ICTebook
← কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১
সাধারণ সাজেশনসুপার সাজেশন

কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১

সাধারণ সাজেশন

★★ ও ★★★ চিহ্নিত প্রশ্ন · মোট ১৯৫টি প্রশ্ন

অধ্যায় ১.১: কম্পিউটার সিস্টেম ইউনিট

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১৯টি)

  1. ১.১-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ২৬

    ১.কম্পিউটার হার্ডওয়্যার কী?

    • অথবা, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২২, ২৫]

    উত্তর

    কম্পিউটারের যেসব যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ চোখে দেখা যায় এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়, সেগুলোকে একসাথে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার বলে।

    অর্থাৎ হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের বাহ্যিক বা ভৌত কাঠামো। মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র‍্যাম, হার্ড ডিস্ক, কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার ইত্যাদি মিলে হার্ডওয়্যার গঠিত হয়।

    হার্ডওয়্যার নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না। সফটওয়্যারের নির্দেশ অনুযায়ী হার্ডওয়্যারই কম্পিউটারের সব কাজ বাস্তবে সম্পন্ন করে।

    উদাহরণ: কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, সিপিইউ, প্রিন্টার।

  2. ১.১-সং-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ২৬

    ২.কম্পিউটার কী? [কমার্স-২০০৯, ১১, ১৩, ১৪, ১৬; বিএমটি-২০১০, ২৪]

    • অথবা, কম্পিউটারের প্রধান কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৮]
    • অথবা, কম্পিউটার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০০৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৭, ১৯, ২৩]
    • অথবা, কম্পিউটার কী? কম্পিউটারের প্রধান কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৫]

    উত্তর

    কম্পিউটার হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য (ডেটা) ও নির্দেশ (প্রোগ্রাম) গ্রহণ করে, খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রক্রিয়া করে এবং ফলাফল প্রদান করে।

    Computer শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Compute থেকে, যার অর্থ গণনা করা। আগে কম্পিউটার শুধু হিসাবের কাজে ব্যবহার হতো, এখন লেখালেখি, ছবি, ভিডিও, যোগাযোগসহ প্রায় সব কাজেই ব্যবহার হয়। কম্পিউটারের কাজের গতি মাপা হয় ন্যানো সেকেন্ডে (এক সেকেন্ডের একশ কোটি ভাগের এক ভাগ)।

    কম্পিউটারের প্রধান কাজ:

    1. ইনপুট নেওয়া: কী-বোর্ড, মাউস ইত্যাদির মাধ্যমে ডেটা ও নির্দেশ গ্রহণ করা।
    2. সংরক্ষণ করা: ডেটা ও প্রোগ্রাম মেমরিতে জমা রাখা।
    3. প্রক্রিয়াকরণ করা: প্রোগ্রাম অনুযায়ী হিসাব ও যুক্তির কাজ করা।
    4. ফলাফল দেওয়া: মনিটর, প্রিন্টার ইত্যাদির মাধ্যমে আউটপুট প্রকাশ করা।

    💡 মনে রাখার কৌশল: ইনপুট → প্রক্রিয়াকরণ → আউটপুট (সাথে সংরক্ষণ)

  3. ১.১-সং-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ২৭

    ৩.ফার্মওয়্যার কী?

    • অথবা, ফার্মওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২৪]

    উত্তর

    কম্পিউটার তৈরির সময় প্রস্তুতকারক কোম্পানি যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের মেমরিতে (সাধারণত ROM-এ) স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়, সেগুলোকে ফার্মওয়্যার (Firmware) বলে।

    ফার্মওয়্যার হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাঝামাঝি একটি বিষয়। এটি হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কীভাবে কাজ শুরু করবে। ব্যবহারকারী সাধারণভাবে এই প্রোগ্রাম মুছতে বা পরিবর্তন করতে পারে না। কম্পিউটার চালু করলে (বুট হওয়ার সময়) প্রথমে ফার্মওয়্যারই কাজ করে।

    উদাহরণ: BIOS, UEFI; মোবাইল, প্রিন্টার, রাউটারের ভেতরের প্রোগ্রাম।

  4. ১.১-সং-৬★★বই: পৃষ্ঠা ২৭

    ৪.অ্যানালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্যগুলো লেখ। [বিএমটি-২০১১, ১৫]

    উত্তর

    অ্যানালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য:

    বিষয়অ্যানালগ কম্পিউটারডিজিটাল কম্পিউটার
    ১. সংকেতক্রমাগত পরিবর্তনশীল (অ্যানালগ) সংকেত ব্যবহার করে০ ও ১ (ডিজিটাল) সংকেত ব্যবহার করে
    ২. কাজের পদ্ধতিপরিমাপের মাধ্যমে কাজ করেগণনার মাধ্যমে কাজ করে
    ৩. সূক্ষ্মতাফলাফলের সূক্ষ্মতা কমফলাফল সূক্ষ্ম ও নির্ভুল
    ৪. গতিতুলনামূলক ধীরতুলনামূলক দ্রুত
    ৫. ফলাফল প্রদর্শনকাঁটা বা গ্রাফের মাধ্যমে দেখায়সরাসরি সংখ্যা বা লেখা আকারে মনিটরে দেখায়
    ৬. ব্যবহারতাপ, চাপ, গতি মাপতে; কলকারখানায়লেখালেখি, হিসাব, ছবি, নকশাসহ সব কাজে
    ৭. উদাহরণগাড়ির স্পিডোমিটার, স্লাইড রুলডেস্কটপ, ল্যাপটপ
  5. ১.১-সং-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ২৭

    ৫.সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও।

    • অথবা, সফটওয়্যারের প্রকারভেদ ছকের মাধ্যমে দেখাও। [বিএমটি-২০১৪]

    উত্তর

    সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:

                              সফটওয়্যার
                                  │
              ┌───────────────────┴───────────────────┐
       সিস্টেম সফটওয়্যার                    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
              │                                       │
       ┌──────┼──────────┐                    ┌───────┴───────┐
    সিস্টেম   সিস্টেম    সিস্টেম            সাধারণ          সুনির্দিষ্ট
    ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট          (প্যাকেজ)        (কাস্টমাইজড)
    প্রোগ্রাম   প্রোগ্রাম   প্রোগ্রাম           প্রোগ্রাম         প্রোগ্রাম
       │          │          │
    • অপারেটিং  • ল্যাঙ্গুয়েজ  • ইউটিলিটি
      সিস্টেম     ট্রান্সলেটর  • পারফরম্যান্স
    • ডেটাবেজ   • প্রোগ্রামিং    প্রোগ্রাম
      ম্যানেজমেন্ট  এডিটর ও টুলস • সিকিউরিটি
    • নেটওয়ার্ক  • CASE         মনিটর
      ম্যানেজমেন্ট
    

    ✍️ খাতায় লেখার টিপস: বক্স এঁকে তীর চিহ্ন দিয়ে ওপরের মতো সাজাও। প্রথম দুই ভাগ (সিস্টেম ও অ্যাপ্লিকেশন) অবশ্যই দেখাতে হবে।

  6. ১.১-সং-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ২৮

    ৬.হিউম্যানওয়্যার বলতে কী বুঝায়?

    • অথবা, ইউজারওয়্যার বা হিউম্যানওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০১৪]

    উত্তর

    কম্পিউটার চালানো, প্রোগ্রাম তৈরি, ডেটা ইনপুট দেওয়া, ফলাফল গ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যেসব মানুষ জড়িত থাকেন, তাদের একসাথে হিউম্যানওয়্যার (Humanware) বা ইউজারওয়্যার (Userware) বলে।

    হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার থাকলেও মানুষ ছাড়া কম্পিউটার চলে না। তাই হিউম্যানওয়্যার কম্পিউটার সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    উদাহরণ: কম্পিউটার ব্যবহারকারী, প্রোগ্রামার, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, রক্ষণাবেক্ষণকারী ও মেরামতকারী।

  7. ১.১-সং-১৪★★বই: পৃষ্ঠা ২৮

    ৭.পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

    উত্তর

    পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের কম্পিউটার, যার মূল লক্ষ্য কম্পিউটারকে মানুষের মতো চিন্তা করার ক্ষমতা দেওয়া। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

    1. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
    2. মানুষের কণ্ঠস্বর চিনতে ও স্বাভাবিক ভাষা বুঝতে পারবে।
    3. একটি চিপে অসংখ্য মাইক্রোপ্রসেসরযুক্ত অতি উন্নত IC ব্যবহার হবে।
    4. তথ্য ধারণক্ষমতা ও কাজের গতি অনেক বেশি হবে।
    5. যোগাযোগে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার হবে।
    6. অধিক শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারের উন্নয়ন ঘটবে।
    7. আকারে ছোট, দামে কম এবং বিদ্যুৎ খরচ কম হবে।
  8. ১.১-সং-১৫★★বই: পৃষ্ঠা ২৯

    ৮.কম্পিউটারের প্রধান কাজ কী কী?

    উত্তর

    কম্পিউটার মূলত তিনটি ধাপে কাজ করে: ইনপুট → প্রক্রিয়াকরণ → আউটপুট। এর প্রধান কাজগুলো হলো:

    1. ডেটা গ্রহণ (Input): কী-বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন ইত্যাদির মাধ্যমে ডেটা ও নির্দেশ গ্রহণ করা।
    2. সংরক্ষণ (Storage): ব্যবহারকারীর তৈরি প্রোগ্রাম ও ডেটা মেমরিতে জমা রাখা।
    3. প্রক্রিয়াকরণ (Process): প্রোগ্রাম অনুযায়ী ডেটার ওপর হিসাব ও যুক্তির কাজ করা।
    4. ফলাফল প্রদান (Output): মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার, স্পিকার ইত্যাদির মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা।
    5. নিয়ন্ত্রণ (Control): সব অংশের কাজ সঠিক ক্রমে চালানো।
  9. ১.১-সং-১৬★★বই: পৃষ্ঠা ২৯

    ৯.কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

    উত্তর

    যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে কম্পিউটার মানবসভ্যতার উন্নয়নে "জাদুর কাঠি" হয়ে উঠেছে, সেগুলো হলো:

    1. দ্রুতগতি: খুব দ্রুত কাজ করতে পারে।
    2. নির্ভুলতা: সঠিক ইনপুট পেলে নির্ভুল ফলাফল দেয়।
    3. যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত: প্রোগ্রাম অনুযায়ী যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
    4. স্বয়ংক্রিয়তা: একবার নির্দেশ দিলে নিজে নিজে কাজ করতে পারে।
    5. বহুমুখিতা: একই যন্ত্রে নানা ধরনের কাজ করা যায়।
    6. ক্লান্তিহীনতা: ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিরতি ছাড়া কাজ করতে পারে।
    7. বিশাল স্মৃতি: অনেক তথ্য দীর্ঘদিন অক্ষতভাবে সংরক্ষণ করতে পারে।
    8. ভুল শনাক্তকরণ: কিছু ভুল নিজে শনাক্ত ও সংশোধন করতে পারে।
    9. দীর্ঘ জীবনকাল: বহু বছর ধরে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে।
  10. ১.১-সং-২৬★★বই: পৃষ্ঠা ৩০

    ১০.হার্ডওয়্যারের উপাদানগুলো কী কী?

    উত্তর

    কম্পিউটারের যেসব যন্ত্রাংশ দেখা ও স্পর্শ করা যায়, সেগুলোকে হার্ডওয়্যার বলে। এসব যন্ত্রাংশ মিলেই কম্পিউটারের ভৌত কাঠামো তৈরি হয় এবং সফটওয়্যারের নির্দেশে এরাই সব কাজ সম্পন্ন করে।

    হার্ডওয়্যারের প্রধান উপাদানগুলো হলো:

    ক্রমউপাদানক্রমউপাদান
    ১সিপিইউ (CPU)৬প্লটার (Plotter)
    ২মনিটর (Monitor)৭স্পিকার (Speaker)
    ৩কী-বোর্ড (Keyboard)৮জয়স্টিক (Joystick)
    ৪প্রিন্টার (Printer)৯ডিজিটাল ক্যামেরা
    ৫মাউস (Mouse)১০স্ক্যানার (Scanner)

    এছাড়া সিস্টেম ইউনিটের ভেতরে মাদারবোর্ড, র‍্যাম, হার্ড ডিস্ক, পাওয়ার সাপ্লাই ইত্যাদি থাকে।

  11. ১.১-সং-২৭★★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ১১.হার্ডওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও।

    উত্তর

    কাজের ধরন অনুযায়ী হার্ডওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:

                                  হার্ডওয়্যার
                                       │
            ┌──────────────────────────┼──────────────────────────┐
      ইনপুট যন্ত্রপাতি            প্রসেসিং ইউনিট             আউটপুট যন্ত্রপাতি
            │                          │                          │
    • কী-বোর্ড, মাউস           • সিপিইউ/মাইক্রোপ্রসেসর        • মনিটর
    • স্ক্যানার, জয়স্টিক         • র‍্যাম, হার্ড ডিস্ক            • প্রিন্টার
    • মাইক্রোফোন                • মাদারবোর্ড                  • প্লটার
    • ডিজিটাল ক্যামেরা          • পাওয়ার সাপ্লাই               • স্পিকার
    • কার্ড রিডার               • সাউন্ড কার্ড, VGA কার্ড
                                • সিডি/ডিভিডি ড্রাইভ
    

    ✍️ খাতায় লেখার টিপস: তিনটি প্রধান ভাগ (ইনপুট, প্রসেসিং, আউটপুট) অবশ্যই দেখাও, তারপর প্রতিটির নিচে উদাহরণ লেখো।

  12. ১.১-সং-২৮★★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ১২.সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ ক্রমে সাজানো নির্দেশকে প্রোগ্রাম বলে। আর কম্পিউটার চালানোর জন্য এক বা একাধিক প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার (Software) বলে।

    Soft অর্থ নরম, অর্থাৎ যা হাত দিয়ে ধরা বা ছোঁয়া যায় না। সফটওয়্যারই হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কোন কাজ কীভাবে করতে হবে। সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার শুধু একটি "লোহার বাক্স"। প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার পরিবর্তন (modify) করা যায়।

    উদাহরণ: Windows, MS Word, Google Chrome, Photoshop।

  13. ১.১-সং-২৯★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ১৩.সিস্টেম সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যান্য সফটওয়্যার চালানোর পরিবেশ তৈরির জন্য যেসব প্রোগ্রাম ব্যবহার হয়, সেগুলোকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে।

    সিস্টেম সফটওয়্যার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের কাজ তদারকি করে এবং কম্পিউটার ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে। এটি ছাড়া কম্পিউটার চালানোই যায় না।

    উদাহরণ: অপারেটিং সিস্টেম (Windows, Linux), ডিভাইস ড্রাইভার, অনুবাদক প্রোগ্রাম (কম্পাইলার)।

  14. ১.১-সং-৩০★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ১৪.ইউটিলিটি সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    কম্পিউটারের ব্যবহার সহজ করা, কম্পিউটারকে ভালো রাখা এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমস্যা ঠিক করার জন্য যেসব সহায়ক প্রোগ্রাম ব্যবহার হয়, সেগুলোকে ইউটিলিটি সফটওয়্যার বলে।

    এগুলো ভাইরাস দূর করা, অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে জায়গা খালি করা, ডিস্ক গুছিয়ে কম্পিউটারের গতি বাড়ানো, ব্যাকআপ রাখা ইত্যাদি কাজ করে।

    উদাহরণ: Norton Utility, McAfee (অ্যান্টিভাইরাস), CCleaner, Disk Cleanup, Disk Defragmenter।

  15. ১.১-সং-৩১★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ১৫.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    ব্যবহারকারী তার দৈনন্দিন নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য যেসব প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে।

    যেমন চিঠি লেখা, হিসাব রাখা, ছবি সম্পাদনা, গান শোনা বা প্রেজেন্টেশন তৈরির জন্য আলাদা আলাদা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার আছে।

    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

    1. প্যাকেজ সফটওয়্যার (Package software)
    2. কাস্টমাইজড সফটওয়্যার (Customized software)
    3. কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ (Computer language)

    উদাহরণ: MS Word, MS Excel, PowerPoint, Photoshop।

  16. ১.১-সং-৩২★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ১৬.প্যাকেজ সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    যে সফটওয়্যার কোনো সফটওয়্যার কোম্পানি নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে এবং যে কেউ কিনে ব্যবহার করতে পারে, তাকে প্যাকেজ সফটওয়্যার বলে।

    এগুলো অনেক ব্যবহারকারীর সাধারণ প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি, তাই তৈরি অবস্থায় কিনে সরাসরি কাজ শুরু করা যায়।

    উদাহরণ:

    • MS Word: লেখালেখি বা ওয়ার্ড প্রসেসিং
    • MS Excel: হিসাব বা স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস
    • MS Access: ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা
    • PowerPoint: প্রেজেন্টেশন তৈরি
  17. ১.১-সং-৩৩★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ১৭.কাস্টমাইজড সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা সফটওয়্যারকে কাস্টমাইজড সফটওয়্যার বলে।

    এটি শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের কাজের সাথে মিল রেখে তৈরি হয়, তাই অন্য কারো কাজে সাধারণত লাগে না। প্রতিষ্ঠান নিজেই প্রোগ্রামার দিয়ে তৈরি করতে পারে, অথবা সফটওয়্যার কোম্পানিকে দিয়ে তৈরি করিয়ে নিতে পারে।

    উদাহরণ: ব্যাংকের হিসাব সফটওয়্যার, হাসপাতালের রোগী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, স্কুলের ফলাফল তৈরির সফটওয়্যার।

  18. ১.১-সং-৩৬★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ১৮.প্রসেসর বা মাইক্রোপ্রসেসর কী?

    উত্তর

    প্রসেসর বা মাইক্রোপ্রসেসর হলো কম্পিউটারের প্রধান অংশ, যা সব ধরনের গাণিতিক (Arithmetic) ও যৌক্তিক (Logical) কাজ করে এবং কম্পিউটারের অন্যান্য অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    এটি একটি ছোট সিলিকন চিপ, যার ভেতরে লক্ষ লক্ষ ট্রানজিস্টর থাকে। প্রোগ্রামের নির্দেশ অনুযায়ী কম্পিউটারের সব কাজ প্রসেসরের মাধ্যমেই চলে, তাই একে কম্পিউটারের "মস্তিষ্ক" বলা হয়। এর আরেক নাম CPU (Central Processing Unit)।

    উদাহরণ: Intel Core i3, i5, i7; AMD Ryzen।

  19. ১.১-সং-৩৯★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ১৯.সিপিইউ কী?

    উত্তর

    CPU-এর পূর্ণরূপ Central Processing Unit বা কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ। এটি কম্পিউটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই একে কম্পিউটারের "মস্তিষ্ক" বলা হয়।

    সিপিইউ ইনপুট থেকে পাওয়া ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে এবং কম্পিউটারের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এর তিনটি প্রধান অংশ:

    1. গাণিতিক যুক্তি অংশ (ALU – Arithmetic Logic Unit)
    2. নিয়ন্ত্রণ অংশ (CU – Control Unit)
    3. স্মৃতি অংশ (MU – Memory Unit)

রচনামূলক প্রশ্ন (৭টি)

  1. ১.১-র-১★★বই: পৃষ্ঠা ৩১

    ১.কম্পিউটারের প্রকারভেদ বর্ণনা কর।

    • অথবা, প্রয়োগক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও। [বিএমটি-২০২৬]
    • অথবা, কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০০৯, ১২, ১৪, ১৯, ২৩, ২৫; কমার্স-১৩]

    উত্তর

    কাজের ধরন, গঠন, আকার ও ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটারকে কয়েকভাবে ভাগ করা যায়। প্রধান ভাগগুলো নিচে ছকে দেখানো হলো:

                             কম্পিউটার
                                 │
                ┌────────────────┴────────────────┐
         সাধারণ উদ্দেশ্যের                 বিশেষ উদ্দেশ্যের
            কম্পিউটার                        কম্পিউটার
                                                 │
                  ┌──────────────────┬───────────┴──────┐
             অ্যানালগ             ডিজিটাল            হাইব্রিড
                                     │
              ┌──────────┬───────────┼───────────┐
            সুপার     মেইনফ্রেম      মিনি       মাইক্রো
    

    ক. প্রয়োগক্ষেত্র অনুযায়ী (২ প্রকার)

    ১. সাধারণ উদ্দেশ্যের কম্পিউটার: যে কম্পিউটারে প্রায় সব ধরনের কাজ করা যায়, তাকে সাধারণ উদ্দেশ্যের কম্পিউটার বলে। ব্যবহারকারী ইচ্ছেমতো প্রোগ্রাম বদলাতে ও বিভিন্ন সফটওয়্যার চালাতে পারেন। যেমন: অফিস ও বাসার কম্পিউটার।

    ২. বিশেষ উদ্দেশ্যের কম্পিউটার: যে কম্পিউটার শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি, তাকে বিশেষ উদ্দেশ্যের কম্পিউটার বলে। এতে প্রোগ্রাম আগে থেকেই বসানো থাকে। যেমন: ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ভিডিও গেম, রক্ত পরীক্ষার যন্ত্র।

    খ. কাজের পদ্ধতি অনুযায়ী (৩ প্রকার)

    ১. অ্যানালগ কম্পিউটার: যে কম্পিউটার তাপ, চাপ, গতির মতো ক্রমাগত পরিবর্তনশীল রাশিকে পরিমাপ করে কাজ করে, তাকে অ্যানালগ কম্পিউটার বলে। ফলাফল সাধারণত কাঁটা বা গ্রাফে দেখায়, তাই সূক্ষ্মতা কম। যেমন: গাড়ির স্পিডোমিটার, তেল শোধনাগারে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।

    ২. ডিজিটাল কম্পিউটার: যে কম্পিউটার ০ ও ১ সংকেত ব্যবহার করে গণনার মাধ্যমে কাজ করে, তাকে ডিজিটাল কম্পিউটার বলে। এর ফলাফল সূক্ষ্ম ও নির্ভুল। যেমন: ডেস্কটপ, ল্যাপটপ।

    ৩. হাইব্রিড কম্পিউটার: অ্যানালগ ও ডিজিটাল দুই কম্পিউটারের গুণ মিলিয়ে তৈরি কম্পিউটারকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে। এর অ্যানালগ অংশ তথ্য মাপে, আর ডিজিটাল অংশ সেটা হিসাব করে ফলাফল দেয়। যেমন: হাসপাতালের ICU-তে রোগীর হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ মাপার কম্পিউটার।

    গ. আকার ও ক্ষমতা অনুযায়ী ডিজিটাল কম্পিউটার (৪ প্রকার)

    ১. সুপার কম্পিউটার: সবচেয়ে শক্তিশালী, দ্রুতগতির ও দামি কম্পিউটার। বিশাল পরিমাণ তথ্য খুব দ্রুত প্রক্রিয়া করতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বড় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহার হয়। যেমন: CRAY-1, CYBER-205, ভারতের "পরম"।

    ২. মেইনফ্রেম কম্পিউটার: সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট কিন্তু অনেক শক্তিশালী। একসাথে বহু টার্মিনালে অনেক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারেন। ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হয়। যেমন: IBM-4300, UNIVAC-1100।

    ৩. মিনি কম্পিউটার: মেইনফ্রেমের চেয়ে ছোট, কিন্তু মাইক্রো কম্পিউটারের চেয়ে বড় ও শক্তিশালী। একটি টেবিলে বসানো যায় এবং কয়েকজন একসাথে কাজ করতে পারেন। শিল্প ও গবেষণায় ব্যবহার হয়। যেমন: PDP-11, IBM-S/34।

    ৪. মাইক্রো কম্পিউটার: মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে তৈরি সবচেয়ে ছোট ও সস্তা কম্পিউটার। একে পার্সোনাল কম্পিউটার (PC)-ও বলে। অফিস, বাসা, স্কুল-কলেজে এটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। আকার অনুযায়ী এর কয়েকটি ধরন: ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক, পামটপ ও পকেট কম্পিউটার।

    উপসংহার: কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার তৈরি হয়েছে। তবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ডিজিটাল মাইক্রো কম্পিউটার।

  2. ১.১-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৪

    ২.কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ সংগঠন ও কার্যাবলি বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২২, ২৪]

    • অথবা, কম্পিউটার সংগঠন ব্লক চিত্রের মাধ্যমে দেখাও। [বিএমটি-২০২৩]

    উত্তর

    কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ একটি নির্দিষ্ট নিয়মে পরস্পরের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করে। যন্ত্রাংশগুলোর এই সংযোগ ও সাজানোর পদ্ধতিকে কম্পিউটার সংগঠন বলে। কম্পিউটার সংগঠনের পাঁচটি অংশ আছে:

    (ক) ইনপুট ডিভাইস, (খ) গাণিতিক যুক্তি অংশ (ALU), (গ) নিয়ন্ত্রণ অংশ (CU), (ঘ) মেমরি বা স্মৃতি অংশ এবং (ঙ) আউটপুট ডিভাইস।

                       ┌─────────────────────────────────┐
                       │      কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ (CPU)  │
                       │   ┌─────────────────────────┐   │
                       │   │ গাণিতিক যুক্তি অংশ (ALU) │   │
                       │   └───────────▲─────────────┘   │
    ┌──────────┐       │   ┌───────────┴─────────────┐   │       ┌──────────┐
    │  ইনপুট   │──────►│   │   নিয়ন্ত্রণ অংশ (CU)    │   │──────►│  আউটপুট  │
    │ ডিভাইস   │       │   └───────────▲─────────────┘   │       │ ডিভাইস   │
    └──────────┘       │   ┌───────────┴─────────────┐   │       └──────────┘
                       │   │ প্রধান স্মৃতি (RAM, ROM) │   │
                       │   └─────────────────────────┘   │
                       └─────────────────────────────────┘
                         চিত্র: কম্পিউটার সংগঠনের ব্লক চিত্র
    

    (ক) ইনপুট ডিভাইস: যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পিউটারে ডেটা ও নির্দেশ দেওয়া হয়, সেগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বা গ্রহণমুখ যন্ত্র বলে। কাজ: ব্যবহারকারীর ডেটা ও নির্দেশ কম্পিউটারের বোঝার উপযোগী সংকেতে রূপান্তর করে প্রক্রিয়াকরণ অংশে পাঠানো। উদাহরণ: কী-বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, OMR, OCR, মাইক্রোফোন, লাইট পেন।

    (খ) গাণিতিক যুক্তি অংশ (ALU): সিপিইউ-এর যে অংশ সব হিসাব ও তুলনার কাজ করে, তাকে গাণিতিক যুক্তি অংশ বা ALU (Arithmetic Logic Unit) বলে। কাজ:

    1. গাণিতিক কাজ: যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ।
    2. যুক্তিমূলক কাজ: AND, OR, NOT ইত্যাদি লজিক গেটের মাধ্যমে তুলনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া (যেমন: বড়, ছোট, সমান)।
    3. উপাত্ত সঞ্চালন: হিসাবের পর রেজিস্টার খালি করে পরের কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা।

    (গ) নিয়ন্ত্রণ অংশ (CU): সিপিইউ-এর যে অংশ কম্পিউটারের সব অংশের কাজ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে নিয়ন্ত্রণ অংশ বা CU (Control Unit) বলে। একে কম্পিউটারের "ট্রাফিক পুলিশ" বলা যায়। কাজ:

    1. মেমরি থেকে একটির পর একটি নির্দেশ (Instruction) সংগ্রহ করা।
    2. নির্দেশ অনুযায়ী ALU-কে যোগ-বিয়োগের মতো কাজের আদেশ দেওয়া।
    3. ALU-এর ফলাফল মেমরিতে পাঠানো।
    4. ইনপুট থেকে ডেটা মেমরিতে আনা এবং ফলাফল আউটপুটে পাঠানো।
    5. সব অংশের মধ্যে সমন্বয় রাখা।

    (ঘ) মেমরি বা স্মৃতি অংশ: যে অংশে ডেটা, নির্দেশ ও ফলাফল জমা রাখা হয়, তাকে মেমরি বলে। প্রধান মেমরির (RAM ও ROM) সাথে ALU-এর সরাসরি যোগাযোগ থাকে, তাই এটি খুব দ্রুতগতির। কাজ:

    1. ইনপুট থেকে আসা ডেটা ও নির্দেশ প্রক্রিয়াকরণের আগ পর্যন্ত জমা রাখা।
    2. প্রক্রিয়াকরণের সময় মাঝের (অন্তর্বর্তী) ফলাফল রাখা।
    3. চূড়ান্ত ফলাফল আউটপুটে পাঠানোর আগ পর্যন্ত জমা রাখা।
    4. প্রোগ্রামের নির্দেশগুলো সংরক্ষণ করা।

    (ঙ) আউটপুট ডিভাইস: প্রক্রিয়াকরণের পর পাওয়া ফলাফল যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছে প্রকাশ করা হয়, সেগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বা নির্গমনমুখ যন্ত্র বলে। উদাহরণ: মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার, স্পিকার।

    উপসংহার: এই পাঁচটি অংশ একসাথে সমন্বয় করে কাজ করে বলেই কম্পিউটার ডেটা গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ ও ফলাফল প্রদান করতে পারে।

  3. ১.১-র-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৫

    ৩.সফটওয়্যারের প্রকারভেদ বর্ণনা কর।

    • অথবা, সফটওয়্যারের প্রকারভেদ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? এর দুটি কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৬]

    উত্তর

    কম্পিউটার চালানোর জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। কাজের ধরন অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার: (১) সিস্টেম সফটওয়্যার ও (২) অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।

                              সফটওয়্যার
                                  │
              ┌───────────────────┴───────────────────┐
       সিস্টেম সফটওয়্যার                    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
              │                                       │
       ┌──────┼──────────┐                    ┌───────┴───────┐
    সিস্টেম   সিস্টেম    সিস্টেম            সাধারণ          সুনির্দিষ্ট
    ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট          (প্যাকেজ)        (কাস্টমাইজড)
    প্রোগ্রাম   প্রোগ্রাম   প্রোগ্রাম           প্রোগ্রাম         প্রোগ্রাম
       │          │          │
    • অপারেটিং  • ল্যাঙ্গুয়েজ  • ইউটিলিটি
      সিস্টেম     ট্রান্সলেটর  • পারফরম্যান্স
    • ডেটাবেজ   • প্রোগ্রামিং    প্রোগ্রাম
      ম্যানেজমেন্ট  এডিটর ও টুলস • সিকিউরিটি
    • নেটওয়ার্ক  • CASE         মনিটর
      ম্যানেজমেন্ট
    

    ১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software)

    যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, সেগুলোকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। এটি কম্পিউটারের মৌলিক কাজ পরিচালনা করে এবং অন্য সফটওয়্যার চালাতে সাহায্য করে। সিস্টেম সফটওয়্যারের প্রধান ধরনগুলো:

    (ক) অপারেটিং সিস্টেম (Operating System): কম্পিউটার পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত মূল সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম বলে। এটি কম্পিউটারের সব ডিভাইস ও সফটওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে। বিদ্যুৎ ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না, তেমনি অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও কম্পিউটার চালানো যায় না।

    • অপারেটিং সিস্টেমের দুটি কাজ: (i) হার্ডওয়্যার (মেমরি, প্রসেসর, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস) পরিচালনা করা; (ii) ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা।
    • উদাহরণ: MS-DOS, Windows (XP, 7, 10, 11), UNIX, Linux, macOS।

    (খ) ইউটিলিটি সফটওয়্যার (Utility Software): কম্পিউটারের ব্যবহার সহজ করা এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম। যেমন: অ্যান্টিভাইরাস (McAfee), Norton Utility, Disk Cleanup। মাইক্রো কম্পিউটারে ব্যবহৃত কিছু ইউটিলিটি প্রোগ্রাম:

    • এডিটর (Editor): প্রোগ্রাম বা লেখা তৈরি ও সংশোধন করে।
    • লোডার (Loader): প্রোগ্রাম চালানোর জন্য সেটিকে প্রধান মেমরিতে নিয়ে আসে।
    • মনিটর বা ফার্মওয়্যার: ROM-এ স্থায়ীভাবে থাকা প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটার চালু করতে সাহায্য করে।

    (গ) অনুবাদক সফটওয়্যার (Translator Software): উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের বোধগম্য মেশিন ভাষায় (০ ও ১) রূপান্তর করে। যেমন: কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার, অ্যাসেম্বলার।

    (ঘ) গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) সফটওয়্যার: আইকন, মেনু ও উইন্ডোর মাধ্যমে মাউস দিয়ে সহজে কম্পিউটার চালানোর সুযোগ দেয়।

    ২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software)

    ব্যবহারকারী তার নির্দিষ্ট দৈনন্দিন কাজ করার জন্য যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে। এটি দুই ধরনের:

    (ক) প্যাকেজ সফটওয়্যার: সফটওয়্যার কোম্পানি অনেক ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে। যেমন: MS Word (লেখালেখি), MS Excel (হিসাব), PowerPoint (প্রেজেন্টেশন), Photoshop (ছবি সম্পাদনা)।

    (খ) কাস্টমাইজড সফটওয়্যার: কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে তৈরি করা সফটওয়্যার। যেমন: ব্যাংক, বিমা বা হাসপাতালের নিজস্ব সফটওয়্যার।

    উপসংহার: সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারকে চালু ও কার্যকর রাখে, আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার দিয়ে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করি। দুটো মিলেই কম্পিউটার আমাদের কাজে লাগে।

  4. ১.১-র-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৬

    ৪.কম্পিউটারের প্রজন্ম বা জেনারেশন বর্ণনা কর।

    • অথবা, বিভিন্ন প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর। [বিএমটি-২০১০]
    • অথবা, কম্পিউটারের প্রজন্মের প্রকারভেদ সংক্ষেপে আলোচনা কর। [কমার্স-২০১৪]
    • অথবা, বিভিন্ন প্রজন্মের কম্পিউটারের দুটি করে বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর। [বিএমটি-২০১৩]
    • অথবা, চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য লেখ। [বিএমটি-২০১৫]

    উত্তর

    প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে কম্পিউটারের গঠন ও কাজের ক্ষমতায় যে ধাপে ধাপে পরিবর্তন হয়েছে, তার প্রতিটি ধাপকে কম্পিউটারের প্রজন্ম (Generation) বলে। কম্পিউটারকে ৫টি প্রজন্মে ভাগ করা হয়।

    প্রজন্মসময়কালমূল প্রযুক্তি
    প্রথম১৯৪৬–১৯৫৮ভ্যাকুয়াম টিউব
    দ্বিতীয়১৯৫৮–১৯৬৫ট্রানজিস্টর
    তৃতীয়১৯৬৫–১৯৭১ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC)
    চতুর্থ১৯৭১–বর্তমানমাইক্রোপ্রসেসর (VLSI)
    পঞ্চমবর্তমান ও ভবিষ্যৎকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)

    ১. প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৪৬–১৯৫৮)

    এ প্রজন্মের কম্পিউটার ভ্যাকুয়াম টিউব দিয়ে তৈরি হতো। বৈশিষ্ট্য:

    • আকারে বিশাল, ওজন অনেক বেশি।
    • প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হতো এবং খুব গরম হতো।
    • মেমরি হিসেবে চৌম্বকীয় ড্রাম ব্যবহার হতো।
    • ইনপুট/আউটপুটে পাঞ্চ কার্ড ব্যবহার হতো।
    • প্রোগ্রাম লেখা হতো মেশিন ভাষায়। উদাহরণ: ENIAC, UNIVAC-1, IBM-650।

    ২. দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৫৮–১৯৬৫)

    এ প্রজন্মে ভ্যাকুয়াম টিউবের বদলে ট্রানজিস্টর ব্যবহার শুরু হয়। বৈশিষ্ট্য:

    • আকারে ছোট, গতি বেশি, বিদ্যুৎ খরচ কম।
    • প্রধান মেমরি হিসেবে চৌম্বকীয় কোর মেমরি ব্যবহার হয়।
    • সহায়ক মেমরি হিসেবে চৌম্বকীয় টেপ ও ডিস্ক ব্যবহার শুরু হয়।
    • অ্যাসেম্বলি ভাষা এবং FORTRAN, COBOL-এর মতো উচ্চস্তরের ভাষা ব্যবহার শুরু হয়। উদাহরণ: IBM-1401, IBM-1620।

    ৩. তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫–১৯৭১)

    এ প্রজন্মে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) ব্যবহার শুরু হয়। বৈশিষ্ট্য:

    • আকার আরও ছোট, গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বেশি।
    • অর্ধপরিবাহী (সেমিকন্ডাক্টর) মেমরি ব্যবহার শুরু হয়।
    • মনিটর ও কী-বোর্ড ব্যবহার শুরু হয়।
    • অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহার এবং একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো সম্ভব হয়।
    • মিনি কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হয়। উদাহরণ: IBM-360, PDP-8।

    ৪. চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৭১–বর্তমান)

    এ প্রজন্মে মাইক্রোপ্রসেসর ও বৃহৎ মাপের IC (LSI ও VLSI) ব্যবহার শুরু হয়। বৈশিষ্ট্য:

    • একটি ছোট চিপেই পুরো সিপিইউ (মাইক্রোপ্রসেসর)।
    • আকারে ছোট, দামে কম, গতি ও ধারণক্ষমতা অনেক বেশি।
    • মাইক্রো বা পার্সোনাল কম্পিউটারের (PC) ব্যাপক প্রচলন।
    • উন্নত অপারেটিং সিস্টেম, GUI ও নেটওয়ার্ক/ইন্টারনেট ব্যবহার। উদাহরণ: IBM PC, Apple Macintosh, বর্তমানের ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ।

    ৫. পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ)

    এ প্রজন্মের মূল লক্ষ্য কম্পিউটারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে মানুষের মতো চিন্তার ক্ষমতা দেওয়া। বৈশিষ্ট্য:

    • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
    • মানুষের কণ্ঠস্বর চিনতে ও স্বাভাবিক ভাষা বুঝতে পারবে।
    • অসংখ্য মাইক্রোপ্রসেসরযুক্ত অতি উন্নত IC ব্যবহার হবে।
    • যোগাযোগে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার হবে।
    • তথ্য ধারণক্ষমতা ও গতি অনেক গুণ বেশি হবে।

    উপসংহার: প্রতিটি নতুন প্রজন্মে কম্পিউটার আগের চেয়ে ছোট, দ্রুত, সস্তা ও শক্তিশালী হয়েছে, আর ভবিষ্যতের কম্পিউটার হবে আরও বুদ্ধিমান।

  5. ১.১-র-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৮

    ৫.কম্পিউটার বলতে কী বুঝ? কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটার: কম্পিউটার হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ডেটা ও নির্দেশ গ্রহণ করে, দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রক্রিয়া করে এবং ফলাফল প্রদান করে। Computer শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Compute থেকে, যার অর্থ গণনা করা। কম্পিউটার একক কোনো যন্ত্র নয়; অনেকগুলো যন্ত্রাংশ মিলে এটি তৈরি হয়। এটি বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান করতে পারে।

    কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ: কম্পিউটারের প্রধান হার্ডওয়্যার অংশগুলো হলো: সিস্টেম ইউনিট, মাদারবোর্ড, প্রসেসর, পাওয়ার সাপ্লাই, হার্ড ডিস্ক/এসএসডি, র‍্যাম, রম, ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস। নিচে এগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো:

    ১. সিস্টেম ইউনিট: কম্পিউটারের যে বাক্স বা কেসিংয়ের ভেতরে মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র‍্যাম, হার্ড ডিস্ক, পাওয়ার সাপ্লাই ইত্যাদি লাগানো থাকে, তাকে সিস্টেম ইউনিট বলে। অনেকে একে ভুলভাবে "সিপিইউ" বলেন।

    ২. মাদারবোর্ড: কম্পিউটারের প্রধান সার্কিট বোর্ড, যার সাথে অন্য সব যন্ত্রাংশ যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার তৈরি হয়। একে কম্পিউটারের মূল ভিত্তি বলা যায়।

    ৩. প্রসেসর: যে যন্ত্রটি ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও সব হিসাবের কাজ করে, তাকে প্রসেসর বলে। এর আরেক নাম CPU (Central Processing Unit)। একে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়।

    ৪. পাওয়ার সাপ্লাই: বিদ্যুৎ লাইন থেকে আসা বিদ্যুৎকে উপযুক্ত মানে রূপান্তর করে কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশে প্রয়োজনমতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

    ৫. হার্ড ডিস্ক: কম্পিউটারের ডেটা ও প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে রাখার যন্ত্র, যাতে পরে আবার ব্যবহার করা যায়।

    ৬. এসএসডি (SSD): পূর্ণরূপ Solid State Drive। এটি পেনড্রাইভ বা মেমরি কার্ডের মতো একটি ফ্ল্যাশ স্টোরেজ, যা হার্ড ডিস্কের বদলে ব্যবহার হয়। এতে কম্পিউটার অনেক দ্রুত কাজ করে।

    ৭. র‍্যাম (RAM): পূর্ণরূপ Random Access Memory। কাজ চলার সময় প্রয়োজনীয় তথ্য অস্থায়ীভাবে রাখে এবং দ্রুত সরবরাহ করে। বিদ্যুৎ চলে গেলে এর তথ্য মুছে যায়।

    ৮. রম (ROM): পূর্ণরূপ Read Only Memory। এটি প্রধান মেমরির একটি অংশ, যেখানে কম্পিউটার চালু করার মৌলিক তথ্য প্রস্তুতকারক স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়।

    ৯. ইনপুট ডিভাইস: কী-বোর্ড ও মাউসের মাধ্যমে কম্পিউটারে ডেটা ও নির্দেশ দেওয়া হয়।

    ১০. আউটপুট ডিভাইস: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকারের মাধ্যমে কম্পিউটার ফলাফল প্রকাশ করে।

    উপসংহার: এসব অংশ একসাথে সমন্বয় করে কাজ করলেই একটি কম্পিউটার পূর্ণাঙ্গভাবে চলে।

  6. ১.১-র-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৪০

    ৬.কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটার একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র। এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে আজ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার হচ্ছে। নিচে বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো:

    ১. দ্রুতগতি (Speed): কম্পিউটার বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে কাজ করে, তাই এর গতি অবিশ্বাস্য। কম্পিউটারের কাজের গতি মাপা হয় ন্যানো সেকেন্ডে; একটি উচ্চক্ষমতার কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ হিসাব করতে পারে।

    ২. নির্ভুলতা (Accuracy): কম্পিউটার নিজে ভুল করে না। সঠিক প্রোগ্রাম ও ডেটা দিলে এটি সবসময় নির্ভুল ফলাফল দেয়। তবে ভুল ইনপুট দিলে ফলাফলও ভুল হয় (Garbage In, Garbage Out)।

    ৩. বহুমুখিতা (Versatility): একই কম্পিউটারে হিসাব, লেখালেখি, ছবি আঁকা, গান শোনা, যোগাযোগ, শিক্ষা, গবেষণাসহ নানা ধরনের কাজ করা যায়।

    ৪. স্বয়ংক্রিয়তা (Automation): একবার প্রোগ্রাম দিয়ে দিলে কম্পিউটার মানুষের সাহায্য ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে নিজে নিজে কাজ শেষ করতে পারে।

    ৫. বিশাল স্মৃতি (Memory): কম্পিউটার কোটি কোটি তথ্য বছরের পর বছর অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করতে পারে এবং প্রয়োজনমতো মুহূর্তেই তা খুঁজে দিতে পারে।

    ৬. ক্লান্তিহীনতা (Diligence): মানুষ ক্লান্ত বা বিরক্ত হয়, কিন্তু কম্পিউটার একই কাজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই গতি ও নির্ভুলতায় করে যেতে পারে।

    ৭. যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত (Logical Decision): নিজের বিচারবুদ্ধি না থাকলেও প্রোগ্রামের সাহায্যে কম্পিউটার তুলনা করে যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    ৮. ভুল শনাক্তকরণ ও সংশোধন: কম্পিউটার এমনভাবে প্রোগ্রাম করা যায় যে এটি দ্রুত কিছু ভুল শনাক্ত ও সংশোধন করতে পারে।

    ৯. সূক্ষ্মতা (Precision): কম্পিউটারের হিসাবের সূক্ষ্মতা অতুলনীয়, যা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

    ১০. বুদ্ধিহীনতা (IQ নেই): কম্পিউটারের নিজস্ব কোনো বুদ্ধি নেই। ব্যবহারকারী যেভাবে নির্দেশ দেন, কম্পিউটার শুধু সেভাবেই কাজ করে; নিজে থেকে কিছু ভাবতে পারে না।

    উপসংহার: এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে কম্পিউটার আজ মানুষের সবচেয়ে কার্যকর সহায়ক যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।

  7. ১.১-র-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ৪১

    ৭.কম্পিউটার সফটওয়্যার ও ফার্মওয়্যার-এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।

    উত্তর

    সফটওয়্যার হলো নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি প্রোগ্রামের সমষ্টি, আর ফার্মওয়্যার হলো হার্ডওয়্যারের ভেতরে স্থায়ীভাবে বসানো বিশেষ ধরনের প্রোগ্রাম, যা হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে। এদের মধ্যে পার্থক্য:

    বিষয়সফটওয়্যারফার্মওয়্যার
    ১. সংজ্ঞানির্দিষ্ট কাজের জন্য কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রোগ্রাম ও নির্দেশের সমষ্টিহার্ডওয়্যারের ভেতরে স্থায়ীভাবে বসানো প্রোগ্রাম, যা ডিভাইসকে কীভাবে কাজ করতে হবে তা বলে দেয়
    ২. প্রকারভেদপ্রধানত দুই প্রকার: সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারপ্রধানত দুই প্রকার: BIOS ও UEFI (EFI)
    ৩. আকারআকারে বড়; কয়েকশ কিলোবাইট থেকে কয়েক গিগাবাইটআকারে ছোট; সাধারণত কয়েক কিলোবাইট থেকে কয়েক মেগাবাইট
    ৪. ভাষানিম্নস্তর ও উচ্চস্তর, দুই ধরনের ভাষাতেই তৈরিসাধারণত নিম্নস্তরের ভাষায় তৈরি
    ৫. পরিবর্তনব্যবহারকারী সহজেই ইনস্টল, পরিবর্তন বা মুছে ফেলতে পারেব্যবহারকারী সাধারণত পরিবর্তন করতে পারে না
    ৬. আপডেটআপডেট করা সহজআপডেট করা তুলনামূলক কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ
    ৭. সংরক্ষণের স্থানহার্ড ডিস্ক বা এসএসডির মতো সেকেন্ডারি স্টোরেজে থাকেROM বা ফ্ল্যাশ মেমরি চিপে থাকে
    ৮. চালানোর স্থানপ্রধান প্রসেসর (CPU) ও মেমরিতে চলেঅনেক সময় ডিভাইসের নিজস্ব ছোট প্রসেসরে চলে
    ৯. উদাহরণWindows, MS Word, ChromeBIOS, প্রিন্টার ও রাউটারের ভেতরের প্রোগ্রাম

    💡 মনে রাখার কৌশল: সব ফার্মওয়্যারই এক ধরনের সফটওয়্যার, কিন্তু সব সফটওয়্যার ফার্মওয়্যার নয়।

অধ্যায় ১.২: স্টোরেজ মিডিয়া

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১৩টি)

  1. ১.২-সং-১★★বই: পৃষ্ঠা ৪৩

    ১.প্রধান মেমরি ও সহায়ক মেমরি-এর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।

    • অথবা, প্রধান মেমরি ও সহায়ক মেমরি-এর মধ্যে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০১০, ১৮; কমার্স-২০১১, ২৬]
    • অথবা, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মেমরির পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০১৪]

    উত্তর

    প্রধান মেমরি (প্রাইমারি) ও সহায়ক মেমরি (সেকেন্ডারি)-এর মধ্যে পার্থক্য:

    বিষয়প্রধান মেমরিসহায়ক মেমরি
    ১. সিপিইউ-এর সাথে সংযোগসিপিইউ সরাসরি অ্যাক্সেস করতে পারেসিপিইউ সরাসরি অ্যাক্সেস করতে পারে না; আগে প্রধান মেমরিতে আনতে হয়
    ২. ব্যবহারচলমান প্রোগ্রাম ও ডেটা রাখতেফাইল ও প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে রাখতে
    ৩. ধারণক্ষমতাতুলনামূলক কমঅনেক বেশি
    ৪. গতিখুব দ্রুত (ন্যানোসেকেন্ডে)তুলনামূলক ধীর (মিলিসেকেন্ডে)
    ৫. বিদ্যুৎ চলে গেলেRAM-এর তথ্য মুছে যায় (ROM-এর থাকে)তথ্য মুছে যায় না
    ৬. দামপ্রতি বিটে খরচ বেশিপ্রতি বিটে খরচ কম
    ৭. উদাহরণRAM, ROMহার্ড ডিস্ক, এসএসডি, পেন ড্রাইভ, ডিভিডি
  2. ১.২-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৩

    ২.RAM ও ROM-এর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৪]

    • অথবা, RAM ও ROM-এর মধ্যে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০০৯, ১০, ১২, ১৩, ১৫, ১৭, ১৮, ২২; কমার্স-২০০৯]

    উত্তর

    RAM ও ROM-এর মধ্যে পার্থক্য:

    বিষয়RAMROM
    ১. পূর্ণরূপRandom Access MemoryRead Only Memory
    ২. মেমরির ধরনঅস্থায়ী (উদ্বায়ী) মেমরিস্থায়ী (অনুদ্বায়ী) মেমরি
    ৩. পড়া/লেখাপড়া ও লেখা দুটোই করা যায়সাধারণত শুধু পড়া যায়
    ৪. পরিবর্তনতথ্য যোগ, পরিবর্তন ও মোছা যায়সাধারণভাবে তথ্য পরিবর্তন করা যায় না
    ৫. বিদ্যুৎ চলে গেলেসব তথ্য মুছে যায়তথ্য মুছে যায় না
    ৬. কী রাখা হয়চলমান প্রোগ্রাম ও ডেটাকম্পিউটার চালু করার মৌলিক প্রোগ্রাম (BIOS)
    ৭. প্রকারভেদ২ প্রকার: DRAM ও SRAMকয়েক প্রকার: MROM, PROM, EPROM, EEPROM
    ৮. গতিদ্রুততুলনামূলক ধীর
  3. ১.২-সং-৪★★বই: পৃষ্ঠা ৪৪

    ৩.ক্লাউড স্টোরেজ কী? [বিএমটি-২০২৩, ২৫]

    উত্তর

    ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের দূরবর্তী সার্ভারে নিজের ফাইল, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থাকে ক্লাউড স্টোরেজ (Cloud Storage) বলে।

    আমরা যেমন মোবাইলের মেমরি কার্ডে ডেটা রাখি, তেমনি ক্লাউড স্টোরেজে অনলাইনে ডেটা রাখা যায়। শুধু একটি অ্যাকাউন্ট খুলে লগইন করলেই যেকোনো জায়গা থেকে, যেকোনো ডিভাইসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই ডেটা ব্যবহার করা যায়। ডিভাইস হারালেও ডেটা হারায় না।

    উদাহরণ: Google Drive, Dropbox, OneDrive, iCloud।

  4. ১.২-সং-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৪

    ৪.ইপিরম ও ইইপিরমের মধ্যে পার্থক্য কী? [বিএমটি-২০১১]

    উত্তর

    ইপিরম (EPROM) ও ইইপিরম (EEPROM)-এর মধ্যে পার্থক্য:

    বিষয়ইপিরম (EPROM)ইইপিরম (EEPROM)
    ১. পূর্ণরূপErasable Programmable Read Only MemoryElectrically Erasable Programmable Read Only Memory
    ২. ডেটা মোছার পদ্ধতিঅতিবেগুনি (Ultraviolet) রশ্মি দিয়ে মোছা হয়বিদ্যুৎ (ইলেকট্রিক্যাল) সংকেত দিয়ে মোছা হয়
    ৩. মোছার পরিমাণমুছলে সম্পূর্ণ ডেটা একসাথে মুছে যায়নির্দিষ্ট অংশ বা নির্দিষ্ট সেলের ডেটা আলাদাভাবে মোছা যায়
    ৪. চিপ খোলামোছার জন্য চিপটি সার্কিট থেকে খুলে নিতে হয়সার্কিটে লাগানো অবস্থাতেই মোছা যায়
    ৫. সময়মুছতে বেশি সময় লাগে (কয়েক মিনিট)দ্রুত মোছা যায়
  5. ১.২-সং-৬★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৪

    ৫.হার্ড ডিস্ক কী?

    • অথবা, হার্ড ডিস্ক কী? সংক্ষেপে লেখ। [বিএমটি-২০০৯]

    উত্তর

    হার্ড ডিস্ক হলো কম্পিউটারের প্রধান সহায়ক (সেকেন্ডারি) মেমরি, যেখানে ডেটা ও প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়। আশির দশকে এর প্রচলন শুরু হয়।

    হার্ড ডিস্ক কয়েকটি পাতলা গোলাকার ধাতব পাত (প্ল্যাটার) দিয়ে তৈরি। পাতগুলোর দুই পৃষ্ঠে চুম্বকীয় প্রলেপ থাকে, তাই একে চুম্বকীয় ডিস্ক-ও বলে। পাতগুলো একটি দণ্ডের সাথে লাগানো থাকে এবং কাজের সময় খুব দ্রুত ঘোরে। রিড/রাইট হেড দিয়ে ডেটা পড়া ও লেখা হয়। ধুলাবালি থেকে রক্ষা করতে একে বন্ধ বাক্সে রাখা হয়।

       ┌───────────────────────────────┐
       │   ╭───────────────╮           │
       │  │  ◉ স্পিন্ডল     │──── রিড/রাইট হেড
       │  │  (ঘূর্ণায়মান পাত)│   ↑ আর্ম
       │   ╰───────────────╯  অ্যাকচুয়েটর
       │  পাওয়ার পোর্ট | ডেটা ক্যাবল পোর্ট  │
       └───────────────────────────────┘
            চিত্র: হার্ড ডিস্কের ভেতরের অংশ
    

    বিদ্যুৎ চলে গেলেও এর তথ্য মুছে যায় না। এর ধারণক্ষমতা অনেক বেশি, যেমন 500 GB, 1 TB বা তারও বেশি।

    ধারণক্ষমতা = পৃষ্ঠ সংখ্যা × ট্র্যাক সংখ্যা × সেক্টর সংখ্যা × প্রতি সেক্টরের বাইট সংখ্যা

  6. ১.২-সং-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৪৪

    ৬.স্টোরেজ মিডিয়া কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?

    উত্তর

    তথ্য বা উপাত্ত সংরক্ষণ করে রাখার জন্য যে ভৌত মাধ্যম বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাকে স্টোরেজ মিডিয়া (Storage Media) বলে। যেমন: হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ, সিডি।

    স্টোরেজ মিডিয়া প্রধানত দুই প্রকার:

    1. প্রাইমারি স্টোরেজ মিডিয়া (প্রধান মেমরি): সিপিইউ-এর সাথে সরাসরি যুক্ত। যেমন: RAM, ROM।
    2. সেকেন্ডারি স্টোরেজ মিডিয়া (সহায়ক মেমরি): তথ্য স্থায়ীভাবে রাখে। যেমন: হার্ড ডিস্ক, এসএসডি, ডিভিডি, পেন ড্রাইভ।
                স্টোরেজ মিডিয়া
                      │
           ┌──────────┴──────────┐
       প্রাইমারি              সেকেন্ডারি
      (RAM, ROM)       (হার্ড ডিস্ক, এসএসডি,
                        সিডি, পেন ড্রাইভ)
    
  7. ১.২-সং-১৩★★বই: পৃষ্ঠা ৪৫

    ৭.পূর্ণরূপ লেখ : ROM, RAM, MROM, PROM, EPROM, EEPROM.

    উত্তর

    সংক্ষিপ্ত রূপপূর্ণরূপ
    ROMRead Only Memory
    RAMRandom Access Memory
    MROMMasked Read Only Memory
    PROMProgrammable Read Only Memory
    EPROMErasable Programmable Read Only Memory
    EEPROMElectrically Erasable Programmable Read Only Memory

    💡 মনে রাখার কৌশল: প্রতিটির শেষে "ROM = Read Only Memory" থাকবেই; শুধু সামনে P (Programmable), E (Erasable), EE (Electrically Erasable) যোগ হয়।

  8. ১.২-সং-১৪★★বই: পৃষ্ঠা ৪৫

    ৮.RAM কী?

    উত্তর

    RAM-এর পূর্ণরূপ Random Access Memory। এটি প্রধান মেমরির একটি অংশ, যেখানে কাজ চলার সময় ডেটা ও প্রোগ্রাম অস্থায়ীভাবে রাখা হয়।

    র‍্যামে ডেটা পড়া ও লেখা (Read/Write) দুটোই করা যায়, অর্থাৎ পুরনো ডেটা মুছে নতুন ডেটা রাখা যায়। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে র‍্যামের সব ডেটা মুছে যায়, তাই এটি অস্থায়ী (উদ্বায়ী) মেমরি। র‍্যামকে ব্ল্যাকবোর্ডের সাথে তুলনা করা যায়।

  9. ১.২-সং-১৫★★বই: পৃষ্ঠা ৪৫

    ৯.ROM কী?

    উত্তর

    ROM-এর পূর্ণরূপ Read Only Memory। এটি প্রধান মেমরির একটি অংশ, যেখানে প্রস্তুতকারক কম্পিউটার চালু করার মৌলিক প্রোগ্রাম (যেমন BIOS) স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে দেয়।

    রমের তথ্য সাধারণত শুধু পড়া যায়, লেখা বা পরিবর্তন করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলেও রমের তথ্য মুছে যায় না, তাই এটি স্থায়ী (অনুদ্বায়ী) মেমরি। তবে বর্তমানে কিছু বিশেষ ধরনের রম (যেমন EPROM, EEPROM) আছে, যাদের ডেটা বিশেষ ব্যবস্থায় মুছে নতুন ডেটা রাখা যায়।

  10. ১.২-সং-২০★★বই: পৃষ্ঠা ৪৬

    ১০.মেমরি কী?

    উত্তর

    ডেটা ও নির্দেশ সংরক্ষণের জন্য কম্পিউটার বা আইসিটি ডিভাইসে ব্যবহৃত মাধ্যম বা ধারককে মেমরি (Memory) বা স্মৃতি বলে।

    মেমরিতে ডেটা জমা রাখা যায় এবং প্রয়োজনের সময় সহজে কাজে লাগানো যায়। মেমরি প্রধানত দুই প্রকার:

    1. প্রধান মেমরি: RAM, ROM
    2. সহায়ক মেমরি: হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ, ডিভিডি ইত্যাদি।
  11. ১.২-সং-২১★★বই: পৃষ্ঠা ৪৬

    ১১.ক্যাশ মেমরি কী?

    উত্তর

    কাজের গতি বাড়ানোর জন্য প্রসেসর ও প্রধান মেমরির (RAM) মাঝখানে যে বিশেষ ধরনের খুব দ্রুতগতির ছোট মেমরি ব্যবহার করা হয়, তাকে ক্যাশ মেমরি (Cache Memory) বলে।

    প্রসেসর বারবার যেসব ডেটা ও নির্দেশ ব্যবহার করে, সেগুলো ক্যাশ মেমরিতে রাখা হয়। ফলে প্রসেসরকে বারবার ধীরগতির RAM থেকে ডেটা আনতে হয় না, এবং কম্পিউটার দ্রুত কাজ করে।

     প্রসেসর (CPU) ⇄ ক্যাশ মেমরি ⇄ প্রধান মেমরি (RAM)
       সবচেয়ে দ্রুত      খুব দ্রুত         দ্রুত
    
  12. ১.২-সং-২৩★★বই: পৃষ্ঠা ৪৬

    ১২.ফ্ল্যাশ মেমরি কী?

    উত্তর

    যে মেমরিতে বিদ্যুৎ ছাড়াই ডেটা স্থায়ীভাবে থাকে এবং ডিভাইসে লাগানো অবস্থাতেই বিদ্যুৎ সংকেত দিয়ে ডেটা মুছে আবার লেখা যায়, তাকে ফ্ল্যাশ মেমরি (Flash Memory) বলে।

    এর কাজের পদ্ধতি অনেকটা EEPROM-এর মতো, তবে এটি দ্রুত ব্লক আকারে ডেটা মোছে। এটি ছোট, হালকা, শক্তিশালী এবং ঘোরানো কোনো অংশ নেই, তাই হার্ড ডিস্ক বা ফ্লপি ডিস্কের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হয়।

    উদাহরণ: পেন ড্রাইভ, মেমরি কার্ড, এসএসডি, মোবাইল ফোনের মেমরি।

  13. ১.২-সং-২৭★★বই: পৃষ্ঠা ৪৬

    ১৩.ক্লাউড সার্ভিসের সুবিধাসমূহ বর্ণনা কর।

    উত্তর

    ক্লাউড সার্ভিসের সুবিধাসমূহ:

    1. যেকোনো জায়গা থেকে অ্যাক্সেস: ইন্টারনেট থাকলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে নিজের ছবি, ভিডিও, ফাইল দেখা যায়।
    2. ডেটা হারানোর ভয় নেই: মেমরি কার্ড বা মোবাইল হারালে বা নষ্ট হলেও ক্লাউডের ডেটা নিরাপদ থাকে।
    3. স্বয়ংক্রিয় সিঙ্ক: এক ডিভাইসে কোনো ফাইল পরিবর্তন বা মুছলে সব ডিভাইসে নিজে থেকেই আপডেট হয়ে যায়।
    4. ব্যাকআপ ও পুনরুদ্ধার: সহজে ডেটার ব্যাকআপ রাখা ও প্রয়োজনে ফিরিয়ে আনা যায়।
    5. ফরম্যাটের সময় নিরাপত্তা: মোবাইল বা কম্পিউটার ফরম্যাট দেওয়ার আগে ক্লাউডে ব্যাকআপ রেখে কাজ করা যায়।
    6. সহজে শেয়ার: লিংক দিয়ে অন্যদের সাথে সহজে ফাইল শেয়ার করা যায়।
    7. খরচ কম: নিজের স্টোরেজ যন্ত্র কিনতে হয় না; অনেক সেবা কিছু জায়গা বিনামূল্যে দেয়।

রচনামূলক প্রশ্ন (৫টি)

  1. ১.২-র-১★★★

    ১.ক্লাউড স্টোরেজ সম্পর্কে ধারণা ব্যাখ্যা কর।

    • অথবা, ক্লাউড স্টোরেজ সম্পর্কে বর্ণনা কর। [বিএমটি-২৬]

    উত্তর

    ক্লাউড স্টোরেজ: ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের দূরবর্তী সার্ভারে নিজের ডেটা সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থাকে ক্লাউড স্টোরেজ বলে। এখানে "ক্লাউড" (মেঘ) বলতে ইন্টারনেটকে বোঝানো হয়; ডেটা কোথায় কোন সার্ভারে আছে ব্যবহারকারীকে জানতে হয় না, ঠিক যেমন মেঘ কোথায় আছে আমরা ঠিক জানি না কিন্তু দেখতে পাই।

       ┌──────────┐      ┌──────────┐      ┌──────────┐
       │  মোবাইল   │      │  ল্যাপটপ  │      │ ট্যাবলেট  │
       └────┬─────┘      └────┬─────┘      └────┬─────┘
            └─────────────────┼─────────────────┘
                         ইন্টারনেট
                              │
                  ┌───────────▼───────────┐
                  │   ☁ ক্লাউড সার্ভার      │
                  │ (Google Drive, OneDrive)│
                  └───────────────────────┘
            চিত্র: ক্লাউড স্টোরেজের কাজের ধারণা
    

    কীভাবে কাজ করে:

    1. ব্যবহারকারী কোনো ক্লাউড সেবায় (যেমন Google Drive) একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন।
    2. লগইন করে নিজের ফাইল আপলোড করেন; ফাইলটি সেবাদাতার সার্ভারে জমা হয়।
    3. পরে যেকোনো ডিভাইস থেকে একই অ্যাকাউন্টে লগইন করে ফাইলটি দেখা, ডাউনলোড বা শেয়ার করা যায়।
    4. সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডেটার নিরাপত্তা, ব্যাকআপ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়।

    জনপ্রিয় ক্লাউড স্টোরেজ সেবা:

    সেবাপ্রতিষ্ঠান
    Google DriveGoogle
    OneDriveMicrosoft
    iCloudApple
    DropboxDropbox Inc.

    ক্লাউড স্টোরেজের বৈশিষ্ট্য:

    • ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই ব্যবহার করা যায়।
    • নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা বিনামূল্যে পাওয়া যায়, বেশি লাগলে টাকা দিয়ে কেনা যায়।
    • ব্যবহার অনুযায়ী খরচ (Pay as you use)।
    • একসাথে একাধিক ডিভাইসে একই ফাইল ব্যবহার করা যায়।

    সীমাবদ্ধতা:

    • ইন্টারনেট না থাকলে ডেটা ব্যবহার করা যায় না।
    • ডেটার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সেবাদাতার ওপর নির্ভর করে।
    • বড় ফাইল আপলোড-ডাউনলোডে সময় ও ইন্টারনেট খরচ বেশি লাগে।

    উপসংহার: নিরাপদে, যেকোনো জায়গা থেকে ডেটা ব্যবহারের সুবিধার কারণে ক্লাউড স্টোরেজ বর্তমানে খুব জনপ্রিয় একটি সংরক্ষণ মাধ্যম।

  2. ১.২-র-২★★

    ২.ক্লাউড স্টোরেজ-এর সুবিধা বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৩, ২৫]

    উত্তর

    ক্লাউড স্টোরেজ হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরবর্তী সার্ভারে ডেটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা। যেমন: Google Drive, OneDrive, Dropbox। এর প্রধান সুবিধাগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার: ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে, যেকোনো সময় নিজের ফাইল দেখা ও ব্যবহার করা যায়।

    ২. একাধিক ডিভাইসে ব্যবহার: মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, সব ডিভাইস থেকে একই অ্যাকাউন্টে লগইন করে একই ফাইল ব্যবহার করা যায়।

    ৩. ডেটা হারানোর ভয় নেই: মোবাইল, মেমরি কার্ড বা কম্পিউটার হারালে বা নষ্ট হলেও ক্লাউডের ডেটা নিরাপদ থাকে।

    ৪. স্বয়ংক্রিয় সিঙ্ক্রোনাইজেশন: এক ডিভাইসে কোনো ফাইল পরিবর্তন, এডিট বা মুছলে সব ডিভাইসে নিজে থেকেই আপডেট হয়ে যায়।

    ৫. সহজ ব্যাকআপ ও পুনরুদ্ধার: গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ রাখা যায় এবং ভুলে মুছে গেলেও অনেক সময় ফিরিয়ে আনা যায়।

    ৬. সহজে ফাইল শেয়ার: একটি লিংক দিয়েই অন্যদের সাথে বড় ফাইল শেয়ার করা যায়; পেন ড্রাইভ বা ই-মেইল অ্যাটাচমেন্টের দরকার হয় না।

    ৭. যৌথভাবে কাজ: একই ফাইলে একাধিক ব্যক্তি একসাথে কাজ করতে পারেন (যেমন Google Docs)।

    ৮. খরচ সাশ্রয়: নিজের হার্ড ডিস্ক বা সার্ভার কিনতে হয় না। কিছু জায়গা বিনামূল্যে পাওয়া যায়, প্রয়োজনে কম খরচে বাড়ানো যায়।

    ৯. রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা নেই: সার্ভারের যত্ন, নিরাপত্তা ও আপডেটের দায়িত্ব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের।

    ১০. ডিভাইসের জায়গা বাঁচে: ফাইল ক্লাউডে রাখলে মোবাইল বা কম্পিউটারের মেমরি খালি থাকে।

    প্রচলিত স্টোরেজ (পেন ড্রাইভ/হার্ড ডিস্ক)ক্লাউড স্টোরেজ
    হারালে বা নষ্ট হলে ডেটা হারায়ডিভাইস হারালেও ডেটা নিরাপদ
    শুধু যেখানে যন্ত্রটি আছে সেখানে ব্যবহার করা যায়যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার করা যায়
    জায়গা বাড়াতে নতুন যন্ত্র কিনতে হয়সহজেই জায়গা বাড়ানো যায়

    উপসংহার: এসব সুবিধার কারণে ব্যক্তিগত কাজ থেকে শুরু করে অফিস-আদালত পর্যন্ত সর্বত্র ক্লাউড স্টোরেজের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

  3. ১.২-র-৩★★

    ৩.বিভিন্ন প্রকার স্টোরেজ ডিভাইসের ধারণা ব্যাখ্যা কর।

    • অথবা, হার্ড ডিস্কের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো কী কী? [বিএমটি-২০২৩]

    উত্তর

    তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রকে স্টোরেজ ডিভাইস বলে। প্রযুক্তি অনুযায়ী এগুলোকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়:

                            স্টোরেজ ডিভাইস
                                  │
       ┌──────────────┬───────────┼────────────┬──────────────┐
     চৌম্বকীয়        অর্ধপরিবাহী    অপটিক্যাল      ফ্ল্যাশ         ক্লাউড
    (হার্ড ডিস্ক,     (RAM, ROM)   (সিডি, ডিভিডি,  (এসএসডি, পেন   (Google Drive,
     চৌম্বক টেপ)                  ব্লু-রে)       ড্রাইভ, মেমরি কার্ড) OneDrive)
    

    ১. হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ (HDD): চুম্বকীয় প্রলেপযুক্ত ঘূর্ণায়মান ধাতব পাতে ডেটা সংরক্ষণ করে। কম্পিউটারের প্রধান সহায়ক মেমরি হিসেবে বহুল ব্যবহৃত।

    ২. সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD): ফ্ল্যাশ মেমরি দিয়ে তৈরি স্টোরেজ; এতে কোনো ঘূর্ণায়মান অংশ নেই। হার্ড ডিস্কের চেয়ে অনেক দ্রুত, হালকা ও কম শব্দ করে।

    ৩. ফ্ল্যাশ মেমরি (পেন ড্রাইভ, মেমরি কার্ড): ছোট, হালকা ও বহনযোগ্য। USB পোর্ট বা কার্ড স্লটে লাগিয়ে সহজে ডেটা আদান-প্রদান করা যায়।

    ৪. অপটিক্যাল স্টোরেজ (CD, DVD, Blu-ray): লেজার রশ্মি দিয়ে ডেটা লেখা ও পড়া হয়। সিডি প্রায় 700 MB, ডিভিডি প্রায় 4.7 GB আর ব্লু-রে 25 GB বা বেশি ধারণ করে।

    ৫. চৌম্বক টেপ: চুম্বকীয় প্রলেপযুক্ত ফিতায় ক্রমানুসারে ডেটা রাখা হয়। দাম কম, তাই বড় প্রতিষ্ঠানে ব্যাকআপের জন্য ব্যবহার হয়।

    ৬. ক্লাউড স্টোরেজ: ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরের সার্ভারে ডেটা রাখা হয়।

    হার্ড ডিস্কের সুবিধা ও অসুবিধা:

    সুবিধাঅসুবিধা
    ধারণক্ষমতা অনেক বেশি (TB পর্যন্ত)ঘূর্ণায়মান অংশ থাকায় ঝাঁকুনি বা পড়ে গেলে নষ্ট হতে পারে
    প্রতি GB-তে খরচ কমএসএসডির চেয়ে ধীরগতির
    বিদ্যুৎ চলে গেলেও তথ্য স্থায়ী থাকেকাজের সময় শব্দ ও তাপ তৈরি করে
    বারবার ডেটা লেখা ও মোছা যায়ওজন ও বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি
    সহজলভ্য ও দীর্ঘদিন টেকেধুলাবালি ও চুম্বক থেকে দূরে রাখতে হয়

    উপসংহার: কাজের প্রয়োজন, গতি, দাম ও বহনযোগ্যতা বিবেচনা করে উপযুক্ত স্টোরেজ ডিভাইস বেছে নিতে হয়।

  4. ১.২-র-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৯

    ৪.স্টোরেজ মিডিয়ার শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।

    • অথবা, স্টোরেজ মিডিয়ার শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও। [বিএমটি-২০২২]

    উত্তর

    তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমকে স্টোরেজ মিডিয়া বা মেমরি বলে। মেমরিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়: প্রধান মেমরি, সহায়ক মেমরি ও ক্যাশ মেমরি। স্টোরেজ মিডিয়ার শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:

                                     মেমরি
                                       │
              ┌────────────────────────┼────────────────────────┐
         প্রধান মেমরি               সহায়ক মেমরি               ক্যাশ মেমরি
        (প্রাইমারি)               (সেকেন্ডারি)
              │                        │
      অর্ধপরিবাহী মেমরি          • হার্ড ডিস্ক / এসএসডি
              │                  • ফ্লপি ডিস্ক
        ┌─────┴──────┐           • চৌম্বক টেপ, চৌম্বক ড্রাম
       RAM          ROM          • সিডি, ডিভিডি (অপটিক্যাল)
        │            │           • পেন ড্রাইভ, মেমরি কার্ড (ফ্ল্যাশ)
     ┌──┴──┐   ┌────┼─────┬──────┐
    DRAM SRAM MROM PROM EPROM EEPROM
    

    ১. প্রধান মেমরি (Main Memory)

    যে মেমরির সাথে প্রসেসরের ALU-এর সরাসরি সংযোগ থাকে, তাকে প্রধান মেমরি বলে। এটি খুব দ্রুতগতির, তবে ধারণক্ষমতা কম। কাজের সময় প্রয়োজনীয় ডেটা ও নির্দেশ এখানে সাময়িকভাবে রাখা হয়।

    প্রধান মেমরির প্রকারভেদ:

    • চৌম্বক কোর (Magnetic core) মেমরি
    • পাতলা পর্দা (Thin film) মেমরি
    • অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) মেমরি – বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত
    • চৌম্বক বাবল (Magnetic bubble) মেমরি
    • চার্জ কাপলড (Charge coupled) মেমরি

    অর্ধপরিবাহী মেমরি আবার দুই প্রকার:

    • RAM: অস্থায়ী, পড়া-লেখা দুটোই যায়। প্রকার: DRAM ও SRAM।
    • ROM: স্থায়ী, সাধারণত শুধু পড়া যায়। প্রকার: MROM, PROM, EPROM, EEPROM।

    ২. সহায়ক মেমরি (Auxiliary/Secondary Memory)

    যে মেমরিতে তথ্য, প্রোগ্রাম, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং সিপিইউ-এর সাথে সরাসরি সংযোগ থাকে না, তাকে সহায়ক মেমরি বলে। এটি ধীরগতির কিন্তু বিপুল পরিমাণ তথ্য রাখতে পারে। বিদ্যুৎ চলে গেলেও তথ্য মুছে যায় না।

    উদাহরণ: হার্ড ডিস্ক, এসএসডি, ফ্লপি ডিস্ক, ফ্ল্যাশ ডিস্ক (পেন ড্রাইভ), চৌম্বক টেপ, চৌম্বক ড্রাম, সিডি, ডিভিডি।

    ৩. ক্যাশ মেমরি (Cache Memory)

    প্রসেসর ও প্রধান মেমরির মাঝখানে বসানো ছোট কিন্তু অত্যন্ত দ্রুতগতির মেমরি। প্রসেসর বারবার যেসব ডেটা ব্যবহার করে, সেগুলো এখানে রেখে কম্পিউটারের কাজের গতি বাড়ানো হয়।

    বিষয়প্রধান মেমরিসহায়ক মেমরিক্যাশ মেমরি
    গতিদ্রুতধীরসবচেয়ে দ্রুত
    ধারণক্ষমতাকমঅনেক বেশিসবচেয়ে কম
    স্থায়িত্বRAM অস্থায়ী, ROM স্থায়ীস্থায়ীঅস্থায়ী

    উপসংহার: প্রতিটি মেমরির গতি, ধারণক্ষমতা ও দাম আলাদা। এদের সমন্বয়েই কম্পিউটার দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করে।

  5. ১.২-র-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৫০

    ৫.RAM, ROM, PROM, EPROM, EEPROM টাইপ মিডিয়াসমূহের নাম ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

    উত্তর

    প্রধান মেমরির অর্ধপরিবাহী অংশ দুই প্রকার: RAM ও ROM। আর ROM-এর কয়েকটি প্রকার হলো PROM, EPROM ও EEPROM। নিচে এদের নাম ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:

                     অর্ধপরিবাহী মেমরি
                             │
               ┌─────────────┴─────────────┐
              RAM                         ROM
               │                           │
         ┌─────┴─────┐       ┌──────┬──────┼───────┐
       DRAM        SRAM     MROM   PROM  EPROM   EEPROM
    

    ১. RAM (Random Access Memory)

    বৈশিষ্ট্য:

    • অস্থায়ী (উদ্বায়ী) মেমরি; বিদ্যুৎ গেলে তথ্য মুছে যায়।
    • ডেটা পড়া ও লেখা দুটোই করা যায়।
    • চলমান প্রোগ্রাম ও ডেটা রাখে; খুব দ্রুতগতির।
    • দুই প্রকার: DRAM (সস্তা, বারবার রিফ্রেশ করতে হয়) ও SRAM (দামি, দ্রুত, রিফ্রেশ লাগে না)।

    ২. ROM (Read Only Memory)

    বৈশিষ্ট্য:

    • স্থায়ী (অনুদ্বায়ী) মেমরি; বিদ্যুৎ গেলেও তথ্য থাকে।
    • সাধারণত শুধু পড়া যায়, লেখা যায় না।
    • কারখানায় প্রোগ্রাম করা হয়; কম্পিউটার চালু করার প্রোগ্রাম (BIOS) রাখে।

    ৩. PROM (Programmable Read Only Memory)

    বৈশিষ্ট্য:

    • তৈরির সময় ফাঁকা থাকে; ব্যবহারকারী নিজে প্রোগ্রাম করতে পারেন।
    • মাত্র একবার প্রোগ্রাম করা যায়; পরে আর মোছা বা বদলানো যায় না।
    • একে OTP (One Time Programmable) মেমরিও বলে।

    ৪. EPROM (Erasable Programmable Read Only Memory)

    বৈশিষ্ট্য:

    • অতিবেগুনি (UV) রশ্মি দিয়ে ডেটা মুছে আবার প্রোগ্রাম করা যায়।
    • চিপের ওপর একটি স্বচ্ছ জানালা থাকে, যেখান দিয়ে UV রশ্মি দেওয়া হয়।
    • মুছলে সম্পূর্ণ ডেটা একসাথে মুছে যায়; মোছার জন্য চিপ খুলে নিতে হয়।

    ৫. EEPROM (Electrically Erasable Programmable Read Only Memory)

    বৈশিষ্ট্য:

    • বিদ্যুৎ সংকেত দিয়ে ডেটা মুছে আবার প্রোগ্রাম করা যায়।
    • নির্দিষ্ট অংশের ডেটা আলাদাভাবে মোছা যায়; অন্য ডেটার ক্ষতি হয় না।
    • সার্কিটে লাগানো অবস্থাতেই মোছা ও লেখা যায়। আধুনিক ফ্ল্যাশ মেমরি এরই উন্নত রূপ।
    মেমরিস্থায়ী?লেখা যায়?মোছার উপায়
    RAMনাহ্যাঁ, বারবারবিদ্যুৎ বন্ধ হলেই মুছে যায়
    ROM (MROM)হ্যাঁনামোছা যায় না
    PROMহ্যাঁএকবারমোছা যায় না
    EPROMহ্যাঁবারবারঅতিবেগুনি রশ্মি
    EEPROMহ্যাঁবারবারবিদ্যুৎ সংকেত

গাণিতিক প্রশ্ন (৩টি)

  1. ১.২-গ-১★★বই: পৃষ্ঠা ৫২

    ১.দুটি মেমরি চিপ হলো 5M × 8 মেমরি ও 16 বিট শব্দ দৈর্ঘ্যের (Word Length) 1M বাইট মেমরি। এদের মধ্যে কোনো মেমরি চিপে বেশি বিট ধারণ করবে?

    উত্তর

    প্রথম মেমরি চিপ: 5M × 8 এখানে 5M টি মেমরি স্থান (লোকেশন) আছে এবং প্রতিটি স্থানে 8 বিট থাকে।

    • 1M = 2²⁰ = 1,048,576
    • মোট বিট = 5 × 1,048,576 × 8
    • = 41,943,040 বিট

    দ্বিতীয় মেমরি চিপ: 16 বিট শব্দ দৈর্ঘ্যের 1M মেমরি এখানে 1M টি স্থান আছে এবং প্রতিটি স্থানে (শব্দে) 16 বিট থাকে।

    • মোট বিট = 1 × 1,048,576 × 16
    • = 16,777,216 বিট

    তুলনা:

    মেমরি চিপমোট বিট
    5M × 841,943,040
    1M × 1616,777,216

    41,943,040 > 16,777,216

    সুতরাং, 5M × 8 মেমরি চিপটি বেশি বিট ধারণ করবে।

    💡 1M বাইটকে সাধারণ 8 বিটের বাইট ধরলেও তা হয় 8,388,608 বিট, তাই উত্তর একই থাকে।

  2. ১.২-গ-২★★বই: পৃষ্ঠা ৫২

    ২.একটি 2k × 8 স্মৃতির জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নির্ণয় কর— (ক) তথ্য ইনপুট ও তথ্য আউটপুট সংখ্যা। (খ) অ্যাড্রেস লাইনের সংখ্যা। (গ) বাইট ও বিট সংখ্যায় ধারণক্ষমতা।

    উত্তর

    দেওয়া আছে, স্মৃতি = 2k × 8 অর্থাৎ মেমরি স্থান (শব্দ) সংখ্যা = 2k এবং প্রতিটি শব্দের দৈর্ঘ্য = 8 বিট।

    (ক) তথ্য ইনপুট ও তথ্য আউটপুট সংখ্যা: প্রতিটি শব্দ 8 বিটের, তাই একবারে 8 বিট ডেটা ঢোকে ও বের হয়।

    • তথ্য ইনপুট লাইন = 8টি
    • তথ্য আউটপুট লাইন = 8টি

    (খ) অ্যাড্রেস লাইনের সংখ্যা: মেমরি স্থান সংখ্যা = 2k = 2 × 1024 = 2048 যদি অ্যাড্রেস লাইন n হয়, তবে 2ⁿ = 2048 2¹¹ = 2048, সুতরাং n = 11

    • অ্যাড্রেস লাইন = 11টি

    (গ) ধারণক্ষমতা:

    • বাইটে = 2048 × 1 বাইট = 2048 বাইট (= 2 KB)
    • বিটে = 2048 × 8 = 16,384 বিট
    বিষয়উত্তর
    তথ্য ইনপুট8টি
    তথ্য আউটপুট8টি
    অ্যাড্রেস লাইন11টি
    ধারণক্ষমতা (বাইট)2048 বাইট
    ধারণক্ষমতা (বিট)16,384 বিট

    💡 সূত্র মনে রাখো: m × n মেমরিতে অ্যাড্রেস লাইন = log₂(m), ডেটা লাইন = n, মোট বিট = m × n।

  3. ১.২-গ-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৫২

    ৩.একটি ম্যাগনেটিক ডিস্কের গায়ে 120 GB মুদ্রিত আছে। এ ডিস্কে মোট ধারণক্ষম বিটের সংখ্যা কত? 500 পৃষ্ঠাবিশিষ্ট একটি বইয়ের প্রতি পৃষ্ঠায় 30টি লাইনের প্রতি লাইনে 5টি বর্ণ রয়েছে। একটি বর্ণ সংরক্ষণ করার জন্য 1 বাইট পরিমাণ মেমরি লাগলে 780 মেগাবাইট ধারণ ক্ষমতাবিশিষ্ট একটি সিডিতে এ রকম কয়টি বইয়ের লেখা সংরক্ষণ করা যাবে?

    উত্তর

    প্রথম অংশ: 120 GB ডিস্কের মোট বিট সংখ্যা

    আমরা জানি, 1 GB = 1024 MB = 1024 × 1024 KB = 1024 × 1024 × 1024 বাইট = 2³⁰ বাইট

    • 120 GB = 120 × 1,073,741,824 বাইট = 128,849,018,880 বাইট
    • 1 বাইট = 8 বিট
    • মোট বিট = 128,849,018,880 × 8
    • = 1,030,792,151,040 বিট

    দ্বিতীয় অংশ: সিডিতে কয়টি বই রাখা যাবে

    একটি বইয়ের মোট বর্ণ = পৃষ্ঠা × লাইন × বর্ণ = 500 × 30 × 5 = 75,000টি বর্ণ

    প্রতিটি বর্ণে 1 বাইট লাগে, তাই একটি বই রাখতে লাগে = 75,000 বাইট

    সিডির ধারণক্ষমতা = 780 MB = 780 × 1024 × 1024 বাইট = 817,889,280 বাইট

    বইয়ের সংখ্যা = সিডির ধারণক্ষমতা ÷ একটি বইয়ের জায়গা = 817,889,280 ÷ 75,000 = 10,905.19 (প্রায়)

    যেহেতু বইয়ের সংখ্যা ভগ্নাংশ হতে পারে না,

    সুতরাং, সিডিতে মোট 10,905টি বইয়ের লেখা সংরক্ষণ করা যাবে।

    হিসাবফলাফল
    120 GB ডিস্কের মোট বিট1,030,792,151,040 বিট
    একটি বইয়ের জায়গা75,000 বাইট
    780 MB সিডির জায়গা817,889,280 বাইট
    সিডিতে বইয়ের সংখ্যা10,905টি

অধ্যায় ১.৩: কম্পিউটার সফটওয়্যারের মৌলিক ধারণা

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১২টি)

  1. ১.৩-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪

    ১.সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০২৩, ২৫]

    উত্তর

    সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য:

    বিষয়সিস্টেম সফটওয়্যারঅ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
    ১. সংজ্ঞাহার্ডওয়্যার চালু, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার সফটওয়্যারব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কাজ করার সফটওয়্যার
    ২. উদ্দেশ্যকম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করাব্যবহারকারীর সমস্যার সমাধান করা
    ৩. নির্ভরতাহার্ডওয়্যারের সাথে সরাসরি কাজ করেসিস্টেম সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে চলে
    ৪. প্রয়োজনীয়তাএটি ছাড়া কম্পিউটার চলেই নাএটি ছাড়াও কম্পিউটার চলে, তবে কাজ করা যায় না
    ৫. চালু হওয়াকম্পিউটার চালু হলেই নিজে থেকে চালু হয়ব্যবহারকারী প্রয়োজনে চালু করেন
    ৬. ব্যবহারকারীর সংযোগব্যবহারকারী সাধারণত সরাসরি কাজ করেন না, পেছনে চলেব্যবহারকারী সরাসরি এটি দিয়ে কাজ করেন
    ৭. উদাহরণWindows, Linux, ডিভাইস ড্রাইভার, কম্পাইলারMS Word, Excel, Photoshop, Chrome
  2. ১.৩-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪

    ২.কম্পিউটার সফটওয়্যার কী?

    • অথবা, সফটওয়্যারের সংজ্ঞা লেখ। [বিএমটি-২০০৯, ২০১৬]
    • অথবা, সফটওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [কমার্স-২০১৩]

    উত্তর

    কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ ক্রমে সাজানো নির্দেশকে প্রোগ্রাম বলে। আর কম্পিউটার চালানোর জন্য এক বা একাধিক প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার (Software) বলে।

    Soft অর্থ নরম, অর্থাৎ যা হাত দিয়ে ধরা বা ছোঁয়া যায় না। সফটওয়্যারই হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কোন কাজ কীভাবে করতে হবে। সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার শুধু একটি "লোহার বাক্স"। প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার পরিবর্তন (modify) করা যায়।

    উদাহরণ: Windows, MS Word, Google Chrome, Photoshop।

  3. ১.৩-সং-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪

    ৩.ফার্মওয়্যার বলতে কী বুঝায়?

    • অথবা, ফার্মওয়্যার কী? [বিএমটি-২০১৪]

    উত্তর

    কম্পিউটার তৈরির সময় প্রস্তুতকারক কোম্পানি যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের মেমরিতে (সাধারণত ROM-এ) স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়, সেগুলোকে ফার্মওয়্যার (Firmware) বলে।

    ফার্মওয়্যার হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাঝামাঝি একটি বিষয়। এটি হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কীভাবে কাজ শুরু করবে। ব্যবহারকারী সাধারণভাবে এই প্রোগ্রাম মুছতে বা পরিবর্তন করতে পারে না। কম্পিউটার চালু করলে (বুট হওয়ার সময়) প্রথমে ফার্মওয়্যারই কাজ করে।

    উদাহরণ: BIOS, UEFI; মোবাইল, প্রিন্টার, রাউটারের ভেতরের প্রোগ্রাম।

  4. ১.৩-সং-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪

    ৪.সফটওয়্যার প্রধানত কত প্রকার ও কী কী?

    উত্তর

    কাজের ধরন অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার:

    1. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software): যেসব সফটওয়্যার হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। যেমন: Windows, Linux, অনুবাদক প্রোগ্রাম।
    2. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software): যেসব সফটওয়্যার দিয়ে ব্যবহারকারী তার নির্দিষ্ট কাজ করেন। যেমন: MS Word, Excel, Photoshop।
                    সফটওয়্যার
                         │
            ┌────────────┴────────────┐
      সিস্টেম সফটওয়্যার      অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
      (Windows, Linux)       (MS Word, Excel)
    
  5. ১.৩-সং-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪

    ৫.প্রচলিত কয়েকটি সফটওয়্যারের নাম লেখ।

    উত্তর

    প্রচলিত কয়েকটি সফটওয়্যারের নাম কাজ অনুযায়ী:

    কাজের ধরনসফটওয়্যারের নাম
    অপারেটিং সিস্টেমWindows, Linux, macOS, Android
    লেখালেখি (ওয়ার্ড প্রসেসিং)MS Word, LibreOffice Writer, Google Docs
    হিসাব (স্প্রেডশিট)MS Excel, LibreOffice Calc
    প্রেজেন্টেশনMS PowerPoint, LibreOffice Impress
    ডেটাবেজMS Access, MySQL, Oracle
    ছবি সম্পাদনা ও গ্রাফিক্সAdobe Photoshop, Illustrator, CorelDRAW
    ইন্টারনেট ব্রাউজারGoogle Chrome, Mozilla Firefox, Microsoft Edge
    অ্যান্টিভাইরাসKaspersky, Norton, Avast, McAfee
    বাংলা টাইপিংBijoy Bayanno, Avro Keyboard
    ভিডিও ও অডিও প্লেয়ারVLC Media Player, Windows Media Player
  6. ১.৩-সং-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪

    ৬.সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় কেন?

    উত্তর

    হার্ডওয়্যার নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না। কম্পিউটারকে কী কাজ, কীভাবে করতে হবে তা বলে দেয় সফটওয়্যার। সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার শুধু একটি "লোহার বাক্স"। সফটওয়্যার ব্যবহারের কারণগুলো:

    1. হার্ডওয়্যার চালাতে: অপারেটিং সিস্টেম হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে।
    2. ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের সংযোগ: সফটওয়্যারের মাধ্যমেই আমরা কম্পিউটারকে নির্দেশ দিই।
    3. নির্দিষ্ট কাজ করতে: লেখা, হিসাব, ছবি সম্পাদনা, প্রেজেন্টেশন, ইন্টারনেট ব্যবহার ইত্যাদি।
    4. সময় ও শ্রম বাঁচাতে: জটিল কাজ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা যায়।
    5. কম্পিউটারের সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণে: অ্যান্টিভাইরাস ও ইউটিলিটি সফটওয়্যার কম্পিউটারকে ভালো রাখে।
    6. তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায়: ফাইল ও ডেটা সাজিয়ে রাখা ও খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
  7. ১.৩-সং-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪

    ৭.সিস্টেম সফটওয়্যার বলতে কী বুঝ?

    উত্তর

    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য এবং অন্যান্য সফটওয়্যার চালানোর পরিবেশ তৈরির জন্য যেসব প্রোগ্রাম ব্যবহার হয়, সেগুলোকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে।

    সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটার ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সেতুর মতো কাজ করে। এটি মেমরি, প্রসেসর, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস ও ফাইল ব্যবস্থাপনা করে। এটি ছাড়া কম্পিউটার চালু করা বা কোনো অ্যাপ্লিকেশন চালানো যায় না।

    উদাহরণ: অপারেটিং সিস্টেম (Windows, Linux), ডিভাইস ড্রাইভার, ইউটিলিটি প্রোগ্রাম, অনুবাদক (কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার)।

  8. ১.৩-সং-৯★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫

    ৮.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার কাকে বলে?

    উত্তর

    ব্যবহারকারী তার দৈনন্দিন নির্দিষ্ট কাজ বা সমস্যা সমাধানের জন্য যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে।

    এগুলো সিস্টেম সফটওয়্যারের (অপারেটিং সিস্টেমের) ওপর চলে। যেমন চিঠি লেখা, হিসাব রাখা, ছবি সম্পাদনা, গান শোনা, প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার আছে।

    উদাহরণ: MS Word, MS Excel, PowerPoint, Photoshop, Google Chrome।

  9. ১.৩-সং-১১★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫

    ৯.প্যাকেজ প্রোগ্রাম কী?

    উত্তর

    সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে এবং যে কেউ কিনে ব্যবহার করতে পারে, এমন প্রোগ্রামকে প্যাকেজ প্রোগ্রাম বা প্যাকেজ সফটওয়্যার বলে।

    এগুলো অনেক ব্যবহারকারীর সাধারণ প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি হয়। কিনে ইনস্টল করেই সরাসরি কাজ শুরু করা যায়; প্রোগ্রামিং জানার দরকার হয় না।

    উদাহরণ: MS Word (লেখালেখি), MS Excel (হিসাব), MS Access (ডেটাবেজ), PowerPoint (প্রেজেন্টেশন), Photoshop (ছবি সম্পাদনা)।

  10. ১.৩-সং-১২★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫

    ১০.অ্যান্টিভাইরাস বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কম্পিউটারের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, যেমন ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান, ম্যালওয়্যার খুঁজে বের করা, সেগুলোকে আটকানো এবং মুছে ফেলার জন্য যে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার হয়, তাকে অ্যান্টিভাইরাস (Antivirus) বলে।

    কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, যা ব্যবহারকারীর অজান্তে কম্পিউটারে ঢুকে নিজের কপি তৈরি করে ছড়ায় এবং ফাইল নষ্ট করে বা কম্পিউটারকে ধীর করে দেয়। অ্যান্টিভাইরাস এর থেকে কম্পিউটারকে রক্ষা করে। এটি একটি ইউটিলিটি সফটওয়্যার।

    উদাহরণ: Kaspersky, Norton, Avast, McAfee, Windows Defender।

  11. ১.৩-সং-১৩★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫

    ১১.অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের প্রয়োজনীয়তা কী?

    উত্তর

    অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের প্রয়োজনীয়তা:

    1. ভাইরাস শনাক্ত ও মুছে ফেলা: কম্পিউটারে থাকা ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার খুঁজে বের করে মুছে ফেলে।
    2. নতুন আক্রমণ ঠেকানো: পেন ড্রাইভ, ইন্টারনেট বা ই-মেইল থেকে ভাইরাস ঢোকার আগেই আটকে দেয়।
    3. তথ্যের সুরক্ষা: গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নষ্ট বা মুছে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
    4. ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা: পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য চুরি হওয়া থেকে রক্ষা করে।
    5. কম্পিউটারের গতি ঠিক রাখা: ভাইরাসের কারণে কম্পিউটার ধীর হয়ে যাওয়া রোধ করে।
    6. নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার: ক্ষতিকর ওয়েবসাইট ও ডাউনলোড সম্পর্কে সতর্ক করে।
    7. নিয়মিত স্ক্যান: নির্দিষ্ট সময় পরপর নিজে থেকে পুরো কম্পিউটার পরীক্ষা করে।
  12. ১.৩-সং-১৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫

    ১২.হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে সম্পর্ক কী?

    উত্তর

    হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার একে অপরের ওপর নির্ভরশীল; একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।

    • হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের দেহ, যা দেখা ও ছোঁয়া যায়।
    • সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের প্রাণ বা নির্দেশনা, যা হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কী করতে হবে।

    সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার শুধু একটি "লোহার বাক্স", আবার হার্ডওয়্যার ছাড়া সফটওয়্যার চালানোর কোনো জায়গাই নেই। তাই মানুষের দেহ ও মনের মতো, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার একসাথে কাজ করলেই কম্পিউটার সচল হয়।

       ব্যবহারকারী
            ⇅
      অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
            ⇅
      সিস্টেম সফটওয়্যার (OS)
            ⇅
         হার্ডওয়্যার
    

    উদাহরণ: প্রিন্টার (হার্ডওয়্যার) দিয়ে প্রিন্ট করতে MS Word (সফটওয়্যার) ও প্রিন্টার ড্রাইভার (সফটওয়্যার) দুটোই লাগে।

রচনামূলক প্রশ্ন (৩টি)

  1. ১.৩-র-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৬

    ১.হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০০৯, ১০, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ২২, ২৫; কমার্স-২০০৯]

    উত্তর

    হার্ডওয়্যার: কম্পিউটারের যেসব যন্ত্রাংশ দেখা ও স্পর্শ করা যায়, সেগুলোকে হার্ডওয়্যার বলে। যেমন: মনিটর, কী-বোর্ড, মাউস।

    সফটওয়্যার: কম্পিউটার চালানোর জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম বা নির্দেশের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। যেমন: Windows, MS Word।

            কম্পিউটার সিস্টেম
                   │
          ┌────────┴────────┐
      হার্ডওয়্যার         সফটওয়্যার
      (দেহ – দেখা ও       (প্রাণ – দেখা যায়,
       ছোঁয়া যায়)          ছোঁয়া যায় না)
    

    হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য:

    বিষয়হার্ডওয়্যারসফটওয়্যার
    ১. সংজ্ঞাকম্পিউটারের ভৌত যন্ত্রাংশকম্পিউটার চালানোর প্রোগ্রাম বা নির্দেশের সমষ্টি
    ২. স্পর্শযোগ্যতাদেখা ও স্পর্শ করা যায়শুধু পর্দায় দেখা যায়, স্পর্শ করা যায় না
    ৩. তৈরি হয়ইলেকট্রনিক ও যান্ত্রিক উপাদান দিয়েপ্রোগ্রামিং ভাষা দিয়ে
    ৪. কাজসফটওয়্যারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করেহার্ডওয়্যারকে কী কাজ করতে হবে তা বলে দেয়
    ৫. ক্ষতিব্যবহারে ক্ষয় হয়, ভেঙে বা নষ্ট হতে পারেক্ষয় হয় না, তবে ভাইরাসে নষ্ট হতে পারে
    ৬. ভাইরাসভাইরাস সরাসরি আক্রমণ করে নাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে
    ৭. পরিবর্তনবদলাতে হলে যন্ত্রাংশ খুলে নতুন লাগাতে হয়সহজে আপডেট, ইনস্টল বা আনইনস্টল করা যায়
    ৮. কপিহুবহু কপি করা যায় নাসহজেই কপি করা যায়
    ৯. স্থানান্তরইন্টারনেটে পাঠানো যায় নাইন্টারনেটে ডাউনলোড বা পাঠানো যায়
    ১০. প্রকারভেদইনপুট, প্রসেসিং, আউটপুট ও স্টোরেজ ডিভাইসসিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
    ১১. উদাহরণমনিটর, কী-বোর্ড, মাউস, র‍্যাম, হার্ড ডিস্কWindows, Linux, MS Word, Photoshop

    সম্পর্ক: পার্থক্য থাকলেও এরা একে অপরের পরিপূরক। সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার অচল, আবার হার্ডওয়্যার ছাড়া সফটওয়্যার চালানোই যায় না।

    উপসংহার: হার্ডওয়্যার কম্পিউটারের দেহ আর সফটওয়্যার তার প্রাণ; দুটো মিলেই একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার।

  2. ১.৩-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৬

    ২.কম্পিউটার সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর। [বিএমটি-২০২৪]

    • অথবা, সফটওয়্যারের প্রকারভেদ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? এর দুটি কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৬]

    উত্তর

    কম্পিউটার চালানোর জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। কাজের ধরন অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার: (১) সিস্টেম সফটওয়্যার ও (২) অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।

                              সফটওয়্যার
                                  │
              ┌───────────────────┴───────────────────┐
       সিস্টেম সফটওয়্যার                    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
              │                                       │
       ┌──────┼──────────┐                    ┌───────┴───────┐
    সিস্টেম   সিস্টেম    সিস্টেম            সাধারণ          সুনির্দিষ্ট
    ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট          (প্যাকেজ)        (কাস্টমাইজড)
    প্রোগ্রাম   প্রোগ্রাম   প্রোগ্রাম           প্রোগ্রাম         প্রোগ্রাম
       │          │          │
    • অপারেটিং  • ল্যাঙ্গুয়েজ  • ইউটিলিটি
      সিস্টেম     ট্রান্সলেটর  • পারফরম্যান্স
    • ডেটাবেজ   • প্রোগ্রামিং    প্রোগ্রাম
      ম্যানেজমেন্ট  এডিটর ও টুলস • সিকিউরিটি
    • নেটওয়ার্ক  • CASE         মনিটর
      ম্যানেজমেন্ট
    

    ১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software)

    যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, সেগুলোকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। এটি কম্পিউটারের মৌলিক কাজ পরিচালনা করে এবং অন্য সফটওয়্যার চালাতে সাহায্য করে। সিস্টেম সফটওয়্যারের প্রধান ধরনগুলো:

    (ক) অপারেটিং সিস্টেম (Operating System): কম্পিউটার পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত মূল সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম বলে। এটি কম্পিউটারের সব ডিভাইস ও সফটওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে। বিদ্যুৎ ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না, তেমনি অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও কম্পিউটার চালানো যায় না।

    • অপারেটিং সিস্টেমের দুটি কাজ: (i) হার্ডওয়্যার (মেমরি, প্রসেসর, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস) পরিচালনা করা; (ii) ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা।
    • উদাহরণ: MS-DOS, Windows (XP, 7, 10, 11), UNIX, Linux, macOS।

    (খ) ইউটিলিটি সফটওয়্যার (Utility Software): কম্পিউটারের ব্যবহার সহজ করা এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম। যেমন: অ্যান্টিভাইরাস (McAfee), Norton Utility, Disk Cleanup। মাইক্রো কম্পিউটারে ব্যবহৃত কিছু ইউটিলিটি প্রোগ্রাম:

    • এডিটর (Editor): প্রোগ্রাম বা লেখা তৈরি ও সংশোধন করে।
    • লোডার (Loader): প্রোগ্রাম চালানোর জন্য সেটিকে প্রধান মেমরিতে নিয়ে আসে।
    • মনিটর বা ফার্মওয়্যার: ROM-এ স্থায়ীভাবে থাকা প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটার চালু করতে সাহায্য করে।

    (গ) অনুবাদক সফটওয়্যার (Translator Software): উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের বোধগম্য মেশিন ভাষায় (০ ও ১) রূপান্তর করে। যেমন: কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার, অ্যাসেম্বলার।

    (ঘ) গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) সফটওয়্যার: আইকন, মেনু ও উইন্ডোর মাধ্যমে মাউস দিয়ে সহজে কম্পিউটার চালানোর সুযোগ দেয়।

    ২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software)

    ব্যবহারকারী তার নির্দিষ্ট দৈনন্দিন কাজ করার জন্য যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে। এটি দুই ধরনের:

    (ক) প্যাকেজ সফটওয়্যার: সফটওয়্যার কোম্পানি অনেক ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে। যেমন: MS Word (লেখালেখি), MS Excel (হিসাব), PowerPoint (প্রেজেন্টেশন), Photoshop (ছবি সম্পাদনা)।

    (খ) কাস্টমাইজড সফটওয়্যার: কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে তৈরি করা সফটওয়্যার। যেমন: ব্যাংক, বিমা বা হাসপাতালের নিজস্ব সফটওয়্যার।

    উপসংহার: সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারকে চালু ও কার্যকর রাখে, আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার দিয়ে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করি। দুটো মিলেই কম্পিউটার আমাদের কাজে লাগে।

  3. ১.৩-র-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৫৮

    ৩.কম্পিউটার সফটওয়্যারের ধারণা ব্যাখ্যা কর।

    উত্তর

    সফটওয়্যার: কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ ক্রমে সাজানো নির্দেশকে প্রোগ্রাম বলে। আর কম্পিউটার চালানো ও বিভিন্ন কাজ করার জন্য এক বা একাধিক প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে।

    Software শব্দটি দুটি অংশে গঠিত: Soft অর্থ নরম, অর্থাৎ যা হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় না; আর Ware অর্থ সামগ্রী বা পণ্য। অর্থাৎ সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের এমন অংশ, যা দেখা যায় কিন্তু স্পর্শ করা যায় না।

    সফটওয়্যারের ধারণা সহজভাবে: একটি কম্পিউটার যেন একজন রাঁধুনি, আর সফটওয়্যার যেন রান্নার রেসিপি। রাঁধুনি যত দক্ষই হোক, রেসিপি না পেলে কী রাঁধবেন জানেন না। তেমনি হার্ডওয়্যার যত শক্তিশালীই হোক, সফটওয়্যার না থাকলে কম্পিউটার কোনো কাজ করতে পারে না।

      ইনপুট (ডেটা) ──► [ সফটওয়্যারের নির্দেশে হার্ডওয়্যার কাজ করে ] ──► আউটপুট (ফলাফল)
    

    সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য:

    1. এটি দেখা যায়, কিন্তু স্পর্শ করা যায় না।
    2. প্রোগ্রামিং ভাষা (যেমন C, Java, Python) দিয়ে তৈরি হয়।
    3. সহজে কপি, ইনস্টল, আপডেট ও আনইনস্টল করা যায়।
    4. ব্যবহারে ক্ষয় হয় না, তবে ভাইরাসে নষ্ট হতে পারে।
    5. হার্ডওয়্যারকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।

    সফটওয়্যারের প্রকারভেদ:

                      সফটওয়্যার
                           │
            ┌──────────────┴──────────────┐
      সিস্টেম সফটওয়্যার           অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
      • অপারেটিং সিস্টেম           • প্যাকেজ সফটওয়্যার
      • ইউটিলিটি                   • কাস্টমাইজড সফটওয়্যার
      • অনুবাদক প্রোগ্রাম
      • ডিভাইস ড্রাইভার
    
    1. সিস্টেম সফটওয়্যার: হার্ডওয়্যার চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন: Windows, Linux।
    2. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার: ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কাজ করে। যেমন: MS Word, Excel।

    লাইসেন্স অনুযায়ী সফটওয়্যার:

    • প্রোপ্রাইটারি (বাণিজ্যিক): টাকা দিয়ে কিনতে হয়। যেমন: MS Office।
    • ফ্রিওয়্যার: বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। যেমন: Google Chrome।
    • শেয়ারওয়্যার: কিছুদিন বিনামূল্যে, পরে কিনতে হয়। যেমন: WinRAR।
    • ওপেন সোর্স: সোর্স কোড উন্মুক্ত। যেমন: Linux, LibreOffice।

    উপসংহার: সফটওয়্যারই কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে তোলে; সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার শুধু একটি যন্ত্রের বাক্স।

অধ্যায় ১.৪: কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৭টি)

  1. ১.৪-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ১.অপারেটিং সিস্টেম কী? [বিএমটি-২০২৪]

    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? জনপ্রিয় দুটি অপারেটিং সিস্টেম লেখ। [বিএমটি-২৬]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? বর্ণনা দাও। [বিএমটি-২০১১, ১৮, ১৯, ২২; কমার্স-২০১১, ২০১০]
    • অথবা, কয়েকটি বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০১১]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০০৯, ২০১২, ২০১৩; কমার্স-২০০৯]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০১০, ১৪]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? তিনটি অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০১৫, ১৭]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০২৩]
    • অথবা, চারটি অপারেটিং সিস্টেম-এর নাম লেখ। [বিএমটি-২০২৫]

    উত্তর

    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, এমন প্রধান সিস্টেম সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম (Operating System – OS) বলে।

    Operate অর্থ পরিচালনা করা আর System অর্থ পদ্ধতি; অর্থাৎ অপারেটিং সিস্টেম হলো কম্পিউটার পরিচালনার পদ্ধতি। কম্পিউটার চালু হলে সবার আগে অপারেটিং সিস্টেম চালু হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না, তেমনি অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও কম্পিউটার চালানো যায় না।

            ┌───────────────────────────┐
            │        ব্যবহারকারী          │
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার       │  (MS Word, Chrome)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │   অপারেটিং সিস্টেম (OS)    │  (Windows, Linux)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │       হার্ডওয়্যার           │  (CPU, RAM, ডিস্ক)
            └───────────────────────────┘
    

    জনপ্রিয় কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম:

    1. Microsoft Windows (7, 10, 11)
    2. Linux (Ubuntu, Fedora)
    3. macOS (Apple কম্পিউটারে)
    4. UNIX
    5. MS-DOS
    6. Android ও iOS (মোবাইলে)
  2. ১.৪-সং-২★★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ২.সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২৫]

    উত্তর

    যে অপারেটিং সিস্টেমে একই সময়ে মাত্র একজন ব্যবহারকারী কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন, তাকে সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেম বলে।

    এ ধরনের অপারেটিং সিস্টেম সাধারণত ব্যক্তিগত কম্পিউটারে (PC) ব্যবহার হয়। এতে কম্পিউটারের সব রিসোর্স (প্রসেসর, মেমরি, প্রিন্টার) একজন ব্যবহারকারীর কাজেই লাগে। এটি আবার দুই ধরনের হতে পারে: সিঙ্গেল ইউজার-সিঙ্গেল টাস্কিং (একসাথে একটি কাজ) এবং সিঙ্গেল ইউজার-মাল্টি টাস্কিং (একসাথে কয়েকটি কাজ)।

    উদাহরণ: MS-DOS (সিঙ্গেল টাস্কিং), Windows 95/98, ব্যক্তিগত ব্যবহারের Windows।

  3. ১.৪-সং-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৬২

    ৩.মাল্টি ইউজার অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২৫]

    উত্তর

    যে অপারেটিং সিস্টেমে একই সময়ে একাধিক ব্যবহারকারী আলাদা আলাদা টার্মিনাল থেকে একটি কম্পিউটার (বা সার্ভার) ব্যবহার করতে পারেন, তাকে মাল্টি ইউজার অপারেটিং সিস্টেম বলে।

    এতে কম্পিউটারের প্রসেসর, মেমরি, প্রিন্টারের মতো রিসোর্স সব ব্যবহারকারীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়, এবং প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ডেটা আলাদা ও নিরাপদ রাখা হয়। ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে এটি ব্যবহার হয়।

     টার্মিনাল-১ ─┐
     টার্মিনাল-২ ─┼──► সার্ভার কম্পিউটার (মাল্টি ইউজার OS)
     টার্মিনাল-৩ ─┘
    

    উদাহরণ: UNIX, Linux, Windows Server।

  4. ১.৪-সং-৬★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ৪.অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের ভূমিকা কী?

    উত্তর

    অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের "ব্যবস্থাপক" হিসেবে কাজ করে। এর প্রধান ভূমিকাগুলো হলো:

    1. কম্পিউটার চালু করা: কম্পিউটার চালু (বুট) হলে প্রথমে OS লোড হয় এবং কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে।
    2. সংযোগ স্থাপন: ব্যবহারকারী ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে।
    3. হার্ডওয়্যার ব্যবস্থাপনা: প্রসেসর, মেমরি, কী-বোর্ড, প্রিন্টারসহ সব যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে।
    4. ফাইল ব্যবস্থাপনা: ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, সংরক্ষণ, কপি, মুছে ফেলা ইত্যাদি করে।
    5. প্রোগ্রাম চালানো: অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর পরিবেশ দেয়।
    6. নিরাপত্তা: পাসওয়ার্ড ও ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষিত রাখে।
    7. ত্রুটি শনাক্তকরণ: কোনো সমস্যা হলে বার্তা দিয়ে ব্যবহারকারীকে জানায়।
  5. ১.৪-সং-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ৫.বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    যে অপারেটিং সিস্টেমে কম্পিউটারকে নির্দেশ দিতে কী-বোর্ড দিয়ে টেক্সট বা কমান্ড টাইপ করতে হয়, তাকে বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বা ক্যারেক্টার ইউজার ইন্টারফেস (CUI)/কমান্ড লাইন ইন্টারফেস (CLI) বলে।

    এতে পর্দায় কোনো ছবি বা আইকন থাকে না, শুধু লেখা থাকে। প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট কমান্ড মুখস্থ রাখতে হয়, তাই নতুনদের জন্য এটি কঠিন। মাউস ব্যবহার হয় না।

      C:\> dir
      C:\> copy letter.txt d:\
      C:\> _
    

    উদাহরণ: MS-DOS, PC-DOS, UNIX (কমান্ড মোড)।

  6. ১.৪-সং-৮★★বই: পৃষ্ঠা ৬৩

    ৬.চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    যে অপারেটিং সিস্টেমে আইকন, মেনু, উইন্ডো ও ছবির মাধ্যমে মাউস দিয়ে ক্লিক করে কম্পিউটারকে নির্দেশ দেওয়া যায়, তাকে চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বা গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) বলে।

    এতে কমান্ড মুখস্থ রাখতে হয় না; ছবি দেখে সহজেই কাজ করা যায়। তাই নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি খুব সহজ ও জনপ্রিয়।

     ┌──────────────────────────────┐
     │ 📁 My Files   🗑 Recycle Bin   │
     │ 🌐 Chrome     📝 Word          │
     │                              │
     │ [⊞ Start] [উইন্ডো] [ঘড়ি]      │
     └──────────────────────────────┘
    

    উদাহরণ: Microsoft Windows, macOS, Linux (Ubuntu), Android।

  7. ১.৪-সং-১৫★★বই: পৃষ্ঠা ৬৪

    ৭.লিনাক্সের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

    উত্তর

    লিনাক্সের বৈশিষ্ট্যগুলো:

    1. বিনামূল্যে: লিনাক্স ব্যবহার করতে কোনো টাকা লাগে না।
    2. ওপেন সোর্স: সোর্স কোড উন্মুক্ত; যে কেউ পরিবর্তন ও উন্নয়ন করতে পারে।
    3. মাল্টি ইউজার: একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারেন।
    4. মাল্টি টাস্কিং: একসাথে অনেক প্রোগ্রাম চালানো যায়।
    5. নিরাপদ: ভাইরাসের আক্রমণ খুব কম হয়।
    6. স্থিতিশীল: দীর্ঘদিন চালু রাখলেও সহজে হ্যাং বা ক্র্যাশ করে না, তাই সার্ভারে বেশি ব্যবহৃত।
    7. বহনযোগ্য (Portable): কম্পিউটার, সার্ভার, মোবাইল (Android), রাউটারসহ নানা যন্ত্রে চলে।
    8. CUI ও GUI দুটোই আছে: কমান্ড লাইন ও চিত্রভিত্তিক দুই পদ্ধতিতেই কাজ করা যায়।
    9. কম রিসোর্সে চলে: পুরনো ও কম শক্তির কম্পিউটারেও চালানো যায়।

রচনামূলক প্রশ্ন (৯টি)

  1. ১.৪-র-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৪

    ১.অপারেটিং সিস্টেমের কার্যাবলি বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৪]

    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের কাজ লেখ।
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের কার্যাবলি আলোচনা কর। [বিএমটি-২০০৯, ১২, ১৯, ২২; কমার্স-২০০৯]
    • অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের কাজগুলো উল্লেখ কর। [বিএমটি-২৬]

    উত্তর

    অপারেটিং সিস্টেম: কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকে পরিচালনা করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, এমন প্রধান সিস্টেম সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম বলে। যেমন: Windows, Linux।

                          অপারেটিং সিস্টেমের কাজ
                                   │
      ┌──────────┬──────────┬──────┼───────┬──────────┬──────────┐
    প্রসেস      মেমরি      ফাইল     ডিভাইস   নিরাপত্তা   ইউজার
    ব্যবস্থাপনা  ব্যবস্থাপনা  ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনা           ইন্টারফেস
    

    অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান কার্যাবলি নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. কম্পিউটার চালু করা (Booting): কম্পিউটার চালু করলে অপারেটিং সিস্টেম মেমরিতে লোড হয় এবং সব হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করে কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে।

    ২. প্রসেস বা প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপনা: কোন প্রোগ্রাম কখন, কতক্ষণ প্রসেসর ব্যবহার করবে তা ঠিক করে। একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালাতে (মাল্টিটাস্কিং) সাহায্য করে।

    ৩. মেমরি ব্যবস্থাপনা: কোন প্রোগ্রাম RAM-এর কোন অংশে থাকবে তা নির্ধারণ করে, এবং কাজ শেষে সেই জায়গা খালি করে অন্য প্রোগ্রামকে দেয়।

    ৪. ফাইল ব্যবস্থাপনা: ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, নামকরণ, সংরক্ষণ, কপি, স্থানান্তর ও মুছে ফেলার কাজ করে; ডিস্কে ফাইল কোথায় আছে তার হিসাব রাখে।

    ৫. ডিভাইস (ইনপুট-আউটপুট) ব্যবস্থাপনা: কী-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, মনিটরসহ সব ডিভাইস ডিভাইস ড্রাইভারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে।

    ৬. ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ (ইন্টারফেস): কমান্ড (CUI) বা আইকন-মেনুর (GUI) মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে কম্পিউটার চালানোর সুযোগ দেয়।

    ৭. নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা: পাসওয়ার্ড, ইউজার অ্যাকাউন্ট ও অনুমতির মাধ্যমে অননুমোদিত ব্যবহার রোধ করে এবং তথ্য সুরক্ষিত রাখে।

    ৮. ত্রুটি শনাক্তকরণ: হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যারে সমস্যা হলে তা শনাক্ত করে বার্তা দেখায়।

    ৯. রিসোর্স বণ্টন: প্রসেসর, মেমরি, প্রিন্টারের মতো রিসোর্স বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ভাগ করে দেয়।

    ১০. অ্যাপ্লিকেশন চালানো: MS Word, Chrome-এর মতো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর প্ল্যাটফর্ম দেয়।

    উপসংহার: অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের সব কাজ সমন্বয় করে; এটি ছাড়া কম্পিউটার চালানো সম্ভব নয়।

  2. ১.৪-র-২★★বই: পৃষ্ঠা ৬৪

    ২.কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের ভূমিকা বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সমন্বয় করে কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে তোলাই অপারেটিং সিস্টেম-এর ভূমিকা। একে কম্পিউটারের "ব্যবস্থাপক" বা "পরিচালক" বলা যায়।

            ┌───────────────────────────┐
            │        ব্যবহারকারী          │
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার       │  (MS Word, Chrome)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │   অপারেটিং সিস্টেম (OS)    │  (Windows, Linux)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │       হার্ডওয়্যার           │  (CPU, RAM, ডিস্ক)
            └───────────────────────────┘
    

    অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান ভূমিকাগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. মধ্যস্থতাকারী হিসেবে: ব্যবহারকারী কম্পিউটারের ভাষা (০ ও ১) বোঝেন না, আবার হার্ডওয়্যার মানুষের ভাষা বোঝে না। অপারেটিং সিস্টেম দুই পক্ষের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে।

    ২. হার্ডওয়্যারের নিয়ন্ত্রক হিসেবে: প্রসেসর, মেমরি, হার্ড ডিস্ক, কী-বোর্ড, প্রিন্টারসহ সব হার্ডওয়্যার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।

    ৩. অ্যাপ্লিকেশনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে: MS Word, Excel, Chrome-এর মতো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার অপারেটিং সিস্টেমের ওপরেই চলে।

    ৪. রিসোর্স ব্যবস্থাপক হিসেবে: কোন প্রোগ্রাম কখন প্রসেসর ও মেমরি ব্যবহার করবে তা ঠিক করে, যাতে কাজের মধ্যে সংঘর্ষ না হয়।

    ৫. ফাইল ব্যবস্থাপক হিসেবে: ফাইল ও ফোল্ডার সংরক্ষণ, খোঁজা ও সাজিয়ে রাখার কাজ করে।

    ৬. নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে: পাসওয়ার্ড, ইউজার অ্যাকাউন্ট ও ফায়ারওয়ালের মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষিত রাখে।

    ৭. সহজ ব্যবহারের সুযোগদাতা হিসেবে: GUI-এর মাধ্যমে আইকন ও মেনু দিয়ে সাধারণ মানুষও সহজে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন।

    ৮. ত্রুটি নির্ণায়ক হিসেবে: সমস্যা হলে তা শনাক্ত করে বার্তা দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সমাধানের পথ দেখায়।

    ৯. যোগাযোগ ব্যবস্থাপক হিসেবে: নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ পরিচালনা করে।

    উপসংহার: অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কম্পিউটার একটি অচল যন্ত্র; এটিই কম্পিউটারকে জীবন্ত ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলে।

  3. ১.৪-র-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৬৫

    ৩.চিত্রভিত্তিক ও বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের মাঝে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০০৯, ১০, ১১, ১৩, ১৫, ১৭]

    উত্তর

    বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম (CUI): যে অপারেটিং সিস্টেমে কী-বোর্ড দিয়ে কমান্ড টাইপ করে কাজ করতে হয়। যেমন: MS-DOS।

    চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম (GUI): যে অপারেটিং সিস্টেমে আইকন, মেনু ও উইন্ডোতে মাউস দিয়ে ক্লিক করে কাজ করা যায়। যেমন: Windows।

       বর্ণভিত্তিক (CUI)                 চিত্রভিত্তিক (GUI)
     ┌──────────────────┐           ┌──────────────────┐
     │ C:\> dir          │           │ 📁  🗑  🌐  📝     │
     │ C:\> copy a.txt d:│           │                  │
     │ C:\> _            │           │ [⊞ Start]  ⌚    │
     └──────────────────┘           └──────────────────┘
       শুধু লেখা, কী-বোর্ড              ছবি ও আইকন, মাউস
    

    পার্থক্য:

    বিষয়বর্ণভিত্তিক (CUI)চিত্রভিত্তিক (GUI)
    ১. পূর্ণরূপCharacter User InterfaceGraphical User Interface
    ২. নির্দেশ দেওয়ার পদ্ধতিকী-বোর্ডে কমান্ড টাইপ করেমাউস দিয়ে আইকন ও মেনুতে ক্লিক করে
    ৩. পর্দার রূপশুধু লেখা (টেক্সট) দেখা যায়ছবি, আইকন, উইন্ডো, মেনু দেখা যায়
    ৪. মাউস ব্যবহারসাধারণত মাউস লাগে নামাউস প্রধান ইনপুট ডিভাইস
    ৫. ব্যবহারকঠিন; কমান্ড মুখস্থ রাখতে হয়সহজ; ছবি দেখে বোঝা যায়
    ৬. শেখানতুনদের জন্য শেখা কঠিননতুনরাও দ্রুত শিখতে পারে
    ৭. মাল্টিটাস্কিংসাধারণত একসাথে একটি কাজএকসাথে অনেক কাজ (উইন্ডো)
    ৮. মেমরি ও গতিকম মেমরি লাগে, দ্রুত চলেবেশি মেমরি ও শক্তিশালী হার্ডওয়্যার লাগে
    ৯. ভুলের সম্ভাবনাটাইপের ভুলে কমান্ড কাজ করে নাভুলের সম্ভাবনা কম
    ১০. উদাহরণMS-DOS, PC-DOS, UNIX (কমান্ড মোড)Windows, macOS, Ubuntu Linux

    উপসংহার: সহজ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বেশি জনপ্রিয়, তবে সার্ভার ও উন্নত কাজে এখনো বর্ণভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার হয়।

  4. ১.৪-র-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৬

    ৪.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সাথে অপারেটিং সিস্টেমের সম্পর্ক বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটার সিস্টেম কয়েকটি স্তরে কাজ করে। সবচেয়ে নিচে হার্ডওয়্যার, তার ওপরে অপারেটিং সিস্টেম, তার ওপরে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, আর সবার ওপরে ব্যবহারকারী। অপারেটিং সিস্টেম এই স্তরগুলোর মাঝখানে থেকে সংযোগ রক্ষা করে।

            ┌───────────────────────────┐
            │        ব্যবহারকারী          │
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার       │  (MS Word, Chrome)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │   অপারেটিং সিস্টেম (OS)    │  (Windows, Linux)
            └─────────────▲─────────────┘
                          │
            ┌─────────────▼─────────────┐
            │       হার্ডওয়্যার           │  (CPU, RAM, ডিস্ক)
            └───────────────────────────┘
    

    ১. হার্ডওয়্যারের সাথে অপারেটিং সিস্টেমের সম্পর্ক

    • অপারেটিং সিস্টেম হার্ডওয়্যারকে চালু (বুট) করে এবং পরীক্ষা করে।
    • প্রসেসর, মেমরি, হার্ড ডিস্ক, কী-বোর্ড, প্রিন্টারসহ সব হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।
    • ডিভাইস ড্রাইভারের মাধ্যমে প্রতিটি হার্ডওয়্যারের সাথে যোগাযোগ করে।
    • হার্ডওয়্যার ছাড়া অপারেটিং সিস্টেম চলতে পারে না, আবার অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া হার্ডওয়্যার কোনো কাজ করতে পারে না।

    ২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের সাথে অপারেটিং সিস্টেমের সম্পর্ক

    • অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (যেমন MS Word) অপারেটিং সিস্টেমের ওপর চলে; OS না থাকলে এগুলো চালানো যায় না।
    • অ্যাপ্লিকেশন সরাসরি হার্ডওয়্যারের সাথে কথা বলে না; অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে।
    • অ্যাপ্লিকেশনকে প্রয়োজনীয় মেমরি, প্রসেসরের সময় ও ফাইল সংরক্ষণের সুবিধা দেয় অপারেটিং সিস্টেম।
    • প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশন নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি হয় (যেমন Windows-এর সফটওয়্যার সাধারণত macOS-এ চলে না)।

    একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক

    ধরো, MS Word-এ একটি চিঠি প্রিন্ট করতে চাও:

    1. তুমি (ব্যবহারকারী) MS Word-এ Print বাটনে ক্লিক করলে।
    2. MS Word (অ্যাপ্লিকেশন) অপারেটিং সিস্টেমকে প্রিন্ট করার অনুরোধ জানায়।
    3. অপারেটিং সিস্টেম প্রিন্টার ড্রাইভারের মাধ্যমে প্রিন্টারকে (হার্ডওয়্যার) নির্দেশ দেয়।
    4. প্রিন্টার কাগজে চিঠিটি ছাপে।
     ব্যবহারকারী → MS Word → অপারেটিং সিস্টেম → প্রিন্টার ড্রাইভার → প্রিন্টার
    

    উপসংহার: অপারেটিং সিস্টেম হলো হার্ডওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে সেতু; তিনটি একসাথে কাজ করলেই ব্যবহারকারী কম্পিউটার থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পান।

  5. ১.৪-র-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৬

    ৫.অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কাজের ধরন, ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও কাজের পদ্ধতি অনুযায়ী অপারেটিং সিস্টেমকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়:

                              অপারেটিং সিস্টেম
                                     │
         ┌───────────────┬───────────┼─────────────┬──────────────┐
     ইন্টারফেস         ব্যবহারকারী     কাজের ধরন       প্রক্রিয়াকরণ      নেটওয়ার্ক
     অনুযায়ী          অনুযায়ী        অনুযায়ী          পদ্ধতি অনুযায়ী   অনুযায়ী
         │               │              │                │             │
     • বর্ণভিত্তিক     • সিঙ্গেল ইউজার  • সিঙ্গেল টাস্কিং  • ব্যাচ          • নেটওয়ার্ক OS
       (CUI)          • মাল্টি ইউজার   • মাল্টি টাস্কিং   • টাইম শেয়ারিং   • ডিস্ট্রিবিউটেড
     • চিত্রভিত্তিক                                   • রিয়েল টাইম       OS
       (GUI)
    

    ক. ইন্টারফেস অনুযায়ী

    ১. বর্ণভিত্তিক (CUI): কী-বোর্ডে কমান্ড টাইপ করে কাজ করতে হয়। যেমন: MS-DOS। ২. চিত্রভিত্তিক (GUI): আইকন ও মেনুতে মাউস দিয়ে ক্লিক করে কাজ করা যায়। যেমন: Windows, macOS।

    খ. ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুযায়ী

    ৩. সিঙ্গেল ইউজার OS: একসময়ে একজন ব্যবহারকারী কাজ করতে পারেন। যেমন: MS-DOS, Windows 98। ৪. মাল্টি ইউজার OS: একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী আলাদা টার্মিনাল থেকে কাজ করতে পারেন। যেমন: UNIX, Linux, Windows Server।

    গ. কাজের সংখ্যা অনুযায়ী

    ৫. সিঙ্গেল টাস্কিং OS: একসময়ে একটি মাত্র প্রোগ্রাম চালানো যায়। যেমন: MS-DOS। ৬. মাল্টি টাস্কিং OS: একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো যায় (যেমন গান শুনতে শুনতে টাইপ করা)। যেমন: Windows, Linux।

    ঘ. প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি অনুযায়ী

    ৭. ব্যাচ প্রসেসিং OS: একই ধরনের কাজ দল (ব্যাচ) করে ক্রমানুসারে সম্পন্ন করে; ব্যবহারকারী সরাসরি যুক্ত থাকেন না। যেমন: বেতন ও বিল তৈরি। ৮. টাইম শেয়ারিং OS: প্রসেসরের সময় ভাগ করে পালাক্রমে অনেক ব্যবহারকারীকে দেয়। যেমন: UNIX। ৯. রিয়েল টাইম OS: ইনপুট পাওয়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলাফল দেয়। যেমন: বিমান নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, রোবট।

    ঙ. নেটওয়ার্ক অনুযায়ী

    ১০. নেটওয়ার্ক OS: নেটওয়ার্কে যুক্ত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে ফাইল, প্রিন্টার ও রিসোর্স শেয়ার করতে দেয়। যেমন: Windows Server, Novell NetWare। ১১. ডিস্ট্রিবিউটেড OS: অনেকগুলো কম্পিউটারকে একসাথে একটি কম্পিউটারের মতো কাজ করায়।

    চ. ডিভাইস অনুযায়ী

    ১২. মোবাইল OS: স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের জন্য। যেমন: Android, iOS।

    উপসংহার: প্রয়োজন ও কাজের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত অপারেটিং সিস্টেম বেছে নেওয়া হয়।

  6. ১.৪-র-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৭

    ৬.সিস্টেম সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। সিস্টেম সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:

                                সিস্টেম সফটওয়্যার
                                        │
              ┌─────────────────────────┼─────────────────────────┐
      সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট          সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট            সিস্টেম সাপোর্ট
         প্রোগ্রাম                     প্রোগ্রাম                     প্রোগ্রাম
              │                         │                         │
     • অপারেটিং সিস্টেম          • ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেটর          • সিস্টেম ইউটিলিটি
     • ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট         (কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার,    • পারফরম্যান্স মনিটর
       সিস্টেম                     অ্যাসেম্বলার)                • সিকিউরিটি মনিটর
     • নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট      • প্রোগ্রামিং এডিটর ও টুলস
       সিস্টেম                  • CASE টুলস
    

    ১. সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম

    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ডেটা ও নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।

    • অপারেটিং সিস্টেম: পুরো কম্পিউটার পরিচালনা করে। যেমন: Windows, Linux।
    • ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS): ডেটাবেজ তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিচালনা করে। যেমন: Oracle, MySQL।
    • নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম: নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলোর যোগাযোগ ও রিসোর্স শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে।

    ২. সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম

    নতুন সফটওয়্যার তৈরিতে প্রোগ্রামারদের সাহায্য করে।

    • ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেটর: প্রোগ্রামকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে। যেমন: কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার, অ্যাসেম্বলার।
    • প্রোগ্রামিং এডিটর ও টুলস: প্রোগ্রাম লেখা ও সংশোধনের সুবিধা দেয়। যেমন: VS Code।
    • CASE (Computer Aided Software Engineering): সফটওয়্যার নকশা ও তৈরির কাজ স্বয়ংক্রিয় করে।

    ৩. সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম

    কম্পিউটারকে সুষ্ঠুভাবে চালাতে সহায়তা করে।

    • সিস্টেম ইউটিলিটি: অ্যান্টিভাইরাস, ডিস্ক ক্লিনআপ, ব্যাকআপ, ফাইল সংকোচন।
    • সিস্টেম পারফরম্যান্স মনিটর: প্রসেসর ও মেমরির ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে। যেমন: Task Manager।
    • সিস্টেম সিকিউরিটি মনিটর: অননুমোদিত প্রবেশ ও ঝুঁকি শনাক্ত করে।

    উপসংহার: এই তিন ধরনের সিস্টেম সফটওয়্যার একসাথে কম্পিউটার পরিচালনা, নতুন সফটওয়্যার তৈরি এবং কম্পিউটারকে নিরাপদ ও দক্ষ রাখার কাজ করে।

  7. ১.৪-র-৮★★বই: পৃষ্ঠা ৬৭

    ৭.সিঙ্গেল ইউজার ও মাল্টি-ইউজার অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

    উত্তর

    সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেম: যে অপারেটিং সিস্টেমে একসময়ে মাত্র একজন ব্যবহারকারী কাজ করতে পারেন। যেমন: MS-DOS, Windows 98।

    মাল্টি ইউজার অপারেটিং সিস্টেম: যে অপারেটিং সিস্টেমে একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী আলাদা টার্মিনাল থেকে কাজ করতে পারেন। যেমন: UNIX, Linux।

       সিঙ্গেল ইউজার                         মাল্টি ইউজার
                                        👤 টার্মিনাল-১ ─┐
       👤 ──► 🖥 কম্পিউটার                 👤 টার্মিনাল-২ ─┼─► 🖥 সার্ভার
                                        👤 টার্মিনাল-৩ ─┘
    

    পার্থক্য:

    বিষয়সিঙ্গেল ইউজার OSমাল্টি ইউজার OS
    ১. ব্যবহারকারীএকসময়ে একজনএকসাথে একাধিক
    ২. রিসোর্সসব রিসোর্স একজনের জন্যরিসোর্স সবার মধ্যে ভাগ হয়
    ৩. ব্যবহারের ক্ষেত্রব্যক্তিগত কম্পিউটার (PC)সার্ভার, মেইনফ্রেম, বড় প্রতিষ্ঠান
    ৪. জটিলতাসরলজটিল
    ৫. নিরাপত্তাতুলনামূলক কম নিরাপত্তা ব্যবস্থাপ্রত্যেকের ডেটা আলাদা রাখতে শক্তিশালী নিরাপত্তা
    ৬. হার্ডওয়্যারসাধারণ হার্ডওয়্যারেই চলেশক্তিশালী হার্ডওয়্যার লাগে
    ৭. খরচকমবেশি
    ৮. উদাহরণMS-DOS, Windows 95/98UNIX, Linux, Windows Server
  8. ১.৪-র-৯★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৮

    ৮.টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম ও রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

    উত্তর

    টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম: যে অপারেটিং সিস্টেমে প্রসেসরের সময় ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে পালাক্রমে একাধিক ব্যবহারকারী বা প্রোগ্রামকে দেওয়া হয়। যেমন: UNIX।

    রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম: যে অপারেটিং সিস্টেম ইনপুট পাওয়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট ও খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল দেয়। যেমন: বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

     টাইম শেয়ারিং:  | ইউজার-১ | ইউজার-২ | ইউজার-৩ | ইউজার-১ | ... (পালাক্রমে)
    
     রিয়েল টাইম:   সেন্সর ইনপুট ──► [তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া] ──► সাথে সাথে আউটপুট
    

    পার্থক্য:

    বিষয়টাইম শেয়ারিং OSরিয়েল টাইম OS
    ১. মূল উদ্দেশ্যঅনেক ব্যবহারকারীকে প্রসেসর ভাগ করে দেওয়ানির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত সাড়া দেওয়া
    ২. সাড়া দেওয়ার সময়কিছুটা দেরি হলেও সমস্যা নেইদেরি হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে; সময় কঠোরভাবে নির্দিষ্ট
    ৩. ব্যবহারকারীএকাধিক ব্যবহারকারী একসাথেসাধারণত নির্দিষ্ট একটি কাজের জন্য
    ৪. কাজের ধরনসাধারণ কাজ (লেখা, হিসাব, প্রোগ্রামিং)জরুরি নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ
    ৫. সময় বণ্টনপ্রতিটি কাজকে সমান ছোট সময় দেয়জরুরি কাজকে অগ্রাধিকার দেয়
    ৬. ব্যবহারকারীর যোগাযোগব্যবহারকারী সরাসরি কাজ করেনঅনেক সময় সেন্সর থেকে স্বয়ংক্রিয় ইনপুট
    ৭. উদাহরণUNIX, Linux সার্ভারবিমান নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালের ICU, রোবট, ATM
  9. ১.৪-র-১১★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৯

    ৯.বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

    উত্তর

    বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেমের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। নিচে প্রধান ধরনগুলোর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:

                              অপারেটিং সিস্টেম
                                     │
         ┌───────────────┬───────────┼─────────────┬──────────────┐
     ইন্টারফেস         ব্যবহারকারী     কাজের ধরন       প্রক্রিয়াকরণ      নেটওয়ার্ক
     অনুযায়ী          অনুযায়ী        অনুযায়ী          পদ্ধতি অনুযায়ী   অনুযায়ী
         │               │              │                │             │
     • বর্ণভিত্তিক     • সিঙ্গেল ইউজার  • সিঙ্গেল টাস্কিং  • ব্যাচ          • নেটওয়ার্ক OS
       (CUI)          • মাল্টি ইউজার   • মাল্টি টাস্কিং   • টাইম শেয়ারিং   • ডিস্ট্রিবিউটেড
     • চিত্রভিত্তিক                                   • রিয়েল টাইম       OS
       (GUI)
    

    ১. বর্ণভিত্তিক (CUI) OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • কী-বোর্ডে কমান্ড টাইপ করে কাজ করতে হয়।
    • কম মেমরি লাগে এবং দ্রুত চলে।
    • কমান্ড মুখস্থ রাখতে হয়, তাই ব্যবহার কঠিন। যেমন: MS-DOS।

    ২. চিত্রভিত্তিক (GUI) OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • আইকন, মেনু, উইন্ডো ও মাউস দিয়ে কাজ করা যায়।
    • ব্যবহার সহজ; নতুনরাও দ্রুত শিখতে পারে।
    • বেশি মেমরি ও শক্তিশালী হার্ডওয়্যার লাগে। যেমন: Windows।

    ৩. সিঙ্গেল ইউজার OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • একসময়ে একজন ব্যবহারকারী।
    • সরল ও কম খরচের।

    ৪. মাল্টি ইউজার OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • একসাথে অনেক ব্যবহারকারী।
    • রিসোর্স ভাগাভাগি ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যেমন: UNIX।

    ৫. মাল্টি টাস্কিং OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো যায়।
    • সময় বাঁচে ও কাজের দক্ষতা বাড়ে।

    ৬. ব্যাচ OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • একই ধরনের কাজ দল করে ক্রমানুসারে প্রক্রিয়া করে।
    • কাজ চলাকালে ব্যবহারকারীর সরাসরি যোগাযোগ নেই।
    • বড় ও পুনরাবৃত্ত কাজের জন্য উপযোগী।

    ৭. টাইম শেয়ারিং OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • প্রসেসরের সময় ছোট ভাগে ভাগ করে পালাক্রমে দেয়।
    • প্রত্যেক ব্যবহারকারী দ্রুত সাড়া পান।

    ৮. রিয়েল টাইম OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • নির্দিষ্ট ও খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিশ্চিত সাড়া দেয়।
    • জরুরি কাজকে অগ্রাধিকার দেয়; অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।

    ৯. নেটওয়ার্ক OS-এর বৈশিষ্ট্য:

    • নেটওয়ার্কে ফাইল, প্রিন্টার ও রিসোর্স শেয়ার করা যায়।
    • কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবহারকারী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা।
    ধরনপ্রধান বৈশিষ্ট্য এক কথায়
    CUIকমান্ড টাইপ করে কাজ
    GUIআইকন ও মাউস দিয়ে কাজ
    মাল্টি ইউজারঅনেকে একসাথে
    মাল্টি টাস্কিংঅনেক কাজ একসাথে
    ব্যাচদল বেঁধে ক্রমানুসারে কাজ
    টাইম শেয়ারিংসময় ভাগাভাগি
    রিয়েল টাইমতাৎক্ষণিক সাড়া
    নেটওয়ার্করিসোর্স শেয়ার

অধ্যায় ১.৫: কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৫টি)

  1. ১.৫-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ১.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    ব্যবহারকারী তার দৈনন্দিন নির্দিষ্ট কাজ বা সমস্যা সমাধানের জন্য যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে।

    এগুলো সিস্টেম সফটওয়্যারের (অপারেটিং সিস্টেমের) ওপর চলে। যেমন চিঠি লেখা, হিসাব রাখা, ছবি সম্পাদনা, গান শোনা, প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার আছে।

    উদাহরণ: MS Word, MS Excel, PowerPoint, Photoshop, Google Chrome।

  2. ১.৫-সং-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ২.ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    কম্পিউটারে লেখা টাইপ, সম্পাদনা (এডিট), সাজানো (ফরম্যাট), সংরক্ষণ ও প্রিন্ট করার জন্য যে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার হয়, তাকে ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার বা ওয়ার্ড প্রসেসর বলে।

    এর সাহায্যে চিঠি, দরখাস্ত, রিপোর্ট, প্রশ্নপত্র, বই ইত্যাদি সহজে তৈরি করা যায়। লেখার ফন্ট, রং, আকার বদলানো, ছবি ও টেবিল যোগ করা এবং বানান পরীক্ষা করা যায়।

    উদাহরণ: MS Word, LibreOffice Writer, Google Docs, WordPad।

  3. ১.৫-সং-৪★★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ৩.স্প্রেডশিট সফটওয়্যার কী?

    উত্তর

    সারি (Row) ও কলামে (Column) সাজানো ঘরে (সেলে) ডেটা রেখে হিসাব-নিকাশ, সূত্র প্রয়োগ, বিশ্লেষণ এবং চার্ট বা গ্রাফ তৈরির জন্য যে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার হয়, তাকে স্প্রেডশিট সফটওয়্যার বলে।

    এতে একটি ঘরের মান বদলালে সূত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব হিসাব নিজে থেকেই বদলে যায়। বেতন, ফলাফল, বাজেট, হিসাবরক্ষণে এটি খুব কাজের।

    উদাহরণ: MS Excel, LibreOffice Calc, Google Sheets, Lotus 1-2-3।

  4. ১.৫-সং-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ৪.কয়েকটি Spreadsheet প্রোগ্রামের নাম লেখ।

    উত্তর

    কয়েকটি স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের নাম:

    ক্রমস্প্রেডশিট প্রোগ্রামনির্মাতা
    ১Microsoft ExcelMicrosoft
    ২LibreOffice CalcThe Document Foundation (বিনামূল্যে)
    ৩Google SheetsGoogle (অনলাইন)
    ৪Apple NumbersApple
    ৫Lotus 1-2-3Lotus (পুরনো)
    ৬VisiCalcপ্রথম স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম (১৯৭৯)
    ৭WPS SpreadsheetsKingsoft
  5. ১.৫-সং-১২★★বই: পৃষ্ঠা ৭১

    ৫.প্যাকেজ সফটওয়্যার বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    যে সফটওয়্যার কোনো সফটওয়্যার কোম্পানি নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে এবং যে কেউ কিনে ব্যবহার করতে পারে, তাকে প্যাকেজ সফটওয়্যার বলে।

    এগুলো অনেক ব্যবহারকারীর সাধারণ প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি, তাই তৈরি অবস্থায় কিনে সরাসরি কাজ শুরু করা যায়।

    উদাহরণ:

    • MS Word: লেখালেখি বা ওয়ার্ড প্রসেসিং
    • MS Excel: হিসাব বা স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস
    • MS Access: ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা
    • PowerPoint: প্রেজেন্টেশন তৈরি

রচনামূলক প্রশ্ন (৫টি)

  1. ১.৫-র-১★★বই: পৃষ্ঠা ৭২

    ১.ওয়ার্ড প্রসেসরের মৌলিক কার্যাবলি বর্ণনা কর।

    • অথবা, ওয়ার্ড প্রসেসিং-এর মৌলিক কার্যাবলি বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৩]

    উত্তর

    ওয়ার্ড প্রসেসর: কম্পিউটারে লেখা টাইপ, সম্পাদনা, ফরম্যাট, সংরক্ষণ ও প্রিন্ট করার সফটওয়্যারকে ওয়ার্ড প্রসেসর বলে। যেমন: MS Word।

     ┌───────────────────────────────────────────────┐
     │ File  Home  Insert  Layout  Review  View      │ ← মেনু/রিবন
     │ [B] [I] [U]  Font▾  Size▾  ≡ ≡ ≡   🖼  ▦      │ ← টুলস
     ├───────────────────────────────────────────────┤
     │                                               │
     │   বরাবর,                                      │ ← লেখার জায়গা
     │   অধ্যক্ষ, ............ কলেজ।                  │   (Document)
     │                                               │
     ├───────────────────────────────────────────────┤
     │ Page 1 of 1     Words: 25     বাংলা             │ ← স্ট্যাটাস বার
     └───────────────────────────────────────────────┘
             চিত্র: ওয়ার্ড প্রসেসরের পর্দা
    

    ওয়ার্ড প্রসেসরের মৌলিক কার্যাবলি:

    ১. লেখা টাইপ করা (Typing): কী-বোর্ড দিয়ে বাংলা ও ইংরেজিসহ যেকোনো ভাষায় লেখা যায়।

    ২. সম্পাদনা (Editing): লেখা যোগ, মুছে ফেলা, কাট, কপি, পেস্ট ও স্থানান্তর করা যায়। Undo দিয়ে ভুল সংশোধন করা যায়।

    ৩. ফরম্যাটিং (Formatting): ফন্টের ধরন, আকার, রং বদলানো; বোল্ড, ইটালিক, আন্ডারলাইন; বাম-ডান-মাঝে সাজানো (Alignment); লাইনের ফাঁকা; বুলেট ও নম্বর দেওয়া যায়।

    ৪. পেজ সেটআপ: কাগজের আকার (A4, Legal), মার্জিন, পৃষ্ঠার দিক (Portrait/Landscape), হেডার-ফুটার ও পৃষ্ঠা নম্বর যোগ করা যায়।

    ৫. টেবিল, ছবি ও চার্ট যোগ: লেখার মধ্যে টেবিল, ছবি, আকৃতি (Shape), চার্ট যোগ করা যায়।

    ৬. বানান ও ব্যাকরণ পরীক্ষা: ভুল বানানের নিচে লাল দাগ দিয়ে দেখায় এবং সঠিক বানান প্রস্তাব করে।

    ৭. খোঁজা ও প্রতিস্থাপন (Find & Replace): কোনো শব্দ খুঁজে বের করা এবং একসাথে বদলে দেওয়া যায়।

    ৮. মেইল মার্জ (Mail Merge): একই চিঠি অনেকের নাম-ঠিকানাসহ একসাথে তৈরি করা যায়।

    ৯. সংরক্ষণ ও খোলা: ফাইল সেভ করে রাখা এবং পরে খুলে আবার কাজ করা যায়।

    ১০. প্রিন্ট: প্রিন্টের আগে কেমন দেখাবে (Print Preview) দেখে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কপি প্রিন্ট করা যায়।

    উপসংহার: ওয়ার্ড প্রসেসর হাতে লেখা ও টাইপরাইটারের তুলনায় অনেক দ্রুত, নির্ভুল ও সুন্দরভাবে লেখার কাজ করার সুযোগ দেয়।

  2. ১.৫-র-২★★বই: পৃষ্ঠা ৭২

    ২.স্প্রেডশিট সফটওয়্যারের মৌলিক কার্যাবলি বর্ণনা কর।

    উত্তর

    স্প্রেডশিট সফটওয়্যার: সারি ও কলামে সাজানো সেলে ডেটা রেখে হিসাব, বিশ্লেষণ ও চার্ট তৈরির সফটওয়্যারকে স্প্রেডশিট সফটওয়্যার বলে। যেমন: MS Excel।

            A            B          C          D
       ┌──────────┬──────────┬──────────┬──────────┐
     1 │ নাম       │ বাংলা     │ ইংরেজি    │ মোট       │
       ├──────────┼──────────┼──────────┼──────────┤
     2 │ রহিম      │   75     │   80     │ =B2+C2   │ ← সূত্র
       ├──────────┼──────────┼──────────┼──────────┤
     3 │ করিম      │   68     │   72     │  140     │
       └──────────┴──────────┴──────────┴──────────┘
       সারি (Row) = 1, 2, 3   কলাম (Column) = A, B, C   সেল = B2
    

    স্প্রেডশিট সফটওয়্যারের মৌলিক কার্যাবলি:

    ১. ডেটা এন্ট্রি: সেলে সংখ্যা, লেখা, তারিখ ইত্যাদি সহজে লেখা যায়।

    ২. হিসাব-নিকাশ (Calculation): যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগসহ যেকোনো হিসাব করা যায়। যেমন: =B2+C2।

    ৩. সূত্র ও ফাংশন (Formula & Function): তৈরি করা ফাংশন দিয়ে জটিল হিসাব দ্রুত করা যায়। যেমন: =SUM(), =AVERAGE(), =MAX(), =MIN(), =IF()।

    ৪. স্বয়ংক্রিয় পুনঃহিসাব: কোনো সেলের মান বদলালে সংশ্লিষ্ট সব ফলাফল নিজে থেকেই বদলে যায়।

    ৫. চার্ট ও গ্রাফ তৈরি: ডেটা থেকে কলাম, বার, লাইন, পাই চার্ট তৈরি করে সহজে তুলনা করা যায়।

    ৬. ডেটা সাজানো (Sort): নাম অনুযায়ী বর্ণানুক্রমে বা নম্বর অনুযায়ী বড় থেকে ছোট সাজানো যায়।

    ৭. ফিল্টার (Filter): নির্দিষ্ট শর্তের ডেটা আলাদা করে দেখা যায় (যেমন শুধু A+ পাওয়া শিক্ষার্থী)।

    ৮. ফরম্যাটিং: সেলের রং, বর্ডার, সংখ্যার ধরন (টাকা, শতাংশ, তারিখ) বদলানো যায়।

    ৯. একাধিক ওয়ার্কশিট: একটি ফাইলে (ওয়ার্কবুক) অনেকগুলো শিট রেখে আলাদা আলাদা হিসাব করা যায়।

    ১০. প্রিন্ট ও সংরক্ষণ: হিসাবের টেবিল ও চার্ট সংরক্ষণ ও প্রিন্ট করা যায়।

    উপসংহার: স্প্রেডশিট সফটওয়্যার ব্যবসা, অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের কাজকে দ্রুত, নির্ভুল ও সহজ করেছে।

  3. ১.৫-র-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৭৩

    ৩.প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের মৌলিক কার্যাবলি বর্ণনা কর।

    উত্তর

    প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার: লেখা, ছবি, চার্ট, শব্দ ও অ্যানিমেশন দিয়ে স্লাইড তৈরি করে কোনো বিষয় দর্শকদের সামনে উপস্থাপনের সফটওয়্যারকে প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার বলে। যেমন: MS PowerPoint।

     ┌─────────┬─────────────────────────────────────┐
     │ স্লাইড ১ │                                     │
     │ ┌─────┐ │      কম্পিউটারের প্রজন্ম              │ ← শিরোনাম
     │ └─────┘ │                                     │
     │ স্লাইড ২ │   • প্রথম প্রজন্ম – ভ্যাকুয়াম টিউব      │ ← বুলেট লেখা
     │ ┌─────┐ │   • দ্বিতীয় প্রজন্ম – ট্রানজিস্টর       │
     │ └─────┘ │                      🖼 ছবি          │
     │ স্লাইড ৩ │                                     │
     └─────────┴─────────────────────────────────────┘
       স্লাইড তালিকা           মূল স্লাইড
    

    প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের মৌলিক কার্যাবলি:

    ১. স্লাইড তৈরি: নতুন স্লাইড যোগ করা, বিভিন্ন লেআউট (শিরোনাম, লেখা, ছবির জায়গা) বেছে নেওয়া যায়।

    ২. লেখা যোগ ও ফরম্যাট: শিরোনাম, বুলেট পয়েন্ট লেখা এবং ফন্ট, রং, আকার বদলানো যায়।

    ৩. ছবি ও মাল্টিমিডিয়া যোগ: ছবি, চার্ট, টেবিল, শব্দ (অডিও) ও ভিডিও যুক্ত করা যায়।

    ৪. ডিজাইন ও থিম: তৈরি করা থিম ও ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়ে সব স্লাইড সুন্দরভাবে সাজানো যায়।

    ৫. অ্যানিমেশন: স্লাইডের লেখা বা ছবিকে নড়াচড়া ও বিভিন্নভাবে আসার ইফেক্ট দেওয়া যায়।

    ৬. ট্রানজিশন: এক স্লাইড থেকে আরেক স্লাইডে যাওয়ার সময় বিশেষ ইফেক্ট দেওয়া যায়।

    ৭. স্লাইড শো: পুরো পর্দাজুড়ে প্রজেক্টরে স্লাইডগুলো একটির পর একটি দেখানো যায় (F5 চাপলে শুরু হয়)।

    ৮. স্পিকার নোট: উপস্থাপকের জন্য প্রতিটি স্লাইডের নিচে নোট রাখা যায়, যা দর্শক দেখেন না।

    ৯. সময় নির্ধারণ: প্রতিটি স্লাইড কতক্ষণ দেখাবে তা ঠিক করে স্বয়ংক্রিয় উপস্থাপনা করা যায়।

    ১০. প্রিন্ট ও শেয়ার: স্লাইড প্রিন্ট (হ্যান্ডআউট) করা, PDF বা ভিডিও হিসেবে সংরক্ষণ করা যায়।

    উপসংহার: প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার যেকোনো বিষয়কে সহজ, আকর্ষণীয় ও বোধগম্যভাবে উপস্থাপনের শক্তিশালী মাধ্যম।

  4. ১.৫-র-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৭৫

    ৪.প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের সুবিধাগুলো কী কী?

    উত্তর

    প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার: লেখা, ছবি, শব্দ ও অ্যানিমেশনসহ স্লাইড তৈরি করে কোনো বিষয় উপস্থাপনের সফটওয়্যার। যেমন: MS PowerPoint।

      বক্তা ──► 💻 PowerPoint ──► 📽 প্রজেক্টর ──► 🖼 বড় পর্দা ──► 👥 দর্শক
    

    প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের সুবিধা:

    1. আকর্ষণীয় উপস্থাপনা: ছবি, রং, অ্যানিমেশন ও ভিডিও থাকায় দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখা যায়।
    2. সহজে বোঝানো: জটিল বিষয় চার্ট, চিত্র ও বুলেট পয়েন্টে ভেঙে সহজে বোঝানো যায়।
    3. সময় সাশ্রয়: বোর্ডে বারবার লেখার দরকার হয় না; একবার তৈরি করে বারবার ব্যবহার করা যায়।
    4. মাল্টিমিডিয়া সুবিধা: একসাথে লেখা, ছবি, শব্দ ও ভিডিও দেখানো যায়।
    5. সহজে সম্পাদনা: যেকোনো সময় স্লাইড যোগ, বাদ বা পরিবর্তন করা যায়।
    6. বক্তার সহায়ক: স্পিকার নোট দেখে বক্তা গুছিয়ে কথা বলতে পারেন।
    7. বড় দর্শকের সামনে উপস্থাপন: প্রজেক্টরে বড় পর্দায় অনেক মানুষকে একসাথে দেখানো যায়।
    8. শেয়ার ও প্রিন্ট: ফাইল, PDF বা ভিডিও আকারে শেয়ার এবং হ্যান্ডআউট প্রিন্ট করা যায়।
    9. ব্যবহার সহজ: তৈরি থিম ও টেমপ্লেট থাকায় নতুনরাও সহজে সুন্দর প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারেন।
    10. বহুমুখী ব্যবহার: ক্লাস, সভা, সেমিনার, ব্যবসায়িক মিটিং, পণ্যের প্রচারে ব্যবহার করা যায়।
  5. ১.৫-র-৯★★বই: পৃষ্ঠা ৭৬

    ৫.প্যাকেজ সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর।

    উত্তর

    প্যাকেজ সফটওয়্যার: নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা সফটওয়্যারকে প্যাকেজ সফটওয়্যার বলে। যেমন: MS Office (Word, Excel, PowerPoint, Access)।

                MS Office (একটি প্যাকেজ)
                           │
       ┌──────────┬────────┼─────────┬──────────┐
      Word      Excel   PowerPoint  Access    Outlook
     (লেখা)     (হিসাব)  (প্রেজেন্টেশন) (ডেটাবেজ)  (ই-মেইল)
    

    প্যাকেজ সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য:

    1. সবার জন্য তৈরি: অনেক ব্যবহারকারীর সাধারণ প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি হয়।
    2. বাজারে সহজলভ্য: দোকানে বা অনলাইনে কিনতে পাওয়া যায়।
    3. তৈরি অবস্থায় পাওয়া যায়: ইনস্টল করেই সাথে সাথে ব্যবহার করা যায়।
    4. প্রোগ্রামিং জ্ঞান লাগে না: সাধারণ ব্যবহারকারীও সহজে চালাতে পারেন।
    5. ব্যবহারবান্ধব: মেনু, আইকন ও সাহায্য (Help) থাকায় ব্যবহার সহজ।
    6. নির্দিষ্ট কাজভিত্তিক: প্রতিটি সফটওয়্যার নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য (লেখা, হিসাব, ছবি)।
    7. কম খরচ: অনেকে কেনেন বলে প্রতি ব্যবহারকারীর খরচ কম।
    8. নিয়মিত হালনাগাদ: প্রস্তুতকারক নতুন সংস্করণ ও আপডেট দেয়।
    9. লাইসেন্স: বৈধভাবে ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স কিনতে হয়।
    10. পরিবর্তন সীমিত: মূল প্রোগ্রাম ব্যবহারকারী পরিবর্তন করতে পারেন না।

অধ্যায় ১.৬: কম্পিউটার পেরিফেরালস

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১২টি)

  1. ১.৬-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৭৮

    ১.Scanner-এর কাজ কী? [বিএমটি-২০২৪]

    • অথবা, স্ক্যানারের ব্যবহার লেখ। [বিএমটি-২০০৯]
    • অথবা, স্ক্যানারের কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১২, ২০১৩, ২০১৪]
    • অথবা, স্ক্যানারের কাজ বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০১৬, ২০২৩, ২৫]

    উত্তর

    স্ক্যানার হলো একটি ইনপুট ডিভাইস, যা কাগজে থাকা ছবি বা লেখাকে ডিজিটাল ছবিতে রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠায়।

    স্ক্যানারের কাজ ও ব্যবহার:

    1. ছবি ডিজিটাল করা: কাগজের ছবি, আঁকা নকশা স্ক্যান করে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা।
    2. দলিল সংরক্ষণ: সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র, দলিল স্ক্যান করে PDF বা ছবি আকারে রাখা।
    3. লেখা রূপান্তর (OCR): OCR সফটওয়্যারের সাহায্যে ছাপা লেখাকে সম্পাদনাযোগ্য টেক্সটে রূপান্তর করা।
    4. অনলাইনে পাঠানো: স্ক্যান করা কাগজ ই-মেইল বা অনলাইন আবেদনে সংযুক্ত করা।
    5. পেপারলেস অফিস: অফিসের ফাইল স্ক্যান করে কাগজের ব্যবহার কমানো।
    6. প্রকাশনা ও ডিজাইন: বই, পত্রিকা ও বিজ্ঞাপনের জন্য ছবি সংগ্রহ।
    7. বারকোড পড়া: দোকানে বারকোড স্ক্যানার দিয়ে পণ্যের দাম বের করা।
  2. ১.৬-সং-৩★★বই: পৃষ্ঠা ৭৮

    ২.পূর্ণনাম লেখ : CPU, OMR, MICR, LED, ROM, OCR [বিএমটি-২০২৩, ২৪, ২৫]

    উত্তর

    সংক্ষিপ্ত রূপপূর্ণনাম
    CPUCentral Processing Unit
    OMROptical Mark Reader (Recognition)
    MICRMagnetic Ink Character Reader (Recognition)
    LEDLight Emitting Diode
    ROMRead Only Memory
    OCROptical Character Reader (Recognition)
  3. ১.৬-সং-৪★★বই: পৃষ্ঠা ৭৮

    ৩.OCR-এর পূর্ণনাম লেখ।

    • অথবা, OCR কী? [বিএমটি-২০১৫, ২৫]
    • অথবা, OCR কী? সংক্ষেপে লেখ।
    • অথবা, OCR বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২২]

    উত্তর

    OCR-এর পূর্ণনাম Optical Character Reader (বা Optical Character Recognition)।

    যে ইনপুট ডিভাইস বা প্রযুক্তি আলোর সাহায্যে ছাপা বা হাতে লেখা অক্ষর পড়ে সেগুলোকে কম্পিউটারের সম্পাদনাযোগ্য লেখায় (টেক্সটে) রূপান্তর করে, তাকে OCR বলে।

    সাধারণ স্ক্যানার কাগজকে শুধু ছবি হিসেবে নেয়, কিন্তু OCR প্রতিটি অক্ষর চিনে নেয়। ফলে আবার টাইপ না করেই বইয়ের পাতা বা চিঠির লেখা MS Word-এ এডিট করা যায়।

     📄 ছাপা কাগজ ──► স্ক্যানার + OCR ──► 📝 এডিটযোগ্য লেখা (Word)
    

    ব্যবহার: বই ও দলিল ডিজিটাল করা, পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র পড়া, ডাকঘরে ঠিকানা পড়া।

  4. ১.৬-সং-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৭৮

    ৪.OMR কী?

    • অথবা, OMR কী? সংক্ষেপে লেখ। [বিএমটি-২০১৬]
    • অথবা, OMR বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২২]

    উত্তর

    OMR-এর পূর্ণনাম Optical Mark Reader (বা Optical Mark Recognition)।

    যে ইনপুট ডিভাইস আলোর প্রতিফলনের সাহায্যে কাগজের নির্দিষ্ট স্থানে পেনসিল বা কলম দিয়ে দেওয়া দাগ (মার্ক) বা ভরাট বৃত্ত শনাক্ত করে কম্পিউটারে তথ্য পাঠায়, তাকে OMR বলে।

    দাগ দেওয়া জায়গা থেকে আলো কম প্রতিফলিত হয়, আর OMR তা থেকেই বুঝে নেয় কোন বৃত্ত ভরাট। এতে হাজার হাজার খাতা খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দেখা যায়।

      প্রশ্ন ১:  (ক) (●) (গ) (ঘ)     ← ভরাট বৃত্ত
      প্রশ্ন ২:  (●) (খ) (গ) (ঘ)
            OMR শিট ──► OMR মেশিন ──► কম্পিউটারে ফলাফল
    

    ব্যবহার: পাবলিক পরীক্ষার MCQ উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষা, জরিপ ও ভোট গণনা।

  5. ১.৬-সং-৯★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ৫.লাইট পেন কী?

    • অথবা, লাইট পেন কী? সংক্ষেপে লেখ। [বিএমটি-২০১০; কমার্স-২০১০]

    উত্তর

    লাইট পেন (Light Pen) হলো কলমের মতো দেখতে একটি আলোক সংবেদনশীল ইনপুট ডিভাইস, যা দিয়ে সরাসরি মনিটরের পর্দায় স্পর্শ করে কোনো কিছু নির্বাচন করা, আঁকা বা লেখা যায়।

    এর মাথায় একটি আলোক সংবেদী কোষ (ফটোসেল) থাকে, যা পর্দার আলো শনাক্ত করে কলমের অবস্থান কম্পিউটারকে জানিয়ে দেয়। একটি তারের মাধ্যমে এটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে।

    ব্যবহার: পর্দায় ছবি আঁকা, নকশা তৈরি (CAD), মেনু থেকে কিছু বাছাই করা।

  6. ১.৬-সং-১০★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ৬.কম্পিউটার পেরিফেরালস বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কম্পিউটারের মূল অংশের (সিপিইউ ও প্রধান মেমরি) বাইরে থেকে যুক্ত হয়ে যেসব যন্ত্র ডেটা ইনপুট, আউটপুট বা সংরক্ষণের কাজ করে, সেগুলোকে কম্পিউটার পেরিফেরালস (Peripherals) বা পেরিফেরাল ডিভাইস বলে।

    "Peripheral" শব্দের অর্থ পরিধি বা চারপাশ। এগুলো কম্পিউটারের চারপাশে থেকে কাজ করে এবং ক্যাবল বা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

    উদাহরণ: কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার, স্ক্যানার, স্পিকার, ওয়েবক্যাম, পেন ড্রাইভ।

  7. ১.৬-সং-১১★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ৭.কম্পিউটার পেরিফেরালসের শ্রেণিবিভাগ লেখ।

    উত্তর

    কাজের ধরন অনুযায়ী কম্পিউটার পেরিফেরালসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

    1. ইনপুট ডিভাইস: কম্পিউটারে ডেটা ও নির্দেশ দেয়। যেমন: কী-বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার।
    2. আউটপুট ডিভাইস: কম্পিউটারের ফলাফল প্রকাশ করে। যেমন: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার।
    3. ইনপুট-আউটপুট ও স্টোরেজ ডিভাইস: দুই ধরনের কাজ করে বা তথ্য সংরক্ষণ করে। যেমন: টাচস্ক্রিন, মডেম, পেন ড্রাইভ।
                             কম্পিউটার পেরিফেরালস
                                      │
           ┌──────────────────────────┼──────────────────────────┐
      ইনপুট ডিভাইস               আউটপুট ডিভাইস            ইনপুট-আউটপুট ও স্টোরেজ
           │                          │                          │
     • কী-বোর্ড, মাউস           • মনিটর                    • টাচস্ক্রিন
     • স্ক্যানার               • প্রিন্টার                  • মডেম
     • মাইক্রোফোন              • প্লটার                    • হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ
     • ওয়েবক্যাম, ডিজিটাল ক্যামেরা • স্পিকার, হেডফোন            • ডিভিডি রাইটার
     • OMR, OCR, MICR          • প্রজেক্টর
     • লাইট পেন, ডিজিটাইজার
     • জয়স্টিক, বারকোড রিডার
    
  8. ১.৬-সং-১২★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ৮.মনিটর কী?

    উত্তর

    মনিটর (Monitor) হলো কম্পিউটারের প্রধান আউটপুট ডিভাইস, যা কম্পিউটারের প্রক্রিয়াজাত ফলাফল, লেখা, ছবি ও ভিডিও পর্দায় প্রদর্শন করে। একে ভিজুয়াল ডিসপ্লে ইউনিট (VDU)-ও বলে।

    মনিটর দেখতে টেলিভিশনের মতো, তবে কম্পিউটারের গ্রাফিক্স কার্ডের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে। মনিটরে দেখানো আউটপুটকে সফট কপি বলে।

    প্রকারভেদ:

    • CRT মনিটর: পুরনো, ভারী ও বড় আকারের (ক্যাথোড রে টিউব)।
    • LCD মনিটর: পাতলা, হালকা (লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে)।
    • LED মনিটর: আরও উজ্জ্বল ও কম বিদ্যুৎ খরচ (লাইট এমিটিং ডায়োড)।

    মান নির্ধারণকারী বিষয়: পর্দার আকার (ইঞ্চিতে, যেমন ১৯″, ২২″) এবং রেজোলিউশন (যেমন 1920×1080)।

  9. ১.৬-সং-১৫★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ৯.MICR কী?

    • অথবা, ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টার রিডারের বর্ণনা দাও।
    • অথবা, MICR কী? বর্ণনা দাও।

    উত্তর

    MICR-এর পূর্ণনাম Magnetic Ink Character Reader (বা Recognition)।

    চৌম্বকীয় কালিতে (Magnetic Ink) ছাপা বিশেষ অক্ষর ও সংখ্যা পড়ে কম্পিউটারে পাঠানোর ইনপুট ডিভাইসকে ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টার রিডার (MICR) বলে।

    ব্যাংকের চেকের নিচের অংশে চেক নম্বর, ব্যাংকের কোড ও হিসাব নম্বর চৌম্বকীয় কালিতে ছাপা থাকে। MICR মেশিন সেগুলো দ্রুত পড়ে নেয়। এই অক্ষর জাল করা কঠিন, আর ময়লা বা দাগ পড়লেও পড়া যায়।

     ┌───────────────────────────────────────────┐
     │  ABC ব্যাংক        টাকা: ________          │
     │  স্বাক্ষর: ________                        │
     │ ⑈001234⑈ ⑆123456789⑆ 0012345678⑈  ← MICR লাইন │
     └───────────────────────────────────────────┘
                  চিত্র: ব্যাংক চেক
    

    ব্যবহার: ব্যাংকে চেক দ্রুত যাচাই ও নিষ্পত্তি (ক্লিয়ারিং) করা।

  10. ১.৬-সং-১৬★★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ১০.প্রিন্টারের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

    উত্তর

    প্রিন্টার হলো একটি আউটপুট ডিভাইস, যা কম্পিউটারের লেখা ও ছবি কাগজে ছাপে। কাগজে ছাপা আউটপুটকে হার্ড কপি বলে।

    প্রিন্টারের প্রধান বৈশিষ্ট্য:

    1. ছাপার গতি: প্রতি মিনিটে কত পৃষ্ঠা ছাপে (PPM – Pages Per Minute) বা প্রতি সেকেন্ডে কত অক্ষর ছাপে (CPS)।
    2. ছাপার মান (রেজোলিউশন): প্রতি ইঞ্চিতে কত বিন্দু (DPI – Dots Per Inch); DPI যত বেশি, ছাপা তত পরিষ্কার।
    3. রং: সাদা-কালো (মনোক্রোম) বা রঙিন ছাপা।
    4. ছাপার পদ্ধতি: ইম্প্যাক্ট (আঘাত করে) বা নন-ইম্প্যাক্ট (আঘাত ছাড়া)।
    5. কাগজের আকার: A4, Legal, Letter ইত্যাদি কোন আকারের কাগজে ছাপতে পারে।
    6. সংযোগ: USB, Wi-Fi বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়।
    7. খরচ: কালি বা টোনারের দাম ও প্রতি পৃষ্ঠার ছাপার খরচ।
    8. মেমরি (বাফার): ছাপার কাজ জমা রাখার নিজস্ব মেমরি থাকে।
                                  প্রিন্টার
                                      │
                  ┌───────────────────┴───────────────────┐
         ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার                       নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার
       (কাগজে আঘাত করে ছাপে)                    (আঘাত ছাড়া ছাপে)
                  │                                       │
         ┌────────┼────────┐                  ┌────────────┼────────────┐
      ডট ম্যাট্রিক্স ডেইজি হুইল  লাইন          ইঙ্কজেট      লেজার        থার্মাল
       প্রিন্টার    প্রিন্টার   প্রিন্টার        প্রিন্টার     প্রিন্টার      প্রিন্টার
    
  11. ১.৬-সং-১৭★★বই: পৃষ্ঠা ৮০

    ১১.ইঙ্কজেট প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ কী কী?

    উত্তর

    ইঙ্কজেট প্রিন্টার: যে প্রিন্টার খুব সূক্ষ্ম নজল দিয়ে তরল কালির ক্ষুদ্র ফোঁটা কাগজে ছিটিয়ে লেখা ও ছবি ছাপে, তাকে ইঙ্কজেট প্রিন্টার বলে।

    সুবিধাঅসুবিধা
    ১. রঙিন ছবি খুব সুন্দর ও উজ্জ্বল ছাপে১. কালির কার্টিজের দাম বেশি; প্রতি পৃষ্ঠার খরচ বেশি
    ২. প্রিন্টারের দাম তুলনামূলক কম২. লেজার প্রিন্টারের চেয়ে ছাপার গতি কম
    ৩. কাজের সময় শব্দ প্রায় হয় না৩. ছাপা কাগজ ভিজলে কালি ছড়িয়ে যেতে পারে
    ৪. আকারে ছোট ও হালকা৪. দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে নজলে কালি শুকিয়ে আটকে যায়
    ৫. ছবি ও ফটো ছাপার জন্য উপযোগী৫. বেশি পরিমাণ ছাপার জন্য উপযোগী নয়
    ৬. বাসা ও ছোট অফিসের জন্য উপযুক্ত৬. কালি শুকাতে একটু সময় লাগে
  12. ১.৬-সং-১৮★★বই: পৃষ্ঠা ৮১

    ১২.লেজার প্রিন্টারের বৈশিষ্ট্য কী কী?

    উত্তর

    লেজার প্রিন্টার: যে প্রিন্টার লেজার রশ্মি ও টোনার (শুকনো কালির গুঁড়া) ব্যবহার করে ফটোকপি মেশিনের মতো পদ্ধতিতে কাগজে ছাপে, তাকে লেজার প্রিন্টার বলে।

    লেজার প্রিন্টারের বৈশিষ্ট্য:

    1. এটি একটি নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার; কাগজে আঘাত ছাড়াই ছাপে।
    2. খুব দ্রুতগতির; প্রতি মিনিটে অনেক পৃষ্ঠা (২০–১০০+ PPM) ছাপতে পারে।
    3. ছাপার মান খুব উঁচু ও লেখা পরিষ্কার, ধারালো (৬০০–১২০০+ DPI)।
    4. পৃষ্ঠা প্রিন্টার; একবারে পুরো পৃষ্ঠা ছাপে।
    5. কাজের সময় শব্দ খুব কম হয়।
    6. টোনার ব্যবহার করে; ছাপা লেখা পানিতে সহজে নষ্ট হয় না।
    7. প্রতি পৃষ্ঠার খরচ কম, তাই বেশি পরিমাণ ছাপার জন্য উপযোগী।
    8. প্রিন্টারের দাম তুলনামূলক বেশি; সাদা-কালো ও রঙিন দুই ধরনেরই পাওয়া যায়।
     লেজার রশ্মি ──► ড্রামে লেখার চার্জ ──► টোনার লাগে ──► কাগজে স্থানান্তর ──► তাপে স্থায়ী
    

রচনামূলক প্রশ্ন (৪টি)

  1. ১.৬-র-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৮১

    ১.কম্পিউটার পেরিফেরালসের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।

    • অথবা, ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস বলতে কী বুঝায়? উদাহরণসহ লেখ। [বিএমটি-২০২৩, ২৫]

    উত্তর

    কম্পিউটার পেরিফেরালস: কম্পিউটারের মূল অংশের বাইরে থেকে যুক্ত হয়ে যেসব যন্ত্র ডেটা ইনপুট, আউটপুট বা সংরক্ষণের কাজ করে, সেগুলোকে পেরিফেরালস বলে।

                             কম্পিউটার পেরিফেরালস
                                      │
           ┌──────────────────────────┼──────────────────────────┐
      ইনপুট ডিভাইস               আউটপুট ডিভাইস            ইনপুট-আউটপুট ও স্টোরেজ
           │                          │                          │
     • কী-বোর্ড, মাউস           • মনিটর                    • টাচস্ক্রিন
     • স্ক্যানার               • প্রিন্টার                  • মডেম
     • মাইক্রোফোন              • প্লটার                    • হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ
     • ওয়েবক্যাম, ডিজিটাল ক্যামেরা • স্পিকার, হেডফোন            • ডিভিডি রাইটার
     • OMR, OCR, MICR          • প্রজেক্টর
     • লাইট পেন, ডিজিটাইজার
     • জয়স্টিক, বারকোড রিডার
    

    ১. ইনপুট ডিভাইস (Input Device)

    যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পিউটারে ডেটা ও নির্দেশ প্রবেশ করানো হয়, সেগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বা গ্রহণমুখী যন্ত্র বলে। এগুলো মানুষের দেওয়া তথ্যকে কম্পিউটারের বোধগম্য সংকেতে রূপান্তর করে।

    ইনপুট ডিভাইসকাজ
    কী-বোর্ডঅক্ষর, সংখ্যা ও নির্দেশ টাইপ করা
    মাউসপর্দায় পয়েন্টার নাড়ানো ও ক্লিক করা
    স্ক্যানারকাগজের লেখা ও ছবি কম্পিউটারে নেওয়া
    মাইক্রোফোনশব্দ বা কণ্ঠস্বর ইনপুট
    ওয়েবক্যাম/ডিজিটাল ক্যামেরাছবি ও ভিডিও ইনপুট
    OMR, OCR, MICRদাগ, অক্ষর ও চেকের লেখা পড়া
    জয়স্টিকগেম খেলা
    বারকোড রিডারপণ্যের বারকোড পড়া

    ২. আউটপুট ডিভাইস (Output Device)

    যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রক্রিয়াজাত ফলাফল ব্যবহারকারীর কাছে প্রকাশ করে, সেগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বা নির্গমনমুখী যন্ত্র বলে।

    আউটপুট ডিভাইসকাজ
    মনিটরপর্দায় লেখা ও ছবি দেখানো (সফট কপি)
    প্রিন্টারকাগজে ছাপা (হার্ড কপি)
    প্লটারবড় নকশা ও মানচিত্র ছাপা
    স্পিকার/হেডফোনশব্দ শোনানো
    প্রজেক্টরবড় পর্দায় দেখানো

    ৩. ইনপুট-আউটপুট ও স্টোরেজ ডিভাইস

    কিছু যন্ত্র ইনপুট ও আউটপুট দুটোই করে, আবার কিছু যন্ত্র তথ্য সংরক্ষণ করে।

    • টাচস্ক্রিন: স্পর্শে ইনপুট নেয়, আবার পর্দায় দেখায়।
    • মডেম: ইন্টারনেটে ডেটা পাঠায় ও গ্রহণ করে।
    • হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ, ডিভিডি রাইটার: তথ্য লেখা ও পড়া দুটোই করে।
      ইনপুট ডিভাইস ──► [ সিপিইউ ও মেমরি ] ──► আউটপুট ডিভাইস
      (কী-বোর্ড, মাউস)     (প্রক্রিয়াকরণ)       (মনিটর, প্রিন্টার)
    

    উপসংহার: ইনপুট ডিভাইস দিয়ে তথ্য দেওয়া, আর আউটপুট ডিভাইস দিয়ে ফল পাওয়া; এদের ছাড়া কম্পিউটারের সাথে মানুষের যোগাযোগ সম্ভব নয়।

  2. ১.৬-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৮১

    ২.ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার ও নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টারের তুলনামূলক ব্যবহারিক সুবিধা-অসুবিধাসমূহ বর্ণনা কর। [বিএমটি-১৩, ১৭, ১৮, ২২, ২৩]

    উত্তর

    ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার: যে প্রিন্টার কালির ফিতার (রিবন) ওপর হাতুড়ি বা পিন দিয়ে আঘাত করে কাগজে ছাপে, তাকে ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার বলে। যেমন: ডট ম্যাট্রিক্স, ডেইজি হুইল, লাইন প্রিন্টার।

    নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার: যে প্রিন্টার কাগজে কোনো আঘাত ছাড়াই কালি ছিটিয়ে, লেজার বা তাপের মাধ্যমে ছাপে, তাকে নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার বলে। যেমন: ইঙ্কজেট, লেজার, থার্মাল প্রিন্টার।

                                  প্রিন্টার
                                      │
                  ┌───────────────────┴───────────────────┐
         ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার                       নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার
       (কাগজে আঘাত করে ছাপে)                    (আঘাত ছাড়া ছাপে)
                  │                                       │
         ┌────────┼────────┐                  ┌────────────┼────────────┐
      ডট ম্যাট্রিক্স ডেইজি হুইল  লাইন          ইঙ্কজেট      লেজার        থার্মাল
       প্রিন্টার    প্রিন্টার   প্রিন্টার        প্রিন্টার     প্রিন্টার      প্রিন্টার
    

    ইম্প্যাক্ট প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা

    সুবিধাঅসুবিধা
    ১. কার্বন কাগজ দিয়ে একসাথে একাধিক কপি ছাপা যায়১. কাজের সময় অনেক শব্দ হয়
    ২. ছাপার খরচ (রিবন) খুব কম২. ছাপার মান কম, লেখা অত পরিষ্কার নয়
    ৩. ধারাবাহিক (Continuous) কাগজে ছাপা যায়৩. গতি কম
    ৪. টেকসই ও দীর্ঘদিন চলে৪. ভালো মানের ছবি বা রঙিন ছাপা যায় না

    নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা

    সুবিধাঅসুবিধা
    ১. শব্দ প্রায় হয় না১. একসাথে কার্বন কপি ছাপা যায় না
    ২. ছাপার মান খুব উঁচু ও পরিষ্কার২. কালি বা টোনারের দাম বেশি
    ৩. দ্রুতগতিতে ছাপে৩. প্রিন্টারের দাম তুলনামূলক বেশি
    ৪. রঙিন ছবি ও গ্রাফিক্স সুন্দর ছাপে৪. বিশেষ মানের কাগজ লাগতে পারে

    তুলনামূলক ব্যবহারিক পার্থক্য

    বিষয়ইম্প্যাক্ট প্রিন্টারনন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার
    ছাপার পদ্ধতিআঘাত করেআঘাত ছাড়া
    শব্দবেশিখুব কম
    গতিকমবেশি
    মাননিম্নউচ্চ
    কার্বন কপিসম্ভবসম্ভব নয়
    প্রতি পৃষ্ঠার খরচকমতুলনামূলক বেশি (ইঙ্কজেট), কম (লেজার)
    ব্যবহারের ক্ষেত্রব্যাংকের স্লিপ, বিল, ইনভয়েস, রসিদঅফিসের চিঠি, রিপোর্ট, ছবি, প্রকাশনা

    উপসংহার: যেখানে কার্বন কপি ও কম খরচ দরকার সেখানে ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার, আর যেখানে মান ও গতি দরকার সেখানে নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার বেশি উপযোগী।

  3. ১.৬-র-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৮৩

    ৩.বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টারের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

    উত্তর

    প্রিন্টার: কম্পিউটারের লেখা ও ছবি কাগজে ছাপার আউটপুট ডিভাইস। ছাপার পদ্ধতি অনুযায়ী প্রিন্টার দুই প্রকার: ইম্প্যাক্ট ও নন-ইম্প্যাক্ট।

                                  প্রিন্টার
                                      │
                  ┌───────────────────┴───────────────────┐
         ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার                       নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার
       (কাগজে আঘাত করে ছাপে)                    (আঘাত ছাড়া ছাপে)
                  │                                       │
         ┌────────┼────────┐                  ┌────────────┼────────────┐
      ডট ম্যাট্রিক্স ডেইজি হুইল  লাইন          ইঙ্কজেট      লেজার        থার্মাল
       প্রিন্টার    প্রিন্টার   প্রিন্টার        প্রিন্টার     প্রিন্টার      প্রিন্টার
    

    ক. ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার

    ১. ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার:

    • প্রিন্ট হেডের ছোট ছোট পিন কালির ফিতায় আঘাত করে বিন্দু (ডট) দিয়ে অক্ষর তৈরি করে।
    • শব্দ বেশি, মান কম, তবে খরচ খুব কম।
    • কার্বন কাগজে একসাথে কয়েকটি কপি ছাপা যায়; ব্যাংক ও দোকানের রসিদে ব্যবহৃত।

    ২. ডেইজি হুইল প্রিন্টার:

    • ফুলের পাপড়ির মতো চাকার প্রতিটি পাপড়িতে একটি অক্ষর থাকে; হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ছাপে।
    • লেখা টাইপরাইটারের মতো পরিষ্কার, কিন্তু গতি খুব কম ও ছবি ছাপতে পারে না।

    ৩. লাইন প্রিন্টার:

    • একবারে পুরো একটি লাইন ছাপে; খুব দ্রুতগতির।
    • বড় প্রতিষ্ঠানে প্রচুর রিপোর্ট ছাপার কাজে ব্যবহৃত।

    খ. নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার

    ৪. ইঙ্কজেট প্রিন্টার:

    • সূক্ষ্ম নজল দিয়ে তরল কালির ফোঁটা ছিটিয়ে ছাপে।
    • রঙিন ছবি সুন্দর ছাপে; প্রিন্টারের দাম কম, কিন্তু কালির খরচ বেশি।
    • বাসা ও ছোট অফিসে ব্যবহৃত।

    ৫. লেজার প্রিন্টার:

    • লেজার রশ্মি ও টোনার দিয়ে ফটোকপির মতো পদ্ধতিতে পুরো পৃষ্ঠা একবারে ছাপে।
    • খুব দ্রুত, উচ্চমানের ও নিঃশব্দ; প্রতি পৃষ্ঠার খরচ কম।
    • অফিসে বেশি পরিমাণ ছাপার কাজে ব্যবহৃত।

    ৬. থার্মাল প্রিন্টার:

    • তাপ সংবেদনশীল কাগজে তাপ দিয়ে ছাপে; কালি লাগে না।
    • ছোট, দ্রুত ও নিঃশব্দ; সুপারশপের বিল, ATM-এর স্লিপ ও টিকিটে ব্যবহৃত।
    প্রিন্টারধরনগতিমানশব্দব্যবহার
    ডট ম্যাট্রিক্সইম্প্যাক্টকমনিম্নবেশিরসিদ, বিল
    ডেইজি হুইলইম্প্যাক্টখুব কমভালো (শুধু লেখা)বেশিচিঠি (পুরনো)
    লাইনইম্প্যাক্টখুব বেশিনিম্নবেশিবড় রিপোর্ট
    ইঙ্কজেটনন-ইম্প্যাক্টমাঝারিউচ্চ (রঙিন)কমছবি, বাসা
    লেজারনন-ইম্প্যাক্টবেশিখুব উচ্চখুব কমঅফিস
    থার্মালনন-ইম্প্যাক্টবেশিমাঝারিখুব কমবিল, টিকিট
  4. ১.৬-র-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৪

    ৪.ডট প্রিন্টার ও লেজার প্রিন্টার-এর তুলনামূলক ব্যবহারিক সুবিধা-অসুবিধা বর্ণনা কর।

    উত্তর

    ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার: একটি ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার, যার প্রিন্ট হেডের ছোট ছোট পিন কালির ফিতায় আঘাত করে বিন্দু (ডট) দিয়ে অক্ষর ও ছবি তৈরি করে।

    লেজার প্রিন্টার: একটি নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার, যা লেজার রশ্মি ও টোনার ব্যবহার করে ফটোকপির মতো পদ্ধতিতে পুরো পৃষ্ঠা একবারে ছাপে।

     ডট ম্যাট্রিক্স:  পিন ──আঘাত──► রিবন ──► কাগজ      ● ● ●  (বিন্দু দিয়ে অক্ষর)
                                                      ●   ●
                                                      ● ● ●
     লেজার:         লেজার ──► ড্রাম ──► টোনার ──► কাগজ ──► তাপ (স্থায়ী)
    

    ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা

    সুবিধাঅসুবিধা
    প্রিন্টার ও রিবনের দাম খুব কমকাজের সময় অনেক শব্দ হয়
    কার্বন কাগজে একসাথে একাধিক কপি ছাপা যায়ছাপার মান কম
    ধারাবাহিক (Continuous) কাগজে ছাপা যায়গতি কম
    টেকসই, কঠিন পরিবেশেও চলেভালো ছবি ও রঙিন ছাপা যায় না

    লেজার প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা

    সুবিধাঅসুবিধা
    খুব দ্রুতগতিতে ছাপেপ্রিন্টারের দাম বেশি
    ছাপার মান খুব উঁচু ও পরিষ্কারএকসাথে কার্বন কপি ছাপা যায় না
    প্রায় নিঃশব্দে কাজ করেটোনার কার্টিজের দাম বেশি
    প্রতি পৃষ্ঠার খরচ কমরঙিন লেজার প্রিন্টার খুব দামি
    বেশি পরিমাণ ছাপার জন্য উপযোগীবেশি বিদ্যুৎ খরচ করে

    তুলনামূলক বিবরণ

    বিষয়ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারলেজার প্রিন্টার
    ১. ধরনইম্প্যাক্টনন-ইম্প্যাক্ট
    ২. ছাপার পদ্ধতিপিনের আঘাতে বিন্দু দিয়েলেজার ও টোনার দিয়ে
    ৩. ছাপার এককঅক্ষর অনুযায়ী (Character printer)পৃষ্ঠা অনুযায়ী (Page printer)
    ৪. গতিকম (CPS-এ মাপা হয়)বেশি (PPM-এ মাপা হয়)
    ৫. মাননিম্নখুব উচ্চ
    ৬. শব্দবেশিখুব কম
    ৭. কার্বন কপিসম্ভবসম্ভব নয়
    ৮. প্রিন্টারের দামকমবেশি
    ৯. ব্যবহারব্যাংকের স্লিপ, বিল, ইনভয়েসঅফিসের চিঠি, রিপোর্ট, প্রকাশনা

    উপসংহার: কম খরচে ও কার্বন কপির প্রয়োজনে ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার, আর দ্রুত ও মানসম্মত ছাপার জন্য লেজার প্রিন্টার বেশি উপযোগী।

অধ্যায় ২: টাইপিং অনুশীলন

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১৩টি)

  1. ২-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ১.হোম-কী বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    কী-বোর্ডের মাঝের সারির (Home Row) যে ৮টি কী-তে টাইপ শুরু করার আগে দুই হাতের আঙুল স্থির করে রাখা হয় এবং প্রতিটি কী টাইপের পর আঙুল আবার সেখানে ফিরে আসে, সেগুলোকে হোম-কী (Home Keys) বলে।

    • বাম হাতের হোম-কী: A, S, D, F
    • ডান হাতের হোম-কী: J, K, L, ;

    F ও J কী-তে ছোট উঁচু দাগ থাকে, ফলে কী-বোর্ডের দিকে না তাকিয়েও আঙুল সঠিক জায়গায় বসানো যায়। হোম-কী থেকে টাইপ করলে দ্রুত ও নির্ভুল টাইপ করা সম্ভব হয়।

     ┌───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┐
     │ Q │ W │ E │ R │ T │ Y │ U │ I │ O │ P │ [ │   ← উপরের সারি
     └┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┘
      │ A │ S │ D │ F̲ │ G │ H │ J̲ │ K │ L │ ; │      ← হোম সারি (মাঝের সারি)
      └─▲─┴─▲─┴─▲─┴─▲─┴───┴───┴─▲─┴─▲─┴─▲─┴─▲─┘
       কনিষ্ঠা অনামিকা মধ্যমা তর্জনী      তর্জনী মধ্যমা অনামিকা কনিষ্ঠা
       └──────── বাম হাত ────────┘      └──────── ডান হাত ────────┘
              দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি থাকবে স্পেসবারের ওপর
       (F ও J কী-তে ছোট উঁচু দাগ থাকে, চোখ না দেখেও আঙুল বসানো যায়)
    
  2. ২-সং-২★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ২.হোম-কীসমূহ কী কী?

    উত্তর

    কী-বোর্ডের মাঝের সারির ৮টি কী হলো হোম-কী:

    হাতআঙুলহোম-কী
    বাম হাতকনিষ্ঠা (ছোট আঙুল)A
    বাম হাতঅনামিকাS
    বাম হাতমধ্যমাD
    বাম হাততর্জনীF
    ডান হাততর্জনীJ
    ডান হাতমধ্যমাK
    ডান হাতঅনামিকাL
    ডান হাতকনিষ্ঠা (ছোট আঙুল); (সেমিকোলন)

    দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি থাকে স্পেসবারের ওপর।

  3. ২-সং-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ৩.CPS কী?

    উত্তর

    CPS-এর পূর্ণরূপ Characters Per Second, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে টাইপ করা অক্ষরের সংখ্যা।

    একজন টাইপিস্ট এক সেকেন্ডে কতগুলো অক্ষর (বর্ণ, সংখ্যা, চিহ্ন ও স্পেসসহ) টাইপ করতে পারেন, তা দিয়ে টাইপিংয়ের গতি মাপা হয়। একইভাবে প্রতি মিনিটে টাইপ করা অক্ষরের সংখ্যাকে CPM (Characters Per Minute) বলে। (প্রিন্টারের গতিও CPS-এ মাপা হয়।)

    সূত্র: CPS = মোট টাইপ করা অক্ষর ÷ সময় (সেকেন্ডে)

    উদাহরণ: ১ মিনিটে (৬০ সেকেন্ডে) ৩০০টি অক্ষর টাইপ করলে, CPS = ৩০০ ÷ ৬০ = ৫, আর CPM = ৩০০।

  4. ২-সং-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ৪.WPM কী?

    উত্তর

    WPM-এর পূর্ণরূপ Words Per Minute, অর্থাৎ প্রতি মিনিটে টাইপ করা শব্দের সংখ্যা। এটি টাইপিং গতি মাপার সবচেয়ে প্রচলিত একক।

    টাইপিংয়ের হিসাবে সাধারণত স্পেসসহ ৫টি অক্ষরকে ১টি শব্দ ধরা হয়।

    সূত্র: WPM = (মোট টাইপ করা অক্ষর ÷ ৫) ÷ সময় (মিনিটে)

    উদাহরণ: ২ মিনিটে ৪০০টি অক্ষর টাইপ করলে, WPM = (৪০০ ÷ ৫) ÷ ২ = ৮০ ÷ ২ = ৪০ WPM।

    💡 অফিস সহকারী পদে সাধারণত বাংলায় প্রতি মিনিটে ২০–২৫ এবং ইংরেজিতে ২৫–৩০ শব্দ টাইপের গতি চাওয়া হয়।

  5. ২-সং-৫★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ৫.বিভিন্ন ধরনের টাইপিং অনুশীলনের সফটওয়্যারের তালিকা তৈরি কর।

    উত্তর

    টাইপিং অনুশীলনের কয়েকটি সফটওয়্যারের তালিকা:

    ক্রমসফটওয়্যারধরনবিশেষত্ব
    ১Typing Masterঅফলাইনধাপে ধাপে শেখা ও গতি পরীক্ষা
    ২Rapid Typing Tutorঅফলাইন, বিনামূল্যেগেমের মতো অনুশীলন
    ৩Mavis Beacon Teaches Typingঅফলাইনপুরনো ও জনপ্রিয়
    ৪KeyBlazeঅফলাইনসহজ পাঠ
    ৫TIPP10অফলাইন/অনলাইন, বিনামূল্যেভুল অনুযায়ী অনুশীলন
    ৬typing.comঅনলাইনবিনামূল্যে পাঠ ও পরীক্ষা
    ৭10fastfingers.comঅনলাইনগতি পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতা
    ৮keybr.comঅনলাইনবুদ্ধিমান অনুশীলন
    ৯Bijoy Bayanno / Avroঅফলাইনবাংলা টাইপ শেখা
    ১০Ratatypeঅনলাইনসার্টিফিকেট পাওয়া যায়
  6. ২-সং-৬★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬

    ৬.Percentage of Error কী?

    উত্তর

    Percentage of Error বা ভুলের শতকরা হার হলো টাইপ করা মোট শব্দ বা অক্ষরের মধ্যে কত শতাংশ ভুল হয়েছে তার হিসাব।

    এটি দিয়ে বোঝা যায় টাইপিস্ট কতটা ভুল করছেন। এই হার যত কম, টাইপ তত ভালো।

    সূত্র: ভুলের শতকরা হার = (ভুল শব্দের সংখ্যা ÷ মোট টাইপ করা শব্দ) × ১০০

    উদাহরণ: মোট ২০০টি শব্দের মধ্যে ১০টি ভুল হলে, ভুলের হার = (১০ ÷ ২০০) × ১০০ = ৫%

  7. ২-সং-৭★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ৭.Accuracy কী?

    উত্তর

    Accuracy বা নির্ভুলতা হলো টাইপ করা মোট শব্দ বা অক্ষরের মধ্যে কত শতাংশ সঠিকভাবে টাইপ হয়েছে তার হিসাব।

    শুধু দ্রুত টাইপ করলেই হয় না, নির্ভুলভাবে টাইপ করাও জরুরি। ভালো টাইপিস্টের নির্ভুলতা সাধারণত ৯৫% বা তার বেশি হয়।

    সূত্র: Accuracy = (সঠিক শব্দের সংখ্যা ÷ মোট টাইপ করা শব্দ) × ১০০

    উদাহরণ: মোট ২০০টি শব্দের মধ্যে ১৯০টি সঠিক হলে, Accuracy = (১৯০ ÷ ২০০) × ১০০ = ৯৫%

    💡 Accuracy + ভুলের শতকরা হার = ১০০%

  8. ২-সং-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ৮.টাইপিং কাকে বলে?

    উত্তর

    কী-বোর্ডের কী চেপে কম্পিউটারে অক্ষর, সংখ্যা, চিহ্ন ও লেখা প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়াকে টাইপিং (Typing) বলে।

    আগে টাইপরাইটার যন্ত্রে টাইপ করা হতো, এখন কম্পিউটারের কী-বোর্ডে করা হয়। সঠিক নিয়মে, অর্থাৎ হোম-কী থেকে সব আঙুল ব্যবহার করে কী-বোর্ডের দিকে না তাকিয়ে টাইপ করাকে টাচ টাইপিং বলে। এতে দ্রুত ও নির্ভুল টাইপ করা যায়। অফিসের প্রায় সব কাজে টাইপিং দক্ষতা প্রয়োজন।

  9. ২-সং-৯★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ৯.টাইপিং-কী কাকে বলে?

    উত্তর

    কী-বোর্ডের যেসব কী চাপলে অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্ন লেখা হয়, অর্থাৎ যেগুলো সরাসরি টাইপের কাজে ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে টাইপিং-কী (Typing Keys) বা আলফানিউমেরিক কী বলে।

    এগুলো কী-বোর্ডের মাঝখানে টাইপরাইটারের মতো QWERTY লেআউটে সাজানো থাকে।

    টাইপিং-কীর অন্তর্ভুক্ত:

    • অক্ষর কী: A থেকে Z
    • সংখ্যা কী: 0 থেকে 9
    • চিহ্ন কী: , . ; ' / - = ইত্যাদি
    • স্পেসবার, ট্যাব, এন্টার, ব্যাকস্পেস
  10. ২-সং-১০★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১০.লেফট হ্যান্ড-কী কাকে বলে?

    উত্তর

    টাচ টাইপিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী কী-বোর্ডের যেসব কী বাম হাতের আঙুল দিয়ে টাইপ করা হয়, সেগুলোকে লেফট হ্যান্ড-কী (Left Hand Keys) বলে।

    কী-বোর্ডের বাম অর্ধেকের কীগুলো এর অন্তর্ভুক্ত। বাম হাতের হোম-কী A S D F।

    সারিলেফট হ্যান্ড-কী
    সংখ্যার সারি` 1 2 3 4 5
    উপরের সারিQ W E R T
    হোম সারিA S D F G
    নিচের সারিZ X C V B
  11. ২-সং-১১★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১১.রাইট হ্যান্ড-কী কাকে বলে?

    উত্তর

    টাচ টাইপিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী কী-বোর্ডের যেসব কী ডান হাতের আঙুল দিয়ে টাইপ করা হয়, সেগুলোকে রাইট হ্যান্ড-কী (Right Hand Keys) বলে।

    কী-বোর্ডের ডান অর্ধেকের কীগুলো এর অন্তর্ভুক্ত। ডান হাতের হোম-কী J K L ;।

    সারিরাইট হ্যান্ড-কী
    সংখ্যার সারি6 7 8 9 0 - =
    উপরের সারিY U I O P [ ]
    হোম সারিH J K L ; '
    নিচের সারিN M , . /

    এছাড়া Enter, Backspace ও ডান পাশের Shift কী ডান হাতের কনিষ্ঠা দিয়ে চাপা হয়।

  12. ২-সং-১২★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১২.ব্যবহারকারীর চোখের দূরত্ব হতে মনিটরের দূরত্ব কত হওয়া উচিত?

    উত্তর

    কম্পিউটার ব্যবহারের সময় চোখ থেকে মনিটরের দূরত্ব সাধারণত ২০ থেকে ৪০ ইঞ্চি (প্রায় ৫০–১০০ সেন্টিমিটার), অর্থাৎ প্রায় এক হাত (বাহুর দৈর্ঘ্য) দূরে হওয়া উচিত।

    এছাড়া:

    • মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান উচ্চতায় বা সামান্য নিচে থাকবে।
    • মনিটর চোখ থেকে ১০–২০ ডিগ্রি নিচের দিকে থাকলে ঘাড়ে চাপ কম পড়ে।
    • মনিটর ঠিক সামনে রাখতে হবে, বাঁকা করে নয়।
                👁 চোখ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ┐ মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা একটু নিচে
                │       ২০–৪০ ইঞ্চি      ┌┴───┐
               🙂 ◄─────────────────────►│ 🖥 │
               ┃ পিঠ সোজা                 └────┘
         চেয়ার ┃━━━━ কনুই ৯০° ━━ ⌨ কী-বোর্ড (কব্জি সোজা)
               ┃
               ┗━━━━┓ হাঁটু ৯০°
                    ┃
                👣 পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা
             চিত্র: কম্পিউটারে কাজের সঠিক ভঙ্গি
    
  13. ২-সং-১৩★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭

    ১৩.চোখের ঝুঁকি কী?

    উত্তর

    দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে কাজ করার ফলে চোখে যে সমস্যা বা ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়, তাকে চোখের ঝুঁকি বলে। একে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম (CVS) বা ডিজিটাল আই স্ট্রেইন-ও বলে।

    চোখের ঝুঁকির লক্ষণ: চোখ শুকিয়ে যাওয়া, চোখ জ্বালা ও লাল হওয়া, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা, চোখে ক্লান্তি।

    প্রতিরোধের উপায়:

    • মনিটর ২০–৪০ ইঞ্চি দূরে রাখা।
    • পর্দার উজ্জ্বলতা ঘরের আলোর সাথে মিলিয়ে রাখা।
    • ২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরের কিছুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকানো।
    • ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা।

রচনামূলক প্রশ্ন (৩টি)

  1. ২-র-১★★

    ১.কম্পিউটারে টাইপ করার সময় কী কী বিষয় বিবেচনা করতে হবে, বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২২, ২৬]

    উত্তর

    কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় টাইপ করলে চোখ, ঘাড়, পিঠ ও হাতে ব্যথা হতে পারে। তাই দ্রুত, নির্ভুল ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে টাইপ করার জন্য কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়:

                👁 চোখ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ┐ মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা একটু নিচে
                │       ২০–৪০ ইঞ্চি      ┌┴───┐
               🙂 ◄─────────────────────►│ 🖥 │
               ┃ পিঠ সোজা                 └────┘
         চেয়ার ┃━━━━ কনুই ৯০° ━━ ⌨ কী-বোর্ড (কব্জি সোজা)
               ┃
               ┗━━━━┓ হাঁটু ৯০°
                    ┃
                👣 পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা
             চিত্র: কম্পিউটারে কাজের সঠিক ভঙ্গি
    

    ১. বসার সঠিক ভঙ্গি:

    • পিঠ সোজা রেখে চেয়ারে বসতে হবে; চেয়ারের পিঠে হেলান দেওয়া যায়।
    • দুই পা মেঝেতে সমানভাবে রাখতে হবে; হাঁটু প্রায় ৯০ ডিগ্রিতে থাকবে।

    ২. হাতের অবস্থান:

    • আঙুল হোম-কীতে (ASDF – JKL;) থাকবে।
    • কনুই প্রায় ৯০ ডিগ্রি এবং কব্জি সোজা থাকবে।

    ৩. মনিটরের অবস্থান:

    • চোখ থেকে ২০–৪০ ইঞ্চি দূরে রাখতে হবে।
    • মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা একটু নিচে থাকবে।

    ৪. কী-বোর্ড ও মাউস:

    • কী-বোর্ড কনুইয়ের উচ্চতায়, শরীরের ঠিক সামনে থাকবে।
    • মাউস কী-বোর্ডের পাশেই রাখতে হবে, যাতে হাত বেশি প্রসারিত করতে না হয়।

    ৫. আলো:

    • ঘরে পর্যাপ্ত আলো থাকবে; পর্দায় যেন আলোর প্রতিফলন (Glare) না পড়ে।
    • জানালা মনিটরের ঠিক পেছনে বা সামনে না রেখে পাশে রাখা ভালো।

    ৬. টাইপিং কৌশল:

    • কী-বোর্ডের দিকে না তাকিয়ে টাচ টাইপিং অনুশীলন করতে হবে।
    • প্রতিটি আঙুল দিয়ে নির্দিষ্ট কী চাপতে হবে; কী আলতোভাবে চাপতে হবে।
    • প্রথমে নির্ভুলতার দিকে, পরে গতির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

    ৭. বিরতি নেওয়া:

    • প্রতি ২০–৩০ মিনিট পর একটু বিরতি নিতে হবে।
    • ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চোখকে বিশ্রাম দিতে হবে।
    • মাঝে মাঝে হাত, ঘাড় ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম করতে হবে।

    ৮. আসবাব: উচ্চতা নিয়ন্ত্রণযোগ্য চেয়ার ও উপযুক্ত উচ্চতার কম্পিউটার টেবিল ব্যবহার করতে হবে।

    উপসংহার: এসব নিয়ম মেনে টাইপ করলে কাজের গতি বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

  2. ২-র-২★★

    ২.টাইপিং-এর ক্ষেত্রে CPM, WPM, Accuracy ও Percentage of Error সম্পর্কে আলোচনা কর।

    • অথবা, টাইপিং-এর ক্ষেত্রে Accuracy ও Percentage of Error সম্পর্কে আলোচনা কর। [বিএমটি-২০২৫]

    উত্তর

    টাইপিংয়ের দক্ষতা দুটি বিষয় দিয়ে মাপা হয়: গতি (Speed) ও নির্ভুলতা (Accuracy)। গতি মাপা হয় CPM ও WPM দিয়ে, আর নির্ভুলতা মাপা হয় Accuracy ও Percentage of Error দিয়ে।

                      টাইপিং দক্ষতা
                           │
            ┌──────────────┴──────────────┐
          গতি (Speed)                নির্ভুলতা (Accuracy)
       ┌────┴────┐                   ┌────┴─────────┐
      CPM       WPM             Accuracy     Percentage of Error
    

    ১. CPM (Characters Per Minute): প্রতি মিনিটে টাইপ করা অক্ষরের সংখ্যা (বর্ণ, সংখ্যা, চিহ্ন ও স্পেসসহ)। সূত্র: CPM = মোট টাইপ করা অক্ষর ÷ সময় (মিনিটে)

    ২. WPM (Words Per Minute): প্রতি মিনিটে টাইপ করা শব্দের সংখ্যা। টাইপিংয়ের হিসাবে ৫টি অক্ষর = ১টি শব্দ ধরা হয়। সূত্র: WPM = (মোট টাইপ করা অক্ষর ÷ ৫) ÷ সময় (মিনিটে) = CPM ÷ ৫ নিট WPM: = WPM − (ভুল শব্দ ÷ সময়), অর্থাৎ ভুল বাদ দিয়ে প্রকৃত গতি।

    ৩. Accuracy (নির্ভুলতা): টাইপ করা মোট শব্দের মধ্যে কত শতাংশ সঠিক হয়েছে। সূত্র: Accuracy = (সঠিক শব্দ ÷ মোট শব্দ) × ১০০

    ৪. Percentage of Error (ভুলের শতকরা হার): টাইপ করা মোট শব্দের মধ্যে কত শতাংশ ভুল হয়েছে। সূত্র: ভুলের হার = (ভুল শব্দ ÷ মোট শব্দ) × ১০০

    একটি উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী ৫ মিনিটে ১০০০টি অক্ষর টাইপ করল, যাতে মোট ২০০টি শব্দের মধ্যে ১০টি শব্দ ভুল হলো।

    হিসাবসূত্রফলাফল
    CPM১০০০ ÷ ৫২০০
    WPM(১০০০ ÷ ৫) ÷ ৫৪০
    Accuracy(১৯০ ÷ ২০০) × ১০০৯৫%
    Percentage of Error(১০ ÷ ২০০) × ১০০৫%

    💡 মনে রাখো: Accuracy + Percentage of Error = ১০০%। আগে নির্ভুলতা, পরে গতি বাড়ানো উচিত।

    উপসংহার: ভালো টাইপিস্ট হতে হলে বেশি WPM-এর পাশাপাশি অন্তত ৯৫% Accuracy থাকা প্রয়োজন।

  3. ২-র-৩★★★

    ৩.স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টাইপিং অনুশীলনের বিধিমালা বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৪]

    উত্তর

    দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে টাইপ করলে চোখের সমস্যা, ঘাড় ও পিঠে ব্যথা, হাতের কব্জিতে ব্যথা (কারপাল টানেল সিনড্রোম) এবং বারবার একই কাজের কারণে আঘাত (RSI – Repetitive Strain Injury) হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কিছু বিধিমালা মেনে চলতে হয়:

                👁 চোখ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ┐ মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা একটু নিচে
                │       ২০–৪০ ইঞ্চি      ┌┴───┐
               🙂 ◄─────────────────────►│ 🖥 │
               ┃ পিঠ সোজা                 └────┘
         চেয়ার ┃━━━━ কনুই ৯০° ━━ ⌨ কী-বোর্ড (কব্জি সোজা)
               ┃
               ┗━━━━┓ হাঁটু ৯০°
                    ┃
                👣 পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা
             চিত্র: কম্পিউটারে কাজের সঠিক ভঙ্গি
    

    ১. বসার বিধি:

    • পিঠ সোজা রেখে, চেয়ারের পিঠে ভর দিয়ে বসতে হবে।
    • পা মেঝেতে সমানভাবে থাকবে; প্রয়োজনে পা রাখার টুল (Footrest) ব্যবহার।
    • উরু মেঝের সমান্তরাল এবং হাঁটু ৯০ ডিগ্রিতে থাকবে।

    ২. হাত ও কব্জির বিধি:

    • কনুই ৯০ ডিগ্রিতে, শরীরের কাছাকাছি থাকবে।
    • কব্জি সোজা রাখতে হবে; প্রয়োজনে রিস্ট রেস্ট ব্যবহার।
    • কী আলতোভাবে চাপতে হবে।

    ৩. চোখের সুরক্ষা বিধি:

    • মনিটর চোখ থেকে ২০–৪০ ইঞ্চি দূরে এবং ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা নিচে।
    • পর্দার উজ্জ্বলতা ও কনট্রাস্ট আরামদায়ক রাখা।
    • ২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিটে ২০ ফুট দূরে ২০ সেকেন্ড তাকানো।
    • ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা।

    ৪. আলো ও পরিবেশ:

    • পর্যাপ্ত আলো, কিন্তু পর্দায় প্রতিফলন যেন না পড়ে।
    • ঘর পরিষ্কার, বায়ু চলাচলযুক্ত ও আরামদায়ক তাপমাত্রার হবে।

    ৫. বিরতি ও ব্যায়াম:

    • প্রতি ৩০–৬০ মিনিট পর ৫–১০ মিনিট বিরতি।
    • বিরতিতে হাত, আঙুল, ঘাড় ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম; একটু হাঁটাহাঁটি।

    ৬. আসবাবের বিধি:

    • উচ্চতা নিয়ন্ত্রণযোগ্য, পিঠে ঠেস দেওয়ার ব্যবস্থাসহ চেয়ার।
    • উপযুক্ত উচ্চতার কম্পিউটার টেবিল ও কী-বোর্ড ট্রে।

    ৭. বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা:

    • ভেজা হাতে কম্পিউটার স্পর্শ না করা; তার ও প্লাগ ঠিক আছে কি না দেখা।
    শরীরের অংশঝুঁকিসুরক্ষার উপায়
    চোখচোখ ব্যথা, ঝাপসা দেখাসঠিক দূরত্ব, ২০-২০-২০ নিয়ম
    ঘাড় ও পিঠব্যথাপিঠ সোজা, মনিটর চোখের সমান
    হাত ও কব্জিকারপাল টানেল, RSIকব্জি সোজা, বিরতি
    পারক্ত চলাচলে সমস্যাপা মেঝেতে, মাঝে মাঝে হাঁটা

    উপসংহার: এসব বিধিমালা মেনে টাইপ অনুশীলন করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দীর্ঘদিন দক্ষতার সাথে কাজ করা যায়।

অধ্যায় ৩: ওয়ার্ড প্রসেসিং অনুশীলন

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২১টি)

  1. ৩-সং-১★★★

    ১.ডকুমেন্ট প্রিন্টিং-এর ধাপসমূহ লেখ। [বিএমটি-২০২২, ২৬]

    উত্তর

    কম্পিউটারে তৈরি ডকুমেন্ট প্রিন্টারের মাধ্যমে কাগজে ছাপানোকে ডকুমেন্ট প্রিন্টিং বলে। এর ধাপগুলো হলো:

    1. যে ডকুমেন্ট প্রিন্ট করতে চাই, সেটি খুলতে হবে এবং প্রিন্টার চালু ও কাগজ দেওয়া আছে কি না দেখতে হবে।
    2. File → Print ক্লিক করতে হবে, অথবা Ctrl + P চাপতে হবে।
    3. Printer তালিকা থেকে প্রিন্টার নির্বাচন করতে হবে।
    4. Copies ঘরে কত কপি লাগবে তা লিখতে হবে।
    5. Pages অংশে সব পৃষ্ঠা, বর্তমান পৃষ্ঠা না নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা (যেমন 1-3, 5) তা ঠিক করতে হবে।
    6. কাগজের আকার (A4), ওরিয়েন্টেশন ও মার্জিন দেখে নিতে হবে।
    7. ডান পাশের Print Preview দেখে সব ঠিক থাকলে Print বাটনে ক্লিক করতে হবে।
     File ──► Print (Ctrl+P) ──► প্রিন্টার বাছাই ──► পৃষ্ঠা ও কপি সংখ্যা ──► সেটিংস ──► Print 🖨
                                                                   (কাগজ, মার্জিন, ওরিয়েন্টেশন)
    
  2. ৩-সং-২★★★

    ২.Header বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২৪]

    উত্তর

    ডকুমেন্টের প্রতিটি পৃষ্ঠার ওপরের মার্জিনে (Top Margin) যে লেখা বা ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বারবার দেখা যায়, তাকে হেডার (Header) বলে।

    একবার হেডারে লিখলে সব পৃষ্ঠার ওপরে তা চলে আসে। সাধারণত প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো, বইয়ের বা অধ্যায়ের শিরোনাম, তারিখ ইত্যাদি হেডারে রাখা হয়।

    উদাহরণ: একটি অফিসের প্রতিটি চিঠির ওপরে "ঢাকা টেকনিক্যাল কলেজ" নাম ও লোগো।

    যুক্ত করার নিয়ম: Insert → Header → পছন্দের স্টাইল → লেখা টাইপ → Close Header and Footer।

  3. ৩-সং-৩★★★

    ৩.Footer বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২৪]

    উত্তর

    ডকুমেন্টের প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচের মার্জিনে (Bottom Margin) যে লেখা বা ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বারবার দেখা যায়, তাকে ফুটার (Footer) বলে।

    সাধারণত পৃষ্ঠা নম্বর, লেখকের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ফাইলের নাম বা "গোপনীয়" জাতীয় লেখা ফুটারে রাখা হয়।

    উদাহরণ: প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচে "পৃষ্ঠা ১ এর ১০"।

    যুক্ত করার নিয়ম: Insert → Footer → পছন্দের স্টাইল → লেখা টাইপ → Close Header and Footer।

    ┌──────────────────────┐
    │  হেডার (প্রতিষ্ঠানের নাম) │ ← ওপরের মার্জিন
    ├──────────────────────┤
    │                      │
    │     মূল লেখা           │
    │                      │
    ├──────────────────────┤
    │  ফুটার (পৃষ্ঠা – ১)     │ ← নিচের মার্জিন
    └──────────────────────┘
    
  4. ৩-সং-৪★★★

    ৪.মেনু বার কী?

    উত্তর

    প্রোগ্রাম উইন্ডোর টাইটেল বারের ঠিক নিচে যে আনুভূমিক বারে File, Edit, View, Insert, Format, Tools, Table, Window, Help ইত্যাদি মেনুর নাম সাজানো থাকে, তাকে মেনু বার (Menu Bar) বলে।

    প্রতিটি মেনুতে ক্লিক করলে একটি ড্রপ-ডাউন তালিকা খোলে, যেখানে সংশ্লিষ্ট কমান্ডগুলো থাকে। যেমন File মেনুতে New, Open, Save, Print।

    MS Word 2003 ও LibreOffice Writer-এ মেনু বার থাকে। MS Word 2007 থেকে মেনু বারের জায়গায় ট্যাব ও রিবন এসেছে।

    কী-বোর্ড দিয়ে: Alt চাপলে মেনু বার সক্রিয় হয়, যেমন Alt + F দিলে File মেনু খোলে।

  5. ৩-সং-৫★★★

    ৫.রিবন (Ribbon) কী?

    উত্তর

    MS Office 2007 ও পরবর্তী সংস্করণে টাইটেল বারের নিচে ট্যাব আকারে সাজানো, ছবিসহ কমান্ড বাটনের চওড়া ফিতার মতো অংশকে রিবন (Ribbon) বলে। এটি পুরনো মেনু বার ও টুলবারের জায়গা নিয়েছে।

    রিবনের তিনটি অংশ:

    • ট্যাব (Tab): Home, Insert, Layout ইত্যাদি।
    • গ্রুপ (Group): প্রতিটি ট্যাবে সম্পর্কিত কমান্ডের দল, যেমন Home ট্যাবে Clipboard, Font, Paragraph।
    • কমান্ড (Command): বাটন, যেমন Bold, Copy।
     Home │ Insert │ Layout          ← ট্যাব
     ┌──────────┬──────────────┬───────────┐
     │ ✂ 📋     │ B  I  U  A   │ ≡ ≡ ≡ ≡   │  ← কমান্ড
     │ Clipboard│    Font      │ Paragraph │  ← গ্রুপ
     └──────────┴──────────────┴───────────┘
    

    Ctrl + F1 চেপে রিবন লুকানো বা দেখানো যায়।

  6. ৩-সং-৬★★

    ৬.স্ট্যান্ডার্ড টুলবার কী?/টুলবার কী?

    উত্তর

    প্রোগ্রামের বহুল ব্যবহৃত কমান্ডগুলো ছোট ছোট ছবিযুক্ত বাটন (আইকন) আকারে যে বারে সাজানো থাকে, তাকে টুলবার (Toolbar) বলে। মেনুতে না গিয়ে এক ক্লিকে কাজ করা যায়।

    মেনু বারের নিচে থাকা প্রধান টুলবারটিকে স্ট্যান্ডার্ড টুলবার (Standard Toolbar) বলে। এতে ফাইল সম্পর্কিত সাধারণ কাজের বাটন থাকে:

    বাটনকাজ
    Newনতুন ডকুমেন্ট
    Openফাইল খোলা
    Saveসংরক্ষণ
    Print / Print Previewপ্রিন্ট ও প্রিভিউ
    Cut, Copy, Pasteকাটা, কপি, পেস্ট
    Undo, Redoআগের অবস্থায় ফেরা ও পুনরায় করা
    Spellingবানান পরীক্ষা
    Zoomবড়-ছোট করে দেখা

    (MS Word 2003 ও LibreOffice Writer-এ থাকে; নতুন Word-এ এগুলো রিবন ও Quick Access Toolbar-এ আছে।)

  7. ৩-সং-৭★★★

    ৭.Quick Access Toolbar কী?

    উত্তর

    MS Office প্রোগ্রামের টাইটেল বারের বাম পাশে থাকা ছোট টুলবার, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কয়েকটি কমান্ড রাখা হয়, তাকে Quick Access Toolbar (দ্রুত প্রবেশের টুলবার) বলে।

    যেকোনো ট্যাব খোলা থাকুক না কেন, এটি সবসময় দেখা যায়। ডিফল্টভাবে এতে Save, Undo ও Redo থাকে। পাশের ছোট তীরচিহ্ন (▾) ক্লিক করে New, Open, Print, Quick Print ইত্যাদি নিজের পছন্দমতো কমান্ড যোগ বা বাদ দেওয়া যায়।

     💾  ↶  ↷  ▾   Document1 - Word
     └── Quick Access Toolbar
    
  8. ৩-সং-৮★★★

    ৮.টাইটেল বার কী?

    উত্তর

    প্রোগ্রাম উইন্ডোর একেবারে ওপরের যে বারে খোলা ফাইলের নাম ও প্রোগ্রামের নাম দেখা যায়, তাকে টাইটেল বার (Title Bar) বলে।

    উদাহরণ: "Document1 - Word" বা "Report.docx - Word"।

    টাইটেল বারের ডান পাশে তিনটি বাটন থাকে:

    • Minimize (—): উইন্ডো টাস্কবারে নামিয়ে রাখা।
    • Maximize/Restore (▢): পুরো পর্দা জুড়ে বা ছোট করা।
    • Close (✕): প্রোগ্রাম বন্ধ করা।

    টাইটেল বার ধরে টেনে (Drag) উইন্ডো সরানো যায়, আর ডাবল-ক্লিক করলে উইন্ডো বড়-ছোট হয়।

  9. ৩-সং-৯★★★

    ৯.টেক্সট ফরমেটিং টুলবার কী?

    উত্তর

    লেখার চেহারা বা রূপ পরিবর্তনের (ফরমেটিং) কমান্ডগুলো যে টুলবারে বাটন আকারে সাজানো থাকে, তাকে টেক্সট ফরমেটিং টুলবার (Formatting Toolbar) বলে। এটি সাধারণত স্ট্যান্ডার্ড টুলবারের নিচে থাকে।

    বাটনকাজ
    Styleশিরোনাম, সাধারণ লেখা ইত্যাদি স্টাইল
    Fontফন্টের নাম (যেমন SutonnyMJ, Arial)
    Font Sizeঅক্ষরের আকার
    B I <u>U</u>বোল্ড, ইটালিক, আন্ডারলাইন
    Alignmentবামে, মাঝে, ডানে, দুই পাশে সমান
    Line Spacingলাইনের মধ্যে ফাঁক
    Bullets/Numberingবুলেট ও নম্বর তালিকা
    Indentলেখা ভেতরে বা বাইরে সরানো
    Highlight, Font Colorলেখার পেছনের রং ও লেখার রং

    (নতুন Word-এ এগুলো Home ট্যাবের Font ও Paragraph গ্রুপে আছে।)

  10. ৩-সং-১১★★

    ১০.স্ক্রল বার কী?

    উত্তর

    উইন্ডোর ডান পাশে ও নিচে থাকা যে বার দিয়ে পর্দার বাইরে থাকা লেখা ওপরে-নিচে বা ডানে-বামে সরিয়ে দেখা যায়, তাকে স্ক্রল বার (Scroll Bar) বলে।

    স্ক্রল বার দুই প্রকার:

    1. ভার্টিকাল স্ক্রল বার: ডান পাশে থাকে; লেখা ওপরে-নিচে সরায়।
    2. হরাইজন্টাল স্ক্রল বার: নিচে থাকে; লেখা ডানে-বামে সরায়।

    এর তিনটি অংশ: দুই প্রান্তের তীরচিহ্ন (▲ ▼), মাঝের সরানো যায় এমন স্ক্রল বক্স (Thumb), আর খালি স্ক্রল এরিয়া। মাউসের চাকা ঘুরিয়েও স্ক্রল করা যায়।

  11. ৩-সং-১২★★★বই: পৃষ্ঠা ৯৪

    ১১.ডকুমেন্ট সেভ করার পদ্ধতি আলোচনা কর।

    উত্তর

    ডকুমেন্ট স্থায়ীভাবে কম্পিউটারের স্টোরেজে রেখে দেওয়াকে ডকুমেন্ট সেভ (Save) করা বলে। সেভ না করলে বিদ্যুৎ চলে গেলে লেখা হারিয়ে যেতে পারে।

    প্রথমবার সেভ করার পদ্ধতি:

    1. File → Save ক্লিক করতে হবে, অথবা Ctrl + S চাপতে হবে।
    2. Save As ডায়ালগ বক্স আসবে।
    3. কোন ফোল্ডারে বা ড্রাইভে রাখব তা বাছাই করতে হবে (যেমন D:\Office)।
    4. File name ঘরে ফাইলের নাম লিখতে হবে (যেমন Application)।
    5. Save as type থেকে ফরম্যাট বাছাই করতে হবে (যেমন Word Document .docx)।
    6. Save বাটনে ক্লিক করতে হবে।

    পরে পরিবর্তন সেভ করা: শুধু Ctrl + S চাপলেই হয়। অন্য নামে বা অন্য জায়গায় সেভ: File → Save As বা F12।

     Ctrl+S ─► Save As বক্স ─► ফোল্ডার বাছাই ─► ফাইলের নাম ─► ফরম্যাট ─► Save
    
  12. ৩-সং-১৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৯৪

    ১২.কী-বোর্ড দিয়ে লেখা ব্লক করার নিয়ম লেখ।

    উত্তর

    লেখা ব্লক বা সিলেক্ট করা মানে লেখার নির্দিষ্ট অংশ চিহ্নিত করা, যাতে তা কপি, কাট, মুছে ফেলা বা ফরমেট করা যায়। কী-বোর্ড দিয়ে ব্লক করার নিয়ম:

    কী-বোর্ড কমান্ডযা সিলেক্ট হয়
    Shift + → / ←ডানে/বামে এক অক্ষর করে
    Shift + ↑ / ↓ওপরে/নিচে এক লাইন করে
    Ctrl + Shift + → / ←এক শব্দ করে
    Shift + Homeকার্সর থেকে লাইনের শুরু পর্যন্ত
    Shift + Endকার্সর থেকে লাইনের শেষ পর্যন্ত
    Ctrl + Shift + ↓ / ↑অনুচ্ছেদের শেষ/শুরু পর্যন্ত
    Shift + Page Down / Upএক পর্দা নিচে/ওপরে
    Ctrl + Shift + End / Homeডকুমেন্টের শেষ/শুরু পর্যন্ত
    Ctrl + Aপুরো ডকুমেন্ট

    💡 মনে রাখো: Shift চেপে ধরে কার্সর সরালেই লেখা ব্লক হয়; সাথে Ctrl দিলে বড় বড় ধাপে হয়।

  13. ৩-সং-১৪★★বই: পৃষ্ঠা ৯৪

    ১৩.কোনো মুছে যাওয়া লেখা ফিরিয়ে আনার উপায় বর্ণনা কর।

    উত্তর

    ভুল করে কোনো লেখা মুছে গেলে তা ফিরিয়ে আনার উপায়:

    1. Undo কমান্ড: Ctrl + Z চাপলে সর্বশেষ কাজটি বাতিল হয়ে মুছে যাওয়া লেখা ফিরে আসে। বারবার চাপলে আরও আগের কাজগুলোও ফেরানো যায়।
    2. Quick Access Toolbar-এর Undo বাটন (↶): ক্লিক করলে একই কাজ হয়; পাশের তীরচিহ্ন থেকে একসাথে কয়েকটি ধাপ পেছানো যায়।
    3. Redo: Undo বেশি হয়ে গেলে Ctrl + Y বা Redo বাটন (↷) দিয়ে আবার এগোনো যায়।
    4. সেভ না করা ফাইল উদ্ধার: প্রোগ্রাম হঠাৎ বন্ধ হলে File → Info → Manage Document → Recover Unsaved Documents থেকে ফাইল ফেরানো যায় (AutoRecover চালু থাকলে)।

    ⚠️ ফাইল বন্ধ করার পর Undo কাজ করে না; তাই আগে থেকে নিয়মিত Ctrl + S চাপা ভালো অভ্যাস।

  14. ৩-সং-১৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৯৪

    ১৪.শর্টকাট-কী দিয়ে কপি ও পেস্ট করার পদ্ধতি লেখ।

    উত্তর

    শর্টকাট-কী দিয়ে কপি ও পেস্ট করার পদ্ধতি:

    1. যে লেখাটি কপি করতে চাই তা সিলেক্ট (ব্লক) করতে হবে (মাউস দিয়ে বা Shift + তীরচিহ্ন দিয়ে)।
    2. Ctrl + C চাপতে হবে; লেখাটি ক্লিপবোর্ডে জমা হবে।
    3. যেখানে বসাতে চাই, সেখানে কার্সর রাখতে হবে।
    4. Ctrl + V চাপতে হবে; লেখাটি সেখানে বসে যাবে।
     সিলেক্ট ──► Ctrl+C (কপি) ──► 📋 ক্লিপবোর্ড ──► কার্সর রাখা ──► Ctrl+V (পেস্ট)
    
    কাজশর্টকাট
    কপি (Copy)Ctrl + C
    কাট (Cut) — সরিয়ে নেওয়াCtrl + X
    পেস্ট (Paste)Ctrl + V
    শুধু লেখা পেস্ট (ফরম্যাট ছাড়া)Ctrl + Shift + V
  15. ৩-সং-১৮★★বই: পৃষ্ঠা ৯৪

    ১৫.View Menu-তে কী কী অপশন থাকে?

    উত্তর

    View মেনু বা ট্যাবে ডকুমেন্ট কীভাবে দেখা যাবে তার অপশন থাকে:

    অপশনকাজ
    Read Modeশুধু পড়ার জন্য বড় করে দেখা
    Print Layoutছাপার মতো পৃষ্ঠা আকারে দেখা (সাধারণ ভিউ)
    Web Layoutওয়েব পেজের মতো দেখা
    Outlineশিরোনাম অনুযায়ী কাঠামো দেখা
    Draft (Normal)শুধু লেখা, সরল ভিউ
    Ruler, Gridlines, Navigation Paneরুলার, গ্রিড লাইন ও নেভিগেশন প্যান দেখানো/লুকানো
    Zoom, 100%, One Page, Multiple Pagesবড়-ছোট করে দেখা
    New Window, Arrange All, Splitএকাধিক উইন্ডোতে দেখা
    Macrosম্যাক্রো

    (পুরনো Word-এর View মেনুতে Toolbars ও Header and Footer অপশনও ছিল।)

  16. ৩-সং-১৯★★বই: পৃষ্ঠা ৯৫

    ১৬.Edit Menu-তে কী কী অপশন থাকে?

    উত্তর

    Edit মেনুতে লেখা সম্পাদনার অপশনগুলো থাকে (MS Word 2003 ও LibreOffice Writer):

    অপশনশর্টকাটকাজ
    UndoCtrl + Zশেষ কাজ বাতিল
    Redo / RepeatCtrl + Yবাতিল কাজ পুনরায় করা
    CutCtrl + Xলেখা কেটে সরানো
    CopyCtrl + Cলেখা কপি
    PasteCtrl + Vলেখা বসানো
    Paste Special—বিশেষ উপায়ে পেস্ট
    ClearDeleteমুছে ফেলা
    Select AllCtrl + Aসব লেখা সিলেক্ট
    FindCtrl + Fশব্দ খোঁজা
    ReplaceCtrl + Hশব্দ খুঁজে বদলানো
    Go ToCtrl + Gনির্দিষ্ট পৃষ্ঠায় যাওয়া

    (নতুন Word-এ এগুলো Home ট্যাবের Clipboard ও Editing গ্রুপে আছে।)

  17. ৩-সং-২০★★বই: পৃষ্ঠা ৯৫

    ১৭.Insert Menu-তে কী কী অপশন থাকে?

    উত্তর

    Insert মেনুতে ডকুমেন্টে নতুন কিছু যোগ করার অপশন থাকে (MS Word 2003 ও LibreOffice Writer):

    অপশনকাজ
    Breakপৃষ্ঠা বা কলাম বিরতি
    Page Numbersপৃষ্ঠা নম্বর
    Date and Timeতারিখ ও সময়
    Symbol / Special Characterবিশেষ চিহ্ন (©, ™, ±)
    Commentমন্তব্য
    Footnoteপাদটীকা
    Pictureছবি, ক্লিপআর্ট, WordArt, চার্ট
    Text Boxটেক্সট বক্স
    Fileঅন্য ফাইলের লেখা যোগ
    Objectঅন্য প্রোগ্রামের বস্তু
    Hyperlinkলিংক (Ctrl + K)
    Header and Footerহেডার ও ফুটার (Writer-এ)

    (নতুন Word-এর Insert ট্যাবে এগুলো Pages, Tables, Illustrations, Links, Header & Footer, Text, Symbols গ্রুপে আছে।)

  18. ৩-সং-২১★★বই: পৃষ্ঠা ৯৫

    ১৮.Format Menu-তে কী কী অপশন থাকে?

    উত্তর

    Format মেনুতে লেখা ও পৃষ্ঠার রূপ পরিবর্তনের অপশন থাকে (MS Word 2003 ও LibreOffice Writer):

    অপশনকাজ
    Fontফন্ট, আকার, স্টাইল, রং (Ctrl + D)
    Paragraphঅ্যালাইনমেন্ট, ইনডেন্ট, লাইন স্পেসিং
    Bullets and Numberingবুলেট ও নম্বর তালিকা
    Borders and Shadingবর্ডার ও পেছনের রং
    Columnsলেখা একাধিক কলামে ভাগ
    Tabsট্যাব স্টপ
    Drop Capঅনুচ্ছেদের প্রথম অক্ষর বড় করা
    Change Caseছোট/বড় হাতের অক্ষর বদলানো (Shift + F3)
    Backgroundপৃষ্ঠার পেছনের রং
    Styles and Formattingস্টাইল প্রয়োগ

    (নতুন Word-এ এগুলো Home, Design ও Layout ট্যাবে ছড়িয়ে আছে।)

  19. ৩-সং-২২★★বই: পৃষ্ঠা ৯৬

    ১৯.ডকুমেন্টে হেডার/ফুটার সেট করার পদ্ধতি কী?

    উত্তর

    MS Word-এ হেডার/ফুটার সেট করার পদ্ধতি:

    1. Insert ট্যাবে ক্লিক করতে হবে।
    2. Header & Footer গ্রুপ থেকে Header (বা Footer) ক্লিক করতে হবে।
    3. তালিকা থেকে একটি স্টাইল (যেমন Blank) বাছাই করতে হবে।
    4. হেডার/ফুটারের জায়গায় কার্সর আসবে; প্রয়োজনীয় লেখা টাইপ করতে হবে বা ছবি/লোগো, তারিখ, পৃষ্ঠা নম্বর যোগ করতে হবে।
    5. প্রয়োজনে Different First Page বা Different Odd & Even Pages চেকবক্স ব্যবহার করা যায়।
    6. শেষে Close Header and Footer বাটন ক্লিক করতে হবে, অথবা মূল লেখার ওপর ডাবল-ক্লিক করতে হবে।
     Insert ─► Header/Footer ─► স্টাইল ─► লেখা টাইপ ─► Close Header and Footer
    

    💡 পৃষ্ঠার ওপরে বা নিচের মার্জিনে ডাবল-ক্লিক করেও সরাসরি হেডার/ফুটার খোলা যায়।

  20. ৩-সং-২৩★★বই: পৃষ্ঠা ৯৬

    ২০.প্রিন্টার নির্বাচন করার পদ্ধতি কী?

    উত্তর

    প্রিন্টার নির্বাচন করার পদ্ধতি:

    1. প্রিন্ট করার ডকুমেন্টটি খুলতে হবে।
    2. File → Print ক্লিক করতে হবে বা Ctrl + P চাপতে হবে।
    3. Printer অংশের ড্রপ-ডাউন তালিকায় ক্লিক করতে হবে।
    4. কম্পিউটারে যুক্ত প্রিন্টারগুলোর তালিকা আসবে (যেমন HP LaserJet, Canon, Microsoft Print to PDF)।
    5. যে প্রিন্টারে ছাপাতে চাই, সেটিতে ক্লিক করে নির্বাচন করতে হবে। প্রিন্টারটি "Ready" অবস্থায় আছে কি না দেখে নিতে হবে।
    6. প্রয়োজনে Printer Properties থেকে কাগজ ও মান ঠিক করে Print ক্লিক করতে হবে।

    💡 Microsoft Print to PDF নির্বাচন করলে কাগজে না ছেপে PDF ফাইল তৈরি হয়।

  21. ৩-সং-২৪★★বই: পৃষ্ঠা ৯৭

    ২১.Menu-তে কী কী অপশন থাকে?

    উত্তর

    ওয়ার্ড প্রসেসরের (MS Word 2003 / LibreOffice Writer) মেনু বারে সাধারণত নিচের মেনুগুলো থাকে:

    মেনুপ্রধান অপশন
    FileNew, Open, Save, Save As, Page Setup, Print, Exit
    EditUndo, Cut, Copy, Paste, Select All, Find, Replace
    ViewNormal, Print Layout, Toolbars, Ruler, Header and Footer, Zoom
    InsertBreak, Page Numbers, Date and Time, Symbol, Picture, Hyperlink
    FormatFont, Paragraph, Bullets and Numbering, Borders, Columns
    ToolsSpelling and Grammar, Word Count, Mail Merge, Options
    TableInsert Table, Delete, Merge Cells, Sort, Formula
    WindowNew Window, Arrange All, Split
    Helpসাহায্য ও প্রোগ্রামের তথ্য

    (নতুন Word-এ মেনুর বদলে ট্যাব আছে: File, Home, Insert, Design, Layout, References, Mailings, Review, View, Help।)

রচনামূলক প্রশ্ন (৫টি)

  1. ৩-র-২★★বই: পৃষ্ঠা ৯৯

    ১.ডকুমেন্টের হেডার, ফুটার ও বিভিন্ন ধরনের পেইজ নম্বর সংযোজন পদ্ধতি বর্ণনা কর।

    উত্তর

    হেডার: প্রতিটি পৃষ্ঠার ওপরের মার্জিনে বারবার আসা লেখা বা ছবি। ফুটার: প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচের মার্জিনে বারবার আসা লেখা বা ছবি। পেইজ নম্বর: প্রতিটি পৃষ্ঠায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বসানো ক্রমিক নম্বর।

    ┌──────────────────────────┐
    │ ঢাকা টেকনিক্যাল কলেজ  [লোগো]│ ← হেডার
    ├──────────────────────────┤
    │                          │
    │        মূল লেখা            │
    │                          │
    ├──────────────────────────┤
    │        পৃষ্ঠা – ১           │ ← ফুটার + পেইজ নম্বর
    └──────────────────────────┘
    

    ক. হেডার সংযোজন

    1. Insert ট্যাব → Header ক্লিক।
    2. তালিকা থেকে স্টাইল (Blank, Austin ইত্যাদি) বাছাই।
    3. লেখা টাইপ করা বা Pictures দিয়ে লোগো, Date & Time দিয়ে তারিখ যোগ।
    4. Close Header and Footer ক্লিক।

    খ. ফুটার সংযোজন

    1. Insert ট্যাব → Footer ক্লিক।
    2. স্টাইল বাছাই করে লেখা টাইপ।
    3. Close Header and Footer ক্লিক।

    বিশেষ অপশন (Header & Footer ট্যাবে):

    • Different First Page: প্রথম পৃষ্ঠায় হেডার/ফুটার ভিন্ন বা খালি রাখা (যেমন কভার পেজ)।
    • Different Odd & Even Pages: বিজোড় ও জোড় পৃষ্ঠায় ভিন্ন হেডার/ফুটার (বইয়ের মতো)।
    • Header from Top / Footer from Bottom: কিনারা থেকে দূরত্ব।

    গ. পেইজ নম্বর সংযোজন

    1. Insert ট্যাব → Page Number ক্লিক।
    2. অবস্থান বাছাই:
      • Top of Page: পৃষ্ঠার ওপরে
      • Bottom of Page: পৃষ্ঠার নিচে
      • Page Margins: পাশের মার্জিনে
      • Current Position: কার্সরের জায়গায়
    3. সাব-মেনু থেকে নম্বরের স্টাইল ও অবস্থান (বামে, মাঝে, ডানে) বাছাই।

    ঘ. বিভিন্ন ধরনের পেইজ নম্বর (Format Page Numbers)

    Insert → Page Number → Format Page Numbers থেকে:

    নম্বরের ধরনউদাহরণকোথায় ব্যবহার
    আরবি সংখ্যা1, 2, 3মূল লেখা
    ছোট রোমানi, ii, iiiভূমিকা, সূচিপত্র
    বড় রোমানI, II, IIIঅধ্যায়
    ছোট অক্ষরa, b, cপরিশিষ্ট
    বড় অক্ষরA, B, Cপরিশিষ্ট
    ড্যাশসহ- 1 -, - 2 -সাজসজ্জা
    • Start at: নির্দিষ্ট নম্বর থেকে শুরু (যেমন ৫ থেকে)।
    • Include chapter number: অধ্যায় নম্বরসহ (যেমন 1-1, 1-2)।
    • Remove Page Numbers: পেইজ নম্বর মুছে ফেলা।

    উপসংহার: হেডার, ফুটার ও পেইজ নম্বর ডকুমেন্টকে গোছানো, পেশাদার ও সহজে খুঁজে পাওয়ার উপযোগী করে।

  2. ৩-র-৩★★বই: পৃষ্ঠা ১০০

    ২.ওয়ার্ড প্রসেসরের কী-বোর্ড শর্টকাট কমান্ডসমূহ বর্ণনা কর।

    উত্তর

    মাউস ব্যবহার না করে কী-বোর্ডের এক বা একাধিক কী একসাথে চেপে দ্রুত কোনো কমান্ড দেওয়াকে কী-বোর্ড শর্টকাট বলে। এতে কাজের গতি অনেক বাড়ে।

    ক. ফাইল সম্পর্কিত শর্টকাট

    শর্টকাটকাজ
    Ctrl + Nনতুন ডকুমেন্ট
    Ctrl + Oফাইল খোলা
    Ctrl + Sসেভ
    F12Save As
    Ctrl + Pপ্রিন্ট
    Ctrl + Wডকুমেন্ট বন্ধ
    Alt + F4প্রোগ্রাম বন্ধ

    খ. সম্পাদনা (Editing) শর্টকাট

    শর্টকাটকাজ
    Ctrl + Cকপি
    Ctrl + Xকাট
    Ctrl + Vপেস্ট
    Ctrl + ZUndo
    Ctrl + YRedo
    Ctrl + Aসব সিলেক্ট
    Ctrl + Fখোঁজা (Find)
    Ctrl + Hখুঁজে বদলানো (Replace)
    Ctrl + GGo To
    F7বানান ও ব্যাকরণ পরীক্ষা

    গ. ফরমেটিং শর্টকাট

    শর্টকাটকাজ
    Ctrl + Bবোল্ড
    Ctrl + Iইটালিক
    Ctrl + Uআন্ডারলাইন
    Ctrl + Dফন্ট ডায়ালগ বক্স
    Ctrl + ] / Ctrl + [ফন্ট এক পয়েন্ট বড় / ছোট
    Ctrl + Shift + > / <ফন্ট ধাপে বড় / ছোট
    Shift + F3ছোট/বড় হাতের অক্ষর বদলানো
    Ctrl + =সাবস্ক্রিপ্ট (H₂O)
    Ctrl + Shift + =সুপারস্ক্রিপ্ট (x²)

    ঘ. অনুচ্ছেদ (Paragraph) শর্টকাট

    শর্টকাটকাজ
    Ctrl + Lবামে সাজানো
    Ctrl + Eমাঝে সাজানো
    Ctrl + Rডানে সাজানো
    Ctrl + Jদুই পাশে সমান (Justify)
    Ctrl + 1 / 2 / 5একক / দ্বিগুণ / ১.৫ লাইন স্পেসিং
    Ctrl + Enterনতুন পৃষ্ঠা (Page Break)

    ঙ. কার্সর সরানো ও সিলেকশন

    শর্টকাটকাজ
    Home / Endলাইনের শুরু / শেষ
    Ctrl + Home / Endডকুমেন্টের শুরু / শেষ
    Ctrl + → / ←এক শব্দ ডানে / বামে
    Shift + তীরচিহ্নলেখা সিলেক্ট
    Ctrl + Kহাইপারলিংক

    💡 মনে রাখার কৌশল: B = Bold, I = Italic, U = Underline, E = cEnter, P = Print, S = Save, F = Find।

    উপসংহার: শর্টকাট কী জানা থাকলে অফিসের কাজ দ্রুত ও কম পরিশ্রমে করা যায়, যা একজন দক্ষ অফিস সহকারীর গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

  3. ৩-র-৪★★বই: পৃষ্ঠা ১০২

    ৩.ডকুমেন্টে Shapes ব্যবহার করার পদ্ধতি কী?

    উত্তর

    Shapes: ডকুমেন্টে রেখা, তীরচিহ্ন, আয়তক্ষেত্র, বৃত্ত, তারা, ফ্লোচার্টের প্রতীক, কলআউট ইত্যাদি তৈরি-করা আকৃতিকে Shapes বলে। চিত্র, ফ্লোচার্ট, ডায়াগ্রাম বা সাজসজ্জায় এগুলো ব্যবহার করা হয়।

    Shapes-এর শ্রেণি: Lines, Rectangles, Basic Shapes, Block Arrows, Equation Shapes, Flowchart, Stars and Banners, Callouts।

      ─── ➜   ▭   ◯   △   ★   ◇   ▱   💬
     রেখা তীর আয়ত বৃত্ত ত্রিভুজ তারা ডায়মন্ড ফ্লোচার্ট কলআউট
    

    ক. Shape যোগ করার ধাপ

    1. Insert ট্যাব → Illustrations গ্রুপ → Shapes ক্লিক।
    2. তালিকা থেকে পছন্দের আকৃতিতে ক্লিক করতে হবে।
    3. মাউস পয়েন্টার যোগচিহ্ন (+) হবে; ডকুমেন্টে ক্লিক করে টেনে (Drag) আকৃতি আঁকতে হবে।
    4. Shift চেপে টানলে নিখুঁত বর্গ, বৃত্ত বা সোজা রেখা হয়।

    খ. Shape ফরমেট করা (Shape Format ট্যাব)

    অপশনকাজ
    Shape Fillভেতরের রং, গ্রেডিয়েন্ট বা ছবি
    Shape Outlineবর্ডারের রং, পুরুত্ব, ধরন
    Shape Effectsছায়া, আলো, 3-D
    Shape Stylesতৈরি-করা স্টাইল
    Edit Shapeআকৃতি পরিবর্তন
    Sizeউচ্চতা ও প্রস্থ

    গ. অন্যান্য কাজ

    • লেখা যোগ: Shape-এ রাইট-ক্লিক → Add Text করে লিখতে হয়।
    • আকার বদলানো: চারপাশের ছোট বৃত্ত (Sizing Handle) টেনে।
    • ঘোরানো: ওপরের বাঁকা তীর (Rotation Handle) টেনে।
    • লেখার সাথে অবস্থান: Wrap Text (In Line with Text, Square, Tight, Behind Text, In Front of Text)।
    • সাজানো: Bring Forward, Send Backward, Align।
    • একসাথে করা: কয়েকটি Shape Ctrl চেপে সিলেক্ট করে Group।

    উপসংহার: Shapes ব্যবহার করে ডকুমেন্টে সহজেই ফ্লোচার্ট, চিত্র ও আকর্ষণীয় নকশা তৈরি করা যায়।

  4. ৩-র-৭★★বই: পৃষ্ঠা ১০৯

    ৪.ডকুমেন্ট সেইভ করার বিভিন্ন ধরনের ফাইল ফরম্যাটের নাম লেখ।

    উত্তর

    ডকুমেন্ট সেভ করার সময় Save As → Save as type থেকে বিভিন্ন ফাইল ফরম্যাট (ফাইলের ধরন) বাছাই করা যায়। প্রতিটি ফরম্যাট আলাদা এক্সটেনশন দিয়ে চেনা যায়।

     File ─► Save As ─► Save as type ▾ ─► .docx / .pdf / .rtf / .txt / .odt ...
    
    ক্রমফাইল ফরম্যাটের নামএক্সটেনশনব্যবহার
    ১Word Document.docxWord 2007 ও পরের সাধারণ ফরম্যাট
    ২Word 97-2003 Document.docপুরনো Word-এ খোলার জন্য
    ৩Word Template.dotxবারবার ব্যবহারের নমুনা (টেমপ্লেট)
    ৪Word Macro-Enabled Document.docmম্যাক্রোসহ ডকুমেন্ট
    ৫PDF.pdfপরিবর্তন ছাড়া সব ডিভাইসে একই রকম দেখায়
    ৬XPS Document.xpsPDF-এর মতো মাইক্রোসফটের ফরম্যাট
    ৭Rich Text Format.rtfপ্রায় সব ওয়ার্ড প্রসেসরে খোলে, ফরমেটিং থাকে
    ৮Plain Text.txtশুধু লেখা, কোনো ফরমেটিং নেই
    ৯Web Page.htm / .htmlওয়েবসাইটে ব্যবহারের জন্য
    ১০Single File Web Page.mht / .mhtmlছবিসহ এক ফাইলের ওয়েব পেজ
    ১১Word XML Document.xmlডেটা আদান-প্রদানের জন্য
    ১২OpenDocument Text.odtLibreOffice Writer-এর ফরম্যাট

    💡 কোনটি কখন: সাধারণ কাজে .docx, কাউকে পাঠাতে যেন বদলাতে না পারে তাই .pdf, পুরনো কম্পিউটারের জন্য .doc, LibreOffice ব্যবহারকারীর জন্য .odt।

    উপসংহার: প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ফরম্যাটে সেভ করলে ফাইল যেকোনো কম্পিউটারে সহজে খোলা ও ব্যবহার করা যায়।

  5. ৩-র-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ১১১

    ৫.ডকুমেন্ট প্রিন্টিং-এর সেটিংসমূহ বর্ণনা কর।

    • অথবা, ডকুমেন্ট প্রিন্টের ধাপগুলো বর্ণনা কর।

    উত্তর

    কম্পিউটারে তৈরি ডকুমেন্ট প্রিন্টারের মাধ্যমে কাগজে ছাপানোকে ডকুমেন্ট প্রিন্টিং বলে। সঠিক সেটিংস না দিলে কাগজ ও কালি নষ্ট হয়, তাই প্রিন্টের আগে সেটিংস ঠিক করা জরুরি।

     File ──► Print (Ctrl+P) ──► প্রিন্টার বাছাই ──► পৃষ্ঠা ও কপি সংখ্যা ──► সেটিংস ──► Print 🖨
                                                                   (কাগজ, মার্জিন, ওরিয়েন্টেশন)
    
    ┌─────────────── Print (Ctrl+P) ───────────────┐
    │ 🖨 Print    Copies: [ 1 ]  │                   │
    │ Printer: [HP LaserJet ▾]  │   ┌───────────┐   │
    │ Settings:                 │   │  প্রিন্ট    │   │
    │  [Print All Pages      ▾] │   │  প্রিভিউ    │   │
    │  Pages: [ 1-3, 5 ]        │   │           │   │
    │  [Print One Sided      ▾] │   └───────────┘   │
    │  [Collated 1,2,3 1,2,3 ▾] │   ◄ 1 of 3 ►      │
    │  [Portrait Orientation ▾] │                   │
    │  [A4                   ▾] │                   │
    │  [Normal Margins       ▾] │                   │
    │  [1 Page Per Sheet     ▾] │                   │
    │  Page Setup               │                   │
    └───────────────────────────────────────────────┘
    

    প্রিন্টিং-এর সেটিংসমূহ

    ক্রমসেটিংকাজ ও বিকল্প
    ১Copiesকত কপি ছাপাতে হবে
    ২Printerকোন প্রিন্টারে ছাপা হবে; Printer Properties থেকে মান (Draft/Normal/Best), রঙিন বা সাদাকালো
    ৩Print All Pagesসব পৃষ্ঠা; বিকল্প: Print Current Page, Print Selection, Custom Print
    ৪Pagesনির্দিষ্ট পৃষ্ঠা, যেমন 1-3, 5 (১ থেকে ৩ ও ৫ নম্বর)
    ৫Print One Sided / Both Sidesকাগজের এক পাশে বা দুই পাশে ছাপা
    ৬Collated / Uncollatedএকাধিক কপিতে সেট আকারে (1,2,3 1,2,3) না পৃষ্ঠা অনুযায়ী (1,1 2,2 3,3)
    ৭OrientationPortrait (লম্বালম্বি) বা Landscape (আড়াআড়ি)
    ৮Paper SizeA4, Letter, Legal, A5 ইত্যাদি
    ৯MarginsNormal, Narrow, Wide বা Custom Margins
    ১০Pages Per Sheetএক কাগজে ১, ২, ৪… পৃষ্ঠা
    ১১Page Setupমার্জিন, কাগজ ও লেআউটের বিস্তারিত সেটিং
    ১২Print Previewছাপার আগে কেমন দেখাবে তা দেখা
     Portrait        Landscape
     ┌─────┐         ┌──────────┐
     │     │         │          │
     │     │         └──────────┘
     │     │
     └─────┘
    

    ডকুমেন্ট প্রিন্টের ধাপসমূহ

    1. ডকুমেন্ট খুলে প্রিন্টার চালু ও কাগজ দেওয়া আছে কি না দেখা।
    2. File → Print বা Ctrl + P।
    3. Printer নির্বাচন।
    4. Copies সংখ্যা নির্ধারণ।
    5. কোন পৃষ্ঠাগুলো ছাপা হবে তা ঠিক করা।
    6. কাগজের আকার, ওরিয়েন্টেশন, মার্জিন, এক/দুই পাশ ঠিক করা।
    7. Print Preview দেখে যাচাই।
    8. Print বাটনে ক্লিক।

    উপসংহার: সঠিক সেটিংস দিয়ে প্রিন্ট করলে কাগজ, কালি ও সময় সাশ্রয় হয় এবং ছাপা ডকুমেন্ট পরিচ্ছন্ন হয়।

অধ্যায় ৪: স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস অনুশীলন

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৭টি)

  1. ৪-সং-১★★বই: পৃষ্ঠা ১১৪

    ১.MAX ও MIN ফাংশনের ব্যবহার করার পদ্ধতি বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২২, ২৪]

    উত্তর

    MAX ফাংশন: কোনো রেঞ্জের সংখ্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় মান বের করে। MIN ফাংশন: কোনো রেঞ্জের সংখ্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট মান বের করে।

    গঠন: =MAX(number1, number2, …) এবং =MIN(number1, number2, …)

    ব্যবহারের পদ্ধতি:

    1. যে সেলে ফলাফল চাই, সেটিতে ক্লিক করতে হবে।
    2. =MAX( টাইপ করতে হবে।
    3. সংখ্যার রেঞ্জ সিলেক্ট বা টাইপ করতে হবে (যেমন B2:B4)।
    4. ) দিয়ে Enter চাপতে হবে।
         │    A     │   B    │   C    │   D    │   E    │
    ─────┼──────────┼────────┼────────┼────────┼────────┤
      1  │ নাম      │ বাংলা  │ ইংরেজি │ গণিত   │ মোট    │
      2  │ রহিম     │   ৭০   │   ৬৫   │   ৮০   │  ২১৫   │
      3  │ করিম     │   ৮৫   │   ৫০   │   ৯০   │  ২২৫   │
      4  │ সুমি      │   ৬০   │   ৭৫   │   ৭০   │  ২০৫   │
    ─────┴──────────┴────────┴────────┴────────┴────────┘
              নমুনা ওয়ার্কশিট (নম্বর আছে B2:D4 রেঞ্জে)
    

    উদাহরণ:

    • =MAX(B2:B4) → ৮৫ (বাংলায় সর্বোচ্চ নম্বর)
    • =MIN(B2:B4) → ৬০ (বাংলায় সর্বনিম্ন নম্বর)

    Home ট্যাব → AutoSum (Σ) ▾ → Max / Min দিয়েও করা যায়।

  2. ৪-সং-২★★বই: পৃষ্ঠা ১১৪

    ২.Excel কী?

    উত্তর

    Microsoft Excel হলো মাইক্রোসফট কোম্পানির তৈরি একটি জনপ্রিয় স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস প্রোগ্রাম, যা MS Office-এর অংশ। এতে সারি (Row) ও কলাম (Column) মিলে তৈরি ঘরে (সেল) তথ্য রেখে হিসাব-নিকাশ, বিশ্লেষণ ও চার্ট তৈরি করা যায়।

    একটি Excel ফাইলকে ওয়ার্কবুক বলে, যার প্রতিটি পাতা একটি ওয়ার্কশিট। এর ফাইল এক্সটেনশন .xlsx।

    ব্যবহার: পরীক্ষার ফলাফল তৈরি, বেতনের হিসাব (পে-রোল), দোকানের হিসাব, বাজেট, স্টক তালিকা, চার্ট ও গ্রাফ তৈরি।

    উদাহরণ: কলেজের ১০০ জন শিক্ষার্থীর নম্বর লিখে =SUM() ও =AVERAGE() দিয়ে মুহূর্তেই মোট ও গড় নম্বর বের করা যায়।

    (বিনামূল্যের বিকল্প: LibreOffice Calc, Google Sheets)

  3. ৪-সং-৫★★বই: পৃষ্ঠা ১১৪

    ৩.চার্ট কী?

    উত্তর

    ওয়ার্কশিটের সংখ্যাভিত্তিক তথ্যকে ছবি বা চিত্রের মাধ্যমে (বার, রেখা, বৃত্ত ইত্যাদি) উপস্থাপন করাকে চার্ট (Chart) বা গ্রাফ বলে।

    অনেক সংখ্যা একসাথে দেখে বোঝা কঠিন, কিন্তু চার্ট দেখে এক নজরে তুলনা, বৃদ্ধি-হ্রাস ও প্রবণতা বোঝা যায়।

    প্রধান চার্টের ধরন: Column, Bar, Line, Pie, Area, Scatter (XY)।

    উদাহরণ: তিন শিক্ষার্থীর নম্বর:

     ৯০┤      ██
     ৮০┤ ██   ██
     ৭০┤ ██   ██   ██
     ৬০┤ ██   ██   ██
       └─┴────┴────┴──
        রহিম করিম সুমি   (কলাম চার্ট)
    

    তৈরি: ডেটা সিলেক্ট → Insert → Charts → চার্টের ধরন (অথবা Alt + F1)।

  4. ৪-সং-৭★★বই: পৃষ্ঠা ১১৪

    ৪.Count ফাংশনের ব্যবহার বর্ণনা কর।

    উত্তর

    COUNT ফাংশন: কোনো রেঞ্জে কতগুলো সেলে সংখ্যা আছে তা গণনা করে। লেখা বা খালি সেল গণনা করে না।

    গঠন: =COUNT(value1, value2, …)

    ব্যবহারের পদ্ধতি: ফলাফলের সেলে ক্লিক করে =COUNT( টাইপ → রেঞ্জ সিলেক্ট → ) → Enter।

         │   A    │
    ─────┼────────┤
      1  │ নম্বর   │ ← লেখা (গণনা হবে না)
      2  │   ৭০   │
      3  │  অনুপস্থিত│ ← লেখা (গণনা হবে না)
      4  │   ৮৫   │
      5  │        │ ← খালি (গণনা হবে না)
      6  │   ৬০   │
    

    উদাহরণ: =COUNT(A1:A6) → ৩ (শুধু ৭০, ৮৫, ৬০)

    সম্পর্কিত ফাংশন:

    ফাংশনযা গণনা করে
    COUNTশুধু সংখ্যাযুক্ত সেল
    COUNTAখালি নয় এমন সব সেল (লেখা + সংখ্যা)
    COUNTBLANKখালি সেল
    COUNTIFশর্ত পূরণকারী সেল, যেমন =COUNTIF(A2:A6,">=80")
  5. ৪-সং-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ১১৫

    ৫.সাম ফাংশনের ব্যবহার করে Row যোগ করার উপায় বর্ণনা কর।

    উত্তর

    SUM ফাংশন দিয়ে একটি সারির (Row) সব সংখ্যা একসাথে যোগ করা যায়।

    গঠন: =SUM(number1, number2, …) বা =SUM(প্রথম সেল:শেষ সেল)

         │    A     │   B    │   C    │   D    │   E    │
    ─────┼──────────┼────────┼────────┼────────┼────────┤
      1  │ নাম      │ বাংলা  │ ইংরেজি │ গণিত   │ মোট    │
      2  │ রহিম     │   ৭০   │   ৬৫   │   ৮০   │  ২১৫   │
      3  │ করিম     │   ৮৫   │   ৫০   │   ৯০   │  ২২৫   │
      4  │ সুমি      │   ৬০   │   ৭৫   │   ৭০   │  ২০৫   │
    ─────┴──────────┴────────┴────────┴────────┴────────┘
              নমুনা ওয়ার্কশিট (নম্বর আছে B2:D4 রেঞ্জে)
    

    পদ্ধতি ১: সূত্র টাইপ করে

    1. সারির শেষে যে সেলে যোগফল চাই (যেমন E2) সেখানে ক্লিক।
    2. =SUM(B2:D2) টাইপ।
    3. Enter চাপলে ফলাফল ২১৫ (৭০ + ৬৫ + ৮০)।

    পদ্ধতি ২: AutoSum দিয়ে

    1. E2 সেলে ক্লিক।
    2. Home → Editing → AutoSum (Σ) ক্লিক বা Alt + = চাপা।
    3. Excel নিজে B2:D2 সিলেক্ট করবে; Enter চাপা।

    বাকি সারিতে কপি: E2 সেলের নিচের ডান কোণের ছোট বর্গ (Fill Handle) টেনে E4 পর্যন্ত নামালে E3 = ২২৫, E4 = ২০৫ হবে।

    💡 =B2+C2+D2 লিখেও যোগ করা যায়, তবে অনেক সেল হলে SUM সহজ।

  6. ৪-সং-১৪★★বই: পৃষ্ঠা ১১৫

    ৬.সেল কী?

    উত্তর

    ওয়ার্কশিটে একটি কলাম (Column) ও একটি সারির (Row) ছেদবিন্দুতে যে আয়তাকার ঘর তৈরি হয়, তাকে সেল (Cell) বলে। এটিই তথ্য রাখার সবচেয়ে ছোট একক।

    প্রতিটি সেলের একটি ঠিকানা (Cell Address) থাকে, যা কলামের অক্ষর + সারির নম্বর দিয়ে লেখা হয়।

         │  A  │  B  │  C  │
    ─────┼─────┼─────┼─────┤
      1  │     │     │     │
      2  │     │ B2  │     │ ← কলাম B ও সারি 2 এর ছেদে সেল B2
      3  │     │     │     │
    

    উদাহরণ: কলাম C ও সারি 5 মিলে সেল C5।

    যে সেলে কার্সর থাকে, তাকে সক্রিয় সেল (Active Cell) বলে; এর চারপাশে মোটা সবুজ বর্ডার থাকে এবং নেম বক্সে এর ঠিকানা দেখায়। সেলে সংখ্যা, লেখা, তারিখ বা সূত্র রাখা যায়।

  7. ৪-সং-১৫★★বই: পৃষ্ঠা ১১৫

    ৭.ডাইনামিক সেল অ্যাড্রেস কী?

    উত্তর

    ডাইনামিক সেল অ্যাড্রেস বলতে এমন সেল ঠিকানা বোঝায়, যা সূত্র কপি করে অন্য সেলে নিলে নিজে থেকেই বদলে যায়। একে রিলেটিভ সেল রেফারেন্স (Relative Cell Reference) বলা হয়। Excel-এ সাধারণ ঠিকানাগুলো (যেমন A1, B2) ডিফল্টভাবে ডাইনামিক।

    উদাহরণ: C1 সেলে =A1+B1 লিখে Fill Handle দিয়ে নিচে কপি করলে:

    সেলসূত্র (নিজে থেকে বদলায়)
    C1=A1+B1
    C2=A2+B2
    C3=A3+B3

    এর বিপরীত হলো স্ট্যাটিক বা অ্যাবসলিউট সেল অ্যাড্রেস, যেখানে $ চিহ্ন দিলে কপি করলেও ঠিকানা বদলায় না (যেমন $A$1)।

    ধরনউদাহরণকপি করলে
    রিলেটিভ (ডাইনামিক)A1বদলায়
    অ্যাবসলিউট$A$1বদলায় না
    মিক্সড$A1 বা A$1আংশিক বদলায়

    💡 সূত্র লেখার সময় F4 চাপলে ঠিকানা A1 → $A$1 → A$1 → $A1 হিসেবে বদলায়।

রচনামূলক প্রশ্ন (৭টি)

  1. ৪-র-১★★বই: পৃষ্ঠা ১১৭

    ১.বিভিন্ন ধরনের গ্রাফ তৈরি করার নিয়ম বর্ণনা কর।

    • অথবা, লাইন গ্রাফ তৈরি করার কমান্ড ধারাবাহিকভাবে আলোচনা কর।

    উত্তর

    গ্রাফ বা চার্ট: ওয়ার্কশিটের সংখ্যাভিত্তিক তথ্যকে বার, রেখা, বৃত্ত ইত্যাদির মাধ্যমে চিত্র আকারে উপস্থাপন করাকে গ্রাফ বলে। এতে তথ্য সহজে তুলনা ও বোঝা যায়।

     ডেটা লেখা ─► ডেটা সিলেক্ট ─► Insert ট্যাব ─► Charts গ্রুপ ─► চার্টের ধরন ─► Chart Elements দিয়ে সাজানো
    

    গ্রাফ তৈরির সাধারণ নিয়ম

    1. ডেটা লেখা: ওয়ার্কশিটে শিরোনামসহ ডেটা সারি-কলামে লিখতে হবে।
         │    A     │   B    │   C    │
    ─────┼──────────┼────────┼────────┤
      1  │ মাস      │ আয়    │ ব্যয়   │
      2  │ জানুয়ারি  │ ২০০০০  │ ১৫০০০  │
      3  │ ফেব্রুয়ারি │ ২৫০০০  │ ১৮০০০  │
      4  │ মার্চ     │ ২২০০০  │ ১৬০০০  │
    
    1. ডেটা সিলেক্ট: শিরোনামসহ রেঞ্জ (A1:C4) সিলেক্ট করতে হবে।
    2. Insert ট্যাব: Insert ট্যাবে ক্লিক।
    3. চার্টের ধরন বাছাই: Charts গ্রুপ থেকে প্রয়োজনীয় চার্ট বাছাই:
    গ্রাফের ধরনInsert ট্যাবের বাটনকখন ব্যবহার
    কলাম গ্রাফInsert Column or Bar Chart → Clustered Columnতুলনা
    বার গ্রাফInsert Column or Bar Chart → Clustered Barলম্বা নামের তুলনা
    লাইন গ্রাফInsert Line or Area Chart → Lineসময়ের সাথে পরিবর্তন
    পাই গ্রাফInsert Pie or Doughnut Chart → Pieমোটের অংশ (%)
    এরিয়া গ্রাফInsert Line or Area Chart → Areaপরিবর্তনের পরিমাণ
    স্ক্যাটারInsert Scatter (X, Y)দুই চলকের সম্পর্ক
    1. সাজানো: চার্ট সিলেক্ট করে Chart Elements (+) থেকে Chart Title, Axis Titles, Legend, Data Labels যোগ করা।
    2. ডিজাইন: Chart Design ট্যাব থেকে Chart Styles, Change Colors, Change Chart Type, Switch Row/Column, Move Chart।
    3. আকার ও অবস্থান: চার্টের কোণ টেনে আকার এবং মাঝখান থেকে টেনে অবস্থান ঠিক করা।

    লাইন গ্রাফ তৈরির কমান্ড ধারাবাহিকভাবে

    1. মাস ও আয়ের ডেটা লেখা (A1:B4)।
    2. A1:B4 সিলেক্ট।
    3. Insert → Charts → Insert Line or Area Chart ক্লিক।
    4. 2-D Line → Line with Markers বাছাই।
    5. Chart Title-এ ক্লিক করে লেখা: "মাসিক আয়"।
    6. Chart Elements (+) → Axis Titles: X অক্ষে "মাস", Y অক্ষে "টাকা"।
    7. Data Labels চালু করে প্রতিটি বিন্দুর মান দেখানো।
    8. Chart Styles থেকে স্টাইল বাছাই।
     টাকা
     ২৫০০০┤        ●
     ২২০০০┤       ╱  ╲●
     ২০০০০┤  ●  ╱
          └──┴────┴────┴──
            জানু  ফেব্রু  মার্চ   (মাস)
              মাসিক আয় (লাইন গ্রাফ)
    

    💡 দ্রুত উপায়: ডেটা সিলেক্ট করে Alt + F1 চাপলে একই শিটে, আর F11 চাপলে আলাদা চার্ট শিটে কলাম চার্ট তৈরি হয়।

    উপসংহার: সঠিক ধরনের গ্রাফ বেছে নিলে তথ্য দ্রুত, স্পষ্ট ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়।

  2. ৪-র-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ১১৭

    ২.ওয়ার্কশিটের বিভিন্ন ধরনের চার্টের বর্ণনা দাও।

    উত্তর

    ওয়ার্কশিটের তথ্যকে চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপনের জন্য Excel-এ বিভিন্ন ধরনের চার্ট আছে। তথ্যের প্রকৃতি অনুযায়ী সঠিক চার্ট বেছে নিতে হয়।

                        Excel চার্টের ধরন
                               │
       ┌──────┬──────┬──────┬──┴───┬───────┬────────┬────────┐
     কলাম    বার   লাইন    পাই   এরিয়া  স্ক্যাটার  কম্বো   অন্যান্য
                                                       (Doughnut, Radar,
                                                        Stock, Surface,
                                                        Histogram, Map)
    

    ১. কলাম চার্ট (Column Chart)

    ডেটাকে খাড়া বার দিয়ে দেখায়। বিভিন্ন বিষয়ের মানের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। উদাহরণ: শিক্ষার্থীদের নম্বরের তুলনা।

     ██
     ██ ██    ██
     ██ ██ ██ ██
    

    ২. বার চার্ট (Bar Chart)

    ডেটাকে আনুভূমিক বার দিয়ে দেখায়। শ্রেণির নাম লম্বা হলে উপযোগী।

     ████████████
     ████████
     ██████████████
    

    ৩. লাইন চার্ট (Line Chart)

    বিন্দুগুলো রেখা দিয়ে যুক্ত করে দেখায়। সময়ের সাথে পরিবর্তন বা প্রবণতা দেখাতে উপযোগী। উদাহরণ: মাসিক বিক্রি, তাপমাত্রা।

            ●
       ●  ╱
      ╱ ╲●
     ●
    

    ৪. পাই চার্ট (Pie Chart)

    বৃত্তকে টুকরায় ভাগ করে মোটের অংশ বা শতাংশ দেখায়। শুধু একটি ডাটা সিরিজ। উদাহরণ: বাজেটের খাতভিত্তিক ভাগ।

       ╭──┬──╮
      │ ২৫%│৪০%│
       ╰──┴──╯
    

    ৫. এরিয়া চার্ট (Area Chart)

    লাইন চার্টের নিচের অংশ রং দিয়ে ভরাট থাকে। সময়ের সাথে পরিবর্তনের পরিমাণ বোঝায়।

          ▄▄▄
      ▄▄▄█████▄
     ███████████
    

    ৬. স্ক্যাটার বা XY চার্ট (Scatter Chart)

    দুটি সংখ্যাভিত্তিক চলকের সম্পর্ক দেখায়, শুধু বিন্দু দিয়ে। উদাহরণ: পড়ার সময় ও প্রাপ্ত নম্বরের সম্পর্ক।

     ·    ·  ·
       ·  ·    ·
     ·   ·
    

    ৭. ডোনাট চার্ট (Doughnut Chart)

    পাই চার্টের মতো, কিন্তু মাঝখানে ফাঁকা; একাধিক সিরিজ দেখানো যায়।

    ৮. অন্যান্য চার্ট

    চার্টব্যবহার
    Combo Chartদুই ধরনের চার্ট একসাথে (কলাম + লাইন)
    Radar Chartকেন্দ্র থেকে কয়েকটি বিষয়ের তুলনা
    Stock Chartশেয়ারের দাম (উচ্চ, নিম্ন, সমাপনী)
    Surface Chartত্রিমাত্রিক তল
    Histogramতথ্যের বণ্টন (Frequency)
    Map Chartদেশ বা অঞ্চলভিত্তিক তথ্য

    সারসংক্ষেপ

    চার্টকখন ব্যবহার করব
    কলাম / বারতুলনা
    লাইন / এরিয়াসময়ের সাথে পরিবর্তন
    পাই / ডোনাটমোটের অংশ (%)
    স্ক্যাটারদুই চলকের সম্পর্ক

    উপসংহার: তথ্যের ধরন বুঝে সঠিক চার্ট বেছে নিলে তথ্য সহজে বোঝা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

  3. ৪-র-৫★★বই: পৃষ্ঠা ১১৮

    ৩.স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস সফটওয়্যারের মেনুসমূহ বর্ণনা কর।

    উত্তর

    স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস সফটওয়্যার (MS Excel)-এ সব কমান্ড বিভিন্ন মেনু বা ট্যাবে সাজানো থাকে। Excel 2007 থেকে মেনুর বদলে রিবনের ট্যাব ব্যবহার হয়।

     File │ Home │ Insert │ Page Layout │ Formulas │ Data │ Review │ View │ Help
    

    ১. File মেনু (Backstage View)

    ফাইল সম্পর্কিত কাজ: New, Open, Save, Save As, Print, Share, Export, Close, Account, Options।

    ২. Home ট্যাব

    সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কমান্ড:

    • Clipboard: Cut, Copy, Paste, Format Painter
    • Font: ফন্ট, আকার, Bold, Italic, Underline, Border, Fill Color
    • Alignment: লেখার অবস্থান, Wrap Text, Merge & Center
    • Number: Currency, Percentage, Comma, Date, দশমিক বাড়ানো-কমানো
    • Styles: Conditional Formatting, Format as Table, Cell Styles
    • Cells: Insert, Delete, Format (সারি-কলামের আকার)
    • Editing: AutoSum (Σ), Fill, Clear, Sort & Filter, Find & Select

    ৩. Insert ট্যাব

    ওয়ার্কশিটে নতুন জিনিস যোগ:

    • Tables: PivotTable, Table
    • Illustrations: Pictures, Shapes, Icons, SmartArt
    • Charts: Column, Bar, Line, Pie, Area, Scatter
    • Sparklines, Filters (Slicer), Links, Text (Text Box, Header & Footer, WordArt), Symbols

    ৪. Page Layout ট্যাব

    ছাপার জন্য পৃষ্ঠা সাজানো:

    • Themes, Margins, Orientation, Size, Print Area, Breaks, Background, Print Titles
    • Scale to Fit, Sheet Options (Gridlines, Headings)

    ৫. Formulas ট্যাব

    সূত্র ও ফাংশন:

    • Insert Function (fx), AutoSum, Function Library (Financial, Logical, Text, Date & Time, Math & Trig)
    • Defined Names, Formula Auditing (Trace, Show Formulas), Calculation Options

    ৬. Data ট্যাব

    ডেটা ব্যবস্থাপনা:

    • Get External Data, Refresh All
    • Sort & Filter (A→Z, Z→A, Filter)
    • Data Tools: Text to Columns, Remove Duplicates, Data Validation
    • Forecast: What-If Analysis, Goal Seek
    • Outline: Group, Ungroup, Subtotal

    ৭. Review ট্যাব

    যাচাই ও সুরক্ষা: Spelling, Comments, Protect Sheet, Protect Workbook, Share Workbook, Track Changes।

    ৮. View ট্যাব

    দেখার পদ্ধতি: Normal, Page Break Preview, Page Layout, Gridlines, Formula Bar, Headings, Zoom, Freeze Panes, Split, New Window, Macros।

    ৯. Help ট্যাব

    সাহায্য, প্রশিক্ষণ ও মতামত পাঠানো।

    ট্যাবএক কথায় কাজ
    Fileফাইল খোলা, সেভ, প্রিন্ট
    Homeফরমেটিং ও সম্পাদনা
    Insertচার্ট, ছবি, টেবিল যোগ
    Page Layoutপৃষ্ঠা সাজানো
    Formulasসূত্র ও ফাংশন
    Dataসাজানো, ফিল্টার, যাচাই
    Reviewবানান, মন্তব্য, সুরক্ষা
    Viewদেখার ধরন, Freeze Panes

    উপসংহার: মেনু ও ট্যাবগুলোর কাজ জানা থাকলে স্প্রেডশিটে যেকোনো হিসাব, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনা দ্রুত করা যায়।

  4. ৪-র-৬★★বই: পৃষ্ঠা ১১৮

    ৪.রিবনের বিভিন্ন অংশসমূহের বর্ণনা দাও।

    উত্তর

    রিবন (Ribbon): MS Office 2007 ও পরবর্তী সংস্করণে টাইটেল বারের নিচে ট্যাব আকারে সাজানো, ছবিসহ কমান্ড বাটনের চওড়া অংশকে রিবন বলে। এটি পুরনো মেনু বার ও টুলবারের জায়গা নিয়েছে।

     ①ট্যাব ►  File │ Home │ Insert │ Page Layout │ Formulas │ Data ...
             ┌──────────┬────────────────┬─────────────────┬────────┐
     ③কমান্ড► │ ✂ 📋 🖌   │ Calibri ▾ 11 ▾ │ ≡ ≡ ≡  ⇥  ⊞     │ Σ ▾ ⇅  │
             │          │ B  I  U  ⊞ A ▾ │ Wrap  Merge     │        │
     ②গ্রুপ► │ Clipboard ⌟│     Font     ⌟ │   Alignment    ⌟│Editing │
             └──────────┴────────────────┴─────────────────┴────────┘
                        ④ ⌟ = ডায়ালগ বক্স লঞ্চার
     ⑤ কনটেক্সচুয়াল ট্যাব (চার্ট সিলেক্ট করলে): Chart Design │ Format
    

    রিবনের বিভিন্ন অংশ

    ১. ট্যাব (Tab): রিবনের ওপরের সারির নামগুলো, যেমন File, Home, Insert, Page Layout, Formulas, Data, Review, View। প্রতিটি ট্যাব একটি নির্দিষ্ট ধরনের কাজের কমান্ড ধারণ করে।

    ২. গ্রুপ (Group): প্রতিটি ট্যাবের ভেতরে সম্পর্কিত কমান্ডগুলোর দল। গ্রুপের নাম নিচে লেখা থাকে। উদাহরণ: Home ট্যাবে Clipboard, Font, Alignment, Number, Styles, Cells, Editing গ্রুপ।

    ৩. কমান্ড বাটন (Command): গ্রুপের ভেতরের বাটন, ড্রপ-ডাউন তালিকা বা বক্স, যাতে ক্লিক করলে কাজটি হয়। যেমন Bold (B), Copy, Merge & Center।

    ৪. ডায়ালগ বক্স লঞ্চার (Dialog Box Launcher): কিছু গ্রুপের নিচের ডান কোণের ছোট তীরচিহ্ন (⌟)। ক্লিক করলে ওই গ্রুপের বিস্তারিত অপশনের ডায়ালগ বক্স খোলে। যেমন Font গ্রুপের লঞ্চারে Format Cells বক্স।

    ৫. কনটেক্সচুয়াল ট্যাব (Contextual Tab): নির্দিষ্ট কিছু সিলেক্ট করলে তবেই যে বিশেষ ট্যাব দেখা যায়। যেমন চার্ট সিলেক্ট করলে Chart Design ও Format, ছবি সিলেক্ট করলে Picture Format।

    ৬. File ট্যাব (Backstage View): রিবনের প্রথম ট্যাব; ক্লিক করলে পুরো পর্দায় New, Open, Save, Print, Options ইত্যাদি খোলে।

    ৭. Quick Access Toolbar: রিবনের ওপরে (টাইটেল বারে) থাকা ছোট টুলবার, যেখানে Save, Undo, Redo-এর মতো প্রিয় কমান্ড রাখা যায়।

    ৮. রিবন ছোট-বড় করা ও কাস্টমাইজ:

    • Ctrl + F1 বা ট্যাবে ডাবল-ক্লিক করে রিবন লুকানো/দেখানো।
    • File → Options → Customize Ribbon থেকে নতুন ট্যাব বা গ্রুপ যোগ।
    অংশউদাহরণ
    ট্যাবHome, Insert
    গ্রুপFont, Alignment
    কমান্ডBold, Merge & Center
    ডায়ালগ বক্স লঞ্চারFont গ্রুপের ⌟
    কনটেক্সচুয়াল ট্যাবChart Design

    💡 Alt চাপলে প্রতিটি ট্যাব ও কমান্ডের পাশে অক্ষর (KeyTip) দেখায়, যা দিয়ে কী-বোর্ডেই রিবন ব্যবহার করা যায়।

    উপসংহার: রিবনের অংশগুলো চিনলে দরকারি কমান্ড দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায় এবং কাজ সহজ হয়।

  5. ৪-র-৮★★বই: পৃষ্ঠা ১২০

    ৫.ওয়ার্কশিটে লজিক্যাল ফাংশনসমূহের ব্যবহার ব্যাখ্যা কর।

    উত্তর

    লজিক্যাল ফাংশন: যেসব ফাংশন শর্ত পরীক্ষা করে সত্য (TRUE) বা মিথ্যা (FALSE) নির্ণয় করে এবং সে অনুযায়ী ফলাফল দেয়, সেগুলোকে লজিক্যাল (যৌক্তিক) ফাংশন বলে। Excel-এ এগুলো Formulas → Logical অংশে থাকে।

    তুলনামূলক অপারেটর

    অপারেটরঅর্থউদাহরণ
    =সমানB2=50
    >বড়B2>50
    <ছোটB2<33
    >=বড় বা সমানB2>=33
    <=ছোট বা সমানB2<=100
    <>সমান নয়B2<>0
         │    A     │   B    │   C    │   D    │   E    │
    ─────┼──────────┼────────┼────────┼────────┼────────┤
      1  │ নাম      │ বাংলা  │ ইংরেজি │ গণিত   │ মোট    │
      2  │ রহিম     │   ৭০   │   ৬৫   │   ৮০   │  ২১৫   │
      3  │ করিম     │   ৮৫   │   ৫০   │   ৯০   │  ২২৫   │
      4  │ সুমি      │   ৬০   │   ৭৫   │   ৭০   │  ২০৫   │
    ─────┴──────────┴────────┴────────┴────────┴────────┘
              নমুনা ওয়ার্কশিট (নম্বর আছে B2:D4 রেঞ্জে)
    

    ১. IF ফাংশন

    একটি শর্ত পরীক্ষা করে, সত্য হলে এক ফলাফল, মিথ্যা হলে আরেক ফলাফল দেয়। গঠন: =IF(logical_test, value_if_true, value_if_false) উদাহরণ: =IF(B2>=33, "পাস", "ফেল") → রহিমের বাংলা ৭০, তাই পাস।

            B2>=33 ?
            ╱      ╲
         TRUE     FALSE
          │         │
        "পাস"     "ফেল"
    

    নেস্টেড IF (গ্রেড নির্ণয়): =IF(B2>=80,"A+",IF(B2>=70,"A",IF(B2>=60,"A-",IF(B2>=33,"পাস","F"))))

    ২. AND ফাংশন

    সবগুলো শর্ত সত্য হলে TRUE দেয়। গঠন: =AND(logical1, logical2, …) উদাহরণ: =AND(B2>=33, C2>=33, D2>=33) → তিন বিষয়েই পাস করলে TRUE।

    ৩. OR ফাংশন

    যেকোনো একটি শর্ত সত্য হলে TRUE দেয়। গঠন: =OR(logical1, logical2, …) উদাহরণ: =OR(B2>=80, C2>=80) → যেকোনো একটিতে ৮০ পেলে TRUE।

    ৪. NOT ফাংশন

    শর্তের ফলাফল উল্টে দেয় (TRUE কে FALSE, FALSE কে TRUE)। উদাহরণ: =NOT(B2<33) → B2 = ৭০ হলে B2<33 মিথ্যা, তাই ফলাফল TRUE।

    ৫. IF + AND / OR একসাথে

    • =IF(AND(B2>=33,C2>=33,D2>=33), "পাস", "ফেল") → সব বিষয়ে পাস করলে "পাস"।
    • =IF(OR(B2<33,C2<33,D2<33), "ফেল", "পাস") → একটিতেও ফেল করলে "ফেল"।

    ৬. অন্যান্য লজিক্যাল ফাংশন

    ফাংশনকাজউদাহরণ
    IFERRORভুল হলে বিকল্প দেখায়=IFERROR(A1/B1, 0)
    IFSকয়েকটি শর্ত সহজে (Excel 2019+)=IFS(B2>=80,"A+",B2>=33,"পাস",TRUE,"F")
    XORশুধু একটি শর্ত সত্য হলে TRUE=XOR(B2>50, C2>50)
    TRUE() / FALSE()সরাসরি TRUE বা FALSE=TRUE()

    সত্যক সারণি (Truth Table)

    শর্ত ১শর্ত ২ANDOR
    TRUETRUETRUETRUE
    TRUEFALSEFALSETRUE
    FALSETRUEFALSETRUE
    FALSEFALSEFALSEFALSE

    💡 মনে রাখো: AND = সবাই রাজি, OR = যেকোনো একজন রাজি, NOT = উল্টো।

    উপসংহার: লজিক্যাল ফাংশন দিয়ে ফলাফল প্রস্তুত, বেতন-বোনাস নির্ধারণ, স্টক যাচাইয়ের মতো সিদ্ধান্তমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যায়।

  6. ৪-র-৯★★★বই: পৃষ্ঠা ১২১

    ৬.ওয়ার্কশিটের গাণিতিক ফাংশনসমূহের বর্ণনা দাও।

    উত্তর

    গাণিতিক ফাংশন: যেসব ফাংশন দিয়ে যোগ, গড়, সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন, গণনা, পূর্ণসংখ্যায় রূপান্তর, বর্গমূল ইত্যাদি গাণিতিক ও পরিসংখ্যানিক হিসাব করা হয়, সেগুলোকে গাণিতিক ফাংশন বলে। এগুলো Formulas → Math & Trig এবং More Functions → Statistical অংশে থাকে।

         │    A     │   B    │   C    │   D    │   E    │
    ─────┼──────────┼────────┼────────┼────────┼────────┤
      1  │ নাম      │ বাংলা  │ ইংরেজি │ গণিত   │ মোট    │
      2  │ রহিম     │   ৭০   │   ৬৫   │   ৮০   │  ২১৫   │
      3  │ করিম     │   ৮৫   │   ৫০   │   ৯০   │  ২২৫   │
      4  │ সুমি      │   ৬০   │   ৭৫   │   ৭০   │  ২০৫   │
    ─────┴──────────┴────────┴────────┴────────┴────────┘
              নমুনা ওয়ার্কশিট (নম্বর আছে B2:D4 রেঞ্জে)
    

    প্রধান গাণিতিক ফাংশনসমূহ

    ১. SUM: সংখ্যাগুলোর যোগফল। =SUM(B2:D2) → ৭০ + ৬৫ + ৮০ = ২১৫

    ২. AVERAGE: সংখ্যাগুলোর গড়। =AVERAGE(B2:D2) → ২১৫ ÷ ৩ = ৭১.৬৭

    ৩. MAX: সবচেয়ে বড় মান। =MAX(B2:B4) → ৮৫

    ৪. MIN: সবচেয়ে ছোট মান। =MIN(B2:B4) → ৬০

    ৫. COUNT: সংখ্যাযুক্ত সেলের সংখ্যা। =COUNT(B2:D4) → ৯

    ৬. ROUND: নির্দিষ্ট দশমিক ঘর পর্যন্ত নিকটতম মানে আনা। =ROUND(71.666, 2) → ৭১.৬৭; =ROUND(71.666, 0) → ৭২

    ৭. INT: দশমিক বাদ দিয়ে নিচের পূর্ণসংখ্যা। =INT(71.9) → ৭১

    ৮. ABS: পরম মান (ঋণাত্মক চিহ্ন বাদ)। =ABS(-25) → ২৫

    ৯. SQRT: বর্গমূল। =SQRT(144) → ১২

    ১০. POWER: ঘাত। =POWER(5, 2) → ৫² = ২৫ (একই কাজ =5^2)

    ১১. MOD: ভাগ করার পর ভাগশেষ। =MOD(17, 5) → ২

    ১২. PRODUCT: সংখ্যাগুলোর গুণফল। =PRODUCT(2, 3, 4) → ২৪

    ১৩. SUMIF: শর্ত পূরণকারী সংখ্যার যোগফল। =SUMIF(B2:B4, ">=70") → ৭০ + ৮৫ = ১৫৫

    ১৪. COUNTIF: শর্ত পূরণকারী সেলের সংখ্যা। =COUNTIF(B2:B4, ">=70") → ২

    সারসংক্ষেপ

    ফাংশনকাজউদাহরণফল
    SUMযোগ=SUM(5,10,15)৩০
    AVERAGEগড়=AVERAGE(5,10,15)১০
    MAXসর্বোচ্চ=MAX(5,10,15)১৫
    MINসর্বনিম্ন=MIN(5,10,15)৫
    COUNTগণনা=COUNT(5,10,15)৩
    ROUNDনিকটতম মান=ROUND(3.456,1)৩.৫
    INTপূর্ণসংখ্যা=INT(3.9)৩
    ABSপরম মান=ABS(-7)৭
    SQRTবর্গমূল=SQRT(81)৯
    POWERঘাত=POWER(2,3)৮
    MODভাগশেষ=MOD(10,3)১
    PRODUCTগুণফল=PRODUCT(2,5)১০

    💡 Home → AutoSum (Σ) ▾ থেকে Sum, Average, Count Numbers, Max, Min এক ক্লিকে পাওয়া যায়।

    উপসংহার: গাণিতিক ফাংশন ব্যবহার করে ফলাফল শিট, বেতন, হিসাবের খাতার মতো বড় হিসাবও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা যায়।

  7. ৪-র-১০★★বই: পৃষ্ঠা ১২২

    ৭.ওয়ার্কশিটে নাম্বার, টেক্সট, সিম্বল ও প্রয়োজনীয় ফর্মুলা ব্যবহার পদ্ধতি বর্ণনা কর।

    উত্তর

    ওয়ার্কশিটের সেলে মূলত চার ধরনের তথ্য রাখা হয়: নাম্বার (সংখ্যা), টেক্সট (লেখা), সিম্বল (চিহ্ন) ও ফর্মুলা (সূত্র)।

                     সেলের তথ্য
                         │
         ┌──────────┬────┴─────┬──────────┐
      নাম্বার      টেক্সট      সিম্বল      ফর্মুলা
      (৭০, ১২.৫)  (রহিম)     (৳, %, ©)   (=SUM(B2:D2))
      ডানে বসে    বামে বসে              = দিয়ে শুরু
    

    ক. নাম্বার (সংখ্যা) ব্যবহার

    1. সেলে ক্লিক করে সংখ্যা টাইপ করে Enter চাপতে হয়। সংখ্যা ডিফল্টভাবে সেলের ডানে বসে।
    2. Home → Number গ্রুপ বা Ctrl + 1 → Number ট্যাব থেকে ফরম্যাট:
    ফরম্যাটউদাহরণ
    General1500
    Number (দশমিকসহ)1500.00
    Currency / Accounting৳1,500.00
    Percentage15%
    Date / Time22/10/2026, 1:30 PM
    Fraction1/2
    Scientific1.50E+03
    1. ক্রমিক সংখ্যা: দুই সেলে ১ ও ২ লিখে সিলেক্ট করে Fill Handle টানলে ৩, ৪, ৫… স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে।
    2. সংখ্যাকে লেখা হিসেবে রাখতে (যেমন মোবাইল নম্বরের শুরুর ০) আগে ' (অ্যাপোস্ট্রফি) দিতে হয়: '01712...

    খ. টেক্সট (লেখা) ব্যবহার

    1. সেলে নাম, শিরোনাম, ঠিকানা টাইপ করলে তা বামে বসে।
    2. ফরমেটিং: Home ট্যাব থেকে ফন্ট, আকার, Bold, রং, Alignment।
    3. লম্বা লেখা একই সেলে কয়েক লাইনে দেখাতে Wrap Text; সেলের ভেতরে নতুন লাইন Alt + Enter।
    4. শিরোনাম কয়েক কলামের মাঝে আনতে Merge & Center।
    5. বাংলা লেখা: Avro বা Bijoy দিয়ে ইউনিকোড ফন্টে (যেমন Nikosh, SolaimanLipi) লেখা যায়।

    গ. সিম্বল (চিহ্ন) ব্যবহার

    1. Insert → Symbols → Symbol ক্লিক।
    2. Font (Symbol, Wingdings) ও Subset বাছাই করে চিহ্ন সিলেক্ট।
    3. Insert ক্লিক করে Close।
    চিহ্নউপায়
    ৳ (টাকা)Insert → Symbol বা Currency ফরম্যাট
    © ® ™Insert → Symbol → Special Characters
    √ ± °Insert → Symbol
    ✓Wingdings ফন্ট

    গাণিতিক সমীকরণ: Insert → Symbols → Equation।

    ঘ. ফর্মুলা (সূত্র) ব্যবহার

    1. ফলাফলের সেলে ক্লিক।
    2. প্রথমে = (সমান চিহ্ন) টাইপ।
    3. সেল ঠিকানা ও অপারেটর দিয়ে সূত্র লেখা (অথবা সেলে ক্লিক করে ঠিকানা নেওয়া)।
    4. Enter চাপলে ফলাফল আসে; সূত্রটি ফর্মুলা বারে দেখা যায়।
    5. Fill Handle টেনে অন্য সারিতে কপি করলে ঠিকানা নিজে বদলায়।
         │    A     │   B    │   C    │   D    │   E    │
    ─────┼──────────┼────────┼────────┼────────┼────────┤
      1  │ নাম      │ বাংলা  │ ইংরেজি │ গণিত   │ মোট    │
      2  │ রহিম     │   ৭০   │   ৬৫   │   ৮০   │  ২১৫   │
      3  │ করিম     │   ৮৫   │   ৫০   │   ৯০   │  ২২৫   │
      4  │ সুমি      │   ৬০   │   ৭৫   │   ৭০   │  ২০৫   │
    ─────┴──────────┴────────┴────────┴────────┴────────┘
              নমুনা ওয়ার্কশিট (নম্বর আছে B2:D4 রেঞ্জে)
    
    প্রয়োজনীয় হিসাবফর্মুলা (সারি ২)ফল
    যোগ (অপারেটর দিয়ে)=B2+C2+D2২১৫
    যোগ (ফাংশন দিয়ে)=SUM(B2:D2)২১৫
    গড়=AVERAGE(B2:D2)৭১.৬৭
    শতকরা (৩০০-এর মধ্যে)=E2/300*100৭১.৬৭
    সর্বোচ্চ (বাংলা)=MAX(B2:B4)৮৫
    ফলাফল=IF(AND(B2>=33,C2>=33,D2>=33),"পাস","ফেল")পাস
    বেতন থেকে ১০% কর্তন=F2*10%—

    অপারেটর: + যোগ, − বিয়োগ, * গুণ, / ভাগ, ^ ঘাত, % শতাংশ, & লেখা জোড়া লাগানো (=A2&" "&B2)।

    💡 Ctrl + ` চাপলে সব সেলের ফলাফলের বদলে সূত্রগুলো দেখা যায়, যা ভুল খুঁজতে কাজে লাগে।

    উপসংহার: সঠিকভাবে নাম্বার, টেক্সট, সিম্বল ও ফর্মুলা ব্যবহার করলে ওয়ার্কশিট পরিচ্ছন্ন, নির্ভুল ও স্বয়ংক্রিয় হিসাবের উপযোগী হয়।

অধ্যায় ৫: প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত অনুশীলন

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৬টি)

  1. ৫-সং-৪★★বই: পৃষ্ঠা ১২৬

    ১.প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের মেনুসমূহ কী কী? [বিএমটি-২০২২]

    উত্তর

    প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারে (MS PowerPoint) কমান্ডগুলো বিভিন্ন মেনু বা ট্যাবে সাজানো থাকে:

     File │ Home │ Insert │ Draw │ Design │ Transitions │ Animations │ Slide Show │ Review │ View │ Help
    
    মেনু / ট্যাবপ্রধান কাজ
    FileNew, Open, Save, Print, Export, Share
    Homeনতুন স্লাইড, লে-আউট, ফন্ট, অনুচ্ছেদ, শেপ
    Insertছবি, টেবিল, চার্ট, SmartArt, ভিডিও, অডিও, টেক্সট বক্স
    Drawকলম দিয়ে আঁকা
    Designথিম, ভেরিয়েন্ট, স্লাইডের আকার, ব্যাকগ্রাউন্ড
    Transitionsস্লাইড পরিবর্তনের ইফেক্ট
    Animationsবস্তুর অ্যানিমেশন
    Slide Showস্লাইড শো শুরু ও সেটিংস
    Reviewবানান, মন্তব্য, তুলনা
    ViewNormal, Outline, Slide Sorter, Notes Page, Master
    Helpসাহায্য

    (পুরনো PowerPoint 2003-এর মেনু বার: File, Edit, View, Insert, Format, Tools, Slide Show, Window, Help)

  2. ৫-সং-৫★★বই: পৃষ্ঠা ১২৬

    ২.স্লাইড কী?

    উত্তর

    প্রেজেন্টেশনের এক একটি পৃষ্ঠা বা পর্দাকে স্লাইড (Slide) বলে। কয়েকটি স্লাইড পরপর সাজিয়ে একটি পূর্ণ প্রেজেন্টেশন তৈরি হয়।

    প্রতিটি স্লাইডে শিরোনাম, লেখা, ছবি, চার্ট, টেবিল, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি রাখা যায় এবং ট্রানজিশন ও অ্যানিমেশন যোগ করা যায়।

     ┌───────┐  ┌───────┐  ┌───────┐  ┌───────┐
     │স্লাইড ১ │►│স্লাইড ২ │►│স্লাইড ৩ │►│স্লাইড ৪ │  = একটি প্রেজেন্টেশন
     │শিরোনাম │  │ বিষয়   │  │ চার্ট   │  │ ধন্যবাদ │
     └───────┘  └───────┘  └───────┘  └───────┘
    

    নতুন স্লাইড যোগ: Home → New Slide বা Ctrl + M। ডিফল্ট স্লাইডের আকার Widescreen (16:9); প্রয়োজনে Design → Slide Size থেকে Standard (4:3) করা যায়।

  3. ৫-সং-১৬★★বই: পৃষ্ঠা ১২৭

    ৩.প্রেজেন্টেশন কী?

    উত্তর

    কোনো বিষয়, ধারণা, তথ্য বা পরিকল্পনাকে লেখা, ছবি, চার্ট, অডিও, ভিডিও ও অ্যানিমেশনের মাধ্যমে দর্শকের সামনে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করাকে প্রেজেন্টেশন (Presentation) বলে।

    কম্পিউটারে PowerPoint-এর মতো সফটওয়্যার দিয়ে কয়েকটি স্লাইড তৈরি করে প্রজেক্টর বা বড় পর্দায় দেখিয়ে প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়।

    উদাহরণ: শিক্ষক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে স্লাইড দেখিয়ে পড়ান; অফিসে মাসিক সভায় বিক্রির প্রতিবেদন চার্টসহ দেখানো হয়।

     💻 স্লাইড ──► 📽 প্রজেক্টর ──► 🖼 বড় পর্দা ──► 👥 দর্শক
    
  4. ৫-সং-১৭★★বই: পৃষ্ঠা ১২৭

    ৪.হ্যান্ড আউটস কী?

    উত্তর

    প্রেজেন্টেশনের স্লাইডগুলো ছোট আকারে কাগজে প্রিন্ট করে দর্শক বা শ্রোতাদের হাতে দেওয়ার কপিকে হ্যান্ড আউটস (Handouts) বলে।

    এতে দর্শকরা প্রেজেন্টেশনের বিষয় মনে রাখতে ও পাশে নিজের নোট লিখতে পারেন। একটি পৃষ্ঠায় ১, ২, ৩, ৪, ৬ বা ৯টি স্লাইড ছাপা যায়। ৩টি স্লাইডের হ্যান্ড আউটে পাশে নোট লেখার জন্য দাগ থাকে।

     ┌───────────────────┐
     │ ┌─────┐ ________  │
     │ │ ১   │ ________  │
     │ └─────┘ ________  │
     │ ┌─────┐ ________  │   ← ৩ স্লাইড প্রতি পৃষ্ঠা
     │ │ ২   │ ________  │      (পাশে নোট লেখার দাগ)
     │ └─────┘ ________  │
     │ ┌─────┐ ________  │
     │ │ ৩   │ ________  │
     │ └─────┘ ________  │
     └───────────────────┘
    

    প্রিন্ট: File → Print → Full Page Slides ▾ → Handouts → স্লাইড সংখ্যা বাছাই → Print।

  5. ৫-সং-১৯★★বই: পৃষ্ঠা ১২৭

    ৫.ট্রানজিশন কাকে বলে?

    উত্তর

    স্লাইড শো চলার সময় এক স্লাইড থেকে পরের স্লাইডে যাওয়ার মুহূর্তে যে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বা দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যায়, তাকে ট্রানজিশন (Transition) বলে।

    ট্রানজিশন পুরো স্লাইডের ওপর প্রয়োগ হয়, স্লাইডের ভেতরের আলাদা বস্তুর ওপর নয়।

    কয়েকটি ট্রানজিশন:

    শ্রেণিউদাহরণ
    Subtle (হালকা)Morph, Fade, Push, Wipe, Split, Reveal, Cut, Random Bars, Shape, Uncover, Cover
    Exciting (আকর্ষণীয়)Curtains, Wind, Fall Over, Ripple, Honeycomb, Vortex, Cube, Page Curl
    Dynamic ContentPan, Ferris Wheel, Conveyor, Rotate, Window

    Timing গ্রুপ: Sound (শব্দ), Duration (সময়), Apply To All (সব স্লাইডে), Advance Slide (On Mouse Click বা After নির্দিষ্ট সময়)।

  6. ৫-সং-২০★★বই: পৃষ্ঠা ১২৭

    ৬.ইনক্রিজ ফন্ট বা ফন্টকে বড় করা বলতে কী বুঝায়?

    উত্তর

    ইনক্রিজ ফন্ট (Increase Font Size) বলতে সিলেক্ট করা লেখার অক্ষরের আকার (ফন্ট সাইজ) এক ধাপ করে বাড়ানো বোঝায়।

    পদ্ধতি:

    1. যে লেখা বড় করতে চাই তা সিলেক্ট করতে হবে।
    2. Home → Font গ্রুপের Increase Font Size (A▲) বাটনে ক্লিক করতে হবে, অথবা Ctrl + Shift + > চাপতে হবে।
    3. যতবার ক্লিক করা হবে, ফন্ট তত ধাপ বড় হবে (যেমন 18 → 20 → 24 → 28)।
     A▲  Increase Font Size  (Ctrl + Shift + >)
     A▼  Decrease Font Size  (Ctrl + Shift + <)
    

    এর বিপরীত কাজ Decrease Font Size (A▼)। নির্দিষ্ট সাইজ দিতে Font Size বক্সে সংখ্যা লেখা যায়। (Ctrl + ] দিয়ে ১ পয়েন্ট করে বাড়ানো যায়।)

রচনামূলক প্রশ্ন (৬টি)

  1. ৫-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ১২৮

    ১.প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের মেনুসমূহ ও রিবনের আইটেমসমূহ সম্পর্কিত ধারণা প্রদান কর।

    • অথবা, প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের মেনুসমূহের বর্ণনা দাও। [বিএমটি-২০২২, ২৪]

    উত্তর

    প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার (MS PowerPoint)-এ সব কমান্ড বিভিন্ন মেনু বা নতুন সংস্করণে রিবনের ট্যাবে সাজানো থাকে। প্রতিটি ট্যাবে গ্রুপ আকারে কমান্ড (আইটেম) থাকে।

    ┌───────────────────────────────────────────────────────────────┐
    │ 💾 ↶ ↷ ▶ │     Presentation1 - PowerPoint (টাইটেল বার) │ — ▢ ✕ │
    ├───────────────────────────────────────────────────────────────┤
    │ File Home Insert Design Transitions Animations Slide Show ... │ ← ট্যাব
    │ [Clipboard] [Slides] [Font] [Paragraph] [Drawing] [Editing]   │ ← রিবন
    ├──────────┬────────────────────────────────────────────────────┤
    │ ┌──────┐ │   ┌──────────────────────────────────────────┐     │
    │ │ 1 ▭  │ │   │      Click to add title (শিরোনাম)          │     │
    │ └──────┘ │   │                                          │     │
    │ ┌──────┐ │   │      Click to add subtitle (উপশিরোনাম)     │     │
    │ │ 2 ▭  │ │   └──────────────────────────────────────────┘     │
    │ └──────┘ │              স্লাইড প্যান (কাজের স্লাইড)               │
    │ থাম্বনেইল  ├────────────────────────────────────────────────────┤
    │ প্যান     │   Click to add notes  (নোটস প্যান)                   │
    ├──────────┴────────────────────────────────────────────────────┤
    │ Slide 1 of 2                  Notes  ▤ ▦ 📖 ▶   ─●─ 60%        │ ← স্ট্যাটাস বার
    └───────────────────────────────────────────────────────────────┘
    

    ১. File মেনু (Backstage View)

    New, Open, Info, Save, Save As, Print, Share, Export, Close, Account, Options। Export থেকে PDF, ভিডিও (MP4) বা Handouts তৈরি করা যায়।

    ২. Home ট্যাব

    গ্রুপআইটেম
    ClipboardCut, Copy, Paste, Format Painter
    SlidesNew Slide, Layout, Reset, Section
    Fontফন্ট, আকার, B I U, Increase/Decrease Font, রং
    ParagraphBullets, Numbering, Alignment, Line Spacing, Text Direction, Convert to SmartArt
    DrawingShapes, Arrange, Quick Styles, Shape Fill/Outline/Effects
    EditingFind, Replace, Select

    ৩. Insert ট্যাব

    গ্রুপআইটেম
    SlidesNew Slide
    TablesTable
    ImagesPictures, Screenshot, Photo Album
    IllustrationsShapes, Icons, 3D Models, SmartArt, Chart
    LinksLink, Action
    CommentsComment
    TextText Box, Header & Footer, WordArt, Date & Time, Slide Number, Object
    SymbolsEquation, Symbol
    MediaVideo, Audio, Screen Recording

    ৪. Design ট্যাব

    Themes, Variants, Slide Size, Format Background, Designer।

    ৫. Transitions ট্যাব

    Preview, Transition to This Slide (Fade, Push, Wipe…), Effect Options, Timing (Sound, Duration, Apply To All, Advance Slide)।

    ৬. Animations ট্যাব

    Preview, Animation (Entrance, Emphasis, Exit, Motion Path), Effect Options, Advanced Animation (Add Animation, Animation Pane, Trigger, Animation Painter), Timing (Start, Duration, Delay, Reorder)।

    ৭. Slide Show ট্যাব

    আইটেমকাজ
    From Beginning (F5)প্রথম স্লাইড থেকে শো
    From Current Slide (Shift + F5)বর্তমান স্লাইড থেকে শো
    Custom Slide Showনির্বাচিত স্লাইড নিয়ে শো
    Set Up Slide Showশো-এর ধরন ও লুপ
    Hide Slideস্লাইড লুকানো
    Rehearse Timingsপ্রতিটি স্লাইডের সময় অনুশীলন
    Record Slide Showভয়েস ও টাইমিংসহ রেকর্ড
    Monitors, Presenter Viewপ্রজেক্টরে শো, নিজের পর্দায় নোট

    ৮. Review ট্যাব

    Spelling, Thesaurus, Check Accessibility, Smart Lookup, Translate, Language, Comments, Compare।

    ৯. View ট্যাব

    গ্রুপআইটেম
    Presentation ViewsNormal, Outline View, Slide Sorter, Notes Page, Reading View
    Master ViewsSlide Master, Handout Master, Notes Master
    ShowRuler, Gridlines, Guides, Notes
    ZoomZoom, Fit to Window
    Color/Grayscaleরঙিন, ধূসর বা সাদাকালো
    Window, Macrosনতুন উইন্ডো, সাজানো, ম্যাক্রো

    ১০. Help ট্যাব

    সাহায্য, প্রশিক্ষণ ভিডিও, মতামত।

    💡 পুরনো PowerPoint 2003-এর মেনু বারে ছিল: File, Edit, View, Insert, Format, Tools, Slide Show, Window, Help।

    উপসংহার: মেনু ও রিবনের আইটেমগুলো জানা থাকলে আকর্ষণীয় ও পেশাদার প্রেজেন্টেশন দ্রুত তৈরি করা যায়।

  2. ৫-র-৩★★

    ২.মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টে চার ধরনের অ্যানিমেশনের বর্ণনা দাও।

    উত্তর

    অ্যানিমেশন: স্লাইডের ভেতরের লেখা, ছবি, শেপ, চার্ট ইত্যাদিকে নড়াচড়া বা বিশেষ প্রভাবসহ দেখানোকে অ্যানিমেশন বলে। PowerPoint-এ অ্যানিমেশন চার ধরনের।

                         অ্যানিমেশনের ধরন
                                │
       ┌──────────────┬─────────┴──────┬────────────────┐
     Entrance       Emphasis          Exit          Motion Paths
     (প্রবেশ) 🟢     (গুরুত্ব) 🟡       (প্রস্থান) 🔴      (চলার পথ)
     Fade, Fly In   Pulse, Spin,     Fade, Fly Out,  Lines, Arcs,
     Wipe, Zoom     Grow/Shrink      Disappear       Turns, Custom Path
    

    ১. প্রবেশ অ্যানিমেশন (Entrance) 🟢

    বস্তু প্রথমে পর্দায় থাকে না, অ্যানিমেশনের মাধ্যমে পর্দায় প্রবেশ করে। আইকন সবুজ রঙের।

    • উদাহরণ: Appear, Fade, Fly In, Float In, Split, Wipe, Shape, Wheel, Random Bars, Grow & Turn, Zoom, Swivel, Bounce।
    • ব্যবহার: পয়েন্ট বা ছবি একটি একটি করে দেখানো।
      ⟶ ⟶ [লেখা]     (Fly In: পাশ থেকে উড়ে আসে)
    

    ২. গুরুত্ব অ্যানিমেশন (Emphasis) 🟡

    পর্দায় থাকা বস্তুকে নড়িয়ে, বড়-ছোট করে বা রং বদলিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইকন হলুদ রঙের।

    • উদাহরণ: Pulse, Color Pulse, Teeter, Spin, Grow/Shrink, Desaturate, Darken, Lighten, Transparency, Font Color, Underline, Wave।
    • ব্যবহার: গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, সংখ্যা বা ছবির দিকে দর্শকের মনোযোগ আনা।
      [লেখা] ⟳ [লেখা]   (Spin: নিজের জায়গায় ঘোরে)
    

    ৩. প্রস্থান অ্যানিমেশন (Exit) 🔴

    পর্দায় থাকা বস্তু অ্যানিমেশনের মাধ্যমে পর্দা থেকে চলে যায়। আইকন লাল রঙের।

    • উদাহরণ: Disappear, Fade, Fly Out, Float Out, Split, Wipe, Shrink & Turn, Zoom, Bounce।
    • ব্যবহার: আলোচনা শেষ হওয়া বিষয় সরিয়ে নতুন বিষয়ের জায়গা করা।
      [লেখা] ⟶ ⟶      (Fly Out: পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়)
    

    ৪. মোশন পাথ (Motion Paths)

    বস্তু একটি নির্দিষ্ট পথ বা রেখা ধরে স্লাইডের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলাচল করে।

    • উদাহরণ: Lines, Arcs, Turns, Shapes, Loops, Custom Path (নিজে পথ আঁকা)।
    • ব্যবহার: কোনো প্রক্রিয়া, চলাচল বা ভ্রমণপথ দেখানো (যেমন গ্রহের ঘূর্ণন, ডেটা প্রবাহ)।
      ● ─ ─ ─ ╮
               ╰ ─ ─ ► ●     (বস্তু আঁকা পথ ধরে চলে)
    

    তুলনামূলক সারণি

    বিষয়EntranceEmphasisExitMotion Path
    রংসবুজহলুদলাল—
    কাজপর্দায় আসাগুরুত্ব দেওয়াপর্দা থেকে যাওয়াপথ ধরে চলা
    বস্তু শুরুতেদেখা যায় নাদেখা যায়দেখা যায়দেখা যায়
    উদাহরণFly InPulseFly OutArcs

    অ্যানিমেশন যোগ করার নিয়ম

    বস্তু সিলেক্ট → Animations ট্যাব → অ্যানিমেশন বাছাই → Effect Options → Start / Duration / Delay ঠিক করা → Preview।

    উপসংহার: চার ধরনের অ্যানিমেশন পরিমিতভাবে ব্যবহার করলে প্রেজেন্টেশন আকর্ষণীয় ও শিক্ষণীয় হয়।

  3. ৫-র-৪★★বই: পৃষ্ঠা ১২৯

    ৩.ডকুমেন্টে বিভিন্ন ধরনের স্লাইড লে-আউট সম্পর্কে ধারণা ব্যাখ্যা কর।

    উত্তর

    স্লাইড লে-আউট: স্লাইডে শিরোনাম, লেখা, ছবি, চার্ট ইত্যাদি কোথায় বসবে তার আগে থেকে তৈরি কাঠামোকে স্লাইড লে-আউট বলে। প্রতিটি লে-আউটে প্লেসহোল্ডার (ডট দেওয়া বক্স) থাকে, যাতে ক্লিক করে বিষয়বস্তু বসানো যায়।

    লে-আউট বাছাই: Home → Slides → Layout (নতুন স্লাইডের সময় New Slide ▾ থেকেও)।

     ┌──────────┐ ┌──────────┐ ┌──────────┐ ┌──────────┐
     │ ════════ │ │ ════════ │ │          │ │ ════════ │
     │  ──────  │ │ • ────── │ │ ════════ │ │ ┌──┐┌──┐ │
     │          │ │ • ────── │ │  ──────  │ │ │  ││  │ │
     └──────────┘ └──────────┘ └──────────┘ └──────────┘
     Title Slide  Title and    Section      Two Content
                  Content      Header
     ┌──────────┐ ┌──────────┐ ┌──────────┐ ┌──────────┐
     │ ════════ │ │ ════════ │ │          │ │ ══ ┌───┐ │
     │ ─── ───  │ │          │ │          │ │ ── │   │ │
     │ ┌─┐ ┌─┐  │ │          │ │          │ │ ── └───┘ │
     └──────────┘ └──────────┘ └──────────┘ └──────────┘
     Comparison   Title Only   Blank        Content with
                                            Caption
    

    বিভিন্ন ধরনের স্লাইড লে-আউট

    ১. Title Slide: শিরোনাম ও উপশিরোনাম। প্রেজেন্টেশনের প্রথম স্লাইডে বিষয়ের নাম, উপস্থাপকের নাম ও তারিখ দেওয়ার জন্য।

    ২. Title and Content: একটি শিরোনাম ও একটি বিষয়বস্তুর জায়গা। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত; বুলেট পয়েন্ট, ছবি, টেবিল বা চার্ট দেওয়া যায়।

    ৩. Section Header: প্রেজেন্টেশনকে অংশে ভাগ করতে, প্রতিটি নতুন অংশের শুরুতে শিরোনাম।

    ৪. Two Content: শিরোনামের নিচে পাশাপাশি দুটি বিষয়বস্তু; যেমন বামে লেখা, ডানে ছবি।

    ৫. Comparison: দুটি বিষয়বস্তু, প্রতিটির ওপরে আলাদা উপশিরোনাম। দুটি বিষয়ের তুলনায় (যেমন সুবিধা-অসুবিধা, RAM বনাম ROM)।

    ৬. Title Only: শুধু শিরোনাম; বাকি জায়গায় নিজের মতো শেপ বা ছবি বসানো যায়।

    ৭. Blank: সম্পূর্ণ ফাঁকা স্লাইড; পুরো স্লাইডে বড় ছবি বা নিজস্ব নকশার জন্য।

    ৮. Content with Caption: একপাশে বিষয়বস্তু (ছবি, চার্ট), অন্যপাশে শিরোনাম ও ব্যাখ্যা।

    ৯. Picture with Caption: একটি বড় ছবি ও তার নিচে ক্যাপশন।

    ১০. Title and Vertical Text: শিরোনাম আনুভূমিক, লেখা উল্লম্ব (ওপর-নিচ)।

    ১১. Vertical Title and Text: শিরোনাম ও লেখা দুটিই উল্লম্ব।

    সারসংক্ষেপ

    লে-আউটকখন ব্যবহার
    Title Slideপ্রথম স্লাইড
    Title and Contentসাধারণ বিষয়বস্তু
    Section Headerনতুন অংশ
    Two Contentপাশাপাশি দুটি বিষয়
    Comparisonতুলনা
    Title Only / Blankনিজস্ব নকশা
    Content / Picture with Captionছবি বা চার্টের ব্যাখ্যা

    💡 View → Slide Master থেকে নিজের প্রয়োজনমতো নতুন লে-আউট তৈরি করা যায় (Insert Layout)।

    উপসংহার: বিষয়বস্তু অনুযায়ী সঠিক লে-আউট বাছাই করলে স্লাইড গোছানো, পরিষ্কার ও দ্রুত তৈরি করা যায়।

  4. ৫-র-৫★★বই: পৃষ্ঠা ১৩০

    ৪.স্লাইডে ইক্যুয়েশন যোগ করার পদ্ধতি বর্ণনা কর।

    উত্তর

    ইক্যুয়েশন (Equation): গণিত ও বিজ্ঞানের সূত্র ও সমীকরণ (যেমন ভগ্নাংশ, বর্গমূল, ঘাত, যোগজ) স্লাইডে সঠিক গাণিতিক আকারে লেখার সুবিধাকে ইক্যুয়েশন বলে।

    উদাহরণ: x = (−b ± √(b² − 4ac)) / 2a, a² + b² = c², E = mc²

    পদ্ধতি ১: তৈরি-করা ইক্যুয়েশন যোগ

    1. যে স্লাইডে সমীকরণ দরকার, সেটি সিলেক্ট।
    2. Insert ট্যাব → Symbols গ্রুপ → Equation-এর পাশের তীরচিহ্ন (▾)।
    3. তালিকা থেকে তৈরি-করা সমীকরণ (Area of Circle, Binomial Theorem, Pythagorean Theorem, Quadratic Formula ইত্যাদি) বাছাই।

    পদ্ধতি ২: নিজে নতুন ইক্যুয়েশন লেখা

    1. Insert → Equation (বা Insert New Equation) ক্লিক।
    2. স্লাইডে "Type equation here" লেখা বক্স আসবে এবং রিবনে Equation ট্যাব খুলবে।
    3. Structures গ্রুপ থেকে কাঠামো বাছাই করে খালি ঘরে (☐) সংখ্যা বা চলক টাইপ:
     Equation ট্যাব
     ┌──────────────┬────────────────────┬──────────────────────────────────────────┐
     │ π Equation   │ ± ∞ = ≠ ~ × ÷ !    │ x/y   eˣ   √x   ∫   Σ   (□)  sin  ä  lim  [≡] │
     │ Ink Equation │ ∝ < ≪ > ≫ ≤ ≥ ∓    │ Frac Script Rad Int LargeOp Bracket Func Acc Limit Matrix │
     │   Tools      │     Symbols        │                Structures                │
     └──────────────┴────────────────────┴──────────────────────────────────────────┘
    
    Structureকাজউদাহরণ
    Fractionভগ্নাংশa/b
    Scriptঘাত ও নিচের সূচকx², H₂O
    Radicalমূল√x, ∛x
    Integralযোগজ∫ f(x)dx
    Large Operatorসমষ্টি, গুণফলΣ, ∏
    Bracketবন্ধনী(), [], {}
    Functionত্রিকোণমিতিক ফাংশনsin θ, cos θ
    Accentমাথায় চিহ্নx̄, ẋ
    Limit and Logসীমা ও লগlim, log
    Operatorবিশেষ অপারেটর≜, →
    Matrixম্যাট্রিক্স[a b; c d]
    1. Symbols গ্রুপ থেকে ±, ∞, ≠, ≤, π, θ ইত্যাদি চিহ্ন যোগ।
    2. সমীকরণের বাইরে ক্লিক করলে লেখা শেষ হবে।

    পদ্ধতি ৩: Ink Equation (হাতে লেখা)

    Insert → Equation ▾ → Ink Equation → মাউস বা কলম দিয়ে সমীকরণ লেখা → PowerPoint তা টাইপ করা সমীকরণে রূপান্তর করে → Insert।

    ফরমেট ও পরিবর্তন

    • Home ট্যাব থেকে আকার ও রং বদলানো।
    • Equation → Conversions থেকে Professional (সুন্দর আকার) বা Linear (এক লাইনে) রূপ।

    উদাহরণ: পিথাগোরাসের উপপাদ্য লেখা

    1. Insert → Equation।
    2. a লিখে Script → Superscript থেকে ঘাত ২ → a²।
    3. + টাইপ, একইভাবে b²।
    4. = টাইপ, তারপর c²। ফলাফল: a² + b² = c²

    উপসংহার: ইক্যুয়েশন সুবিধা ব্যবহার করে গণিত ও বিজ্ঞানের ক্লাসের স্লাইডে জটিল সূত্রও সঠিক ও পরিচ্ছন্নভাবে উপস্থাপন করা যায়।

  5. ৫-র-৬★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩১

    ৫.স্ট্যান্ডার্ড প্রেজেন্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে টাইটেল, সাব-টাইটেল, স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট, ফন্ট সাইজ, কালার ও ফরমেট ইত্যাদির ধারণা প্রদান কর।

    উত্তর

    একটি স্ট্যান্ডার্ড (মানসম্মত) প্রেজেন্টেশন এমন হওয়া উচিত, যা দূর থেকেও সহজে পড়া যায়, বোঝা যায় এবং দেখতে পেশাদার লাগে। এজন্য টাইটেল, সাব-টাইটেল, ফন্ট, ফন্ট সাইজ, রং ও ফরমেটের কিছু নিয়ম মানতে হয়।

     ┌──────────────────────────────────────────┐
     │   কম্পিউটারের প্রজন্ম       ← টাইটেল (৪০ pt, বোল্ড) │
     │   বিবর্তনের ইতিহাস         ← সাব-টাইটেল (২৮ pt)    │
     │                                          │
     │   • প্রথম প্রজন্ম: ভ্যাকুয়াম টিউব   ← মূল লেখা (২৪ pt) │
     │   • দ্বিতীয় প্রজন্ম: ট্রানজিস্টর                     │
     │   • তৃতীয় প্রজন্ম: আইসি          (৬ লাইনের বেশি নয়)  │
     └──────────────────────────────────────────┘
           গাঢ় নীল পটভূমি + সাদা লেখা (উচ্চ কনট্রাস্ট)
    

    ১. টাইটেল (Title)

    • প্রতিটি স্লাইডে একটি ছোট, স্পষ্ট শিরোনাম থাকবে, যা স্লাইডের মূল বিষয় বোঝায়।
    • সাধারণত ৩–৭ শব্দের মধ্যে।
    • সব স্লাইডে শিরোনামের অবস্থান, ফন্ট ও রং একই থাকবে।
    • প্রথম স্লাইডের শিরোনাম প্রেজেন্টেশনের বিষয়ের নাম।

    ২. সাব-টাইটেল (Sub-title)

    • শিরোনামকে ব্যাখ্যা বা পরিপূরক তথ্য দেয়।
    • প্রথম স্লাইডে উপস্থাপকের নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠান ও তারিখ।
    • শিরোনামের চেয়ে ছোট ফন্টে।

    ৩. স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট

    • Sans-serif (খাঁজহীন) ফন্ট পর্দায় পরিষ্কার দেখায়: Arial, Calibri, Verdana, Tahoma, Segoe UI।
    • বাংলার জন্য ইউনিকোড ফন্ট: Nikosh, SolaimanLipi, Kalpurush, Hind Siliguri।
    • পুরো প্রেজেন্টেশনে সর্বোচ্চ ২টি ফন্ট (একটি শিরোনামে, একটি মূল লেখায়)।
    • অলংকৃত বা হাতের লেখার মতো ফন্ট এড়িয়ে চলা।

    ৪. ফন্ট সাইজ

    অংশআদর্শ ফন্ট সাইজ
    টাইটেল৩৬–৪৪ পয়েন্ট
    সাব-টাইটেল২৮–৩২ পয়েন্ট
    মূল লেখা (বুলেট)২৪–২৮ পয়েন্ট
    সর্বনিম্ন (ক্যাপশন, উৎস)১৮ পয়েন্টের কম নয়

    ৫. কালার (রং)

    • পটভূমি ও লেখার মধ্যে উচ্চ কনট্রাস্ট: হালকা পটভূমিতে গাঢ় লেখা, অথবা গাঢ় পটভূমিতে হালকা লেখা।
    • পুরো প্রেজেন্টেশনে ২–৩টি মূল রং, সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে।
    • লাল-সবুজ একসাথে এড়ানো (বর্ণান্ধ দর্শকের জন্য কঠিন)।
    • গুরুত্বপূর্ণ শব্দে আলাদা রং, তবে কম পরিমাণে।
    • থিম ব্যবহার করলে রং নিজে থেকেই মিলে যায়।
    ভালো সংমিশ্রণখারাপ সংমিশ্রণ
    সাদা পটভূমি + কালো/গাঢ় নীল লেখাহলুদ পটভূমি + সাদা লেখা
    গাঢ় নীল পটভূমি + সাদা/হলুদ লেখালাল পটভূমি + সবুজ লেখা

    ৬. ফরমেট (বিন্যাস)

    • ৬×৬ নিয়ম: এক স্লাইডে ৬টির বেশি লাইন নয়, প্রতি লাইনে ৬টির বেশি শব্দ নয় (মোটামুটি)।
    • পূর্ণ বাক্যের বদলে বুলেট পয়েন্টে মূল কথা।
    • লেখা বেশিরভাগ বাম দিকে সাজানো (Left Align); শিরোনাম মাঝে বা বামে।
    • একটি স্লাইডে একটি মূল ধারণা।
    • প্রাসঙ্গিক ছবি, চার্ট ও SmartArt দিয়ে লেখা কমানো।
    • সব স্লাইডে একই লে-আউট ও থিম; স্লাইড নম্বর ফুটারে।
    • বোল্ড শুধু গুরুত্বপূর্ণ শব্দে; সব বড় হাতের অক্ষর (ALL CAPS) এড়ানো।
    • পরিমিত ট্রানজিশন ও অ্যানিমেশন।
    • ১০/২০/৩০ নিয়ম (পরামর্শ): প্রায় ১০টি স্লাইড, ২০ মিনিট, ন্যূনতম ৩০ পয়েন্ট ফন্ট।

    একটি আদর্শ প্রেজেন্টেশনের কাঠামো

     ১. টাইটেল স্লাইড ─► ২. বিষয়সূচি ─► ৩–৮. মূল বিষয় ─► ৯. সারসংক্ষেপ ─► ১০. প্রশ্নোত্তর/ধন্যবাদ
    

    উপসংহার: এসব নিয়ম মেনে প্রেজেন্টেশন তৈরি করলে তা দর্শকের কাছে পরিষ্কার, আকর্ষণীয় ও পেশাদার মনে হয়।

  6. ৫-র-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩১

    ৬.ডকুমেন্টে স্মার্টআর্ট, চার্ট, টেক্সটবক্স ও হেডার-ফুটার, ইক্যুয়েশন ও সিম্বল ইত্যাদির ব্যবহার বর্ণনা কর।

    উত্তর

    PowerPoint-এর (এবং Word-এর) Insert ট্যাব ব্যবহার করে ডকুমেন্ট বা স্লাইডে স্মার্টআর্ট, চার্ট, টেক্সট বক্স, হেডার-ফুটার, ইক্যুয়েশন ও সিম্বল যোগ করা যায়।

     Insert ট্যাব
     ┌────────┬─────────────────────┬──────────────────────────────┬─────────────────┐
     │ Table  │ Shapes Icons        │ Text Box  Header&Footer      │ Equation Symbol │
     │        │ SmartArt Chart      │ WordArt  Date&Time  Slide No.│                 │
     │ Tables │   Illustrations     │            Text              │    Symbols      │
     └────────┴─────────────────────┴──────────────────────────────┴─────────────────┘
    

    ১. স্মার্টআর্ট (SmartArt)

    তথ্যকে আকর্ষণীয় চিত্র বা ডায়াগ্রাম (তালিকা, প্রক্রিয়া, চক্র, শ্রেণিবিন্যাস) আকারে দেখানোর সুবিধা। ধরন: List, Process, Cycle, Hierarchy, Relationship, Matrix, Pyramid, Picture। পদ্ধতি: Insert → SmartArt → ধরন বাছাই → OK → Text Pane-এ লেখা টাইপ → SmartArt Design ট্যাব থেকে রং ও স্টাইল।

     ┌──────┐   ┌──────┐   ┌──────┐
     │ইনপুট │ ► │প্রসেস │ ► │আউটপুট│     (Process SmartArt)
     └──────┘   └──────┘   └──────┘
               ┌─────────┐
               │ অধ্যক্ষ   │
               └────┬────┘
            ┌───────┴───────┐
       ┌────┴────┐     ┌────┴────┐      (Hierarchy SmartArt)
       │ উপাধ্যক্ষ │     │ বিভাগীয় প্রধান│
       └─────────┘     └─────────┘
    

    ব্যবহার: প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামো, কাজের ধাপ, চক্র দেখানো।

    ২. চার্ট (Chart)

    সংখ্যাভিত্তিক তথ্যকে কলাম, বার, লাইন, পাই ইত্যাদি চিত্রে দেখানো। পদ্ধতি: Insert → Chart → ধরন বাছাই → OK → সাথে খোলা Excel শিটে ডেটা লেখা → শিট বন্ধ করা → Chart Design থেকে স্টাইল ও Chart Elements (+) থেকে টাইটেল, লিজেন্ড, ডাটা লেবেল।

     ██
     ██ ██    ██
     ██ ██ ██ ██      (কলাম চার্ট)
    

    ব্যবহার: বিক্রি, ফলাফল, জরিপের তুলনা।

    ৩. টেক্সট বক্স (Text Box)

    স্লাইড বা পৃষ্ঠার যেকোনো জায়গায় আলাদা বক্সে লেখা বসানোর সুবিধা। পদ্ধতি: Insert → Text Box → স্লাইডে ক্লিক করে টেনে বক্স আঁকা → লেখা টাইপ → Shape Format থেকে রং, বর্ডার। ব্যবহার: ছবির ক্যাপশন, বাড়তি নোট, প্লেসহোল্ডারের বাইরে লেখা।

    ৪. হেডার-ফুটার (Header & Footer)

    পদ্ধতি: Insert → Header & Footer → ডায়ালগ বক্স:

    অপশনকাজ
    Date and timeতারিখ (Update automatically বা Fixed)
    Slide numberস্লাইড নম্বর
    Footerনিচে লেখা (প্রতিষ্ঠান বা বিষয়ের নাম)
    Don't show on title slideপ্রথম স্লাইডে না দেখানো
    Apply / Apply to Allএকটি বা সব স্লাইডে

    Notes and Handouts ট্যাবে Header-ও দেওয়া যায় (স্লাইডে Header থাকে না, শুধু হ্যান্ড আউট ও নোটসে)। Word-এ: Insert → Header / Footer → স্টাইল → লেখা → Close Header and Footer।

    ৫. ইক্যুয়েশন (Equation)

    গণিতের সূত্র ও সমীকরণ সঠিক আকারে লেখা। পদ্ধতি: Insert → Equation → Equation ট্যাবের Structures (Fraction, Script, Radical, Integral, Matrix) ও Symbols দিয়ে লেখা। তৈরি-করা সমীকরণের জন্য Equation ▾। উদাহরণ: a² + b² = c², x = (−b ± √(b² − 4ac)) / 2a

    ৬. সিম্বল (Symbol)

    কী-বোর্ডে নেই এমন বিশেষ চিহ্ন যোগ করা। পদ্ধতি: Insert → Symbol → Font (Symbol, Wingdings) ও Subset বাছাই → চিহ্ন সিলেক্ট → Insert → Close। উদাহরণ: ©, ®, ™, °, ±, √, ∞, π, Ω, ✓, ☎, ★

    সারসংক্ষেপ

    উপাদানপথপ্রধান ব্যবহার
    SmartArtInsert → SmartArtপ্রক্রিয়া, কাঠামো ডায়াগ্রাম
    ChartInsert → Chartসংখ্যার তুলনা
    Text BoxInsert → Text Boxযেকোনো জায়গায় লেখা
    Header & FooterInsert → Header & Footerতারিখ, স্লাইড নম্বর, ফুটার
    EquationInsert → Equationগাণিতিক সূত্র
    SymbolInsert → Symbolবিশেষ চিহ্ন

    উপসংহার: এসব উপাদান ব্যবহার করলে ডকুমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন তথ্যবহুল, সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় হয়।

অধ্যায় ৬: ডিজিটাল কমিউনিকেশন

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১৬টি)

  1. ৬-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৪

    ১.ডিজিটাল কমিউনিকেশন কী? [বিএমটি-২০২৬]

    উত্তর

    ডিজিটাল কমিউনিকেশন (Digital Communication) হলো কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ইত্যাদি ডিজিটাল ডিভাইস ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তথ্য (লেখা, ছবি, শব্দ, ভিডিও) ডিজিটাল সংকেত (০ ও ১) আকারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আদান-প্রদানের পদ্ধতি।

    এতে খুব দ্রুত, কম খরচে ও পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ করা যায়।

    উদাহরণ: ই-মেইল, WhatsApp/Messenger-এ মেসেজ ও কল, Zoom বা Google Meet-এ ভিডিও কনফারেন্স, Facebook, অনলাইন শপিং।

     👤 প্রেরক ──► 📱/💻 ──► 🌐 ইন্টারনেট (০১০১…) ──► 📱/💻 ──► 👤 প্রাপক
    
  2. ৬-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৫

    ২.ফাইবার অপটিক ক্যাবল-এর সুবিধাসমূহ লেখ। [বিএমটি-২০২২, ২৫]

    উত্তর

    ফাইবার অপটিক ক্যাবল হলো কাচ বা প্লাস্টিকের অতি সরু তন্তু, যার ভেতর দিয়ে আলোক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো হয়।

    ফাইবার অপটিক ক্যাবলের সুবিধাসমূহ:

    1. অত্যন্ত দ্রুত গতি: আলোর মাধ্যমে তথ্য যায়, তাই ডেটা স্থানান্তরের গতি খুব বেশি (Gbps থেকে Tbps পর্যন্ত)।
    2. বেশি ব্যান্ডউইথ: একসাথে বিপুল পরিমাণ তথ্য পাঠানো যায়।
    3. দীর্ঘ দূরত্ব: সংকেত অনেক দূর পর্যন্ত কম দুর্বল হয়ে যায় (সমুদ্রের তলদেশের সাবমেরিন ক্যাবল)।
    4. বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় প্রভাবমুক্ত (EMI): বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র সংকেত নষ্ট করে না।
    5. নিরাপদ: তথ্য চুরি করা (ট্যাপ করা) খুব কঠিন।
    6. হালকা ও সরু: তামার তারের চেয়ে ওজনে হালকা ও আকারে ছোট।
    7. দীর্ঘস্থায়ী: মরিচা ধরে না, আবহাওয়ার প্রভাব কম।
    8. শর্ট সার্কিট বা আগুনের ঝুঁকি নেই: এতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না।
       ┌──────────────────────────────────────────────┐ ← জ্যাকেট (বাইরের আবরণ)
       │ ┌──────────────────────────────────────────┐ │ ← ক্ল্যাডিং (কম প্রতিসরাঙ্ক)
       │ │ ═══════════════════════════════════════ │ │ ← কোর (কাচ/প্লাস্টিক, বেশি প্রতিসরাঙ্ক)
       │ │   ╲    ╱╲    ╱╲    ╱╲    ╱   → আলো       │ │   (পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনে আলো চলে)
       │ │    ╲╱    ╲╱    ╲╱    ╲╱                  │ │
       │ └──────────────────────────────────────────┘ │
       └──────────────────────────────────────────────┘
                  চিত্র: ফাইবার অপটিক ক্যাবলের গঠন
    
  3. ৬-সং-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৫

    ৩.ক্লাউড কম্পিউটিং কী? [বিএমটি-২০২৪]

    উত্তর

    ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing) হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরের শক্তিশালী সার্ভার (ডেটা সেন্টার) থেকে স্টোরেজ, সফটওয়্যার, প্রসেসিং ক্ষমতা ইত্যাদি সেবা প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া বা বিনামূল্যে ব্যবহার করার পদ্ধতি।

    এতে নিজের কম্পিউটারে বড় হার্ডডিস্ক বা দামি সফটওয়্যার না থাকলেও ইন্টারনেট থাকলেই যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করা যায়; সাধারণত যতটুকু ব্যবহার, ততটুকু খরচ (Pay as you go)।

    উদাহরণ: Google Drive-এ ফাইল রাখা, Gmail, Google Docs, Microsoft 365, Dropbox, Amazon Web Services (AWS)।

            ☁ ক্লাউড (ডেটা সেন্টার)
         ┌──────────────────────────┐
         │ স্টোরেজ  সফটওয়্যার  সার্ভার │
         └────────────┬─────────────┘
              🌐 ইন্টারনেট
         ┌────────┬───┴────┬────────┐
         💻        📱        🖥       ← ব্যবহারকারী (যেকোনো জায়গা থেকে)
    
  4. ৬-সং-৬★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৫

    ৪.ই-মেইল কী?

    উত্তর

    ই-মেইল (E-mail)-এর পূর্ণরূপ Electronic Mail। ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে লেখা, ছবি, ফাইল ইত্যাদি বৈদ্যুতিক চিঠি আকারে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে পাঠানোর ব্যবস্থাকে ই-মেইল বলে।

    এতে প্রেরক ও প্রাপক উভয়ের একটি ই-মেইল ঠিকানা থাকতে হয়। ঠিকানার গঠন:

       rahim.bmt  @  gmail.com
       └──┬──┘   │   └───┬───┘
      ব্যবহারকারীর নাম  "at"  ডোমেইন (সার্ভিস প্রোভাইডার)
    

    বৈশিষ্ট্য: খুব দ্রুত, প্রায় বিনামূল্যে, একসাথে অনেককে পাঠানো যায় (CC, BCC), ফাইল সংযুক্ত (Attachment) করা যায়।

    উদাহরণ: Gmail, Outlook.com, Yahoo Mail। ১৯৭১ সালে রে টমলিনসন (Ray Tomlinson) প্রথম ই-মেইল পাঠান এবং ঠিকানায় @ চিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।

  5. ৬-সং-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৫

    ৫.টেলিকনফারেন্সিং কী?

    উত্তর

    টেলিকনফারেন্সিং (Teleconferencing) হলো দূরে অবস্থানকারী একাধিক ব্যক্তির মধ্যে টেলিফোন, মোবাইল বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে একসাথে সভা বা আলোচনা করার পদ্ধতি।

    এতে সবাইকে এক জায়গায় আসতে হয় না, তাই সময় ও যাতায়াত খরচ বাঁচে।

    প্রকারভেদ:

    • অডিও কনফারেন্সিং: শুধু কণ্ঠস্বরে আলোচনা (কনফারেন্স কল)।
    • ভিডিও কনফারেন্সিং: ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি ও কণ্ঠস্বর দুটিই (Zoom, Google Meet)।
    • ওয়েব কনফারেন্সিং: ইন্টারনেটে স্ক্রিন শেয়ার, প্রেজেন্টেশন ও চ্যাটসহ সভা (ওয়েবিনার)।
       👤 ঢাকা ─┐
       👤 খুলনা ─┼──► 🌐 নেটওয়ার্ক ◄──┬─ 👤 চট্টগ্রাম
       👤 রাজশাহী┘                   └─ 👤 সিলেট
               একসাথে সভা
    

    উদাহরণ: বিভিন্ন জেলার অফিস প্রধানদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের অনলাইন সভা।

  6. ৬-সং-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৫

    ৬.বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কমিউনিকেশন পদ্ধতির নাম লেখ।

    উত্তর

    বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কমিউনিকেশন পদ্ধতির নাম:

    1. ই-মেইল (E-mail) – Gmail, Outlook
    2. ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং/চ্যাট – WhatsApp, Messenger, Telegram, Viber
    3. SMS/MMS – মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা
    4. ভয়েস কল/VoIP – ইন্টারনেটে কথা বলা (WhatsApp কল, IP ফোন)
    5. ভিডিও কনফারেন্সিং – Zoom, Google Meet, Microsoft Teams
    6. টেলিকনফারেন্সিং – একাধিক জনের অডিও/ভিডিও সভা
    7. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম – Facebook, X (Twitter), LinkedIn, YouTube
    8. ওয়েবসাইট ও ব্লগ – তথ্য প্রকাশ
    9. ক্লাউড ফাইল শেয়ারিং – Google Drive, OneDrive, Dropbox
    10. ওয়েবিনার ও ই-লার্নিং – অনলাইন ক্লাস ও প্রশিক্ষণ
                         ডিজিটাল কমিউনিকেশন পদ্ধতি
                                   │
       ┌──────────┬──────────┬─────┴─────┬──────────────┬──────────────┐
     ই-মেইল     মেসেজিং/চ্যাট  ভয়েস কল/VoIP  ভিডিও কনফারেন্সিং  সামাজিক যোগাযোগ   অন্যান্য
     (Gmail)   (WhatsApp,  (WhatsApp কল, (Zoom, Google   মাধ্যম          (SMS, ওয়েবসাইট,
                Messenger)  Viber, IP ফোন) Meet, Teams)  (Facebook,      ব্লগ, ক্লাউড শেয়ারিং,
                                                         LinkedIn)       টেলিকনফারেন্সিং)
    
  7. ৬-সং-৯★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৫

    ৭.টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের সুবিধাসমূহ কী কী?

    উত্তর

    টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল: দুটি করে অপরিবাহী আবরণযুক্ত তামার তার পরস্পরের সাথে প্যাঁচানো (Twisted) অবস্থায় থাকে; সাধারণত ৪ জোড়া তার একটি আবরণে থাকে। প্যাঁচানোর ফলে বাইরের বৈদ্যুতিক গোলযোগ (Noise) কমে।

      UTP (শিল্ড নেই)                   STP (শিল্ড আছে)
     ┌──────────────────┐            ┌──────────────────┐
     │ ⟿⟿ ⟿⟿ ⟿⟿ ⟿⟿     │            │ ▒ ⟿⟿ ▒ ⟿⟿ ▒      │ ← প্রতিটি জোড়ায় ফয়েল
     │ ৪ জোড়া প্যাঁচানো তার │            │ ▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒ │ ← সবগুলোর চারপাশে শিল্ড
     └──────────────────┘            └──────────────────┘
           সংযোগকারী: RJ-45 কানেক্টর
    

    টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের সুবিধাসমূহ:

    1. দাম কম: অন্যান্য ক্যাবলের তুলনায় সস্তা।
    2. সহজলভ্য: বাজারে সহজে পাওয়া যায়।
    3. স্থাপন সহজ: হালকা ও নমনীয়, তাই সহজে বাঁকানো ও বসানো যায়।
    4. রক্ষণাবেক্ষণ সহজ: RJ-45 কানেক্টর দিয়ে সহজে সংযোগ করা যায়।
    5. ভালো গতি: ছোট দূরত্বে (প্রায় ১০০ মিটার) ভালো গতিতে ডেটা পাঠায় (Cat 6-এ ১ Gbps বা বেশি)।
    6. বহুল ব্যবহৃত: অফিস, কলেজের ল্যান (LAN) ও টেলিফোন লাইনে।
    7. নয়েজ কম: প্যাঁচানোর ফলে এবং STP-তে শিল্ড থাকায় বাইরের বিঘ্ন কম।
  8. ৬-সং-১৩★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৬

    ৮.ইনফ্রারেডের ব্যবহারগুলো লেখ।

    উত্তর

    ইনফ্রারেড: দৃশ্যমান আলোর চেয়ে কম কিন্তু মাইক্রোওয়েভের চেয়ে বেশি ফ্রিকোয়েন্সির অদৃশ্য আলোক তরঙ্গ, যা খুব কম দূরত্বে তারবিহীন যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়।

    ইনফ্রারেডের ব্যবহারগুলো:

    1. রিমোট কন্ট্রোল: টিভি, এসি, প্রজেক্টর, মিউজিক সিস্টেমের রিমোট।
    2. পুরনো মোবাইল ও ল্যাপটপে ডেটা আদান-প্রদান: IrDA পোর্টের মাধ্যমে।
    3. তারবিহীন কী-বোর্ড, মাউস ও প্রিন্টার (কিছু পুরনো মডেলে)।
    4. নিরাপত্তা ব্যবস্থা: মোশন সেন্সর, চোর ধরার অ্যালার্ম, স্বয়ংক্রিয় দরজা।
    5. থার্মাল ক্যামেরা ও থার্মোমিটার: তাপমাত্রা মাপা ও রাতে দেখা (নাইট ভিশন)।
    6. স্বাস্থ্যসেবা: ফিজিওথেরাপিতে ইনফ্রারেড ল্যাম্প।
    7. স্মার্টফোনের আইআর ব্লাস্টার: ফোন দিয়ে টিভি নিয়ন্ত্রণ।

    💡 ইনফ্রারেড দেয়াল ভেদ করতে পারে না এবং প্রেরক-গ্রাহক মুখোমুখি থাকতে হয়; তাই এক ঘরের রিমোট পাশের ঘরের টিভিতে কাজ করে না।

  9. ৬-সং-১৬★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৬

    ৯.ক্যালক কী?

    উত্তর

    ক্যালক (Calc) হলো বিনামূল্যের ওপেন সোর্স অফিস প্যাকেজ LibreOffice-এর (এবং Apache OpenOffice-এর) স্প্রেডশিট সফটওয়্যার। এটি MS Excel-এর বিনামূল্যের বিকল্প।

    এতে সারি-কলামের সেলে তথ্য রেখে হিসাব-নিকাশ, ফর্মুলা ও ফাংশন (SUM, AVERAGE, IF), চার্ট তৈরি, ডেটা সাজানো ও ফিল্টার করা যায়।

    • নিজস্ব ফাইল ফরম্যাট: .ods (OpenDocument Spreadsheet)
    • MS Excel-এর .xlsx ও .xls ফাইলও খোলা ও সেভ করা যায়।
    • উদাহরণ: ফলাফল শিট, বেতনের হিসাব, দোকানের হিসাব।
  10. ৬-সং-১৭★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৬

    ১০.ইম্প্রেস কী?

    উত্তর

    ইম্প্রেস (Impress) হলো বিনামূল্যের ওপেন সোর্স অফিস প্যাকেজ LibreOffice-এর (এবং Apache OpenOffice-এর) প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার। এটি MS PowerPoint-এর বিনামূল্যের বিকল্প।

    এতে লেখা, ছবি, চার্ট, অডিও-ভিডিওসহ স্লাইড তৈরি করে ট্রানজিশন ও অ্যানিমেশন দিয়ে আকর্ষণীয় প্রেজেন্টেশন দেওয়া যায়।

    • নিজস্ব ফাইল ফরম্যাট: .odp (OpenDocument Presentation)
    • PowerPoint-এর .pptx ও .ppt ফাইলও খোলা ও সেভ করা যায়।
    • সরাসরি PDF হিসেবে এক্সপোর্ট করা যায়।
    LibreOfficeMS Office বিকল্পফরম্যাট
    WriterWord.odt
    CalcExcel.ods
    ImpressPowerPoint.odp
  11. ৬-সং-১৮★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৬

    ১১.কোঅ্যাক্সিয়াল ক্যাবল কী?

    উত্তর

    কোঅ্যাক্সিয়াল ক্যাবল (Coaxial Cable) হলো এমন এক ধরনের তামার ক্যাবল, যার কেন্দ্রে একটি তামার তার, তার চারপাশে অপরিবাহী স্তর, তার ওপর তারের জালি (শিল্ড) এবং সবশেষে প্লাস্টিকের আবরণ থাকে। কেন্দ্রের তার ও জালির অক্ষ একই বলে এর নাম "কো-অ্যাক্সিয়াল"।

       ═══════════════════════════════  ← বাইরের প্লাস্টিক আবরণ (Jacket)
       ▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒  ← তারের জালি (Braided Shield)
       ░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░  ← অপরিবাহী স্তর (Insulator)
       ───────────────────────────────  ← কেন্দ্রের তামার তার (Conductor)
       ░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░
       ▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒
       ═══════════════════════════════
              চিত্র: কোঅ্যাক্সিয়াল ক্যাবলের গঠন
    

    বৈশিষ্ট্য: জালির কারণে বাইরের বৈদ্যুতিক গোলযোগ কম লাগে; BNC বা F-type কানেক্টর ব্যবহার হয়।

    ব্যবহার: ক্যাবল টিভি (ডিশ লাইন), সিসিটিভি ক্যামেরা, পুরনো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ক্যাবল ইন্টারনেট।

  12. ৬-সং-২০★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৬

    ১২.মাইক্রোওয়েভ কী?

    উত্তর

    মাইক্রোওয়েভ (Microwave) হলো প্রায় ১ GHz থেকে ৩০০ GHz ফ্রিকোয়েন্সির উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা শুধু সোজা রেখায় (Line of Sight) চলে। তাই প্রেরক ও গ্রাহক অ্যান্টেনা মুখোমুখি থাকতে হয় এবং মাঝে বাধা থাকা চলে না।

    মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগ দুই প্রকার:

    1. টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ: ভূপৃষ্ঠে উঁচু টাওয়ারে বসানো ডিশ অ্যান্টেনার মধ্যে (প্রায় ৫০ কিমি পরপর)।
    2. স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ: কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
      📡 ═══════════════► 📡        🛰
      টাওয়ার   সোজা রেখায়   টাওয়ার    ╱  ╲
                               📡    📡
    

    ব্যবহার: মোবাইল নেটওয়ার্ক, স্যাটেলাইট টিভি, ওয়াই-ফাই, রাডার।

  13. ৬-সং-২১★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৬

    ১৩.ইনফ্রারেড কী?

    উত্তর

    ইনফ্রারেড (Infrared) হলো দৃশ্যমান লাল আলোর চেয়ে কম ফ্রিকোয়েন্সির অদৃশ্য আলোক তরঙ্গ (প্রায় ৩০০ GHz থেকে ৪০০ THz), যা খুব কম দূরত্বে (কয়েক মিটার) তারবিহীন যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়।

    বৈশিষ্ট্য:

    • প্রেরক ও গ্রাহক মুখোমুখি থাকতে হয়।
    • দেয়াল ভেদ করতে পারে না, তাই এক ঘরের সংকেত অন্য ঘরে যায় না; ফলে নিরাপদ।
    • তৈরি করা সহজ ও সস্তা।
      🎛 রিমোট ─ ─ ─ ইনফ্রারেড রশ্মি ─ ─ ─► 📺 টিভি
           (কয়েক মিটার, মুখোমুখি)
    

    উদাহরণ: টিভি ও এসির রিমোট কন্ট্রোল, মোশন সেন্সর, নাইট ভিশন ক্যামেরা।

  14. ৬-সং-২৩★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৬

    ১৪.এসটিপি কী?

    উত্তর

    এসটিপি (STP)-এর পূর্ণরূপ Shielded Twisted Pair। এটি এক ধরনের টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল, যেখানে প্যাঁচানো তামার তারের জোড়াগুলোর চারপাশে ধাতব ফয়েল বা তারের জালির আবরণ (শিল্ড) থাকে।

    এই শিল্ড বাইরের বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় গোলযোগ (EMI) ও নয়েজ থেকে সংকেত রক্ষা করে।

     ┌──────────────────────┐
     │ ▒ ⟿⟿ ▒ ⟿⟿ ▒ ⟿⟿ ▒ ⟿⟿ │ ← প্রতিটি জোড়ায় ফয়েল
     │ ▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒ │ ← চারপাশে শিল্ড
     └──────────────────────┘
    

    বৈশিষ্ট্য: UTP-এর চেয়ে নয়েজ কম ও মান ভালো, তবে দামি, মোটা ও স্থাপন কঠিন। ব্যবহার: কারখানা, হাসপাতাল বা যেখানে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের গোলযোগ বেশি।

  15. ৬-সং-২৪★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৭

    ১৫.ইউটিপি কী?

    উত্তর

    ইউটিপি (UTP)-এর পূর্ণরূপ Unshielded Twisted Pair। এটি এক ধরনের টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল, যেখানে প্যাঁচানো তামার তারের জোড়াগুলোর চারপাশে কোনো ধাতব শিল্ড থাকে না; শুধু প্লাস্টিকের আবরণ থাকে। সাধারণত ৪ জোড়া (৮টি) তার থাকে।

     ┌──────────────────────┐
     │ ⟿⟿  ⟿⟿  ⟿⟿  ⟿⟿      │ ← শিল্ড নেই, শুধু প্লাস্টিক আবরণ
     └──────────────────────┘
            RJ-45 কানেক্টর
    

    বৈশিষ্ট্য: সস্তা, হালকা, নমনীয় ও স্থাপন সহজ; তবে STP-এর চেয়ে নয়েজ বেশি লাগে। ক্যাটাগরি: Cat 5e, Cat 6, Cat 6a ইত্যাদি। ব্যবহার: অফিস, বাসা ও কলেজের ল্যান (LAN) এবং টেলিফোন লাইনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত।

    বিষয়UTPSTP
    শিল্ডনেইআছে
    দামকমবেশি
    নয়েজ প্রতিরোধকমবেশি
    স্থাপনসহজকঠিন
  16. ৬-সং-৩০★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৭

    ১৬.প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism) কী?

    উত্তর

    প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism) হলো অন্যের লেখা, গবেষণা, ধারণা, ছবি বা সৃষ্টিকর্ম তার স্বীকৃতি বা উৎস উল্লেখ না করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া। একে কুম্ভিলকবৃত্তি বা মেধা চুরি বলে।

    উদাহরণ:

    • ইন্টারনেট থেকে প্রবন্ধ কপি করে নিজের অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে জমা দেওয়া।
    • অন্যের গবেষণাপত্রের অংশ উৎস ছাড়া নিজের গবেষণায় ব্যবহার।
    • অন্যের তোলা ছবি নিজের বলে প্রকাশ করা।

    ফলাফল: এটি নৈতিকভাবে অন্যায়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নম্বর বাতিল, ডিগ্রি বাতিল বা চাকরি হারানোর মতো শাস্তি হতে পারে।

    প্রতিরোধ: নিজের ভাষায় লেখা, উদ্ধৃতি দিলে উদ্ধৃতিচিহ্ন ও উৎস (Reference) উল্লেখ করা। Turnitin-এর মতো সফটওয়্যার দিয়ে প্লেজিয়ারিজম ধরা হয়।

রচনামূলক প্রশ্ন (৭টি)

  1. ৬-র-১★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৭

    ১.বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কমিউনিকেশন পদ্ধতির নাম বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৪, ২৬]

    • অথবা, বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কমিউনিকেশন পদ্ধতি বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৬]

    উত্তর

    ডিজিটাল কমিউনিকেশন: কম্পিউটার, মোবাইল ও ইন্টারনেটের মতো ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেখা, ছবি, শব্দ ও ভিডিও আকারে তথ্য ডিজিটাল সংকেতে আদান-প্রদানকে ডিজিটাল কমিউনিকেশন বলে। আধুনিক অফিস, শিক্ষা ও ব্যবসায় এটি অপরিহার্য।

                         ডিজিটাল কমিউনিকেশন পদ্ধতি
                                   │
       ┌──────────┬──────────┬─────┴─────┬──────────────┬──────────────┐
     ই-মেইল     মেসেজিং/চ্যাট  ভয়েস কল/VoIP  ভিডিও কনফারেন্সিং  সামাজিক যোগাযোগ   অন্যান্য
     (Gmail)   (WhatsApp,  (WhatsApp কল, (Zoom, Google   মাধ্যম          (SMS, ওয়েবসাইট,
                Messenger)  Viber, IP ফোন) Meet, Teams)  (Facebook,      ব্লগ, ক্লাউড শেয়ারিং,
                                                         LinkedIn)       টেলিকনফারেন্সিং)
    

    ১. ই-মেইল (E-mail)

    ইন্টারনেটের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক চিঠি পাঠানো। ফাইল সংযুক্ত করা যায় এবং CC/BCC দিয়ে একসাথে অনেককে পাঠানো যায়। উদাহরণ: Gmail, Outlook.com, Yahoo Mail। অফিসে ব্যবহার: দাপ্তরিক চিঠি, প্রতিবেদন ও নথি পাঠানো।

    ২. ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং বা চ্যাট

    ইন্টারনেটে তাৎক্ষণিকভাবে লেখা, ছবি, ভয়েস মেসেজ ও ফাইল পাঠানো। গ্রুপ চ্যাট করা যায়। উদাহরণ: WhatsApp, Messenger, Telegram, Viber, imo।

    ৩. SMS ও MMS

    মোবাইল নেটওয়ার্কে খুদে বার্তা (SMS) ও ছবিসহ বার্তা (MMS)। ইন্টারনেট লাগে না। উদাহরণ: ব্যাংকের লেনদেনের বার্তা, পরীক্ষার ফলাফল জানা।

    ৪. ভয়েস কল ও VoIP

    ইন্টারনেটের মাধ্যমে কথা বলা (Voice over Internet Protocol)। সাধারণ ফোন কলের চেয়ে খরচ কম, দেশ-বিদেশে কথা বলা যায়। উদাহরণ: WhatsApp কল, Messenger কল, অফিসের IP ফোন।

    ৫. ভিডিও কনফারেন্সিং

    ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের মাধ্যমে দূরের মানুষ মুখোমুখি দেখে একসাথে সভা, ক্লাস বা সাক্ষাৎকার। স্ক্রিন শেয়ার ও রেকর্ড করা যায়। উদাহরণ: Zoom, Google Meet, Microsoft Teams, Webex।

    ৬. টেলিকনফারেন্সিং

    টেলিফোন বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে একাধিক জনের অডিও বা ভিডিও সভা। এর মধ্যে অডিও কনফারেন্স, ভিডিও কনফারেন্স ও ওয়েব কনফারেন্স (ওয়েবিনার) পড়ে।

    ৭. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

    ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তথ্য, ছবি, ভিডিও শেয়ার ও মতামত বিনিময় করে। উদাহরণ: Facebook, YouTube, LinkedIn (পেশাগত), X (Twitter), Instagram। অফিসে ব্যবহার: প্রতিষ্ঠানের পেজে নোটিশ ও প্রচারণা।

    ৮. ওয়েবসাইট ও ব্লগ

    প্রতিষ্ঠানের তথ্য, নোটিশ, ফলাফল ও সেবা অনলাইনে প্রকাশ। উদাহরণ: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, কলেজের ওয়েবসাইট।

    ৯. ক্লাউডভিত্তিক ফাইল শেয়ারিং ও সহযোগিতা

    ক্লাউডে ফাইল রেখে লিংকের মাধ্যমে শেয়ার এবং একসাথে একই ডকুমেন্টে কাজ। উদাহরণ: Google Drive, Google Docs, OneDrive, Dropbox।

    ১০. ই-লার্নিং ও ই-গভর্ন্যান্স

    অনলাইন ক্লাস (Google Classroom, মুক্তপাঠ) এবং অনলাইনে সরকারি সেবা (ই-নথি, অনলাইন আবেদন)।

    সারসংক্ষেপ

    পদ্ধতিমাধ্যমউদাহরণ
    ই-মেইললেখা + ফাইলGmail
    মেসেজিংলেখা, ছবি, ভয়েসWhatsApp
    SMSলেখামোবাইল বার্তা
    VoIPকণ্ঠস্বরWhatsApp কল
    ভিডিও কনফারেন্সিংছবি + কণ্ঠস্বরZoom
    সামাজিক মাধ্যমসব ধরনেরFacebook
    ক্লাউড শেয়ারিংফাইলGoogle Drive

    উপসংহার: ডিজিটাল কমিউনিকেশনের এসব পদ্ধতি সময় ও খরচ বাঁচিয়ে যোগাযোগকে দ্রুত, সহজ ও বিশ্বব্যাপী করেছে; তাই একজন অফিস সহকারীর এগুলোর ব্যবহার জানা জরুরি।

  2. ৬-র-২★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৮

    ২.ই-মেইল ও ওয়েব মেইলের কাজ লেখ। [বিএমটি-২০২২, ২৬]

    উত্তর

    ই-মেইল (E-mail): Electronic Mail-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক চিঠি আকারে লেখা, ছবি ও ফাইল পাঠানোর ব্যবস্থা।

    ওয়েব মেইল (Web Mail): যে ই-মেইল সেবা কোনো আলাদা সফটওয়্যার ইনস্টল না করে শুধু ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়, তাকে ওয়েব মেইল বলে। যেমন: Gmail (mail.google.com), Outlook.com, Yahoo Mail।

     ✍ প্রেরক ──► 📤 প্রেরকের মেইল সার্ভার ──► 🌐 ইন্টারনেট ──► 📥 প্রাপকের মেইল সার্ভার ──► 📬 প্রাপক
                (SMTP দিয়ে পাঠায়)                         (POP3/IMAP দিয়ে নামায়)
    

    ক. ই-মেইলের কাজ

    1. বার্তা পাঠানো ও গ্রহণ: পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় মুহূর্তে চিঠি পাঠানো।
    2. ফাইল সংযুক্ত করা (Attachment): ডকুমেন্ট, ছবি, PDF, স্প্রেডশিট পাঠানো।
    3. একসাথে অনেককে পাঠানো: To, CC (Carbon Copy), BCC (Blind Carbon Copy)।
    4. উত্তর ও ফরোয়ার্ড: Reply, Reply All, Forward।
    5. সংরক্ষণ ও খোঁজা: পুরনো মেইল ফোল্ডারে রাখা ও সার্চ করে খুঁজে বের করা।
    6. দাপ্তরিক যোগাযোগ: চিঠি, নোটিশ, প্রতিবেদন, চাকরির আবেদন পাঠানো।
    7. অ্যাকাউন্ট তৈরি ও যাচাই: বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে নিবন্ধন ও পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার।
    8. ঠিকানা বই (Contacts): যোগাযোগের ঠিকানা সংরক্ষণ।
    9. নিউজলেটার ও বিজ্ঞপ্তি গ্রহণ।

    খ. ওয়েব মেইলের কাজ ও সুবিধা

    1. যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার: ইন্টারনেট ও ব্রাউজার থাকলেই যেকোনো কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে মেইল দেখা যায়।
    2. সফটওয়্যার লাগে না: Outlook-এর মতো আলাদা প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে হয় না।
    3. সার্ভারে সংরক্ষণ: সব মেইল সার্ভারে থাকে, কম্পিউটার নষ্ট হলেও হারায় না।
    4. স্প্যাম ফিল্টার ও ভাইরাস স্ক্যান: নিজে থেকেই অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর মেইল আলাদা করে।
    5. বিনামূল্যে স্টোরেজ: যেমন Gmail-এ Google অ্যাকাউন্টে ১৫ GB।
    6. অন্যান্য সেবার সাথে যুক্ত: ক্যালেন্ডার, ক্লাউড ড্রাইভ, চ্যাট, ভিডিও কল।
    7. লেবেল ও ফোল্ডার: মেইল গুছিয়ে রাখা।
    8. নিরাপত্তা: টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন।

    ই-মেইলের অংশ

    অংশকাজ
    Toপ্রধান প্রাপকের ঠিকানা
    CCঅন্যদের কপি (সবাই দেখতে পায়)
    BCCগোপন কপি (অন্য প্রাপকরা দেখতে পায় না)
    Subjectবিষয়
    Bodyমূল বার্তা
    Attachment (📎)সংযুক্ত ফাইল
    Signatureপ্রেরকের নাম, পদবি ও ঠিকানা

    ই-মেইল ক্লায়েন্ট বনাম ওয়েব মেইল

    বিষয়ই-মেইল ক্লায়েন্টওয়েব মেইল
    ব্যবহারইনস্টল করা সফটওয়্যারব্রাউজার
    উদাহরণMS Outlook, ThunderbirdGmail, Outlook.com
    অফলাইনে পড়াসহজসীমিত
    যেকোনো কম্পিউটার থেকেকঠিনসহজ

    উপসংহার: ই-মেইল ও ওয়েব মেইল দ্রুত, কম খরচের ও নির্ভরযোগ্য দাপ্তরিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

  3. ৬-র-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩৮

    ৩.সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুফল ও কুফল বর্ণনা কর। [বিএমটি-২৫, ২৬]

    উত্তর

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (Social Media): ইন্টারনেটভিত্তিক যেসব ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে মানুষ নিজের প্রোফাইল তৈরি করে লেখা, ছবি, ভিডিও শেয়ার, মতামত বিনিময় ও পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলে। উদাহরণ: Facebook, YouTube, WhatsApp, Instagram, LinkedIn, X (Twitter), TikTok।

                     সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
                             │
              ┌──────────────┴──────────────┐
           সুফল ✅                         কুফল ❌
       যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা,          আসক্তি, গুজব, সাইবার বুলিং,
       তথ্য, কর্মসংস্থান                 গোপনীয়তা হানি, প্রতারণা
    

    ক. সুফল

    1. সহজ ও দ্রুত যোগাযোগ: দেশ-বিদেশের আত্মীয়, বন্ধু ও সহকর্মীর সাথে বিনা খরচে যোগাযোগ।
    2. তথ্য ও সংবাদ: তাৎক্ষণিকভাবে দেশ-বিদেশের খবর জানা।
    3. শিক্ষা: YouTube-এ শিক্ষামূলক ভিডিও, অনলাইন গ্রুপে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর।
    4. ব্যবসা ও বিপণন: অনলাইন উদ্যোক্তা (F-commerce), পণ্যের প্রচার কম খরচে।
    5. কর্মসংস্থান: LinkedIn-এ চাকরি খোঁজা, ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট তৈরি করে আয়।
    6. সামাজিক সচেতনতা ও সহযোগিতা: রক্তদান, ত্রাণ, হারানো মানুষ খোঁজা, স্বাস্থ্য সচেতনতা।
    7. মত প্রকাশ ও প্রতিভা বিকাশ: লেখা, গান, ছবি আঁকা প্রকাশের সুযোগ।
    8. সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবা: অফিসের পেজে নোটিশ ও তথ্য প্রকাশ।

    খ. কুফল

    1. আসক্তি ও সময় নষ্ট: পড়াশোনা ও কাজের ক্ষতি, ঘুম কমে যাওয়া।
    2. গুজব ও ভুয়া খবর: যাচাই ছাড়া ছড়ানো তথ্যে সামাজিক অস্থিরতা।
    3. সাইবার বুলিং ও হয়রানি: অপমানজনক মন্তব্য, ব্যক্তিগত ছবি অপব্যবহার।
    4. গোপনীয়তা হানি: ব্যক্তিগত তথ্য, অবস্থান ও ছবি অপরিচিত মানুষের হাতে চলে যাওয়া।
    5. প্রতারণা ও হ্যাকিং: ভুয়া আইডি, ফিশিং লিংক, অনলাইন প্রতারণা।
    6. স্বাস্থ্যঝুঁকি: চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া।
    7. পারিবারিক ও সামাজিক দূরত্ব: পাশের মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ কমে যাওয়া।
    8. অনুপযুক্ত কনটেন্ট: অল্পবয়সীদের ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে আসা।

    সারসংক্ষেপ

    সুফলকুফল
    দ্রুত যোগাযোগআসক্তি ও সময় নষ্ট
    তথ্য ও শিক্ষাগুজব ও ভুয়া খবর
    ব্যবসা ও কর্মসংস্থানপ্রতারণা ও হ্যাকিং
    সামাজিক সহযোগিতাসাইবার বুলিং
    মত প্রকাশগোপনীয়তা হানি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

    নিরাপদ ব্যবহারের উপায়

    • ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা।
    • শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা।
    • ব্যক্তিগত তথ্য ও অবস্থান প্রকাশ না করা; প্রাইভেসি সেটিংস ঠিক রাখা।
    • কোনো খবর শেয়ার করার আগে যাচাই করা।
    • অপরিচিত লিংক ও বন্ধুত্বের অনুরোধ এড়িয়ে চলা।
    • হয়রানির শিকার হলে রিপোর্ট করা ও অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষকে জানানো।

    উপসংহার: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি শক্তিশালী হাতিয়ার; সচেতন ও পরিমিত ব্যবহার করলে এর সুফল পাওয়া যায় এবং কুফল এড়ানো যায়।

  4. ৬-র-৬★★★বই: পৃষ্ঠা ১৪২

    ৪.ডকুমেন্টের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ধরনের থ্রেট (Threat) বর্ণনা কর।

    উত্তর

    থ্রেট (Threat) বা হুমকি: যেসব বিষয় বা কার্যকলাপ কম্পিউটারের ডকুমেন্ট ও তথ্যের গোপনীয়তা, সঠিকতা বা প্রাপ্যতা নষ্ট করতে পারে, সেগুলোকে নিরাপত্তা হুমকি বা থ্রেট বলে।

                           নিরাপত্তা থ্রেট
                                 │
         ┌───────────────┬───────┴────────┬──────────────────┐
      ম্যালওয়্যার        অনলাইন প্রতারণা     অবৈধ প্রবেশ         অন্যান্য
     (ভাইরাস, ওয়ার্ম,    (ফিশিং, ফার্মিং,    (হ্যাকিং, ক্র্যাকিং,   (দুর্ঘটনা, চুরি,
      ট্রোজান, র‍্যানসমওয়্যার, স্প্যাম,        পাসওয়ার্ড চুরি)       পাইরেসি, প্লেজিয়ারিজম)
      স্পাইওয়্যার)       সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং)
    

    ক. ম্যালওয়্যার (Malware – ক্ষতিকর প্রোগ্রাম)

    থ্রেটবর্ণনাক্ষতি
    ভাইরাস (Virus)অন্য ফাইল বা প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত হয়ে ছড়ায়; ফাইল চালু করলে সক্রিয় হয়ফাইল নষ্ট বা মুছে ফেলা, কম্পিউটার ধীর
    ওয়ার্ম (Worm)কোনো ফাইলের সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে কপি হয়ে নেটওয়ার্কে ছড়ায়নেটওয়ার্ক ধীর ও অচল
    ট্রোজান হর্স (Trojan)দরকারি সফটওয়্যার সেজে কম্পিউটারে ঢোকেগোপনে তথ্য চুরি, হ্যাকারকে প্রবেশের সুযোগ
    র‍্যানসমওয়্যার (Ransomware)ফাইলগুলো এনক্রিপ্ট (তালাবদ্ধ) করে মুক্তিপণ দাবি করেসব ফাইল ব্যবহার অযোগ্য
    স্পাইওয়্যার (Spyware)গোপনে ব্যবহারকারীর কাজ ও তথ্য সংগ্রহ করেপাসওয়ার্ড ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরি
    কী-লগার (Keylogger)কী-বোর্ডে যা টাইপ করা হয় তা রেকর্ড করেপাসওয়ার্ড চুরি
    অ্যাডওয়্যার (Adware)অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন দেখায়বিরক্তি, কম্পিউটার ধীর

    খ. অনলাইন প্রতারণা

    ১. ফিশিং (Phishing): ব্যাংক বা পরিচিত প্রতিষ্ঠান সেজে ভুয়া ই-মেইল/SMS/লিংক দিয়ে পাসওয়ার্ড, PIN, OTP সংগ্রহ।

    ২. ফার্মিং (Pharming): DNS বা hosts ফাইল পরিবর্তন করে সঠিক ঠিকানা লিখলেও নকল ওয়েবসাইটে নিয়ে তথ্য চুরি।

    ৩. স্প্যামিং (Spamming): অনাকাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপন বা প্রতারণামূলক বার্তা বারবার পাঠানো; অনেক স্প্যামে ভাইরাস বা ফিশিং লিংক থাকে।

    ৪. সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: মানুষের বিশ্বাস বা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে কৌশলে তথ্য আদায় (যেমন "আমি আইটি বিভাগ থেকে বলছি, পাসওয়ার্ডটা বলুন")।

    গ. অবৈধ প্রবেশ

    ১. হ্যাকিং: সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে তথ্য চুরি বা পরিবর্তন।

    ২. ক্র্যাকিং: নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সফটওয়্যারের লাইসেন্স সুরক্ষা খারাপ উদ্দেশ্যে ভাঙা।

    ৩. পাসওয়ার্ড অনুমান ও চুরি: দুর্বল পাসওয়ার্ড (123456, নিজের নাম) সহজে ভাঙা যায়।

    ৪. DoS/DDoS আক্রমণ: একসাথে অসংখ্য অনুরোধ পাঠিয়ে সার্ভার অচল করা, ফলে প্রয়োজনের সময় তথ্য পাওয়া যায় না।

    ৫. অভ্যন্তরীণ হুমকি (Insider Threat): প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কোনো কর্মীর ইচ্ছাকৃত বা অসতর্কতায় তথ্য ফাঁস।

    ঘ. অন্যান্য থ্রেট

    ১. পাইরেসি: অনুমতি ছাড়া সফটওয়্যার বা কনটেন্ট কপি ও বিতরণ; ক্র্যাক সফটওয়্যারে ম্যালওয়্যার থাকে। ২. প্লেজিয়ারিজম: অন্যের লেখা বা তথ্য নিজের নামে চালানো। ৩. দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি: ভুল করে ফাইল মুছে ফেলা, হার্ডডিস্ক নষ্ট হওয়া। ৪. প্রাকৃতিক ও বৈদ্যুতিক দুর্যোগ: আগুন, বন্যা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ৫. ভৌত চুরি: ল্যাপটপ, পেনড্রাইভ বা হার্ডডিস্ক চুরি।

    প্রতিরোধের উপায়

    থ্রেটপ্রতিরোধ
    ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজানআপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস, অজানা ফাইল না খোলা
    র‍্যানসমওয়্যারনিয়মিত ব্যাকআপ, সন্দেহজনক সংযুক্তি না খোলা
    ফিশিং, ফার্মিংলিংক যাচাই, https 🔒 দেখা, OTP কাউকে না বলা
    স্প্যামস্প্যাম ফিল্টার, Report Spam
    হ্যাকিংশক্তিশালী পাসওয়ার্ড, 2FA, ফায়ারওয়াল, সফটওয়্যার আপডেট
    দুর্ঘটনা ও দুর্যোগব্যাকআপ, UPS ব্যবহার
    চুরিভৌত নিরাপত্তা, ড্রাইভ এনক্রিপশন

    উপসংহার: থ্রেটগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে এবং যথাযথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিলে অফিসের ডকুমেন্ট ও তথ্য নিরাপদ রাখা যায়।

  5. ৬-র-৮★★বই: পৃষ্ঠা ১৪৪

    ৫.ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ লেখ।

    উত্তর

    ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল: কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি চুলের মতো সরু তন্তু, যার ভেতর দিয়ে আলোক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো হয়। এটি পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) নীতিতে কাজ করে।

       ┌──────────────────────────────────────────────┐ ← জ্যাকেট (বাইরের আবরণ)
       │ ┌──────────────────────────────────────────┐ │ ← ক্ল্যাডিং (কম প্রতিসরাঙ্ক)
       │ │ ═══════════════════════════════════════ │ │ ← কোর (কাচ/প্লাস্টিক, বেশি প্রতিসরাঙ্ক)
       │ │   ╲    ╱╲    ╱╲    ╱╲    ╱   → আলো       │ │   (পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনে আলো চলে)
       │ │    ╲╱    ╲╱    ╲╱    ╲╱                  │ │
       │ └──────────────────────────────────────────┘ │
       └──────────────────────────────────────────────┘
                  চিত্র: ফাইবার অপটিক ক্যাবলের গঠন
    

    গঠন: কোর (আলো চলার পথ) → ক্ল্যাডিং (আলো ফিরিয়ে দেয়) → জ্যাকেট (সুরক্ষা)।

    কার্যপদ্ধতি:

     💻 ডেটা ─► 💡 আলোক উৎস (LED/লেজার) ─► ═══ ফাইবার ═══ ─► 📷 আলোক শনাক্তকারী ─► 💻 ডেটা
              (বৈদ্যুতিক → আলো)                              (আলো → বৈদ্যুতিক)
    

    ক. সুবিধাসমূহ

    1. অত্যন্ত দ্রুত গতি: আলোর মাধ্যমে তথ্য যায়, গতি Gbps থেকে Tbps পর্যন্ত।
    2. বেশি ব্যান্ডউইথ: একসাথে বিপুল পরিমাণ ডেটা, ভয়েস ও ভিডিও পাঠানো যায়।
    3. দীর্ঘ দূরত্ব: সংকেত কম দুর্বল হয়; রিপিটার অনেক দূরে দূরে লাগে।
    4. বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় গোলযোগমুক্ত: বিদ্যুৎ লাইন, মোটর বা বজ্রপাতের প্রভাব পড়ে না।
    5. উচ্চ নিরাপত্তা: ক্যাবল কেটে তথ্য চুরি (ট্যাপ) করা খুব কঠিন।
    6. হালকা ও সরু: তামার ক্যাবলের তুলনায় ওজন ও আকার কম।
    7. দীর্ঘস্থায়ী: মরিচা ধরে না, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রভাব কম।
    8. নিরাপদ: বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না, তাই শর্ট সার্কিট বা আগুনের ঝুঁকি নেই।
    9. ক্রসটক নেই: পাশাপাশি থাকা ক্যাবলের সংকেত একে অপরকে প্রভাবিত করে না।

    খ. অসুবিধাসমূহ

    1. দাম বেশি: ক্যাবল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি (ট্রান্সমিটার, রিসিভার) ব্যয়বহুল।
    2. স্থাপন কঠিন: দক্ষ কারিগর ও বিশেষ যন্ত্র লাগে।
    3. জোড়া লাগানো কঠিন: ক্যাবল কেটে গেলে স্প্লাইসিং (Splicing) মেশিন দিয়ে জোড়া দিতে হয়।
    4. ভঙ্গুর: কাচের তৈরি বলে বেশি বাঁকালে বা চাপ পড়লে ভেঙে যেতে পারে।
    5. একমুখী সংকেত: সাধারণত একটি ফাইবারে আলো এক দিকে যায়; দুই দিকে যোগাযোগের জন্য দুটি ফাইবার বা বিশেষ প্রযুক্তি লাগে।
    6. রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুল: ত্রুটি খুঁজে বের করতে বিশেষ যন্ত্র (OTDR) লাগে।
    7. ইঁদুর বা খোঁড়াখুঁড়িতে ক্ষতি: মাটির নিচের ক্যাবল সহজে কেটে যায়।

    সারসংক্ষেপ

    সুবিধাঅসুবিধা
    সবচেয়ে দ্রুত গতি ও বেশি ব্যান্ডউইথদাম বেশি
    দীর্ঘ দূরত্বস্থাপন ও জোড়া লাগানো কঠিন
    গোলযোগমুক্ত ও নিরাপদভঙ্গুর
    হালকা ও দীর্ঘস্থায়ীদক্ষ কারিগর ও বিশেষ যন্ত্র লাগে

    ব্যবহার: ইন্টারনেটের ব্যাকবোন, সমুদ্রের তলদেশের সাবমেরিন ক্যাবল (বাংলাদেশ SEA-ME-WE-4 ও SEA-ME-WE-5-এর সাথে যুক্ত), বাসাবাড়িতে ব্রডব্যান্ড (FTTH), চিকিৎসায় এন্ডোস্কোপি।

    উপসংহার: দাম ও স্থাপনের জটিলতা থাকলেও দ্রুত গতি, নিরাপত্তা ও দীর্ঘ দূরত্বের কারণে আধুনিক যোগাযোগের মেরুদণ্ড হলো ফাইবার অপটিক ক্যাবল।

  6. ৬-র-৯★★বই: পৃষ্ঠা ১৪৫

    ৬.ক্লাউড কম্পিউটিং-এর ধারণা ব্যাখ্যা কর।

    উত্তর

    ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing): ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরের ডেটা সেন্টারের সার্ভার থেকে স্টোরেজ, সফটওয়্যার, প্ল্যাটফর্ম ও প্রসেসিং ক্ষমতা প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া বা বিনামূল্যে ব্যবহারের পদ্ধতিকে ক্লাউড কম্পিউটিং বলে। এখানে "ক্লাউড" (মেঘ) বলতে ইন্টারনেট ও তার পেছনের সার্ভারগুলোকে বোঝায়।

    উদাহরণ: Google Drive-এ ফাইল রাখা, Gmail ব্যবহার, Google Docs-এ একসাথে লেখা, Microsoft 365, Amazon Web Services (AWS)।

                       ☁ ক্লাউড প্রোভাইডার (ডেটা সেন্টার)
            ┌────────────────────────────────────────────┐
            │  🗄 সার্ভার   💾 স্টোরেজ   📦 সফটওয়্যার   🛢 ডেটাবেজ │
            └──────────────────────┬─────────────────────┘
                             🌐 ইন্টারনেট
               ┌──────────┬────────┴─┬───────────┐
               💻 অফিস     📱 মোবাইল   🖥 বাসা      🏫 কলেজ
                   (যেকোনো জায়গা থেকে, যেকোনো সময়)
    

    ক. ক্লাউড কম্পিউটিং-এর বৈশিষ্ট্য

    1. অন-ডিমান্ড সেবা: প্রয়োজনমতো নিজে সেবা নেওয়া যায়।
    2. ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রবেশ: যেকোনো ডিভাইস ও জায়গা থেকে।
    3. রিসোর্স শেয়ারিং: একই সার্ভার অনেক ব্যবহারকারী ভাগাভাগি করে।
    4. স্কেলেবিলিটি: প্রয়োজনে দ্রুত ক্ষমতা বাড়ানো বা কমানো যায়।
    5. যতটুকু ব্যবহার ততটুকু খরচ (Pay as you go)।

    খ. সেবার ধরন (Service Model)

    মডেলপূর্ণরূপকী দেয়উদাহরণ
    SaaSSoftware as a Serviceতৈরি সফটওয়্যার, ব্রাউজারে ব্যবহারGmail, Google Docs, Microsoft 365, Zoom
    PaaSPlatform as a Serviceসফটওয়্যার তৈরির প্ল্যাটফর্মGoogle App Engine, Heroku
    IaaSInfrastructure as a Serviceভার্চুয়াল সার্ভার, স্টোরেজ, নেটওয়ার্কAmazon EC2, Google Compute Engine
      ┌──────────────────────┐
      │ SaaS  → ব্যবহারকারী    │  (শুধু ব্যবহার করে)
      ├──────────────────────┤
      │ PaaS  → ডেভেলপার      │  (অ্যাপ তৈরি করে)
      ├──────────────────────┤
      │ IaaS  → আইটি প্রশাসক   │  (সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করে)
      └──────────────────────┘
    

    গ. স্থাপনের ধরন (Deployment Model)

    1. পাবলিক ক্লাউড: সবার জন্য উন্মুক্ত, প্রোভাইডারের মালিকানায় (Google Drive, AWS)।
    2. প্রাইভেট ক্লাউড: একটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব, বেশি নিরাপদ (ব্যাংকের নিজস্ব ক্লাউড)।
    3. হাইব্রিড ক্লাউড: পাবলিক ও প্রাইভেটের সমন্বয়।
    4. কমিউনিটি ক্লাউড: একই ধরনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে ব্যবহার করে।

    ঘ. সুবিধা

    1. খরচ কম: নিজের দামি সার্ভার ও সফটওয়্যার কিনতে হয় না।
    2. যেকোনো জায়গা থেকে কাজ: অফিস, বাসা বা ভ্রমণে।
    3. স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ ও আপডেট।
    4. একসাথে কাজ (Collaboration): একাধিক জন একই ফাইলে কাজ করতে পারে।
    5. ডিভাইস নষ্ট হলেও তথ্য নিরাপদ।

    ঙ. অসুবিধা

    1. ইন্টারনেট নির্ভরতা: সংযোগ না থাকলে কাজ বন্ধ।
    2. নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ঝুঁকি: তথ্য অন্যের সার্ভারে থাকে।
    3. নিয়ন্ত্রণ কম: প্রোভাইডারের নীতির ওপর নির্ভরশীল।
    4. দীর্ঘমেয়াদে বেশি স্টোরেজে নিয়মিত খরচ।

    জনপ্রিয় ক্লাউড প্রোভাইডার

    Amazon Web Services (AWS), Microsoft Azure, Google Cloud; সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য Google Drive, OneDrive, Dropbox।

    উপসংহার: ক্লাউড কম্পিউটিং অফিসের তথ্য সংরক্ষণ, শেয়ার ও একসাথে কাজ করাকে সহজ ও সাশ্রয়ী করেছে; তবে নিরাপদ পাসওয়ার্ড ও সতর্ক ব্যবহার জরুরি।

  7. ৬-র-১০★★বই: পৃষ্ঠা ১৪৬

    ৭.অফিসিয়াল কাজে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন ধরনের ফ্রি অ্যাপস সম্পর্কে ধারণা দাও।

    উত্তর

    ফ্রি অ্যাপস: যেসব সফটওয়্যার বা অনলাইন সেবা কোনো টাকা ছাড়া ব্যবহার করা যায়, সেগুলোকে ফ্রি অ্যাপস বলে। অফিসের দৈনন্দিন কাজে (লেখা, হিসাব, প্রেজেন্টেশন, যোগাযোগ, সংরক্ষণ) এমন অনেক অ্যাপ ব্যবহার করা যায়, ফলে লাইসেন্স কেনার খরচ বাঁচে এবং পাইরেসি এড়ানো যায়।

                         অফিসিয়াল কাজের ফ্রি অ্যাপস
                                   │
       ┌──────────┬──────────┬─────┴─────┬──────────┬──────────┐
     অফিস প্যাকেজ   ক্লাউড স্টোরেজ   যোগাযোগ      নোট ও কাজ    অন্যান্য
     (LibreOffice, (Google Drive, (Gmail, Meet, (Keep, To Do, (PDF রিডার,
      Google Docs,  OneDrive)      Teams,       Trello)       ব্রাউজার,
      Office web)                  WhatsApp)                 ফাইল কম্প্রেশন)
    

    ক. অফিস প্যাকেজ

    ১. LibreOffice (ওপেন সোর্স, অফলাইন)

    অ্যাপকাজMS Office বিকল্পফরম্যাট
    Writerওয়ার্ড প্রসেসিংWord.odt
    Calcস্প্রেডশিটExcel.ods
    Impressপ্রেজেন্টেশনPowerPoint.odp
    Drawচিত্র ও ডায়াগ্রামVisio.odg
    BaseডেটাবেজAccess.odb
    Mathগাণিতিক সূত্রEquation Editor.odf
    MS Office-এর .docx, .xlsx, .pptx ফাইলও খোলা ও সেভ করা যায়।

    ২. Google Workspace-এর ফ্রি অ্যাপ (অনলাইন) Google Docs (লেখা), Google Sheets (স্প্রেডশিট), Google Slides (প্রেজেন্টেশন), Google Forms (জরিপ ও ফর্ম)। একসাথে অনেকে একই ফাইলে কাজ করতে পারে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেভ হয়।

    ৩. Microsoft Office-এর ওয়েব সংস্করণ Microsoft অ্যাকাউন্ট দিয়ে office.com-এ Word, Excel, PowerPoint-এর অনলাইন সংস্করণ বিনামূল্যে।

    ৪. WPS Office: Windows, Android-এ ব্যবহারযোগ্য বিনামূল্যের অফিস প্যাকেজ (বিজ্ঞাপনসহ)।

    খ. ক্লাউড স্টোরেজ ও ফাইল শেয়ারিং

    অ্যাপবিনামূল্যে স্টোরেজ
    Google Drive১৫ GB (Gmail ও Photos সহ)
    Microsoft OneDrive৫ GB
    Dropbox২ GB

    গ. যোগাযোগ ও সভা

    • ই-মেইল: Gmail, Outlook.com
    • ভিডিও কনফারেন্স: Google Meet, Zoom (ফ্রি সংস্করণে সময় সীমিত), Microsoft Teams (Free), Jitsi Meet
    • মেসেজিং: WhatsApp, Telegram, Messenger

    ঘ. নোট, কাজ ও পরিকল্পনা

    • Google Keep / Microsoft OneNote: নোট রাখা
    • Google Calendar: সভা ও কাজের সময়সূচি
    • Microsoft To Do / Trello: কাজের তালিকা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা

    ঙ. অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফ্রি অ্যাপ

    অ্যাপকাজ
    Adobe Acrobat Reader / SumatraPDFPDF পড়া
    7-Zipফাইল কম্প্রেস ও এক্সট্র্যাক্ট
    Google Chrome / Mozilla Firefox / Edgeওয়েব ব্রাউজার
    Avro Keyboardবাংলা টাইপ
    Google Translateঅনুবাদ
    GIMP / Canva (ফ্রি সংস্করণ)ছবি সম্পাদনা ও নকশা
    Thunderbirdই-মেইল ক্লায়েন্ট

    ফ্রি অ্যাপের সুবিধা

    1. খরচ নেই: লাইসেন্স কিনতে হয় না।
    2. বৈধ: পাইরেসি ও ক্র্যাক সফটওয়্যারের ঝুঁকি থাকে না।
    3. অনলাইন সহযোগিতা: একসাথে কাজ ও শেয়ার করা সহজ।
    4. যেকোনো ডিভাইসে: কম্পিউটার ও মোবাইলে।

    সীমাবদ্ধতা

    1. কিছু উন্নত সুবিধা টাকায় কিনতে হয়।
    2. অনলাইন অ্যাপে ইন্টারনেট লাগে।
    3. কোনো কোনো অ্যাপে বিজ্ঞাপন থাকে।
    4. MS Office-এর সাথে ফরমেটিং সামান্য অমিল হতে পারে।

    ⚠️ মনে রাখো: Writer, Calc ও Impress মাইক্রোসফটের নয়, LibreOffice-এর অ্যাপ।

    উপসংহার: ফ্রি অ্যাপস ব্যবহার করে অফিসের প্রায় সব কাজ বৈধভাবে ও কম খরচে করা যায়, যা ছোট প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপযোগী।