কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-১
সুপার সাজেশন
শিক্ষকের বাছাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন · মোট ৬৭টি প্রশ্ন
অধ্যায় ১.১: কম্পিউটার সিস্টেম ইউনিট
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৯টি)
- ১.১-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ২৬
১.কম্পিউটার হার্ডওয়্যার কী?
- অথবা, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২২, ২৫]
উত্তর
কম্পিউটারের যেসব যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ চোখে দেখা যায় এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়, সেগুলোকে একসাথে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার বলে।
অর্থাৎ হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের বাহ্যিক বা ভৌত কাঠামো। মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র্যাম, হার্ড ডিস্ক, কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার ইত্যাদি মিলে হার্ডওয়্যার গঠিত হয়।
হার্ডওয়্যার নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না। সফটওয়্যারের নির্দেশ অনুযায়ী হার্ডওয়্যারই কম্পিউটারের সব কাজ বাস্তবে সম্পন্ন করে।
উদাহরণ: কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, সিপিইউ, প্রিন্টার।
- ১.১-সং-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ২৬
২.কম্পিউটার কী? [কমার্স-২০০৯, ১১, ১৩, ১৪, ১৬; বিএমটি-২০১০, ২৪]
- অথবা, কম্পিউটারের প্রধান কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৮]
- অথবা, কম্পিউটার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০০৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৭, ১৯, ২৩]
- অথবা, কম্পিউটার কী? কম্পিউটারের প্রধান কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৫]
উত্তর
কম্পিউটার হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য (ডেটা) ও নির্দেশ (প্রোগ্রাম) গ্রহণ করে, খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রক্রিয়া করে এবং ফলাফল প্রদান করে।
Computer শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Compute থেকে, যার অর্থ গণনা করা। আগে কম্পিউটার শুধু হিসাবের কাজে ব্যবহার হতো, এখন লেখালেখি, ছবি, ভিডিও, যোগাযোগসহ প্রায় সব কাজেই ব্যবহার হয়। কম্পিউটারের কাজের গতি মাপা হয় ন্যানো সেকেন্ডে (এক সেকেন্ডের একশ কোটি ভাগের এক ভাগ)।
কম্পিউটারের প্রধান কাজ:
- ইনপুট নেওয়া: কী-বোর্ড, মাউস ইত্যাদির মাধ্যমে ডেটা ও নির্দেশ গ্রহণ করা।
- সংরক্ষণ করা: ডেটা ও প্রোগ্রাম মেমরিতে জমা রাখা।
- প্রক্রিয়াকরণ করা: প্রোগ্রাম অনুযায়ী হিসাব ও যুক্তির কাজ করা।
- ফলাফল দেওয়া: মনিটর, প্রিন্টার ইত্যাদির মাধ্যমে আউটপুট প্রকাশ করা।
💡 মনে রাখার কৌশল: ইনপুট → প্রক্রিয়াকরণ → আউটপুট (সাথে সংরক্ষণ)
- ১.১-সং-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ২৭
৩.ফার্মওয়্যার কী?
- অথবা, ফার্মওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২৪]
উত্তর
কম্পিউটার তৈরির সময় প্রস্তুতকারক কোম্পানি যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের মেমরিতে (সাধারণত ROM-এ) স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়, সেগুলোকে ফার্মওয়্যার (Firmware) বলে।
ফার্মওয়্যার হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাঝামাঝি একটি বিষয়। এটি হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কীভাবে কাজ শুরু করবে। ব্যবহারকারী সাধারণভাবে এই প্রোগ্রাম মুছতে বা পরিবর্তন করতে পারে না। কম্পিউটার চালু করলে (বুট হওয়ার সময়) প্রথমে ফার্মওয়্যারই কাজ করে।
উদাহরণ: BIOS, UEFI; মোবাইল, প্রিন্টার, রাউটারের ভেতরের প্রোগ্রাম।
- ১.১-সং-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ২৭
৪.সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও।
- অথবা, সফটওয়্যারের প্রকারভেদ ছকের মাধ্যমে দেখাও। [বিএমটি-২০১৪]
উত্তর
সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:
সফটওয়্যার │ ┌───────────────────┴───────────────────┐ সিস্টেম সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার │ │ ┌──────┼──────────┐ ┌───────┴───────┐ সিস্টেম সিস্টেম সিস্টেম সাধারণ সুনির্দিষ্ট ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট (প্যাকেজ) (কাস্টমাইজড) প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম │ │ │ • অপারেটিং • ল্যাঙ্গুয়েজ • ইউটিলিটি সিস্টেম ট্রান্সলেটর • পারফরম্যান্স • ডেটাবেজ • প্রোগ্রামিং প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট এডিটর ও টুলস • সিকিউরিটি • নেটওয়ার্ক • CASE মনিটর ম্যানেজমেন্ট✍️ খাতায় লেখার টিপস: বক্স এঁকে তীর চিহ্ন দিয়ে ওপরের মতো সাজাও। প্রথম দুই ভাগ (সিস্টেম ও অ্যাপ্লিকেশন) অবশ্যই দেখাতে হবে।
- ১.১-সং-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ২৮
৫.হিউম্যানওয়্যার বলতে কী বুঝায়?
- অথবা, ইউজারওয়্যার বা হিউম্যানওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০১৪]
উত্তর
কম্পিউটার চালানো, প্রোগ্রাম তৈরি, ডেটা ইনপুট দেওয়া, ফলাফল গ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যেসব মানুষ জড়িত থাকেন, তাদের একসাথে হিউম্যানওয়্যার (Humanware) বা ইউজারওয়্যার (Userware) বলে।
হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার থাকলেও মানুষ ছাড়া কম্পিউটার চলে না। তাই হিউম্যানওয়্যার কম্পিউটার সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উদাহরণ: কম্পিউটার ব্যবহারকারী, প্রোগ্রামার, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, রক্ষণাবেক্ষণকারী ও মেরামতকারী।
- ১.১-সং-১৪★★বই: পৃষ্ঠা ২৮
৬.পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
উত্তর
পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের কম্পিউটার, যার মূল লক্ষ্য কম্পিউটারকে মানুষের মতো চিন্তা করার ক্ষমতা দেওয়া। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
- মানুষের কণ্ঠস্বর চিনতে ও স্বাভাবিক ভাষা বুঝতে পারবে।
- একটি চিপে অসংখ্য মাইক্রোপ্রসেসরযুক্ত অতি উন্নত IC ব্যবহার হবে।
- তথ্য ধারণক্ষমতা ও কাজের গতি অনেক বেশি হবে।
- যোগাযোগে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার হবে।
- অধিক শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারের উন্নয়ন ঘটবে।
- আকারে ছোট, দামে কম এবং বিদ্যুৎ খরচ কম হবে।
- ১.১-সং-১৯বই: পৃষ্ঠা ২৯
৭.সুপার কম্পিউটার কী?
- অথবা, সুপার কম্পিউটারের বর্ণনা দাও।
উত্তর
সবচেয়ে শক্তিশালী, দ্রুতগতির ও ব্যয়বহুল কম্পিউটারকে সুপার কম্পিউটার বলে।
এটি আকারে অনেক বড় এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি হিসাব করতে পারে। বিশাল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য এটি ব্যবহার হয়। দাম ও পরিচালনা খরচ অনেক বেশি বলে অল্প কিছু দেশ ও প্রতিষ্ঠানেরই এটি আছে। ভারত "পরম" নামে নিজস্ব সুপার কম্পিউটার তৈরি করেছে।
ব্যবহার: আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মহাকাশ গবেষণা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পারমাণবিক গবেষণা।
উদাহরণ: CRAY-1, CYBER-205, পরম।
- ১.১-সং-২৭★★★বই: পৃষ্ঠা ৩১
৮.হার্ডওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও।
উত্তর
কাজের ধরন অনুযায়ী হার্ডওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:
হার্ডওয়্যার │ ┌──────────────────────────┼──────────────────────────┐ ইনপুট যন্ত্রপাতি প্রসেসিং ইউনিট আউটপুট যন্ত্রপাতি │ │ │ • কী-বোর্ড, মাউস • সিপিইউ/মাইক্রোপ্রসেসর • মনিটর • স্ক্যানার, জয়স্টিক • র্যাম, হার্ড ডিস্ক • প্রিন্টার • মাইক্রোফোন • মাদারবোর্ড • প্লটার • ডিজিটাল ক্যামেরা • পাওয়ার সাপ্লাই • স্পিকার • কার্ড রিডার • সাউন্ড কার্ড, VGA কার্ড • সিডি/ডিভিডি ড্রাইভ✍️ খাতায় লেখার টিপস: তিনটি প্রধান ভাগ (ইনপুট, প্রসেসিং, আউটপুট) অবশ্যই দেখাও, তারপর প্রতিটির নিচে উদাহরণ লেখো।
- ১.১-সং-২৮★★★বই: পৃষ্ঠা ৩১
৯.সফটওয়্যার কী?
উত্তর
কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ ক্রমে সাজানো নির্দেশকে প্রোগ্রাম বলে। আর কম্পিউটার চালানোর জন্য এক বা একাধিক প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার (Software) বলে।
Soft অর্থ নরম, অর্থাৎ যা হাত দিয়ে ধরা বা ছোঁয়া যায় না। সফটওয়্যারই হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কোন কাজ কীভাবে করতে হবে। সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার শুধু একটি "লোহার বাক্স"। প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার পরিবর্তন (modify) করা যায়।
উদাহরণ: Windows, MS Word, Google Chrome, Photoshop।
রচনামূলক প্রশ্ন (৫টি)
- ১.১-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৪
১.কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ সংগঠন ও কার্যাবলি বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২২, ২৪]
- অথবা, কম্পিউটার সংগঠন ব্লক চিত্রের মাধ্যমে দেখাও। [বিএমটি-২০২৩]
উত্তর
কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ একটি নির্দিষ্ট নিয়মে পরস্পরের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করে। যন্ত্রাংশগুলোর এই সংযোগ ও সাজানোর পদ্ধতিকে কম্পিউটার সংগঠন বলে। কম্পিউটার সংগঠনের পাঁচটি অংশ আছে:
(ক) ইনপুট ডিভাইস, (খ) গাণিতিক যুক্তি অংশ (ALU), (গ) নিয়ন্ত্রণ অংশ (CU), (ঘ) মেমরি বা স্মৃতি অংশ এবং (ঙ) আউটপুট ডিভাইস।
┌─────────────────────────────────┐ │ কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ (CPU) │ │ ┌─────────────────────────┐ │ │ │ গাণিতিক যুক্তি অংশ (ALU) │ │ │ └───────────▲─────────────┘ │ ┌──────────┐ │ ┌───────────┴─────────────┐ │ ┌──────────┐ │ ইনপুট │──────►│ │ নিয়ন্ত্রণ অংশ (CU) │ │──────►│ আউটপুট │ │ ডিভাইস │ │ └───────────▲─────────────┘ │ │ ডিভাইস │ └──────────┘ │ ┌───────────┴─────────────┐ │ └──────────┘ │ │ প্রধান স্মৃতি (RAM, ROM) │ │ │ └─────────────────────────┘ │ └─────────────────────────────────┘ চিত্র: কম্পিউটার সংগঠনের ব্লক চিত্র(ক) ইনপুট ডিভাইস: যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পিউটারে ডেটা ও নির্দেশ দেওয়া হয়, সেগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বা গ্রহণমুখ যন্ত্র বলে। কাজ: ব্যবহারকারীর ডেটা ও নির্দেশ কম্পিউটারের বোঝার উপযোগী সংকেতে রূপান্তর করে প্রক্রিয়াকরণ অংশে পাঠানো। উদাহরণ: কী-বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, OMR, OCR, মাইক্রোফোন, লাইট পেন।
(খ) গাণিতিক যুক্তি অংশ (ALU): সিপিইউ-এর যে অংশ সব হিসাব ও তুলনার কাজ করে, তাকে গাণিতিক যুক্তি অংশ বা ALU (Arithmetic Logic Unit) বলে। কাজ:
- গাণিতিক কাজ: যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ।
- যুক্তিমূলক কাজ: AND, OR, NOT ইত্যাদি লজিক গেটের মাধ্যমে তুলনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া (যেমন: বড়, ছোট, সমান)।
- উপাত্ত সঞ্চালন: হিসাবের পর রেজিস্টার খালি করে পরের কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা।
(গ) নিয়ন্ত্রণ অংশ (CU): সিপিইউ-এর যে অংশ কম্পিউটারের সব অংশের কাজ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে নিয়ন্ত্রণ অংশ বা CU (Control Unit) বলে। একে কম্পিউটারের "ট্রাফিক পুলিশ" বলা যায়। কাজ:
- মেমরি থেকে একটির পর একটি নির্দেশ (Instruction) সংগ্রহ করা।
- নির্দেশ অনুযায়ী ALU-কে যোগ-বিয়োগের মতো কাজের আদেশ দেওয়া।
- ALU-এর ফলাফল মেমরিতে পাঠানো।
- ইনপুট থেকে ডেটা মেমরিতে আনা এবং ফলাফল আউটপুটে পাঠানো।
- সব অংশের মধ্যে সমন্বয় রাখা।
(ঘ) মেমরি বা স্মৃতি অংশ: যে অংশে ডেটা, নির্দেশ ও ফলাফল জমা রাখা হয়, তাকে মেমরি বলে। প্রধান মেমরির (RAM ও ROM) সাথে ALU-এর সরাসরি যোগাযোগ থাকে, তাই এটি খুব দ্রুতগতির। কাজ:
- ইনপুট থেকে আসা ডেটা ও নির্দেশ প্রক্রিয়াকরণের আগ পর্যন্ত জমা রাখা।
- প্রক্রিয়াকরণের সময় মাঝের (অন্তর্বর্তী) ফলাফল রাখা।
- চূড়ান্ত ফলাফল আউটপুটে পাঠানোর আগ পর্যন্ত জমা রাখা।
- প্রোগ্রামের নির্দেশগুলো সংরক্ষণ করা।
(ঙ) আউটপুট ডিভাইস: প্রক্রিয়াকরণের পর পাওয়া ফলাফল যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছে প্রকাশ করা হয়, সেগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বা নির্গমনমুখ যন্ত্র বলে। উদাহরণ: মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার, স্পিকার।
উপসংহার: এই পাঁচটি অংশ একসাথে সমন্বয় করে কাজ করে বলেই কম্পিউটার ডেটা গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ ও ফলাফল প্রদান করতে পারে।
- ১.১-র-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৫
২.সফটওয়্যারের প্রকারভেদ বর্ণনা কর।
- অথবা, সফটওয়্যারের প্রকারভেদ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? এর দুটি কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৬]
উত্তর
কম্পিউটার চালানোর জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। কাজের ধরন অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার: (১) সিস্টেম সফটওয়্যার ও (২) অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
সফটওয়্যার │ ┌───────────────────┴───────────────────┐ সিস্টেম সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার │ │ ┌──────┼──────────┐ ┌───────┴───────┐ সিস্টেম সিস্টেম সিস্টেম সাধারণ সুনির্দিষ্ট ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট (প্যাকেজ) (কাস্টমাইজড) প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম │ │ │ • অপারেটিং • ল্যাঙ্গুয়েজ • ইউটিলিটি সিস্টেম ট্রান্সলেটর • পারফরম্যান্স • ডেটাবেজ • প্রোগ্রামিং প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট এডিটর ও টুলস • সিকিউরিটি • নেটওয়ার্ক • CASE মনিটর ম্যানেজমেন্ট১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software)
যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, সেগুলোকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। এটি কম্পিউটারের মৌলিক কাজ পরিচালনা করে এবং অন্য সফটওয়্যার চালাতে সাহায্য করে। সিস্টেম সফটওয়্যারের প্রধান ধরনগুলো:
(ক) অপারেটিং সিস্টেম (Operating System): কম্পিউটার পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত মূল সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম বলে। এটি কম্পিউটারের সব ডিভাইস ও সফটওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে। বিদ্যুৎ ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না, তেমনি অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও কম্পিউটার চালানো যায় না।
- অপারেটিং সিস্টেমের দুটি কাজ: (i) হার্ডওয়্যার (মেমরি, প্রসেসর, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস) পরিচালনা করা; (ii) ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা।
- উদাহরণ: MS-DOS, Windows (XP, 7, 10, 11), UNIX, Linux, macOS।
(খ) ইউটিলিটি সফটওয়্যার (Utility Software): কম্পিউটারের ব্যবহার সহজ করা এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম। যেমন: অ্যান্টিভাইরাস (McAfee), Norton Utility, Disk Cleanup। মাইক্রো কম্পিউটারে ব্যবহৃত কিছু ইউটিলিটি প্রোগ্রাম:
- এডিটর (Editor): প্রোগ্রাম বা লেখা তৈরি ও সংশোধন করে।
- লোডার (Loader): প্রোগ্রাম চালানোর জন্য সেটিকে প্রধান মেমরিতে নিয়ে আসে।
- মনিটর বা ফার্মওয়্যার: ROM-এ স্থায়ীভাবে থাকা প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটার চালু করতে সাহায্য করে।
(গ) অনুবাদক সফটওয়্যার (Translator Software): উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের বোধগম্য মেশিন ভাষায় (০ ও ১) রূপান্তর করে। যেমন: কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার, অ্যাসেম্বলার।
(ঘ) গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) সফটওয়্যার: আইকন, মেনু ও উইন্ডোর মাধ্যমে মাউস দিয়ে সহজে কম্পিউটার চালানোর সুযোগ দেয়।
২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software)
ব্যবহারকারী তার নির্দিষ্ট দৈনন্দিন কাজ করার জন্য যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে। এটি দুই ধরনের:
(ক) প্যাকেজ সফটওয়্যার: সফটওয়্যার কোম্পানি অনেক ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে। যেমন: MS Word (লেখালেখি), MS Excel (হিসাব), PowerPoint (প্রেজেন্টেশন), Photoshop (ছবি সম্পাদনা)।
(খ) কাস্টমাইজড সফটওয়্যার: কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে তৈরি করা সফটওয়্যার। যেমন: ব্যাংক, বিমা বা হাসপাতালের নিজস্ব সফটওয়্যার।
উপসংহার: সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারকে চালু ও কার্যকর রাখে, আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার দিয়ে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করি। দুটো মিলেই কম্পিউটার আমাদের কাজে লাগে।
- ১.১-র-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৬
৩.কম্পিউটারের প্রজন্ম বা জেনারেশন বর্ণনা কর।
- অথবা, বিভিন্ন প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর। [বিএমটি-২০১০]
- অথবা, কম্পিউটারের প্রজন্মের প্রকারভেদ সংক্ষেপে আলোচনা কর। [কমার্স-২০১৪]
- অথবা, বিভিন্ন প্রজন্মের কম্পিউটারের দুটি করে বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর। [বিএমটি-২০১৩]
- অথবা, চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য লেখ। [বিএমটি-২০১৫]
উত্তর
প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে কম্পিউটারের গঠন ও কাজের ক্ষমতায় যে ধাপে ধাপে পরিবর্তন হয়েছে, তার প্রতিটি ধাপকে কম্পিউটারের প্রজন্ম (Generation) বলে। কম্পিউটারকে ৫টি প্রজন্মে ভাগ করা হয়।
প্রজন্ম সময়কাল মূল প্রযুক্তি প্রথম ১৯৪৬–১৯৫৮ ভ্যাকুয়াম টিউব দ্বিতীয় ১৯৫৮–১৯৬৫ ট্রানজিস্টর তৃতীয় ১৯৬৫–১৯৭১ ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) চতুর্থ ১৯৭১–বর্তমান মাইক্রোপ্রসেসর (VLSI) পঞ্চম বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ১. প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৪৬–১৯৫৮)
এ প্রজন্মের কম্পিউটার ভ্যাকুয়াম টিউব দিয়ে তৈরি হতো। বৈশিষ্ট্য:
- আকারে বিশাল, ওজন অনেক বেশি।
- প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হতো এবং খুব গরম হতো।
- মেমরি হিসেবে চৌম্বকীয় ড্রাম ব্যবহার হতো।
- ইনপুট/আউটপুটে পাঞ্চ কার্ড ব্যবহার হতো।
- প্রোগ্রাম লেখা হতো মেশিন ভাষায়। উদাহরণ: ENIAC, UNIVAC-1, IBM-650।
২. দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৫৮–১৯৬৫)
এ প্রজন্মে ভ্যাকুয়াম টিউবের বদলে ট্রানজিস্টর ব্যবহার শুরু হয়। বৈশিষ্ট্য:
- আকারে ছোট, গতি বেশি, বিদ্যুৎ খরচ কম।
- প্রধান মেমরি হিসেবে চৌম্বকীয় কোর মেমরি ব্যবহার হয়।
- সহায়ক মেমরি হিসেবে চৌম্বকীয় টেপ ও ডিস্ক ব্যবহার শুরু হয়।
- অ্যাসেম্বলি ভাষা এবং FORTRAN, COBOL-এর মতো উচ্চস্তরের ভাষা ব্যবহার শুরু হয়। উদাহরণ: IBM-1401, IBM-1620।
৩. তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫–১৯৭১)
এ প্রজন্মে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) ব্যবহার শুরু হয়। বৈশিষ্ট্য:
- আকার আরও ছোট, গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বেশি।
- অর্ধপরিবাহী (সেমিকন্ডাক্টর) মেমরি ব্যবহার শুরু হয়।
- মনিটর ও কী-বোর্ড ব্যবহার শুরু হয়।
- অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহার এবং একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো সম্ভব হয়।
- মিনি কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হয়। উদাহরণ: IBM-360, PDP-8।
৪. চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৭১–বর্তমান)
এ প্রজন্মে মাইক্রোপ্রসেসর ও বৃহৎ মাপের IC (LSI ও VLSI) ব্যবহার শুরু হয়। বৈশিষ্ট্য:
- একটি ছোট চিপেই পুরো সিপিইউ (মাইক্রোপ্রসেসর)।
- আকারে ছোট, দামে কম, গতি ও ধারণক্ষমতা অনেক বেশি।
- মাইক্রো বা পার্সোনাল কম্পিউটারের (PC) ব্যাপক প্রচলন।
- উন্নত অপারেটিং সিস্টেম, GUI ও নেটওয়ার্ক/ইন্টারনেট ব্যবহার। উদাহরণ: IBM PC, Apple Macintosh, বর্তমানের ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ।
৫. পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ)
এ প্রজন্মের মূল লক্ষ্য কম্পিউটারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে মানুষের মতো চিন্তার ক্ষমতা দেওয়া। বৈশিষ্ট্য:
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
- মানুষের কণ্ঠস্বর চিনতে ও স্বাভাবিক ভাষা বুঝতে পারবে।
- অসংখ্য মাইক্রোপ্রসেসরযুক্ত অতি উন্নত IC ব্যবহার হবে।
- যোগাযোগে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার হবে।
- তথ্য ধারণক্ষমতা ও গতি অনেক গুণ বেশি হবে।
উপসংহার: প্রতিটি নতুন প্রজন্মে কম্পিউটার আগের চেয়ে ছোট, দ্রুত, সস্তা ও শক্তিশালী হয়েছে, আর ভবিষ্যতের কম্পিউটার হবে আরও বুদ্ধিমান।
- ১.১-র-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৩৮
৪.কম্পিউটার বলতে কী বুঝ? কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তর
কম্পিউটার: কম্পিউটার হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ডেটা ও নির্দেশ গ্রহণ করে, দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রক্রিয়া করে এবং ফলাফল প্রদান করে। Computer শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Compute থেকে, যার অর্থ গণনা করা। কম্পিউটার একক কোনো যন্ত্র নয়; অনেকগুলো যন্ত্রাংশ মিলে এটি তৈরি হয়। এটি বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান করতে পারে।
কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ: কম্পিউটারের প্রধান হার্ডওয়্যার অংশগুলো হলো: সিস্টেম ইউনিট, মাদারবোর্ড, প্রসেসর, পাওয়ার সাপ্লাই, হার্ড ডিস্ক/এসএসডি, র্যাম, রম, ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস। নিচে এগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. সিস্টেম ইউনিট: কম্পিউটারের যে বাক্স বা কেসিংয়ের ভেতরে মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র্যাম, হার্ড ডিস্ক, পাওয়ার সাপ্লাই ইত্যাদি লাগানো থাকে, তাকে সিস্টেম ইউনিট বলে। অনেকে একে ভুলভাবে "সিপিইউ" বলেন।
২. মাদারবোর্ড: কম্পিউটারের প্রধান সার্কিট বোর্ড, যার সাথে অন্য সব যন্ত্রাংশ যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার তৈরি হয়। একে কম্পিউটারের মূল ভিত্তি বলা যায়।
৩. প্রসেসর: যে যন্ত্রটি ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও সব হিসাবের কাজ করে, তাকে প্রসেসর বলে। এর আরেক নাম CPU (Central Processing Unit)। একে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়।
৪. পাওয়ার সাপ্লাই: বিদ্যুৎ লাইন থেকে আসা বিদ্যুৎকে উপযুক্ত মানে রূপান্তর করে কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশে প্রয়োজনমতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
৫. হার্ড ডিস্ক: কম্পিউটারের ডেটা ও প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে রাখার যন্ত্র, যাতে পরে আবার ব্যবহার করা যায়।
৬. এসএসডি (SSD): পূর্ণরূপ Solid State Drive। এটি পেনড্রাইভ বা মেমরি কার্ডের মতো একটি ফ্ল্যাশ স্টোরেজ, যা হার্ড ডিস্কের বদলে ব্যবহার হয়। এতে কম্পিউটার অনেক দ্রুত কাজ করে।
৭. র্যাম (RAM): পূর্ণরূপ Random Access Memory। কাজ চলার সময় প্রয়োজনীয় তথ্য অস্থায়ীভাবে রাখে এবং দ্রুত সরবরাহ করে। বিদ্যুৎ চলে গেলে এর তথ্য মুছে যায়।
৮. রম (ROM): পূর্ণরূপ Read Only Memory। এটি প্রধান মেমরির একটি অংশ, যেখানে কম্পিউটার চালু করার মৌলিক তথ্য প্রস্তুতকারক স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়।
৯. ইনপুট ডিভাইস: কী-বোর্ড ও মাউসের মাধ্যমে কম্পিউটারে ডেটা ও নির্দেশ দেওয়া হয়।
১০. আউটপুট ডিভাইস: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকারের মাধ্যমে কম্পিউটার ফলাফল প্রকাশ করে।
উপসংহার: এসব অংশ একসাথে সমন্বয় করে কাজ করলেই একটি কম্পিউটার পূর্ণাঙ্গভাবে চলে।
- ১.১-র-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ৪১
৫.কম্পিউটার সফটওয়্যার ও ফার্মওয়্যার-এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।
উত্তর
সফটওয়্যার হলো নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি প্রোগ্রামের সমষ্টি, আর ফার্মওয়্যার হলো হার্ডওয়্যারের ভেতরে স্থায়ীভাবে বসানো বিশেষ ধরনের প্রোগ্রাম, যা হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে। এদের মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় সফটওয়্যার ফার্মওয়্যার ১. সংজ্ঞা নির্দিষ্ট কাজের জন্য কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রোগ্রাম ও নির্দেশের সমষ্টি হার্ডওয়্যারের ভেতরে স্থায়ীভাবে বসানো প্রোগ্রাম, যা ডিভাইসকে কীভাবে কাজ করতে হবে তা বলে দেয় ২. প্রকারভেদ প্রধানত দুই প্রকার: সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার: BIOS ও UEFI (EFI) ৩. আকার আকারে বড়; কয়েকশ কিলোবাইট থেকে কয়েক গিগাবাইট আকারে ছোট; সাধারণত কয়েক কিলোবাইট থেকে কয়েক মেগাবাইট ৪. ভাষা নিম্নস্তর ও উচ্চস্তর, দুই ধরনের ভাষাতেই তৈরি সাধারণত নিম্নস্তরের ভাষায় তৈরি ৫. পরিবর্তন ব্যবহারকারী সহজেই ইনস্টল, পরিবর্তন বা মুছে ফেলতে পারে ব্যবহারকারী সাধারণত পরিবর্তন করতে পারে না ৬. আপডেট আপডেট করা সহজ আপডেট করা তুলনামূলক কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ ৭. সংরক্ষণের স্থান হার্ড ডিস্ক বা এসএসডির মতো সেকেন্ডারি স্টোরেজে থাকে ROM বা ফ্ল্যাশ মেমরি চিপে থাকে ৮. চালানোর স্থান প্রধান প্রসেসর (CPU) ও মেমরিতে চলে অনেক সময় ডিভাইসের নিজস্ব ছোট প্রসেসরে চলে ৯. উদাহরণ Windows, MS Word, Chrome BIOS, প্রিন্টার ও রাউটারের ভেতরের প্রোগ্রাম 💡 মনে রাখার কৌশল: সব ফার্মওয়্যারই এক ধরনের সফটওয়্যার, কিন্তু সব সফটওয়্যার ফার্মওয়্যার নয়।
অধ্যায় ১.২: স্টোরেজ মিডিয়া
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৩টি)
- ১.২-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৩
১.RAM ও ROM-এর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৪]
- অথবা, RAM ও ROM-এর মধ্যে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০০৯, ১০, ১২, ১৩, ১৫, ১৭, ১৮, ২২; কমার্স-২০০৯]
উত্তর
RAM ও ROM-এর মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় RAM ROM ১. পূর্ণরূপ Random Access Memory Read Only Memory ২. মেমরির ধরন অস্থায়ী (উদ্বায়ী) মেমরি স্থায়ী (অনুদ্বায়ী) মেমরি ৩. পড়া/লেখা পড়া ও লেখা দুটোই করা যায় সাধারণত শুধু পড়া যায় ৪. পরিবর্তন তথ্য যোগ, পরিবর্তন ও মোছা যায় সাধারণভাবে তথ্য পরিবর্তন করা যায় না ৫. বিদ্যুৎ চলে গেলে সব তথ্য মুছে যায় তথ্য মুছে যায় না ৬. কী রাখা হয় চলমান প্রোগ্রাম ও ডেটা কম্পিউটার চালু করার মৌলিক প্রোগ্রাম (BIOS) ৭. প্রকারভেদ ২ প্রকার: DRAM ও SRAM কয়েক প্রকার: MROM, PROM, EPROM, EEPROM ৮. গতি দ্রুত তুলনামূলক ধীর - ১.২-সং-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৪
২.ইপিরম ও ইইপিরমের মধ্যে পার্থক্য কী? [বিএমটি-২০১১]
উত্তর
ইপিরম (EPROM) ও ইইপিরম (EEPROM)-এর মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় ইপিরম (EPROM) ইইপিরম (EEPROM) ১. পূর্ণরূপ Erasable Programmable Read Only Memory Electrically Erasable Programmable Read Only Memory ২. ডেটা মোছার পদ্ধতি অতিবেগুনি (Ultraviolet) রশ্মি দিয়ে মোছা হয় বিদ্যুৎ (ইলেকট্রিক্যাল) সংকেত দিয়ে মোছা হয় ৩. মোছার পরিমাণ মুছলে সম্পূর্ণ ডেটা একসাথে মুছে যায় নির্দিষ্ট অংশ বা নির্দিষ্ট সেলের ডেটা আলাদাভাবে মোছা যায় ৪. চিপ খোলা মোছার জন্য চিপটি সার্কিট থেকে খুলে নিতে হয় সার্কিটে লাগানো অবস্থাতেই মোছা যায় ৫. সময় মুছতে বেশি সময় লাগে (কয়েক মিনিট) দ্রুত মোছা যায় - ১.২-সং-৬★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৪
৩.হার্ড ডিস্ক কী?
- অথবা, হার্ড ডিস্ক কী? সংক্ষেপে লেখ। [বিএমটি-২০০৯]
উত্তর
হার্ড ডিস্ক হলো কম্পিউটারের প্রধান সহায়ক (সেকেন্ডারি) মেমরি, যেখানে ডেটা ও প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়। আশির দশকে এর প্রচলন শুরু হয়।
হার্ড ডিস্ক কয়েকটি পাতলা গোলাকার ধাতব পাত (প্ল্যাটার) দিয়ে তৈরি। পাতগুলোর দুই পৃষ্ঠে চুম্বকীয় প্রলেপ থাকে, তাই একে চুম্বকীয় ডিস্ক-ও বলে। পাতগুলো একটি দণ্ডের সাথে লাগানো থাকে এবং কাজের সময় খুব দ্রুত ঘোরে। রিড/রাইট হেড দিয়ে ডেটা পড়া ও লেখা হয়। ধুলাবালি থেকে রক্ষা করতে একে বন্ধ বাক্সে রাখা হয়।
┌───────────────────────────────┐ │ ╭───────────────╮ │ │ │ ◉ স্পিন্ডল │──── রিড/রাইট হেড │ │ (ঘূর্ণায়মান পাত)│ ↑ আর্ম │ ╰───────────────╯ অ্যাকচুয়েটর │ পাওয়ার পোর্ট | ডেটা ক্যাবল পোর্ট │ └───────────────────────────────┘ চিত্র: হার্ড ডিস্কের ভেতরের অংশবিদ্যুৎ চলে গেলেও এর তথ্য মুছে যায় না। এর ধারণক্ষমতা অনেক বেশি, যেমন 500 GB, 1 TB বা তারও বেশি।
ধারণক্ষমতা = পৃষ্ঠ সংখ্যা × ট্র্যাক সংখ্যা × সেক্টর সংখ্যা × প্রতি সেক্টরের বাইট সংখ্যা
রচনামূলক প্রশ্ন (২টি)
- ১.২-র-১★★★
১.ক্লাউড স্টোরেজ সম্পর্কে ধারণা ব্যাখ্যা কর।
- অথবা, ক্লাউড স্টোরেজ সম্পর্কে বর্ণনা কর। [বিএমটি-২৬]
উত্তর
ক্লাউড স্টোরেজ: ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের দূরবর্তী সার্ভারে নিজের ডেটা সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থাকে ক্লাউড স্টোরেজ বলে। এখানে "ক্লাউড" (মেঘ) বলতে ইন্টারনেটকে বোঝানো হয়; ডেটা কোথায় কোন সার্ভারে আছে ব্যবহারকারীকে জানতে হয় না, ঠিক যেমন মেঘ কোথায় আছে আমরা ঠিক জানি না কিন্তু দেখতে পাই।
┌──────────┐ ┌──────────┐ ┌──────────┐ │ মোবাইল │ │ ল্যাপটপ │ │ ট্যাবলেট │ └────┬─────┘ └────┬─────┘ └────┬─────┘ └─────────────────┼─────────────────┘ ইন্টারনেট │ ┌───────────▼───────────┐ │ ☁ ক্লাউড সার্ভার │ │ (Google Drive, OneDrive)│ └───────────────────────┘ চিত্র: ক্লাউড স্টোরেজের কাজের ধারণাকীভাবে কাজ করে:
- ব্যবহারকারী কোনো ক্লাউড সেবায় (যেমন Google Drive) একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন।
- লগইন করে নিজের ফাইল আপলোড করেন; ফাইলটি সেবাদাতার সার্ভারে জমা হয়।
- পরে যেকোনো ডিভাইস থেকে একই অ্যাকাউন্টে লগইন করে ফাইলটি দেখা, ডাউনলোড বা শেয়ার করা যায়।
- সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডেটার নিরাপত্তা, ব্যাকআপ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়।
জনপ্রিয় ক্লাউড স্টোরেজ সেবা:
সেবা প্রতিষ্ঠান Google Drive Google OneDrive Microsoft iCloud Apple Dropbox Dropbox Inc. ক্লাউড স্টোরেজের বৈশিষ্ট্য:
- ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই ব্যবহার করা যায়।
- নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা বিনামূল্যে পাওয়া যায়, বেশি লাগলে টাকা দিয়ে কেনা যায়।
- ব্যবহার অনুযায়ী খরচ (Pay as you use)।
- একসাথে একাধিক ডিভাইসে একই ফাইল ব্যবহার করা যায়।
সীমাবদ্ধতা:
- ইন্টারনেট না থাকলে ডেটা ব্যবহার করা যায় না।
- ডেটার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সেবাদাতার ওপর নির্ভর করে।
- বড় ফাইল আপলোড-ডাউনলোডে সময় ও ইন্টারনেট খরচ বেশি লাগে।
উপসংহার: নিরাপদে, যেকোনো জায়গা থেকে ডেটা ব্যবহারের সুবিধার কারণে ক্লাউড স্টোরেজ বর্তমানে খুব জনপ্রিয় একটি সংরক্ষণ মাধ্যম।
- ১.২-র-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৪৯
২.স্টোরেজ মিডিয়ার শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।
- অথবা, স্টোরেজ মিডিয়ার শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে দেখাও। [বিএমটি-২০২২]
উত্তর
তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমকে স্টোরেজ মিডিয়া বা মেমরি বলে। মেমরিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়: প্রধান মেমরি, সহায়ক মেমরি ও ক্যাশ মেমরি। স্টোরেজ মিডিয়ার শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:
মেমরি │ ┌────────────────────────┼────────────────────────┐ প্রধান মেমরি সহায়ক মেমরি ক্যাশ মেমরি (প্রাইমারি) (সেকেন্ডারি) │ │ অর্ধপরিবাহী মেমরি • হার্ড ডিস্ক / এসএসডি │ • ফ্লপি ডিস্ক ┌─────┴──────┐ • চৌম্বক টেপ, চৌম্বক ড্রাম RAM ROM • সিডি, ডিভিডি (অপটিক্যাল) │ │ • পেন ড্রাইভ, মেমরি কার্ড (ফ্ল্যাশ) ┌──┴──┐ ┌────┼─────┬──────┐ DRAM SRAM MROM PROM EPROM EEPROM১. প্রধান মেমরি (Main Memory)
যে মেমরির সাথে প্রসেসরের ALU-এর সরাসরি সংযোগ থাকে, তাকে প্রধান মেমরি বলে। এটি খুব দ্রুতগতির, তবে ধারণক্ষমতা কম। কাজের সময় প্রয়োজনীয় ডেটা ও নির্দেশ এখানে সাময়িকভাবে রাখা হয়।
প্রধান মেমরির প্রকারভেদ:
- চৌম্বক কোর (Magnetic core) মেমরি
- পাতলা পর্দা (Thin film) মেমরি
- অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) মেমরি – বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত
- চৌম্বক বাবল (Magnetic bubble) মেমরি
- চার্জ কাপলড (Charge coupled) মেমরি
অর্ধপরিবাহী মেমরি আবার দুই প্রকার:
- RAM: অস্থায়ী, পড়া-লেখা দুটোই যায়। প্রকার: DRAM ও SRAM।
- ROM: স্থায়ী, সাধারণত শুধু পড়া যায়। প্রকার: MROM, PROM, EPROM, EEPROM।
২. সহায়ক মেমরি (Auxiliary/Secondary Memory)
যে মেমরিতে তথ্য, প্রোগ্রাম, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং সিপিইউ-এর সাথে সরাসরি সংযোগ থাকে না, তাকে সহায়ক মেমরি বলে। এটি ধীরগতির কিন্তু বিপুল পরিমাণ তথ্য রাখতে পারে। বিদ্যুৎ চলে গেলেও তথ্য মুছে যায় না।
উদাহরণ: হার্ড ডিস্ক, এসএসডি, ফ্লপি ডিস্ক, ফ্ল্যাশ ডিস্ক (পেন ড্রাইভ), চৌম্বক টেপ, চৌম্বক ড্রাম, সিডি, ডিভিডি।
৩. ক্যাশ মেমরি (Cache Memory)
প্রসেসর ও প্রধান মেমরির মাঝখানে বসানো ছোট কিন্তু অত্যন্ত দ্রুতগতির মেমরি। প্রসেসর বারবার যেসব ডেটা ব্যবহার করে, সেগুলো এখানে রেখে কম্পিউটারের কাজের গতি বাড়ানো হয়।
বিষয় প্রধান মেমরি সহায়ক মেমরি ক্যাশ মেমরি গতি দ্রুত ধীর সবচেয়ে দ্রুত ধারণক্ষমতা কম অনেক বেশি সবচেয়ে কম স্থায়িত্ব RAM অস্থায়ী, ROM স্থায়ী স্থায়ী অস্থায়ী উপসংহার: প্রতিটি মেমরির গতি, ধারণক্ষমতা ও দাম আলাদা। এদের সমন্বয়েই কম্পিউটার দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করে।
গাণিতিক প্রশ্ন (১টি)
- ১.২-গ-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৫২
১.একটি ম্যাগনেটিক ডিস্কের গায়ে 120 GB মুদ্রিত আছে। এ ডিস্কে মোট ধারণক্ষম বিটের সংখ্যা কত? 500 পৃষ্ঠাবিশিষ্ট একটি বইয়ের প্রতি পৃষ্ঠায় 30টি লাইনের প্রতি লাইনে 5টি বর্ণ রয়েছে। একটি বর্ণ সংরক্ষণ করার জন্য 1 বাইট পরিমাণ মেমরি লাগলে 780 মেগাবাইট ধারণ ক্ষমতাবিশিষ্ট একটি সিডিতে এ রকম কয়টি বইয়ের লেখা সংরক্ষণ করা যাবে?
উত্তর
প্রথম অংশ: 120 GB ডিস্কের মোট বিট সংখ্যা
আমরা জানি, 1 GB = 1024 MB = 1024 × 1024 KB = 1024 × 1024 × 1024 বাইট = 2³⁰ বাইট
- 120 GB = 120 × 1,073,741,824 বাইট = 128,849,018,880 বাইট
- 1 বাইট = 8 বিট
- মোট বিট = 128,849,018,880 × 8
- = 1,030,792,151,040 বিট
দ্বিতীয় অংশ: সিডিতে কয়টি বই রাখা যাবে
একটি বইয়ের মোট বর্ণ = পৃষ্ঠা × লাইন × বর্ণ = 500 × 30 × 5 = 75,000টি বর্ণ
প্রতিটি বর্ণে 1 বাইট লাগে, তাই একটি বই রাখতে লাগে = 75,000 বাইট
সিডির ধারণক্ষমতা = 780 MB = 780 × 1024 × 1024 বাইট = 817,889,280 বাইট
বইয়ের সংখ্যা = সিডির ধারণক্ষমতা ÷ একটি বইয়ের জায়গা = 817,889,280 ÷ 75,000 = 10,905.19 (প্রায়)
যেহেতু বইয়ের সংখ্যা ভগ্নাংশ হতে পারে না,
সুতরাং, সিডিতে মোট 10,905টি বইয়ের লেখা সংরক্ষণ করা যাবে।
হিসাব ফলাফল 120 GB ডিস্কের মোট বিট 1,030,792,151,040 বিট একটি বইয়ের জায়গা 75,000 বাইট 780 MB সিডির জায়গা 817,889,280 বাইট সিডিতে বইয়ের সংখ্যা 10,905টি
অধ্যায় ১.৩: কম্পিউটার সফটওয়্যারের মৌলিক ধারণা
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৭টি)
- ১.৩-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
১.সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য লেখ। [বিএমটি-২০২৩, ২৫]
উত্তর
সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় সিস্টেম সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ১. সংজ্ঞা হার্ডওয়্যার চালু, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কাজ করার সফটওয়্যার ২. উদ্দেশ্য কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করা ব্যবহারকারীর সমস্যার সমাধান করা ৩. নির্ভরতা হার্ডওয়্যারের সাথে সরাসরি কাজ করে সিস্টেম সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে চলে ৪. প্রয়োজনীয়তা এটি ছাড়া কম্পিউটার চলেই না এটি ছাড়াও কম্পিউটার চলে, তবে কাজ করা যায় না ৫. চালু হওয়া কম্পিউটার চালু হলেই নিজে থেকে চালু হয় ব্যবহারকারী প্রয়োজনে চালু করেন ৬. ব্যবহারকারীর সংযোগ ব্যবহারকারী সাধারণত সরাসরি কাজ করেন না, পেছনে চলে ব্যবহারকারী সরাসরি এটি দিয়ে কাজ করেন ৭. উদাহরণ Windows, Linux, ডিভাইস ড্রাইভার, কম্পাইলার MS Word, Excel, Photoshop, Chrome - ১.৩-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
২.কম্পিউটার সফটওয়্যার কী?
- অথবা, সফটওয়্যারের সংজ্ঞা লেখ। [বিএমটি-২০০৯, ২০১৬]
- অথবা, সফটওয়্যার বলতে কী বুঝায়? [কমার্স-২০১৩]
উত্তর
কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ ক্রমে সাজানো নির্দেশকে প্রোগ্রাম বলে। আর কম্পিউটার চালানোর জন্য এক বা একাধিক প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার (Software) বলে।
Soft অর্থ নরম, অর্থাৎ যা হাত দিয়ে ধরা বা ছোঁয়া যায় না। সফটওয়্যারই হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কোন কাজ কীভাবে করতে হবে। সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার শুধু একটি "লোহার বাক্স"। প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার পরিবর্তন (modify) করা যায়।
উদাহরণ: Windows, MS Word, Google Chrome, Photoshop।
- ১.৩-সং-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
৩.ফার্মওয়্যার বলতে কী বুঝায়?
- অথবা, ফার্মওয়্যার কী? [বিএমটি-২০১৪]
উত্তর
কম্পিউটার তৈরির সময় প্রস্তুতকারক কোম্পানি যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের মেমরিতে (সাধারণত ROM-এ) স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়, সেগুলোকে ফার্মওয়্যার (Firmware) বলে।
ফার্মওয়্যার হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাঝামাঝি একটি বিষয়। এটি হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কীভাবে কাজ শুরু করবে। ব্যবহারকারী সাধারণভাবে এই প্রোগ্রাম মুছতে বা পরিবর্তন করতে পারে না। কম্পিউটার চালু করলে (বুট হওয়ার সময়) প্রথমে ফার্মওয়্যারই কাজ করে।
উদাহরণ: BIOS, UEFI; মোবাইল, প্রিন্টার, রাউটারের ভেতরের প্রোগ্রাম।
- ১.৩-সং-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
৪.সফটওয়্যার প্রধানত কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর
কাজের ধরন অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার:
- সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software): যেসব সফটওয়্যার হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। যেমন: Windows, Linux, অনুবাদক প্রোগ্রাম।
- অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software): যেসব সফটওয়্যার দিয়ে ব্যবহারকারী তার নির্দিষ্ট কাজ করেন। যেমন: MS Word, Excel, Photoshop।
সফটওয়্যার │ ┌────────────┴────────────┐ সিস্টেম সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Windows, Linux) (MS Word, Excel) - ১.৩-সং-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৪
৫.প্রচলিত কয়েকটি সফটওয়্যারের নাম লেখ।
উত্তর
প্রচলিত কয়েকটি সফটওয়্যারের নাম কাজ অনুযায়ী:
কাজের ধরন সফটওয়্যারের নাম অপারেটিং সিস্টেম Windows, Linux, macOS, Android লেখালেখি (ওয়ার্ড প্রসেসিং) MS Word, LibreOffice Writer, Google Docs হিসাব (স্প্রেডশিট) MS Excel, LibreOffice Calc প্রেজেন্টেশন MS PowerPoint, LibreOffice Impress ডেটাবেজ MS Access, MySQL, Oracle ছবি সম্পাদনা ও গ্রাফিক্স Adobe Photoshop, Illustrator, CorelDRAW ইন্টারনেট ব্রাউজার Google Chrome, Mozilla Firefox, Microsoft Edge অ্যান্টিভাইরাস Kaspersky, Norton, Avast, McAfee বাংলা টাইপিং Bijoy Bayanno, Avro Keyboard ভিডিও ও অডিও প্লেয়ার VLC Media Player, Windows Media Player - ১.৩-সং-১২★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫
৬.অ্যান্টিভাইরাস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর
কম্পিউটারের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, যেমন ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান, ম্যালওয়্যার খুঁজে বের করা, সেগুলোকে আটকানো এবং মুছে ফেলার জন্য যে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার হয়, তাকে অ্যান্টিভাইরাস (Antivirus) বলে।
কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, যা ব্যবহারকারীর অজান্তে কম্পিউটারে ঢুকে নিজের কপি তৈরি করে ছড়ায় এবং ফাইল নষ্ট করে বা কম্পিউটারকে ধীর করে দেয়। অ্যান্টিভাইরাস এর থেকে কম্পিউটারকে রক্ষা করে। এটি একটি ইউটিলিটি সফটওয়্যার।
উদাহরণ: Kaspersky, Norton, Avast, McAfee, Windows Defender।
- ১.৩-সং-১৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৫
৭.হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর
হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার একে অপরের ওপর নির্ভরশীল; একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের দেহ, যা দেখা ও ছোঁয়া যায়।
- সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের প্রাণ বা নির্দেশনা, যা হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কী করতে হবে।
সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার শুধু একটি "লোহার বাক্স", আবার হার্ডওয়্যার ছাড়া সফটওয়্যার চালানোর কোনো জায়গাই নেই। তাই মানুষের দেহ ও মনের মতো, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার একসাথে কাজ করলেই কম্পিউটার সচল হয়।
ব্যবহারকারী ⇅ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ⇅ সিস্টেম সফটওয়্যার (OS) ⇅ হার্ডওয়্যারউদাহরণ: প্রিন্টার (হার্ডওয়্যার) দিয়ে প্রিন্ট করতে MS Word (সফটওয়্যার) ও প্রিন্টার ড্রাইভার (সফটওয়্যার) দুটোই লাগে।
রচনামূলক প্রশ্ন (২টি)
- ১.৩-র-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৬
১.হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০০৯, ১০, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ২২, ২৫; কমার্স-২০০৯]
উত্তর
হার্ডওয়্যার: কম্পিউটারের যেসব যন্ত্রাংশ দেখা ও স্পর্শ করা যায়, সেগুলোকে হার্ডওয়্যার বলে। যেমন: মনিটর, কী-বোর্ড, মাউস।
সফটওয়্যার: কম্পিউটার চালানোর জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম বা নির্দেশের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। যেমন: Windows, MS Word।
কম্পিউটার সিস্টেম │ ┌────────┴────────┐ হার্ডওয়্যার সফটওয়্যার (দেহ – দেখা ও (প্রাণ – দেখা যায়, ছোঁয়া যায়) ছোঁয়া যায় না)হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় হার্ডওয়্যার সফটওয়্যার ১. সংজ্ঞা কম্পিউটারের ভৌত যন্ত্রাংশ কম্পিউটার চালানোর প্রোগ্রাম বা নির্দেশের সমষ্টি ২. স্পর্শযোগ্যতা দেখা ও স্পর্শ করা যায় শুধু পর্দায় দেখা যায়, স্পর্শ করা যায় না ৩. তৈরি হয় ইলেকট্রনিক ও যান্ত্রিক উপাদান দিয়ে প্রোগ্রামিং ভাষা দিয়ে ৪. কাজ সফটওয়্যারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে হার্ডওয়্যারকে কী কাজ করতে হবে তা বলে দেয় ৫. ক্ষতি ব্যবহারে ক্ষয় হয়, ভেঙে বা নষ্ট হতে পারে ক্ষয় হয় না, তবে ভাইরাসে নষ্ট হতে পারে ৬. ভাইরাস ভাইরাস সরাসরি আক্রমণ করে না ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে ৭. পরিবর্তন বদলাতে হলে যন্ত্রাংশ খুলে নতুন লাগাতে হয় সহজে আপডেট, ইনস্টল বা আনইনস্টল করা যায় ৮. কপি হুবহু কপি করা যায় না সহজেই কপি করা যায় ৯. স্থানান্তর ইন্টারনেটে পাঠানো যায় না ইন্টারনেটে ডাউনলোড বা পাঠানো যায় ১০. প্রকারভেদ ইনপুট, প্রসেসিং, আউটপুট ও স্টোরেজ ডিভাইস সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ১১. উদাহরণ মনিটর, কী-বোর্ড, মাউস, র্যাম, হার্ড ডিস্ক Windows, Linux, MS Word, Photoshop সম্পর্ক: পার্থক্য থাকলেও এরা একে অপরের পরিপূরক। সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার অচল, আবার হার্ডওয়্যার ছাড়া সফটওয়্যার চালানোই যায় না।
উপসংহার: হার্ডওয়্যার কম্পিউটারের দেহ আর সফটওয়্যার তার প্রাণ; দুটো মিলেই একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার।
- ১.৩-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৫৬
২.কম্পিউটার সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর। [বিএমটি-২০২৪]
- অথবা, সফটওয়্যারের প্রকারভেদ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? এর দুটি কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১৬]
উত্তর
কম্পিউটার চালানোর জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। কাজের ধরন অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার: (১) সিস্টেম সফটওয়্যার ও (২) অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
সফটওয়্যার │ ┌───────────────────┴───────────────────┐ সিস্টেম সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার │ │ ┌──────┼──────────┐ ┌───────┴───────┐ সিস্টেম সিস্টেম সিস্টেম সাধারণ সুনির্দিষ্ট ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট (প্যাকেজ) (কাস্টমাইজড) প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম │ │ │ • অপারেটিং • ল্যাঙ্গুয়েজ • ইউটিলিটি সিস্টেম ট্রান্সলেটর • পারফরম্যান্স • ডেটাবেজ • প্রোগ্রামিং প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট এডিটর ও টুলস • সিকিউরিটি • নেটওয়ার্ক • CASE মনিটর ম্যানেজমেন্ট১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software)
যেসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, সেগুলোকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। এটি কম্পিউটারের মৌলিক কাজ পরিচালনা করে এবং অন্য সফটওয়্যার চালাতে সাহায্য করে। সিস্টেম সফটওয়্যারের প্রধান ধরনগুলো:
(ক) অপারেটিং সিস্টেম (Operating System): কম্পিউটার পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত মূল সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম বলে। এটি কম্পিউটারের সব ডিভাইস ও সফটওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে। বিদ্যুৎ ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না, তেমনি অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও কম্পিউটার চালানো যায় না।
- অপারেটিং সিস্টেমের দুটি কাজ: (i) হার্ডওয়্যার (মেমরি, প্রসেসর, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস) পরিচালনা করা; (ii) ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা।
- উদাহরণ: MS-DOS, Windows (XP, 7, 10, 11), UNIX, Linux, macOS।
(খ) ইউটিলিটি সফটওয়্যার (Utility Software): কম্পিউটারের ব্যবহার সহজ করা এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম। যেমন: অ্যান্টিভাইরাস (McAfee), Norton Utility, Disk Cleanup। মাইক্রো কম্পিউটারে ব্যবহৃত কিছু ইউটিলিটি প্রোগ্রাম:
- এডিটর (Editor): প্রোগ্রাম বা লেখা তৈরি ও সংশোধন করে।
- লোডার (Loader): প্রোগ্রাম চালানোর জন্য সেটিকে প্রধান মেমরিতে নিয়ে আসে।
- মনিটর বা ফার্মওয়্যার: ROM-এ স্থায়ীভাবে থাকা প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটার চালু করতে সাহায্য করে।
(গ) অনুবাদক সফটওয়্যার (Translator Software): উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের বোধগম্য মেশিন ভাষায় (০ ও ১) রূপান্তর করে। যেমন: কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার, অ্যাসেম্বলার।
(ঘ) গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) সফটওয়্যার: আইকন, মেনু ও উইন্ডোর মাধ্যমে মাউস দিয়ে সহজে কম্পিউটার চালানোর সুযোগ দেয়।
২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software)
ব্যবহারকারী তার নির্দিষ্ট দৈনন্দিন কাজ করার জন্য যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে। এটি দুই ধরনের:
(ক) প্যাকেজ সফটওয়্যার: সফটওয়্যার কোম্পানি অনেক ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে। যেমন: MS Word (লেখালেখি), MS Excel (হিসাব), PowerPoint (প্রেজেন্টেশন), Photoshop (ছবি সম্পাদনা)।
(খ) কাস্টমাইজড সফটওয়্যার: কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে তৈরি করা সফটওয়্যার। যেমন: ব্যাংক, বিমা বা হাসপাতালের নিজস্ব সফটওয়্যার।
উপসংহার: সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারকে চালু ও কার্যকর রাখে, আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার দিয়ে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করি। দুটো মিলেই কম্পিউটার আমাদের কাজে লাগে।
অধ্যায় ১.৪: কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২টি)
- ১.৪-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৬২
১.অপারেটিং সিস্টেম কী? [বিএমটি-২০২৪]
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? জনপ্রিয় দুটি অপারেটিং সিস্টেম লেখ। [বিএমটি-২৬]
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেম কী? বর্ণনা দাও। [বিএমটি-২০১১, ১৮, ১৯, ২২; কমার্স-২০১১, ২০১০]
- অথবা, কয়েকটি বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০১১]
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০০৯, ২০১২, ২০১৩; কমার্স-২০০৯]
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০১০, ১৪]
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেম বলতে কী বুঝায়? তিনটি অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০১৫, ১৭]
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের নাম লেখ। [বিএমটি-২০২৩]
- অথবা, চারটি অপারেটিং সিস্টেম-এর নাম লেখ। [বিএমটি-২০২৫]
উত্তর
কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, এমন প্রধান সিস্টেম সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম (Operating System – OS) বলে।
Operate অর্থ পরিচালনা করা আর System অর্থ পদ্ধতি; অর্থাৎ অপারেটিং সিস্টেম হলো কম্পিউটার পরিচালনার পদ্ধতি। কম্পিউটার চালু হলে সবার আগে অপারেটিং সিস্টেম চালু হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া যেমন কম্পিউটার চলে না, তেমনি অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও কম্পিউটার চালানো যায় না।
┌───────────────────────────┐ │ ব্যবহারকারী │ └─────────────▲─────────────┘ │ ┌─────────────▼─────────────┐ │ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার │ (MS Word, Chrome) └─────────────▲─────────────┘ │ ┌─────────────▼─────────────┐ │ অপারেটিং সিস্টেম (OS) │ (Windows, Linux) └─────────────▲─────────────┘ │ ┌─────────────▼─────────────┐ │ হার্ডওয়্যার │ (CPU, RAM, ডিস্ক) └───────────────────────────┘জনপ্রিয় কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম:
- Microsoft Windows (7, 10, 11)
- Linux (Ubuntu, Fedora)
- macOS (Apple কম্পিউটারে)
- UNIX
- MS-DOS
- Android ও iOS (মোবাইলে)
- ১.৪-সং-৬★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৩
২.অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের ভূমিকা কী?
উত্তর
অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের "ব্যবস্থাপক" হিসেবে কাজ করে। এর প্রধান ভূমিকাগুলো হলো:
- কম্পিউটার চালু করা: কম্পিউটার চালু (বুট) হলে প্রথমে OS লোড হয় এবং কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে।
- সংযোগ স্থাপন: ব্যবহারকারী ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে।
- হার্ডওয়্যার ব্যবস্থাপনা: প্রসেসর, মেমরি, কী-বোর্ড, প্রিন্টারসহ সব যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে।
- ফাইল ব্যবস্থাপনা: ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, সংরক্ষণ, কপি, মুছে ফেলা ইত্যাদি করে।
- প্রোগ্রাম চালানো: অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর পরিবেশ দেয়।
- নিরাপত্তা: পাসওয়ার্ড ও ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষিত রাখে।
- ত্রুটি শনাক্তকরণ: কোনো সমস্যা হলে বার্তা দিয়ে ব্যবহারকারীকে জানায়।
রচনামূলক প্রশ্ন (৬টি)
- ১.৪-র-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৪
১.অপারেটিং সিস্টেমের কার্যাবলি বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৪]
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের কাজ লেখ।
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের কার্যাবলি আলোচনা কর। [বিএমটি-২০০৯, ১২, ১৯, ২২; কমার্স-২০০৯]
- অথবা, অপারেটিং সিস্টেমের কাজগুলো উল্লেখ কর। [বিএমটি-২৬]
উত্তর
অপারেটিং সিস্টেম: কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকে পরিচালনা করে এবং ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, এমন প্রধান সিস্টেম সফটওয়্যারকে অপারেটিং সিস্টেম বলে। যেমন: Windows, Linux।
অপারেটিং সিস্টেমের কাজ │ ┌──────────┬──────────┬──────┼───────┬──────────┬──────────┐ প্রসেস মেমরি ফাইল ডিভাইস নিরাপত্তা ইউজার ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনা ইন্টারফেসঅপারেটিং সিস্টেমের প্রধান কার্যাবলি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কম্পিউটার চালু করা (Booting): কম্পিউটার চালু করলে অপারেটিং সিস্টেম মেমরিতে লোড হয় এবং সব হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করে কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে।
২. প্রসেস বা প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপনা: কোন প্রোগ্রাম কখন, কতক্ষণ প্রসেসর ব্যবহার করবে তা ঠিক করে। একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালাতে (মাল্টিটাস্কিং) সাহায্য করে।
৩. মেমরি ব্যবস্থাপনা: কোন প্রোগ্রাম RAM-এর কোন অংশে থাকবে তা নির্ধারণ করে, এবং কাজ শেষে সেই জায়গা খালি করে অন্য প্রোগ্রামকে দেয়।
৪. ফাইল ব্যবস্থাপনা: ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, নামকরণ, সংরক্ষণ, কপি, স্থানান্তর ও মুছে ফেলার কাজ করে; ডিস্কে ফাইল কোথায় আছে তার হিসাব রাখে।
৫. ডিভাইস (ইনপুট-আউটপুট) ব্যবস্থাপনা: কী-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, মনিটরসহ সব ডিভাইস ডিভাইস ড্রাইভারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে।
৬. ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ (ইন্টারফেস): কমান্ড (CUI) বা আইকন-মেনুর (GUI) মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে কম্পিউটার চালানোর সুযোগ দেয়।
৭. নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা: পাসওয়ার্ড, ইউজার অ্যাকাউন্ট ও অনুমতির মাধ্যমে অননুমোদিত ব্যবহার রোধ করে এবং তথ্য সুরক্ষিত রাখে।
৮. ত্রুটি শনাক্তকরণ: হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যারে সমস্যা হলে তা শনাক্ত করে বার্তা দেখায়।
৯. রিসোর্স বণ্টন: প্রসেসর, মেমরি, প্রিন্টারের মতো রিসোর্স বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ভাগ করে দেয়।
১০. অ্যাপ্লিকেশন চালানো: MS Word, Chrome-এর মতো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর প্ল্যাটফর্ম দেয়।
উপসংহার: অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের সব কাজ সমন্বয় করে; এটি ছাড়া কম্পিউটার চালানো সম্ভব নয়।
- ১.৪-র-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৬
২.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সাথে অপারেটিং সিস্টেমের সম্পর্ক বর্ণনা কর।
উত্তর
কম্পিউটার সিস্টেম কয়েকটি স্তরে কাজ করে। সবচেয়ে নিচে হার্ডওয়্যার, তার ওপরে অপারেটিং সিস্টেম, তার ওপরে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, আর সবার ওপরে ব্যবহারকারী। অপারেটিং সিস্টেম এই স্তরগুলোর মাঝখানে থেকে সংযোগ রক্ষা করে।
┌───────────────────────────┐ │ ব্যবহারকারী │ └─────────────▲─────────────┘ │ ┌─────────────▼─────────────┐ │ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার │ (MS Word, Chrome) └─────────────▲─────────────┘ │ ┌─────────────▼─────────────┐ │ অপারেটিং সিস্টেম (OS) │ (Windows, Linux) └─────────────▲─────────────┘ │ ┌─────────────▼─────────────┐ │ হার্ডওয়্যার │ (CPU, RAM, ডিস্ক) └───────────────────────────┘১. হার্ডওয়্যারের সাথে অপারেটিং সিস্টেমের সম্পর্ক
- অপারেটিং সিস্টেম হার্ডওয়্যারকে চালু (বুট) করে এবং পরীক্ষা করে।
- প্রসেসর, মেমরি, হার্ড ডিস্ক, কী-বোর্ড, প্রিন্টারসহ সব হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।
- ডিভাইস ড্রাইভারের মাধ্যমে প্রতিটি হার্ডওয়্যারের সাথে যোগাযোগ করে।
- হার্ডওয়্যার ছাড়া অপারেটিং সিস্টেম চলতে পারে না, আবার অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া হার্ডওয়্যার কোনো কাজ করতে পারে না।
২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের সাথে অপারেটিং সিস্টেমের সম্পর্ক
- অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (যেমন MS Word) অপারেটিং সিস্টেমের ওপর চলে; OS না থাকলে এগুলো চালানো যায় না।
- অ্যাপ্লিকেশন সরাসরি হার্ডওয়্যারের সাথে কথা বলে না; অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে।
- অ্যাপ্লিকেশনকে প্রয়োজনীয় মেমরি, প্রসেসরের সময় ও ফাইল সংরক্ষণের সুবিধা দেয় অপারেটিং সিস্টেম।
- প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশন নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি হয় (যেমন Windows-এর সফটওয়্যার সাধারণত macOS-এ চলে না)।
একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক
ধরো, MS Word-এ একটি চিঠি প্রিন্ট করতে চাও:
- তুমি (ব্যবহারকারী) MS Word-এ Print বাটনে ক্লিক করলে।
- MS Word (অ্যাপ্লিকেশন) অপারেটিং সিস্টেমকে প্রিন্ট করার অনুরোধ জানায়।
- অপারেটিং সিস্টেম প্রিন্টার ড্রাইভারের মাধ্যমে প্রিন্টারকে (হার্ডওয়্যার) নির্দেশ দেয়।
- প্রিন্টার কাগজে চিঠিটি ছাপে।
ব্যবহারকারী → MS Word → অপারেটিং সিস্টেম → প্রিন্টার ড্রাইভার → প্রিন্টারউপসংহার: অপারেটিং সিস্টেম হলো হার্ডওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে সেতু; তিনটি একসাথে কাজ করলেই ব্যবহারকারী কম্পিউটার থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পান।
- ১.৪-র-৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৬
৩.অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।
উত্তর
কাজের ধরন, ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও কাজের পদ্ধতি অনুযায়ী অপারেটিং সিস্টেমকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়:
অপারেটিং সিস্টেম │ ┌───────────────┬───────────┼─────────────┬──────────────┐ ইন্টারফেস ব্যবহারকারী কাজের ধরন প্রক্রিয়াকরণ নেটওয়ার্ক অনুযায়ী অনুযায়ী অনুযায়ী পদ্ধতি অনুযায়ী অনুযায়ী │ │ │ │ │ • বর্ণভিত্তিক • সিঙ্গেল ইউজার • সিঙ্গেল টাস্কিং • ব্যাচ • নেটওয়ার্ক OS (CUI) • মাল্টি ইউজার • মাল্টি টাস্কিং • টাইম শেয়ারিং • ডিস্ট্রিবিউটেড • চিত্রভিত্তিক • রিয়েল টাইম OS (GUI)ক. ইন্টারফেস অনুযায়ী
১. বর্ণভিত্তিক (CUI): কী-বোর্ডে কমান্ড টাইপ করে কাজ করতে হয়। যেমন: MS-DOS। ২. চিত্রভিত্তিক (GUI): আইকন ও মেনুতে মাউস দিয়ে ক্লিক করে কাজ করা যায়। যেমন: Windows, macOS।
খ. ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুযায়ী
৩. সিঙ্গেল ইউজার OS: একসময়ে একজন ব্যবহারকারী কাজ করতে পারেন। যেমন: MS-DOS, Windows 98। ৪. মাল্টি ইউজার OS: একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী আলাদা টার্মিনাল থেকে কাজ করতে পারেন। যেমন: UNIX, Linux, Windows Server।
গ. কাজের সংখ্যা অনুযায়ী
৫. সিঙ্গেল টাস্কিং OS: একসময়ে একটি মাত্র প্রোগ্রাম চালানো যায়। যেমন: MS-DOS। ৬. মাল্টি টাস্কিং OS: একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো যায় (যেমন গান শুনতে শুনতে টাইপ করা)। যেমন: Windows, Linux।
ঘ. প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি অনুযায়ী
৭. ব্যাচ প্রসেসিং OS: একই ধরনের কাজ দল (ব্যাচ) করে ক্রমানুসারে সম্পন্ন করে; ব্যবহারকারী সরাসরি যুক্ত থাকেন না। যেমন: বেতন ও বিল তৈরি। ৮. টাইম শেয়ারিং OS: প্রসেসরের সময় ভাগ করে পালাক্রমে অনেক ব্যবহারকারীকে দেয়। যেমন: UNIX। ৯. রিয়েল টাইম OS: ইনপুট পাওয়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলাফল দেয়। যেমন: বিমান নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, রোবট।
ঙ. নেটওয়ার্ক অনুযায়ী
১০. নেটওয়ার্ক OS: নেটওয়ার্কে যুক্ত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে ফাইল, প্রিন্টার ও রিসোর্স শেয়ার করতে দেয়। যেমন: Windows Server, Novell NetWare। ১১. ডিস্ট্রিবিউটেড OS: অনেকগুলো কম্পিউটারকে একসাথে একটি কম্পিউটারের মতো কাজ করায়।
চ. ডিভাইস অনুযায়ী
১২. মোবাইল OS: স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের জন্য। যেমন: Android, iOS।
উপসংহার: প্রয়োজন ও কাজের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত অপারেটিং সিস্টেম বেছে নেওয়া হয়।
- ১.৪-র-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৭
৪.সিস্টেম সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।
উত্তর
কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে চালু, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। সিস্টেম সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ নিচের ছকে দেখানো হলো:
সিস্টেম সফটওয়্যার │ ┌─────────────────────────┼─────────────────────────┐ সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম প্রোগ্রাম │ │ │ • অপারেটিং সিস্টেম • ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেটর • সিস্টেম ইউটিলিটি • ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট (কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার, • পারফরম্যান্স মনিটর সিস্টেম অ্যাসেম্বলার) • সিকিউরিটি মনিটর • নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট • প্রোগ্রামিং এডিটর ও টুলস সিস্টেম • CASE টুলস১. সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম
কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ডেটা ও নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।
- অপারেটিং সিস্টেম: পুরো কম্পিউটার পরিচালনা করে। যেমন: Windows, Linux।
- ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS): ডেটাবেজ তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিচালনা করে। যেমন: Oracle, MySQL।
- নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম: নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলোর যোগাযোগ ও রিসোর্স শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে।
২. সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম
নতুন সফটওয়্যার তৈরিতে প্রোগ্রামারদের সাহায্য করে।
- ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেটর: প্রোগ্রামকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে। যেমন: কম্পাইলার, ইন্টারপ্রেটার, অ্যাসেম্বলার।
- প্রোগ্রামিং এডিটর ও টুলস: প্রোগ্রাম লেখা ও সংশোধনের সুবিধা দেয়। যেমন: VS Code।
- CASE (Computer Aided Software Engineering): সফটওয়্যার নকশা ও তৈরির কাজ স্বয়ংক্রিয় করে।
৩. সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম
কম্পিউটারকে সুষ্ঠুভাবে চালাতে সহায়তা করে।
- সিস্টেম ইউটিলিটি: অ্যান্টিভাইরাস, ডিস্ক ক্লিনআপ, ব্যাকআপ, ফাইল সংকোচন।
- সিস্টেম পারফরম্যান্স মনিটর: প্রসেসর ও মেমরির ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে। যেমন: Task Manager।
- সিস্টেম সিকিউরিটি মনিটর: অননুমোদিত প্রবেশ ও ঝুঁকি শনাক্ত করে।
উপসংহার: এই তিন ধরনের সিস্টেম সফটওয়্যার একসাথে কম্পিউটার পরিচালনা, নতুন সফটওয়্যার তৈরি এবং কম্পিউটারকে নিরাপদ ও দক্ষ রাখার কাজ করে।
- ১.৪-র-৯★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৮
৫.টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম ও রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
উত্তর
টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম: যে অপারেটিং সিস্টেমে প্রসেসরের সময় ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে পালাক্রমে একাধিক ব্যবহারকারী বা প্রোগ্রামকে দেওয়া হয়। যেমন: UNIX।
রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম: যে অপারেটিং সিস্টেম ইনপুট পাওয়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট ও খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল দেয়। যেমন: বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
টাইম শেয়ারিং: | ইউজার-১ | ইউজার-২ | ইউজার-৩ | ইউজার-১ | ... (পালাক্রমে) রিয়েল টাইম: সেন্সর ইনপুট ──► [তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া] ──► সাথে সাথে আউটপুটপার্থক্য:
বিষয় টাইম শেয়ারিং OS রিয়েল টাইম OS ১. মূল উদ্দেশ্য অনেক ব্যবহারকারীকে প্রসেসর ভাগ করে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত সাড়া দেওয়া ২. সাড়া দেওয়ার সময় কিছুটা দেরি হলেও সমস্যা নেই দেরি হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে; সময় কঠোরভাবে নির্দিষ্ট ৩. ব্যবহারকারী একাধিক ব্যবহারকারী একসাথে সাধারণত নির্দিষ্ট একটি কাজের জন্য ৪. কাজের ধরন সাধারণ কাজ (লেখা, হিসাব, প্রোগ্রামিং) জরুরি নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ ৫. সময় বণ্টন প্রতিটি কাজকে সমান ছোট সময় দেয় জরুরি কাজকে অগ্রাধিকার দেয় ৬. ব্যবহারকারীর যোগাযোগ ব্যবহারকারী সরাসরি কাজ করেন অনেক সময় সেন্সর থেকে স্বয়ংক্রিয় ইনপুট ৭. উদাহরণ UNIX, Linux সার্ভার বিমান নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালের ICU, রোবট, ATM - ১.৪-র-১১★★★বই: পৃষ্ঠা ৬৯
৬.বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
উত্তর
বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেমের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। নিচে প্রধান ধরনগুলোর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:
অপারেটিং সিস্টেম │ ┌───────────────┬───────────┼─────────────┬──────────────┐ ইন্টারফেস ব্যবহারকারী কাজের ধরন প্রক্রিয়াকরণ নেটওয়ার্ক অনুযায়ী অনুযায়ী অনুযায়ী পদ্ধতি অনুযায়ী অনুযায়ী │ │ │ │ │ • বর্ণভিত্তিক • সিঙ্গেল ইউজার • সিঙ্গেল টাস্কিং • ব্যাচ • নেটওয়ার্ক OS (CUI) • মাল্টি ইউজার • মাল্টি টাস্কিং • টাইম শেয়ারিং • ডিস্ট্রিবিউটেড • চিত্রভিত্তিক • রিয়েল টাইম OS (GUI)১. বর্ণভিত্তিক (CUI) OS-এর বৈশিষ্ট্য:
- কী-বোর্ডে কমান্ড টাইপ করে কাজ করতে হয়।
- কম মেমরি লাগে এবং দ্রুত চলে।
- কমান্ড মুখস্থ রাখতে হয়, তাই ব্যবহার কঠিন। যেমন: MS-DOS।
২. চিত্রভিত্তিক (GUI) OS-এর বৈশিষ্ট্য:
- আইকন, মেনু, উইন্ডো ও মাউস দিয়ে কাজ করা যায়।
- ব্যবহার সহজ; নতুনরাও দ্রুত শিখতে পারে।
- বেশি মেমরি ও শক্তিশালী হার্ডওয়্যার লাগে। যেমন: Windows।
৩. সিঙ্গেল ইউজার OS-এর বৈশিষ্ট্য:
- একসময়ে একজন ব্যবহারকারী।
- সরল ও কম খরচের।
৪. মাল্টি ইউজার OS-এর বৈশিষ্ট্য:
- একসাথে অনেক ব্যবহারকারী।
- রিসোর্স ভাগাভাগি ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যেমন: UNIX।
৫. মাল্টি টাস্কিং OS-এর বৈশিষ্ট্য:
- একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো যায়।
- সময় বাঁচে ও কাজের দক্ষতা বাড়ে।
৬. ব্যাচ OS-এর বৈশিষ্ট্য:
- একই ধরনের কাজ দল করে ক্রমানুসারে প্রক্রিয়া করে।
- কাজ চলাকালে ব্যবহারকারীর সরাসরি যোগাযোগ নেই।
- বড় ও পুনরাবৃত্ত কাজের জন্য উপযোগী।
৭. টাইম শেয়ারিং OS-এর বৈশিষ্ট্য:
- প্রসেসরের সময় ছোট ভাগে ভাগ করে পালাক্রমে দেয়।
- প্রত্যেক ব্যবহারকারী দ্রুত সাড়া পান।
৮. রিয়েল টাইম OS-এর বৈশিষ্ট্য:
- নির্দিষ্ট ও খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিশ্চিত সাড়া দেয়।
- জরুরি কাজকে অগ্রাধিকার দেয়; অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
৯. নেটওয়ার্ক OS-এর বৈশিষ্ট্য:
- নেটওয়ার্কে ফাইল, প্রিন্টার ও রিসোর্স শেয়ার করা যায়।
- কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবহারকারী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা।
ধরন প্রধান বৈশিষ্ট্য এক কথায় CUI কমান্ড টাইপ করে কাজ GUI আইকন ও মাউস দিয়ে কাজ মাল্টি ইউজার অনেকে একসাথে মাল্টি টাস্কিং অনেক কাজ একসাথে ব্যাচ দল বেঁধে ক্রমানুসারে কাজ টাইম শেয়ারিং সময় ভাগাভাগি রিয়েল টাইম তাৎক্ষণিক সাড়া নেটওয়ার্ক রিসোর্স শেয়ার
অধ্যায় ১.৫: কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১টি)
- ১.৫-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৭১
১.অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার কী?
উত্তর
ব্যবহারকারী তার দৈনন্দিন নির্দিষ্ট কাজ বা সমস্যা সমাধানের জন্য যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলে।
এগুলো সিস্টেম সফটওয়্যারের (অপারেটিং সিস্টেমের) ওপর চলে। যেমন চিঠি লেখা, হিসাব রাখা, ছবি সম্পাদনা, গান শোনা, প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার আছে।
উদাহরণ: MS Word, MS Excel, PowerPoint, Photoshop, Google Chrome।
অধ্যায় ১.৬: কম্পিউটার পেরিফেরালস
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২টি)
- ১.৬-সং-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৭৮
১.Scanner-এর কাজ কী? [বিএমটি-২০২৪]
- অথবা, স্ক্যানারের ব্যবহার লেখ। [বিএমটি-২০০৯]
- অথবা, স্ক্যানারের কাজ লেখ। [বিএমটি-২০১২, ২০১৩, ২০১৪]
- অথবা, স্ক্যানারের কাজ বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০১৬, ২০২৩, ২৫]
উত্তর
স্ক্যানার হলো একটি ইনপুট ডিভাইস, যা কাগজে থাকা ছবি বা লেখাকে ডিজিটাল ছবিতে রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠায়।
স্ক্যানারের কাজ ও ব্যবহার:
- ছবি ডিজিটাল করা: কাগজের ছবি, আঁকা নকশা স্ক্যান করে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা।
- দলিল সংরক্ষণ: সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র, দলিল স্ক্যান করে PDF বা ছবি আকারে রাখা।
- লেখা রূপান্তর (OCR): OCR সফটওয়্যারের সাহায্যে ছাপা লেখাকে সম্পাদনাযোগ্য টেক্সটে রূপান্তর করা।
- অনলাইনে পাঠানো: স্ক্যান করা কাগজ ই-মেইল বা অনলাইন আবেদনে সংযুক্ত করা।
- পেপারলেস অফিস: অফিসের ফাইল স্ক্যান করে কাগজের ব্যবহার কমানো।
- প্রকাশনা ও ডিজাইন: বই, পত্রিকা ও বিজ্ঞাপনের জন্য ছবি সংগ্রহ।
- বারকোড পড়া: দোকানে বারকোড স্ক্যানার দিয়ে পণ্যের দাম বের করা।
- ১.৬-সং-১৬★★★বই: পৃষ্ঠা ৮০
২.প্রিন্টারের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
উত্তর
প্রিন্টার হলো একটি আউটপুট ডিভাইস, যা কম্পিউটারের লেখা ও ছবি কাগজে ছাপে। কাগজে ছাপা আউটপুটকে হার্ড কপি বলে।
প্রিন্টারের প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- ছাপার গতি: প্রতি মিনিটে কত পৃষ্ঠা ছাপে (PPM – Pages Per Minute) বা প্রতি সেকেন্ডে কত অক্ষর ছাপে (CPS)।
- ছাপার মান (রেজোলিউশন): প্রতি ইঞ্চিতে কত বিন্দু (DPI – Dots Per Inch); DPI যত বেশি, ছাপা তত পরিষ্কার।
- রং: সাদা-কালো (মনোক্রোম) বা রঙিন ছাপা।
- ছাপার পদ্ধতি: ইম্প্যাক্ট (আঘাত করে) বা নন-ইম্প্যাক্ট (আঘাত ছাড়া)।
- কাগজের আকার: A4, Legal, Letter ইত্যাদি কোন আকারের কাগজে ছাপতে পারে।
- সংযোগ: USB, Wi-Fi বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়।
- খরচ: কালি বা টোনারের দাম ও প্রতি পৃষ্ঠার ছাপার খরচ।
- মেমরি (বাফার): ছাপার কাজ জমা রাখার নিজস্ব মেমরি থাকে।
প্রিন্টার │ ┌───────────────────┴───────────────────┐ ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার (কাগজে আঘাত করে ছাপে) (আঘাত ছাড়া ছাপে) │ │ ┌────────┼────────┐ ┌────────────┼────────────┐ ডট ম্যাট্রিক্স ডেইজি হুইল লাইন ইঙ্কজেট লেজার থার্মাল প্রিন্টার প্রিন্টার প্রিন্টার প্রিন্টার প্রিন্টার প্রিন্টার
রচনামূলক প্রশ্ন (৩টি)
- ১.৬-র-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৮১
১.কম্পিউটার পেরিফেরালসের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।
- অথবা, ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস বলতে কী বুঝায়? উদাহরণসহ লেখ। [বিএমটি-২০২৩, ২৫]
উত্তর
কম্পিউটার পেরিফেরালস: কম্পিউটারের মূল অংশের বাইরে থেকে যুক্ত হয়ে যেসব যন্ত্র ডেটা ইনপুট, আউটপুট বা সংরক্ষণের কাজ করে, সেগুলোকে পেরিফেরালস বলে।
কম্পিউটার পেরিফেরালস │ ┌──────────────────────────┼──────────────────────────┐ ইনপুট ডিভাইস আউটপুট ডিভাইস ইনপুট-আউটপুট ও স্টোরেজ │ │ │ • কী-বোর্ড, মাউস • মনিটর • টাচস্ক্রিন • স্ক্যানার • প্রিন্টার • মডেম • মাইক্রোফোন • প্লটার • হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ • ওয়েবক্যাম, ডিজিটাল ক্যামেরা • স্পিকার, হেডফোন • ডিভিডি রাইটার • OMR, OCR, MICR • প্রজেক্টর • লাইট পেন, ডিজিটাইজার • জয়স্টিক, বারকোড রিডার১. ইনপুট ডিভাইস (Input Device)
যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পিউটারে ডেটা ও নির্দেশ প্রবেশ করানো হয়, সেগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বা গ্রহণমুখী যন্ত্র বলে। এগুলো মানুষের দেওয়া তথ্যকে কম্পিউটারের বোধগম্য সংকেতে রূপান্তর করে।
ইনপুট ডিভাইস কাজ কী-বোর্ড অক্ষর, সংখ্যা ও নির্দেশ টাইপ করা মাউস পর্দায় পয়েন্টার নাড়ানো ও ক্লিক করা স্ক্যানার কাগজের লেখা ও ছবি কম্পিউটারে নেওয়া মাইক্রোফোন শব্দ বা কণ্ঠস্বর ইনপুট ওয়েবক্যাম/ডিজিটাল ক্যামেরা ছবি ও ভিডিও ইনপুট OMR, OCR, MICR দাগ, অক্ষর ও চেকের লেখা পড়া জয়স্টিক গেম খেলা বারকোড রিডার পণ্যের বারকোড পড়া ২. আউটপুট ডিভাইস (Output Device)
যেসব যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রক্রিয়াজাত ফলাফল ব্যবহারকারীর কাছে প্রকাশ করে, সেগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বা নির্গমনমুখী যন্ত্র বলে।
আউটপুট ডিভাইস কাজ মনিটর পর্দায় লেখা ও ছবি দেখানো (সফট কপি) প্রিন্টার কাগজে ছাপা (হার্ড কপি) প্লটার বড় নকশা ও মানচিত্র ছাপা স্পিকার/হেডফোন শব্দ শোনানো প্রজেক্টর বড় পর্দায় দেখানো ৩. ইনপুট-আউটপুট ও স্টোরেজ ডিভাইস
কিছু যন্ত্র ইনপুট ও আউটপুট দুটোই করে, আবার কিছু যন্ত্র তথ্য সংরক্ষণ করে।
- টাচস্ক্রিন: স্পর্শে ইনপুট নেয়, আবার পর্দায় দেখায়।
- মডেম: ইন্টারনেটে ডেটা পাঠায় ও গ্রহণ করে।
- হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ, ডিভিডি রাইটার: তথ্য লেখা ও পড়া দুটোই করে।
ইনপুট ডিভাইস ──► [ সিপিইউ ও মেমরি ] ──► আউটপুট ডিভাইস (কী-বোর্ড, মাউস) (প্রক্রিয়াকরণ) (মনিটর, প্রিন্টার)উপসংহার: ইনপুট ডিভাইস দিয়ে তথ্য দেওয়া, আর আউটপুট ডিভাইস দিয়ে ফল পাওয়া; এদের ছাড়া কম্পিউটারের সাথে মানুষের যোগাযোগ সম্ভব নয়।
- ১.৬-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ৮১
২.ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার ও নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টারের তুলনামূলক ব্যবহারিক সুবিধা-অসুবিধাসমূহ বর্ণনা কর। [বিএমটি-১৩, ১৭, ১৮, ২২, ২৩]
উত্তর
ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার: যে প্রিন্টার কালির ফিতার (রিবন) ওপর হাতুড়ি বা পিন দিয়ে আঘাত করে কাগজে ছাপে, তাকে ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার বলে। যেমন: ডট ম্যাট্রিক্স, ডেইজি হুইল, লাইন প্রিন্টার।
নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার: যে প্রিন্টার কাগজে কোনো আঘাত ছাড়াই কালি ছিটিয়ে, লেজার বা তাপের মাধ্যমে ছাপে, তাকে নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার বলে। যেমন: ইঙ্কজেট, লেজার, থার্মাল প্রিন্টার।
প্রিন্টার │ ┌───────────────────┴───────────────────┐ ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার (কাগজে আঘাত করে ছাপে) (আঘাত ছাড়া ছাপে) │ │ ┌────────┼────────┐ ┌────────────┼────────────┐ ডট ম্যাট্রিক্স ডেইজি হুইল লাইন ইঙ্কজেট লেজার থার্মাল প্রিন্টার প্রিন্টার প্রিন্টার প্রিন্টার প্রিন্টার প্রিন্টারইম্প্যাক্ট প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা অসুবিধা ১. কার্বন কাগজ দিয়ে একসাথে একাধিক কপি ছাপা যায় ১. কাজের সময় অনেক শব্দ হয় ২. ছাপার খরচ (রিবন) খুব কম ২. ছাপার মান কম, লেখা অত পরিষ্কার নয় ৩. ধারাবাহিক (Continuous) কাগজে ছাপা যায় ৩. গতি কম ৪. টেকসই ও দীর্ঘদিন চলে ৪. ভালো মানের ছবি বা রঙিন ছাপা যায় না নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা অসুবিধা ১. শব্দ প্রায় হয় না ১. একসাথে কার্বন কপি ছাপা যায় না ২. ছাপার মান খুব উঁচু ও পরিষ্কার ২. কালি বা টোনারের দাম বেশি ৩. দ্রুতগতিতে ছাপে ৩. প্রিন্টারের দাম তুলনামূলক বেশি ৪. রঙিন ছবি ও গ্রাফিক্স সুন্দর ছাপে ৪. বিশেষ মানের কাগজ লাগতে পারে তুলনামূলক ব্যবহারিক পার্থক্য
বিষয় ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার ছাপার পদ্ধতি আঘাত করে আঘাত ছাড়া শব্দ বেশি খুব কম গতি কম বেশি মান নিম্ন উচ্চ কার্বন কপি সম্ভব সম্ভব নয় প্রতি পৃষ্ঠার খরচ কম তুলনামূলক বেশি (ইঙ্কজেট), কম (লেজার) ব্যবহারের ক্ষেত্র ব্যাংকের স্লিপ, বিল, ইনভয়েস, রসিদ অফিসের চিঠি, রিপোর্ট, ছবি, প্রকাশনা উপসংহার: যেখানে কার্বন কপি ও কম খরচ দরকার সেখানে ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার, আর যেখানে মান ও গতি দরকার সেখানে নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার বেশি উপযোগী।
- ১.৬-র-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৪
৩.ডট প্রিন্টার ও লেজার প্রিন্টার-এর তুলনামূলক ব্যবহারিক সুবিধা-অসুবিধা বর্ণনা কর।
উত্তর
ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার: একটি ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার, যার প্রিন্ট হেডের ছোট ছোট পিন কালির ফিতায় আঘাত করে বিন্দু (ডট) দিয়ে অক্ষর ও ছবি তৈরি করে।
লেজার প্রিন্টার: একটি নন-ইম্প্যাক্ট প্রিন্টার, যা লেজার রশ্মি ও টোনার ব্যবহার করে ফটোকপির মতো পদ্ধতিতে পুরো পৃষ্ঠা একবারে ছাপে।
ডট ম্যাট্রিক্স: পিন ──আঘাত──► রিবন ──► কাগজ ● ● ● (বিন্দু দিয়ে অক্ষর) ● ● ● ● ● লেজার: লেজার ──► ড্রাম ──► টোনার ──► কাগজ ──► তাপ (স্থায়ী)ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা অসুবিধা প্রিন্টার ও রিবনের দাম খুব কম কাজের সময় অনেক শব্দ হয় কার্বন কাগজে একসাথে একাধিক কপি ছাপা যায় ছাপার মান কম ধারাবাহিক (Continuous) কাগজে ছাপা যায় গতি কম টেকসই, কঠিন পরিবেশেও চলে ভালো ছবি ও রঙিন ছাপা যায় না লেজার প্রিন্টারের সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা অসুবিধা খুব দ্রুতগতিতে ছাপে প্রিন্টারের দাম বেশি ছাপার মান খুব উঁচু ও পরিষ্কার একসাথে কার্বন কপি ছাপা যায় না প্রায় নিঃশব্দে কাজ করে টোনার কার্টিজের দাম বেশি প্রতি পৃষ্ঠার খরচ কম রঙিন লেজার প্রিন্টার খুব দামি বেশি পরিমাণ ছাপার জন্য উপযোগী বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে তুলনামূলক বিবরণ
বিষয় ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার লেজার প্রিন্টার ১. ধরন ইম্প্যাক্ট নন-ইম্প্যাক্ট ২. ছাপার পদ্ধতি পিনের আঘাতে বিন্দু দিয়ে লেজার ও টোনার দিয়ে ৩. ছাপার একক অক্ষর অনুযায়ী (Character printer) পৃষ্ঠা অনুযায়ী (Page printer) ৪. গতি কম (CPS-এ মাপা হয়) বেশি (PPM-এ মাপা হয়) ৫. মান নিম্ন খুব উচ্চ ৬. শব্দ বেশি খুব কম ৭. কার্বন কপি সম্ভব সম্ভব নয় ৮. প্রিন্টারের দাম কম বেশি ৯. ব্যবহার ব্যাংকের স্লিপ, বিল, ইনভয়েস অফিসের চিঠি, রিপোর্ট, প্রকাশনা উপসংহার: কম খরচে ও কার্বন কপির প্রয়োজনে ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার, আর দ্রুত ও মানসম্মত ছাপার জন্য লেজার প্রিন্টার বেশি উপযোগী।
অধ্যায় ২: টাইপিং অনুশীলন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৫টি)
- ২-সং-১★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬
১.হোম-কী বলতে কী বুঝায়?
উত্তর
কী-বোর্ডের মাঝের সারির (Home Row) যে ৮টি কী-তে টাইপ শুরু করার আগে দুই হাতের আঙুল স্থির করে রাখা হয় এবং প্রতিটি কী টাইপের পর আঙুল আবার সেখানে ফিরে আসে, সেগুলোকে হোম-কী (Home Keys) বলে।
- বাম হাতের হোম-কী: A, S, D, F
- ডান হাতের হোম-কী: J, K, L, ;
F ও J কী-তে ছোট উঁচু দাগ থাকে, ফলে কী-বোর্ডের দিকে না তাকিয়েও আঙুল সঠিক জায়গায় বসানো যায়। হোম-কী থেকে টাইপ করলে দ্রুত ও নির্ভুল টাইপ করা সম্ভব হয়।
┌───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┬───┐ │ Q │ W │ E │ R │ T │ Y │ U │ I │ O │ P │ [ │ ← উপরের সারি └┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┴┬──┘ │ A │ S │ D │ F̲ │ G │ H │ J̲ │ K │ L │ ; │ ← হোম সারি (মাঝের সারি) └─▲─┴─▲─┴─▲─┴─▲─┴───┴───┴─▲─┴─▲─┴─▲─┴─▲─┘ কনিষ্ঠা অনামিকা মধ্যমা তর্জনী তর্জনী মধ্যমা অনামিকা কনিষ্ঠা └──────── বাম হাত ────────┘ └──────── ডান হাত ────────┘ দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি থাকবে স্পেসবারের ওপর (F ও J কী-তে ছোট উঁচু দাগ থাকে, চোখ না দেখেও আঙুল বসানো যায়) - ২-সং-৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬
২.CPS কী?
উত্তর
CPS-এর পূর্ণরূপ Characters Per Second, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে টাইপ করা অক্ষরের সংখ্যা।
একজন টাইপিস্ট এক সেকেন্ডে কতগুলো অক্ষর (বর্ণ, সংখ্যা, চিহ্ন ও স্পেসসহ) টাইপ করতে পারেন, তা দিয়ে টাইপিংয়ের গতি মাপা হয়। একইভাবে প্রতি মিনিটে টাইপ করা অক্ষরের সংখ্যাকে CPM (Characters Per Minute) বলে। (প্রিন্টারের গতিও CPS-এ মাপা হয়।)
সূত্র: CPS = মোট টাইপ করা অক্ষর ÷ সময় (সেকেন্ডে)
উদাহরণ: ১ মিনিটে (৬০ সেকেন্ডে) ৩০০টি অক্ষর টাইপ করলে, CPS = ৩০০ ÷ ৬০ = ৫, আর CPM = ৩০০।
- ২-সং-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৬
৩.WPM কী?
উত্তর
WPM-এর পূর্ণরূপ Words Per Minute, অর্থাৎ প্রতি মিনিটে টাইপ করা শব্দের সংখ্যা। এটি টাইপিং গতি মাপার সবচেয়ে প্রচলিত একক।
টাইপিংয়ের হিসাবে সাধারণত স্পেসসহ ৫টি অক্ষরকে ১টি শব্দ ধরা হয়।
সূত্র: WPM = (মোট টাইপ করা অক্ষর ÷ ৫) ÷ সময় (মিনিটে)
উদাহরণ: ২ মিনিটে ৪০০টি অক্ষর টাইপ করলে, WPM = (৪০০ ÷ ৫) ÷ ২ = ৮০ ÷ ২ = ৪০ WPM।
💡 অফিস সহকারী পদে সাধারণত বাংলায় প্রতি মিনিটে ২০–২৫ এবং ইংরেজিতে ২৫–৩০ শব্দ টাইপের গতি চাওয়া হয়।
- ২-সং-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭
৪.টাইপিং কাকে বলে?
উত্তর
কী-বোর্ডের কী চেপে কম্পিউটারে অক্ষর, সংখ্যা, চিহ্ন ও লেখা প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়াকে টাইপিং (Typing) বলে।
আগে টাইপরাইটার যন্ত্রে টাইপ করা হতো, এখন কম্পিউটারের কী-বোর্ডে করা হয়। সঠিক নিয়মে, অর্থাৎ হোম-কী থেকে সব আঙুল ব্যবহার করে কী-বোর্ডের দিকে না তাকিয়ে টাইপ করাকে টাচ টাইপিং বলে। এতে দ্রুত ও নির্ভুল টাইপ করা যায়। অফিসের প্রায় সব কাজে টাইপিং দক্ষতা প্রয়োজন।
- ২-সং-১২★★★বই: পৃষ্ঠা ৮৭
৫.ব্যবহারকারীর চোখের দূরত্ব হতে মনিটরের দূরত্ব কত হওয়া উচিত?
উত্তর
কম্পিউটার ব্যবহারের সময় চোখ থেকে মনিটরের দূরত্ব সাধারণত ২০ থেকে ৪০ ইঞ্চি (প্রায় ৫০–১০০ সেন্টিমিটার), অর্থাৎ প্রায় এক হাত (বাহুর দৈর্ঘ্য) দূরে হওয়া উচিত।
এছাড়া:
- মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান উচ্চতায় বা সামান্য নিচে থাকবে।
- মনিটর চোখ থেকে ১০–২০ ডিগ্রি নিচের দিকে থাকলে ঘাড়ে চাপ কম পড়ে।
- মনিটর ঠিক সামনে রাখতে হবে, বাঁকা করে নয়।
👁 চোখ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ┐ মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা একটু নিচে │ ২০–৪০ ইঞ্চি ┌┴───┐ 🙂 ◄─────────────────────►│ 🖥 │ ┃ পিঠ সোজা └────┘ চেয়ার ┃━━━━ কনুই ৯০° ━━ ⌨ কী-বোর্ড (কব্জি সোজা) ┃ ┗━━━━┓ হাঁটু ৯০° ┃ 👣 পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা চিত্র: কম্পিউটারে কাজের সঠিক ভঙ্গি
রচনামূলক প্রশ্ন (১টি)
- ২-র-৩★★★
১.স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টাইপিং অনুশীলনের বিধিমালা বর্ণনা কর। [বিএমটি-২০২৪]
উত্তর
দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে টাইপ করলে চোখের সমস্যা, ঘাড় ও পিঠে ব্যথা, হাতের কব্জিতে ব্যথা (কারপাল টানেল সিনড্রোম) এবং বারবার একই কাজের কারণে আঘাত (RSI – Repetitive Strain Injury) হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কিছু বিধিমালা মেনে চলতে হয়:
👁 চোখ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ─ ┐ মনিটরের ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা একটু নিচে │ ২০–৪০ ইঞ্চি ┌┴───┐ 🙂 ◄─────────────────────►│ 🖥 │ ┃ পিঠ সোজা └────┘ চেয়ার ┃━━━━ কনুই ৯০° ━━ ⌨ কী-বোর্ড (কব্জি সোজা) ┃ ┗━━━━┓ হাঁটু ৯০° ┃ 👣 পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা চিত্র: কম্পিউটারে কাজের সঠিক ভঙ্গি১. বসার বিধি:
- পিঠ সোজা রেখে, চেয়ারের পিঠে ভর দিয়ে বসতে হবে।
- পা মেঝেতে সমানভাবে থাকবে; প্রয়োজনে পা রাখার টুল (Footrest) ব্যবহার।
- উরু মেঝের সমান্তরাল এবং হাঁটু ৯০ ডিগ্রিতে থাকবে।
২. হাত ও কব্জির বিধি:
- কনুই ৯০ ডিগ্রিতে, শরীরের কাছাকাছি থাকবে।
- কব্জি সোজা রাখতে হবে; প্রয়োজনে রিস্ট রেস্ট ব্যবহার।
- কী আলতোভাবে চাপতে হবে।
৩. চোখের সুরক্ষা বিধি:
- মনিটর চোখ থেকে ২০–৪০ ইঞ্চি দূরে এবং ওপরের প্রান্ত চোখের সমান বা নিচে।
- পর্দার উজ্জ্বলতা ও কনট্রাস্ট আরামদায়ক রাখা।
- ২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিটে ২০ ফুট দূরে ২০ সেকেন্ড তাকানো।
- ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা।
৪. আলো ও পরিবেশ:
- পর্যাপ্ত আলো, কিন্তু পর্দায় প্রতিফলন যেন না পড়ে।
- ঘর পরিষ্কার, বায়ু চলাচলযুক্ত ও আরামদায়ক তাপমাত্রার হবে।
৫. বিরতি ও ব্যায়াম:
- প্রতি ৩০–৬০ মিনিট পর ৫–১০ মিনিট বিরতি।
- বিরতিতে হাত, আঙুল, ঘাড় ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম; একটু হাঁটাহাঁটি।
৬. আসবাবের বিধি:
- উচ্চতা নিয়ন্ত্রণযোগ্য, পিঠে ঠেস দেওয়ার ব্যবস্থাসহ চেয়ার।
- উপযুক্ত উচ্চতার কম্পিউটার টেবিল ও কী-বোর্ড ট্রে।
৭. বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা:
- ভেজা হাতে কম্পিউটার স্পর্শ না করা; তার ও প্লাগ ঠিক আছে কি না দেখা।
শরীরের অংশ ঝুঁকি সুরক্ষার উপায় চোখ চোখ ব্যথা, ঝাপসা দেখা সঠিক দূরত্ব, ২০-২০-২০ নিয়ম ঘাড় ও পিঠ ব্যথা পিঠ সোজা, মনিটর চোখের সমান হাত ও কব্জি কারপাল টানেল, RSI কব্জি সোজা, বিরতি পা রক্ত চলাচলে সমস্যা পা মেঝেতে, মাঝে মাঝে হাঁটা উপসংহার: এসব বিধিমালা মেনে টাইপ অনুশীলন করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দীর্ঘদিন দক্ষতার সাথে কাজ করা যায়।
অধ্যায় ৩: ওয়ার্ড প্রসেসিং অনুশীলন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১১টি)
- ৩-সং-১★★★
১.ডকুমেন্ট প্রিন্টিং-এর ধাপসমূহ লেখ। [বিএমটি-২০২২, ২৬]
উত্তর
কম্পিউটারে তৈরি ডকুমেন্ট প্রিন্টারের মাধ্যমে কাগজে ছাপানোকে ডকুমেন্ট প্রিন্টিং বলে। এর ধাপগুলো হলো:
- যে ডকুমেন্ট প্রিন্ট করতে চাই, সেটি খুলতে হবে এবং প্রিন্টার চালু ও কাগজ দেওয়া আছে কি না দেখতে হবে।
- File → Print ক্লিক করতে হবে, অথবা Ctrl + P চাপতে হবে।
- Printer তালিকা থেকে প্রিন্টার নির্বাচন করতে হবে।
- Copies ঘরে কত কপি লাগবে তা লিখতে হবে।
- Pages অংশে সব পৃষ্ঠা, বর্তমান পৃষ্ঠা না নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা (যেমন 1-3, 5) তা ঠিক করতে হবে।
- কাগজের আকার (A4), ওরিয়েন্টেশন ও মার্জিন দেখে নিতে হবে।
- ডান পাশের Print Preview দেখে সব ঠিক থাকলে Print বাটনে ক্লিক করতে হবে।
File ──► Print (Ctrl+P) ──► প্রিন্টার বাছাই ──► পৃষ্ঠা ও কপি সংখ্যা ──► সেটিংস ──► Print 🖨 (কাগজ, মার্জিন, ওরিয়েন্টেশন) - ৩-সং-২★★★
২.Header বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২৪]
উত্তর
ডকুমেন্টের প্রতিটি পৃষ্ঠার ওপরের মার্জিনে (Top Margin) যে লেখা বা ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বারবার দেখা যায়, তাকে হেডার (Header) বলে।
একবার হেডারে লিখলে সব পৃষ্ঠার ওপরে তা চলে আসে। সাধারণত প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো, বইয়ের বা অধ্যায়ের শিরোনাম, তারিখ ইত্যাদি হেডারে রাখা হয়।
উদাহরণ: একটি অফিসের প্রতিটি চিঠির ওপরে "ঢাকা টেকনিক্যাল কলেজ" নাম ও লোগো।
যুক্ত করার নিয়ম: Insert → Header → পছন্দের স্টাইল → লেখা টাইপ → Close Header and Footer।
- ৩-সং-৩★★★
৩.Footer বলতে কী বুঝায়? [বিএমটি-২০২৪]
উত্তর
ডকুমেন্টের প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচের মার্জিনে (Bottom Margin) যে লেখা বা ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বারবার দেখা যায়, তাকে ফুটার (Footer) বলে।
সাধারণত পৃষ্ঠা নম্বর, লেখকের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ফাইলের নাম বা "গোপনীয়" জাতীয় লেখা ফুটারে রাখা হয়।
উদাহরণ: প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচে "পৃষ্ঠা ১ এর ১০"।
যুক্ত করার নিয়ম: Insert → Footer → পছন্দের স্টাইল → লেখা টাইপ → Close Header and Footer।
┌──────────────────────┐ │ হেডার (প্রতিষ্ঠানের নাম) │ ← ওপরের মার্জিন ├──────────────────────┤ │ │ │ মূল লেখা │ │ │ ├──────────────────────┤ │ ফুটার (পৃষ্ঠা – ১) │ ← নিচের মার্জিন └──────────────────────┘ - ৩-সং-৪★★★
৪.মেনু বার কী?
উত্তর
প্রোগ্রাম উইন্ডোর টাইটেল বারের ঠিক নিচে যে আনুভূমিক বারে File, Edit, View, Insert, Format, Tools, Table, Window, Help ইত্যাদি মেনুর নাম সাজানো থাকে, তাকে মেনু বার (Menu Bar) বলে।
প্রতিটি মেনুতে ক্লিক করলে একটি ড্রপ-ডাউন তালিকা খোলে, যেখানে সংশ্লিষ্ট কমান্ডগুলো থাকে। যেমন File মেনুতে New, Open, Save, Print।
MS Word 2003 ও LibreOffice Writer-এ মেনু বার থাকে। MS Word 2007 থেকে মেনু বারের জায়গায় ট্যাব ও রিবন এসেছে।
কী-বোর্ড দিয়ে: Alt চাপলে মেনু বার সক্রিয় হয়, যেমন Alt + F দিলে File মেনু খোলে।
- ৩-সং-৫★★★
৫.রিবন (Ribbon) কী?
উত্তর
MS Office 2007 ও পরবর্তী সংস্করণে টাইটেল বারের নিচে ট্যাব আকারে সাজানো, ছবিসহ কমান্ড বাটনের চওড়া ফিতার মতো অংশকে রিবন (Ribbon) বলে। এটি পুরনো মেনু বার ও টুলবারের জায়গা নিয়েছে।
রিবনের তিনটি অংশ:
- ট্যাব (Tab): Home, Insert, Layout ইত্যাদি।
- গ্রুপ (Group): প্রতিটি ট্যাবে সম্পর্কিত কমান্ডের দল, যেমন Home ট্যাবে Clipboard, Font, Paragraph।
- কমান্ড (Command): বাটন, যেমন Bold, Copy।
Home │ Insert │ Layout ← ট্যাব ┌──────────┬──────────────┬───────────┐ │ ✂ 📋 │ B I U A │ ≡ ≡ ≡ ≡ │ ← কমান্ড │ Clipboard│ Font │ Paragraph │ ← গ্রুপ └──────────┴──────────────┴───────────┘Ctrl + F1 চেপে রিবন লুকানো বা দেখানো যায়।
- ৩-সং-৭★★★
৬.Quick Access Toolbar কী?
উত্তর
MS Office প্রোগ্রামের টাইটেল বারের বাম পাশে থাকা ছোট টুলবার, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কয়েকটি কমান্ড রাখা হয়, তাকে Quick Access Toolbar (দ্রুত প্রবেশের টুলবার) বলে।
যেকোনো ট্যাব খোলা থাকুক না কেন, এটি সবসময় দেখা যায়। ডিফল্টভাবে এতে Save, Undo ও Redo থাকে। পাশের ছোট তীরচিহ্ন (▾) ক্লিক করে New, Open, Print, Quick Print ইত্যাদি নিজের পছন্দমতো কমান্ড যোগ বা বাদ দেওয়া যায়।
💾 ↶ ↷ ▾ Document1 - Word └── Quick Access Toolbar - ৩-সং-৮★★★
৭.টাইটেল বার কী?
উত্তর
প্রোগ্রাম উইন্ডোর একেবারে ওপরের যে বারে খোলা ফাইলের নাম ও প্রোগ্রামের নাম দেখা যায়, তাকে টাইটেল বার (Title Bar) বলে।
উদাহরণ: "Document1 - Word" বা "Report.docx - Word"।
টাইটেল বারের ডান পাশে তিনটি বাটন থাকে:
- Minimize (—): উইন্ডো টাস্কবারে নামিয়ে রাখা।
- Maximize/Restore (▢): পুরো পর্দা জুড়ে বা ছোট করা।
- Close (✕): প্রোগ্রাম বন্ধ করা।
টাইটেল বার ধরে টেনে (Drag) উইন্ডো সরানো যায়, আর ডাবল-ক্লিক করলে উইন্ডো বড়-ছোট হয়।
- ৩-সং-৯★★★
৮.টেক্সট ফরমেটিং টুলবার কী?
উত্তর
লেখার চেহারা বা রূপ পরিবর্তনের (ফরমেটিং) কমান্ডগুলো যে টুলবারে বাটন আকারে সাজানো থাকে, তাকে টেক্সট ফরমেটিং টুলবার (Formatting Toolbar) বলে। এটি সাধারণত স্ট্যান্ডার্ড টুলবারের নিচে থাকে।
বাটন কাজ Style শিরোনাম, সাধারণ লেখা ইত্যাদি স্টাইল Font ফন্টের নাম (যেমন SutonnyMJ, Arial) Font Size অক্ষরের আকার B I <u>U</u> বোল্ড, ইটালিক, আন্ডারলাইন Alignment বামে, মাঝে, ডানে, দুই পাশে সমান Line Spacing লাইনের মধ্যে ফাঁক Bullets/Numbering বুলেট ও নম্বর তালিকা Indent লেখা ভেতরে বা বাইরে সরানো Highlight, Font Color লেখার পেছনের রং ও লেখার রং (নতুন Word-এ এগুলো Home ট্যাবের Font ও Paragraph গ্রুপে আছে।)
- ৩-সং-১২★★★বই: পৃষ্ঠা ৯৪
৯.ডকুমেন্ট সেভ করার পদ্ধতি আলোচনা কর।
উত্তর
ডকুমেন্ট স্থায়ীভাবে কম্পিউটারের স্টোরেজে রেখে দেওয়াকে ডকুমেন্ট সেভ (Save) করা বলে। সেভ না করলে বিদ্যুৎ চলে গেলে লেখা হারিয়ে যেতে পারে।
প্রথমবার সেভ করার পদ্ধতি:
- File → Save ক্লিক করতে হবে, অথবা Ctrl + S চাপতে হবে।
- Save As ডায়ালগ বক্স আসবে।
- কোন ফোল্ডারে বা ড্রাইভে রাখব তা বাছাই করতে হবে (যেমন D:\Office)।
- File name ঘরে ফাইলের নাম লিখতে হবে (যেমন Application)।
- Save as type থেকে ফরম্যাট বাছাই করতে হবে (যেমন Word Document .docx)।
- Save বাটনে ক্লিক করতে হবে।
পরে পরিবর্তন সেভ করা: শুধু Ctrl + S চাপলেই হয়। অন্য নামে বা অন্য জায়গায় সেভ: File → Save As বা F12।
Ctrl+S ─► Save As বক্স ─► ফোল্ডার বাছাই ─► ফাইলের নাম ─► ফরম্যাট ─► Save - ৩-সং-১৩★★★বই: পৃষ্ঠা ৯৪
১০.কী-বোর্ড দিয়ে লেখা ব্লক করার নিয়ম লেখ।
উত্তর
লেখা ব্লক বা সিলেক্ট করা মানে লেখার নির্দিষ্ট অংশ চিহ্নিত করা, যাতে তা কপি, কাট, মুছে ফেলা বা ফরমেট করা যায়। কী-বোর্ড দিয়ে ব্লক করার নিয়ম:
কী-বোর্ড কমান্ড যা সিলেক্ট হয় Shift + → / ← ডানে/বামে এক অক্ষর করে Shift + ↑ / ↓ ওপরে/নিচে এক লাইন করে Ctrl + Shift + → / ← এক শব্দ করে Shift + Home কার্সর থেকে লাইনের শুরু পর্যন্ত Shift + End কার্সর থেকে লাইনের শেষ পর্যন্ত Ctrl + Shift + ↓ / ↑ অনুচ্ছেদের শেষ/শুরু পর্যন্ত Shift + Page Down / Up এক পর্দা নিচে/ওপরে Ctrl + Shift + End / Home ডকুমেন্টের শেষ/শুরু পর্যন্ত Ctrl + A পুরো ডকুমেন্ট 💡 মনে রাখো: Shift চেপে ধরে কার্সর সরালেই লেখা ব্লক হয়; সাথে Ctrl দিলে বড় বড় ধাপে হয়।
- ৩-সং-১৫★★★বই: পৃষ্ঠা ৯৪
১১.শর্টকাট-কী দিয়ে কপি ও পেস্ট করার পদ্ধতি লেখ।
উত্তর
শর্টকাট-কী দিয়ে কপি ও পেস্ট করার পদ্ধতি:
- যে লেখাটি কপি করতে চাই তা সিলেক্ট (ব্লক) করতে হবে (মাউস দিয়ে বা Shift + তীরচিহ্ন দিয়ে)।
- Ctrl + C চাপতে হবে; লেখাটি ক্লিপবোর্ডে জমা হবে।
- যেখানে বসাতে চাই, সেখানে কার্সর রাখতে হবে।
- Ctrl + V চাপতে হবে; লেখাটি সেখানে বসে যাবে।
সিলেক্ট ──► Ctrl+C (কপি) ──► 📋 ক্লিপবোর্ড ──► কার্সর রাখা ──► Ctrl+V (পেস্ট)কাজ শর্টকাট কপি (Copy) Ctrl + C কাট (Cut) — সরিয়ে নেওয়া Ctrl + X পেস্ট (Paste) Ctrl + V শুধু লেখা পেস্ট (ফরম্যাট ছাড়া) Ctrl + Shift + V
রচনামূলক প্রশ্ন (১টি)
- ৩-র-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ১১১
১.ডকুমেন্ট প্রিন্টিং-এর সেটিংসমূহ বর্ণনা কর।
- অথবা, ডকুমেন্ট প্রিন্টের ধাপগুলো বর্ণনা কর।
উত্তর
কম্পিউটারে তৈরি ডকুমেন্ট প্রিন্টারের মাধ্যমে কাগজে ছাপানোকে ডকুমেন্ট প্রিন্টিং বলে। সঠিক সেটিংস না দিলে কাগজ ও কালি নষ্ট হয়, তাই প্রিন্টের আগে সেটিংস ঠিক করা জরুরি।
File ──► Print (Ctrl+P) ──► প্রিন্টার বাছাই ──► পৃষ্ঠা ও কপি সংখ্যা ──► সেটিংস ──► Print 🖨 (কাগজ, মার্জিন, ওরিয়েন্টেশন)┌─────────────── Print (Ctrl+P) ───────────────┐ │ 🖨 Print Copies: [ 1 ] │ │ │ Printer: [HP LaserJet ▾] │ ┌───────────┐ │ │ Settings: │ │ প্রিন্ট │ │ │ [Print All Pages ▾] │ │ প্রিভিউ │ │ │ Pages: [ 1-3, 5 ] │ │ │ │ │ [Print One Sided ▾] │ └───────────┘ │ │ [Collated 1,2,3 1,2,3 ▾] │ ◄ 1 of 3 ► │ │ [Portrait Orientation ▾] │ │ │ [A4 ▾] │ │ │ [Normal Margins ▾] │ │ │ [1 Page Per Sheet ▾] │ │ │ Page Setup │ │ └───────────────────────────────────────────────┘প্রিন্টিং-এর সেটিংসমূহ
ক্রম সেটিং কাজ ও বিকল্প ১ Copies কত কপি ছাপাতে হবে ২ Printer কোন প্রিন্টারে ছাপা হবে; Printer Properties থেকে মান (Draft/Normal/Best), রঙিন বা সাদাকালো ৩ Print All Pages সব পৃষ্ঠা; বিকল্প: Print Current Page, Print Selection, Custom Print ৪ Pages নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা, যেমন 1-3, 5 (১ থেকে ৩ ও ৫ নম্বর) ৫ Print One Sided / Both Sides কাগজের এক পাশে বা দুই পাশে ছাপা ৬ Collated / Uncollated একাধিক কপিতে সেট আকারে (1,2,3 1,2,3) না পৃষ্ঠা অনুযায়ী (1,1 2,2 3,3) ৭ Orientation Portrait (লম্বালম্বি) বা Landscape (আড়াআড়ি) ৮ Paper Size A4, Letter, Legal, A5 ইত্যাদি ৯ Margins Normal, Narrow, Wide বা Custom Margins ১০ Pages Per Sheet এক কাগজে ১, ২, ৪… পৃষ্ঠা ১১ Page Setup মার্জিন, কাগজ ও লেআউটের বিস্তারিত সেটিং ১২ Print Preview ছাপার আগে কেমন দেখাবে তা দেখা Portrait Landscape ┌─────┐ ┌──────────┐ │ │ │ │ │ │ └──────────┘ │ │ └─────┘ডকুমেন্ট প্রিন্টের ধাপসমূহ
- ডকুমেন্ট খুলে প্রিন্টার চালু ও কাগজ দেওয়া আছে কি না দেখা।
- File → Print বা Ctrl + P।
- Printer নির্বাচন।
- Copies সংখ্যা নির্ধারণ।
- কোন পৃষ্ঠাগুলো ছাপা হবে তা ঠিক করা।
- কাগজের আকার, ওরিয়েন্টেশন, মার্জিন, এক/দুই পাশ ঠিক করা।
- Print Preview দেখে যাচাই।
- Print বাটনে ক্লিক।
উপসংহার: সঠিক সেটিংস দিয়ে প্রিন্ট করলে কাগজ, কালি ও সময় সাশ্রয় হয় এবং ছাপা ডকুমেন্ট পরিচ্ছন্ন হয়।
অধ্যায় ৪: স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস অনুশীলন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১টি)
- ৪-সং-৮★★★বই: পৃষ্ঠা ১১৫
১.সাম ফাংশনের ব্যবহার করে Row যোগ করার উপায় বর্ণনা কর।
উত্তর
SUM ফাংশন দিয়ে একটি সারির (Row) সব সংখ্যা একসাথে যোগ করা যায়।
গঠন:
=SUM(number1, number2, …)বা=SUM(প্রথম সেল:শেষ সেল)│ A │ B │ C │ D │ E │ ─────┼──────────┼────────┼────────┼────────┼────────┤ 1 │ নাম │ বাংলা │ ইংরেজি │ গণিত │ মোট │ 2 │ রহিম │ ৭০ │ ৬৫ │ ৮০ │ ২১৫ │ 3 │ করিম │ ৮৫ │ ৫০ │ ৯০ │ ২২৫ │ 4 │ সুমি │ ৬০ │ ৭৫ │ ৭০ │ ২০৫ │ ─────┴──────────┴────────┴────────┴────────┴────────┘ নমুনা ওয়ার্কশিট (নম্বর আছে B2:D4 রেঞ্জে)পদ্ধতি ১: সূত্র টাইপ করে
- সারির শেষে যে সেলে যোগফল চাই (যেমন E2) সেখানে ক্লিক।
=SUM(B2:D2)টাইপ।- Enter চাপলে ফলাফল ২১৫ (৭০ + ৬৫ + ৮০)।
পদ্ধতি ২: AutoSum দিয়ে
- E2 সেলে ক্লিক।
- Home → Editing → AutoSum (Σ) ক্লিক বা Alt + = চাপা।
- Excel নিজে B2:D2 সিলেক্ট করবে; Enter চাপা।
বাকি সারিতে কপি: E2 সেলের নিচের ডান কোণের ছোট বর্গ (Fill Handle) টেনে E4 পর্যন্ত নামালে E3 = ২২৫, E4 = ২০৫ হবে।
💡
=B2+C2+D2লিখেও যোগ করা যায়, তবে অনেক সেল হলে SUM সহজ।
রচনামূলক প্রশ্ন (২টি)
- ৪-র-৪★★★বই: পৃষ্ঠা ১১৭
১.ওয়ার্কশিটের বিভিন্ন ধরনের চার্টের বর্ণনা দাও।
উত্তর
ওয়ার্কশিটের তথ্যকে চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপনের জন্য Excel-এ বিভিন্ন ধরনের চার্ট আছে। তথ্যের প্রকৃতি অনুযায়ী সঠিক চার্ট বেছে নিতে হয়।
Excel চার্টের ধরন │ ┌──────┬──────┬──────┬──┴───┬───────┬────────┬────────┐ কলাম বার লাইন পাই এরিয়া স্ক্যাটার কম্বো অন্যান্য (Doughnut, Radar, Stock, Surface, Histogram, Map)১. কলাম চার্ট (Column Chart)
ডেটাকে খাড়া বার দিয়ে দেখায়। বিভিন্ন বিষয়ের মানের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। উদাহরণ: শিক্ষার্থীদের নম্বরের তুলনা।
██ ██ ██ ██ ██ ██ ██ ██২. বার চার্ট (Bar Chart)
ডেটাকে আনুভূমিক বার দিয়ে দেখায়। শ্রেণির নাম লম্বা হলে উপযোগী।
████████████ ████████ ██████████████৩. লাইন চার্ট (Line Chart)
বিন্দুগুলো রেখা দিয়ে যুক্ত করে দেখায়। সময়ের সাথে পরিবর্তন বা প্রবণতা দেখাতে উপযোগী। উদাহরণ: মাসিক বিক্রি, তাপমাত্রা।
● ● ╱ ╱ ╲● ●৪. পাই চার্ট (Pie Chart)
বৃত্তকে টুকরায় ভাগ করে মোটের অংশ বা শতাংশ দেখায়। শুধু একটি ডাটা সিরিজ। উদাহরণ: বাজেটের খাতভিত্তিক ভাগ।
╭──┬──╮ │ ২৫%│৪০%│ ╰──┴──╯৫. এরিয়া চার্ট (Area Chart)
লাইন চার্টের নিচের অংশ রং দিয়ে ভরাট থাকে। সময়ের সাথে পরিবর্তনের পরিমাণ বোঝায়।
▄▄▄ ▄▄▄█████▄ ███████████৬. স্ক্যাটার বা XY চার্ট (Scatter Chart)
দুটি সংখ্যাভিত্তিক চলকের সম্পর্ক দেখায়, শুধু বিন্দু দিয়ে। উদাহরণ: পড়ার সময় ও প্রাপ্ত নম্বরের সম্পর্ক।
· · · · · · · ·৭. ডোনাট চার্ট (Doughnut Chart)
পাই চার্টের মতো, কিন্তু মাঝখানে ফাঁকা; একাধিক সিরিজ দেখানো যায়।
৮. অন্যান্য চার্ট
চার্ট ব্যবহার Combo Chart দুই ধরনের চার্ট একসাথে (কলাম + লাইন) Radar Chart কেন্দ্র থেকে কয়েকটি বিষয়ের তুলনা Stock Chart শেয়ারের দাম (উচ্চ, নিম্ন, সমাপনী) Surface Chart ত্রিমাত্রিক তল Histogram তথ্যের বণ্টন (Frequency) Map Chart দেশ বা অঞ্চলভিত্তিক তথ্য সারসংক্ষেপ
চার্ট কখন ব্যবহার করব কলাম / বার তুলনা লাইন / এরিয়া সময়ের সাথে পরিবর্তন পাই / ডোনাট মোটের অংশ (%) স্ক্যাটার দুই চলকের সম্পর্ক উপসংহার: তথ্যের ধরন বুঝে সঠিক চার্ট বেছে নিলে তথ্য সহজে বোঝা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
- ৪-র-৯★★★বই: পৃষ্ঠা ১২১
২.ওয়ার্কশিটের গাণিতিক ফাংশনসমূহের বর্ণনা দাও।
উত্তর
গাণিতিক ফাংশন: যেসব ফাংশন দিয়ে যোগ, গড়, সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন, গণনা, পূর্ণসংখ্যায় রূপান্তর, বর্গমূল ইত্যাদি গাণিতিক ও পরিসংখ্যানিক হিসাব করা হয়, সেগুলোকে গাণিতিক ফাংশন বলে। এগুলো Formulas → Math & Trig এবং More Functions → Statistical অংশে থাকে।
│ A │ B │ C │ D │ E │ ─────┼──────────┼────────┼────────┼────────┼────────┤ 1 │ নাম │ বাংলা │ ইংরেজি │ গণিত │ মোট │ 2 │ রহিম │ ৭০ │ ৬৫ │ ৮০ │ ২১৫ │ 3 │ করিম │ ৮৫ │ ৫০ │ ৯০ │ ২২৫ │ 4 │ সুমি │ ৬০ │ ৭৫ │ ৭০ │ ২০৫ │ ─────┴──────────┴────────┴────────┴────────┴────────┘ নমুনা ওয়ার্কশিট (নম্বর আছে B2:D4 রেঞ্জে)প্রধান গাণিতিক ফাংশনসমূহ
১. SUM: সংখ্যাগুলোর যোগফল।
=SUM(B2:D2)→ ৭০ + ৬৫ + ৮০ = ২১৫২. AVERAGE: সংখ্যাগুলোর গড়।
=AVERAGE(B2:D2)→ ২১৫ ÷ ৩ = ৭১.৬৭৩. MAX: সবচেয়ে বড় মান।
=MAX(B2:B4)→ ৮৫৪. MIN: সবচেয়ে ছোট মান।
=MIN(B2:B4)→ ৬০৫. COUNT: সংখ্যাযুক্ত সেলের সংখ্যা।
=COUNT(B2:D4)→ ৯৬. ROUND: নির্দিষ্ট দশমিক ঘর পর্যন্ত নিকটতম মানে আনা।
=ROUND(71.666, 2)→ ৭১.৬৭;=ROUND(71.666, 0)→ ৭২৭. INT: দশমিক বাদ দিয়ে নিচের পূর্ণসংখ্যা।
=INT(71.9)→ ৭১৮. ABS: পরম মান (ঋণাত্মক চিহ্ন বাদ)।
=ABS(-25)→ ২৫৯. SQRT: বর্গমূল।
=SQRT(144)→ ১২১০. POWER: ঘাত।
=POWER(5, 2)→ ৫² = ২৫ (একই কাজ=5^2)১১. MOD: ভাগ করার পর ভাগশেষ।
=MOD(17, 5)→ ২১২. PRODUCT: সংখ্যাগুলোর গুণফল।
=PRODUCT(2, 3, 4)→ ২৪১৩. SUMIF: শর্ত পূরণকারী সংখ্যার যোগফল।
=SUMIF(B2:B4, ">=70")→ ৭০ + ৮৫ = ১৫৫১৪. COUNTIF: শর্ত পূরণকারী সেলের সংখ্যা।
=COUNTIF(B2:B4, ">=70")→ ২সারসংক্ষেপ
ফাংশন কাজ উদাহরণ ফল SUM যোগ =SUM(5,10,15) ৩০ AVERAGE গড় =AVERAGE(5,10,15) ১০ MAX সর্বোচ্চ =MAX(5,10,15) ১৫ MIN সর্বনিম্ন =MIN(5,10,15) ৫ COUNT গণনা =COUNT(5,10,15) ৩ ROUND নিকটতম মান =ROUND(3.456,1) ৩.৫ INT পূর্ণসংখ্যা =INT(3.9) ৩ ABS পরম মান =ABS(-7) ৭ SQRT বর্গমূল =SQRT(81) ৯ POWER ঘাত =POWER(2,3) ৮ MOD ভাগশেষ =MOD(10,3) ১ PRODUCT গুণফল =PRODUCT(2,5) ১০ 💡 Home → AutoSum (Σ) ▾ থেকে Sum, Average, Count Numbers, Max, Min এক ক্লিকে পাওয়া যায়।
উপসংহার: গাণিতিক ফাংশন ব্যবহার করে ফলাফল শিট, বেতন, হিসাবের খাতার মতো বড় হিসাবও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা যায়।
অধ্যায় ৫: প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত অনুশীলন
রচনামূলক প্রশ্ন (৩টি)
- ৫-র-২★★★বই: পৃষ্ঠা ১২৮
১.প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের মেনুসমূহ ও রিবনের আইটেমসমূহ সম্পর্কিত ধারণা প্রদান কর।
- অথবা, প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের মেনুসমূহের বর্ণনা দাও। [বিএমটি-২০২২, ২৪]
উত্তর
প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার (MS PowerPoint)-এ সব কমান্ড বিভিন্ন মেনু বা নতুন সংস্করণে রিবনের ট্যাবে সাজানো থাকে। প্রতিটি ট্যাবে গ্রুপ আকারে কমান্ড (আইটেম) থাকে।
┌───────────────────────────────────────────────────────────────┐ │ 💾 ↶ ↷ ▶ │ Presentation1 - PowerPoint (টাইটেল বার) │ — ▢ ✕ │ ├───────────────────────────────────────────────────────────────┤ │ File Home Insert Design Transitions Animations Slide Show ... │ ← ট্যাব │ [Clipboard] [Slides] [Font] [Paragraph] [Drawing] [Editing] │ ← রিবন ├──────────┬────────────────────────────────────────────────────┤ │ ┌──────┐ │ ┌──────────────────────────────────────────┐ │ │ │ 1 ▭ │ │ │ Click to add title (শিরোনাম) │ │ │ └──────┘ │ │ │ │ │ ┌──────┐ │ │ Click to add subtitle (উপশিরোনাম) │ │ │ │ 2 ▭ │ │ └──────────────────────────────────────────┘ │ │ └──────┘ │ স্লাইড প্যান (কাজের স্লাইড) │ │ থাম্বনেইল ├────────────────────────────────────────────────────┤ │ প্যান │ Click to add notes (নোটস প্যান) │ ├──────────┴────────────────────────────────────────────────────┤ │ Slide 1 of 2 Notes ▤ ▦ 📖 ▶ ─●─ 60% │ ← স্ট্যাটাস বার └───────────────────────────────────────────────────────────────┘১. File মেনু (Backstage View)
New, Open, Info, Save, Save As, Print, Share, Export, Close, Account, Options। Export থেকে PDF, ভিডিও (MP4) বা Handouts তৈরি করা যায়।
২. Home ট্যাব
গ্রুপ আইটেম Clipboard Cut, Copy, Paste, Format Painter Slides New Slide, Layout, Reset, Section Font ফন্ট, আকার, B I U, Increase/Decrease Font, রং Paragraph Bullets, Numbering, Alignment, Line Spacing, Text Direction, Convert to SmartArt Drawing Shapes, Arrange, Quick Styles, Shape Fill/Outline/Effects Editing Find, Replace, Select ৩. Insert ট্যাব
গ্রুপ আইটেম Slides New Slide Tables Table Images Pictures, Screenshot, Photo Album Illustrations Shapes, Icons, 3D Models, SmartArt, Chart Links Link, Action Comments Comment Text Text Box, Header & Footer, WordArt, Date & Time, Slide Number, Object Symbols Equation, Symbol Media Video, Audio, Screen Recording ৪. Design ট্যাব
Themes, Variants, Slide Size, Format Background, Designer।
৫. Transitions ট্যাব
Preview, Transition to This Slide (Fade, Push, Wipe…), Effect Options, Timing (Sound, Duration, Apply To All, Advance Slide)।
৬. Animations ট্যাব
Preview, Animation (Entrance, Emphasis, Exit, Motion Path), Effect Options, Advanced Animation (Add Animation, Animation Pane, Trigger, Animation Painter), Timing (Start, Duration, Delay, Reorder)।
৭. Slide Show ট্যাব
আইটেম কাজ From Beginning (F5) প্রথম স্লাইড থেকে শো From Current Slide (Shift + F5) বর্তমান স্লাইড থেকে শো Custom Slide Show নির্বাচিত স্লাইড নিয়ে শো Set Up Slide Show শো-এর ধরন ও লুপ Hide Slide স্লাইড লুকানো Rehearse Timings প্রতিটি স্লাইডের সময় অনুশীলন Record Slide Show ভয়েস ও টাইমিংসহ রেকর্ড Monitors, Presenter View প্রজেক্টরে শো, নিজের পর্দায় নোট ৮. Review ট্যাব
Spelling, Thesaurus, Check Accessibility, Smart Lookup, Translate, Language, Comments, Compare।
৯. View ট্যাব
গ্রুপ আইটেম Presentation Views Normal, Outline View, Slide Sorter, Notes Page, Reading View Master Views Slide Master, Handout Master, Notes Master Show Ruler, Gridlines, Guides, Notes Zoom Zoom, Fit to Window Color/Grayscale রঙিন, ধূসর বা সাদাকালো Window, Macros নতুন উইন্ডো, সাজানো, ম্যাক্রো ১০. Help ট্যাব
সাহায্য, প্রশিক্ষণ ভিডিও, মতামত।
💡 পুরনো PowerPoint 2003-এর মেনু বারে ছিল: File, Edit, View, Insert, Format, Tools, Slide Show, Window, Help।
উপসংহার: মেনু ও রিবনের আইটেমগুলো জানা থাকলে আকর্ষণীয় ও পেশাদার প্রেজেন্টেশন দ্রুত তৈরি করা যায়।
- ৫-র-৬★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩১
২.স্ট্যান্ডার্ড প্রেজেন্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে টাইটেল, সাব-টাইটেল, স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট, ফন্ট সাইজ, কালার ও ফরমেট ইত্যাদির ধারণা প্রদান কর।
উত্তর
একটি স্ট্যান্ডার্ড (মানসম্মত) প্রেজেন্টেশন এমন হওয়া উচিত, যা দূর থেকেও সহজে পড়া যায়, বোঝা যায় এবং দেখতে পেশাদার লাগে। এজন্য টাইটেল, সাব-টাইটেল, ফন্ট, ফন্ট সাইজ, রং ও ফরমেটের কিছু নিয়ম মানতে হয়।
┌──────────────────────────────────────────┐ │ কম্পিউটারের প্রজন্ম ← টাইটেল (৪০ pt, বোল্ড) │ │ বিবর্তনের ইতিহাস ← সাব-টাইটেল (২৮ pt) │ │ │ │ • প্রথম প্রজন্ম: ভ্যাকুয়াম টিউব ← মূল লেখা (২৪ pt) │ │ • দ্বিতীয় প্রজন্ম: ট্রানজিস্টর │ │ • তৃতীয় প্রজন্ম: আইসি (৬ লাইনের বেশি নয়) │ └──────────────────────────────────────────┘ গাঢ় নীল পটভূমি + সাদা লেখা (উচ্চ কনট্রাস্ট)১. টাইটেল (Title)
- প্রতিটি স্লাইডে একটি ছোট, স্পষ্ট শিরোনাম থাকবে, যা স্লাইডের মূল বিষয় বোঝায়।
- সাধারণত ৩–৭ শব্দের মধ্যে।
- সব স্লাইডে শিরোনামের অবস্থান, ফন্ট ও রং একই থাকবে।
- প্রথম স্লাইডের শিরোনাম প্রেজেন্টেশনের বিষয়ের নাম।
২. সাব-টাইটেল (Sub-title)
- শিরোনামকে ব্যাখ্যা বা পরিপূরক তথ্য দেয়।
- প্রথম স্লাইডে উপস্থাপকের নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠান ও তারিখ।
- শিরোনামের চেয়ে ছোট ফন্টে।
৩. স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট
- Sans-serif (খাঁজহীন) ফন্ট পর্দায় পরিষ্কার দেখায়: Arial, Calibri, Verdana, Tahoma, Segoe UI।
- বাংলার জন্য ইউনিকোড ফন্ট: Nikosh, SolaimanLipi, Kalpurush, Hind Siliguri।
- পুরো প্রেজেন্টেশনে সর্বোচ্চ ২টি ফন্ট (একটি শিরোনামে, একটি মূল লেখায়)।
- অলংকৃত বা হাতের লেখার মতো ফন্ট এড়িয়ে চলা।
৪. ফন্ট সাইজ
অংশ আদর্শ ফন্ট সাইজ টাইটেল ৩৬–৪৪ পয়েন্ট সাব-টাইটেল ২৮–৩২ পয়েন্ট মূল লেখা (বুলেট) ২৪–২৮ পয়েন্ট সর্বনিম্ন (ক্যাপশন, উৎস) ১৮ পয়েন্টের কম নয় ৫. কালার (রং)
- পটভূমি ও লেখার মধ্যে উচ্চ কনট্রাস্ট: হালকা পটভূমিতে গাঢ় লেখা, অথবা গাঢ় পটভূমিতে হালকা লেখা।
- পুরো প্রেজেন্টেশনে ২–৩টি মূল রং, সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে।
- লাল-সবুজ একসাথে এড়ানো (বর্ণান্ধ দর্শকের জন্য কঠিন)।
- গুরুত্বপূর্ণ শব্দে আলাদা রং, তবে কম পরিমাণে।
- থিম ব্যবহার করলে রং নিজে থেকেই মিলে যায়।
ভালো সংমিশ্রণ খারাপ সংমিশ্রণ সাদা পটভূমি + কালো/গাঢ় নীল লেখা হলুদ পটভূমি + সাদা লেখা গাঢ় নীল পটভূমি + সাদা/হলুদ লেখা লাল পটভূমি + সবুজ লেখা ৬. ফরমেট (বিন্যাস)
- ৬×৬ নিয়ম: এক স্লাইডে ৬টির বেশি লাইন নয়, প্রতি লাইনে ৬টির বেশি শব্দ নয় (মোটামুটি)।
- পূর্ণ বাক্যের বদলে বুলেট পয়েন্টে মূল কথা।
- লেখা বেশিরভাগ বাম দিকে সাজানো (Left Align); শিরোনাম মাঝে বা বামে।
- একটি স্লাইডে একটি মূল ধারণা।
- প্রাসঙ্গিক ছবি, চার্ট ও SmartArt দিয়ে লেখা কমানো।
- সব স্লাইডে একই লে-আউট ও থিম; স্লাইড নম্বর ফুটারে।
- বোল্ড শুধু গুরুত্বপূর্ণ শব্দে; সব বড় হাতের অক্ষর (ALL CAPS) এড়ানো।
- পরিমিত ট্রানজিশন ও অ্যানিমেশন।
- ১০/২০/৩০ নিয়ম (পরামর্শ): প্রায় ১০টি স্লাইড, ২০ মিনিট, ন্যূনতম ৩০ পয়েন্ট ফন্ট।
একটি আদর্শ প্রেজেন্টেশনের কাঠামো
১. টাইটেল স্লাইড ─► ২. বিষয়সূচি ─► ৩–৮. মূল বিষয় ─► ৯. সারসংক্ষেপ ─► ১০. প্রশ্নোত্তর/ধন্যবাদউপসংহার: এসব নিয়ম মেনে প্রেজেন্টেশন তৈরি করলে তা দর্শকের কাছে পরিষ্কার, আকর্ষণীয় ও পেশাদার মনে হয়।
- ৫-র-৭★★★বই: পৃষ্ঠা ১৩১
৩.ডকুমেন্টে স্মার্টআর্ট, চার্ট, টেক্সটবক্স ও হেডার-ফুটার, ইক্যুয়েশন ও সিম্বল ইত্যাদির ব্যবহার বর্ণনা কর।
উত্তর
PowerPoint-এর (এবং Word-এর) Insert ট্যাব ব্যবহার করে ডকুমেন্ট বা স্লাইডে স্মার্টআর্ট, চার্ট, টেক্সট বক্স, হেডার-ফুটার, ইক্যুয়েশন ও সিম্বল যোগ করা যায়।
Insert ট্যাব ┌────────┬─────────────────────┬──────────────────────────────┬─────────────────┐ │ Table │ Shapes Icons │ Text Box Header&Footer │ Equation Symbol │ │ │ SmartArt Chart │ WordArt Date&Time Slide No.│ │ │ Tables │ Illustrations │ Text │ Symbols │ └────────┴─────────────────────┴──────────────────────────────┴─────────────────┘১. স্মার্টআর্ট (SmartArt)
তথ্যকে আকর্ষণীয় চিত্র বা ডায়াগ্রাম (তালিকা, প্রক্রিয়া, চক্র, শ্রেণিবিন্যাস) আকারে দেখানোর সুবিধা। ধরন: List, Process, Cycle, Hierarchy, Relationship, Matrix, Pyramid, Picture। পদ্ধতি: Insert → SmartArt → ধরন বাছাই → OK → Text Pane-এ লেখা টাইপ → SmartArt Design ট্যাব থেকে রং ও স্টাইল।
┌──────┐ ┌──────┐ ┌──────┐ │ইনপুট │ ► │প্রসেস │ ► │আউটপুট│ (Process SmartArt) └──────┘ └──────┘ └──────┘ ┌─────────┐ │ অধ্যক্ষ │ └────┬────┘ ┌───────┴───────┐ ┌────┴────┐ ┌────┴────┐ (Hierarchy SmartArt) │ উপাধ্যক্ষ │ │ বিভাগীয় প্রধান│ └─────────┘ └─────────┘ব্যবহার: প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামো, কাজের ধাপ, চক্র দেখানো।
২. চার্ট (Chart)
সংখ্যাভিত্তিক তথ্যকে কলাম, বার, লাইন, পাই ইত্যাদি চিত্রে দেখানো। পদ্ধতি: Insert → Chart → ধরন বাছাই → OK → সাথে খোলা Excel শিটে ডেটা লেখা → শিট বন্ধ করা → Chart Design থেকে স্টাইল ও Chart Elements (+) থেকে টাইটেল, লিজেন্ড, ডাটা লেবেল।
██ ██ ██ ██ ██ ██ ██ ██ (কলাম চার্ট)ব্যবহার: বিক্রি, ফলাফল, জরিপের তুলনা।
৩. টেক্সট বক্স (Text Box)
স্লাইড বা পৃষ্ঠার যেকোনো জায়গায় আলাদা বক্সে লেখা বসানোর সুবিধা। পদ্ধতি: Insert → Text Box → স্লাইডে ক্লিক করে টেনে বক্স আঁকা → লেখা টাইপ → Shape Format থেকে রং, বর্ডার। ব্যবহার: ছবির ক্যাপশন, বাড়তি নোট, প্লেসহোল্ডারের বাইরে লেখা।
৪. হেডার-ফুটার (Header & Footer)
পদ্ধতি: Insert → Header & Footer → ডায়ালগ বক্স:
অপশন কাজ Date and time তারিখ (Update automatically বা Fixed) Slide number স্লাইড নম্বর Footer নিচে লেখা (প্রতিষ্ঠান বা বিষয়ের নাম) Don't show on title slide প্রথম স্লাইডে না দেখানো Apply / Apply to All একটি বা সব স্লাইডে Notes and Handouts ট্যাবে Header-ও দেওয়া যায় (স্লাইডে Header থাকে না, শুধু হ্যান্ড আউট ও নোটসে)। Word-এ: Insert → Header / Footer → স্টাইল → লেখা → Close Header and Footer।
৫. ইক্যুয়েশন (Equation)
গণিতের সূত্র ও সমীকরণ সঠিক আকারে লেখা। পদ্ধতি: Insert → Equation → Equation ট্যাবের Structures (Fraction, Script, Radical, Integral, Matrix) ও Symbols দিয়ে লেখা। তৈরি-করা সমীকরণের জন্য Equation ▾। উদাহরণ: a² + b² = c², x = (−b ± √(b² − 4ac)) / 2a
৬. সিম্বল (Symbol)
কী-বোর্ডে নেই এমন বিশেষ চিহ্ন যোগ করা। পদ্ধতি: Insert → Symbol → Font (Symbol, Wingdings) ও Subset বাছাই → চিহ্ন সিলেক্ট → Insert → Close। উদাহরণ: ©, ®, ™, °, ±, √, ∞, π, Ω, ✓, ☎, ★
সারসংক্ষেপ
উপাদান পথ প্রধান ব্যবহার SmartArt Insert → SmartArt প্রক্রিয়া, কাঠামো ডায়াগ্রাম Chart Insert → Chart সংখ্যার তুলনা Text Box Insert → Text Box যেকোনো জায়গায় লেখা Header & Footer Insert → Header & Footer তারিখ, স্লাইড নম্বর, ফুটার Equation Insert → Equation গাণিতিক সূত্র Symbol Insert → Symbol বিশেষ চিহ্ন উপসংহার: এসব উপাদান ব্যবহার করলে ডকুমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন তথ্যবহুল, সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় হয়।