভাবে দেখানো হয়। WWW (World Wide Web) হলো ইন্টারনেটের বুলেটিন বোর্ড, যা বিভিন্ন দেশের ওয়েবপেজ দেখায়। কমলাপুর রেলস্টেশনে এমন বোর্ডে ট্রেনের সময়সূচি, দেরির খবর দেখানো হয়।
গ. প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বা যাতায়াত ব্যবস্থা
এখানে তিনটি প্রযুক্তি: রিজার্ভেশন সিস্টেম, GPS আর GIS।
১. রিজার্ভেশন সিস্টেম
📌 রিজার্ভেশন সিস্টেম হলো ইলেকট্রনিক উপায়ে আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা। প্লেন, বাস, ট্রেন বা হোটেলের আসন দূর থেকেই বুক করা যায়।
📌 এয়ারলাইনস আর হোটেল রিজার্ভেশনের জন্য ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN) বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ: যুক্তরাষ্ট্রের SABRE বিমানের আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ বিমান আর রেলওয়েতেও কম্পিউটারভিত্তিক রিজার্ভেশন চালু আছে।
২. GPS (Global Positioning System)
📌 GPS হলো স্যাটেলাইটনির্ভর একমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো জায়গার অবস্থান নিখুঁতভাবে বের করা যায়।
📌 GPS প্রতিনিয়ত স্যাটেলাইট থেকে তথ্য নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন সার্ভারে পাঠায়।
গাড়ি, জাহাজ, উড়োজাহাজ, ল্যাপটপ, স্মার্টফোনে GPS রিসিভার থাকে। বাংলাদেশে মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে চলন্ত ট্রেনের অবস্থান জানার সেবা GPS-নির্ভর।
যেভাবে কাজ করে: যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৫ সালে ২৪টি স্যাটেলাইটের একটি ব্যবস্থা চালু করে। এগুলো ৬টি কক্ষপথে দিনে দুবার পৃথিবী ঘোরে, ফলে পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে একসাথে অন্তত ৪টি স্যাটেলাইট দেখা যায়। এগুলো L1 আর L2 নামে দুই ধরনের সংকেত পাঠায়, যার মধ্যে L1 বেসামরিক কাজে উন্মুক্ত। রিসিভার কয়েকটি স্যাটেলাইটের সংকেত হিসাব করে অবস্থান বের করে।
৩. GIS (Geographic Information System)
📌 GIS হলো এমন একটি স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার সিস্টেম, যা ভৌগোলিক কোনো জায়গার পরিবর্তন আর সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই জায়গার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ব্যবহার: অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ, নগর পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবহার, আদমশুমারি, বন, পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস উত্তোলন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন। GIS-এর জন্য লাগে কম্পিউটার, ডিজিটাইজার, GPS, প্লটার, নেটওয়ার্ক, প্রিন্টার আর GIS সফটওয়্যার।
২. কর্মসংস্থান (Employment)
📌 তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রধানতম হাতিয়ার হচ্ছে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট।
এই প্রযুক্তি কর্মসংস্থানের বিশাল বাজার খুলে দিয়েছে। ঘরে বসে অনলাইনে চাকরির খবর পাওয়া, উদ্যোক্তা হওয়া, এমনকি ঘরে বসে আয় করা এখন সম্ভব। তিনটি ক্ষেত্র:
১. ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং
আগে কাজ করতে কর্মস্থলে যেতে হতো। এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে যেকোনো দেশের কর্মী অন্য দেশের কাজ ঘরে বসে করে অনলাইনেই টাকা পান।
📌 আউটসোর্সিং: অনলাইন মার্কেটপ্লেসে হাজারো কাজ থেকে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে নিয়ে তা শেষ করে বায়ারের কাছ থেকে পেমেন্ট নেওয়ার উন্মুক্ত পেশা।
📌 ফ্রিল্যান্সিং: কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করা। যাঁরা এ কাজ করেন তাঁদের বলে ফ্রিল্যান্সার (Freelancer)। ফ্রিল্যান্সিংয়ের অর্থ স্বাধীন বা মুক্ত পেশা।
📌 বেশির ভাগ ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে হয়।
ফ্রিল্যান্সারদের আয় চাকরির মতো নির্দিষ্ট বেতনে নয়, কাজ আর চুক্তির ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ প্রতি বছর আউটসোর্সিং থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করে; বৈদেশিক মুদ্রা আসে আর শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান হয়।
📌 গ্লোবাল আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেস: ফ্রিল্যান্সার ডট কম, আপওয়ার্ক, ইল্যান্স, গুরু, ওডেস্ক ইত্যাদি।
কাজের ক্ষেত্র: ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্কিং, লেখা ও অনুবাদ, ডেটা প্রসেসিং, ডিজাইন ও মাল্টিমিডিয়া, গ্রাহকসেবা, বিক্রয় ও বিপণন।
| মার্কেটপ্লেস | তথ্য |
|---|---|
| freelancer.com | ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু; প্রধান কার্যালয় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে; প্রতিষ্ঠাতা ম্যাট ব্যারি |
| upwork.com | আগের নাম ওডেস্ক; ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত; বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় |
| elance.com | ফ্রি অ্যাকাউন্টে প্রোফাইল তৈরি করে কাজে বিড করা যায় |
২. উদ্যোক্তা উন্নয়ন: তরুণরা এখন চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করতে চায়। দরকারি তথ্য আইসিটির কল্যাণে ঘরে বসে পাওয়া যায়। ২০১০ সালে সরকার ৪,৫৪৭টি ইউনিয়ন সেবাকেন্দ্রে ডিজিটাল সেন্টার চালু করে, যার প্রতিটিতে একজন পুরুষ ও একজন নারী উদ্যোক্তা কাজ করেন; ২০১৫ সালে এটা উপজেলা ও শহরে বাড়ানো হয়। বিকাশ, কিউক্যাশের মতো মোবাইল ব্যাংকিংও ক্ষুদ্র উদ্যোগে কর্মসংস্থান তৈরি করেছে।
৩. অনলাইনে চাকরির সুযোগ: এখন bdjobs.com, ajkerchakri.com-এর মতো জব পোর্টালে চাকরিপ্রার্থী আর চাকরিদাতা মিলিত হন। বিনামূল্যে সদস্য হয়ে চাকরির খবর পাওয়া আর আবেদন করা যায়।
সৃজনশীলে যেভাবে আসে:
- "ঘরে বসে অর্থ উপার্জন" বা "ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পদ্ধতি" বললে আউটসোর্সিংকে বোঝায়।
- "বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আর বিদেশে যাওয়ার দরকার নেই": কারণ আউটসোর্সিংয়ে ঘরে বসে আয় করা যায়।
- "আইসিটিতে শিক্ষিতদের জন্য উপার্জনের সহজ সুযোগ": কারণ আউটসোর্সিংয়ের প্রায় সব কাজেই কম্পিউটার ও আইসিটির দক্ষতা লাগে।
৩. শিক্ষা (Education)
ইন্টারনেট এখন বইয়ের পাশাপাশি শিক্ষা ও জ্ঞানের বড় উৎস। অনলাইনে পড়াশোনা, পরীক্ষা আর শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট থেকে শেখা যায়। ইন্টারনেট এখন প্রায় উন্মুক্ত বিশ্বকোষ।
📌 জনপ্রিয় একটি শিক্ষামূলক সাইট www.khanacademy.org, যা গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান সালমান খান। আমাদের দেশের একটি আইসিটি শিক্ষামূলক সাইট **www.ictshikkha.org**।
মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ইন্টারনেট থেকে শিক্ষা উপকরণ, ওয়েবসাইটে শিক্ষকের লেকচার, অনলাইনে পাঠ্যবই, শিক্ষার্থীদের ট্যাব-ল্যাপটপ, সব মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।
ই-লার্নিংয়ের বিভিন্ন রূপ:
| নাম | মানে |
|---|---|
| ই-লার্নিং | ইলেকট্রনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা; যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় শেখা। যেমন রাফখাতা, আইসিটি শিক্ষা |
| এম-লার্নিং | মোবাইল লার্নিং: ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্টফোনে যেকোনো জায়গা থেকে শেখা |
| ডিজিটাল হোয়াইট বোর্ড | তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর বোর্ড, যার লেখা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে দেখায় |
| ই-বুক | ছাপা বইয়ের ইলেকট্রনিক সংস্করণ, যা কম্পিউটার বা বিশেষ ডিভাইসে পড়া যায় |
| দূরশিক্ষণ | ক্লাসে উপস্থিত না থেকে ইন্টারনেট, ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পড়াশোনা ও ডিগ্রি অর্জন |
ই-বুকের জনক: মাইকেল এস হার্ট (Michael S Hart)। আমেরিকান লেখক, ১৯৪৭ সালে জন্ম। ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ই-বুক বিতরণের প্রথম প্রকল্প গুটেনবার্গ-এর উদ্যোক্তা। ২০১১ সালে মারা যান।
দূরশিক্ষণ: ১৮৪০ সালে স্যার আইজ্যাক পিটম্যান দূরশিক্ষণের ধারণা প্রবর্তন করেন। এখন ঘরে বসে অনলাইনে বিশ্বের যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ক্লাস, পরীক্ষা আর ডিগ্রি নেওয়া যায়।
শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির সুফল:
- আধুনিক পাঠ্যক্রম: উন্নত বিশ্বের পাঠ্যক্রম বিশ্লেষণ করে যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম তৈরি; আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, ই-বুক
- ফলাফল প্রকাশ: পাবলিক পরীক্ষার ফল কম্পিউটারে সংরক্ষণ ও প্রকাশ, তাই সহজ ও হয়রানিমুক্ত; অপটিক্যাল মার্ক রিডারে (OMR) দ্রুত ও নির্ভুল খাতা দেখা
- দক্ষ শিক্ষক তৈরি: প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব পূরণ; শিক্ষকেরা নিজেরাই ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করছেন
- শিক্ষা ব্যবস্থাপনা: ভর্তি প্রক্রিয়া ডিজিটাল; বায়োমেট্রিক হাজিরা; এসএমএস আর ওয়েবসাইটে অভিভাবক সন্তানের অগ্রগতি জানতে পারেন
ই-লার্নিং: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
- www.ebook.gov.bd: সরকারি ই-বুক ওয়েবসাইট, যেখান থেকে সব পাঠ্যবই আর বোর্ড বইয়ের ই-বুক বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়
- www.teachers.gov.bd: "শিক্ষক বাতায়ন", যেখান থেকে বিনামূল্যে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ডাউনলোড করা যায়
- বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষক ডট কম, আইসিটি শিক্ষা, 10 Minute School-এর মতো সাইট জনপ্রিয়
সৃজনশীলে যেভাবে আসে:
- "ঘরে বসে হাজার মাইল দূরের লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করা যায়" বা "শিক্ষাক্ষেত্রে অনলাইন লাইব্রেরির ভূমিকা" বললে ঘরে বসে বিশ্বের যেকোনো নামকরা লাইব্রেরিতে পড়ার সুবিধা বোঝায়।
- "ঘরে বসে বিদেশি ডিগ্রি অর্জন করা যায়": আইসিটির মাধ্যমে ঘরে বসেই বিশ্বের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পাঠ আর ডিগ্রি নেওয়া যায়। জেলখানা বা হাসপাতালের মতো যেখান থেকে পড়াশোনা প্রায় অসম্ভব, সেখান থেকেও।
বোর্ড বই: পৃষ্ঠা ৭–১৯ (অধ্যায় ১: বিশ্বগ্রাম: যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা)